সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে ভয়াবহ বিমান হামলা চালানোর অভিযোগ উঠল পাকিস্তানের বিরুদ্ধে (Pakistan Airstrike Afghanistan)। সোমবার গভীর রাতে চালানো এই হামলায় একটি হাসপাতাল সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আর বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। ঘটনাটি ঘিরে প্রতিবাদ জানিয়েছে তালিবান প্রশাসন। অন্যদিকে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে দিয়েছে পাকিস্তান। তাদের দাবি, শুধুমাত্র সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটিগুলি লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হয়েছে। কোনও বেসামরিক স্থাপনা টার্গেট করা হয়নি।
হাসপাতালে হামলার অভিযোগ
আফগান প্রশাসনের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, কাবুলের নেশামুক্তি চিকিৎসা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত একটি হাসপাতালের উপর এই হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। আর হামলার জায়গায় ভবনের একটি বিরাট অংশ ভেঙে পড়ে আর সেখানে আগুন ধরে যায়। প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী খবর, ধ্বংসস্তূপের নিচে বহু মানুষ আটকে পড়েন এবং আঘাতে প্রাণহানি হয়। উদ্ধারকারী দল আগুন নেভানো আর ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে মানুষকে বের করার কাজ চালিয়েছে। পাশাপাশি আহতদেরকে নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে এই ঘটনার পর পাকিস্তান সরকার জানিয়ে দিয়েছে, তাদের বিমান হামলা মূলত সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের ঘাঁটি আর অস্ত্রভাণ্ডারগুলিকে লক্ষ্য করেই চালানো হয়েছিল। আফগানিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর অপশাসন ধ্বংস করায় তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল। কোনও হাসপাতাল বা সাধারণ মানুষের বসতি লক্ষ্য করা হয়নি বলেই দাবি করছে ইসলামাবাদ।
This is not Gaza or Iran, it’s Afghanistan.
Pakistan carried out a airstrike on a rehab hospital in Kabul, killing over 200 people and injuring around 170, says fghan Health Ministry. pic.twitter.com/xMrcU9MGjN
বলাই বাহুল্য, সোমবার সীমান্ত এলাকায় আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর মধ্যে তীব্র গুলি বিনিময় হয়। তারপর এই হামলা ঘটে বলে অভিযোগ। আফগান প্রশাসন দাবি করছে যে, পাকিস্তান তাদের সার্বভৌম সীমা লঙ্ঘন করেছে। এর যথাযথ জবাব দেওয়া হবে। এমনকি হামলায় ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তালিবান। তাদের দাবি, চিকিৎসাধীন রোগীদের উপর হামলা নৃশংস কাজ। একইসঙ্গে ঘটনার পূর্ণ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
সহেলি মিত্র, কলকাতা: বকেয়া ডিএ (DA) নিয়ে আরও এক ধাপ এগোলো পশ্চিমবঙ্গ সরকার। ভোটের মুখে সরকার আদৌ টাকা রিলিজ করবে কিনা, তা নিয়ে এখন সরকারি কর্মীদের মধ্যে নতুন আশঙ্কা তৈরী হয়েছিল। এদিকে এই আশঙ্কার মাঝেই সরকার বকেয়া DA ইস্যুতে বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানাল কবে থেকে এবং কত দফায় সরকারি কর্মীদের বকেয়া মেটানো হবে। চলুন বিশদে জেনে নেওয়া যাক।
বকেয়া DA নিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি রাজ্যের
সোমবার রাজ্য অর্থ বিভাগের তরফে জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে, সরকার জানুয়ারি ২০১৬ থেকে ডিসেম্বর ২০১৯ পর্যন্ত চার বছরের জন্য বকেয়া ডিএ পরিশোধ করবে। সর্বভারতীয় ভোক্তা মূল্য সূচক (এআইসিপিআই)-এর ভিত্তিতে বকেয়ার পরিমাণ নির্ভুলভাবে গণনা করা হবে। রাজ্য সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে এই পর্বের বকেয়া দুটি সমান কিস্তিতে পরিশোধ করা হবে। প্রথম কিস্তি ২০২৬ সালের মার্চ মাসে এবং দ্বিতীয় কিস্তি ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রদান করা হবে।
বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
গত রবিবার, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ঘোষণার ঠিক কয়েক ঘন্টা আগে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বকেয়া ডিএ পরিশোধের ঘোষণা করেন। তিনটি পৃথক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে অর্থ বিভাগ এপ্রিল ২০০৮ থেকে ডিসেম্বর ২০১৯ পর্যন্ত সময়ের বকেয়া ডিএ পরিশোধের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে।
রাজ্য সরকার মূলত ২০২৬ সালের ৫ই ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া একটি যুগান্তকারী রায় এবং শীর্ষ আদালত কর্তৃক গঠিত একটি পর্যবেক্ষণ কমিটির জারি করা নির্দেশাবলী মেনেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে বলে খবর। বিজ্ঞপ্তিগুলিতে রাজ্য সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, বিভিন্ন কেন্দ্র-প্রযোজিত প্রকল্পের বিপুল পরিমাণ বকেয়া পাওনা এবং রাজ্যের অভ্যন্তরে বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কর্মসূচি ও উন্নয়নমূলক প্রকল্পে চলমান দায়বদ্ধতার কারণে বর্তমানে এর আর্থিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্য চাপের মধ্যে রয়েছে। এই আর্থিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও, সরকার জোর দিয়ে বলেছে যে তার কর্মচারীদের কল্যাণ ও স্বার্থই অগ্রাধিকার পায়। তাই, বকেয়া মহার্ঘ ভাতা একাধিক পর্যায়ে পরিশোধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সরকারি কর্মচারীদের জন্য, কর্মচারী শ্রেণীর উপর ভিত্তি করে অর্থ প্রদানের পদ্ধতি ভিন্ন হবে। নির্দেশিকা অনুসারে, গ্রুপ A, গ্রুপ B এবং গ্রুপ C শ্রেণীর কর্মচারীদের ডিএ এরিয়ার সরাসরি তাদের জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ড (GPF) অ্যাকাউন্টে জমা করা হবে। তবে, জিপিএফ অ্যাকাউন্টে জমা করা অর্থ জমা দেওয়ার তারিখ থেকে ২৪ মাসের জন্য অগ্রিম বা চূড়ান্ত অর্থ হিসাবে তোলা যাবে না।
নীলোৎপল রায়ের (Nilotpal Roy) মহাকাব্যিক ব্যঙ্গ-উপন্যাস ইতিমধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে মৌলিক মহাকাব্য এর আগে কেউ কখনো লেখেন নি। এই মহাগ্রন্থ আসলে এক আধুনিক cornucopia — এমন এক সব-পেয়েছির ঝুলি, যেখানে হাত ঢুকিয়ে যা চাওয়া হয় তাই-ই পাওয়া যায়। যারা তাঁর বিগত ঊনত্রিশ বছরের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবহিত আছেন, তাঁরা সম্যকভাবেই জানেন যে একবিংশ শতাব্দীর একজন অন্যতম বিশিষ্ট লেখক ও চিন্তক হিসেবে বাংলার, ভারতের, এবং আন্তর্জাতিক সাহিত্যের প্রাঙ্গণে ও পরিসরে নীলোৎপল রায়ের নিজস্ব মনন আর তাঁর স্বকীয় আত্মবীক্ষা বর্তমান সময়ে কতখানি মূল্যবান, তাৎপর্যপূর্ণ, তথা অভিঘাতপ্রবণ। আজ আমরা ফের একবার তাঁর সঙ্গে কথোপকথনে, তাঁর সদ্যপ্রকাশিত গ্রন্থ নিয়ে আলোচনায়।
প্রশ্ন : এখন মার্চ মাস; ছ’মাস আগে গত বছর আপনার নতুন উপন্যাস প্রকাশিত হয়েছে। আপনি তার্কিক, বাগ্মী, এবং বিপ্লবী; আর আপনার কাজ মানেই নতুন কিছু, এমন কিছু যা আপনার আগে কেউ কখনো করেন নি। এই বইটিতে তেমন কোন নতুনত্ব আছে?
নীলোৎপল রায় : না, না, প্রথমেই ভুল ধারণাগুলি ভেঙ্গে দেই। “তার্কিক” কিংবা “বাগ্মী” আমি নই; প্রকৃত অর্থে “তার্কিক” ছিলেন যেমন ধরুন এপারে নীরদ সি. চৌধুরী আর ওপারে বার্ট্রাণ্ড রাসেল; আবার প্রকৃত
অর্থে “বাগ্মী” ছিলেন ধরুন এপারে হীরেন মুখার্জী আর ওপারে জাঁ-পল সার্ত্র — এইটি হলো আমার কাছে মানদণ্ড বা স্ট্যাণ্ডার্ড, আমি এঁদের ভাবশিষ্য; কিন্তু, “তার্কিক” অথবা “বাগ্মী” হিসেবে সেই স্তরে তো আমি নিজেকে এখনো নিয়ে যেতে পারি নি, যদি আদৌ কোনোদিন পেরে উঠি, সেই দিন হয়তো আমি ঐ বিশেষণগুলির যোগ্য হয়ে উঠবো। আর, “বিপ্লবী” শব্দটির ওজন, গভীরতা, তথা ব্যাপ্তি অনেক অনেক বড়, যত্রতত্র ব্যবহার করে শব্দটির মর্যাদা ক্ষুণ্ন করবেন না; “বিপ্লবী” হওয়ার যোগ্যতা আমার মোটেও নেই, বরং আপনি বলতে পারেন যে আমি ধর্মদ্রোহী, রাজদ্রোহী, সমাজদ্রোহী। যাই হোক, এইবার বইটির প্রসঙ্গে আসি। আধুনিক বাংলা গদ্য বিগত সোয়া-দু’শো বছর ধরে যেভাবে বিবর্তিত হতে হতে আজকের স্তরে এসে পৌঁছেছে, এবং এই সুদীর্ঘ যাত্রাপথের বিভিন্ন বাঁকে বাঁকে বাংলা গদ্যসাহিত্যের যে যে stalwart-রা মাইলফলক হয়ে উঠে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকে ঋদ্ধ করে তুলেছেন, সেই সব কিংবদন্তী গদ্যলেখকদের স্বকীয় স্বাক্ষর বহনকারী নিজস্ব গদ্যশৈলীগুলিকে এই উপন্যাসের কথন-ক্রিয়ার বিভিন্ন পরতে পরতে আমি নির্মিত, বিনির্মিত, ও পুনর্নির্মিত করেছি। বাংলা সাহিত্যে এটা আগে কখনো হয় নি। আমি এই মহাগ্রন্থে বাংলা গদ্যের বিবর্তনকে দেখিয়েছি প্রতীকীভাবে, এই উপন্যাসের ক্রমাগত পরিবর্তনশীল ন্যারেটিভের মধ্যে দিয়ে; শ্রেষ্ঠদের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম প্রায় আড়াই-ডজন বাঙালী গদ্যলেখকের স্বকীয় গদ্যশৈলীর অনন্যসাধারণ কিছু নিদর্শন এই উপন্যাসে দেখানো হয়েছে, যেন বাংলা গদ্যের বিবর্তনের এক প্রদর্শনী, যেন বাংলা গদ্যশৈলীর জাদুঘর পরিক্রমা! এটা জয়েসীয়ান কনসেপ্ট। ‘ইউলিসিস’-এর চোদ্দতম অধ্যায়ে — Oxen of the Sun — এটা জয়েস করেছেন। তবে জয়েস তাঁর মতো করে করেছেন, আমি অন্যভাবে করেছি, আমার মতো করে। জয়েস ইংরাজী গদ্যের বিবর্তনকে ধরেছেন, আমি বাংলা গদ্যের বিবর্তনকে ধরেছি। ‘ইউলিসিস’-এর ঐ অধ্যায়টিতে মোট ষাটটি প্যারাগ্রাফ আছে, যার মধ্যে দিয়ে জয়েস মোট বত্রিশ রকমের আলাদা আলাদা ন্যারেটিভ টেকনিক দেখিয়েছেন, প্রায় দু’হাজার বছর ধরে ঘটা ইংরাজী ভাষার কথনশৈলীর ক্রমবিবর্তন। বাংলাতে আজ অবধি কেউ এভাবে ভাবেই নি, করা তো দূরের ব্যাপার। এই উপন্যাসে প্রথম সেকাজ করেছি আমি। আর একটি কথা। যেকোনো ভাষার একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো সেই ভাষায় প্রচলিত বিভিন্ন বাগধারা। বাংলা ভাষায় বহুকথিত ও সকলের জানা এরকম বেশ কিছু বাগধারাকে আমি নতুন রূপ দিয়েছি, সম্পূর্ণ নতুনভাবে পুনর্নির্মাণ করেছি এই গ্রন্থে; যা, এক অর্থে, ভাষারও পুনর্নির্মাণ, যাকে দেরিদা আবার বলেছেন Deconstruction বা বিনির্মাণ। সেগুলি জানতে হলে, বইটি পড়তে হবে।
nilotpal roy
প্রশ্ন : আপনার উপন্যাসের নাম ‘নীলোৎপলবধ কার্নিভাল’ — এই “বধ” বলতে এখানে আপনি কী বোঝাতে চেয়েছেন? আর “কার্নিভাল” শব্দটির অর্থ তো আমরা জানি “উৎসব”; তাহলে “বধ” কেমন করে “উৎসব” হতে পারে?
