সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ বকেয়া ডিএ (Dearness allowance) নিয়ে অপেক্ষা যেন শেষ হওয়ার নামই নিচ্ছে না বাংলার সরকারি কর্মীদের। ইতিমধ্যে সুপ্রিম কোর্টের রায় মেনে চলতি মার্চ মাসে প্রথম কিস্তির টাকা দেওয়ার ঘোষণা করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। আরও একটি কিস্তির টাকা চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে রিলিজ করা হবে বলে খবর। যদিও সরকারের ওপর ভরসা রাখতে পারছেন না কর্মীরা। যাইহোক, এরই মাঝে ভোটের মুখে ইস্তেহার প্রকাশ করল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। সেই ইস্তেহারে DA মেটানো থেকে শুরু করে সপ্তম বেতন পে কমিশন (7th Pay Commission) চালু এবং সামগ্রিক বেতন কাঠামো পুনর্বিন্যাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
ইস্তেহারে সপ্তম বেতন পে কমিশন চালুর প্রতিশ্রুতি
সম্প্রতি বাংলায় বিধানসভা ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার আগে বড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, ২০০৯ রোপা অনুযায়ী বকেয়া ডিএ ধাপে ধাপে মেটানো হবে। এই সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি অবধি জারি করে রাজ্য অর্থ দফতর। সেখানে বলা হয়, ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল অর্থাৎ মাত্র ৪৮ মাসের বকেয়া টাকা মেটানো হবে কর্মীদের। বাকিটা কবে কী দেওয়া হবে তা পরে জানানো হবে। যাইহোক, এদিকে ইস্তেহারে কিন্তু কেন্দ্রীয় হারে ডিএ সংক্রান্ত কোনও উল্লেখ করা হয়নি। বলা হয়েছে, যেহেতু কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে এই রাজ্যের বিপুল পরিমাণ বকেয়া টাকা আটকে রয়েছে, বাড়ছে আর্থিক চাপ। ফলে এক কালীন বা বিশাল বড় অঙ্কের ডিএ দেওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু সরকার ইস্তেহারে সপ্তম বেতন পে কমিশন চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
তবে কি শীঘ্রই লাগু হচ্ছে? বেতন, পেনশন বাড়ছে? সরকার জানিয়েছে, রাজ্যে নতুন পে কমিশন গঠন করে সরকারি কর্মচারী, শিক্ষক, পেনশনভোগী এবং অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বেতন কাঠামোয় সামঞ্জস্য আনা হবে। এরইসঙ্গে সকল কর্মীদের মন জয় করার স্বার্থে ডিএ ছাড়াও একের পর এক কাজ করছে সরকার। অর্থ বিশেষজ্ঞদের মতে, সপ্তম পে কমিশন চালু হলে ডিএ-সহ অন্যান্য ভাতা এবং বেতনের গঠন নতুন করে নির্ধারিত হতে পারে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে কর্মচারীদের আর্থিক অবস্থার উন্নতির সম্ভাবনা তৈরি হবে। যদিও এই প্রক্রিয়া কবে শুরু হবে, আদৌ শুরু হবে কিনা তা এখনই জোর দিয়ে বলা সম্ভব হচ্ছে না।
প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনায় ফিরছে তুষার যুগ! টানা বৃষ্টির জেরে মার্চ মাসেই কনকনে ঠান্ডা পড়ল দিল্লি সহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় (Delhi NCR Weather Update)। বিপর্যস্ত জনজীবন। গত দুই-তিন দিন ধরে দিল্লি-এনসিআর ও উত্তর ভারতে বৃষ্টি হওয়ায় গরম থেকে স্বস্তি মিলছে। মার্চ মাসে দিল্লিতে বৃষ্টিপাতের (Rain) পরিমাণ গত তিন বছরের রেকর্ড ভেঙেছে এবং তাপমাত্রা সাত ডিগ্রি কমেছে। এই অসময়ের বৃষ্টিকে অশনি সংকেত হিসেবে দেখছেন আবহাওয়াবিদরা।
দিল্লিতে গত ৬ বছরের রেকর্ড ভাঙল
পশ্চিমী ঝঞ্ঝা ও প্রাক-বর্ষার প্রভাবে গোটা দেশ জুড়ে বৃষ্টি দুর্যোগ শুরু হয়েছে। উত্তর থেকে দক্ষিণ প্রতিটি জায়গায় কোথাও ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি হচ্ছে তো কোথাও আবার শিলাবৃষ্টির দাপট। গতকাল অর্থাৎ শুক্রবারও সকাল থেকেই দিল্লিতে আকাশ মেঘলা ও থেমে থেমে বৃষ্টি হয়েই চলেছে সঙ্গে বইছে ঝোড়ো হাওয়া। যার ফলে সেখানকার তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং গত ৬ বছরের রেকর্ড ভেঙেছে। দিল্লির গুরুগ্রাম ও নয়ডার মত জায়গায় যেখানে মার্চে ব্যাপক গরম পরে সেখানে টানা বৃষ্টির জেরে চলমান গরম থেকে খানিক স্বস্তি মিলেছে। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা পৌঁছেছে ২১.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ১০ ডিগ্রি কম।
ফিরছে তুষার যুগ
আবহাওয়া দপ্তরের রিপোর্ট অনুযায়ী লাগাতার বৃষ্টিতে দিল্লি ও লাগোয়া এলাকায় তাপমাত্রা এখন ২৫-২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে গিয়ে ঠেকেছে। অথচ মার্চের প্রথম সপ্তাহেই গরমে রীতিমতো নাজেহাল হতে হয়েছিল দিল্লিবাসীকে। তখন তাপমাত্রা ছিল ৩৫-৩৬ ডিগ্রি। আবহাওয়ার এই খামখেয়ালিপনা তুষার যুগের প্রত্যাবর্তনের জল্পনা উস্কে দিচ্ছে পরিবেশবিদদের মনে। ইতিমধ্যেই মৌসম ভবন জানিয়েছে গত ৬ বছরের মধ্যে দিল্লিতে এটাই ছিল শীলততম মার্চ মাস। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, নরেলা, বাওয়ানা, বুরারি এবং রোহিনী-সহ রাজধানী বেশ কয়েকটি এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে আজও। তাই দিল্লি-এনসিআর এলাকায় হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
