Tag: West Bengal Election 2026

  • ‘বাংলায় জঙ্গলরাজ শেষের কাউন্টডাউন শুরু’ ব্রিগেড থেকে গর্জে উঠলেন মোদী

    ‘বাংলায় জঙ্গলরাজ শেষের কাউন্টডাউন শুরু’ ব্রিগেড থেকে গর্জে উঠলেন মোদী

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026) নিয়ে বেশ উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। জনসংযোগ বৃদ্ধি করতে কোনরকম কুন্ঠাবোধ করছে না রাজনৈতিক দলগুলি। আর এই অবস্থায় ব্রিগেডে শুরু হল মোদীর বহু প্রতীক্ষিত জনসভা। আর সেখানে বক্তৃতা দিতে গিয়েই শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে রীতিমত গর্জে উঠলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। তুলে ধরলেন জঙ্গলরাজের প্রসঙ্গ।

    তৃণমূলের দুর্নীতি প্রসঙ্গ তুললেন মোদি

    দুর্নীতি ইস্যুতে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে নিশানা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি অভিযোগ করেন, “পাকা বাড়ি সর্বত্র পাচ্ছেন মানুষ। কিন্তু এখানে প্রকল্পের নাম বদলে দেওয়া হয়েছে। তার পরেও যাঁদের বাড়ি পাওয়ার কথা ছিল, তাঁরা বঞ্চিত হয়েছেন। জলজীবন মিশন থেকে আয়ুষ্মান ভারত, বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্প থেকে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ তৃণমূলের জন্য বঞ্চিত। এমনকি চা-বাগানের শ্রমিকদেরও কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা দিতে দেয় না তৃণমূল।” মোদী বলেন, “তৃণমূল না নিজে কাজ করে, না অন্যদের কাজ করতে দেয়। কাটমানি না পেলে কোনও প্রকল্পকে গ্রামেগঞ্জে পৌঁছোতে দেয় না তাই কেন্দ্রীয় প্রকল্পকে পৌঁছোতে দেয় না।”

    বিগ্রেডে গর্জন মোদীর

    ব্রিগেডের তৃণমূলের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠে গোটা বিজেপি নেতৃত্ব। আর সেই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই মোদী বলেন, “বাংলা থেকে নির্মম সরকারের বিদায় হবে। বাংলা থেকে মহাজঙ্গলরাজ শেষ হবে। বাংলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আওয়াজ উঠছে, ‘চাই বিজেপি সরকার, চাই বিজেপি সরকার।” প্রধানমন্ত্রীর দাবি, আজও ব্রিগেড সভা আটকানোর চেষ্টা করা হয়েছে বারাবার। তিনি বলেন, “আজ এই সভা আটকানোর জন্য নির্মম সরকার সব হাতিয়ার ব্যবহার করতে চেয়েছে। ব্রিজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, গাড়ির উপর হামলা করা হয়েছে, ট্রাফিক জ্যাম করেছে, পোস্টার ছিড়ে দিয়েছে। কিন্তু এত কিছু করেও নির্মম সরকার জনপ্লাবনকে আটকাতে পারেনি। মহাজঙ্গলরাজ শেষের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে।”

    আরও পড়ুন: রেল থেকে জাতীয় সড়ক, বাংলাকে ১৮ হাজার ৬০০ কোটির উপহার মোদীর, দেখুন তালিকা

    প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী আজ, প্রশাসনিক সভা থেকে বাংলায় ৬টি অমৃত ভারত স্টেশনের উদ্বোধন করেছেন। সেই স্টেশনগুলি হল, আনারা, তমলুক, হলদিয়া, বরাভূম, সিউড়ি এবং কামাখ্যাগুড়ি। পাশাপাশি পুরুলিয়া-আনন্দ বিহার টার্মিনাল (দিল্লি) এক্সপ্রেসের সূচনা করেন তিনি। এখানেই শেষ নয়, বেলদা ও দাঁতনের মধ্যে ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ তৃতীয় রেল লাইন এবং কলাইকুন্ডা ও কানিমোহুলির মধ্যে স্বয়ংক্রিয় ব্লক সিগন্যালিং ব্যবস্থার উদ্বোধনও করেন নরেন্দ্র মোদি।

  • রেল থেকে জাতীয় সড়ক, বাংলাকে ১৮ হাজার ৬০০ কোটির উপহার মোদীর, দেখুন তালিকা

    রেল থেকে জাতীয় সড়ক, বাংলাকে ১৮ হাজার ৬০০ কোটির উপহার মোদীর, দেখুন তালিকা

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বহু অপেক্ষার অবশেষে অবসান, অসমের শিলচরে সভা শেষ করে শহরে এলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। ৬ মাস আগে থেকেই রাজ্যে জনসভা শুরু করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গে তাঁর একাধিক জনসভা ছিল এরই মধ্যে। আর এবার আসলেন ব্রিগেডে (Modi Brigade Rally)। আর সেখানকার প্রশাসনিক মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ১৮ হাজার ৬০০ কোটি টাকার প্রকল্পের শিলান্যাস ও উদ্বোধন করলেন।