নীলোৎপল রায় : এই প্রসঙ্গে, এই উপন্যাসটির শিরোনামখানি, অর্থাৎ ‘নীলোৎপল কার্নিভাল’, এবং সহ-শিরোনাম বা subtitle, মানে ‘তেত্রিশ ভূতের কেত্তন’ — এ দু’টিকেও খেয়াল করতে হবে। ঐ তেত্রিশ ভূত যে আসলে তেত্রিশ সমান্তরাল স্বর, আর ঐ কার্নিভাল যে আসলে Carnivalesque, তা তো সহজেই বোঝা যায়। আরো যে দু’টি ব্যঞ্জনা এখানে নিহিত রয়েছে — একটি শিরোনামে ও আরেকটি সহ-শিরোনামে, সেগুলো একটু ধরিয়ে দেওয়া দরকার। সহ-শিরোনামের ‘ভূতের কেত্তন’ শব্দবন্ধটি, প্রকৃত প্রস্তাবে, ‘ছুঁচোর কেত্তন’ বাগধারাটির প্রতিধ্বনিত বিনির্মাণ, অর্থাৎ, তেত্রিশটি সমান্তরাল স্বর মিলে তৈরী করা যে ডামাডোলের অবস্থা। আর, শিরোনামের ‘নীলোৎপলবধ’ শব্দখানি যে দ্যোতনার ইঙ্গিতবাহী, তা হলো, কেন্দ্রীয় চরিত্র ও/বা স্বর ‘ন’-এর ইতিপূর্বে ঘটে যাওয়া spiritual death বা আত্মার মৃত্যুর পর, এই মহাগ্রন্থে এসে তাঁর spiritual resurrection বা আত্মিক পুনর্জন্ম। এখন আপনার প্রশ্ন হলো, ‘বধ’ কী করে ‘কার্নিভাল’ হতে পারে? ঠিক কথা, এ তো আর ভিলেন বা খলনায়ক হনন নয়! তবে, কেন্দ্রীয় চরিত্রের হত্যা কেমন করে আমোদ-আহ্লাদ-উৎসব হয়ে উঠতে পারে? নায়কের মৃত্যু কি কখনো কার্নিভালেস্ক হয়? এখানে বুঝতে হবে, যে এই কার্নিভাল আসলে অন্য কার্নিভাল; সাধারণ অর্থে আমরা যা বুঝি, তা নয়। মনে করা যাক প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের নিজের লেখা সেই বিখ্যাত গানের লাইনগুলি :
“জন্মিলে মরিতে হবে, জানে তো সবাই;
তবু মরণে মরণে অনেক ফারাক আছে ভাই;
সব মরণ নয় সমান।”
অর্থাৎ, সকল মৃত্যু ধারে ও ভারে সমান ওজনদার হয় না; অধিকাংশ মৃত্যুই হয় সাধারণ; কিন্তু তারই মাঝে কোনো কোনো মৃত্যু অসাধারণ হয়ে ওঠে, কার্নিভালেস্ক হয়ে ওঠে। মনীন্দ্র গুপ্ত-র অনন্যসাধারণ স্মৃতিকথা ‘অক্ষয় মালবেরি’-র দ্বিতীয় পর্বে ছোট্ট একটি অধ্যায় আছে যার শিরোনাম হলো ‘কার্নিভাল’। তার অন্তিম বাক্যটি এইরকম : “মাস তিনেক পর খবর পাওয়া গেল, কোথায় যেন খেলা দেখাতে গিয়ে পি. সি. পাল লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে চৌবাচ্চার কিনারায় পড়ে দু’-আধখানা হয়ে গেছেন।” এই পি. সি. পাল চরিত্রটি, নিজের গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে আশি ফুট উঁচু ডাইভিং বোর্ড থেকে নিচের জলভরা লোহার পাতের চৌবাচ্চায় ঝাঁপ দেওয়ার খেলা দেখাতো, সার্কাসে। কার্নিভাল মানে দুর্ঘটনাও হতে পারে! কার্নিভাল মানে মৃত্যুও হতে পারে! কার্নিভাল মানে বৃত্তাসুরকে বধ করার উদ্দেশ্যে বজ্র নির্মাণের জন্য, দধিচীর ন্যায় স্বীয় অস্থি-বিসর্জনের মতো চরম আত্মত্যাগও হতে পারে! তুষার রায়-এর ‘শেষ নৌকা’ মনে পড়ছে না কি আবার? — “ভাষা নিয়ে ম্যাজিক, শব্দ নিয়ে ছিনিমিনি খেলা, এইসবের বাইরেও আর একটা ম্যাজিক আছে, সে ম্যাজিক নিজেকে হত্যা করার ম্যাজিক, লোকের সামনে দেখানো যে দেখুন আমি আগুন খাচ্ছি, সেই এক ধরণের ভোজবাজি আছে না, অথচ সে আগুন খাওয়ায় জিভ বুক পুড়ে যায়, সেইরকম ম্যাজিক আধুনিক গদ্য বা পদ্যে দেখাই আমরা, যার ভিতর নিজেকে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়, জ্বালিয়ে দিতে হয়।” — এও এক ধরণের কার্নিভাল! আর, ‘নীলোৎপলবধ কার্নিভাল : ৩৩ ভূতের কেত্তন’ শীর্ষক এই মহাকাব্যিক উপন্যাসটিও সেরকমই এক কার্নিভাল।
প্রশ্ন : এখনকার বিভিন্ন বাংলা সংবাদপত্রে যেসব গ্রন্থ-সমালোচনা লেখা হয়, সেগুলি যারা লেখেন, তাঁরা আপনার এই বইটি পড়ে এসব বুঝতে পারবেন?
নীলোৎপল রায় : সেকথা আমি বলবো কেমন করে! সে তো তাঁরা বলবেন। যাদের সেই স্তরের পড়াশোনা আছে, মনন আছে, তাঁরা ধরতে পারবেন; আর যাদের শুধুই ডিগ্রী আছে অথচ পড়াশোনা নেই, মনন নেই, তাঁরা পারবেন না। সার্বিকভাবে বাঙালীর মেধাচর্চার আর সৃজনশীলতার মান এমন তলানিতে এসে ঠেকেছে, যে এখনকার চাটুকার সমালোচকদের দেখলে আমার মনে পড়ে, আজ থেকে একশো-আটত্রিশ বছর আগে ১৮৮৮ খ্রীস্টাব্দে রাজকৃষ্ণ রায়-এর লেখা ‘কাণাকড়ি’ শীর্ষক একটি প্রহসনে যা বলা হয়েছে সমালোচকদের সম্পর্কে — (আপনার পড়া না থাকলে অবশ্যই পড়ে নেবেন) — আমি সেই অংশটি উদ্ধৃত করছি : “এই জিনিসটির নাম সমালোচক, কিন্তু কাজে লোচন শূন্য নিরেট পেচক! এঁদের বিদ্যেশূন্য ইয়ার বন্ধুরা ছাইভষ্ম মাথামুণ্ডু যা লিখুক, এঁরা তাদের স্বর্গে তুলে দেন। কেউ কিছু ঘুষ-ঘাস দিলে তাকেও মাথায় করে ঢাক বাজান। কিন্তু এক গ্লাসের ইয়ার না হলে, বা যারে দেখতে নারি, তার চলন বাঁকা গোছের গ্রন্থকারেরা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে, ভাল ভাল পুস্তকাদি লিখলে এঁরা কঞ্চিকলমের এক খোঁচায় সাত কুঁচি করে জবাই করে। … এক ছটাক মদ দাও, তুমি দশ বৎসর পরে যে বই লিখবে, আজ তার দেড়গজী লম্বা সমালোচনা করে পাঠককে তাক লাগিয়ে দেবেন। এই সকল গর্দ্দভরূপী সমালোচকেরা গরীব গ্রন্থকারদের গ্রন্থসকল না পড়ে — কেবল মলাটের এ পিঠ ও পিঠ দেখেই, যা খুশী তাই সমালোচনা করে, সুতরাং বাবাকে শালা আর শালাকে বাবা বলে সমালোচকত্ব ফলিয়ে বসে।” — এই তো চরিত্র, এখনকার সমালোচকদের।
nilotpal roy
প্রশ্ন : বর্তমান সময়ের সাহিত্য-সমালোচকরা, এবং জনপ্রিয় লেখকরা কি তাহলে সিরিয়াস সাহিত্য পড়ে না বলছেন?
নীলোৎপল রায় : বাঙালী সমাজে একটা সময় ছিলো, যখন মাষ্টারমশাইদের আর লেখকদের, সাধারণ মানুষ সত্যিকারের শ্রদ্ধা করতো। মানুষ অন্তর থেকে একথা বিশ্বাস করতো, যে মাষ্টারমশাইরা এবং লেখকরা হলেন প্রকৃত অর্থেই জ্ঞানী মানুষ তথা গুণী মানুষ; ও সেই জ্ঞানের জন্য আর গুণের জন্যই সমাজে তাঁদেরই সবচেয়ে বেশী সম্মান প্রাপ্য। এঁরা মানুষকে জ্ঞান দিতেন, মানুষ সাগ্রহে শুনতো ও পড়তো সেসব জ্ঞানের কথা; কেউ কখনো বলতো না : “এত জ্ঞান দেবেন না তো!” কেননা, জ্ঞানকে মানুষ তখন মূল্যবান মনে করতো। তখনও, মানুষ জ্ঞান আর তথ্যের ফারাক বুঝতো; এবং জানতো যে information বা তথ্য জানিয়ে দিতে যন্ত্রও পারে, কিন্তু যন্ত্র কখনোই knowledge বা জ্ঞান প্রদান করতে পারে না। এখন যে অর্বাচীনরা এটা বোঝে না, তারা ভাবে যে যেহেতু তাদের হাতে একটা করে স্মার্টফোন আছে, আর তাতে একটা করে ইণ্টারনেট সংযোগ আছে, তাই তারাও সবাই জ্ঞানী হয়ে গেছে; অতএব লেখকদের আর মাষ্টারমশাইদের জ্ঞান শোনার আর তাদের কোনো দরকার নেই। এর সঙ্গে আরেকটা বিষয়ও জড়িত। তখনও, মানুষের জ্ঞানের পাশাপাশি বিনোদনেরও প্রয়োজন ছিলো; কিন্তু, মানুষ ছ্যাবলামো আর বিনোদনের পার্থক্যটা খুব ভালো করে বুঝতো; তখন মানুষ রসিকতা পছন্দ করতো, ভাঁড়ামো নয়। এখন যারা মাষ্টারমশাইদের আর লেখকদের থেকে জ্ঞান শুনতে ও পড়তে নারাজ, তারাই কিন্তু ভাঁড়ামো আর ছ্যাবলামো দেখেশুনে হাততালি দেয়, তারাই ফেসবুক-টুইটার-ইন্সটাগ্রাম-টেলিগ্রাম-এ ভাঁড়ামোর আর ছ্যাবলামোর রিল-ভিডিওকে বিনোদন বলে ভাবে, আর তারাই লঘু-তরল-অগভীর
থ্রিলার-সাসপেন্স-ডিটেকটিভ বইকে সাহিত্য মনে করে বাহবা দেয়, আর বলে : “কী অসাধারণ সাহিত্য পড়লাম!” তাদের এখন ওসবই পছন্দ হয়, কেননা ঐ সব রিল-ভিডিওতে কোনো জ্ঞানের কথা থাকে না, কিংবা ঐসব বইতেও কোনো জ্ঞানের কথা থাকে না; কারণ যারা ওসব রিল-ভিডিও বানায় আর যারা ওসব বই লেখে, তাদের হাতে স্মার্টফোন আর তাতে ইণ্টারনেট সংযোগ থাকলেও, মগজে জ্ঞান নেই; আর যারা ওসব দেখে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে, তাদের তো মগজই নেই। সুতরাং, বলাই বাহুল্য, যে যাদের মগজই নেই, তারা প্রকৃত মাষ্টারমশাইদের আর প্রকৃত লেখকদের জ্ঞান শুনতে ও পড়তে বিন্দুমাত্রও আগ্রহী হবে না; কেননা যেহেতু তাদের মগজই নেই, ঐ জ্ঞান নিয়ে তারা রাখবে কোথায়! তাই বিনোদনের নামে ভাঁড়ামো-ছ্যাবলামো, আর সাহিত্যের নামে জ্ঞানবর্জিত বালখিল্যতাই এইসব মগজহীন অর্বাচীনদের কাছে সেরা ও শ্রেষ্ঠ। সুতরাং, তারা সিরিয়াস বই পড়বে কেমন করে?
