Blog

  • ‘যারা তৃণমূলের সঙ্গে নয়, তারা বাঙালি নয়!’  মহুয়া মৈত্রর মন্তব্য ঘিরে তুঙ্গে বিতর্ক

    ‘যারা তৃণমূলের সঙ্গে নয়, তারা বাঙালি নয়!’ মহুয়া মৈত্রর মন্তব্য ঘিরে তুঙ্গে বিতর্ক

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) আগে ফের বিতর্কে জড়ালেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra)। বাঙালি কারা? সেটা বোঝাতে গিয়েই করলেন বিতর্কিত মন্তব্য। রাজ্যে SIR প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ্যে আসার পর এখনও ৬০ লক্ষ নাম ‘বিচারাধীন’ রয়েছে। আর সেই নিয়ে তুমুল অশান্তি শুরু হয়েছে রাজ্য জুড়ে। এমতাবস্থায় বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে গতকাল অর্থাৎ শুক্রবার থেকে ধর্মতলায় ধরনায় বসেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) সহ শতাধিক নেতা-নেত্রীরা। রাতভর মেট্রো চ্যানেলে প্রতিবাদ মঞ্চে থেকেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেই মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিতর্কে জড়ালেন তিনি।

    ধর্মতলায় ধরনায় মমতা

    ভোটাধিকারের লড়াইয়ে গতকাল অর্থাৎ শুক্রবার, ধর্মতলায় মেট্রো চ্যানেলে প্রতিবাদ মঞ্চে ধরনা করছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ একাধিক নেতা নেত্রী। সেখানে ‘ভোট নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। এই অধিকার কেড়ে নিতে দেব না’ লেখা পোস্টার গলায় ঝুলিয়ে ধরনা মঞ্চে বক্তব্য রাখতে ওঠেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তিনি বলেন, ‘‘এটা নীতি বা আদর্শের লড়াই নয়। এটা বেঁচে থাকার লড়াই। আজ কলকাতার কোনও মানুষ, যাঁরা বাসে-ট্রামে যাচ্ছেন, আর ভাবছেন, মমতা তো আবার বসেছেন (ধর্নায়), তাঁর মতো অপরাধী আর নেই। এসআইআর এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে সাধারণ শিক্ষিত মানুষও বুঝতে পারছেন না।

    ফের বিতর্কে জড়ালেন মহুয়া মৈত্র

    বিজেপি নেতা তথা আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন, সেখানে মহুয়া মৈত্রকে বলতে শোনা যাচ্ছে, “বুদ্ধিজীবী সমাজ, শিক্ষিত ছেলেমেয়েরাও এসআইআরের পরিকল্পি গেম, চক্রান্তটা ধরতে পারছে না। সবাইকে বলছি যে এখন আজকে তৃণমূলের সঙ্গে নয়, সে কিন্তু বাঙালি নয়, তাঁর বাংলায় থাকার অধিকার নেই।’ বলে দিই, ইন্ডিয়া হুড সেই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি। এছাড়াও একই সভা থেকে তথ্যগত অসঙ্গতি থেকে ভোটার তালিকায় নাম বাদ নিয়ে কমিশন এবং বিজেপিকেও তোপ দাগেন মহুয়া মৈত্র। এরপরই সেই মন্তব্য মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। বাঙালি জাতিকে অসম্মানের অভিযোগ ওঠে চারিদিক থেকে। এমনকি এই নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়লেন না বিজেপি নেতা তথা আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি। তিনি বলেন, “যাদের জীবন ও জীবিকা শাসকদল বছরের পর বছর দুর্নীতির মাধ্যমে লুট করেছে, তারা কি অন্য গ্রহের মানুষ?”

    আরও পড়ুন: গ্যাসের সংকট দেখা দিতেই গুজরাটে ১০০ কারখানায় কাজ বন্ধ, ঝুঁকির মুখে আরও ৪০০

    তরুণজ্যোতি তিওয়ারি মহুয়াকে কটাক্ষ করে জানিয়েছেন যে, “যে হাজার হাজার তরুণ-তরুণী বছরের পর বছর ধরে ন্যায্য সরকারি চাকরির আশায় পড়াশোনা করে, নিয়োগ কেলেঙ্কারিতে তাদের ভবিষ্যৎ ধ্বংস হতে দেখেছে, তারা কি বাঙালি নন? অসংখ্য সাধারণ নাগরিক স্বাস্থ্যসেবা এবং পরিষেবা পেতে লড়াই করে চলেছে এখনও। এমনকি মহুয়া মৈত্রের প্রতিনিধিত্বকারী সংসদীয় এলাকার লোকেরাও প্রায়শই উন্নয়ন এবং চিকিৎসা পরিকাঠামোর অভাবের অভিযোগ করেন। তাহলে তাঁরা কি চাঁদে থাকেন? আসলে বাঙালি অস্মিতা স্লোগানে পশ্চিমবঙ্গে একটি নতুন রাজনৈতিক নাটক শুরু করেছে তৃণমূল।”

  • শুধুমাত্র এদেরই বকেয়া DA দেবে নবান্ন? সুপ্রিম কোর্টে জমা রিপোর্ট ঘিরে চাঞ্চল্য