উত্তর থেকে দক্ষিণ – গোটা দেশেই বদলে যাচ্ছে আবহাওয়া। পশ্চিমী ঝঞ্ঝা আর প্রাক-বর্ষার প্রভাবে রাজস্থান, কর্ণাটক, কেরল প্রতিটি জেলাতেই প্রবল বৃষ্টি হচ্ছে। পূর্ব ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশায় বজ্রবিদ্যুত্-সহ প্রবল ঝড়ের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। গতকাল অর্থাৎ শুক্রবার বিকেল থেকেই কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় বৃষ্টি শুরু হয়েছে। কোথাও আবার শিলাবৃষ্টি হয়েছে, ঝড়ের দাপট ভেঙে পড়েছে গাছ। এদিকে আবহাওয়ার এই খামখেয়ালিপনার জন্য ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। ঘূর্ণাবর্ত এবং পশ্চিমী ঝঞ্ঝার জেরে অকাল বৃষ্টিতে প্রচুর ক্ষতি হচ্ছে কৃষিকাজের। মরসুমি সবজি চাষের পাশাপাশি ফুল চাষেও ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।
সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ সপ্তাহান্তে নতুন করে ফের ভোগান্তির শিকার হতে চলেছেন সাধারণ মানুষ। হাওড়া ডিভিশনে (Howrah) বাতিল (Train Cancelled) থাকতে চলেছে কয়েকগুচ্ছ ট্রেন। সেইসঙ্গে কিছু ট্রেন পুনর্নিধারণ, নিয়ন্ত্রণ করা হবে বলে খবর। মূলত। হাওড়া ডিভিশনের বিভিন্ন শাখার রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য আগামী ২২ মার্চ, রবিবার দিনের বেলায় ট্রাফিক ব্লকের প্রয়োজন হবে। সে কারণে কিছু ট্রেন বাতিল থাকবে এদিন। চলুন বিশদে জেনে নেওয়া যাক।
হাওড়া ডিভিশনে ফের ট্রাফিক ব্লক
পূর্ব রেলের তরফে ইতিমধ্যে এই বিষয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। সেই বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, রবিবার কোন্নগর উত্তরপাড়া শাখায় ডাউন মেই লাইনে দুপুর ১২টা থেকে দুপুর ৩টে অবধি, ভদ্রেশ্বর স্টেশন লিমিট-শেওড়াফুলি শাখায় ডাউন মেন লাইনে সকাল ১১টা ৪৫ মিনিট থেকে দুপুর ২টো ৪৫ মিনিট অবধি, খন্যান-পাণ্ডুয়া শাখায় ডাউন মেইলাইনে সকাল ১০:৪৫ মিনিট থেকে দুপুর ১:৪৫ মিনিট অবধি, ডানকুনি-সিসিএল শাঁখা রিভার্স সিসিআর লাইনে সকাল ৯:৪৫ মিনিট থেকে দুপুর ১২:৪৫ মিনিট অবধি, বারুইপাড়া স্টেশন লিমিটে আপ হাওড়া-বর্ধমান কর্ড লাইন ১-এ সকাল ১০:৪০ মিনিট থেকে দুপুর ১:৪০ মিনিট অবধি, চেরাগ্রাম ব্লক হাট-গুড়াপ শাখায় আপ হাওড়া-বর্ধমান কর্ড লাইনে সকাল ১০:৫০ মিনিট থেকে দুপুর ১:৫০ মিনিট অবধি, জৌগ্রাম-মসাগ্রাম শাখায় আপ হাওড়া-বর্ধমান কর্ডলাইনে সকাল ১১:১৫ মিনিট থেকে দুপুর ২:১৫ মিনিট অবধি ব্লক (Traffic Block) থাকবে।
একদিকে যখন ভোট যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে তৃণমূল-বিজেপি-সিপিএম, ঠিক সেই মুহূর্তেই এক নতুন যুদ্ধ শুরু করেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে, এই যুদ্ধ কিন্তু কোনও দল বা নির্বাচন কমিশনের সাথে নয়, এই যুদ্ধ ভারতের সাংবিধানিক প্রধান তথা রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মূ-র সাথে (President VS Chief Minister)।
এত বছর ধরে বাংলা দেখেছে, দেশের প্রধানমন্ত্রীর সাথে মুখ্যমন্ত্রীর লড়াই, রাজ্যপালের সাথে মুখ্যমন্ত্রীর লড়াই। আর এবার প্রথমবার বাংলা দেখছে রাষ্ট্রপতির সাথে মুখ্যমন্ত্রীর লড়াই।
গত ১০ দিন কেটে গেলেও, এই যুদ্ধ যেন থামার নামই নিচ্ছে না। দুপক্ষই যেন বলছে – হাম ঝুঁকেগা নেহি! পরিস্থিতি এমন যে তৃনমূলের আচরণে ভয়ঙ্কর ক্ষুব্ধ ভারতের রাষ্ট্রপতি, এমনকি রাষ্ট্রপতি শাসনও জারি হতে পারে বাংলায়।
কিন্তু, হঠাৎ কীভাবে শুরু হল এই যুদ্ধ? কেনই বা একে অপরের সাথে ঠাণ্ডা লড়াইয়ে নেমেছে ভারতের দুই ক্ষমতাধারী মহিলা? হঠাৎ কী এমন করল তৃণমূল যার জন্য তেলে বেগুনে জ্বলে উঠেছেন স্বয়ং রাষ্ট্রপতি? কেন সারা ভারতের সামনে লজ্জার মুখে পড়তে হচ্ছে বাঙালীদেরকে?
আজ India Hood ডিকোড-এ আমরা তুলে ধরবো এমন কিছু ঘটনা, যা আমার-আপনার ধারণারও বাইরে! তাই ধৈর্য ধরে লেখাটি শেষ পর্যন্ত প্ড়ুন।
দ্বন্দের সূত্রপাত!
দিনটা ছিল ৬ই মার্চ। রাষ্ট্রপতি হওয়ার প্রায় চার বছর পর প্রথমবার উত্তরবঙ্গ সফরে আসেন দ্রৌপদী মুর্মু। দুই দিনের সফর। প্রথম দিন তিনি পৌঁছান বাগডোগরা বিমানবন্দরে। সেখান থেকে যান লোকভবনে। সেখানে তাঁর একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ছিল – দার্জিলিং হিল ফেস্টিভ্যালের উদ্বোধন। সেই দিন রাত কাটান রাজভবনে।
পরের দিন অর্থাৎ ৭ই মার্চ, রাষ্ট্রপতির যাওয়ার কথা ছিল বিধাননগরে। সেখানে আদিবাসী সম্প্রদায়ের একটি বড় অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা ছিল তাঁর। প্রথমে বিধাননগরে এই অনুষ্ঠান হওয়ার কথা থাকলেও, নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে পরে সেই অনুষ্ঠান সরিয়ে আনা হয় গোঁসাইপুরে।
আর এই দিন থেকেই শুরু হয় বিতর্ক।
প্রথমে গোঁসাইপুরের মঞ্চ থেকেই রাষ্ট্রপতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এরপর নিজেই চলে যান বিধাননগরে, খতিয়ে দেখেন – কেন বিধাননগরে তাঁকে অনুষ্ঠান করতে দেওয়া হল না, কোন নিরাপত্তার কারণে তাঁর এই অনুষ্ঠান স্থানান্তর করা হল।
কিন্তু কোনও কারণ না খুঁজে পেয়ে, এরপর সেখান থেকেই তিনি সমালোচনা করা শুরু করেন রাজ্য সরকারের। তিনি বলেন – “প্রশাসনের মনে কী চলছিল জানি না। আমি তো সহজেই এখানে চলে এলাম। ওরা বলেছিল জায়গা নেই। অথচ এখানে তো পাঁচ লক্ষ লোক হয়ে যাওয়ার কথা!”