    উপহারের ঝুলি মোদীর

    রিপোর্ট মোতাবেক নরেন্দ্র মোদীর উপহারের তালিকায় থাকছে প্রায় আড়াই হাজার কোটি ব্যয়ে ৬৮ কিমি দীর্ঘ ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কে পানাগড় থেকে পালসিট পর্যন্ত ৬ লেনের জাতীয় সড়ক, থাকছে ১১৪ নম্বর জাতীয় সড়কে ভেদিয়াতে ৪ লেনের আরওবি এবং সংযোগকারী রাস্তা, যার খরচ ১৯৫ কোটি। এছাড়াও ৩২৩৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের বারওয়া আড্ডা থেকে পানাগড় পর্যন্ত ৬ লেন রাস্তা থাকছে, যার দৈর্ঘ্য ১১৫ কিমি। হলদিয়া ডক কমপ্লেক্স বার্থ নম্বর ২-এর আধুনিকিকরণ করা হবে, যার জন্য খরচ ধার্য করা হয়েছে ২৯৮ কোটি টাকা। পাশাপাশি ইছামতী নদীর উপরে নির্মাণ করা হবে স্বরূপনগর ব্রিজ। যার জন্য খরচ করা হবে ১৬ কোটি টাকা।

    ৬টি স্টেশনের সৌন্দর্যায়নে বরাদ্দ হল অর্থ

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রেলযাত্রীদের জন্য অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্পের অধীনে পশ্চিমবঙ্গের ৬টি স্টেশনের সৌন্দর্যায়নের উদ্বোধন করবেন। সেই স্টেশনগুলি হল, আনারা, তমলুক, হলদিয়া, বরাভূম, সিউড়ি এবং কামাখ্যাগুড়ি। পাশাপাশি পুরুলিয়া-আনন্দ বিহার টার্মিনাল (দিল্লি) এক্সপ্রেসের সূচনা করবেন তিনি। এখানেই শেষ নয়, বেলদা ও দাঁতনের মধ্যে ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ তৃতীয় রেল লাইন এবং কলাইকুন্ডা ও কানিমোহুলির মধ্যে স্বয়ংক্রিয় ব্লক সিগন্যালিং ব্যবস্থার উদ্বোধন করবেন নরেন্দ্র মোদি। তাই স্বাভাবিকভাবেই উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে।

    আরও পড়ুন: ১৩০ কিমি বেগে ছুটবে ট্রেন, দেশ জুড়ে হাইস্পিড ট্র্যাকের উন্নতিতে বড় সাফল্য রেলের

    বাংলার জন্য একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী জানান,” আজ কলকাতার মাটি থেকে পশ্চিমবঙ্গ ও পূর্ব ভারতের বিকাশের নয়া অধ্যায় শুরু হচ্ছে। সড়ক, রেলওয়ে ও বন্দর পরিকাঠামোর সঙ্গে যুক্ত ১৮ হাজার কোটির বেশি প্রকল্পের শিল্যান্যাস ও উদ্বোধন হল। বাংলার উন্নয়নে নয়া দিশা দেখাবে এই প্রকল্পগুলি। খড়গপুর-মৌরিগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে সম্পূর্ণ হলে রাজ্যের অনেকাংশে আর্থিক উন্নতি হবে। শিলাবতী নদীর উপর যে সেতু তৈরি হবে, তাতে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হবে। সব নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ-সহ পূর্ব ভারতের জনগণকে শুভেচ্ছা।”

  • বোরখা পরা মহিলাদের জন্য বাংলায় ‘বিহার মডেল’! মুখ দেখিয়েই দিতে হবে ভোট

    বোরখা পরা মহিলাদের জন্য বাংলায় ‘বিহার মডেল’! মুখ দেখিয়েই দিতে হবে ভোট

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) সময় যে ক্রমেই ঘনিয়ে আসছে সেটা বেশ বোঝা যাচ্ছে। কিন্তু বিধানসভা ভোট কবে? কত দফায় হবে নির্বাচন? কবে ভোট ঘোষণা? ভোটমুখী পশ্চিমবঙ্গে এখনও সেই প্রশ্নের জবাব পাওয়া যায়নি। ঠিক এই আবহেই রাজ্যে ভোটের ইস্যুতে মুসলিম মহিলাদের ভোটদানের ক্ষেত্রে আরও কড়া পদক্ষেপ করতে চলেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন (Election Commission Of India)। অনুসরণ করা হবে বিহারের রীতি।