    শুধুমাত্র এদেরই বকেয়া DA দেবে নবান্ন? সুপ্রিম কোর্টে জমা রিপোর্ট ঘিরে চাঞ্চল্য

    সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ এখনই সরকার ডিএ (DA) দিতে পারবে না, সুপ্রিম কোর্টে MA ফাইল করে সাফ জানিয়ে দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার (Government of West Bengal)। ভোটের মুখে সরকারের এহেন পদক্ষেপের ফলে স্বাভাবিকভাবেই ধাক্কা খেয়েছেন সরকারি আধিকারিক থেকে শুরু করে আন্দোলনকারীরা। যদিও সরকারের তরফে সুপ্রিম কোর্টে পেশ করা একটি হিসেব দেখে চমকে গিয়েছেন সকলে। নবান্নের (Nabanna) তরফে যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, সেটা অনুযায়ী কর্মচারীদের সংখ্যা মাত্র ৩,১৭,৯৫৪ সেই সঙ্গে রয়েছেন পেনশনররাও। তবে সরকার বকেয়া দিলে শুধুমাত্র এরাই পাবেন টাকা? উঠছে প্রশ্ন।

    সবাইকে বকেয়া টাকা দেবে না সরকার?

    হিসেব দেখে অনেকেই বলতে শুরু করেছেন, তবে কি সরকার শিক্ষক, শিক্ষা কর্মীদের বকেয়া ভাতা দেওয়া থেকে বিরত থাকবে? এই বিষয়ে শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিংকর অধিকারী বিস্ফোরক দাবি করেছেন। তিনি নিজের ফেসবুক বার্তায় সরকারের হিসেব তুলে ধরে লিখেছেন, ‘বকেয়া ২৫% ডিএ মেটানোর জন্য আগামী ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত সময় চাইল রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টের কাছে। শিক্ষক, কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রাপ্য অর্থ নিয়ে ভোট রাজনীতি চলছে। আমরা চাই দীর্ঘদিনের এই বঞ্চনার বিরুদ্ধে সুপ্রিমকোর্ট কড়া বার্তা দিয়ে পূর্ববর্তী রায় অনুযায়ী বকেয়া মিটিয়ে দেওয়ার জন্য রাজ্যকে বাধ্য করুক।’

    তিনি আরও লেখেন, ‘কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টের কাছে যে হিসেব পেশ করেছে তাতে কর্মচারীদের সংখ্যা মাত্র ৩,১৭,৯৫৪ এবং তার সাথে পেনশনারা। এই হিসেব বলে দিচ্ছে সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী রাজ্য সরকার শিক্ষক, শিক্ষাকর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা দেবে না। এর ফলে শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী সমাজের ক্ষোভের আগুন ব্যাপকভাবে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে যাবে। রাজ্য সরকার তাদের অবস্থান বদলাক। না হলে আইনি লড়াই এবং রাস্তার লড়াই আরো তীব্রতর হবে।’

    আরও পড়ুনঃ ‘পশ্চিমবঙ্গ সরকার MA ফিল করলেও …’ বকেয়া DA মামলায় নাটকীয় মোড়? এল বড় খবর

    ৩১ ডিসেম্বর অবধি সময় চাইল রাজ্য

    উল্লেখ্য, বকেয়া ২৫ শতাংশ DA দিতে পারবে না রাজ্য। আরও সময় চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে আর্জি জানিয়েছে রাজ্যচ। ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় চাইল রাজ্য সরকার বলে খবর। সেক্ষেত্রে বকেয়া ডিএ-র প্রথম কিস্তি দেওয়ার সময়সীমা ছিল ৩১ মার্চ। অর্থাৎ বকেয়া বুঝে নিতে এখনও লম্বা সময় অপেক্ষা করতে হবে সকলকে।

  • ধর্ষণ করে খুন, গোডাউনে লুকোনো দেহ! সাঁইথিয়ায় নাবালিকা মৃত্যুতে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী

    ধর্ষণ করে খুন, গোডাউনে লুকোনো দেহ! সাঁইথিয়ায় নাবালিকা মৃত্যুতে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ফের সাঁইথিয়ায় (Sainthia) নাবালিকাকে ধর্ষণ (Rape Case) করে খুনের অভিযোগ উঠল। জানা গিয়েছে সেখানকার এক বাড়িতে বছর চোদ্দোর ওই নাবালিকা পরিচারিকার কাজ করত। খুনের পর নাকি পরিচারিকার দেহ পাথরের গোডাউনে রেখে দেওয়া হয়৷ গতকাল অর্থাৎ শুক্রবার বিষয়টি জানাজানি হতেই ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায় ৷ নির্যাতিতার পরিজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা সাঁইথিয়া থানার সামনে রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখান ৷

    ঠিক কী ঘটেছিল?

    রিপোর্ট মোতাবেক, বীরভূমের সাঁইথিয়া পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে মার্বেল পাথর ব্যবসায়ী পঙ্কজ পারেকের বাড়িতে কাজ করত এক নাবালিকা৷ তাঁর বাড়ি সাঁইথিয়ারই বাগডোলা গ্রাম পঞ্চায়েতের দেরিয়াপুর অঞ্চলে। সেখান থেকেই সে কাজে আসত কিন্তু দোলের পরের দিন নাবালিকা আর বাড়ি ফেরেনি বলে অভিযোগ। এরপর নাবালিকার খোঁজ করতেই মার্বেল পাথরের গোডাউন থেকে উদ্ধার হয় তাঁর দেহ।

