Blog

  • ব্যারেল প্রতি ১৩৭ ডলার! হরমুজ সংকটে এপ্রিলে পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়তে পারে ভারতে

    ব্যারেল প্রতি ১৩৭ ডলার! হরমুজ সংকটে এপ্রিলে পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়তে পারে ভারতে

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের (Middle East War) কারণে দিনের পর দিন দেশের অর্থনীতির উপর প্রভাব পড়ছে। শোনা যাচ্ছে, আগামী ৩১ মার্চের পর নাকি পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়বে! হ্যাঁ, ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ঊর্ধ্বগতিতে ঠেকেছে। জানা যাচ্ছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যেখানে এই তেলের দাম ছিল ৭০.৯ ডলার, সেখানে শুক্রবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৬.৫৬ ডলার। অর্থাৎ, ভারতীয় শোধনাগারগুলির জন্য এই অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৯৩ শতাংশ পর্যন্ত ঊর্ধ্বগতিতে ঠেকেছে। সেই সূত্রে আঁচ করা হচ্ছে যে, পেট্রোল-ডিজেলের দামও এবার অনেকটাই বাড়বে (Petrol-Diesel Price Hike)।

    ভারতে বাড়বে জ্বালানির দাম

    বেশ কিছু বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে, বাজেট লক্ষ্যমাত্রা আর আর্থিক ভারসাম্যের উপর নজর রেখেই আগামী ৩১ মার্চ সরকার তেলের দামের মূল্যবৃদ্ধি করতে পারে। তবে হ্যাঁ, যেহেতু বাংলা সহ মোট পাঁচটি রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন, তাই এই রাজ্যগুলিতে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাবনা খুবই কম। তবে তারপর দাম বাড়তে পারে।

    বলে দিই, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ছিল ব্যারেল প্রতি ৭০.৯ ডলার। আর ১২ মার্চ সেই দাম দাঁড়ায় ১৮৭.২ ডলার। এমনকি গত শুক্রবার সেই দাম পৌঁছে গিয়েছে এক্কেবারে ১৩৬.৫ ডলারে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪০ শতাংশের বেশি আর ইউরালস ক্রুডের দাম প্রায় ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। আসলে ইরানের সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার কারণে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল আর গ্যাস সরবরাহ কমে গিয়েছে। আর এই সংকটের কারণেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ছে। যেহেতু ভারতের মোট জ্বালানির প্রায় ৬০% এই পথ দিয়ে আসে, সেই কারণেই পড়ছে প্রভাব।

    এদিকে এও বলে রাখি, ভারত দীর্ঘদিন ধরেই রাশিয়ায় রাশিয়া থেকে অল্প দামে তেল কিনে আসছে। কিন্তু সম্প্রতি রাশিয়ার ইউরালস ক্রুডের দাম ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। সেই কারণেই আরও চাপ বাড়ছে। এ বিষয়ে অর্থনীতিবিদ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি অপরিশোধিত তেলের দাম সারা বছর প্রায় ১০০ ডলারের কাছাকাছি থাকে, তাহলে ভারতের আমদানি ব্যয় বেড়ে ৮০ বিলিয়ন ডলারের পৌঁছবে। এমনকি ২০২৬ সালে অপরিশোধিত তেলের গড় মূল্য ৮৫ ডলার থাকলে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ০.৩ থেকে ০.৪ শতাংশ কমে যেতে পারে, আর মুদ্রাস্ফীতি বাড়তে পারে ০.৬০%।

    আরও পড়ুন: পরিচারিকাতে ভরসা বিজেপির, আউশ গ্রামের পদ্মের প্রার্থী কলিতা মাজির নাম বিচারাধীন

    এখন বিশেষজ্ঞদের একটাই বক্তব্য, হরমুজ প্রণালী দিয়ে যতদিন না পর্যন্ত তৈলবাহী জাহাজগুলি সাধারণভাবে চলাচল করতে পারছে, ততদিন বাজারে এই অস্থিরতা বজায় থাকবে এবং ভারতীয় ভোক্তাদের উপরে প্রভাব পড়বে। এমনকি পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতির কারণে বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে চ্যালেঞ্জ। ফেব্রুয়ারি মাসের আমদানি-রফতানির পরিসংখ্যানেও দেখা গিয়েছে আমূল পরিবর্তন। হ্যাঁ, আমদানি ২৪.১১% বেড়ে ৬৩.৭১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। আর বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২৭.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এখন দেখার, পেট্রোল-ডিজেলের দামের উপর কোনও প্রভাব পড়ে কিনা, আর এই পরিস্থিতি নয়াদিল্লি কীভাবে সামাল দেয়।

  • নন্দীগ্রামে পবিত্র, ভবানিপুরে মমতা! ২৯১ আসনে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করল TMC

    নন্দীগ্রামে পবিত্র, ভবানিপুরে মমতা! ২৯১ আসনে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করল TMC

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: মাস গড়ালেই বিধানসভা নির্বাচন বাংলায়। গতকাল বিজেপি এবং বামফ্রন্ট তাদের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে। আর সেই তালে তাল মিলিয়ে আজ রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস ২৯১ আসনে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করল (TMC Candidate List)। একদিকে ভবানীপুরে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে নন্দীগ্রামেও রয়েছে চমক। কারণ, সেখানেও লড়ছেন শুভেন্দু। আবার সেই জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককেই হাবড়ার তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী করা হল। কোন আসনে কাকে প্রার্থী করল শাসকদল? জানুন।

    তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী ঘোষণা

    শাসকদল এবার রাজ্যের মোট ২৯১টি আসনে তাদের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে। প্রত্যেকটি বিধানসভা অনুযায়ী প্রার্থী তালিকা নিচে তুলে ধরা হল—

    • অশোকনগর- নারায়ণ গোস্বামী
    • আলিপুরদুয়ার- সুমন কাঞ্জিলাল
    • উত্তরপাড়া- শীর্ষান্ন বন্দ্যোপাধ্য়ায়
    • উলুবেড়িয়া পূর্ব- ঋতব্রত
    • কান্দি- অপূর্ব সরকার
    • কামারহাটি- মদন মিত্র
    • কালিগঞ্জ- পার্থপ্রতিম রায়
    • করিমপুর- সোহম চক্রবর্তী
    • কুশমণ্ডি- রাজীব তিরকে (কুমারগঞ্জ)
    • কোচবিহার উত্তর- পার্থপ্রতিম রায়
    • কলকাতা পোর্ট- ফিরহাদ হাকিম
    • করিমপুর- সোহম
    • কান্দি- অপূর্ব সরকার
    • খড়গপুর (ডেবরা)- রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়
    • গোপালপুর (রাজারহাট)- অদিতি মুন্সি
    • চাঁচল-মালদা- প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়
    • চোপড়া- হামিদুল রহমান
    • চুঁচুডা- দেবাংশু ভট্টাচার্য
    • দিনহাটা- উদয়ন গুহ
    • ডোমকল- হুমায়ুন কবীর
    • ডায়মন্ড হারবার- পান্নালাল হালদার
    • ডেবরা- রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়
    • তালিগঞ্জ- অরূপ বিশ্বাস
    • ধূপগুড়ি- ড. নির্মল রায়
    • নন্দীগ্রাম- পবিত্র কর
    • নওদা- বাইরন বিশ্বাস
    • নাটাবাড়ি- শৈলেন বর্মা
    • নোয়াপাড়া- তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য
    • পাঁচলা- গুলশন মল্লিক
    • পলাশিপাড়া- রুকবানুর রহমান
    • বারুইপুর পশ্চিম- বিমান বন্দোপাধ্যায়
    • বারুইপুর পূর্ব- বিভাস সর্দার
    • ব্যারাকপুর- রাজ চক্রবর্তী
    • বালুরঘাট- অর্পিতা ঘোষ
    • বেহালা পশ্চিম- রত্না চট্টোপাধ্যায়
    • বেলেঘাটা- কুণাল ঘোষ
    • বরানগর- মদন মিত্র
    • ভবানীপুর- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
    • ভাটপাড়া- অমিত গুপ্তা
    • ভাঙড়- শওকত মোল্লা
    • মানিকতলা- শ্রেয়া পাণ্ডে
    • মাথাভাঙা- সাধু বর্মন
    • মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি- শঙ্কর মালাকার
    • মেখলিগঞ্জ- পরেশ অধিকারী
    • মোথাবাড়ি- মহম্মদ নজরুল ইসলাম
    • রানাঘাট- রানা চট্টোপাধ্যায়
    • রামনগর- অখিল গিরি
    • রায়গঞ্জ- কৃষ্ণ কল্যাণী
    • রাজারহাট-নিউটাউন- তাপস চট্টোপাধ্যায়
    • শিলিগুড়ি- গৌতম দেব
    • শীতলকুচি- হরিহর দাস
    • সাগরদিঘি- বাইরন বিশ্বাস
    • সবং- মানস ভুঁইয়া
    • সিঙ্গুর- বেচারাম মান্না
    • সোনারপুর উত্তর- ফিরদৌসি বেগম
    • সোনারপুর দক্ষিণ- অরুন্ধুতী মৈত্র
    • হাবড়া- জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক
    • হাওড়া উত্তর- গৌতম চৌধুরী
    • হরিরামপুর- বিপ্লব মিত্র
    • বরানগর- সায়ন্তিকা
  • নন্দীগ্রামে মমতার আঘাতপ্রাপ্ত খুঁটিতে ধূপ-ধুনো! প্রচার শুরু বিজেপির, ভাইরাল ভিডিও

    নন্দীগ্রামে মমতার আঘাতপ্রাপ্ত খুঁটিতে ধূপ-ধুনো! প্রচার শুরু বিজেপির, ভাইরাল ভিডিও

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বহু জল্পনা এবং প্রতীক্ষার পর অবশেষে গত রবিবার কমিশন রাজ্যে দুই দফায় নির্বাচনের দিন (West Bengal Election 2026) ঘোষণা করল। ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণের পর ৪ মে প্রকাশ্যে আসবে ফলাফল। এমতাবস্থায় গতকাল প্রকাশ্যে এল বিজেপির প্রার্থীদের তালিকা। ভবানীপুর এবং নন্দীগ্রাম (Nandigram) থেকে দাঁড়াতে চলেছেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। নাম ঘোষণায় আনন্দে মেতে উঠেছেন কর্মীরা। এমতাবস্থায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আঘাতপ্রাপ্ত খুঁটিতে পুজো করে নন্দীগ্রামে প্রচার শুরু করে বিজেপি। ভাইরাল সেই ভিডিও।