এরপর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে তিনি বলেন – “আমিও বাংলার মেয়ে। আমাকে বাংলায় আসতেই দেওয়া হয় না। মমতাদি আমার ছোট বোন। জানি না আমার উপর কী রাগ।”
এখানেই থামেননি ম্যাডাম প্রেসিডেন্ট। রাজ্যের আদিবাসী সমাজের অবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তিনি বলেন, “দেখে মনে হচ্ছে না যে সাঁওতাল বা আদিবাসী সমাজের মানুষেরা সমস্ত সরকারি সুযোগ-সুবিধা পান।“
এছাড়াও, কোনও রাজ্যে রাষ্ট্রপতি এলে সাধারণ প্রোটোকল অনুযায়ী, রাজ্যের রাজ্যপাল, মুখ্যমন্ত্রী, এবং মন্ত্রিসভার সদস্যরা তাঁকে অভ্যর্থনা জানান বা সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। কিন্তু, ঘটনাচক্রে এই সময়ে ধর্মতলায় SIR-এর প্রতিবাদে ধর্না দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই তিনি রাষ্ট্রপতির সাথে দেখাও করেননি। যা নিয়েও অনেকে মুখ্যমন্ত্রীকে খোঁচা দেন।
রাষ্ট্রপতির এই বক্তব্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায় সোশ্যাল মিডিয়ায়। এই মন্তব্যের পরেই বিষয়টি রাজ্য রাজনীতির গণ্ডি ছাড়িয়ে জাতীয় রাজনীতিতে পৌঁছে যায়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই বিষয় নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, – “এটি লজ্জাজনক এবং নজিরবিহীন। গণতন্ত্রে বিশ্বাসী প্রত্যেক মানুষ এই ঘটনায় ব্যথিত। পশ্চিমবঙ্গ সরকার রাষ্ট্রপতির প্রতি অসম্মান দেখিয়েছে। রাষ্ট্রপতির পদ রাজনীতির ঊর্ধ্বে। এই পদের মর্যাদা সর্বদা রক্ষা করা উচিত।“
এরপর পাল্টা জবাব দেয় মুখ্যমন্ত্রী!
এত কিছুর পর এবার পাল্টা জবাব দিতে মাঠে নামেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ধর্মতলার ধর্নামঞ্চ থেকেই তিনি বলেন – “মাননীয়া রাষ্ট্রপতি, আমি দুঃখিত। আপনার প্রতি আমার শ্রদ্ধা আছে। কিন্তু আপনি বিজেপির নীতির ফাঁদে পড়ে গিয়েছেন।” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, “রাষ্ট্রপতিকে বিজেপি তাদের রাজনৈতিক প্রচারের জন্য ব্যবহার করছে। কই মণিপুরে যখন আদিবাসী সমাজের উপর হামলা হচ্ছিল, তখন রাষ্ট্রপতি কোনও মন্তব্য করেননি কেন?“
এছাড়া, SIR নিয়ে মমতা, রাষ্ট্রপতিকে বলেন, ‘‘SIR নিয়ে কই একটা কথাও বললেন না তো? কত আদিবাসীর নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, সেই খবর রেখেছেন? খোঁজ নিয়ে নিন, আমরা আদিবাসীদের জন্য কী কী করেছি। অন্য রাজ্য কী করেছে।‘’
এরপর ওই দিনই, ধর্না মঞ্চ থেকে তৃণমূল কংগ্রেস সিদ্ধান্ত নেয়, ‘’রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করবে তাদের প্রতিনিধি দল। মুখ্যমন্ত্রী দায়িত্ব দেন তৃণমূলের দুই শীর্ষ সাংসদ—ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তাঁদের বলা হয় রাষ্ট্রপতির কাছে গিয়ে জানাতে—পশ্চিমবঙ্গে আদিবাসী উন্নয়নের জন্য রাজ্য সরকার কী কী কাজ করেছে।
এছাড়াও, মোদীর কটাক্ষের উত্তর দিতে গিয়ে একটি পুরনো ছবি দেখিয়ে তৃণমূলের তরফ থেকে দাবি করা হয়, রাষ্ট্রপতিকে অসম্মান করেছেন স্বয়ং মোদীও। যে ছবিতে দেখা যাচ্ছে, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী দাঁড়িয়ে লালকৃষ্ণ আদবানীকে ভারতরত্ন পুরষ্কার দিচ্ছেন। আর তাঁর সামনে একটি চেয়ারে বসে রয়েছেন মোদী। পাশাপাশি তৃণমূলের নেতারা বক্তৃতায় জুড়ে দেন রামমন্দির উদ্বোধনে রাষ্ট্রপতিকে আমন্ত্রণ না-জানানোর প্রসঙ্গও।
কিন্তু, বিজেপিও এর পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানায়। তারা সোশ্যাল মিডিয়া এই ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়ে বলে – ভারতরত্ন পুরস্কার প্রদানের সময় সরকারী প্রোটোকল অনুসারে, উপস্থিত অন্যরা বসে থাকবেন। তাই এক্ষেত্রে কোনও ধরণের ভঙ্গিমা লঙ্ঘন করা হয়নি।“ পোস্টটিতে আরও বলা হয়, “এটা লজ্জাজনক যে তৃণমূল কংগ্রেস আবারও মাননীয়া রাষ্ট্রপতি শ্রীমতি দ্রৌপদী মুর্মু, প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ভারতরত্ন শ্রী লালকৃষ্ণ আদভানির সাথে জড়িত একটি মর্যাদাপূর্ণ মুহূর্তকে তুচ্ছ রাজনীতির জন্য বিকৃত করার চেষ্টা করছে।”
এছাড়া রাষ্ট্রপতির সাথে দেখা না করার ক্ষেত্রে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার জন্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৭ই মার্চ রাতেই এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, “রাষ্ট্রপতির কর্মসূচির আয়োজক ‘আন্তর্জাতিক সাঁওতাল কাউন্সিল’, যারা একটি বেসকরকারি সংস্থা। সেই কর্মসূচির বিষয়েও রাষ্ট্রপতির সচিবালয়ের সঙ্গে জেলা প্রশাসন সমন্বয়ও রেখেছিল। সেখানেই বিধাননগরের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি না থাকার কথা জানানো হয়। এছাড়াও, শিলিগুড়ির মেয়র, দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক সকলেই রাষ্ট্রপতিকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য হাজির ছিলেন। সেখানে কোনও প্রোটোকল বিঘ্নিত হয়নি। শেষে তিনি লেখেন, ‘‘সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক হল, বিজেপি নিজেদের দলীয় উদ্দেশ্যে দেশের সর্বোচ্চ পদকেও ব্যবহার করছে।‘’
তবে, এই রাজনৈতিক সংঘর্ষ এখানেই থেমে থাকেনি।
“মুখের ওপর না” বলে দেয় রাষ্ট্রপতি!