    এদিন, বিষয়টি জানাজানি হতেই ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযোগ ওঠে, দোলের পরের দিন নাবালিকাকে ধর্ষণ করে নাকি খুন করা হয়েছে। আর এই নিয়ে উত্তপ্ত সাঁইথিয়া। পরিজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা সাঁইথিয়া রাস্তায় টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করে এবং খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে সাঁইথিয়া থানার পুলিশ।

    অভিযোগ অস্বীকার গৃহকর্তার

    স্থানীয়দের অভিযোগ, ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে ওই নাবালিকাকে। কিন্তু অভিযোগ অস্বীকার করে বাড়ির গৃহকর্তা। তিনি বলেন, “আমাদের এখানে যদি ধর্ষণ করা হত, আমরা কি হাসপাতালে নিয়ে যেতাম? অ্যাম্বুল্যান্সে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। গত ২ বছর আমাদের বাড়িতে কাজ করত। সে বিষ খেয়েছিল। কেন খেয়েছিল, তা বাড়ির লোককে জিজ্ঞাসা করুন।” কিন্তু এই দাবি মানছে না কেউই। বিক্ষোভকারীদের দাবি, “ নাবালিকার মৃত্যুর একদিন পর বাড়িতে জানিয়েছে। এমনকি মৃতদেহ এনে ঘণ্টা তিনেক একটা গোডাউনে রাখে। কেন এটা হবে? ওই বাড়িতে আর একজন কিশোরী কাজ করে। কিন্তু, তাকে ওরা কথা বলতে দিচ্ছে না।”

    আরও পড়ুন: সরকারের চাপে না অন্য কারণে পদত্যাগ? এবার মুখ খুললেন প্রাক্তন রাজ্যপাল আনন্দ বোস

    নাবালিকার মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সিউড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় যুক্ত সন্দেহে শ্রেয়ান পারেক নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। স্থানীয়রা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, “ আমরা এই ঘটনার শেষ দেখে ছাড়ব। পুলিশ যদি যথোপযুক্ত ব্যবস্থা না নেয় এবং অভিযুক্তকে শাস্তি না দেয় তাহলে আমরা পুনরায় পথ অবরোধ করব।”

  • গ্যাসের সংকট দেখা দিতেই গুজরাটে ১০০ কারখানায় কাজ বন্ধ, ঝুঁকির মুখে আরও ৪০০

    গ্যাসের সংকট দেখা দিতেই গুজরাটে ১০০ কারখানায় কাজ বন্ধ, ঝুঁকির মুখে আরও ৪০০

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: মধ্যপ্রাচ্যে জ্বলছে যুদ্ধের আগুন। তবে ইরান এবং ইজরায়েলের যুদ্ধের প্রভাব এবার পড়তে শুরু করেছে ভারতে, বিশেষ করে গ্যাসের বাজারে (Gas Crisis)। ইতিমধ্যেই গতকাল ডোমেস্টিক সিলিন্ডারের দাম ৬০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে এবং বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দামও বেড়েছে ১১৪ টাকা করে। ফলে দেশে খুব তাড়াতাড়ি যে গ্যাসের সংকট দেখা দেবে তা আঁচ করতে পারছে অনেকে। কারণ, হরমুজ প্রণালী দিয়ে ইতিমধ্যেই কাতার থেকে গ্যাস আমদানি বন্ধ হয়েছে। আর গ্যাসের সংকট সামনে আসতেই বড় দুঃসংবাদ আসলো গুজরাট (Gujarat) থেকে। জানা যাচ্ছে, এই রাজ্যের মোরবি শহরে প্রায় ১০০টি কারখানা বন্ধ হয়েছে গ্যাসে অভাবে।

    গ্যাস সংকটে বন্ধ ১০০ কারখানা

    প্রসঙ্গত জানিয়ে রাখি, মোরবি বিশ্বের বৃহত্তম সিরামিক উৎপাদন কেন্দ্রগুলির মধ্যে একটি। আর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যে শিল্প প্রতিনিধিরা স্পষ্ট বলেছেন যে, যদি শীঘ্রই গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হয়, তাহলে আগামী দিনে আরও ৪০০টি ইউনিট বন্ধ হয়ে যেতে পারে। কারণ, এই কারখানা সম্পূর্ণ গ্যাসের উপরেই নির্ভরশীল। রিপোর্ট অনুযায়ী, গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার কারণেই সম্পূর্ণ কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই ১০০টি কারখানায় তালা পড়েছে।

    এ বিষয়ে মোরবি সিরামিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মনোজ আরাভাদিয়া জানিয়েছেন, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির কারণেই গত দুইদিন ধরে প্রোপেন গ্যাস সরবরাহ করা যাচ্ছে না। আর আগামী দিন পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। এগুলি সম্পূর্ণ গ্যাস নির্ভর ইউনিট হওয়ায় আমাদেরকে উৎপাদন স্থগিত রাখতে হচ্ছে। তবে সবথেকে বড় ব্যাপার, কারখানা বন্ধ হলে হাজার হাজার শ্রমিকের উপরে প্রভাব পড়বে। বর্তমানে কারখানাগুলো তাদের কর্মীদের ধরে রাখার চেষ্টা করছে। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে যদি উৎপাদন বন্ধ থাকে, তাহলে কর্মসংস্থান যে ঝুঁকির মুখে পড়বে তাও বলার অপেক্ষা রাখে না।

    আরও পড়ুন: ‘পশ্চিমবঙ্গ সরকার MA ফিল করলেও …’ বকেয়া DA মামলায় নাটকীয় মোড়? এল বড় খবর

