Blog

  • পেনশন পাওয়া আরও সহজ, GISS সমস্যা মেটাতে নয়া মেমোরেন্ডাম জারি নবান্নর

    পেনশন পাওয়া আরও সহজ, GISS সমস্যা মেটাতে নয়া মেমোরেন্ডাম জারি নবান্নর

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ সরকারি কর্মচারীদের অবসরকালীন সুবিধা বা পেনশন (Pension) প্রাপ্তি আরও সহজ করার জন্য এবার বিরাট পদক্ষেপ নিয়েছে রাজ্য সরকার (Government of West Bengal)। বিশেষ করে জেনারেল ইন্সুরেন্স কাম সেভিংস স্কিম বা জিআইএসএস সংক্রান্ত তথ্যের অভাবে যাদের পেনশন ফাইল এতদিন ধরে আটকে ছিল, তাদের জন্য এবার বিরাট খুশির খবর শুনিয়েছে নবান্ন। গত ১৯ মার্চ অর্থ দফতর থেকে জারি করা একটি নতুন নির্দেশিকা সেই দীর্ঘদিনের সমস্যার স্থায়ী সমাধানের পথ এবার আরও প্রশস্ত করল।

    কেন জারি করা হল নতুন নির্দেশিকা?

    আসলে দীর্ঘদিন ধরে দেখা যাচ্ছিল যে, বহু সরকারি কর্মচারীর সার্ভিস বুকে জিআইএসএস সাবস্ক্রিপশনের হিসেব সঠিক ভাবে আপডেট করা নেই। বিশেষ করে পুরনো নথি কিংবা তথ্য সময় মতো প্রশাসনিক দফতর থেকে না আসার কারণে পেনশনের কাজ থমকে যাচ্ছিল। আর অবসর গ্রহণের পর দিনের পর দিন প্রাপ্য টাকা পাওয়ার জন্য কর্মচারীদের অপেক্ষা করতে হচ্ছিল। কর্মীদের এই ভোগান্তি দূর করার জন্যই অর্থ দফতরের গ্রুপ-জে শাখা বিশেষ মেমোরেন্ডাম জারি করল।

    মেমোরেন্ডাম নম্বর 061-F(J)/2025 অনুযায়ী, এবার পেনশন প্রক্রিয়ায় বাধা দূর করার জন্য সরকার বিশেষ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রথমত, এখন থেকে সংশ্লিষ্ট ক্যাডার কন্ট্রোলিং অথরিটি নিজেরাই জিআইএসএস সাবস্ক্রিপশনের এন্ট্রি করতে পারবে। দ্বিতীয়ত, তথ্য যাচাই বা তথ্য প্রত্যায়িত করার ক্ষমতা সরাসরি কর্তৃপক্ষের হাতে দেওয়া হয়েছে। তৃতীয়ত, ১৯৮৭ সালের পুরনো একটি আইনের সুত্র ধরে এবার রাজ্যপালের বিশেষ অনুমতিক্রমে নতুন নিয়ম কার্যকর করা হচ্ছে।

    এক্ষেত্রে বলে রাখি, এই নির্দেশিকাটি এইচআরএমএস ব্যবস্থা চালুর আগের সময়ের জন্যই প্রযোজ্য। অর্থাৎ, ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসের আগে যদি কোনও কর্মচারী জিআইএসএস সাবস্ক্রিপশনের তথ্য সার্ভিস বুকে নথিভুক্ত না থাকে, সেক্ষেত্রে তা এখন আরও সহজে আপডেট করা যাবে।

    আরও পড়ুন: শিয়ালদা ডিভিশনে একাধিক লোকাল ট্রেনের গন্তব্য বাড়াল রেল

    কীভাবে আপডেট করতে হবে তথ্য?

    সার্ভিস বুকে এই পুরনো তথ্যগুলি নথিভুক্ত করার জন্য এবার নির্দিষ্ট কিছু নিয়মের কথা বলা হয়েছে। প্রথমত, উপযুক্ত প্রমাণের ভিত্তিতেই তথ্য এন্ট্রি করা যাবে। দ্বিতীয়ত, যথাযথভাবে সত্যায়িত সার্ভিস ভেরিফিকেশন সার্টিফিকেট থাকতে হবে এবং তৃতীয়ত, কর্তৃপক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য অন্য যে কোনও বৈধ নথির ভিত্তিতে এই কাজ সম্পন্ন করা যাবে। এমনকি রাজ্যের সমস্ত ট্রেজারি অফিসার, জেলাসচিব, পুলিশ সুপার এবং বিভিন্ন দফতরের সচিবদের কাছে ইতিমধ্যে এ বিষয়ে নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। যার ফলে হাজার হাজার সরকারি কর্মচারী যারা অবসরের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আছেন বা যাদের পেনশনের কাজ আটকে রয়েছে, তারা সরাসরি উপকৃত হবে।