    নন্দীগ্রামে খুঁটি পুজো বিজেপি কর্মীদের

    রবিবার কমিশনের নির্বাচনের দিন ঘোষণার পরেই নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর সমর্থনে শুরু হয়ে যায় দেওয়াল লিখন। যদিও তখনও অফিসিয়ালি ঘোষণা হয়নি তাঁর নাম। তবে পরে নাম ঘোষণা হতেই উল্লাসে মেতে ওঠেন বিজেপির কর্মী সমর্থকরা। ব্যান্ড পার্টি নিয়ে দলের পতাকা ওড়াতে ওড়াতে সোজা চলে যান নন্দীগ্রামের বিরুলিয়া বাজারে। সেখানে যে খুঁটিতে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই খুঁটিতে ধূপকাঠি জ্বালিয়ে পুজো করতে দেখা যায় বিজেপি কর্মীদের। পুজো দেওয়ার পাশাপাশি জয় শ্রীরাম স্লোগানও দেন তাঁরা। ইতিমধ্যেই সেই ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন বিজেপি নেতা তথা আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি।

    কী কারণে এই খুঁটি পুঁজো?

    গতবার বিধানসভা নির্বাচনের সময় নন্দীগ্রামের ওই খুঁটিতে পায়ে আঘাত লেগেছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। পায়ে প্লাস্টার নিয়েই রাজ্যজুড়ে ভোটের প্রচার করেছিলেন তিনি। যদিও বিজেপির নেতাদের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘নাটক’ করেছিলেন। তাতেও লাভ হয়নি তাঁর। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৯৫৬ ভোটে পরাজিত করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তাই শাসক দলকে মোক্ষম জবাব দিতে সোমবার রাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আঘাতপ্রাপ্ত খুঁটিতে পুজো করে নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর হয়ে প্রচার শুরু করেন বিজেপি কর্মীরা। তুমুল ভাইরাল হয় সেই ভিডিও। আর তাতেই রাজনৈতিক তরজা চরম আকার নেয়।

    আরও পড়ুন: পরিচারিকাতে ভরসা বিজেপির, আউশ গ্রামের পদ্মের প্রার্থী কলিতা মাজির নাম বিচারাধীন

    খুঁটিপুজো প্রসঙ্গে তমলুক সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সহ-সভাপতি প্রলয় পাল বলেন ‘মেদিনীপুরে ছেলে শুভেন্দু অধিকারী এবার নন্দীগ্রামের পাশাপাশি ভবানীপুরেও প্রার্থী হয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী যেখানেই দাঁড়ান না কেন আমাদের নেতা তাঁকে বিদায় জানাবেন। রীতি অনুযায়ী সনাতন ধর্মের মানুষ কিছু শুভ কাজ করার আগে খুঁটি পুজো করে। আমরা তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেই খুঁটিতে আঘাত পেয়েছিলেন, সেই খুঁটিতে পুজো করে শুভ কাজ শুরু করলাম।” অন্যদিকে ওই জেলার তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি সুজিত রায় বলেন, “যে বিজেপি নেতা খুঁটি পুজো করছেন তিনি মহিলাদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ কথা বলেন। তাঁরাই শুভেন্দুর সম্পদ। এই নির্বাচনে মহিলারা বিজেপিকে উচিত শিক্ষা দেবেন।”

  • হিরণ ছাড়া বিজেপির প্রার্থী তালিকা থেকে বাদ আরও ৮ বিধায়ক, দেখুন লিস্ট

    হিরণ ছাড়া বিজেপির প্রার্থী তালিকা থেকে বাদ আরও ৮ বিধায়ক, দেখুন লিস্ট

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল রাজ্যে দুদফায় ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026) হবে। এই অবস্থায় গতকাল অর্থাৎ সোমবার প্রথম দফায় ১৪৪টি আসনের জন্য প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে বিজেপি (Bharatiya Janata Party)। কিন্তু তালিকা প্রকাশ্যে আসতেই দেখা যায় ১৪৪টি আসনের মধ্যে ৪৮টি আসন এমন, যেগুলি বিজেপির দখলেই ছিল। কিন্তু তার মধ্যে টিকিট পেলেন ৪০ জন। বাদ পড়লেন আট জন বিধায়ক। তুঙ্গে রাজনৈতিক বিতর্ক।

    বাদ পড়েছে ৮ বিজেপি বিধায়ক

    বিজেপির প্রার্থী তালিকা অনুযায়ী যে আটটি জয়ী আসনে প্রার্থী বদল করা হয়েছে, তার মধ্যে তিনটি উত্তরবঙ্গে, তিনটি রাঢ়বঙ্গে, বাকি দু’টি রাঢ় ঘেঁষা দক্ষিণবঙ্গে। অর্থাৎ তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন বালুরঘাটের অশোক লাহিড়ি, খড়্গপুর সদরের হিরণ চট্টোপাধ্যায়, শীতলকুচির বরেন্দ্রচন্দ্র বর্মন, কালিয়াগঞ্জের সৌমেন রায়, বলরামপুরের বালেশ্বর মাহাতো, রঘুনাথপুরের বিবেকানন্দ বাউরি, আরামবাগের মধুসূদন বাগ এবং গোঘাটের বিশ্বনাথ কারক। এদিকে খড়্গপুর সদরের বিধায়ক তথা কাউন্সিলর হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের বদলে বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি তথা ওই আসনের প্রাক্তন বিধায়ক দিলীপ ঘোষকে টিকিট দেওয়া হয়। পুনরায় এই একই আসনে প্রার্থী হওয়ায় বেশ খুশি তিনি।

    দ্বিতীয় বিয়েই কি কাল হল হিরণের!