    বলে রাখি, ভারত তার তেল এবং গ্যাসের প্রায় ৮৫ শতাংশই আমদানি করে থাকে। তার মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ গ্যাস আমদানি করে কাতার থেকে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আবহে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যে গ্যাসবাহী জাহাজ আসে, সেই প্রণালী সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে। সেই কারণেই ভারতে এখনো পর্যন্ত কোনও রকম জাহাজ আসতে পারছে না। এমনকি প্রায় ৩০০ জন নাবিকও আটকে রয়েছে। আর সবথেকে বড় ব্যাপার, ইরানের ড্রোন হামলার পর বিশ্বের বৃহত্তম এলপিজি টার্মিনাল কাতারের রাস লাফানে বন্ধ হয়েছে। সেই কারণেই এখন জ্বালানির সংকটের মুখে ভারত। বর্তমানে ভারত বিকল্প রাস্তার দিকেই তাকিয়ে।

  • মেঘে ঢাকবে আকাশ, দুপুরের পর থেকেই বৃষ্টির সম্ভাবনা ৩ জেলায়, মুড বদল আবহাওয়ার

    মেঘে ঢাকবে আকাশ, দুপুরের পর থেকেই বৃষ্টির সম্ভাবনা ৩ জেলায়, মুড বদল আবহাওয়ার

    সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ ফের একবার ইউটার্ন মারতে চলেছে বাংলার আবহাওয়া (South Bengal Weather)। রবিবার নয়, আজ শনিবার থেকেই বদলাতে চলেছে বাংলার আবহাওয়া। দুপুরের পর থেকে দক্ষিণবঙ্গের জেলায় জেলায় আকাশ কালো হতে শুরু করবে, নামতে পারে বৃষ্টি। আজ সকাল থেকেই আকাশ মেঘলা। বইছে ঠান্ডা হাওয়া। আপাতত আজ থেকে আগামী বুধবার অবধি টানা বৃষ্টি চলবে বাংলায় বলে খবর। কখনও হালকা তো কখনও বিক্ষিপ্ত। সঙ্গে রয়েছে কালবৈশাখীর সম্ভাবনা। চলুন বিশদে জেনে নেওয়া যাক।

    আজ থেকেই বৃষ্টির সম্ভাবনা বাংলায়?

    শীত অতীত, বাংলায় আবহাওয়া মোটের ওপর শুষ্ক। সেইসঙ্গে গরম ভালোই পড়তে শুরু করেছে। এদিকে তীব্র তাপদাহের আশঙ্কার মধ্যে বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হচ্ছে। আলিপুর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে যে বাংলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আজ ছিটেফোঁটা বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও আগামীকাল ছুটির দিন রবিবার থেকে বুধবার পর্যন্ত বৃষ্টি হবে। উত্তর থেকে দক্ষিণ পর্যন্ত বাংলার উভয় অংশে বৃষ্টির ইঙ্গিত দিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।

    আজ দুপুরের পর থেকেই বজ্রপাত সহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে ঝাড়গ্রাম, পূর্ব এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে। ইতিমধ্যে দিঘায় আকাশ মেঘলা। বইছে হাওয়া। মৌসম বলছে যে বজ্রবিদ্যুৎ সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। যদিও গরম থাকবে, তাপমাত্রা স্বাভাবিকের কাছাকাছি থাকবে। আকাশ আংশিক মেঘলা থাকবে। বৃষ্টির জন্য অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হবে। সোমবার উত্তর ও দক্ষিণ বঙ্গে বৃষ্টিপাত বাড়বে।

    রবিবার থেকে প্রবল বৃষ্টির সম্ভাবনা!

    হাওয়া অফিস জানিয়েছে, রবিবার থেকে আগামী ১৫ মার্চ অবধি জেলায় জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টি, কোথাও কোথাও আবার শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ৮ মার্চ ঝাড়গ্রাম, দুই মেদিনীপুর, দার্জিলিং, কালিম্পং সহ উত্তরবঙ্গের সবকটি জেলাতেই বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। মূলত পশ্চিমী ঝঞ্ঝা, ঘূর্ণাবর্তের কারণে বৃষ্টির সম্ভাবনা বলে খবর।

    আরও পড়ুনঃ ‘পশ্চিমবঙ্গ সরকার MA ফিল করলেও …’ বকেয়া DA মামলায় নাটকীয় মোড়? এল বড় খবর

    এরপর আগামী ৯ ও ১০ মার্চ পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, নদীয়া এবং মুর্শিদাবাদ জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টি হতে পারে। এরপর বুধবার থেকে কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতে বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টি হতে পারে। আগামী ১২ থেকে ১৫ মার্চ পশ্চিমাঞ্চলের জেলায় বৃষ্টি হতে পারে বলে খবর। রবিবার দার্জিলিং, কালিম্পং এবং জলপাইগুড়ি জেলায় বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত এবং বজ্রপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। সোমবার এবং মঙ্গলবার দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, উত্তর দিনাজপুর এবং আলিপুরদুয়ার জেলায় বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

  • কিশোরদের জন্য ব্যান হবে সোশ্যাল মিডিয়া! বড় সিদ্ধান্তের পথে অন্ধ্রপ্রদেশ সরকার