প্রশ্ন : আপনার রাগের কারণ কি তাহলে এটাই যে বাঙালী এখন ক্রমশই মা সরস্বতীর থেকে দূরে সরে যাচ্ছে?
নীলোৎপল রায় : আপনিই বলুন না, বাঙালী পড়াশোনা করে এখন? ফর একজ্যাম্পল, ক’জন বাঙালী জন স্টুয়ার্ট মিলের ‘ইউটিলিটারিয়ানিজম’ বইটা পড়েছে? এই বইটার দ্বিতীয় অধ্যায়ের ষষ্ঠ অনুচ্ছেদের শেষের দিকে একটা সাংঘাতিক বাক্য আছে — “It is better to be a human being dissatisfied than a pig satisfied; better to be Socrates dissatisfied than a fool satisfied.” — বাঙালী সমাজেও তো এখন আসলে ঐ জন স্টুয়ার্ট মিলের বলা পাল-পাল সুখী শুয়োরই তৈরী হচ্ছে, নগণ্যস্য নগণ্য কিছু ব্যতিক্রমী অসুখী মানুষ ছাড়া। এখনকার বাঙালী লেখকরাও অধিকাংশই এরকম এক-একটি সুখী শুয়োর; বইপত্র কিছু না পড়েই সব লেখক হয়ে গেছে। কিন্তু, আমার রাগের কারণ সেটা নয়। কে মানুষ হতে চায়, আর কে শুয়োর হয়ে থাকতে চায়, সেটা যার যার ব্যক্তিগত পছন্দের ব্যাপার। সমস্যাটা অন্য জায়গায়। গণিতে শূন্য পেয়ে পরীক্ষায় ডাহা ফেল করা ছাত্র যদি অঙ্কের মাষ্টার হয়ে স্কুলে-কলেজে-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াতে যায়, তাহলে পরের প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা কেমন অঙ্ক শিখবে বুঝতে পারছেন? বাঙালী সমাজের সাহিত্য জগতেও ঠিক সেই ঘটনাটাই ঘটেছে। সংস্কৃত, তামিল, ফরাসী, স্প্যানিশ, রাশিয়ান, জার্মান, ইংরাজী ভাষায় লেখা ধ্রুপদী সাহিত্য, মানে ক্লাসিকস, কিংবা প্রাচ্যের আর পাশ্চাত্যের বিভিন্ন দর্শন এবং সাহিত্য-তত্ত্ব — এসব তো ছেড়েই দিন, শুধুমাত্র নিজের মাতৃভাষায় লেখা সাহিত্য, মানে বাংলা সাহিত্যে বিগত সোয়া-দু’শো বছরে যেসব অমূল্য ও অসাধারণ কালজয়ী বই লেখা হয়েছে, সেগুলোই তো পড়া নেই, আপনারা যাদের বড় মাপের সাহিত্যিক বলে জানেন ও মানেন তাঁদের। পড়া তো দূর অস্ত, সেসব বইয়ের নাম পর্য্যন্ত শোনা নেই ঐসব জনপ্রিয় ও প্রথিতযশা লেখকদের। অথচ, তাঁরাই সব নাকি এখন লেখক পদবাচ্য! অঙ্কে ফেল করা ছাত্র অঙ্কের মাষ্টার হয়েছে আর কী! এর ফল হলো বাংলা সাহিত্যের চরম অবনমন, তথা বাঙালী পাঠককুলের মেধার ও রুচির চূড়ান্ত অধঃপতন। তাঁরা দুধের গ্লাস ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে মদের গ্লাসে ডুবে যাচ্ছেন; সত্যিকারের উৎকৃষ্ট সাহিত্যকে ব্রাত্য করে রেখে নিকৃষ্ট পাঠ-অযোগ্য লেখাপত্রকে মাথায় তুলে নাচছেন। আপনাকে বুঝতে হবে, যে আমি রেগে যাই কেন? এবং সেই ক্রোধ আমার লেখায় প্রতিফলিত হয় কেন? যে কারণে সজনীকান্ত দাস রেগে যেতেন এবং সেই ক্রোধ তাঁর লেখায় প্রতিফলিত হতো, যে কারণে নীরদ সি. চৌধুরী রেগে যেতেন এবং সেই ক্রোধ তাঁর লেখায় প্রতিফলিত হতো, যে কারণে প্রমথনাথ বিশী, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, প্যারীচাঁদ মিত্র, কালীপ্রসন্ন সিংহ, সুভাষ ঘোষ, তুষার রায়, ফাল্গুনী রায়, সুবিমল মিশ্র, নবারুণ ভট্টাচার্য রেগে যেতেন, এবং সেই ক্রোধ
তাঁদের লেখায় প্রতিফলিত হতো, সেই একই কারণে আমিও ক্রুদ্ধ হই, এবং সেই ক্রোধ আমার লেখায় প্রতিফলিত হয়।
প্রশ্ন : পাড়ার মোড়ে মোড়ে যে আড্ডার জন্য বাঙালী বিখ্যাত, সেই আড্ডাতেও তো একসময় শিল্প-সাহিত্য-দর্শন-রাজনীতি নিয়ে তুমুল আলোচনা হতো, যা থেকে অনেক কিছু জানা যেতো, শেখা যেতো; সেটাও কি এক ধরণের মেধাচর্চা নয়?
নীলোৎপল রায় : অবশ্যই, কিন্তু সেই মানের আড্ডা, সেই গভীরতাসম্পন্ন আলোচনা এখন হচ্ছে কোথায়? এখন আড্ডার নামে যেটা হয়, তা হলো মূর্খের বাচালতা। যে উচ্চডিগ্রীধারী অর্ধশিক্ষিত বাঙালী লেখকরা ও পাঠকরা নিজেদের গোটা জীবনটা ধরে পাড়ার চায়ের দোকানে কিংবা বাড়ির এ.সি. ড্রইং-রুমের সোফায় বসে হেমন্ত বড় না মান্না বড়, রফি বড় না কিশোর বড়, উত্তম বড় না সৌমিত্র বড়, শচীন বড় না গাভাস্কার বড়, লতা বড় না আশা বড়, মোহনবাগান বড় না ইস্টবেঙ্গল বড়, পেলে বড় না মারাদোনা বড়, রোনাল্ডো বড় না মেসি বড়, সত্যজিৎ বড় না ঋত্বিক বড়, বচ্চন বড় না রজনীকান্ত বড় — এই ইতরামি করতে করতে জোয়ান থেকে বুড়ো হয় ও মরে যায়, সেই সব মূঢ় অর্বাচীনদের কি আদৌ একথা উপলব্ধি করার মতো মগজ আছে, যে প্রকৃত সাহিত্য কাকে বলে, আর প্রকৃত সাহিত্যিক কারা? যখন একদল অযোগ্য-অপরাধমনস্ক-অমানুষ একজোট হয়ে একটা লুম্পেন সরকার চালায়, এবং জঘন্যতম অপরাধীদের আইনের শাস্তি থেকে বাঁচানোর জন্য সাংবিধানিক পদের তথা প্রশাসনিক শক্তির অপব্যবহার করে, বারংবার করতেই থাকে, তখন এই অরাজক রাষ্ট্রব্যবস্থার ক্ষমতায় আসীন স্বৈরাচারী শাসকদের নিন্দা না করে, তাদের ধিক্কার না জানিয়ে, তাদের অন্যায়ের প্রতিবাদ না করে, সাংস্কৃতিক মহলের যে শিরদাঁড়াহীন ও নপুংসক পরজীবী বুদ্ধিজীবীর দল, নীরবতার সংস্কৃতি পালনে ব্যস্ত হয়ে পড়ে, তারা কেউ আদৌ “শিল্পী” বা “সাহিত্যিক” নয়, আর তাদের সৃষ্টি আদৌ “শিল্প” কিংবা “সাহিত্য” পদবাচ্যই নয়। বিগত ঊনত্রিশ বছর ধরে আমি একথা বলে আসছি। ক্ষমতার গু-মুৎ লেহনকারী, উঞ্ছজীবী এইসব ধান্দাবাজ ভৃত্যমনস্ক লেখক-কবিরা শ্রদ্ধার যোগ্য নয়, ঘৃণার যোগ্য; এদের গোটা জীবনে এরা আজ অবধি “সাহিত্য” পদবাচ্য কিছু লিখতেই পারে নি। একজন প্রকৃত শিল্পী-লেখক-কবি-সাহিত্যিক-স্রষ্টা সবসময় তাঁর ঋজু মেরুদণ্ডটি নিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবেন সত্যের দিকে এবং মিথ্যার উল্টোদিকে, ন্যায়ের পাশে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে, যা ন্যায্য তার পক্ষে এবং যা অন্যায্য তার বিপক্ষে। তাঁকে হতে হবে অকুতোভয়। তিনি কখনোই কোনো ব্যক্তির, প্রতিষ্ঠানের, অথবা সিস্টেমের কেনা চাকরবাকর বা পদলেহনকারী চাটুকার হয়ে পড়বেন না; অথবা একপেশেভাবে শাসকের হুকুমমাফিক ল্যাজ নাড়তে নাড়তে শাসকের প্রোপাগাণ্ডা করার সুবিধার জন্য ভালোকে খারাপ আর খারাপকে ভালো বলবেন না। কিন্তু, হাতে গোনা কয়েকজন ছাড়া তেমন লেখক এখন কোথায় বাঙালী সমাজে!
প্রশ্ন : কিংবদন্তী লেখক সুবিমল মিশ্র আপনার সম্পর্কে বলেছিলেন, যে আপনি হলেন বাংলা সাহিত্যের জেমস জয়েস। আইরিশ সমাজে যেমন জয়েসের লেখা নিয়ে প্রভূত বিতর্ক ছিলো, ঠিক তেমনই বাঙালী সমাজে আপনার লেখাও তো বিতর্কের জন্ম দিয়েছে এবং দিচ্ছে! জয়েসের ‘ইউলিসিস’ অশ্লীলতার অভিযোগে নিষিদ্ধ হয়েছিলো; আপনার এই বইটির ক্ষেত্রেও তো অভিযোগ উঠছে যে বাঙালী পাঠকের কাছে এটি খুবই দুষ্পাচ্য ও গুরুপাক ঠেকছে! কী বলবেন এ নিয়ে?