    কয়েক মাস আগে থেকেই দলীয় অন্দরে শোনা যাচ্ছিল যে, দিলীপ ঘোষ এবারেও খড়্গপুর সদরের প্রার্থী হতে পারবেন না। কিন্তু সম্প্রতি হিরণের দ্বিতীয় বিবাহ ঘিরে বিতর্ক চরম আকার নেওয়ায় পাশা পাল্টে যায়। যার ফলে স্থানীয় সমীক্ষাতেও দিলীপের নামই বেশি সমর্থন পাচ্ছিল। ফলে দিলীপ সেই আসন ফিরে পেলেন, যেখান থেকে তিনি প্রথম বার জনপ্রতিনিধি হয়েছিলেন। এই কাণ্ডে হিরণের প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা বলেন, ‘‘সম্প্রতি যে ঘটনাটি ঘটেছে, তা সাধারণ মানুষ ভাল ভাবে নেননি। বিজেপি-ও যে তার এই কাণ্ড ভাল চোখে দেখেনি, তা এই প্রার্থিতালিকা থেকেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে।’’

    আরও পড়ুন: প্রতি দফায় ২ লাখ ৫০ হাজার কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান, অশান্তি হলে … কড়া বার্তা কমিশনের

    প্রসঙ্গত, আজ, মঙ্গলবার বিকেলে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করতে চলেছে। এদিকে নাম ঘোষণার আগেই সকাল থেকে একাধিক জেলায় শাসক দলে যোগ দেওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। আজ কলকাতার দলীয় কার্যালয়ে প্রাক্তন ক্রিকেটার শিবশঙ্কর পাল, সাঁওতাল সম্প্রদায়ের পরিচিত শিক্ষাবিদ তনুশ্রী হাঁসদা এবং ইসলামিক স্কলার আবদুল মতিন তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। এখন দেখার ভোটের জন্য প্রতিটি কেন্দ্রে কাকে নির্বাচনের মুখ করেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

  • একটু পরেই দক্ষিণবঙ্গের ৮ জেলায় তাণ্ডব শুরু করবে কালবৈশাখী, তেড়ে আসছে বৃষ্টিও

    একটু পরেই দক্ষিণবঙ্গের ৮ জেলায় তাণ্ডব শুরু করবে কালবৈশাখী, তেড়ে আসছে বৃষ্টিও

    সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ সোমবার রাতভর বৃষ্টিতে ভিজেছে সমগ্র বাংলা। সেইসঙ্গে মরসুমের প্রথম কালবৈশাখী পেয়েছে শহর কলকাতা। গতকাল ঝড়-বৃষ্টি রীতিমতো তাণ্ডব চালিয়েছে বাংলাজুড়ে। অবশ্য কোথাও বেশি তো আবার কোথাও কম ঝড়, বৃষ্টি হয়েছে। যাইহোক, কিন্তু আজ মঙ্গলবার সকাল থেকেই আকাশের মুখ ভার। সেইসঙ্গে একটা ভ্যাপসা গরম। কে বলবে গতকাল এত দুর্যোগ হয়েছে। সকলেই বলছেন, একটু ঝড় বৃষ্টি হলে মন্দ হয় না। হবে কি? উত্তর হল হ্যাঁ। আলিপুর আবহাওয়া অফিস সূত্রে খবর, আজ দুপুরের পর থেকেই বদলে যাবে বাংলার আবহাওয়া (South Bengal Weather)। বিকেল বা সন্ধের দিকে ফের বৃষ্টি নামতে পারে জেলায় জেলায়। রয়েছে কালবৈশাখীর সম্ভাবনাও।

    বিকেলে ফের বৃষ্টি, কালবৈশাখীর সম্ভাবনা

    আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে যে, আগামী ২২শে মার্চ, রবিবার পর্যন্ত কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে বিক্ষিপ্ত বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টি এবং কালবৈশাখীর দাপট অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। আজ ১৭ মার্চ বিকেলের পর জেলায় জেলায় বৃষ্টির জন্য আবহাওয়া অফিস বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে। এক টানা বৃষ্টি জেরে ইতিমধ্যে কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের তাপমাত্রা এক ধাক্কায় অনেকটাই কমে গিয়েছে। আগামী কয়েকদিন আপাতত এরকমই আবহাওয়া বিরাজ করবে বলে খবর। কলকাতা সহ পার্শ্ববর্তী জেলা যেমন হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনাতে ব্যাপক বৃষ্টির ভ্রূকুটি রয়েছে। এছাড়াও বৃষ্টি হতে পারে পূর্ব-পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম এবং পুরুলিয়ায়।

    আরও পড়ুনঃ LPG সঙ্কটের মাঝে গ্যাস নিয়ে নয়া নির্দেশনা, না মানলে মিলবে না সিলিন্ডার

    মঙ্গলবার সারাদিন দক্ষিণবঙ্গের আকাশ মূলত মেঘলা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। হাওয়া অফিস সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার থেকে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা সাময়িকভাবে কমে আসার সম্ভাবনা আছে। তবে, শুক্রবার থেকে ফুল দমে বৃষ্টি, কালবৈশাখীর দাপট শুরু হবে দক্ষিণবঙ্গে। শনিবার, রবিবার ব্যাপক বৃষ্টি চলবে। সঙ্গী হবে ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিমি বেগে ঝড় ও বজ্রবিদ্যুৎ।

    কেমন থাকবে উত্তরবঙ্গের আবহাওয়া?