    কিশোরদের জন্য ব্যান হবে সোশ্যাল মিডিয়া! বড় সিদ্ধান্তের পথে অন্ধ্রপ্রদেশ সরকার

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: আজকাল বাচ্চা বয়সেই ছেলেমেয়ের হাতে ফোন দিয়ে দিচ্ছে বাবা-মায়েরা। সেই কারণে সোশ্যাল মিডিয়ার (Social Media) প্রতি আকর্ষণও বাড়ছে তাদের। হ্যাঁ, করোনার পর থেকে যেন এই প্রবণতা আরও বেড়েছে। তবে এই বাড়বাড়ন্ত রুখতে এবার বিরাট সিদ্ধান্ত নিল অন্ধ্রপ্রদেশের (Government of Andhra Pradesh) মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হবে। এমনকি আগামী ৯০ দিনের মধ্যেই এই বিষয়ে আইন প্রণয়ন করা হবে। সম্প্রতি কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া ১৬ বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রে সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করার ঘোষণা করেন। আর এবার একই পথে হাঁটলেন চন্দ্রবাবু নাইডু।

    শিশুদের ক্ষেত্রে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার নিষিদ্ধ

    রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বলেছেন, খুব শীঘ্রই সরকার ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্সেস নিষিদ্ধ করার জন্য একটি কর্মসূচি চালু করবে। তাও আগামী ৯০ দিনের মধ্যে। রাজ্য ইতিমধ্যেই ১৩ থেকে ১৬ বছর বয়সীদের জন্য সম্ভাব্য নিয়মকানুন নিয়ে আলোচনা করছে। আর সকলের মতামতের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি বলেছেন, তাঁর ছেলে এবং রাজ্যের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী নারা লোকেশের পরামর্শের ভিত্তিতেই সরকার এই বিধিনিষেধগুলি প্রণয়ন করার কথা ভাবছে। তাঁর মতে, শিশুরা যাতে সোশ্যাল মিডিয়া দ্বারা নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত না হয় এবং তাদের পড়াশোনার ঘাটতি না হয়, তার জন্যই এই পদক্ষেপ।

    এ বিষয়ে রাজ্যের তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী বলেছেন, কর্ণাটকের প্রস্তাবটি অন্ধ্রপ্রদেশের আগেই নেওয়া হয়েছে। কর্ণাটক ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়ার উপর বিধিনিষেধ আরোপ করার কথা বিবেচনা করছে। এতে অন্ধকার জগত থেকে তরুণ প্রজন্ম বেরিয়ে আসতে পারবে। সেই সূত্রেই অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারের তরফ থেকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এমনকি এই কর্মসূচি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমরা বদ্ধপরিকর। তিনি এখানেই থামেননি। তিনি এও বলেছেন, আমরা অস্ট্রেলিয়ায় অনূর্ধ্ব ১৬ আইন দেখেছি। আর আমি বিশ্বাস করি, আমাদের শক্তিশালী আইন প্রণয়ন করা দরকার, যাতে বাচ্চাদের উপর কোনও রকম নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে।

    আরও পড়ুন: ভোটের আগে রদবদল, ৭ IAS অফিসার সহ KMC-র কমিশনারকেও সরাল নবান্ন

    প্রসঙ্গত, যদি এই নিয়ম বাস্তবায়িত হয়, তাহলে কর্ণাটক এবং অন্ধ্রপ্রদেশ দেশের মধ্যে প্রথম রাজ্য হবে, যেখানে শিশুদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকবে। আর এই নিয়ম বিশ্বব্যাপী সরকারগুলির চিন্তাধারার উপরেও প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়া ১৬ বছরের কম বয়সীদের সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করে দিয়েছিল। আর কিছু ইউরোপীয় কিছু দেশ একই ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এমনকি এই মাসে ব্রিটেন ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করে এবং গেমিং প্ল্যাটফর্ম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উপর বিধিনিষেধ আরোপ করে। এখন দেখার, অন্ধ্রপ্রদেশ সরকার এই নিয়ম কবে লাগু করে।

  • সঞ্জু স্যামসন ২৬ রান করলেই ফাইনাল জিতে যাবে ভারত! হিসেবটা বুঝে নিন

    সঞ্জু স্যামসন ২৬ রান করলেই ফাইনাল জিতে যাবে ভারত! হিসেবটা বুঝে নিন

    বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: যে ছেলেটা এতদিন ক্রমাগত ব্যর্থতা দেখে এসেছে, বিশ্বকাপের শেষ প্রান্তে এসে সেই ছেলেই (Sanju Samson) স্বপ্নের ফর্মে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ম্যাচ থেকে শুরু করে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে লড়াই, সবেতেই নিজের 100 শতাংশ উজাড় করে দিয়েছেন সঞ্জু স্যামসন। প্রথমটিতে 97 রানের দুর্ধর্ষ ইনিংস খেলার পাশাপাশি সেমিফাইনালে 89 রান করে ভারতের (India National Cricket Team) জয়ের রাস্তা তৈরি করেছিলেন তিনি। ফাইনালেও কি সঞ্জুকেই ত্রাতা হিসেবে দেখা যাবে? কয়েকটি রিপোর্ট দাবি করছে, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ফাইনালের মঞ্চে সঞ্জু যদি মাত্র 26 রান করে ফেলেন তাহলেই জিতে যাবে ভারত! কিন্তু কীভাবে?

    সঞ্জু স্যামসন 26 রান করলেই জিতবে ভারত?