এরপর দিনটা ৯ই মার্চ। রাষ্ট্রপতির সাথে দেখা করার জন্য তৃনমূলের তরফ থেকে রাষ্ট্রপতি ভবনে চিঠিও পাঠানো হয়। ১২ থেকে ১৫ জন দলীয় প্রতিনিধি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করবেন বলে চিঠিতে জানানো হয়েছিল। সেই প্রতিনিধি দলে থাকার কথা তৃণমূল সাংসদ এবং মন্ত্রীদের।
কিন্তু, ১২ই মার্চ সেই আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়। এক প্রকার “মুখের ওপর তৃনমূলকে না বলে দেয়” রাষ্ট্রপতি। তৃণমূলের চিঠির জবাবে রাষ্ট্রপতি ভবন জানায়, তাদের অনুরোধটি বিবেচনা করা হয়েছিল। কিন্তু সময়ের অভাবে আবেদন গ্রহণ করা যাচ্ছে না। এর পরেই আগামী সপ্তাহে ফের রাষ্ট্রপতির সময় চান তৃণমূল সাংসদেরা।
এবার পাল্টা “না” বলে তৃণমূল!
এবার পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে থাকে। ১৪ই মার্চ শুরু হয় নতুন বিতর্ক। কারণ, সেদিন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু সমস্ত রাজনৈতিক দলের সাংসদদের ১৬ই মার্চ রাষ্ট্রপতি ভবনে প্রাতরাশের আমন্ত্রণ জানানো হয়। কিন্তু সেই আমন্ত্রণ ফিরিয়ে দেয় তৃণমূল কংগ্রেস। দলের রাজ্যসভার মুখ্যসচেতক নাদিমুল হক রাষ্ট্রপতি ভবনকে জানান, “তৃণমূলের সাংসদরা এই অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন না।“
কিন্তু কেন? কারণ হিসেবে বলা হয়—রমজান মাস চলছে। মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষেরা দিনভর উপবাস করেন। তাই সেই সময় প্রাতরাশ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া ঠিক হবে না।
আর এই সিদ্ধান্তই নতুন করে বিতর্ক তৈরি করে। কারণ প্রশ্ন ওঠে, – যদি সকালে না যেতে চান, তাহলে কখন যাবেন তারা? কারণ বিকালে দেখা করতে বললে, – তখন তো আবার ইফতার চলে!
বিরোধীরা বলছে—এটা আসলে রাজনৈতিক প্রতিবাদ। অন্যদিকে তৃণমূলের দাবি—বিজেপি রাজনৈতিক স্বার্থে রাষ্ট্রপতির পদ ব্যবহার করছে।
যদিও পরে দেখা যায়, রাষ্ট্রপতি ভবনের ওই প্রাতরাশের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে রাষ্ট্রপতির সাথে দেখা করেন তৃনমূলের বর্ষীয়ান সাংসদ সৌগত রায়।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে – এই ঠাণ্ডা লড়াইয়ের কতটা প্রভাব পড়বে বাংলার ভোটে?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন—সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে জঙ্গলমহল এলাকায়।
কারণ, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে জঙ্গলমহলের সবকটি আসন জিতেছিল বিজেপি। কিন্তু ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সেই অঞ্চল অনেকটাই পুনর্দখল করে তৃণমূল। আর ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে পশ্চিমাঞ্চলের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আসন—বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম এবং মেদিনীপুর—দখল করে নেয় তৃণমূল।
তাই আদিবাসী ভোট এখন দুই দলের কাছেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পরিসংখ্যান বলছে – পশ্চিমবঙ্গে মোট ২৯৪টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ১৬টি আসন জনজাতিদের জন্য সংরক্ষিত। কিন্তু বাস্তবে প্রায় ৫২টি আসনে উল্লেখযোগ্য আদিবাসী ভোট রয়েছে। অর্থাৎ, এই বিতর্ক শুধু সংরক্ষিত আসনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং বৃহত্তর রাজনৈতিক সমীকরণেও এর প্রভাব পড়তে পারে। তাই এখন প্রশ্নটা শুধু একটি অনুষ্ঠান বা একটি বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।
এই সংঘর্ষ কি শেষ পর্যন্ত প্রভাব ফেলবে বাংলার ভোটে? আপনার কী মনে হয়? জানাতে ভুলবেন না আপনার মতামত কমেন্ট করে।
বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: কথামতো শুক্রবার বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে ইস্তেহার প্রকাশ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress)। এদিন কালিঘাট থেকে দলীয় ইস্তেহারে রাজ্যবাসীর কাছে 10টি প্রতিজ্ঞা রাখেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস জিতবে এবং পুনরায় ক্ষমতায় এলে আগামী দিনে দুয়ারে সরকারের আদলে দুয়ারে চিকিৎসা পরিষেবা পাবেন সাধারণ মানুষ। একাধিক প্রতিশ্রুতির সাথেই লক্ষ্মীর ভান্ডার (Lakshmir Bhandar) নিয়েও বড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা স্পষ্ট বলে দেন, যাঁরা লক্ষী ভান্ডার পাচ্ছেন বা পাওয়ার যোগ্য তাঁরা আজীবন এই প্রকল্প থেকে অর্থ সাহায্য পাবেন।
লক্ষীর ভান্ডার নিয়ে ঠিক কী জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী?