  • এবার বাড়িতে ED-কে ডাকলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়

    এবার বাড়িতে ED-কে ডাকলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026) নিয়ে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। ভোটের প্রচারে যাতে কোনো ত্রুটি না থাকে তার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে সকল রাজনৈতিক দলগুলি। একদিকে বিজেপি অন্যদিকে তৃণমূল দুই পক্ষই কম যাচ্ছে না। আর এবার ফের খবরের শিরোনামে উঠে এল SSC নিয়োগ দুর্নীতি মামলা। প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর কাছে একাধিক বার ED-র নোটিস যাওয়ার পরও হাজিরা দিতে পারেন না। তাই এবার ED-কে চিঠি দিয়ে বাড়িতে এসে জিজ্ঞাসাবাদের আর্জি পাঠাল পার্থ চট্টোপাধ্যায় (Partha Chatterjee)।

    শিরোনামে SSC নিয়োগ দুর্নীতি মামলা

    ২০২২ সালের ২২ জুলাই দক্ষিণ কলকাতার নাকতলায় পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে রাতভর তল্লাশি চালিয়েছিল ED আধিকারিকরা। এরপর ২৩ জুলাই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর CBI পার্থকে গ্রেপ্তার করে। তিন বছরের বেশি সময় ধরে জেলবন্দি ছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী। একাধিকবার জামিনের আবেদন জানিয়েছিলেন তিনি। পরে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। ডিসেম্বরে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয় যে, শর্তসাপেক্ষে জামিন পেতে পারেন পার্থ। অবশেষে গত নভেম্বরে জামিন পান তিনি। তবে তদন্ত এখনও মেটেনি। আর এবার SSC নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় বাড়িতে এসে জিজ্ঞাসাবাদের আর্জি জানালেন পার্থ।

    বাড়িতে জিজ্ঞাসাবাদের আর্জি পার্থর

    SSC নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কাছে একাধিক বার ED নোটিস পাঠিয়েছিল সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দেওয়ার জন্য। কিন্তু কোনোবারই সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দেননি তিনি। ED সূত্রে খবর, প্রতিবারই পার্থ চট্টোপাধ্যায় তাঁর আইনজীবী মারফত চিঠি পাঠিয়ে জানিয়েছেন, অসুস্থ থাকায় তিনি তলবে হাজির হতে পারছেন না। তাই এবার বাড়িতে এসে জিজ্ঞাসাবাদের আর্জি জানিয়ে ED-কে চিঠি দিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। যদিও প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর এই আবেদনে আমল না দিয়ে তাঁকে ফের পাঠানো হয়েছে হাজিরার নোটিস।

    আরও পড়ুন: শিয়ালদা ডিভিশনে একাধিক লোকাল ট্রেনের গন্তব্য বাড়াল রেল

    ED সূত্রে খবর, SSC নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় ইডি চার্জশিট দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু তদন্ত চলাকালীন বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় পার্থ ও অর্পিতার নাম উঠে আসায় ফের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানা গিয়েছে। দিনকয়েক আগে SSC দুর্নীতি মামলায় ED-র দ্বিতীয় নোটিসে হাজিরা দেন অর্পিতা মুখোপাধ্যায়। সকালে নথি নিয়ে CGO কমপ্লেক্সে হাজির হন তিনি। কীভাবে SSC-র চাকরি বিক্রি করা হয়েছিল? সবটাই জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।

  • ‘গুলির আওয়াজে প্যান্ট ভিজবে!’ খড়গপুরের আইসিকে হুমকি দিলীপ ঘোষের

    ‘গুলির আওয়াজে প্যান্ট ভিজবে!’ খড়গপুরের আইসিকে হুমকি দিলীপ ঘোষের

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) দিনক্ষণ ঘোষণা হতেই একে একে সকল রাজনৈতিক দলগুলি নিজেদের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে চলেছে। এবারের আসন্ন ভোটে খড়গপুর কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী হয়েছেন দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। আর সেই পুরনো কেন্দ্রে ফিরেই আগ্রাসী ভঙ্গিতে প্রচার শুরু করেছেন তিনি। এমনকি খড়গপুর টাউনের আইসি-কে হুমকি দেয়। যার ফলে খড়গপুরের রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়ে গিয়েছে।

    খড়গপুর আইসিকে হুমকি দিলীপের

    রিপোর্ট মোতাবেক, আজ অর্থাৎ সোমবার খড়গপুর টাউনে নির্বাচনী প্রচার সেরে এক সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়েছিলেন দিলীপ ঘোষ। আর সেখানেই নিজের চেনা ঝাঁঝালো মেজাজ দেখালেন তিনি, শুধু তাই নয়, স্থানীয় থানার আইসি-র বিরুদ্ধে করলেন বিতর্কিত মন্তব্য। মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, ”এখানকার আইসি আমাদের কর্মীদের উঠিয়ে নিয়ে গিয়েছে। বলেছে, তৃণমূলের সঙ্গে কাজ করো, নাহলে চার তারিখের পরে গুলি মেরে দেব। শালা, তোর বাপের গুলি! কতগুলো গুলি আছে তোর কাছে? গুলি দেখেছ? এমন দেখাব যে আওয়াজে প্যান্ট ভিজে যাবে।”

    কী বলছেন দিলীপ ঘোষ?

