Tag: West Bengal Police

  • ২৪-র লোকসভা ভোট হিংসায় যুক্ত পুলিশ অফিসারদের তালিকা তলব, বড় পদক্ষেপ কমিশনের

    ২৪-র লোকসভা ভোট হিংসায় যুক্ত পুলিশ অফিসারদের তালিকা তলব, বড় পদক্ষেপ কমিশনের

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: অবশেষে ২৬ এর বিধানসভা (West Bengal Election 2026) নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করল জাতীয় নির্বাচন কমিশন (Election Commission Of India)। ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ২৩ এপ্রিল এবং ২৯ এপ্রিল দুই দফায় অনুষ্ঠিত হবে রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন। আর তার কয়েক ঘণ্টার পরেই প্রশাসনিক রদবদলের ইঙ্গিত দিল কমিশন। শুধু তাই নয়, ২০২৪-এর ভোট হিংসায় যুক্ত ‘দাগি’ পুলিশ কর্তাদের তালিকা (Police Officers List) পাঠানোর নির্দেশ দিল কমিশন।

    সময়সীমা বেঁধে দিল কমিশন

    রিপোর্ট মোতাবেক, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পরেই একাধিক এলাকায় ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগ উঠে এসেছিল। একাধিক এলাকায় দলীয় কর্মীদের খুন হতে হয়েছিল। এমনকি ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনের পরেও ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগ উঠেছিল। তৃণমূলের তরফে বিজেপির দিকে আঙুল যেমন তোলা হয়েছিল, ঠিক তেমনই বিজেপিও তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিল। এমতাবস্থায় জানা গিয়েছে, সমস্ত হিংসাকবলিত এলাকায় থাকা থানাগুলিতে সেইসময় কারা ওসি ছিলেন তাঁদের তালিকা রাজ্য পুলিশের ডিজির কাছে চাইল নির্বাচন কমিশন। এর জন্য বেঁধে দেওয়া হল সময়সীমা। আজ সোমবার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যেই রিপোর্ট দিতে হবে।

    ডিজিপি, সিপি বদল কমিশনের

    রবিবার রাতেই রাজ্যের ডিজিপি, সিপি বদল করার নির্দেশ পাঠানো হয় নির্বাচন কমিশনের তরফে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী পীযুস পাণ্ডের পরিবর্তে রাজ্যের নতুন ডিজি হলেন সিদ্ধিনাথ গুপ্তা। তিনি ১৯৯২ ব্যাচের আইপিএস। অন্যদিকে সিপি হলেন অজয় নন্দ, তিনি পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার ছিলেন এবং এডিজি আইন শৃঙ্খাল হলেন অজয় রানাডে, তিনি ১৯৯৫ ব্যাচের আইপিএস। কারা দফতরের ডিজি হয়েছেন এন রমেশ বাবু। উল্লেখ্য, ভোট পর্বে কখনও কারা প্রশাসন, কারা দফতর বদল করতে পদক্ষেপ করেনি নির্বাচন কমিশন। কিন্তু এবার সেই পদক্ষেপ নিল কমিশন। অনুমান করা হচ্ছে বেশ কয়েকদিন ধরে অভিযোগ উঠে এসেছে যে ভোট এলেই নাকি জেল থেকে অনেক অপরাধীকে ছেড়ে দেওয়া হয়, আর তাই সেই কারণে এই উদ্যোগ।

    আরও পড়ুন: নন্দিনী চক্রবর্তীর জায়গায় রাজ্যের নতুন মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিওয়ালা, চিনে নিন এই আমলাকে

    তবে শুধু পুলিশ অধি কর্তাদের অদল বদল নয়, রবিবার রাতে সাড়ে বারোটার পর বদলি করে দেওয়া হল রাজ্যের মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিবকে। নন্দিনী চক্রবর্তীকে সরিয়ে ১৯৯৩ ব্যাচের আইএএস দুষ্মন্ত নারিয়ালাকে মুখ্যসচিব নিয়োগ করা হয়েছে। অন্যদিকে জগদীশ প্রসাদ মীনার পরিবর্তে ১৯৯৭ ব্যাচের আইএএস সংঘমিত্রা ঘোষকে স্বরাষ্ট্রসচিব পদে বসানো হচ্ছে। কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশ নন্দিনী চক্রবর্তী ও জগদীশ প্রসাদ মীনাকে নির্বাচন প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত কোনও পদেও বসানো যাবে না।