নীলোৎপল রায় : এই যে এখুনি আপনি বললেন, জয়েসের ‘ইউলিসিস’ নিষিদ্ধ হয়েছিলো, এটা কিন্তু অর্ধসত্য। বাকি অর্ধেকটা আপনি বললেন না, যে আদালতে এই নিয়ে হওয়া মামলার রায়ে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলা হয়েছিলো যে ‘ইউলিসিস’ অশ্লীল নয়। সেকথা বলছি একটু পরে। তার আগে, এই সাহিত্যে অশ্লীলতার অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রথমেই কয়েকটি গ্রন্থের কথা না বললেই নয়, যেগুলি পড়া তো অনেক পরের ব্যাপার, এগুলির নাম অবধি জানে না এখনকার বাঙালী পাঠকরা ও লেখকরা। বাস্তিল দুর্গের কারাগারে বসে লুকিয়ে লেখা ফরাসী ভাষার উপন্যাস ‘The 120 Days of Sodom’, মার্ক্যুইস দ্য সাদ-এর লেখা বীভৎস এ বইতে কী নেই! — ধর্ষণ, পায়ুমৈথুন, অজাচার, পশ্বাচার, শবসঙ্গম, শিশু-সহবাস, মলমূত্র-যৌনতা, এবং এমনকি শরীরের বাইরের অঙ্গচ্ছেদ, শরীরের ভিতরের অঙ্গচ্ছেদ, ও নারকীয় যন্ত্রণা দিতে দিতে হত্যা। ঐ বাস্তিলের কারাগারে বসেই, এই সাদ-এরই লেখা ‘Justine or the Misfortunes of Virtue’, যা লেখার জন্য নেপোলিয়ন সাদ-কে গ্রেপ্তার করেন, ও তারপর জীবনের শেষ তেরোটি বছর কারাগারেই কাটিয়ে সাদ-এর মৃত্যু হলে, প্যারিসের রয়্যাল কোর্ট বইটিকে ধ্বংস করে দেওয়ার হুকুমনামা জারি করে। অষ্ট্রিয়ান লেখক লিওপোল্ড ভন স্যাচার-ম্যাসোচ-এর জার্মান ভাষায় লেখা উপন্যাস ‘Venus in Furs’ — প্রসঙ্গতঃ বলি, এই সাদ-এর নাম থেকে ‘Sadism’, আর স্যাচার-ম্যাসোচ-এর নাম থেকে ‘Masochism’ পরিভাষা দুটির সূত্রপাত হয়, সাহিত্য-তত্ত্বে ও মনস্তত্ত্বে, এঁদের দুজনের লেখা এই বইগুলি থেকে প্রাপ্ত ধারণার সূত্র ধরে। ব্রিটিশ লেখক এডওয়ার্ড সেলন-এর চিঠির সংকলন আকারে লেখা ইংরাজী উপন্যাস ‘The New Epicurean’; এক অজ্ঞাতনামা বা Anonymous লেখক প্রণীত গ্রন্থ ‘The Yellow Room’; St. George Stock ছদ্মনামে প্রকাশিত বই ‘The Whippingham Papers’; Lord George Herbert ছদ্মনামে প্রকাশিত উপন্যাস ‘A Night in a Moorish Harem’ — যারা সাহিত্যে অশ্লীলতার অভিযোগ নিয়ে বাচালতা করেন, সাহিত্যে ব্যবহৃত অমান্য-অমার্জিত-অপভাষা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তাঁরা এই সাতটি বইয়ের একটিও পড়েছেন? নাম শুনেছেন এগুলির?? তাঁরা কি জানেন যে এগুলিকে বিশ্বসাহিত্যের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সম্পদ বলে গণ্য করা হয়??? কিংবা, আমাদের রায়গুণাকর ভারতচন্দ্রের লেখা ‘রসমঞ্জরী’ গ্রন্থের ছয় পৃষ্ঠায় ‘অথ বিশ্রব্ধ নবোঢ়া’ শীর্ষক অংশে আছে :—
“স্তন দুটি করে ছ্যাঁদা,
উরু দুটি ভুজে বাঁধ্যা,
লাজে ভয়ে মুদিল নয়ন।
প্রথমেতে নিরুত্তর,
না না না তাহার পর,
টাল টোল এখন তখন।
যদি খায়্যা লাজ ভয়,
কিঞ্চিৎ সঞ্চিত হয়,
তবে আর না যায় ধরণ।
নবীন ভূষণ বাস,
নব সুধা হাস ভাষ,
নব রস কে করে গণন।”
সেকালে এই লেখাকেও অর্বাচীন বাঙালী পাঠক অশ্লীল বলে দেগে দিয়েছিলো! যারা একাজ করেছিলো, তাদের নাম আজ আর কেউ মনে রাখে নি; অথচ, ভারতচন্দ্রের নাম কিন্তু বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে অক্ষয়, অমর হয়ে আছে। এখন, আমার এই উপন্যাসটির কথা যদি বলেন, তবে সে প্রসঙ্গে বলি, ভাষার ও বিষয়বস্তুর কারণে যদি বাঙালী সমাজে কেউ কেউ আমার বর্তমান গ্রন্থটিকে অশ্লীলতার দায়ে অভিযুক্ত করতে চান, তবে তাঁরা একটুখানি ইতিহাস স্মরণ করুন। বেশী পিছনে যেতে হবে না, শুধুমাত্র গত শতাব্দীটাই যদি খানিক ফিরে দেখি, তাহলে ইউরোপ-আমেরিকা-এশিয়ার অন্ততঃ পাঁচজন এরকম লেখকের দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়। ১৯৩৩ সালে জেমস জয়েসের ‘ইউলিসিস’-কে, ১৯৪৪ থেকে ১৯৫৫ সালের মধ্যে মোট ছয়বার সাদাত হাসান মাণ্টোর ছয়খানি গল্পকে — (‘কালি সালওয়ার’, ‘ধুঁয়া’, ‘বু’, ‘ঠাণ্ডা গোস্ত’, ‘উপর, নিচে অউর দরমিয়াঁ’, ‘খোল দো’), ১৯৬০ সালে ডি. এইচ. লরেন্সের ‘লেডি চ্যাটার্লীজ লাভার’-কে, ১৯৬১ সালে হেনরি মিলারের ‘ট্রপিক অফ ক্যানসার’-কে, আর ১৯৬২ সালে উইলিয়াম বারোজের ‘নেকেড লাঞ্চ’-কে অশ্লীলতার অভিযোগে কাঠগড়ায় তোলা হয়েছিলো। প্রত্যেক ক্ষেত্রেই আদালত ঐসব অভিযোগকারীদের গালে ঠাস করে একটি করে প্রতীকী চড় মেরে, ‘লেখাগুলি অশ্লীল নয়’ এই মর্মে রায় দিয়েছিলো। ‘ইউলিসিস’-এর বিরুদ্ধে ওঠা অশ্লীলতার অভিযোগ প্রসঙ্গে নিজের কাকিমা Josephine Murray-র মেয়ে Kathleen-কে জয়েস বলেছিলেন : “If ‘Ulysses’ isn’t fit to read, life isn’t fit to live.” এই বিষয়ে মাণ্টোর বক্তব্যও প্রায় একইরকম : “If you find my stories dirty, the society you are living in is dirty. With my stories, I only expose the truth.” বর্তমান মহাগ্রন্থটির অজ্ঞাত ও অদৃশ্য গ্রন্থকারও নিজের স্বপক্ষে এই একই যুক্তিতে অটল। ঐ যে পাঁচজন লেখককে গত শতাব্দীতে অশ্লীলতার দায়ে হেনস্তা করার চেষ্টা করা হয়, তাঁরা প্রত্যেকেই বিশ্বসাহিত্যে নিজের নিজের কলমের জোরে অমরত্ব অর্জন করেছেন। বাঙালী সমাজের সমস্যাটা আসলে তাদের মননের ও ভাবনাচিন্তার গোঁড়ামোতে। রাবীন্দ্রিক সংস্কৃতি অত্যন্ত মূল্যবান; কিন্তু মুশকিল হলো এই, যে রাবীন্দ্রিক সংস্কৃতিকে তার প্রকৃত অর্থে অনুধাবন করতে বাঙালী আজও অক্ষম; যে চশমা দিয়ে বাঙালী জাতি গত দেড়শো বছর ধরে রবীন্দ্রনাথকে দেখছে, তার দু’টি কাচই আফিমের ধোঁয়ায় ঝাপসা হয়ে আছে, একটি ন্যাকামোর আফিম, আর অপরটি রক্ষণশীলতার আফিম। এই আফিম আসলে ব্যক্তিপূজার ভক্তি। ঠাকুরবাড়ির সংস্কৃতি কিন্তু ন্যাকাও ছিলো না, রক্ষণশীলও ছিলোনা; বরং মুক্তমনা ছিলো, সমকালীন যুগের অগ্রদূতপ্রতিম ছিলো। আর রবীন্দ্রনাথ স্বয়ং তো ছিলেন তাঁর সময়ের সবচেয়ে বড় বিপ্লবী মানসিকতাসম্পন্ন মানুষ, যিনি সততই অচলায়তনের শৃঙ্খল ভাঙ্গার ডাক দিতে তৎপর ছিলেন। অথচ, সেই রবীন্দ্রনাথকে বাঙালী জাতি আজও বুঝতেই পারে নি। যেদিন বাঙালী এটা বোঝার মতো পরিণতমস্তিষ্ক হবে, সেদিন বাঙালী এটাও বুঝবে, যে বাঙালীর রাবীন্দ্রিক সংস্কৃতি যতখানি মূল্যবান, বাংলা সাহিত্যের স্ল্যাং বা অপভাষা-সংস্কৃতিও ঠিক ততখানিই মূল্যবান; এবং এই দুইয়ের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই। সেদিন আর ভাষার কিংবা বিষয়বস্তুর কারণে বাঙালী সমাজে কোনো বইকে অশ্লীলতার দায়ে অভিযুক্ত করার মতো বালখিল্য দাবী উঠবে না। আর, যদি কেউ এই মহাগ্রন্থের ভাষা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে চান, তবে সর্বাগ্রে তাঁকে এটা উপলব্ধি করতে হবে, যে উৎসবের ভাষা আর বিলাপের ভাষা, প্রতিশোধের ভাষা আর ক্ষমার ভাষা, আশীর্বাদের ভাষা আর অভিশাপের ভাষা কখনোই এক নয়, এক হয় না, এক হতে পারে না। এই মহাগ্রন্থে যে সচেতনভাবেই অমার্জিত তথা অমান্য ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে, এটাও এক ধরনের বিপ্লব, ভাষা-বিপ্লব।
সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: দেশে দ্রুত গতিতে বাড়ছে মেট্রো পরিষেবা (Metro Service)। হ্যাঁ, নতুন লাইন চালু হওয়া আর নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের ফলে এবার ভারত বিশ্বের অন্যতম বড় মেট্রো ব্যবস্থা তালিকায় উঠে আসলো। সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতের মেট্রো নেটওয়ার্ক এখন বিশ্বের মধ্যে তৃতীয় বৃহত্তম, আর এর বৃহৎ অংশই সামলাচ্ছে দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশন পরিচালিত দিল্লি মেট্রো (Delhi Metro)। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের মোট মেট্রো যাত্রীর প্রায় ৫৫ শতাংশ শুধুমাত্র দিল্লি মেট্রোতে যাতায়াত করছেন।
যাত্রী সংখ্যায় নয়া রেকর্ড
করোনা মহামারীর সময় মেট্রো পরিষেবায় বিরাট ধাক্কা লেগেছিল। আর সেই সময় যাত্রী সংখ্যা অনেকটাই কমে গিয়েছিল। কিন্তু পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর থেকে ধীরে ধীরে যাত্রী সংখ্যা আবারও বাড়তে থাকে। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ সালে মোট যাত্রী সংখ্যা ছিল ২২৩.৫ কোটি। আর ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩৫.৮ কোটি। আর দৈনিক গড় যাত্রী সংখ্যাও বেড়েছে। ২০২৪ সালে যেখানে প্রতিদিন গড়ে ৬২.৩ লক্ষ মানুষ মেট্রো ব্যবহার করতেন, ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৪.৬ লক্ষ। এছাড়াও ৮ আগস্ট একদিনে সর্বোচ্চ ৮১ লক্ষের বেশি যাত্রীর রেকর্ড তৈরি হয়েছে।
এদিকে বর্তমানে ভারতের মোট মেট্রো নেটওয়ার্কের দৈর্ঘ্য ১১৪৩ কিলোমিটারেরও বেশি, যা কিনা দেশের ২৬টি শহরে বিস্তৃত। আর প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ১৫ লক্ষেরও বেশি মানুষ মেট্রো পরিষেবা ব্যবহার করছেন। আর এই বিশাল নেটওয়ার্কের মধ্যে দিল্লি এনসিআর অঞ্চলের ব্যবস্থা সবথেকে বড়। হ্যাঁ, বর্তমানে দিল্লি এনসিআর অঞ্চলে নেটওয়ার্কের দৈর্ঘ্য প্রায় ৪১৬ কিলোমিটার, আর মোট স্টেশনের সংখ্যা ৩০৩টি। প্রতিদিন এখানে ৩৪৩টি করে ট্রেন চলাচল করে, আর প্রায় ৪৫০৮টি ট্রিপ সম্পন্ন হয়, এবং মোট ১.৪ লক্ষ কিলোমিটার অতিক্রম করা হয়। সময়ের নির্ভুলতার ক্ষেত্রেও দিল্লি মেট্রো বিশ্বের মধ্যে অন্যতম সেরা। কারণ, এর পাংচুয়ালিটি রেট ৯৯.৯ শতাংশ।
এদিকে প্রযুক্তির দিক থেকেও দিল্লি মেট্রো অনেকটাই এগিয়ে। কারণ, বর্তমানে এটি বিশ্বের অন্যতম বড় ড্রাইভারলেস মেট্রো সিস্টেম। বিশেষ করে দিল্লি মেট্রোর পিংক লাইন আর ম্যাজেন্টা লাইনে ৮০টি চালকবিহীন ট্রেন রয়েছে। সম্প্রতি এই লাইনে দুটো নতুন করিডর চালু হওয়ার কারণে মেট্রো পরিষেবা আরও বিস্তৃত হয়েছে। এমনকি ভবিষ্যতে যাত্রী চাপ সামাল দেওয়ার জন্য নতুন আরও একটি করিডর তৈরি করা হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সেখানে মোট ৫২টি নতুন ট্রেন চালানো হবে, আর তার মধ্যে ১৮টি ট্রেন ইতিমধ্যেই পৌঁছে গিয়েছে।
এবার এক প্রকার ফাঁদে পড়ে রণে ভঙ্গ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সুপ্রিম নির্দেশে জয় নয়, বরং ধর্না মঞ্চে নিজের হার দেখে ধর্না তোলার সিদ্ধান্ত নিলেন তৃণমূল (TMC) সুপ্রিমো। আর এই কথাগুলো আমরা বলছি না, এগুলো প্রকাশ পাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর কাজে!