    সোমবার খড়গপুর টাউনে প্রচারে গিয়ে দিলীপ ঘোষ অভিযোগ করেন খড়গপুরের আইসি বিজেপি কর্মীদের হেনস্তা করছেন এবং তাঁদের তৃণমূলের সঙ্গে কাজ করতে চাপ দিচ্ছেন। তাঁর আরও হুঁশিয়ারি, ”আমি অনেক বড় বড় গুন্ডা দেখেছি। এই খড়গপুরে সব ডাকাতদের সঙ্গে চোখে চোখ রেখে কথা বলেছি। তৃণমূলের নেতারা এসব গুন্ডা, মাফিয়াদের চামচাগিরি করে জিতেছে। এখনও এদের সঙ্গে নিয়ে চলছে। দিলীপ ঘোষ এদের চোখে চোখ রেখে কথা বলেছে আগেও করব। বুক চওড়া করে থাকব, কতগুলি বন্দুক কাছে দেখব। এইসব দাদাগিরি আমাদের দেখাবে না। আগামী দিনেও এমন হিসাব করব হিসাব মেলাতে পারবে না। খড়গপুরে এসব চলবে না।”

    আরও পড়ুন: হাইকোর্টের রায়ে বিরাট স্বস্তি পেলেন শুভেন্দু

    প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির হয়ে দিলীপ ঘোষ প্রথম বার ভোটে লড়েছিলেন খড়্গপুর সদর আসন থেকে। সেই আসনে কংগ্রেসের জ্ঞানসিং সোহনপালকে হারিয়ে জিতেছিলেন তিনি। এরপর ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে মেদিনীপুর আসন থেকে জিতে সাংসদ হয়েছিলেন দিলীপ ঘোষ। তবে গত লোকসভা নির্বাচনে হেরে গেলেও খড়্গপুরের সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ করেননি দিলীপ ঘোষ। তাই এবার ফের সেই একই কেন্দ্র থেকে পুনরায় দিলীপকে প্রার্থী করল দলের শীর্ষ নেতৃত্ব।

  • শিয়ালদা ডিভিশনে একাধিক লোকাল ট্রেনের গন্তব্য বাড়াল রেল

    শিয়ালদা ডিভিশনে একাধিক লোকাল ট্রেনের গন্তব্য বাড়াল রেল

    বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: শোনা গিয়েছিল আগেই। এবার বাস্তবেই কমতে চলেছে মাঝপথে ট্রেন বদলের ঝক্কি (Indian Railways)। আজ অর্থাৎ 23 মার্চ তারিখ থেকে 23 মে পর্যন্ত শিয়ালদা-বনগাঁ, শিয়ালদা-ক্যানিং (Sealdah) এমনকি শিয়ালদা-ডায়মন্ড হারবার রুটে বাড়ছে ট্রেনের গন্তব্য। অর্থাৎ যেসব লোকাল ট্রেন নির্দিষ্ট স্টেশন পর্যন্ত যেত সেই ট্রেনের গন্তব্য এবার আরও প্রশস্ত হচ্ছে। শিয়ালদা শাখার কোন কোন ট্রেন এবার থেকে আরও দূর পর্যন্ত ছুটবে জানতে আজকের প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণ দেখুন।

    কোন কোন ট্রেনের গন্তব্য বাড়ছে?

    প্রথমেই আসা যাক শিয়ালদা-বনগাঁ শাখায়। এই সেকশনের কয়েকটি লোকাল ট্রেন দত্তপুকুর বা গোবরডাঙায় গিয়ে নিজেদের যাত্রা পথ শেষ করত। এবার সেই দত্তপুকুর এবং গোবরডাঙা লোকালের গন্তব্য বাড়ছে। ট্রেন নম্বর 33617 শিয়ালদা-দত্তপুকুর লোকাল এবার থেকে বনগাঁ পর্যন্ত যাবে। এই ট্রেন সকাল 11 টা বেজে 44 মিনিটে বনগাঁয় পৌঁছবে। অন্যদিকে ট্রেন নম্বর 33622 লোকাল ট্রেনটি বনগাঁ থেকে সকাল 11টা 55 মিনিটে ছেড়ে সরাসরি শিয়ালদা আসবে।

    এবার আসা যাক রাতের প্রসঙ্গে। ট্রেন নম্বর 33685 শিয়ালদা-গোবরডাঙা লোকাল শিয়ালদা থেকে 8টা 23 মিনিটে ছেড়ে সোজাসুজি 10টা 31 মিনিটে বনগাঁয় পৌঁছবে। একইভাবে সন্ধ্যার দমদম-গোবরডাঙা 7টা 25 মিনিটে ছেড়ে সোজা বনগাঁয় পৌঁছবে। অন্যদিকে ক্যানিং এবং ডায়মন্ড হারবার শাখার ক্ষেত্রেও ট্রেন নম্বর 34392 এবং 30552 ট্রেন দুটি চম্পাহাটি এবং ঘুটিয়ারির বদলে সোজা ক্যানিং পর্যন্ত চলবে। ফেরার পথে ওই ট্রেন আবার ক্যানিং থেকেই ছেড়ে শিয়ালদা আসবে।