  • ভোটের আগে রাজ্য পুলিশের ডিজি ও কলকাতা পুলিশ কমিশনারকে বদল করল কমিশন

    ভোটের আগে রাজ্য পুলিশের ডিজি ও কলকাতা পুলিশ কমিশনারকে বদল করল কমিশন

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: গতকালই বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Election) দিনক্ষণ ঘোষিত হয়েছে। আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় হবে নির্বাচন। তবে তার আগেই রাজ্যের প্রশাসনিক বিভাগে একাধিক রদবদল করছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)। সেই সূত্রে এবার পুলিশের শীর্ষস্থরের রদবদল। গতকাল রাতেই রাজ্যের মুখ্য সচিব এবং স্বরাষ্ট্র সচিবের বদল করেছিল কমিশন। এবার কলকাতা পুলিশ কমিশনার এবং রাজ্য পুলিশের ডিজিকেও বদলি করা হল।

    ভোটের আগে পুলিশস্তরে রদবদল

    রিপোর্ট অনুযায়ী, কলকাতা পুলিশ কমিশনার এবং রাজ্য পুলিশের ডিজিকে বদলি করেছে নির্বাচন কমিশন। এবার রাজ্যের নতুন ডিজিপি হিসেবে নিযুক্ত হচ্ছেন সিদ্ধনাথ গুপ্ত। জানা যাচ্ছে, ডিজি এবং ভারপ্রাপ্ত আইজিপি পদে তাঁকেই নিয়োগ করা হচ্ছে। অন্যদিকে কলকাতা পুলিশ কমিশনারের পদ থেকে সুপ্রতিম সরকারকে সরানো হয়েছে। তাঁর জায়গায় নিয়োগ করা হয়েছে আইপিএস অফিসার অজয় নন্দকে। এমনকি সোমবার দুপুর তিনটের মধ্যেই নতুন পুলিশ কমিশনার এবং ডিজিকে দায়িত্ব নিতে হবে বলে জানিয়েছে কমিশন।

    এদিকে গতকাল রাতে রাজ্যের মুখ্য সচিব পদ থেকে নন্দিনী চক্রবর্তীকে নির্বাচন কমিশন সরিয়ে দিয়েছিল। তাঁর জায়গায় দুষ্মন্ত নারিওয়ালাকে নিয়োগ করা হয়। পাশাপাশি রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিব জগদীশপ্রসাদ মীনাকেও সরানো হয়েছে নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে। তাঁর জায়গায় নতুন স্বরাষ্ট্র সচিব হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে সংঘমিত্রা ঘোষকে। সেই সূত্রে গতকালই আঁচ করা যাচ্ছিল যে, রাজ্যের পুলিশস্তরেও রদবদল করতে পারে নির্বাচন কমিশন। সেই ভাবনাই সত্যি হলো আজ।

    আরও পড়ুন: ৪ মে ভোটের ফল ঘোষণা, কলকাতায় হচ্ছে না ইস্ট-মোহনের ISL ডার্বি? বড় খবর

    উল্লেখ্য, কলকাতা পুলিশের নতুন কমিশনার হিসেবে নিযুক্ত অজয় নন্দ আগে পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। আর মাওবাদী দমনেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। এমনকি আসানসোল ও দুর্গাপুর কমিশনার হিসেবেও তিনি একসময় কাজ করেছেন। আর কলকাতা পুলিশেও একসময় নিযুক্ত ছিলেন। এদিকে গতকাল বিকালে দিল্লি থেকে সাংবাদিক বৈঠকের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার বাংলায় ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা করেন। এবারের ভোট যাতে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়, এবং কোনও রকম জটিলতা না হয় তার জন্যই নির্বাচন কমিশন একের পর এক বড়সড় পদক্ষেপ নিচ্ছে।

  • পুলিশের উপরেও চলবে নজরদারি? ভোটে নিরাপত্তা জোরদার করতে বড় পদক্ষেপ কমিশনের

    পুলিশের উপরেও চলবে নজরদারি? ভোটে নিরাপত্তা জোরদার করতে বড় পদক্ষেপ কমিশনের

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে (West Bengal Election 2026) ঘিরে নিরাপত্তার ঘেরাটোপ আরও জোরদার হতে চলেছে। সূত্রের খবর, এবারের ভোটে জেনারেল অবজারভার (General Observer) এবং পুলিশ অবজারভারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে চলেছে কমিশন (Election Commission Of India)। এমনকি প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য একজন করে পুলিশ অবজারভার নিয়োগের বিষয়েও ভাবনা-চিন্তা চলছে। এই তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই জলঘোলা পরিস্থিতি রাজ্য রাজনীতিতে।