শুক্রবার দলীয় ইস্তেহার প্রকাশ করার সাথে সাথে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সকলের কাছে অঙ্গীকার করেন রাজ্য সরকারের বিশেষ প্রকল্প লক্ষ্মীর ভান্ডার আজীবন দেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “লক্ষীর ভান্ডার বাড়িয়েছি আমরা এবং বলে দিয়েছি মা বোনেরা আজীবন লক্ষ্মীর ভান্ডার পাবেন।” এদিন রাজ্যবাসীর কাছে একাধিক বিষয়ে প্রতিজ্ঞা করার পাশাপাশি তৃণমূল এবং নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করতে ছাড়েননি তৃণমূল সুপ্রিমো।
এদিন পরোক্ষভাবে নাম না করে বিজেপিকে নিশানায় রেখে মমতা বলেন, “অনেকে আছে যারা ভোটের সময় বলবে কিন্তু পরে করবে না। আমরা যেটা বলি সেটা করে দেখিয়েছি এবং একমাস আগেই করে দিয়েছি।”
শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রীর সংযোজন ছিল, এই মুহূর্তে রাজ্যের সাধারণ শ্রেণি ভুক্ত মহিলারা প্রতিমাসে 1500 টাকা অর্থাৎ বছরে 1800 হাজার টাকা করে পাচ্ছেন। অন্যদিকে আদিবাসী বা তপশিলি জাতি ও উপজাতিভুক্ত মহিলারা মাসে 1 হাজার 700 অর্থাৎ বছরে 20 হাজার 400 টাকা করে পাচ্ছেন। আমৃত্যু লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা পাবেন সুবিধাভোগীরা। মুখ্যমন্ত্রীর এমন ঘোষণার পর আনন্দিত বাংলার লক্ষ্মীরা।
সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বর্তমান সময়ে টেলিকম গ্রাহকদের একটাই অভিযোগ যে, রিচার্জ না করলে সিম বন্ধ হয়ে যায়। তবে আপনি যদি রিলায়েন্স জিওর (Reliance Jio) গ্রাহক হয়ে থাকেন, তাহলে আপনার জন্য রইল দারুণ সংবাদ। কারণ, মাত্র 44 টাকা (Jio Recharge Plan) দিলেই আপনার জিওর নম্বরটি এক বছর ধরে সক্রিয় থাকবে। এবার নিশ্চয়ই হয়তো ভাবছেন যে জিওর তো 44 টাকার কোনও প্লানই নেই, তাহলে কীভাবে এক বছর সিম সক্রিয় থাকবে? আসলে এখানে শুধুমাত্র ইনকামিং কলের সুবিধা পাবেন, আউটগোয়িং সুবিধা মিলবে না। বিস্তারিত জানতে পড়ুন প্রতিবেদনটি।
মাত্র ৪৪ টাকাতেই হবে বাজিমাত
যদি আপনি জিওর সিমটিকে সেকেন্ডারি সিম হিসেবে ব্যবহার করেন এবং সেটিকে চালু রাখতে চান, তাহলে আপনার জন্য এই প্রতিবেদনটি। বিশেষ করে যারা ঘন ঘন এবং ব্যয়বহুল রিচার্জ এড়িয়ে চলতে চান, তাদের জন্য সস্তা আর কার্যকর উপায় এটি। দীর্ঘদিন রিচার্জ না করলেও সিম থাকবে সক্রিয়। মাত্র 44 টাকা খরচ করলেই হবে। জিওর নিয়ম অনুযায়ী, একটি সিম কার্ডে 90 দিনের বেশি রিচার্জ না থাকলে সেটিকে নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয়। তাই আপনি যদি 90 দিনের মধ্যে সামান্য ডেটা প্যাক বা কল করা যায় এমন কোন প্ল্যানও রিচার্জ করেন, তাহলে সেই মেয়াদ আবারও শুরু হয়। সেক্ষেত্রে একটি ট্রিক্স খাটাতে হবে।
প্রথমেই বলে রাখি, জিওর একটি 11 টাকার ডেটা প্যাক রয়েছে, যেটিতে 1 ঘণ্টার জন্য 10GB হাই স্পিড ডেটা পাওয়া যায়। আর এটি জিওর সবথেকে কম দামি রিচার্জ প্ল্যান। আর এই প্ল্যানের মেয়াদ শুধুমাত্র 1 ঘণ্টাই। কিন্তু সবথেকে বড় ব্যাপার, এই প্ল্যান যদি রিচার্জ করেন, তাহলে আগামী তিন মাস সিমটি ডিঅ্যাক্টিভেট হবে না। এর ফলে আপনি নতুন 90 দিনের মেয়াদ পাবেন। আর সেই সময়কাল পর্যন্ত সিমটি সক্রিয় থাকবে। এমনকি এর জন্য কোনও বেস প্ল্যান বা দামি প্ল্যানেরও প্রয়োজন নেই।
সেই সূত্রে যদি আপনি 90 দিন অন্তর 11 টাকা করে রিচার্জ করেন, তাহলে বছরে আপনার খরচ পড়বে 44 টাকা। এর মাধ্যমে আপনি খুব কম খরচেই সেকেন্ডারি সিমটিকে সক্রিয় রাখতে পারবেন। এমনকি এই সময়ে কোনও সক্রিয় প্ল্যানও দরকার নেই। যদি আপনার শুধুমাত্র ইনকামিং কল বা এসএমএস দরকার থাকে, তাহলে এই প্ল্যানটি হতে পারে কার্যকর। এমনকি এক্ষেত্রে ওটিপির মতো পরিষেবাও আপনি এই প্ল্যান রিচার্জ করলে পাবেন, যা ব্যাঙ্কিং পরিষেবার জন্য সবথেকে জরুরী। তবে হ্যাঁ, 90 দিন যাতে না পেরিয়ে যায় সেদিকে মাথায় রাখুন। কারণ, 90 দিনের আগেই এই 11 টাকার প্ল্যানটিকে রিচার্জ করে নিলে আর সিম বন্ধ হবে না।
সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ এই মুদ্রাস্ফীতির বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম হু হু করে বাড়ছে। সেখানে অনেকের কাছে ওষুধ কেনা বিশাল ব্যাপার। তবে আর চিন্তা নয়, কারণ বেশ কিছু ওষুধের দাম (Medicine Price) এক ধাক্কায় অনেকটাই কমতে চলেছে বলে খবর। ডেনমার্কের প্রথম সারির ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থা নোভো নরডিস্কের ‘সেমাগ্লুটাইড’ নামক লবণের পেটেন্টের মেয়াদ এই সপ্তাহে শেষ হয়ে যাবে। আর পেটেন্ট শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আগামী দিনে বহু ওষুধের দাম বিরাটভাবে কমতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। চলুন বিশদে জেনে নেওয়া যাক।
দাম কমবে জীবনদায়ী ওষুধের?
সংস্থাটি এই লবণ ব্যবহার করে ওজন কমানোর ওষুধ ‘ওজেম্পিক’ এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের ওষুধ ‘ভেগোভি’ তৈরি করে। পেটেন্টের কারণে, উভয় ওষুধের দামই খুব বেশি। তবে, পেটেন্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর, অন্যান্য সংস্থাগুলি সেমাগ্লুটাইড ব্যবহার করে জেনেরিক ওজন কমানোর এবং ডায়াবেটিসের ওষুধ তৈরি করতে পারবে। এতে সাধারণ মানুষের জন্য ওষুধ আরও সহজলভ্য হবে বলে খবর।