একদিকে নিজের রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে গিয়ে কখনও তিনি অপমান করে বসছেন দেশের রাষ্ট্রপতিকে, আবার কখনো তিনি ওপেন থ্রেট দিচ্ছেন একটি কমিউনিটিকে! আবার অন্যদিকে, সুপ্রিম নির্দেশ হোক কিংবা শিক্ষকদের বিক্ষোভ – SIR-এর ধর্না মঞ্চে প্রকাশ্যে এসেছে এমন কিছু ঘটনা, যা বলে দিচ্ছে এক প্রকার ব্যর্থ হয়েছে এই ধর্না।
এমনকি যে মুখ্যমন্ত্রী সিঙ্গুরের ঘটনার জন্য করেছিলেন ২৬ দিনের অনশন, যে মুখ্যমন্ত্রী নন্দীগ্রাম ঘটনার প্রতিবাদে দিয়েছিলেন ১৪ দিনের ধর্না, এমনকি নিজের পুলিশকে বাঁচাতে গিয়ে দিয়েছিলেন ৩ দিনের ধর্না – আজ সেই মুখ্যমন্ত্রী SIR-এর মতো ইস্যুতে মাত্র ৫ দিনেই কেন শেষ করে দিলেন ধর্না! আবার তাঁকে সেই ধর্না তোলার অনুরোধ করলেন তাঁরই ভাইপো অভিষেক! কেন?
আজ India Hood ডিকোডে, আমরা তুলে ধরবো এমন কিছু তথ্য, এমন কিছু সত্য, যা প্রমাণ করে দেবে – ধর্মতলার এই ধর্না একটি ফ্লপ শো! প্রমাণ করে দেবে এই যে ধর্না মঞ্চেই এক প্রকার প্যাঁচে পড়ে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী! তাই ধৈর্য ধরে লেখাটি শেষ পর্যন্ত পড়ুন।
দিনটা ছিল শুক্রবার, ৬ই মার্চ, ২০২৬। দুপুর থেকেই ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে ধর্নায় বসেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ধর্নার মূল ইস্যু ছিল SIR প্রক্রিয়ায়, অ্যাডজুডিকেশন তালিকায় যে ৬৩ লক্ষের নাম বাদ গিয়েছে, এরা কি আর ভোট দিতে পারবে?
কিন্তু কয়েকদিন যেতে না যেতেই দেখা গেল অন্য ছবি। ধর্না মঞ্চ থেকেই তৈরি হচ্ছে একের পর এক বিতর্ক, মানুষের অধিকার নিয়ে শুরু হওয়া ধর্না পাল্টে যাচ্ছে রাজনীতিতে! এমনকি ধর্না মঞ্চের পাশেই প্রতিবাদ দেখাচ্ছেন বাংলার শিক্ষকরা।
যার ফলে শেষ পর্যন্ত – আদালতের নির্দেশে বড় জয়, নতুন দরজা অনেকটা খুলে গেল – এই সব বলে এক প্রকার বাধ্য হয়ে নিজেই ধর্না শেষ করার ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী!
কিন্তু, আসলে এই ধর্না শেষ করার নেপথ্যে আসলে রয়েছে কী কারণ?
প্রথম কারণ – প্রথম দিনেই হন অপদস্থ!
দিনটা ৬ই মার্চ, অর্থাৎ ধর্নার প্রথম দিন। ধর্মতলায় মেট্রো চ্যানেলে ধর্নায় বসেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। কিন্তু, হঠাৎ সেখানে গিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন কয়েক জন পার্শ্বশিক্ষক। গত কয়েক দিন ধরেই বেতন বৃদ্ধির দাবিতে সরব হয়েছিলেন তাঁরা। এ বার সেই প্রতিবাদের জন্য তাঁরা বেছে নিলেন মমতার ধর্না মঞ্চকে। সেখানে প্ল্যাকার্ড হাতে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। পাশাপাশি পুলিশ এসে তাঁদের আটক করে সরিয়ে নিয়ে যায়।
মঞ্চে বসে মমতা বলেন, ‘‘শান্ত হয়ে থাকতে পারলে থাকবেন। রাজনীতি করবেন না। বিজেপির কথায় এ সব করবেন না। এই জায়গা খোলামেলা বলে ভাববেন না, যা কিছু করা যাবে। প্রধানমন্ত্রী মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ-কে দেখান। ভ্যানিশ কুমারকে দেখান।’’
আর এই ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। রাজনৈতিকভাবে এই ঘটনাটি তৃণমূলের জন্য অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে।
এই নিয়ে বিরোধীরা বলতে শুরু করে—যে মঞ্চ থেকে সরকার অন্যায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলনের দাবি করছে, সেই মঞ্চের সামনেই সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হচ্ছে।
এবার আসবো দ্বিতীয় কারণে, আর সেটা হল – রাষ্ট্রপতিকে অপমান!
এরপর দিনটা ছিল ৭ই মার্চ। অর্থাৎ ধর্নার দ্বিতীয় দিন। পশ্চিমবঙ্গ সফরে আসেন ভারতের রাষ্ট্রপতি দৌপ্রদী মুরমু। তাঁর শিলিগুড়িতে আদিবাসী সম্প্রদায়ের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নিরাপত্তার কারণে তার স্থান বদল হয়। আর সেখান থেকেই হয় বিতর্কের সূত্রপাত।
কারণ এই স্থান পরিবর্তন নিয়ে রাষ্ট্রপতি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। পরে তিনি নিজেই চলে যান সেখানে, যেখানে অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল। সেখান থেকে মুখ্যমন্ত্রী এবং রাজ্য প্রশাসনের বিরুদ্ধে তোপ দেগে মুর্মু বলেন, ‘‘সাধারণত রাষ্ট্রপতি এলে মুখ্যমন্ত্রীরও আসা উচিত। মন্ত্রীর থাকা উচিত। মমতা আমার ছোট বোনের মতো। জানি না, হয়তো কোনও কারণে আমার উপর রাগ করেছেন।‘ জায়গা প্রসঙ্গে এর পর তিনি বলেন, ‘‘প্রশাসনের মনে কী চলছিল জানি না। আমি তো সহজে চলে এলাম। ওরা বলেছিল পর্যাপ্ত জায়গা নেই। এখানে এত বড় জায়গা আছে। তা-ও কেন হল না, জানি না। এখানে হলে আরও অনেক মানুষ আসতে পারতেন।‘
এরপর ধর্মতলার ধর্নামঞ্চ থেকেই এর জবাব দেন মমতা। বলেন, রাষ্ট্রপতি ‘বিজেপির নীতির ফাঁদে’ পড়েছেন। রাষ্ট্রপতির উদ্দেশ্যে মমতা বলেন, ‘‘বিজেপির পরামর্শে বিধানসভা ভোটের সময় রাজনীতি করবেন না। এসআইআর নিয়ে একটাও কথা বললেন না তো? কত আদিবাসীর নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, সেই খবর রেখেছেন? খোঁজ নিয়ে নিন, আমরা আদিবাসীদের জন্য কী কী করেছি। অন্য রাজ্য কী করেছে।’
আর মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিরোধীরা অভিযোগ তোলে যে ভারতের রাষ্ট্রপতি পদকে অসম্মান করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয় জাতীয় স্তরেও।
প্রশ্ন ওঠে — যে আন্দোলনকে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন বলা হচ্ছে, সেই আন্দোলনের মঞ্চ থেকেই দেশের সাংবিধানিক পদ নিয়ে মন্তব্য কেন? এই ঘটনাটা ধর্না মঞ্চের প্রথম বড় বিতর্ক হয়ে ওঠে। অনেকেই এই ঘটনাকে ভালোভাবে নেন না। আদিবাসীরা এই ঘটনায় রেগে যান। আর এখানেই ফাঁস হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আর এক দুমুখো রাজনীতির পরিচয় – একদিকে তিনি বলেন ভিনরাজ্যে বাঙালীদের হেনস্থার কথা, আর অন্যদিকে তিনি নিজের রাজ্যেই একজন বাঙালি রাষ্ট্রপতিকে হেনস্থা এবং অপমান করলেন। শুধু তাই নয়, তৃনমূলের তরফ থেকে রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তার দায়িত্বে কারা থাকবেন, কোন কনভয়ে যাবেন, সেই সংক্রান্ত গোপন নথিও প্রকাশ করা হয় তৃনমূলের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে। যা নিয়েও শুরু হয় বিতর্ক!
তৃতীয় কারণ – হিন্দুদের ওপেন থ্রেট!
এরপর দিনটা ছিল ৯ই মার্চ। অর্থাৎ, ধর্নার চতুর্থ দিন। ধর্নামঞ্চে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় বলেন,’আমরা আছি বলে আপনারা সবাই ভালো আছেন। যদি আমরা না থাকি, যদি তেমন দিন আসে তাহলে এক সেকেন্ড লাগবে। একটা কমিউনিটি যখন জোট বাঁধে না,ঘিরে ফেললে এক সেকেন্ডে দেবে একদম ১২টা বাজিয়ে। যদি নিজেদের ১৩টা বাজাতে না চান তাহলে বিজেপির অপ্রচারে কেউ দিন ভুল বুঝবেন না।’
মমতার এই মন্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া দেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, এবার মুসলিমরা আর মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের পাশে নেই। তারা রয়েছে হুমায়ুন কবীরের পাশে। তিনি আরও বলেন, হিন্দুরাও এবার জোট বাঁধতে শুরু করেছে।
ফলে ধর্নার মূল ইস্যু থেকে আলোচনা সরে গিয়ে সেই যে ধর্মীয় বিষয়ে গিয়ে আটকে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী। অর্থাৎ কখনো দুধেল গাই আবার কখনো হিংস্র কমিউনিটির মন্তব্য – লোকের কাছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আসল পর্দা ফাঁস করে দিয়েছে।
এবার আমরা বলবো চতুর্থ কারণ, আর সেটা হল সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের অপদস্থ হওয়া
১০ই মার্চ, সুপ্রিম কোর্টে SIR মামলার শুনানিতে একদিকে তৃনমূলের আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামীকে চূড়ান্ত তিরস্কার করেন প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত। আর অন্যদিকে পরিষ্কার করে দেন, SIR প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য, যা প্রথম থেকেই বারংবার বলে আসছে নির্বাচন কমিশন। প্রধান বিচারপতি বলেন, যারা বৈধ ভোটার, তারা অবশ্যই তালিকায় থাকবেন, যারা অবৈধ, তাদের নাম বাদ যাবে। আর ভোটের একদিন আগেও যদি কোনও বৈধ ভোটারের নাম তালিকায় না থাকে, তাহলে সেটিকে স্পেশাল কেস হিসেবে দেখা হবে।
কিন্তু, এখানেই উঠতে থাকে একাধিক প্রশ্ন – এখানে তৃনমূলের জয় কোথা থেকে হল? এছাড়া, কোর্টের নির্দেশ সবসময়ই মেনে এসেছে নির্বাচন কমিশন, সেটা আধার কার্ডকে মান্যতা দেওয়া হোক কিংবা SIR প্রক্রিয়ায় বিচার আধিকারিকদের অন্তর্ভুক্তি হোক – কিন্তু তৃনমূল কি কোর্টের কথা আদৌ শুনছে? তারা কোর্টের নির্দেশকেই বারংবার চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন!