    এবার আসা যাক উত্তরবঙ্গের আবহাওয়া প্রসঙ্গে। উত্তরবঙ্গে আজ থেকে আগামী কয়েকদিন বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টি অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস রয়েছে। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারের মতো জেলাগুলিতে বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টিপাত এবং ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে দার্জিলিং জেলায় বেশি বৃষ্টি, ঝড় হতে পারে বিকেলের পর খবর।

  • LPG সঙ্কটের মাঝে গ্যাস নিয়ে নয়া নির্দেশনা, না মানলে মিলবে না সিলিন্ডার

    LPG সঙ্কটের মাঝে গ্যাস নিয়ে নয়া নির্দেশনা, না মানলে মিলবে না সিলিন্ডার

    সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ এলপিজির (LPG Cylinder) জোগান না থাকায় এমনিতেই সমস্যায় রয়েছেন সাধারণ আমজনতা। গ্যাস নিয়ে বাংলা সহ গোটা দেশে রীতিমতো হাহাকার পড়ে গিয়েছে। এদিকে রেস্তোরাঁগুলিতেও মেনুতে কাটছাঁট থেকে শুরু করে মেনুর দাম বৃদ্ধি করে দিয়েছে। আগামী দিনে পরিস্থিতি কী হবে সেটা ভেবে দিশেহারা সকলে। এরই মাঝে এলপিজির নিয়মে বড় বদল আনল কেন্দ্রীয় সরকার। ৩৩ কোটি মানুষের জন্য বিশেষ নির্দেশিকা জারি করেছে কেন্দ্র।

    LPG e-KYC বাধ্যতামূলক করল কেন্দ্র

    নিশ্চয়ই ভাবছেন কী হয়েছে? তাহলে জানিয়ে রাখি, কেন্দ্রীয় সরকার দেশের প্রায় ৩৩ কোটি ঘরোয়া গ্যাস সিলিন্ডার গ্রাহকের জন্য বায়োমেট্রিক আধার অথেন্টিকেশন অর্থাৎ ই-কেওয়াইসি (eKYC) করানো বাধ্যতামূলক করেছে। তবে, এর জন্য গ্যাস এজেন্সিতে লাইনে দাঁড়ানোর প্রয়োজন হবে না। ঘরে বসেই ফোনের মাধ্যমে কয়েকটি সহজ ধাপ অনুসরণ করে আপনি করে নিতে পারবেন। মূলত গ্যাস সরবরাহে স্বচ্ছতা আনতে এবং ভর্তুকির সুবিধা যাতে সরাসরি সঠিক সুবিধাভোগীদের কাছে পৌঁছায় তা নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, ই-কেওয়াইসি প্রক্রিয়াটি আধার অথেন্টিকেশন অ্যাপের মাধ্যমেই সম্পন্ন হবে। এই কারণেই গ্যাস গ্রাহকদের এই বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়ার জন্য এজেন্সিতে যেতে হবে না।

    পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক এক্স হ্যান্ডেলে জানিয়েছে যে, এখন থেকে সমস্ত গার্হস্থ্য গ্যাস গ্রাহকদের জন্য বায়োমেট্রিক আধার ভেরিফিকেশন বা ই-কেওয়াইসি সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক। টুইটটিতে আরও বলা হয়েছে যে, ই-কেওয়াইসি-র জন্য শুধু গ্যাস কোম্পানির মোবাইল অ্যাপ এবং Aadhaar Face RD-ই যথেষ্ট নয়। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনার ১০৫ মিলিয়নেরও বেশি সুবিধাভোগীর ভর্তুকি অব্যাহতভাবে পাওয়ার জন্য এই যাচাইকরণটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এই সুবিধাভোগীদের বছরে একবার এই অনলাইন যাচাইকরণ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে হবে।

    ফোন থেকে কীভাবে LPG E-KYC সম্পন্ন করবেন?

    আপনার ফোন থেকে ই-কেওয়াইসি সম্পন্ন করতে, প্রথমে আপনার গ্যাস কোম্পানির অ্যাপ এবং Aadhaar Face RD অ্যাপ ইনস্টল করুন। বাধ্যতামূলক বায়োমেট্রিক প্রমাণীকরণ সম্পন্ন করার জন্য এলপিজি গ্রাহকদের এগুলোর প্রয়োজন হবে।

    আরও পড়ুনঃ বাংলার গুরুত্বপূর্ণ রুটে একাধিক ট্রেন বাতিল করল রেল, সমস্যায় পড়বেন যাত্রীরা

    ১) গ্যাস কোম্পানির অ্যাপটি ওপেন করুন এবং আপনার গ্যাস সংযোগের সাথে নিবন্ধিত একই মোবাইল নম্বর দিয়ে লগইন করুন।
    ২) গ্যাস কোম্পানির অ্যাপের মেনু বা সার্ভিস সেকশনে গিয়ে সেখানকার আধার E-KYC বা Re-KYC বাটনে ক্লিক করুন।
    ৩) এরপরে, স্ক্রিনে ভেসে থাকা নিয়মগুলো মেনে নিন এবং মুখ শনাক্তকরণের কাজটি সম্পন্ন করতে পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যান।
    ৪) এটি করলে আধার ফেসআরডি অ্যাপটি অটোমেটিকভাবে খুলে যাবে।
    ৫) এবার, আপনার ফোনের সামনের ক্যামেরা দিয়ে আপনার মুখ স্ক্যান করুন।
    এই ধাপের পর আপনার আধার বিবরণ স্ক্রিনে দেখা যাবে। এখন সাবমিট অপশনে ক্লিক করে আপনার ই-কেওয়াইসি সম্পূর্ণ করুন।