    ভোটে নজিরবিহীন কড়াকড়ি

    রিপোর্ট মোতাবেক, গত সোমবার কলকাতায় রাজ্যের ২৩ টি জেলার জেলাশাসক, পুলিশ সুপার এবং বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সংস্থার আধিকারিকদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার সহ কমিশনের ফুল বেঞ্চ। আলোচনার পর কমিশনের পর্যবেক্ষণ, পশ্চিমবঙ্গে কিছু প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলাজনিত সমস্যা থাকলেও তা ভোট পরিচালনার ক্ষেত্রে বড় বাধা নয়। অর্থাৎ এতদিন পশ্চিমবঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিরোধীদের যে তীব্র অভিযোগ ছিল, তা সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছে কমিশন। তবে এবার আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে নিরাপত্তার ঘেরাটোপ আরও আঁটসাঁট করতে চলেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন।

    প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশ অবজারভার থাকবে

    সূত্রের খবর, ২০২১ এর তুলনায় ২০২৬-এর নির্বাচনে পর্যবেক্ষকদের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কমিশনের তরফে। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে এবং পুলিশ নজরদারির জন্য এ বার প্রত্যেকটি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য এক জন করে ‘জেনারেল অবজার্ভার’ নিয়োগ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এবং আয় ব্যয়ের হিসেব নিকেশ দেখতে ‘এক্সপেন্ডিচার অবজার্ভার’-এর সংখ্যাও এ বার অনেকটাই বাড়ানো হচ্ছে। আর এই আবহে রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা আসনের জন্য ২৯৪ জন রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ করা হল বৃহস্পতিবার।

    বিধানসভা ভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত রিটার্নিং অফিসারদের প্রাপ্ত তালিকা থেকে দেখা যাচ্ছে, অতিরিক্ত জেলাশাসক, মহকুমাশাসক, জেলা পরিষদের সচিব, জেলা পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন আধিকারিক, জেলা সংখ্যালঘু উন্নয়ন আধিকারিক, জেলা তফসিলি জাতি-জনজাতি উন্নয়ন আধিকারিক, জেলা পরিকল্পনা আধিকারিক স্তরের অফিসারেরা এ বার রিটার্নিং অফিসার হিসাবে নিয়োগ পেয়েছেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পরিসংখ্যান বলছে, সে বার রাজ্যে মোট জেনারেল অবজার্ভার ছিলেন ১৬০ জন, ৩৭ জন পুলিশ অবজারভার এবং ৮৪ জন এক্সপেন্ডিচার অবজারভার নিয়োগ করা হয়েছিল। অর্থাৎ একাধিক কেন্দ্রের দায়িত্ব সামলাতে হয়েছিল এক এক জন আধিকারিককে। তবে এবার পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়ে বিশেষ পদক্ষেপ করা হতে চলেছে।

    আরও পড়ুন: DA নিয়ে সংঘাত চরমে! আন্দোলনের মাঝেই কর্মীদের কড়া নোটিস নবান্নর

    সূত্রের খবর, এ বার জেলা বা মহকুমার বদলে বিশেষ বিশেষ অঞ্চল বা বিধানসভা ভিত্তিক পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হতে পারে। এছাড়াও জানা গিয়েছে, স্পর্শকাতর বিধানসভা এলাকাগুলিতে এক জন নয়, একাধিক পুলিশ পর্যবেক্ষকও নিয়োগ করা হতে পারে। অর্থাৎ বঙ্গে ভোট নিয়ে কমিশনের এই ‘মাইক্রো-প্ল্যানিং’ থেকেই বোঝা যাচ্ছে, ভোট নিয়ে কোনও রকম মাপঝোপ থাকবে না। কারণ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জানান, ভোট প্রক্রিয়ায় কোথাও যদি অবহেলা বা ইচ্ছাকৃত ভুল প্রমাণিত হয়, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোরতম শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।