    অবশ্যই পড়ুন: ভারতীয় রুপিতে ভারী পতন, সোমবার ডলারের বিপরীতে নতুন রেকর্ড গড়ল টাকা

    এদিকে, ডায়মন্ড হারবার রুটে ট্রেন নম্বর 34898 শিয়ালদা-মগরাহাট ট্রেনটি মগরাহাট স্টেশনের বদলে সোজা ডায়মন্ড হারবার পর্যন্ত যাবে। এই ট্রেন রাত 8টা বেজে 38 মিনিটে ডায়মন্ড হারবার পৌঁছে দেবে যাত্রীদের। রেলের এমন পদক্ষেপে আখেরে উপকৃত হবেন অসংখ্য নিত্যযাত্রী।

  • চিংড়িঘাটা মেট্রো নিয়ে এবার পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে একহাতে নিল সুপ্রিম কোর্ট!

    চিংড়িঘাটা মেট্রো নিয়ে এবার পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে একহাতে নিল সুপ্রিম কোর্ট!

    বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: চিংড়িঘাটা মেট্রো নিয়ে এবার রাজ্যকে ভৎসনা সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court On Chingrighata Metro)। সোমবার, মেট্রোর বকেয়া কাজ নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে হস্তক্ষেপ করেনি দেশের শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল মনুভাই পাঞ্চোলির বেঞ্চে ওঠে মামলা। আর তারপরেই রাজ্য সরকারকে মামলা তুলে নিতে বলে আদালত। অন্যথায় গোটা মামলাটি খারিজ করে দেওয়ার কথাও জানান বিচারপতিরা।

    চিংড়িঘাটা মেট্রোর বকেয়া কাজ নিয়ে রাজ্যকে কড়া নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

    এর আগে চিংড়িঘাটা মেট্রোর অবশিষ্ট অংশের কাজ নিয়ে রাজ্যের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছিল মেট্রো কর্তৃপক্ষ। সেই অভিযোগের পরপরই কলকাতা হাইকোর্ট বকেয়া কাজ শেষ করার জন্য রাজ্য সরকারকে সময় বেঁধে দিয়েছিল। এদিকে রাজ্যের তরফে উচ্চ আদালতের সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোটে মামলা হয়। সোমবার সেই মামলা নিয়েই সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি একেবারে খোলাখুলি জানিয়ে দিলেন, “সাধারণ মানুষের প্রকল্প নিয়ে রাজনীতি করবেন না। হাইকোর্ট যা নির্দেশ দিয়েছে, যেভাবে সময় বেঁধে দিয়েছে সেভাবেই কাজ করতে হবে।”

    কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশকে বহাল রেখেই সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ সরকার যে অবস্থানে রয়েছে তা সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে গাফিলতিকে ইঙ্গিত করে। এটা একপ্রকার উন্নয়ন আটকানোর জেদ। এদিন চিংড়িঘাটার বকেয়া কাজ নিয়ে রাজ্যের তরফে করা মামলা তুলে নেওয়ার নির্দেশ দেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত। রাজ্য পক্ষের আইনজীবীকে সরাসরি উচ্চ আদালতের বিচারপতি জানান, “কখনও উৎসব চলছে, কখনও পরীক্ষা, কখনও আবার নির্বাচন দেখানো হচ্ছে। সুযোগ দিচ্ছি মামলা এখনই তুলে নিন। না হলে খারিজ করে দেব।”

    অবশ্যই পড়ুন: আবারও IPL দেখবে ওপার বাংলা, নিষেধাজ্ঞা তুলে নিচ্ছে বাংলাদেশ!

    উল্লেখ্য, মাত্র 316 বর্গমিটার অংশের জন্য আটকে রয়েছে চিংড়িঘাটা মেট্রোর কাজ। এই অংশের জন্যই নিউ গড়িয়া থেকে কলকাতা বিমানবন্দর পর্যন্ত মেট্রোর অরেঞ্জ লাইনের সম্প্রসারণ করা যাচ্ছে না। চিংড়িঘাটা মোড়ের এই অংশের কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে হলে সাময়িকভাবে বাইপাসে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন। তবে অভিযোগ, রাজ্যের কাছে অনুরোধ জানানো সত্বেও অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। ফলে একই জায়গায় আটকে রয়েছে মেট্রো প্রকল্পের কাজ।

  • আবারও IPL দেখবে ওপার বাংলা, নিষেধাজ্ঞা তুলে নিচ্ছে বাংলাদেশ!

    আবারও IPL দেখবে ওপার বাংলা, নিষেধাজ্ঞা তুলে নিচ্ছে বাংলাদেশ!

    বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: মুস্তাফিজুর রহমানকে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (Indian Premier League) থেকে বাদ দেওয়ার পরই বেঁকে বসেছিল ওপার বাংলার অন্তর্বর্তীকালীন সরকার (Bangladesh IPL Ban)। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশে নিষিদ্ধ হয় IPL সম্প্রচার। তবে সেই সময় এখন অতীত। বাংলাদেশের ক্ষমতায় নতুন সরকার। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের সাথে ধীরে ধীরে সম্পর্ক আগের অবস্থায় ফিরছে ভারতের। আর সে কারণেই এবার IPL সম্প্রচারের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে দিতে পারে বাংলাদেশ সরকার। এমনটাই ইঙ্গিত দিলেন ওপার বাংলার বর্তমান যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী আমিনুল হক।

    বাংলাদেশে ফের সম্প্রচারিত হবে IPL?

    তারেক রহমান ক্ষমতায় আসার পর থেকে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছে বাংলাদেশ। এরই মাঝে বাংলাদেশের বর্তমান ক্রীড়া মন্ত্রী আমিনুল হক একেবারে ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দিলেন এবার ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ সম্প্রচারের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা উঠে যেতে পারে। তিনি জানালেন, গোটা বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সাথে আলোচনা চলছে। আলোচনার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসা গেলে সবটা জানিয়ে দেওয়া হবে।

    ক্রিকবাজের এক রিপোর্টে দাবি করা হচ্ছে, আমিনুল বাবু নাকি জানিয়েছিলেন, “এখনও এসব নিয়ে বিশেষ কিছু ভাবিনি। ইদের ছুটি শেষ হওয়ার পর ক্রিকেট বোর্ডের সাথে আলোচনা হবে। তারপরই সবটা জানানো হবে।” ওপার বাংলার ক্রীড়া মন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পর অনেকেই আশা করছেন এবার হয়তো বাংলাদেশে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি উঠে যেতে পারে।

    অবশ্যই পড়ুন: আইপিএলে নেই কোনও অভিজ্ঞতা, নিলামে কেনেনি কেউ! সেই প্লেয়ারই এবার KKR-এ

    প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের একটা বড় অংশের ক্রিকেটপ্রেমী প্রতিবছর ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ দেখেন। তাঁদেরও একাংশের বক্তব্য, “নতুন সরকার যেন দেশে IPL এর উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে দেয়।” এদিকে বাংলাদেশের নতুন ক্রীড়া মন্ত্রী আমিনুল আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন, ক্রীড়াক্ষেত্রে তিনি একেবারেই রাজনীতি নিয়ে আসতে চান না। ভারতের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চান তিনি। এই দুই দেশের মধ্যে কোনও রকম সমস্যা হোক এমনটা একেবারেই আশা করছেন না তিনি।

  • হাইকোর্টের রায়ে বিরাট স্বস্তি পেলেন শুভেন্দু

    হাইকোর্টের রায়ে বিরাট স্বস্তি পেলেন শুভেন্দু

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ছাব্বিশের রাজ্য বিধানসভা ভোটে (West Bengal Election 2026) আরও একবার মুখোমুখি হতে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এবং শুভেন্দু অধিকারী। তবে এবার সেই লড়াই হতে চলেছে ভবানীপুরে। আর এই আবহে কলকাতা হাইকোর্ট থেকে বড় স্বস্তি পেলেন নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। একটি বিশেষ মামলায় ১২ সপ্তাহের জন্য অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করেছে আদালত।

    অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ হাইকোর্টের

    রিপোর্ট মোতাবেক, ২০২০ সালের ২৯ ডিসেম্বর এক বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে খড়দহ থানার তরফে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করা হয়েছিল। আর সেই মামলাতেই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আর এবার সেই মামলায় বড় স্বস্তি পেলেন তিনি। জানা গিয়েছে, আজ, বিচারপতি অজয় কুমার মুখোপাধ্যায়ের একক বেঞ্চ আপাতত তদন্তে ১২ সপ্তাহের জন্য অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করেছে । অর্থাৎ ভোটের মধ্যে এই মামলা নিয়ে আরও কোনও অস্বস্তির মধ্যে পড়তে হবে না শুভেন্দুকে। মামলার পরবর্তী শুনানি একেবারে ভোটপর্ব মিটলে হবে।

    স্বস্তিতে শুভেন্দু অধিকারী

    বিধানসভা নির্বাচনের আবহে সকলেই এখন বেশ ব্যস্ত, জেলায় জেলায় প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর সকলেই ময়দানে নেমেছে ভোটের প্রচারের জন্য। এই অবস্থায় শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে হওয়া মামলা নিয়ে বেশ চাপে ছিল দল। বিশেষ করে রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই মামলার অগ্রগতি নিয়ে যথেষ্ট নজর ছিল বিভিন্ন মহলের। অবশেষে হাইকোর্টের নির্দেশে অনেকটাই স্বস্তি ফিরল। এখন দেখার, ১২ সপ্তাহ পর ভোটপর্ব মিটলে মামলার পরবর্তী শুনানিতে কলকাতা হাইকোর্ট কী অবস্থান নেয় এবং তদন্ত প্রক্রিয়া কোন পথে এগোয়।