  • দায়িত্ব নিয়েই অ্যাকশনে রাজ্যপাল, নিয়োগ নিয়ে চিঠি নবান্নে

    দায়িত্ব নিয়েই অ্যাকশনে রাজ্যপাল, নিয়োগ নিয়ে চিঠি নবান্নে

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: রাজ্যে ভোটের (West Bengal Election 2026) নির্ঘণ্ট বেজে গিয়েছে। আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল রাজ্যে দুই দফায় হতে চলেছে ভোট। গণনা হবে ৪ মে। আর এই অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাজ্যপাল হিসেবে শপথ নিলেন আর এন রবি (Governor RN Ravi)। জাঁকজমকপূর্ণ ভাবে বিভিন্ন রীতি মেনে ঘোষণা করা হয় তাঁর নাম। এদিকে রাজ্যপালের দায়িত্ব গ্রহণ করার পরই প্রশাসনিক কাজে গতি আনতে উদ্যোগী হলেন তিনি। নবান্নকে রাজভবনের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শূন্যপদ পূরণের লক্ষ্যে পাঠালেন চিঠি।

    নবান্নকে চিঠি রাজ্যপালের

    শুক্রবার, লোকভবন থেকে ইমেলের মাধ্যমে বার্তা পাঠানো হয়েছিল। সেখানে রাজ্যপালের সচিব পদে এক জন আইএএস আধিকারিক, বিশেষ সচিব পদে এক জন প্রোমোটি IAS, দু’জন যুগ্মসচিব এবং একটি ডেপুটি সচিব পদের জন্য তিন জন WBCS অফিসারের নাম চাওয়া হয়েছে, তাঁদের মধ্যে থেকে এক জনকে বেছে নেওয়া হবে। সব মিলিয়ে মোট পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের জন্য নবান্নকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ইতিমধ্যেই রাজ্যপালের চিঠি পাওয়ার পরেই নবান্নের তরফে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। সূত্রের খবর, চলতি সপ্তাহেই নবান্নের তরফে আধিকারিকদের নাম জানিয়ে দেওয়া হবে।

    সচিব পদ নিয়োগের জন্য বার্তা

    উল্লেখ্য, গত কয়েক বছর ধরে রাজভবনের প্রশাসনিক কাঠামোয় কয়েকটি শূন্যপদ ছিল। যার মধ্যে অন্যতম হল রাজ্যপালের সচিব পদটি। যদিও প্রাক্তন রাজ্যপাল বোস এই পদে নতুন কাউকে নিয়োগে আগ্রহী ছিলেন না তাই প্রায় তিন বছর ধরে সচিববিহীন অবস্থাতেই লোকভবনের কাজকর্ম চলেছিল, তবে বর্তমান রাজ্যপাল এবার সকল শূন্যপদ পূরণ করতে চাইছে। প্রশাসনের একাংশের মতে, এই উদ্যোগে একদিকে যেমন রাজভবনের কাজের গতি বাড়বে ঠিক তেমনই নবান্নের সঙ্গে রাজভবনের সমন্বয়ও আরও মজবুত হবে।

    আরও পড়ুন: প্রতি দফায় ২ লাখ ৫০ হাজার কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান, অশান্তি হলে … কড়া বার্তা কমিশনের

    প্রসঙ্গত, কয়েকদিন আগেই বাংলার রাজ্যপাল পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন সিভি আনন্দ বোস। এরপরেই স্থায়ী রাজ্যপাল হিসাবে নিয়োগ করা হয় রবীন্দ্র নারায়ণ রবিকে। তিনি এতদিন তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল হিসাবে কাজ করেছিলেন। সে রাজ্যে থাকাকালীন একাধিক ইস্যুতে ডিএমকে সরকারের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছেন আরএন রবি। বিশেষ করে একাধিক বিল নিয়ে সংঘাত চরমে ওঠে। এমনকি রাজ্যপালকে সরানোর জন্য একাধিকবার রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে আবেদন জানানো হয়েছিল। তাই এবার বাংলার রাজ্যপাল হিসাবে পদ সামলাচ্ছেন আর এন রবি।

  • প্রতি দফায় ২ লাখ ৫০ হাজার কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান, অশান্তি হলে … কড়া বার্তা কমিশনের

    প্রতি দফায় ২ লাখ ৫০ হাজার কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান, অশান্তি হলে … কড়া বার্তা কমিশনের

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। এই অবস্থায় রাজ্যে সুষ্ঠু এবং অবাধ নির্বাচন করার লক্ষ্য নিয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে (Central Force) আরও বেশি দায়িত্ব নিতে হবে বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল। সেক্ষেত্রে প্রতিটি পর্যায়ে ২,০০০ থেকে ২,৫০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করতে পারে বলে মনে করছে কমিশন (Election Commission Of India)। পাশাপাশি, সতর্ক করা হয়েছে বাহিনীকে। সিইও জানান, যদি কোনও বুথের মধ্যে অশান্তি হয়, তবে তার দায় সিআরপিএফের।