এমনকি বিরোধীরা প্রশ্ন তোলে — যদি বিষয়টি আদালতেই নিষ্পত্তির পথে থাকে তাহলে ধর্নার রাজনৈতিক প্রয়োজনীয়তা কোথায়? এইভাবে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করিয়ে কী লাভ?
পঞ্চম কারণ – ধর্না শেষে মুখ্যমন্ত্রীর আক্ষেপ!
১০ই মার্চ, ধর্না শেষ করার সময় মুখ্যমন্ত্রী একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ করেন। তিনি বলেন— কিছু মানুষকে টাকা দিয়ে কিনে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
এই বক্তব্য রাজনৈতিকভাবে বড় দাবি হলেও বিরোধীরা পাল্টা প্রশ্ন তোলে— কারা টাকা দিচ্ছে? কোন প্রমাণ আছে?
আবার অনেকের দাবী – আসলে সবাই তৃণমূলের অরাজকতা ছেড়ে দল ছাড়ছে, আর সেই ব্যর্থতা ঢাকতে মুখ্যমন্ত্রী টাকা দিয়ে কেনার অভিযোগ তুলছেন – এমনটা নয় তো?
আবার অনেকেই দাবী করেছেন, এবারের ধর্নায় মানুষের উপস্থিতির হার ছিল অনেক কম। এছাড়া, ধর্নার ফলে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও প্রচণ্ডভাবে প্রভাবিত হচ্ছিল।
ফলত বেগতিক বুঝে তাড়াতাড়ি করে এই ধর্না তুলে নেন মুখ্যমন্ত্রী।
অর্থাৎ একদিকে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন— দরজা কিছুটা খুলেছে, তাই আপাতত কর্মসূচি শেষ করা হচ্ছে।
আর অন্যদিকে বিরোধীরা বলছে — আসলে রাজনৈতিকভাবে লাভ হচ্ছিল না। ধর্না মঞ্চে একের পর এক বিতর্ক তৈরি হচ্ছিল, প্রতিবাদ হচ্ছিল, এবং জনসমর্থনের প্রশ্ন উঠছিল। ফলে সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতেই ধর্না শেষ করা হয়েছে।
কিন্তু, আপনাদের কী মনে হয়? এই ধর্না হঠাৎ করেই কেন শেষ করা হল? এবারের ভোটে এই ধর্না কী কোনও প্রভাব ফেলতে পারবে? জানাতে ভুলবেন না আপনার মতামত কমেন্ট করে।
সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ একটানা বৃষ্টির জেরে প্রচণ্ড গরম থেকে মিলেছে মুক্তি। আইএমডি কলকাতা জানিয়েছে, আবহাওয়ার (Weather Today) এই পরিবর্তন ঘূর্ণাবর্ত, নিম্নচাপ অক্ষরেখার পাশাপাশি বঙ্গোপসাগর থেকে তীব্র আর্দ্রতা আসার জেরে বাংলায় ব্যাপক বৃষ্টিপাত হচ্ছে। ভাবছেন আজ মঙ্গলবার থেকে বৃষ্টি কমে যাবে? সে গুড়ে বালি, আগামী ২২ মার্চ অবধি বাংলায় ধারাবাহিকভাবে ঝড় বৃষ্টি চলবে। দক্ষিণবঙ্গ থেকে শুরু করে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে বজ্রবিদ্যুৎ সহ কালবৈশাখী ঝড় বৃষ্টির সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। ঘন্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ের সাথে বজ্রবিদ্যুৎসহ শিলাবৃষ্টি সম্ভাবনা রয়েছে কোথাও কোথাও। চলুন আরও বিশদে জেনে নেওয়া যাক।
দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া
প্রথমেই আসা যাক আজ সমগ্র দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া কেমন থাকবে সে সম্পর্কে। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের তরফে জারি করা বুলেটিন অনুযায়ী, আজ মঙ্গলবার বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টির জন্য হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা, নদীয়া, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, ঝাড়গ্রাম এবং পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায়। বৃষ্টির পাশাপাশি ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।
উত্তরবঙ্গের আবহাওয়া
এবার আসা যাক উত্তরবঙ্গের আবহাওয়া প্রসঙ্গে। আলিপুর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, এদিন দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, কোচবিহার এবং আলিপুরদুয়ার জেলায়। হালকা থেকে মাঝারি পরিমাণে বৃষ্টি সঙ্গে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিমি বেগে দমকা হাওয়া বইবে।
নিশ্চয়ই ভাবছেন আগামীকাল অর্থাৎ বুধবার সমগ্র বাংলার আবহাওয়া কেমন থাকবে? এদিনও তুমূল ঝড় বৃষ্টির জন্য হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং নদীয়া জেলায়। বাকি জেলাগুলির আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে। উত্তরবঙ্গের কথা বললে, এদিন হালকা থেকে মাঝারি পরিমাণে বৃষ্টি হতে পারে দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, কোচবিহার এবং আলিপুরদুয়ার জেলায়।
সৌভিক মুখার্জী, তারাপীঠ: আজ ১৭ মার্চ, মঙ্গলবার। আজকের রাশিফল (Daily Horoscope) দেখেই শুরু করুন দিনটি। পঞ্জিকা বলছে, আজ চন্দ্র কুম্ভ রাশিতে আর সূর্য মীন রাশিতে বিরাজ করছে। এদিকে আজ শতভিষা এবং পূর্ব ভাদ্রপদ নক্ষত্রের প্রভাব পড়বে। ত্রয়োদশী তিথির এই বিশেষ দিনটিতে সিদ্ধ, সাধ্য এবং শুভ যোগ বিরাজ করছে। আজ সূর্যোদয় হিসেবে সকাল ৬:২৯ মিনিটে এবং সূর্যাস্ত যাবে সন্ধ্যা ৬:৩০ মিনিটে।
জ্যোতিষীরা বলছে, যেহেতু আজ মঙ্গলবার, তাই বজরংবলীর কৃপা বর্ষিত হবে কিছু রাশির জাতক জাতিকাদের উপর। কিন্তু কিছু রাশির জন্য আজকের দিনটি খুব একটা ভালো যাবে না। কোন কোন রাশি তা জানতে হলে অবশ্যই পড়ুন দৈনিক রাশিফল (Ajker Rashifal)। প্রতিদিনের রাশিফল ঠিক একদিন আগে পাওয়ার জন্য আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে জয়েন হয়ে থাকুন।
মেষ রাশির আজকের রাশিফল: আজ আপনার ভেতরে প্রচুর শক্তি থাকবে। কিন্তু কাজের চাপ বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। অর্থের আগমন আপনাকে আর্থিক সমস্যা থেকে মুক্তি দেবে। পারিবারিক ক্ষেত্রে সমস্যাগুলি দেখা দিতে পারে। কিন্তু পারিবারিক দায়িত্ব অবহেলা করবেন না। আর্থিক দিক থেকে দিনটি খুবই ভালো যাবে। ব্যবসায়ীদের জন্য দিনটি ইতিবাচক। আজ ভালোবাসা দিক থেকে দিনটি খুবই ভালো কাটবে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রতিকার: পারিবারিক জীবনে সুখ ফিরিয়ে আনার জন্য ঘর থেকে পুরনো, ছেঁড়া কাগজপত্র বা বর্জ্য পদার্থ, সংবাদপত্র ইত্যাদি ফেলে দিন।
বৃষ রাশি: আজ আপনার স্ত্রীর সঙ্গে সিনেমা বা থিয়েটার দেখে সময় কাটাতে পারেন। সন্ধ্যাবেলাটা এতে আনন্দদায়ক হয়ে উঠবে। আজ সন্তানদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা পাবেন। সন্তানদের জন্য গর্বিত বোধ করবেন। বাবা-মায়ের স্বাস্থ্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। হতাশার মুখোমুখি হতে পারেন। পরিবার এবং বিবাহিত জীবনের দিক থেকে আজকের দিনটি খুব একটা ভালো যাবে না। আজ স্ত্রীকে একটু বেশি ভালোবাসা উচিত। মোবাইল ফোন ব্যবহার করার জন্য আজ সময় বেশি ব্যবহার করতে পারেন।
প্রতিকার: পারিবারিক জীবনে সুখ ফিরিয়ে আনতে হলে লাল গরুকে গম বা গুড়ের মিশ্রন খাওয়ান।
মিথুন রাশি: আজ আপনার ভদ্র স্বভাবের প্রশংসা হতে পারে। অনেকেই আপনার প্রশংসা করবে। রাতের দিকে আর্থিক লাভের সম্ভাবনা রয়েছে। সন্ধ্যাবেলা বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেবেন। কারণ, এই সময়টা আপনার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। আজ ডেটে গেলে বিতর্কিত বিষয়গুলি উত্থাপন করা এড়িয়ে চলুন। কর্মক্ষেত্রে আপনার কঠোর পরিশ্রম ফলপ্রসু হবে। জীবনে আজ যাদের গুরুত্ব নেই তাদেরকে ভুলে যাওয়াই সবথেকে বুদ্ধিমানের কাজ হবে। স্ত্রীর কাছ থেকে পাওয়া বিশেষ উপহার আজ আপনাকে বিষন্ন মেজাজকে জাগিয়ে তুলবে।
প্রতিকার: প্রেমের সম্পর্ককে ভালো করার জন্য গরুকে হলুদের সঙ্গে আলু মিশিয়ে খাওয়ান।
কর্কট রাশি: আজ আপনার ওজনের দিকে নজর রাখা উচিত এবং অতিরিক্ত খাওয়া এড়িয়ে চলা উচিত। অতিরিক্ত অর্থ রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগ করতে পারেন। পড়াশোনার জন্য দীর্ঘ সময় ধরে বাড়ির বাইরে থাকা আজ আপনার বাবা-মায়ের রাগের কারণ হতে পারে। ক্যারিয়ারের পরিকল্পনা খেলাধুলার মতো গুরুত্বপূর্ণ। আর্থিক লাভের সম্ভাবনা রয়েছে। ব্যবসায়ীদের জন্য দিনটি খুব একটা ভালো যাবে না। আজ আপনার স্ত্রীর সঙ্গে শান্তিপূর্ণ দিন কাটাতে পারেন। স্বাস্থ্য খুব একটা ভালো থাকবে না।
প্রতিকার: পারিবারিক জীবনে সুখ অর্জন করার জন্য বাবার আদেশ পালন করার চেষ্টা করুন।
সিংহ রাশি: আজ দিনটি আনন্দে ভরপুর থাকবে। চিন্তা না করে কাউকে টাকা ধার দেওয়া এড়িয়ে চলুন। এতে ভবিষ্যতে সমস্যা তৈরি হতে পারে। সংবেদনশীল পারিবারিক সমস্যা সমাধানের জন্য আজ নিজের বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করতে হবে। প্রিয়জনের প্রতি তিক্ত মনোভাব আজ আপনার সম্পর্কের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি করতে পারে। বস কোনও অজুহাতে আজ আগ্রহী হবে না। বিবাহিতদের জন্য দিনটি খুব একটা ভালো যাবে না। স্ত্রী আপনার দৈনন্দিন চাহিদা থেকে আজ সরে আসতে পারে। আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনা আছে।
প্রতিকার: প্রেমের সম্পর্ককে উন্নত করতে হলে কোষাধ্যক্ষকে কিছু টাকা ধার চেষ্টা করুন।
কন্যা রাশি: আজ হাসুন। কারণ এটি সবকিছুর প্রতিকার। বুদ্ধিমানের সঙ্গে বিনিয়োগ করলে ভালো ফলাফল পাবেন। অর্থ অবশ্যই বুঝে শুনে বিনিয়োগ করুন। ব্যস্ত দিন সত্বেও আজ আপনার আত্মীয়দের বাড়িতে ছোট ভ্রমণ করতে পারেন। প্রিয়জনের অযৌক্তিক দাবির কাছে নতি স্বীকার করবেন না। নতুন অংশীদারিত্ব ফলপ্রসু হবে। পরিবারে সুখ শান্তি বজায় থাকবে। আর্থিক দিক থেকে আপনার জন্য দিনটি দুর্দান্ত। নিজের জন্য প্রচুর সময় পেতে পারেন আজ।