    আরও পড়ুন: মেরেকেটে ৫ দিনের LPG, ৭ দিনের তেল বেঁচে! জ্বালানির দাম ২০০% বাড়াল পাকিস্তান

    প্রসঙ্গত, ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর এবং নন্দীগ্রাম এই দুই গুরুত্বপূর্ণ আসন থেকে লড়াই করছেন শুভেন্দু অধিকারী। ইতিমধ্যেই তিনি প্রচার শুরু করেছেন। অন্যদিকে ভবানীপুরে লড়ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং নন্দীগ্রামে তৃণমূলের হয়ে লড়ছেন পবিত্র কর। এই অবস্থায় মনোনয়ন পত্র পূরণের জন্য এবং আইনি পথ সুরক্ষিত রাখতে নিজেই পুলিশের বিরোধিতায় সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। অভিযোগ নিজের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার সংখ্যা ও বিস্তারিত তথ্য না দিচ্ছে না পুলিশ। অন্যদিকে একই অভিযোগ জানিয়েছেন বিদায়ী বিজেপি বিধায়ক অশোক দিন্দা।

  • মেরেকেটে ৫ দিনের LPG, ৭ দিনের তেল বেঁচে! জ্বালানির দাম ২০০% বাড়াল পাকিস্তান

    মেরেকেটে ৫ দিনের LPG, ৭ দিনের তেল বেঁচে! জ্বালানির দাম ২০০% বাড়াল পাকিস্তান

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে একেবারে দেউলিয়া হওয়ার পথে প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান (Pakistan Fuel Crisis)। একদিকে ইরান-ইজরায়েলের সংঘাতের (Iran-Israel War)  কারণে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ আটকে রয়েছে, অন্যদিকে খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে থাকা পাকিস্তানের অর্থনীতি জ্বালানির অভাবে সম্পূর্ণরূপে ধুকছে। আর পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য দেশের সরকার হাই অক্টেন তেলের দাম এক ধাক্কায় প্রতি লিটারে ২০০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছে। এক কথায় মধ্যবিত্তদের রাতের ঘুম উড়ে গিয়েছে সন্ত্রাসের দেশে।

    জ্বালানির বাজারে রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধি

    প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সম্প্রতি এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে জ্বালানির দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই অনুযায়ী, বিলাসবহুল গাড়িতে ব্যবহৃত তেলের দাম ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে এবার সরাসরি ৩০০ টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি লিটারে ২০০ টাকা দাম বেড়েছে, যা শতাংশের হিসেবে প্রায় ২০০%। অন্যদিকে পেট্রোল-ডিজেলের দাম অনেকটাই ঊর্ধ্বগতিতে ঠেকেছে। এর আগেই সাধারণ পেট্রোলের দাম লিটার প্রতি ৫৫ টাকা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যা এখন দাঁড়িয়েছে ৩২১.১৭ টাকা প্রতি লিটার। আর ডিজেলের ৩৩৫.৮৬ টাকা প্রতি লিটার।

    এদিকে পাকিস্তানের পেট্রোলিয়াম সচিবের দেওয়া একটি তথ্য অনুযায়ী, দেশের জ্বালানি ভান্ডার এখন সম্পূর্ণ তলানিতে। যদি নতুন করে সরবরাহ না আসে, তাহলে পাকিস্তান বড়জোর আর হাতেগোনা কয়েকটা দিন চালাতে পারে। জানা যাচ্ছে, যে পরিমাণ এলপিজি মজুদ রয়েছে তা মাত্র ৫ দিনের মধ্যেই শেষ হবে। আর মজুদ অপরিশোধিত তেল আগামী ৭ দিন পর্যন্ত চলবে এবং জেট ফুয়েল অর্থাৎ বিমানের জ্বালানি ১০ দিনের জন্য মজুদ রয়েছে। আর পেট্রোল মজুদ রয়েছে ২০ থেকে ২২ দিনের মতো এবং ডিজেল মজুদ রয়েছে আনুমানিক ১৭ দিনের মতো। সেই কারণে জ্বালানি ফুরিয়ে আসার জেরে দেশজুড়ে বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা ব্ল্যাকআউটের আতঙ্কও দেখা যাচ্ছে।

    আরও পড়ুন: ভারতীয় রুপিতে ভারী পতন, সোমবার ডলারের বিপরীতে নতুন রেকর্ড গড়ল টাকা

    আকাশছোঁয়া বিমানের ভাড়া

    অন্যদিকে তেলের দাম বাড়ার কারণে সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিমান পরিষেবার উপরেও। গত ১০ মার্চ থেকে পাকিস্তানের ভিতরে ফ্লাইটের টিকিটের দাম ২৮০০ থেকে ৫০০০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। আর আন্তর্জাতিক রুট বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য বা মধ্য এশিয়ার দেশগুলোতে যাওয়ার খরচ এবার ১০ হাজার টাকা থেকে ২৮ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি জ্বালানি সাশ্রয় করতে পাকিস্তান সরকার ইতিমধ্যে জরুরি অবস্থা জারি করেছে। অধিকাংশ সরকার এবং বেসরকারি অফিস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে আর ওয়ার্ক ফ্রম হোম বা বাড়িতে থেকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমনকি স্কুল, কলেজ বন্ধ করা হয়েছে। আর সবথেকে বড় ব্যাপার, ঈদের ছুটির বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে যাতে রাস্তায় গাড়ি চলাচল কমিয়ে তেলের খরচ বাঁচানো যায়। এমনকি সম্প্রতি শুরু হতে চলা পাকিস্তান সুপার লিগে দর্শক ছাড়াই খেলা চলবে আর স্টেডিয়াম সংখ্যা কমানো হয়েছে।