বর্তমানে, নোভো নরডিস্কের ওজন কমানোর ওষুধ ওজেম্পিকের মাসিক খরচ প্রায় ৮,০০০ থেকে ১১,০০০ টাকা। ডায়াবেটিসের ওষুধ ভেগাভির মাসিক খরচ ১৬,৪০০ টাকা পর্যন্ত। এই দামের জেরে ওষুধ কিনতে গিয়ে নাভিশ্বাস উঠে যায় আমজনতার। যদিও এখন ওষুধ বাজার বিশেষজ্ঞরা পূর্বাভাস দিচ্ছেন যে জেনেরিক ওষুধ প্রায় ৬০% সস্তা হবে। প্রাথমিকভাবে, জেনেরিক ওষুধের মাসিক খরচ ৩,০০০ থেকে ৫,০০০ টাকার মধ্যে হতে পারে। কিন্তু যে হারে ওষুধ কোম্পানিগুলির মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়ছে সেখানে এই দাম আরও কমে ১,৫০০ থেকে ২,৫০০ টাকায় নেমে আসতে পারে বলে খবর।
উপকৃত হবেন সাধারণ মানুষ
এক রিপোর্ট অনুযায়ী, চিনের পর ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যায় ভারত দ্বিতীয় স্থানে। ২০৫০ সালের মধ্যে ভারতে ৪৪ কোটিরও বেশি মানুষ আরও মোটা হতে পারেন বলে আশঙ্কা। ওষুধ কোম্পানিগুলোর অনুমান অনুযায়ী, ভারতের স্থূলতা-বিরোধী ওষুধের বাজার বর্তমানে প্রায় ১৫ বিলিয়ন রুপি থেকে বেড়ে ২০৩০ সালের মধ্যে ৮০ বিলিয়ন রুপিতে পৌঁছাতে পারে। সাশ্রয়ী মূল্যের ওষুধ সহজলভ্য হওয়ায়, এখন নিম্ন ও মধ্য-আয়ের রোগীরাও বৈজ্ঞানিকভাবে তৈরি ওজন কমানোর চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারবেন। এই উদ্যোগটি ভারতের জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন আনবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ সতর্ক থাকুন, কারণ আজ শনিবার আকাশ কাঁপানো বৃষ্টি নামবে জেলায় জেলায়। উত্তাল হবে সমুদ্র, সেইসঙ্গে জেলায় জেলায় ভারী বৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি, কালবৈশাখীর সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানাল আলিপুর আবহাওয়া (Weather Today) অফিস। এক কথায় হাওয়া অফিস আজ বাংলার আবহাওয়া নিয়ে যে সতর্কতা জারি করেছে তা জানলে আপনারও মুখ হাঁ হয়ে যেতে পারে। আলিপুর আবহাওয়া অফিসের তরফে জারি করা বুলেটিন অনুযায়ী, উত্তর-পশ্চিম মধ্য প্রদেশ এবং তৎপরবর্তী দক্ষিণ উত্তরপ্রদেশ থেকে ঝাড়খণ্ড, উত্তর গঙ্গীয় পশ্চিমবঙ্গ এবং দক্ষিণ আসাম অতিক্রম করে নাগাল্যান্ড পর্যন্ত মধ্যবায়ু স্তরের 0.9 কিমি উচ্চতায় একটি উচ্চতর বায়ু সঞ্চালন, ঘূর্ণাবর্ত (Cyclonic Circulation) অবস্থান করছে। উপযুক্ত আবহাওয়ার পরিস্থিতি এবং বঙ্গোপসাগর থেকে শক্তিশালী আর্দ্রতা থাকার কারণে আগামী ২ দিন দুর্যোগ চলবে বাংলায়।
দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া
প্রথমেই আসা যাক আজ সারাদিন দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া কেমন থাকবে সে প্রসঙ্গে। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের তরফে জারি করা বুলেটিন অনুযায়ী, একের পর এক ঘূর্ণাবর্তের জেরে বাংলায় ব্যাপক বৃষ্টিপাত (Heavy Rainfall) চলবে। আজও দক্ষিণবঙ্গের জেলায় জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ সহ মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত, শিলাবৃষ্টির জন্য কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আজ শনিবার ব্যাপক বৃষ্টিপাত হতে পারে বাঁকুড়া, পূর্ব বর্ধমান, হুগলী, হাওড়া, নদীয়া এবং মুর্শিদাবাদ জেলায়। হাওয়ার গতিবেগ থাকতে পারে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৭০ কিমি। বাকি জেলাগুলিতেও বৃষ্টি সঙ্গে ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইবে বলে জানিয়েছে আলিপুর হাওয়া অফিস।
উত্তরবঙ্গের আবহাওয়া
এবার আসা যাক উত্তরবঙ্গের আবহাওয়া প্রসঙ্গে। IMD কলকাতা জানিয়েছে, এদিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে। অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ার জেলায়। এছাড়াও ভারী বৃষ্টির জন্য এবং শিলাবৃষ্টির জন্য কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে দার্জিলিং, কালিম্পং এবং কোচবিহার জেলায়। থান্ডারস্কোয়ালের জন্য হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ৭০ থেকে ৮০ কিমি বেগে হতে পারে। অতিরিক্ত বজ্রপাতের দেখা মিলতে পারে মালদা, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায়।
এবার আসা যাক আগামীকাল অর্থাৎ রবিবার ছুটির দিন সমগ্র বাংলার আবহাওয়া কেমন থাকবে সে সম্পর্কে। হাওয়া অফিস জানিয়েছে, হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির জন্য হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে ঝাড়গ্রাম, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায়। উত্তরবঙ্গের কথা বললে, রবিবার হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হতে পারে দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, কোচবিহার এবং আলিপুরদুয়ার জেলায়। হাওয়ার গতিবেগ থাকতে পারে ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিমি। জারি করা হয়েছে হলুদ সতর্কতা।
সৌভিক মুখার্জী, তারাপীঠ: আজ ২১ মার্চ, শনিবার। আজকের রাশিফল (Daily Horoscope) দেখেই শুরু করুন দিনটি। পঞ্জিকা বলছে, আজ চন্দ্র মেষ রাশিতে আর সূর্য মীন রাশিতে বিরাজ করবে। এদিকে আজ অশ্বিনী এবং ভরণী নক্ষত্রের প্রভাব পড়বে। তৃতীয়া তিথির এই বিশেষটিতে যৈংদ্র এবং বৈধৃতি যোগ বিরাজ করছে। আজ সূর্যোদয় হবে সকাল ৬:২৪ মিনিটে এবং সূর্যাস্ত যাবে সন্ধ্যা ৬:৩৩ মিনিটে।
জ্যোতিষীরা বলছে, যেহেতু আজ শনিবার, তাই মা তারার কৃপা বর্ষিত হবে কিছু রাশির জাতক জাতিকাদের উপর। কিন্তু কিছু রাশির জন্য আজকের দিনটি খুব একটা ভালো যাবে না। কোন কোন রাশি তা জানতে হলে অবশ্যই পড়ুন দৈনিক রাশিফল (Ajker Rashifal)। প্রতিদিনের রাশিফল ঠিক একদিন আগে পাওয়ার জন্য আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপটি জয়েন হয়ে থাকুন।