    ভোট শৃঙ্খলা নিয়ে বড় পদক্ষেপ কমিশনের

    রিপোর্ট মোতাবেক, গতকাল অর্থাৎ সোমবার, মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়েছেন যে, “যেহেতু বাংলায় এই নির্বাচন দুই দফায় হতে চলেছে তাই এমন পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিতে চলেছে। আমাদের একমাত্র লক্ষ্য হল অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা। তাই ভোটের প্রতিটি পর্যায়ে প্রায় ২,০০০ থেকে ২,৫০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী প্রয়োজন হতে পারে। ভোটকেন্দ্রে কোনও গন্ডগোল হলে তা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ওপর। শুধু তাই নয়, কোনও অনৈতিক কাজকর্ম দেখলেও তারা সেটা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবে।” অর্থাৎ প্রতি দফায় নিয়োগ করা হতে চলেছে ২ লাখ ৫০ হাজার কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান।

    গন্ডগোলের জন্য দায়ী থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনী

    সতর্কবার্তা স্বরূপ মনোজ কুমার আগরওয়াল সাংবাদিক সম্মেলনে জানান, “সিআরপিএফ কোনও সুবিধা নেবে না। জেলাশাসকদেরও তেমনই নির্দেশ দেওয়া হবে। যদি কেউ সুবিধা নেয় তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত হবে। অতীতে সুবিধা নেওয়ার জন্য সিআরপিএফ কর্মীর শাস্তি হয়েছে। বুথের ভিতরে কোনও রকম অনিয়ম হলে বা কোনও ধরনের গন্ডগোলের জন্য দায়ী করা হবে সিআরপিএফ-কেই।” তাঁর কথায়, ‘‘রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন নিয়ে কোনও অসুবিধা হবে না। কারণ সেই সময় অন্য রাজ্যের ভোট শেষ হয়ে যাবে।’’ মনোজের কথায়, ‘‘শান্তিতে ভোট করানোর জন্য যে কোনও ধরনের সাহায্য করবে কমিশন। আধিকারিকদের শুধু সাহায্য চাইতে হবে।’’

    আরও পড়ুন: নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর প্রতিপক্ষ প্রায় চূড়ান্ত, কাকে মাঠে নামাচ্ছে তৃণমূল?

    অন্যদিকে ভোটের আগে রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল। তাই রাজ্যের প্রতিটি থানাকে তাদের এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে হবে প্রতিটি থানার ওসিকে নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। সেক্ষেত্রে যদি আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজন পরে কমিশন তা করতে প্রস্তুত।

  • বাংলার গুরুত্বপূর্ণ রুটে একাধিক ট্রেন বাতিল করল রেল, সমস্যায় পড়বেন যাত্রীরা

    বাংলার গুরুত্বপূর্ণ রুটে একাধিক ট্রেন বাতিল করল রেল, সমস্যায় পড়বেন যাত্রীরা

    বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: মার্চ মাসে ফের দুর্ভোগে যাত্রীরা (Indian Railways)। জানা যাচ্ছে, দক্ষিণ-পূর্ব রেলের গুরুত্বপূর্ণ ডিভিশন আদ্রায় আগামী এক সপ্তাহ ধরে বিভাগীয় এবং রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলবে। যার কারণে বাতিল করা হচ্ছে একাধিক ট্রেন। শুধু তাই নয়, একাধিক ট্রেনের যাত্রাপথ সংক্ষিপ্ত করার পাশাপাশি বেশ কিছু ট্রেন নির্ধারিত সময় থেকে দেরিতে চলবে বলেই খবর। এর জেরেই একেবারে মাথায় হাত পড়েছে নিত্য যাত্রীদের।

    কতদিন পর্যন্ত দুর্ভোগ পোহাতে হবে যাত্রীদের?

    রেল সূত্রে খবর, 16 মার্চ অর্থাৎ সোমবার থেকে আদ্রা ডিভিশনে শুরু হয়েছে ভারতীয় রেলের রক্ষণাবেক্ষণ এবং প্রযুক্তিগত কিছু কাজ। এর ফলে রোলিং ব্লক নেওয়া হয়েছে। আর এর জেরেই আদ্রা ডিভিশনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ট্রেন তার নির্ধারিত সময় থেকে দেরিতে চলছে। এছাড়াও সম্পূর্ণরূপে বাতিল করা হয়েছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রেন।

    এ প্রসঙ্গে আদ্রা ডিভিশনের সিনিয়র ডিসিএম বিকাশ কুমার স্পষ্ট জানিয়েছেন, রেলের রক্ষণাবেক্ষণ সহ বেশ কিছু প্রযুক্তিগত কাজের জন্য তিনটি ট্রেন সম্পূর্ণরূপে বাতিল থাকছে। এছাড়াও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ট্রেন নির্দিষ্ট সময় থেকে সামান্য দেরিতে সংক্ষিপ্ত যাত্রা সম্পন্ন করবে। কিছু ট্রেন অধিক দেরিতেও চলতে পারে।” এর জন্য ইতিমধ্যেই যাত্রীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে দক্ষিণ-পূর্ব রেল।

    জানা যাচ্ছে, 16 মার্চ থেকে শুরু হয়ে আগামী 22 মার্চ পর্যন্ত আদ্রা ডিভিশনে রেলের রক্ষণাবেক্ষণ সহ প্রযুক্তি সংক্রান্ত কাজ চলবে। এর ফলে 17, 20 এবং 22 মার্চ বাতিল থাকছে 68090/68089 আদ্রা-মেদিনীপুর-আদ্রা মেমু প্যাসেঞ্জার। এছাড় 17, 19, 20 এবং 22 মার্চ বাতিল থাকবে আদ্র-ভাগা-আদ্রা মেমু প্যাসেঞ্জার আপ এবং ডাউন। একই সাথে বাতিল থাকছে ভজুডিহি-চন্দ্রপুরা-ভজুডিহি মেমু প্যাসেঞ্জার।

    অবশ্যই পড়ুন: তৃণমূলে যোগ দিলেন বাংলার তারকা ক্রিকেটার শিবশঙ্কর পাল, প্রার্থী হবেন এই কেন্দ্রের!