প্রতিকার: প্রেমের সম্পর্ককে ভালো রাখতে হলে প্রেমিক কিংবা প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার আগে মিষ্টি খান এবং জল পান করার চেষ্টা করুন।
তুলা রাশি: ধর্মীয় অনুভূতিতে উদ্বুদ্ধ হয়ে আজ আপনি কোনও তীর্থস্থানে ভ্রমণ করতে পারেন। সাধুর কাছ থেকে ঐশ্বরিক জ্ঞান লাভ করতে পারেন। দিন যত এগোবে তত আর্থিক বিষয় উন্নত হবে। ভাই আপনার প্রত্যাশার থেকে বেশি সাহায্য করবে। ভালোবাসা উপভোগ করতে পারবেন। পরিবার এবং বিবাহিত জীবনের দিক থেকে আজকের দিনটি খুবই ভালো কাটবে। আর্থিক লাভের সম্ভাবনা রয়েছে। আজ আপনি আপনার স্ত্রীর সঙ্গে জীবনের স্মরণীয় সন্ধ্যাগুলির মধ্যে একটি কাটাতে পারেন।
প্রতিকার: চাকরি বা ব্যবসায় লাভের জন্য রোদে রাখা কমলা কিংবা গোলাপি রঙের কাঁচের বোতল থেকে জল পান করার চেষ্টা করুন।
বৃশ্চিক রাশি: আজ আপনি যে মানসিক চাপের মধ্যেও দিয়ে ভুগছেন সেগুলি সমাধান হতে পারে। অর্থ কেবলমাত্র তখনই কাজে লাগবে যদি আপনি অপ্রয়োজনীয় ব্যয় থেকে বিরত থাকতে পারেন। এটি আপনাকে স্পষ্টভাবে বুঝতে হবে। আর্থিক লাভের সম্ভাবনা রয়েছে। ব্যবসায়ীদের জন্য আজকের দিনটি খুব একটা ভালো যাবে না। স্বাস্থ্যের দিক থেকেও দিনটি ইতিবাচক নয়। আজ দিনটি আপনার জন্য বেশ দুর্দান্ত। নিজের জন্য সময় পাবেন। স্ত্রী ছাড়া অন্য কাউকে আপনার উপর প্রভাব ফেলতে দেবেন না।
প্রতিকার: স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে হলে দুধ মিশ্রিত জল দিয়ে স্নান করার চেষ্টা করুন।
ধনু রাশি: আজ আপনি শক্তিতে ভরপুর থাকবেন, সে আপনি যাই করেন না কেন তা আপনি অর্ধেক সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে পারবেন। পুরনো বন্ধুরা আর্থিক সাহায্য চাইতে পারে এবং তাদের সঙ্গে দেখা করলে আর্থিক অবস্থা কিছুটা খারাপ হতে পারে। পুরনো সম্পর্কগুলোকে ভালো করার জন্য আজকের দিনটি বেশ ভালো। ভালোবাসার উপহার পেতে পারেন। পরিবার এবং বিবাহিত জীবনের দিক থেকে আজকের দিনটি খুবই ভালো যাবে। মোবাইলে ওয়েব সিরিজ দেখতে পারেন।
প্রতিকার: বিবাহিত জীবনে সুখ অর্জন করার জন্য আজ খারাপ কাজ এড়ানোর চেষ্টা করুন। এতে আপনার আর্থিক অবস্থা উন্নত হবে।
মকর রাশি: আজ আপনার মেজাজি বা একগুয়ে স্বভাবগুলিকে নিয়ন্ত্রণে রাখা উচিত। নাহলে উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হতে পারে। অতিরিক্ত অর্থ রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগ করতে পারেন। জ্ঞানের প্রতি তৃষ্ণা আজ আপনাকে নতুন বন্ধু তৈরি করতে সাহায্য করবে। পারিবারিক জীবনের সুখ অর্জন করার জন্য আধ্যাত্মিক কোনও গুরুর কাছে যেতে পারেন। বিবাহিত জীবনের দৃষ্টিকোণ থেকে দিনটি বেশ দুর্দান্ত। আজ আর্থিক লাভের সম্ভাবনা রয়েছে এই রাশির জাতক জাতিকাদের।
প্রতিকার: স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে হলে জলে সাদা ফুল ভাসিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করুন এবং সঙ্গে কিছু টাকা ভাসাতে হবে।
কুম্ভ রাশি: আজ আপনার মনে হবে যে চারপাশের মানুষগুলি আপনার চাহিদা পূরণ করছে। যতটুকু সম্ভব তার থেকে বেশি প্রতিশ্রুতি দেবেন না। আজ আপনার ব্যক্তিগত নির্দেশনা সম্পর্কের উন্নতি করতে সাহায্য করবে। আজ আপনি মোবাইল ফোন ব্যবহার করে নিজের সময় ব্যয় করতে পারেন। বিবাহিত জীবনের দিক থেকে আজকের দিনটি খুবই ভালো যাবে। একঘেয়ে রুটিন থেকে বিরতি নিয়ে আজ বন্ধুদের সঙ্গে বাইরে বেড়াতে যেতে পারেন। স্বাস্থ্যের দিক থেকে আজকের দিনটি একদমই ভালো যাবে না।
প্রতিকার: স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে হলে কোনও ধর্মীয় স্থানে কাল বা সাদা-কম্বল দান করার চেষ্টা করুন।
মীন রাশি: কেউ আপনার মেজাজ নষ্ট করতে পারে এরকম ধরনের জিনিসগুলিকে আপনার উপর নিয়ন্ত্রণ করতে দেবেন না। অপ্রয়োজনীয় উদ্বেগ বা চাপ আজ আপনার শরীরের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং ত্বকের ক্ষেত্রেও সমস্যা তৈরি করতে পারে। অর্থ লাভের সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু দাতব্য কাজে অংশগ্রহণ করতে হবে। পরিবারের সদস্যরা বা আপনার স্ত্রী আপনাকে মানসিক চাপ দিতে পারে। তবে আর্থিক লাভের সম্ভাবনা রয়েছে। আজ স্ত্রী পরিস্থিতিগুলো দ্রুত মোকাবিলা করতে পারবে।
প্রতিকার: স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে হলে আজ নদীতে একটু নকল মুদ্রা ফেলে দিন।
প্রতিদিন সকালে দৈনিক রাশিফলের আপডেট পেতে অবশ্যই গুগল করুন- India Hood Rashifal
সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: আজ ১৬ মার্চ, সোমবার। BJP ও CPIM-র প্রার্থী ঘোষণা, রেল সম্প্রসারণ, মমতার ধরনা মঞ্চে ‘ভুয়ো সাধু’, রাজ্য-রাজনীতি, অর্থনীতি, বহির্বিশ্ব, কোথায় কী ঘটল আজ? জানতে চোখ রাখুন আজকের সেরা দশে। India Hood-র তরফ থেকে আমরা নিয়ে এসেছি তরতাজা দশটি (Top 10 Bangla News in West Bengal And India) খবর, যা না পড়লে মিস করে যাবেন অনেক কিছুই। বিস্তারিত নতে হলে অবশ্যই প্রতিবেদনটি শেষ পর্যন্ত পড়ুন।
১০) ভোটের আগে প্রার্থী ঘোষণা করল বিজেপি
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ১৪৪টি আসনে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে বিজেপি। তালিকায় বিরাট চমক হিসেবে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবার নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর দুই আসনেই প্রার্থী হয়েছেন। আর ভবানীপুরে তাঁর সম্ভাব্য প্রতিনিধি হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বি হতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই। এছাড়াও দিলীপ ঘোষ থেকে শুরু করে অগ্নিমিত্রা পালসহ একাধিক পরিচিত মুখকে এবার বিভিন্ন পরিচিত কেন্দ্রের প্রার্থী করা হয়েছে। আর প্রথম দফায় ১৪৪টি আসনেই প্রার্থী দিয়েছে বিজেপি। বিস্তারিত পড়তে- এখানে ক্লিক করুন
৯) ভোটের আগে প্রার্থী ঘোষণা করল সিপিআইএম
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থি তালিকা প্রকাশ করেছে সিপিআইএম। আলিমুদ্দিনে সাংবাদিক বৈঠকে বিমান বসু জানিয়েছেন যে, প্রথম দফায় ১৯২টি আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হচ্ছে। আর তালিকায় রয়েছেন মীনাক্ষী মুখার্জী থেকে শুরু করে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য, দিপ্সিতা ধর সহ বিভিন্ন নাম করা নেতারা। বিভিন্ন জেলায় একাধিক নতুন এবং পরিচিত মুখদের এবার প্রার্থী করা হয়েছে। আর মোট ২৯৪টি আসনের মধ্যে বাকি আসনগুলির প্রার্থী তালিকা আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই প্রকাশ করা হবে। বিস্তারিত পড়তে- এখানে ক্লিক করুন
৮) ভাঙ্গরে টিএমসি ছাড়লেন আব্দুল ইসলাম
বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিরাট রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটল ভাঙ্গরে। তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়ার ঘোষণা করলেন নেতা আব্দুল ইসলাম। তিনি জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে থেকেও দলের থেকে প্রাপ্য সম্মান তিনি পাননি। তাই দুঃখে দল ছেড়েছেন। তাঁর এই সিদ্ধান্তে ভাঙ্গরে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরাট ক্ষতি হতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। জল্পনা উঠছে, তিনি এবার আইএসএফ-এ যোগ দিতে পারেন। যদিও এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কিছু স্পষ্ট জানানো হয়নি। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ঘটনা নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করেছে। বিস্তারিত পড়তে- এখানে ক্লিক করুন
৭) ভারত থেকে ৪৫,০০০ টন ডিজেল আমদানি বাংলাদেশের
জ্বালানি সংকট সামাল দিতে আবারো ভারত থেকে ডিজেল আমদানি বাড়াচ্ছে বাংলাদেশ। হ্যাঁ, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন জানিয়ে দিয়েছে, প্রথমে ৫ হাজার টন ডিজেল পাঠানো হচ্ছে ভারত থেকে। আরও ৪০ হাজার টন আমদানির প্রক্রিয়া চলছে। সবমিলিয়ে এবার মোট ৪৫ হাজার টন ডিজেল ভারতে আসবে। আর এই সরবরাহ ভারত-বাংলাদেশ পাইপলাইনের মাধ্যমেই হবে, যা নরেন্দ্র মোদী এবং শেখ হাসিনা উদ্বোধন করেছিলেন। আসন্ন ঈদ উপলক্ষে দেশে জ্বালানিতে প্রভাব পড়তে পারে, তাই আগাম ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার। বিস্তারিত পড়তে- এখানে ক্লিক করুন
৬) শিয়ালদার তিন রুটে EMU পরিষেবা সম্প্রসারণ
যাত্রীদের সুবিধার জন্য বিরাট সিদ্ধান্ত নিল ভারতীয় রেল। শিয়ালদা ডিভিশনে বনগাঁ, ক্যানিং এবং ডায়মন্ড হারবার পরিষেবা সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। ২৩ মার্চ থেকে ২৩ মে পর্যন্ত পরীক্ষামূলকভাবে কিছু ট্রেনের গন্তব্য বাড়ানো হয়েছে, যাতে যাত্রীদের মাঝপথে অন্য ট্রেন ধরতে না হয়। শিয়ালদা-দত্তপুকুর, গোবরডাঙ্গা, চমম্পাহাটি, ঘুটিয়ারি এবং মগরাহাট লোকাল এখন সরাসরি বনগাঁ, ক্যানিং আর ডায়মন্ড হারবার পর্যন্ত চলবে বলে জানানো হয়েছে। ফলে শিয়ালদা শাখার লক্ষাধিক যাত্রী উপকৃত হবে। বিস্তারিত পড়তে- এখানে ক্লিক করুন
৫) রাজ্য পুলিশের ডিজি ও কলকাতা পুলিশ কমিশনারকে বদল কমিশনের
বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রশাসনে বিরাট রদবদল করল নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের ডিজিপি এবং কলকাতা পুলিশ কমিশনারকে বদলি করা হল। নতুন ডিজিপি হিসেবে দায়িত্ব পাচ্ছেন সিদ্ধনাথ গুপ্ত। আর কলকাতা পুলিশের নতুন কমিশনার হচ্ছেন অজয় নন্দ। আগের কমিশনার সুপ্রতিম সরকারকে সরানো হচ্ছে। আর কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, সোমবার দুপুর তিনটের মধ্যেই নতুন কর্মকর্তাদেরকে দায়িত্ব নিতে হবে। এর আগে মুখ্য সচিব এবং স্বরাষ্ট্র সচিবকেও বদলি করা হয়েছিল। আর আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত। বিস্তারিত পড়তে- এখানে ক্লিক করুন
৪) মমতার ধরনা মঞ্চে ‘ভুয়ো সাধু’
ধর্মতলায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ধরনা মঞ্চ ঘিরে এবার নতুন করে বিতর্ক তৈরি হল। অমিত মালব্য অভিযোগ করছেন, মঞ্চে এক ব্যক্তি সন্ন্যাসীর বেশে বক্তব্য দিয়ে নিজেকে মীনাখাঁর রামকৃষ্ণ সারদা মিশনের প্রধান বলে দাবি করেছেন। আর পরে রামকৃষ্ণ মিশন বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়ে দিয়েছে, মীনাখাঁইয় তাদের কোনও রকম শাখা নেই এবং তাদের কোনও সন্ন্যাসী কর্মসূচিতে অংশগ্রহণও করেননি। ঘটনাটি ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। কিন্তু এই অভিযোগ, এ নিয়ে এখনো পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কোনও বিবৃতি জারি করা হয়নি। বিস্তারিত পড়তে- এখানে ক্লিক করুন
৩) আলু বিক্রি না হওয়ায় গোঘাটে আত্মঘাতী ভাগচাষি
হুগলির গোঘাটের মথুরা এলাকায় আলু বিক্রি না হওয়া এবং ঋণের চাপে আত্মঘাতী হয়েছেন ৩৩ বছরের ভাগ চাষি বাপন সুর। হ্যাঁ, গত কয়েক বছর ধরে আলু চাষ করলেও এবার ভালো পরিমাণে দাম না পাওয়ার কারণে তিনি চরম হতাশার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছিলেন। পরিবারের অনুপস্থিততে বাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়েছেন তিনি। প্রথমে তাঁর পাঁচ বছরের সন্তান বাবাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়। চিৎকার করলে পরিবার তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা সেখানে মৃত বলে ঘোষণা করে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। বিস্তারিত পড়তে- এখানে ক্লিক করুন
২) শিয়ালদা ডিভিশনের একাধিক লোকাল ট্রেনের স্টপেজ বাড়াল রেল
শিয়ালদা ডিভিশনের যাত্রীদের সুবিধার জন্য এবার বিরাট সিদ্ধান্ত নিল পূর্ব রেল। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১৮ মার্চ থেকে শিয়ালদা ডিভিশনের একাধিক লোকাল ট্রেনের নতুন স্টপেজ চালু হচ্ছে। শিয়ালদা-শান্তিপুর, রানাঘাট, গেদে, কৃষ্ণনগর, শিয়ালদা-বনগাঁ রুটের বিভিন্ন ট্রেন এবার বাথনা কৃত্তিবাস, শান্তিনগর হল্ট, তাহেরপুর, বীরনগর, জালালখালি হল্ট, বিশরপাড়া কোদালিয়া ও মাতলা স্টেশনে থামবে। আর এই সিদ্ধান্তে উপকৃত হবে যাত্রীরা এবং যাতায়াত আরও সহজ হয়ে উঠবে বলেই মনে করা হচ্ছে। বিস্তারিত পড়তে- এখানে ক্লিক করুন
১) কটকের হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডে মর্মান্তিক মৃত্যু ১০ রোগীর
ওড়িশার কটকের এসসিবি মেডিকেল কলেজ এন্ড হসপিটালের আইসিইউতে ভোররাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার ভোর তিনটে নাগাদ আগুন লাগার পর দ্রুত ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। উদ্ধার কাজে গিয়ে প্রায় ১১ জন হাসপাতাল কর্মী আহত হয়েছেন। আর ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পরিদর্শন করেছেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝি। প্রাথমিকভাবে কোনও শর্টসার্কিট থেকেই আগুন লাগার আশঙ্কা করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। আর মৃতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা করাবে বলে জানিয়েছেন। বিস্তারিত পড়তে- এখানে ক্লিক করুন
বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: 2026-27 নতুন আর্থিক বছরের বাজেট পেশ করেই কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ 4000 কিলোমিটার দীর্ঘ সাত সাতটি নতুন হাই স্পিড রেল করিডোর (Bullet Train) পরিকল্পনা উন্মোচন করেন। রেল সূত্রে খবর, কমপক্ষে 16 লাখ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে দেশের 7টি হাই স্পিড বা বুলেট ট্রেন রেল করিডোর এর কাজ চলবে। এর মধ্যে দক্ষিণ ভারতের প্রথম এবং গুরুত্বপূর্ণ বুলেট ট্রেন (Hyderabad-Chennai Bullet Train) প্রকল্প হায়দরাবাদ-চেন্নাই হাই স্পিড রেল করিডোর। এবার তা নিয়েই মিলল নতুন আপডেট।
মাত্র 2 ঘন্টা 55 মিনিটে হায়দরাবাদ থেকে চেন্নাই
কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলার ঘোষণা অনুযায়ী, যে সাতটি নতুন উচ্চগতির রেল করিডরের ঘোষণা করা হয়েছে তার মধ্যে মুম্বই-পুনে রেল করিডোরের মাধ্যমে মাত্র 48 মিনিটে যাত্রা শেষ করা যাবে। অন্যদিকে চেন্নাই থেকে বেঙ্গালুরু পর্যন্ত যেতে বুলেট ট্রেনে সময় লাগবে 1 ঘন্টা 13 মিনিট। এদিকে বেঙ্গালুরু থেকে হায়দরাবাদ বুলেট ট্রেনে মাত্র 2 ঘন্টায় গন্তব্যে পৌঁছে যাবেন যাত্রীরা। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, চেন্নাই থেকে হায়দরাবাদ পর্যন্ত যে নতুন হাই স্পিড রেল করিডোর তৈরি হচ্ছে তার দৌলতে বুলেট ট্রেনে করে 2 ঘন্টা 55 মিনিটে গন্তব্যে পৌঁছন যাবে।
বলাই বাহুল্য, হায়দরাবাদ-চেন্নাই হাই স্পিড রেল করিডোর আসলে দক্ষিণ ভারতের প্রথম বুলেট ট্রেন প্রকল্প। রেলমন্ত্রক সূত্রে খবর, এই প্রকল্পের মাধ্যমে দক্ষিণ ভারতের হায়দরাবাদ, বেঙ্গালুরু, চেন্নাই এবং অমরাবতীকে সংযুক্ত করা যাবে। রেল সূত্রে পাওয়া সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী, দক্ষিণ ভারতের প্রথম বুলেট ট্রেন হায়দরাবাদ-চেন্নাই হাই স্পিড রেল করিডোরে এই মুহূর্তে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই (Feasibility Study) ও চূড়ান্ত সমীক্ষার কাজ চলছে।
🚨South India’s first Bullet train: Hyderabad–Chennai High-Speed Rail Corridor feasibility study and final location survey underway. pic.twitter.com/ZWfPIneQ3k
উল্লেখ্য, উপরি উক্ত উচ্চগতির রেল করিডোর ছাড়াও পুনে থেকে হায়দরাবাদ রেল করিডোরের মাধ্যমে মাত্র 1 ঘন্টা 55 মিনিটে পৌঁছান যাবে গন্তব্যে। একই সাথে বেঙ্গালুরু থেকে হায়দরাবাদ যাত্রায় সময় লাগবে 2 ঘন্টার কাছাকাছি। এছাড়াও দিল্লি-বারাণসী বুলেট ট্রেনে গন্তব্যে পৌঁছতে সময় লাগবে 3 ঘন্টা 50 মিনিট। এদিকে বাংলার প্রথম বুলেট ট্রেন বারানসী-শিলিগুড়ি পরিষেবায় 2 ঘন্টা 55 মিনিটের মধ্যেই গন্তব্যে পৌঁছতে পারবেন যাত্রীরা।
সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ যাত্রীদের সুবিধার্থে ফের বড় সিদ্ধান্ত দিল রেল। এবার বাংলা থেকে ভিন রাজ্যে যাওয়া আরও সহজ। বিশেষ করে সাঁতরাগাছি থেকে বেঙ্গালুরু যাওয়া আরও জলভাত হয়ে গেল, এর কারণ এবার সাঁতরাগাছি থেকে বেঙ্গালুরুর ইয়েলাহঙ্কা (Santragachi Yelahanka Train) অবধি যে স্পেশাল ট্রেনটি চলত এখন তা নিয়মিত করা হল রেলের তরফে। হ্যাঁ একদম ঠিক শুনেছেন।
একাধিক ট্রেনের তালিকা দিল রেল
দক্ষিণ পূর্ব রেলের তরফে জানানো হয়েছে, আগে যে ০২৮৬৩/০২৮৬৪ সাঁতরাগাছি-ইয়েলাহঙ্কা-সাঁতরাগাছি ট্রেনটি চলত, সেটিকে এবার নিয়মিত ট্রেনে রূপান্তর করা হয়েছে। এখন ট্রেন নম্বর ১৮০৬৩ সাঁতরাগাছি-ইয়েলাহঙ্কা এসি এক্সপ্রেস করে দেওয়া হয়েছে। ট্রেনটি আগামী ২ এপ্রিল থেকে প্রতি বৃহস্পতিবার চলবে। ফিরতি ট্রেন, ট্রেন নম্বর ১৮০৬৪ ইয়েলাহঙ্কা-সাঁতরাগাছি এসি এক্সপ্রেস, ৪ এপ্রিল থেকে প্রতি মঙ্গলবার চলবে।
রেল জানিয়েছে, উল্লেখিত নতুন ট্রেনটি পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা ও অন্ধ্রপ্রদেশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে থামবে, ফলে পূর্ব ভারত থেকে বেঙ্গালুরু অবধি যাতায়াত আরও সহজ হবে। দক্ষিণ-পূর্ব রেলওয়ে এপ্রিল এবং মে মাস থেকে বিভিন্ন রুটে ছয় জোড়া বিশেষ ট্রেন নিয়মিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সাঁতরাগাছি-ইয়েলাহঙ্কা ছাড়াও অন্যান্য ট্রেনগুলির মধ্যে শালিমার এবং এমজিআর চেন্নাই সেন্ট্রাল, শালিমার এবং ভাঞ্জপুর এবং ভাঞ্জপুর এবং পুরীর মধ্যে পরিষেবা। পাশাপাশি সাঁতরাগাছি এবং দিঘার মধ্যে দুটি জোড়া পরিষেবা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
উপকৃত হবেন যাত্রীরা
ট্রেন ১৮০৪১ শালিমার-এমজিআর চেন্নাই সেন্ট্রাল এক্সপ্রেস ৬ এপ্রিল থেকে প্রতি সোমবার চলবে। ফিরতি পথে ১৮০৪২ এমজিআর চেন্নাই সেন্ট্রাল-শালিমার এক্সপ্রেস, ৭ এপ্রিল থেকে প্রতি মঙ্গলবার চলবে। সাঁতরাগাছি-দিঘা ফাস্ট প্যাসেঞ্জারের দুটি সাপ্তাহিক জোড়া ট্রেনও নিয়মিত করা হবে। ট্রেনটি ৪ এপ্রিল থেকে শনিবার চলবে। আরেকটি জোড়া ৫৮০২৯ সাঁতরাগাছি-দিঘা ফাস্ট প্যাসেঞ্জার এবং ৫৮০৩০ দিঘা-সাঁতরাগাছি ফাস্ট প্যাসেঞ্জার ৫ এপ্রিল থেকে রবিবার চলবে।
ট্রেন ১৮০১৫ শালিমার-ভাঞ্জপুর এক্সপ্রেস ২১ মে থেকে বৃহস্পতিবার এবং শনিবার চলবে। ফিরতি পরিষেবা, ১৮০১৬ ভাঞ্জপুর-শালিমার এক্সপ্রেস ২৩ মে থেকে সোমবার এবং শনিবার চলবে। ট্রেন ১৮০১৭ ভাঞ্জপুর-পুরী এক্সপ্রেস ২১ মে থেকে বৃহস্পতিবার এবং শনিবার চলবে। ফিরতি ট্রেন, ১৮০১৮ পুরী-ভাঞ্জপুর এক্সপ্রেস, ২৩ মে থেকে রবিবার এবং শুক্রবার চলবে।