মেষ রাশির আজকের রাশিফল: আজ গর্ভবতী মহিলাদের দৈনন্দিন কাজকর্মে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। কোনও অপরিচিত ব্যক্তির পরামর্শে বিনিয়োগ করলে সেখান থেকে লাভবান হতে পারেন। পরিবারের সদস্যরা অনেক কিছু দাবি করবে। প্রেমের ব্যাপারে তাড়াহুড়ো করা থাকে বিরত থাকতে হবে। বয়স্ক ব্যক্তিরা অবসর সময়ে পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে পারে। জীবন সঙ্গীর সঙ্গে তর্কের সম্ভাবনা রয়েছে। বিবাহিত জীবনে আজ সুখ শান্তি বজায় থাকবে না।
প্রতিকার: স্বাস্থ্যের উন্নতি করার জন্য যে কোনও উপায়ে শরীরে সোনা কিংবা হলুদ রঙের সুতা পড়ার চেষ্টা করুন।
বৃষ রাশি: জটিল পরিস্থিতিতে পড়লে মোটেও আতঙ্কিত হবেন না। আজ মন ভালো করার জন্য সামাজিক কাজে যোগ দিতে হবে। অমীমাংসিত বিষয়গুলি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। এবং খরচের চিন্তা আপনার মনে ভার হয়ে দাঁড়াবে। জীবনসঙ্গী আপনাকে জীবনে পরিবর্তন আনতে সাহায্য করবে। প্রাণবন্ত বা উষ্ণ স্বভাবের মানুষ গড়ে তুলতে হবে যে কঠোর পরিশ্রম আর প্রচেষ্টার মাধ্যমে জীবনের পথ গড়ে তোলে। প্রিয়জন আপনাকে অনেক আনন্দ দেবে। ভ্রমণ বেশ আনন্দদায়ক হতে পারে।
প্রতিকার: আর্থিক অবস্থার উন্নতি করার জন্য গরিব ব্যক্তিকে কালো জুতো বা ছাতা দান করার চেষ্টা করুন।
মিথুন রাশি: আজ আপনার শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখার জন্য খেলাধুলা করে সময় কাটাতে পারেন। অর্থ তখনই কাজে লাগবে যদি আপনিও প্রয়োজনীয় খরচ থেকে বিরত রাখতে পারেন। এই বিষয়টি পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারবেন। বন্ধুরা সন্ধ্যার জন্য চমৎকার পরিকল্পনা করে দিনটিকে উজ্জ্বল করে তুলতে পারে। একসঙ্গে বাইরে গিয়ে আপনার প্রেমের জীবনের নতুন শক্তি সঞ্চার করতে পারেন। প্রেমিক-প্রেমিকার সঙ্গে সময় কাটাতে এবং তাদের নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করতে সক্ষম হবেন। আর্থিক দিক থেকে সচ্ছল থাকবে দিনটি।
প্রতিকার: মানসিক কষ্ট মুকুব করার জন্য কোনও শুভ অনুষ্ঠান, বিবাহ ইত্যাদি নষ্ট করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
কর্কট রাশি: আজ কিছু লোক মনে করে যে নতুন কিছু শেখার জন্য আপনি আগ্রহী। আজ আপনার তীক্ষ্ণ মন যে কোনও কিছু সহজে শিখতে সাহায্য করবে। ভাই-বোনেরা আপনার কাছে আর্থিক সাহায্য চাইতে পারে। তাঁদের সাহায্য করলে আপনার আর্থিক চাপ সৃষ্টি হবে। কিন্তু পরিস্থিতি খুব শীঘ্রই উন্নত হবে। বন্ধুদের স্বভাবের সুযোগ নিতে দেবেন না। প্রিয়জনের স্নেহ পূর্ণ আচরণ আপনাকে বিশেষ অনুভব করাতে পারে। মুহূর্তগুলোকে পুরোপুরি উপভোগ করবেন। বিবাহিত জীবনে সুখ শান্তি বজায় থাকবে। কিন্তু পরিবারে ঝামেলার সম্ভাবনা আছে।
প্রতিকার: পারিবারিক জীবনে সুখ বৃদ্ধি করার জন্য লাল গরু বা লাল কুকুরকে খাওয়ানোর চেষ্টা করুন।
সিংহ রাশি: আজ আপনার আচরণ জীবনসঙ্গীর মেজাজ খারাপ করাতে পারে। কাউকে অসম্মান করা এবং তাকে গুরুত্ব না দিলে আপনার সম্পর্কের ফাটল ধরবে। কোনও পাওনাদার আপনাকে না জানিয়ে অ্যাকাউন্টে টাকা জমা করতে পারে যা আপনাকে অবাক করে দেবে। আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা করতে ছোট ভ্রমণ করতে পারেন। এতে আপনি শান্তি পাবেন। প্রিয়জনের অপ্রয়োজনীয় দাবির কাছে মোটেও নত স্বীকার করবেন না। বাইরে পড়াশোনা করতে গেলে আজ অবসর সময় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতে পারেন।
প্রতিকার: স্বাস্থ্যের উন্নতি করার জন্য বাড়িতে প্লাস্টার অফ প্যারিসের তৈরি মূর্তি রাখার চেষ্টা করুন।
কন্যা রাশি: আজ আপনি অসুবিধা বা মতবিরোধের সম্মুখীন হতে পারেন যা আপনাকে বিরক্তিতে ফেলবে। কোনও প্রতিবেশী আপনার কাছে ঋণ চাইতে আসতে পারে। কিন্তু টাকা ধার দেওয়ার আগে তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন। কোনও পারিবারিক অনুষ্ঠানে আপনি আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন। আজ অবসর সময় এমন কিছু কাজে নিযুক্ত হবেন যা আপনি করার কথা ভাবেন। কিন্তু করে উঠতে পারেন না। পরিবারে সুখ শান্তি থাকবে।
প্রতিকার: স্বাস্থ্যের উন্নতি করার জন্য কোনও ধর্মীয় স্থানে পতাকা দান করার চেষ্টা করুন।
তুলা রাশি: বাইরের খেলাধুলা আপনাকে আকর্ষণ করবে। কাজ বন্ধুদের সঙ্গে বাইরে গেলে ভেবেচিন্তে টাকা খরচ করার চেষ্টা করতে হবে। নাহলে আর্থিক ক্ষতি হতে পারে। আত্মীয়-স্বজন এবং বন্ধুদের কাছ থেকে অপ্রত্যাশিত উপহার পেতে পারেন। ভালবাসার ক্ষেত্রে আজ ভালো আচরণ করা উচিত। সম্পর্কের গুরুত্ব বুঝতে হবে। কারণ দিনের বেশিরভাগ সময় পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাবেন। আজ সুন্দর স্মৃতি আপনার এবং আপনার জীবনসঙ্গীর মধ্যকার বিবাদ মিটিয়ে দিতে পারে। পরিবারে সুখ-শান্তি বজায় থাকবে।
বৃশ্চিক রাশি: আজ আপনার স্বাস্থ্য সম্পূর্ণ ভালো থাকবে। হয়তো কারো সাহায্য ছাড়া অর্থ উপার্জন করতে পারবেন। তবে এর জন্য নিজের উপর বিশ্বাস রাখতে হবে। সাফল্য পরিবারের সদস্যদের উৎসাহিত করে তুলবে এবং আপনার সাফল্যের মুকুটে নতুন পালক যোগ করবে। আজ আচরণ ঠিক করতে হবে। প্রিয়জনের মেজাজ অনিশ্চিত থাকতে পারে। নিজেদেরকে বুঝতে হবে। ভিড়ের মধ্যে নিজেকে হারিয়ে গেলে নিজের জন্যই সময় দেওয়া উচিত। পরিবারে সুখ শান্তি বজায় থাকবে।
প্রতিকার: প্রেমের সম্পর্ককে ভালো রাখার জন্য দরিদ্র ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনার ক্ষেত্রে সাহায্য করার চেষ্টা করুন।