    আজ পর্যন্ত নিজের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি কেরিয়ারে মোট মোট 61টি ম্যাচ খেলেছেন সঞ্জু। সেই আসরের 53 ইনিংস মিলিয়ে রয়েছে 1310 রান। তালিকায় রয়েছে তিনটি সেঞ্চুরিও। তবে এই 61 ম্যাচের মধ্যে এমন 16টি ম্যাচ রয়েছে যেগুলিতে সর্বোচ্চ স্কোর করেছেন ভারতীয় ক্রিকেটার। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, এই 16 ম্যাচ 25 এর বেশি রান করেছেন সঞ্জু। অবাক করা বিষয়, সঞ্জু যে 16টি ম্যাচে 25 এর বেশি রান করেছেন সেই সবকটিতেই জিতেছে ভারতীয় দল।

    ওয়াকিবহাল মহলের অনেকেই আশা করছেন, নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ফাইনালের মঞ্চে সঞ্জু যদি 25 এর বেশি অর্থাৎ 26 রান করে ফেলেন সে ক্ষেত্রে পুরনো ধারা অব্যাহত রেখেই জিতে যাবে ভারত। আসলে সঞ্জু 25 এর বেশি রান করলেই সেটা ভারতের জন্য লাকি নম্বর হয়ে যায়। মূলত সেই সূত্র ধরেই অনেকেই মনে করছেন, স্যামসন এদিন যদি 26 রানের ইনিংস খেলে দেন তাহলে ভারতের জয় নিশ্চিত। যদিও এ নিয়ে দ্বিমত রয়েছে।

    অবশ্যই পড়ুন: T20 বিশ্বকাপ ফাইনালের দিন বৃষ্টি হলে ট্রফি জিতবে কোন দল?

    উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলর নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আগামীকাল অর্থাৎ শনিবার আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে গড়াবে ভারত বনাম নিউজিল্যান্ডের মেগা ফাইনাল। সন্ধ্যা 7টা থেকে শুরু হবে ম্যাচ। ভারত এবং নিউজিল্যান্ড দুই দলের কাছেই সুযোগ রয়েছে ফাইনাল জিতে ইতিহাস তৈরির। এখন দেখার, শনির ম্যাচে কার পাল্লায় ওজন বেশি থাকে।

  • ‘পশ্চিমবঙ্গ সরকার MA ফিল করলেও …’ বকেয়া DA মামলায় নাটকীয় মোড়? এল বড় খবর

    ‘পশ্চিমবঙ্গ সরকার MA ফিল করলেও …’ বকেয়া DA মামলায় নাটকীয় মোড়? এল বড় খবর

    সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ ডিএ (Dearness allowance) নিয়ে বাংলার সরকারি কর্মীদের আশঙ্কাই যেন সত্যি হল। বকেয়া DA প্রদানের জন্য সুপ্রিম কোর্টের কাছে নতুন করে সময়সীমা চাইল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। সাফ কথা, এখনই তাঁরা ডিএ দিতে পারবে না। যে কারণে এই মামলায় নতুন করে সর্বোচ্চ আদালতে ‘M.A’ করেছে সরকার। যদিও তা ফাইলিং হয়নি বলে খবর। এরই মধ্যে নয়া হুঁশিয়ারি দিলেন কনফেডারেশন অফ স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজের সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায়। তিনি জানালেন, ‘দেখা যাক, লড়াই জারি থাকবে।’

    চরম হুঁশিয়ারি সরকারি কর্মীদের

    তিনি নিজের ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘সরকার MA করলেও Filling is not done yet. দেখা যাক লড়াই জরি থাকবে।’ এরপর অপর একটি পোস্টে তিনি লেখেন, ‘নির্লজ্জ বেহায়া, আবারও এম.এ অ্যাপ্লিকেশন করলো।’ অন্যদিকে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ বলেছেন, ‘রাজ্য M.A ফাইল করে অধিকার আটকাতে চেয়েছে। এমনকি ২৫ শতাংশ দেবার জন্যও ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত সময় চেয়েছে! লড়াই জোরদার করতে হবে।’

    সরকারের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মূলত পঞ্চম বেতন কমিশনের বকেয়া DA পেতে চলেছেন রাজ্য সরকারের ৩,১৭,৯৫৪ জন কর্মচারী, সবাই নন। পাবেন রাজ্য সরকারের পেনশনাররা। তবে বৃহত্তর কর্মচারীরা (শিক্ষক,শিক্ষাকর্মী,পঞ্চায়েত ও পৌর কর্মী প্রমুখ) এই বকেয়া পাওনা থেকে বাদই থাকতে চলেছেন। রাজ্য সরকার তার ২১৫ পাতার মডিফিকেশন আবেদনে সুপ্রিম কোর্টে যে পিটিশন জমা করেছে তার আইনজীবী মারফত।

    কী বলছে রাজ্য সরকার?