  • ১ এপ্রিল থেকে অনলাইন পেমেন্টের নিয়ম বদলে দিচ্ছে RBI

    ১ এপ্রিল থেকে অনলাইন পেমেন্টের নিয়ম বদলে দিচ্ছে RBI

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: স্মার্টফোনের যুগে আমাদের মানিব্যাগ এখন সত্যিই অনেকটাই ডিজিটাল (Digital Payment)। কারণ, কিউআর কোড স্ক্যান করে পেমেন্ট করা আমাদের দৈনন্দিন অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এই সুবিধার সঙ্গেই পাল্লা দিয়ে ডিজিটাল জালিয়াতি বেড়ে চলেছে। সিম জালিয়াতি থেকে শুরু করে ওটিপি চুরি এখন প্রতারকদের নিত্যনতুন কৌশল, যাতে সর্বশ্রান্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। সেই বিপদ রুখার জন্য এবার বিরাট সিদ্ধান্ত নিচ্ছে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। আগামী ১ এপ্রিল থেকেই জারি হচ্ছে নতুন নির্দেশিকা (Online Payment Rules), যা সারাদেশে কার্যকর হবে। জেনে নিন কী কী পরিবর্তন আসছে।

    শেষ হচ্ছে ওটিপি-র দিন?

    বর্তমান সময়ে যে কোনও বড় লেনদেনের ক্ষেত্রে আমরা সবসময় ওটিপি এর উপর নির্ভর করি। তবে ১ এপ্রিল থেকে শুধুমাত্র ওটিপি যথেষ্ট নয় বলে জানানো হচ্ছে রিজার্ভ ব্যাংকের তরফ থেকে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি ডিজিটাল লেনদেনের জন্য অন্তত দুটি ভিন্নস্তরের নিরাপত্তা বা মাল্টি ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে ব্যাংক বা পেমেন্ট অ্যাপগুলি সুরক্ষার জন্য কিছু বিকল্প ব্যবহার করতে পারে। যেমন বায়োমেট্রিক, এটিএম পিনের মতো গোপন কোনও নম্বর, ব্যাংকিং অ্যাপের ভেতরে তৈরি হওয়া বিশেষ কোনও সুরক্ষার কোড বা ডিভাইস বাইন্ডিং।

    আসলে প্রতারকরা এখন অনায়াসেই এই ওটিপি জালিয়াতি করে সাধারণ মানুষকে সর্বশান্ত করে দিচ্ছে। পাশাপাশি সিম জালিয়াতি করে নিজের ফোনে ওটিপি হাতিয়ে নেওয়া এখন নিত্যনতুন কৌশল। আর নতুন নিয়মে বায়োমেট্রিক বা ডিভাইস বাইন্ডিং যদি যুক্ত হয়, তাহলে প্রতারকরা আপনার পিন বা ওটিপি জানলেও আপনার আঙ্গুলের ছাপ কোনও ভাবেই নকল করতে পারবে না। সেই সেই সূত্রে আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সম্পূর্ণ সুরক্ষিত থাকবে।

    আসছে ডায়নামিক অথেন্টিকেশন

    এদিকে নতুন নিয়মের সবথেকে শক্তিশালী একটি দিক হল ডাইনামিক অথেন্টিকেশন। এর অর্থ হল, লেনদেনের দুটি সুরক্ষা স্তরের মধ্যে অন্তত একটি এমন হতে হবে, যেখানে প্রতিবার লেনদেনের সময় নতুন ভাবে বায়োমেট্রিক বা ইউনিক টোকেন তৈরি হবে। যার ফলে আপনার পিন চুরি হলেও বায়োমেট্রিক ছাড়া লেনদেন সম্পূর্ণ অসম্ভব হয়ে পড়বে। এমনকি আরবিআই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যদি কোনও ব্যাংক বা পেমেন্ট অ্যাপ এই নতুন নিরাপত্তা বিধি পালন না করে, আর যদি গ্রাহকের টাকা চুরি হয়ে যায়, সেক্ষেত্রে গোটা দায়ভার ব্যাংককেই নিতে হবে। গ্রাহকদের লোকসান হওয়া সম্পূর্ণ টাকা ব্যাংক ফেরত দিতে বাধ্য হবে।