ধনু রাশি: আজ শারীরিক উপকারিতা বিশেষ করে মানসিক শক্তি অর্জন করার জন্য ধ্যান বা যোগব্যায়াম করতে হবে। সামনে আসা নতুন বিনিয়োগের সুযোগগুলিকে বিবেচনা করে বিনিয়োগ করা উচিত। আর্থিক দিক থেকে দিনটি মোটামুটি ভালো থাকবে। প্রিয়জনের কাছে ব্যক্তিগত অনুভূতি বা গোপনীয়তা ভাগ করে নেওয়া এড়িয়ে চলুন। আজ কোনও কারণে অফিস থেকে তাড়াতাড়ি বের হতে পারেন। জীবনসঙ্গীর আচরণ সবসময় পেশাগত সম্পর্কের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। আজ দিনের শুরুতে কিছু খারাপ খবর পেতে পারেন।
প্রতিকার: প্রেমের সম্পর্ককে উন্নত করার জন্য দেবে সরস্বতীর পূজা করার চেষ্টা করুন।
মকর রাশি: আজ কোনও কাজ করার আগে অবশ্যই দু’বার ভাবুন। মনোভাব ইতিবাচক হবে। কারোর অনুভূতিতে আঘাত করতে পারেন। টাকা আপনার হাতে থাকবে না। আজ কঠিন সময়ে আপনাকে সাহায্য করলে সেই আত্মীয়দের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে হবে। ছোট অঙ্গভঙ্গি তাদের মনোবল বাড়িয়ে দেবে। কৃতজ্ঞতা জীবনের সুবাস আরও বাড়াবে। অকৃতজ্ঞতা নষ্ট করে দেবে। প্রেমের সম্পর্কের সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে গোপনীয় তথ্য প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকা উচিত।
প্রতিকার: আজ আপনার স্বাস্থ্যের উন্নতি হতে পারে। এর জন্য কালো ঘোড়ার নখ দিয়ে তৈরি আংটি পড়ার চেষ্টা করুন।
কুম্ভ রাশি: আজ আপনার স্বাস্থ্য সম্পূর্ণ ভা লোনা থাকার কারণে মনোযোগ দিতে কষ্ট হতে পারে। যদিও আর্থিক অবস্থার উন্নতি হবে। কিন্তু অর্থের অবিরাম প্রবাহ আপনার পরিকল্পনায় বাধা সৃষ্টি করতে পারে। দিনটিকে বিশেষ করে তোলার জন্য সন্ধ্যাবেলা পরিবারের সাথে সুন্দর কোনও জায়গায় যেতে পারেন। জীবনের বাস্তবতার মুখোমুখি হতে আজ আপনার প্রিয়জনকে কিছুক্ষণের জন্য ভুলে যেতে পারেন। পরিবারের ছোট সদস্যদের সাথে সময় কাটানো উচিত। আজ পরিবারে এমনিতে সুখ শান্তি বজায় থাকবে।
প্রতিকার: স্বাস্থ্যের উন্নতি করার জন্য রোদ স্নান করার চেষ্টা করুন।
মীন রাশি: আজ মানসিক স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য বিভ্রান্তি এবং হতাশা এড়িয়ে চলতে হবে। নিজেকে এমন কিছু নতুন বা উত্তেজনা পূর্ণ পরিস্থিতিতে খুঁজে পাবেন যা আপনার জন্য আর্থিক সুবিধা নিয়ে আসবে। কিছু সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন। বাস্তববাদী মনোভাব গ্রহণ করতে হবে। যারা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় তাদের কাছে কিছু আশা করবেন না। প্রেমের জীবনের বন্ধন ভালো রাখা উচিত। প্রেমিক প্রেমিকা সম্পর্কে কোনও মতামত তৈরি করতে চাইলে অন্যদের কথার উপর ভিত্তি করে কাজ করবেন না।
প্রতিকার: পারিবারিক জীবনকে ভালো রাখার জন্য ভাইদের লাল রঙের পোশাক উপহার দেওয়ার চেষ্টা করুন।
প্রতিদিন সকালে দৈনিক রাশিফলের আপডেট পেতে অবশ্যই গুগল করুন- India Hood Rashifal
বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা গোটা বিশ্বজুড়ে তেল এবং গ্যাসের সংকটে পরিণত হয়েছে (Iran War)। দেশের প্রতিটি প্রান্তে রান্নার গ্যাস বা LPG র জন্য তৈরি হয়েছে হাহাকার! এদিকে আমেরিকা ও ইজরায়েল বনাম ইরানের যুদ্ধ তৃতীয় সপ্তাহে পা দিতেই তা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এমতাবস্থায়, জ্বালানির পাশাপাশি এবার চিন্তা বাড়ছে, গোটা বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেট পরিষেবা (Global Internet Crisis) নিয়েও। এর অন্যতম কারণ হরমুজ প্রণালী ও লোহিত সাগরের তলদেশ দিয়ে গোটা বিশ্বে ইন্টারনেট পরিষেবা চালানোর জন্য ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কেবল নেটওয়ার্ক। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে সেই কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ জেরে বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেট পরিষেবা ব্যাহত হতে পারে।
বড়সড় ক্ষতির মুখে পড়বে গোটা বিশ্ব?
কমবেশি সকলেই জানেন, হরমুজ প্রণালী এবং লোহিত সাগরের নিচ থেকে গিয়েছে গুরুত্বপূর্ণ একাধিক কেবল। এগুলির মাধ্যমেই গোটা বিশ্বে অর্থাৎ ইউরোপ, এশিয়া এবং আফ্রিকার মধ্যে ইন্টারনেট সংযোগ পরিচালনা করা হয়। এই কেবলগুলির দৌলতেই করা যায় ভিডিও কল, ফেসবুক, ইমেল এমনকি ব্যাঙ্কিং লেনদেনও। রিপোর্ট বলছে, এই মুহূর্তে লোহিত সাগরের নিচে কম করে 17 বা তারও বেশি সাবমেরিন কেবল আছে। অন্যদিকে হরমুজে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কেবল।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পারস্য উপসাগরে এই মুহূর্তে সমুদ্র গর্ভস্থ কেবল গুলির মধ্যে রয়েছে FALCON, Gulf Bridge International Cable System, AAE 1 এবং TATA TGN Gulf। এই লাইনগুলি ভারতের বৈদেশিক ডেটা সংযোগকে সাহায্য করে থাকে। সবচেয়ে বড় কথা, মাইক্রোসফট, অ্যামাজন এমনকি গুগলের মতো মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিগুলিও সংযুক্ত আরব আমিরশাহী থেকে শুরু করে সৌদি আরবের মতো উপসাগরীয় দেশগুলিতে AI ডেটা সেন্টার গড়ে তোলার জন্য প্রচুর পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করেছে।
বিশেষজ্ঞদের একটাই বক্তব্য, কোনও কারণে যুদ্ধের মধ্যে যদি হরমুজ এবং লোহিত সাগরের নিচে থাকা কেবলগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয় তবে গ্লোবাল কমিউনিকেশন ক্রাইসিস দেখা দেবে। তাছাড়াও এই বিশেষ জলপথে জোরালো হামলা হলে কিংবা বিস্ফোরণের মতো ঘটনা ঘটলে একবার যদি এই গুরুত্বপূর্ণ কেবলগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয় সেক্ষেত্রে পরবর্তীতে তা মেরামত করা যথেষ্ট কষ্টসাধ্য হয়ে উঠবে। এর ফলে মাসের বড় মাস এইসব কেবল অচল হয়ে থাকতে পারে। তাতে বড়বড় বিপদের মুখে পড়বেন গোটা বিশ্ববাসী।