    শুক্রবার, রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়। তারা ডিএ মামলায় রায় কার্যকর করার জন্য আদালতের কাছে সময়সীমা বাড়ানোর জন্য একটি নতুন আবেদন জমা দেয়। শুক্রবার রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়েছে যে ডিএ প্রদানের আদেশ বাস্তবায়নে তারা বেশ কয়েকটি প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। সরকার তাদের আর্থিক অসুবিধাগুলিও তুলে ধরেছে। এই কারণেই তারা আদালতের রায় অনুসরণ করার জন্য আরও সময় চেয়েছে। রাজ্য সরকার তাদের আবেদনে দাবি করেছে যে অল্প সময়ের মধ্যে এত বিশাল আর্থিক প্রতিশ্রুতি পূরণ করা প্রায় অসম্ভব। সরকার ব্যাখ্যা করেছে যে মুলতুবি ডিএ গণনা করার জন্য ৩.১৭ লক্ষেরও বেশি বর্তমান কর্মচারীর পাশাপাশি অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মীদের তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।

    আরও পড়ুনঃ DA না দেওয়ার জন্য বিরাট যুক্তি রাজ্য সরকারের, কবে মিলবে বকেয়া? জানাল সময়

    রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়েছে যে ২০১৬ সালের আগে, সমস্ত কর্মচারী তথ্য ডিজিটাল ছিল না। এই হাতে লেখা রেকর্ডগুলি, যা পরিষেবা বইতে রাখা হয়, যাচাই করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ফলস্বরূপ, ভোটের মুখে এই তথ্য ডিজিটালাইজেশন এবং তারপর যাচাই করার প্রক্রিয়াটি অনেক সময় নিচ্ছে। এর ফলে নতুন করে বাংলার সরকারি কর্মীরা ফের একবার অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকতে চলেছেন। বারবার সুপ্রিম নির্দেশ সত্ত্বেও ডিএ না পাওয়া, সরকারি কর্মীদের কাছে কতটা ধাক্কার সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

    চালু পোর্টাল

    সরকার আরও জানিয়েছে যে ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের তথ্য আংশিকভাবে ‘ইন্টিগ্রেটেড ফাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ (IFMS) তে পাওয়া যাচ্ছে এবং এই তথ্য ব্যবহার করে গণনা শুরু হয়েছে। তবে, ২০০৮ থেকে ২০১৫ সালের তথ্যের জন্য, তারা একটি পৃথক অনলাইন পোর্টাল তৈরি করছে। যাচাইয়ের জন্য কর্মীদের এই পোর্টালে তাদের বিবরণ আপলোড করতে হবে। ফলে সবদিক থেকে বিচার করে রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টের কাছে কমপক্ষে ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৬ পর্যন্ত সময় বাড়ানোর আবেদন করেছে। এটি ডিএ-র প্রথম ২৫% কিস্তি পরিশোধের জন্য, যা আদালত ৩১ মার্চের মধ্যে পরিশোধ করার নির্দেশ দিয়েছিল। এদিকে চুপ করে বসে নেই আন্দোলনকারীরাও। সরকারের এহেন পদক্ষেপের পর রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা পাল্টা সতর্কবার্তা জারি করেছেন। তারা ১৩ মার্চ, শুক্রবার ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন।

  • আজ থেকেই অ্যাকাউন্টে ঢুকবে যুবসাথীর টাকা, ধরনা মঞ্চ থেকে ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী মমতার

    আজ থেকেই অ্যাকাউন্টে ঢুকবে যুবসাথীর টাকা, ধরনা মঞ্চ থেকে ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী মমতার

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ধর্মতলার ধরনা মঞ্চ থেকে বিরাট ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। আজ থেকেই যুবসাথী প্রকল্পের (Banglar Yuva Sathi) টাকা বেকারদের অ্যাকাউন্টে ঢুকবে বলেই জানালেন মুখ্যমন্ত্রী। হ্যাঁ, গতকাল অর্থাৎ ৬ মার্চ থেকে এসআইআর প্রতিবাদে ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে ধরনা মঞ্চে বসেছেন মুখ্যমন্ত্রী সহ তৃণমূলের শীর্ষ নেতারা। আর আজ ৭ মার্চ তিনি নিজেই ঘোষণা করলেন, আজ থেকেই যুবসাথীর টাকা অ্যাকাউন্টে ঢুকবে। ফলে ভোটের আগেই যে বেকারদের মুখে হাসি ফোটাতে ফেলেছে শাসক দল তা স্পষ্ট।

    আজ থেকে যুবসাথীর টাকা

    বলাই বাহুল্য, চলতি বাজেটে যুবসাথী প্রকল্পের ঘোষণা করা হয়েছিল। যেখানে জানানো হয়েছিল, মাধ্যমিক পাস করলেই বেকার যুবক-যুবতীরা প্রতি মাসে ১৫০০ টাকা করে ভাতা পাবে। তবে তার জন্য অবশ্যই ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে বয়স হতে হবে। আগে ঠিক করা হয়েছিল, ১৫ আগস্ট থেকে এই ভাতা দেওয়া হবে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী পরে জানান যে, ১ এপ্রিল থেকেই অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকবে। কিন্তু আজ ধরনা মঞ্চ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ৭ মার্চ থেকেই যুবসাথীর টাকা ঢুকবে। এমনকি আন্তর্জাতিক মহিলা দিবসের উপহার হিসেবেই তিনি এই ঘোষণা করলেন।