    এর পাশাপাশি সুরক্ষা বাড়লেও সাধারণ মানুষের যাতে কোনও রকম অসুবিধা না হয়, সেদিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে। এবার থেকে ছোট লেনদেন অর্থাৎ ১০০ বা ২০০ টাকার পেমেন্টের ক্ষেত্রে প্রক্রিয়া আরও সহজ করা হবে। আর যদি হঠাৎ করে গভীর রাতে বা অন্য কোনও শহর থেকে বড় অংকের টাকা লেনদেনের চেষ্টা করা হয়, সেক্ষেত্রে সিস্টেম আপনার থেকে অতিরিক্ত বায়োমেট্রিক বা ফেস আইডি চাইবে।

    আরও পড়ুন: ২৮ লক্ষ ভোটারের ভাগ্য নির্ধারণ আজ, প্রকাশিত হচ্ছে প্রথম তালিকা, কীভাবে দেখবেন নাম?

    আন্তর্জাতিক লেনদেনেও কড়াকড়ি

    অন্যদিকে অনেক সময় বিদেশি ওয়েবসাইট থেকে কেনাকাটার সময় ওটিপি লাগে না, অটোমেটিক পেমেন্ট হয়ে যায়। আর এর সুযোগ নেয় সাইবার প্রতারকরা। তবে আগামী ১ অক্টোবর থেকে আন্তর্জাতিক অনলাইন লেনদেনের ক্ষেত্রে কড়া নিরাপত্তা বিধি কার্যকর হবে যা ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতি কমাতে সাহায্য করবে বলে জানা যাচ্ছে।

  • ভারতীয় রুপিতে ভারী পতন, সোমবার ডলারের বিপরীতে নতুন রেকর্ড গড়ল টাকা

    ভারতীয় রুপিতে ভারী পতন, সোমবার ডলারের বিপরীতে নতুন রেকর্ড গড়ল টাকা

    বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝে ভারতের টাকার পতন (Indian Rupee) অব্যাহত। সোমবার নতুন করে মার্কিন ডলারের (Currency) বিপরীতে রুপি তার সর্বনিম্ন রেকর্ড ছুঁয়েছে। এদিন আমেরিকার এক ডলারের প্রেক্ষিতে ভারতীয় টাকা বা রুপির দর এসে দাঁড়িয়েছে 93.94 তে। ভারতীয় মুদ্রার এমন দুর্বলতা দেখে চিন্তা বাড়বে সেটাই স্বাভাবিক। বলাই বাহুল্য, গত সেশনে আমেরিকান ডলারের বিপরীতে ভারতীয় মুদ্রা 1.2 শতাংশ পড়েছিল। 2022 এর ফেব্রুয়ারি মাসের পর এটাই ছিল সর্বোচ্চ।

    নতুন নতুন রেকর্ড তৈরি করছে ভারতীয় রুপি

    এর আগে গত শুক্রবার প্রবল চাপের মধ্যে ডলারের বিপরীতে প্রথমবারের মতো 93 এর গন্ডি টপকে ছিল ভারতীয় রুপি বা টাকা। ডলারের প্রেক্ষিতে ভারতীয় মুদ্রার দাম 93.735 এ পৌঁছেছিল। তবে সোমবার পড়তে না পড়তেই সেই রেকর্ড ভেঙে দিল ভারতীয় মুদ্রা। আজকের দিনে দাঁড়িয়ে, ডলারের বিপরীতে রুপির দর 93.94। এর আগে গত বুধবারও রূপির পতন অব্যাহত ছিল। এদিন অবশ্য রুপির দর ছিল 92.63 টাকা। সেক্ষেত্রে এক সপ্তাহের মধ্যে সেই দর অনেকটাই নেমেছে।

    কেন এত কমছে ভারতের টাকার দাম?

    সময় যত যাচ্ছে ডলারের বিপরীতে ক্রমশ তলানিতে গিয়ে ঠেকছে ভারতীয় রুপি। কিন্তু কেন এমন অবস্থা ভারতীয় মুদ্রার? এ প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞদের যা মত, পশ্চিম এশিয়ায় প্রবল অস্থিরতা, ইরানের সাথে আমেরিকা এবং ইজরায়েলের যুদ্ধ এবং তার কারণে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির ফলেই চাপ পড়ছে ভারতীয় মুদ্রায়। এর ফলে স্বাভাবিকভাবেই কমছে ভারতীয় রুপি বা টাকার দাম।

    অবশ্যই পড়ুন: আইপিএলে নেই কোনও অভিজ্ঞতা, নিলামে কেনেনি কেউ! সেই প্লেয়ারই এবার KKR-এ

    বলাই বাহুল্য, পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম অনেকটাই বেড়েছে। এর ফলে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের মুদ্রায় ভারী পতন চোখে পড়েছে। তবে একথা স্বীকার করতেই হয়, আর পাঁচটা প্রতিবেশী দেশের তুলনায় ভারতীয় মুদ্রার পতন সবচেয়ে বেশি। আগামী দিনে এই পরিমাণটা 100 ছাড়িয়ে যায় কিনা সেটাই আশঙ্কা।