    ট্রেন বাতিল করা ছাড়াও টাটানগর-আসানসোল-বরাভূম মেমু প্যাসেঞ্জারের মতো ট্রেনের যাত্রাপথ সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। ওদিকে আদ্রা-আসানসোল আবার আসানসোল থেকে আদ্রাগামী ট্রেনটিকে বাতিল করেছে রেল। বর্ধমান-হাটিয়া মেমুও 17 মার্চ সংক্ষিপ্ত যাত্রা শেষ করবে। পাশাপাশি বাতিল থাকছে গেমো-হাটিয়া অংশের ট্রেন পরিষেবা। রেল সূত্রে খবর, বোকারো থেকে আসানসোল মেমু প্যাসেঞ্জার সহ আরও কয়েকটি ট্রেন 16, 18, 19 ও 20 মার্চ নির্ধারিত সময় থেকে এক ঘন্টা দেরিতে চলবে। সব মিলিয়ে, আদ্রা ডিভিশনে কাজ চলাকালীন যথেষ্ট ভোগান্তিতে নিত্য যাত্রীরা।

  • পরিচারিকাতে ভরসা বিজেপির, আউশ গ্রামের পদ্মের প্রার্থী কলিতা মাজির নাম বিচারাধীন

    পরিচারিকাতে ভরসা বিজেপির, আউশ গ্রামের পদ্মের প্রার্থী কলিতা মাজির নাম বিচারাধীন

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: রবিবার নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) দিন ঘোষণার পরেই গতকাল, সোমবার বিজেপির প্রথম দফার প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। আর সেই তালিকায় নাম উঠে এল পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রাম বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী কলিতা মাজি (Kalita Majhi)। ২০২১-এও প্রার্থী করেছিল বিজেপি কিন্তু পরাজিত হন তিনি। তবে এবারও তাঁর উপরেই ভরসা রেখে তপশিলি সংরক্ষিত এই আসনে কলিতাকে প্রার্থী করে রীতিমতো চমক দিল বিজেপি। কিন্তু এবার সেই প্রার্থীকে নিয়ে উঠল আরেক বিতর্ক।

    প্রার্থী হয়েও ভোটার তালিকায় বিবেচনাধীন!

    গুসকরা পুরসভার ১৯৫ নম্বর বুথের ভোটার কলিতা মাজি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশন এসআইআর-এর যে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছিল, সেখানে দেখা যাচ্ছে ওই বুথে ৩৯৭ নম্বর সিরিয়ালে রয়েছে কলিতা মাজির নাম। কিন্তু নামের উপর লেখা ‘আণ্ডার অ্যাডজুডিকেশন’। আর তাতেই তৃণমূল প্রশ্ন করছে কীভাবে অমীমাংসিত তালিকায় থাকা একজনকে বিজেপি প্রার্থী করল। এই নিয়েই এলাকায় শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। যদিও এই নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন কলিতা মাজি। তিনি জানান, “আমার উপযুক্ত নথিপত্র আছে। সবকিছু দাখিল করেছি। এরপর কমিশন যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার নেবে। তবে আমার বিশ্বাস যোগ্য ভোটার হিসাবে আমার যথাযথ নথিপত্র রয়েছে। আপাতত কমিশনের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন।”

    Kalita Majhi

    ভোটে জেতার আশ্বাস কলিতা মাজির

    জানা গিয়েছে, পূর্ব বর্ধমানের গুসকরা পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মাঝপুকুর পাড়ের বাসিন্দা কলিতা মাজি। পেশায় তিনি একজন পরিচারিকা। পরিবারে রয়েছেন স্বামী ও এক ছেলে। ছেলে পার্থ এ বছর উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছে। গত বিধানসভা নির্বাচনে এই আসনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী অভেদানন্দ থাণ্ডার জয়ী হয়েছিলেন। তিনি পেয়েছিলেন ১ লক্ষ ৩৯২টি ভোট। বিজেপি প্রার্থী কলিতা মাজি দ্বিতীয় হয়ে পেয়েছিলেন ৮৮ হাজার ৫৭৭টি ভোট। কিন্তু এবার প্রশ্ন উঠছে প্রার্থী হয়েও তিনি কি এবার ভোটে লড়তে পারবেন কিনা। তবে তাঁর বিশ্বাস এবার তাঁরাই জিতবে।

    আরও পড়ুন: এই কারণেই ভবানীপুরে মমতা ব্যানার্জির বিরুদ্ধে প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী! ফাঁস মেগা প্ল্যান

    জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক বাগবুল ইসলাম বলেন, “আমরা প্রথম থেকেই যে অভিযোগ করছিলাম, এখন তা কার্যত প্রমাণিত হল। বিজেপির সঙ্গে যে কমিশনের আঁতাত আছে এটা বোঝা গেল।” তবে এই বিষয়ে বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন, “গোটা বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে। কিন্তু এতে তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ যে ভুল তা প্রমাণিত হল। কমিশন জাত বা ধর্ম দেখে নয়, তাদের নিয়ম অনুযায়ী কাজ করছে।”