    আরও পড়ুন: ভোটের আগে রদবদল, ৭ IAS অফিসার সহ KMC-র কমিশনারকেও সরাল নবান্ন

    এদিকে যুবসাথী আবেদনের ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি শর্ত বেধে দিয়েছিল রাজ্য সরকার। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল আবেদনকারীকে অবশ্যই ২১ থেকে ৪০ বছর বয়স হতে হবে। আর রাজ্য সরকারের অন্য কোনও রকম জনমুখী প্রকল্পের আওতায় থাকা যাবে না। প্রাথমিকভাবে আগামী পাঁচ বছর প্রতি মাসে এই প্রকল্পের আওতায় আবেদনকারীরা ভাতা পাবেন বলে জানানো হয়। তবে যদি তার পরেও কেউ বেকার থাকে, সেক্ষেত্রে আবার রিভিউ নিতে পারবে। সেই অনুসারী, সকলে ভেবেছিলে হয়তো ১ এপ্রিল থেকেই এই প্রকল্পের টাকা ঢুকবে। কিন্তু তার আগেই বিরাট খুশির খবর শোনালেন মমতা।

  • সরকারের চাপে না অন্য কারণে পদত্যাগ? এবার মুখ খুললেন প্রাক্তন রাজ্যপাল আনন্দ বোস

    সরকারের চাপে না অন্য কারণে পদত্যাগ? এবার মুখ খুললেন প্রাক্তন রাজ্যপাল আনন্দ বোস

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026) নিয়ে রীতিমত উত্তাল বঙ্গ রাজনীতি। জনসংযোগ বৃদ্ধিতে একের পর এক কর্মসূচি এবং প্রচার পর্ব করেই চলেছে শাসকদল থেকে শুরু করে বিরোধীরা। আর এই অবস্থায় ভোটের ঠিক আগেই পদত্যাগ করলেন সি ভি আনন্দ বোস (CV Ananda Bose)। গত বৃহস্পতিবার রাজ্যপাল পদে ইস্তফা দিয়েছেন তিনি। ওইদিনই রাষ্ট্রপতির কাছে নিজের পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছিলেন। ভোটের আগে কেন এভাবে আকস্মিক পদত্যাগ করলেন, সেই নিয়ে তখন কিছু না জানালেও এবার মুখ খুললেন বোস।

    পদত্যাগ নিয়ে বাড়ছে জল্পনা

    পঞ্চায়েত ভোটের আগে অর্থাৎ ২০২২ সালের ২৩ নভেম্বর পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন সি ভি আনন্দ বোস। মাত্র ৩ বছর হয়েছে রাজ্যপালের পদে ছিলেন। রাজভবনের নাম পাল্টে লোকভবনও করেছেন সাম্প্রতিক সময়ে। এমনকি রাজ্যে ভোট-হিংসা, দুর্নীতির মতো বিষয়ে গুরত্বপূর্ণ বিষয়ে সরব হয়েছিলেন তিনি এবং রাজ্যকে দুর্নীতিমুক্ত করার ডাকও দিয়েছিলেন। কিন্তু বিধানসভা ভোটের আগে বৃহস্পতিবার রাজ্যপালের সিংহাসন থেকে পদত্যাগ করলেন সি ভি আনন্দ বোস। কিন্তু এই পদত্যাগ স্বেচ্ছায় না কি তাঁকে পদত্যাগ করানো হল? তা নিয়ে জল্পনা বেড়েই চলেছে, এবার সব জল্পনার অবসান করে নিজেই পদত্যাগের কারণ সম্পর্কে মুখ খুলেছেন প্রাক্তন রাজ্যপাল বোস।

    পদত্যাগের কারণ জানালেন বোস

    গতকাল অর্থাৎ শুক্রবার, প্রাক্তন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস একটি এক্স পোস্ট করেন। সেখানে তিনি জানিয়েছেন, ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করতে নিজের রাজ্য কেরল চলে যাচ্ছেন। পোস্টে তিনি লেখেন, “পশ্চিমবঙ্গে আমার অধ্যায় শেষের পথে। বাংলার মহান মানুষ আমাকে যে ভালোবাসা ও সম্মান দিয়েছেন, তার জন্য আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। আমি বিকশিত ভারত গড়ার লক্ষ্যে কাজ করতে নিজের রাজ্য কেরলে চলে যাচ্ছি। সেখানে জাতীয় নেতৃত্বের নির্দেশ মেনে এই মিশনের লক্ষ্য পূরণে কাজ করব। কেরলের কল্যাণে সব দিক থেকে চেষ্টা করব। কারণ, এটা আমার নিজের রাজ্য।” পোস্টে সিভি আনন্দ বোস নিজের পদত্যাগপত্রের কপিও শেয়ার করেন।

    আরও পড়ুন: ভোটের আগে রদবদল, ৭ IAS অফিসার সহ KMC-র কমিশনারকেও সরাল নবান্ন

    নয়া রাজ্যপালকে শুভেচ্ছা

    বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে রাজ্যপাল পদে বসানো হয়েছে তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল আর এন রবিকে। সিভি আনন্দ বোস তাঁকেও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি লেখেন, “আমার অত্যন্ত প্রিয় বন্ধু এবং বিশিষ্ট প্রশাসক আর এন রবিকে শুভেচ্ছা জানাই। তিনি আমার উত্তরসূরি হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালের দায়িত্ব নেবেন। তিনি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমিত শাহকে ধন্যবাদ জানিয়ে আরও বলেন, “এই নতুন দায়িত্বকে আমি আমার পবিত্র কর্তব্য হিসেবে দেখছি। কেরলের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি সুযোগ হিসেবে দেখছি। আমি মানুষের জন্য, মানুষের সঙ্গে এবং মানুষের পাশে থেকে কাজ করব।” তবে কেরলে তিনি ঠিক কোন পদে কাজ করবেন, সে বিষয়ে কিছু জানাননি।