    বোরখা পরা মহিলাদের জন্য বিশেষ নির্দেশ

    সূত্রের খবর, রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে এবার বিহার মডেলের বেশ কিছু নিয়ম চালু করতে উদ্যোগী হয়েছে নির্বাচন কমিশন। তার মধ্যে অন্যতম হল আলাদা কাউন্টার নীতি। বিহারে প্রতিটি বুথে একটি আলাদা কাউন্টার রাখা হয়। কোনও মহিলা যদি মুখ ঢেকে ভোট দিতে আসেন বা বোরখা পরে আসেন তাহলে তাঁকে ‘কাউন্টার’-এ গিয়ে নিজের মুখ পরিচয়পত্র ও মুখের পর্দা খুলে দেখালে তবেই ভোট দেওয়ার ছাড়পত্র মিলবে। যদিও এই সিদ্ধান্ত সংখ্যালঘুদের কাছে আদৌ গ্রহণযোগ্য হবে কি না তা-ও চিন্তাভাবনার মধ্যে রাখছে কমিশন। অন্যদিকে আবার বিচারাধীন থাকা কোনও ব্যক্তি সমাধান না হওয়া পর্যন্ত মনোনয়ন দাখিল করতে পারবেন না বলে সাফ জানাল কমিশন।

    মনোনয়ন দাখিল নিয়ে সমস্যা

    ইতিমধ্যেই বিচারাধীন তালিকার বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত বিচারবিভাগের আধিকারিকরা। চূড়ান্ত তালিকার আংশিক প্রকাশের পরে ধাপে ধাপে আরও তালিকা প্রকাশের কথা। জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাত পর্যন্ত প্রায় ১৫ লক্ষের সমাধান হয়েছে বলে সূত্রের খবর। সেই তালিকা আগামী সপ্তাহের শেষে প্রকাশ হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা। যদিও সেই নিয়ে আতঙ্কিত ভোটে দাঁড়াতে ইচ্ছুক বিচারাধীন প্রার্থীরা। কারণ সেই তালিকা প্রকাশ হলে তাঁরা মনোনয়ন দাখিল করতে পারবেন কি না তা চূড়ান্ত হবে। সবটাই গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন বিচারকরা। যদি বিচারকদের বিচারে কেউ বাতিল হয় তাহলে তাঁকে ট্রাইবুনালে আবেদন করতে হবে। কিন্তু কবে সেটি গঠন হবে তা অনিশ্চিত।

    আরও পড়ুন: দেশে ৩০% বাড়ল LPG-র উৎপাদন, কমবে গ্যাসের ক্রাইসিস

    আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বয়স্ক ভোটারদের পাশাপাশি বিশেষভাবে সক্ষমদের ক্ষেত্রে বাড়ি গিয়ে ভোট গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে বলে খবর কমিশনের তরফে। পাশাপাশি তাঁদের জন্য ভোটকেন্দ্রগুলি বিল্ডিংয়ের নীচের তলায় রাখা হবে। এছাড়াও তাঁদের সুবিধার্থে বিশেষ হুইল চেয়ার থাকবে। এবং সেগুলো চালানোর জন্য ভলান্টিয়ার থাকবে। এবং ভোটকেন্দ্রের প্রত্যেক বুথে পানীয় জলের রাখার পাশাপাশি ভোটার সহায়তা কেন্দ্র থাকবে।

  • ভোট ঘোষণার আগেই ১৫০ আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত বিজেপির? তালিকায় কাদের নাম?

    ভোট ঘোষণার আগেই ১৫০ আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত বিজেপির? তালিকায় কাদের নাম?

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) সময় যত এগিয়ে আসছে ততই রাজ্য রাজনীতিতে এক উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। তাই এই পরিস্থিতিতে জনসংযোগ বৃদ্ধি করতে উঠেপড়ে লেগেছে শাসক দল থেকে শুরু করে বিরোধীরা। এদিকে অনুমান করা হচ্ছে আগামী ১৬ মার্চ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দিন ঘোষণা হতে পারে। এমতাবস্থায় শোনা যাচ্ছে বঙ্গের ১৫০ আসনে নাকি ঠিক হয়ে গিয়েছে বিজেপির প্রার্থী।

    ১৫০ আসনে প্রার্থী প্রস্তুত বিজেপির

    রিপোর্ট মোতাবেক, দু’দিন ধরে দিল্লিতে বৈঠকে গিয়েছিলেন বঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ও দলের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। আর সেখানেই বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা তৈরি করা হয়েছিল বলে খবর। দলের অন্দরেও শোনা যাচ্ছে, ১৫০ এর মতো আসনে প্রার্থীদের ঠিক করে ফেলেছে বিজেপি। তবে সবার নাম প্রকাশ্যে আনবে ভোটের দিন ঘোষণার পরেই। অনুমান করা হচ্ছে, ১৬ মার্চ ভোট ঘোষণা হলে প্রথম দফার নির্বাচনের আগে অন্তত ২৮ থেকে ৩০ দিন সময় দিতে হবে। অর্থাৎ এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি বা তৃতীয় সপ্তাহে হবে প্রথম দফার নির্বাচন।

    তালিকায় থাকবে নতুন মুখ

    সূত্রের খবর বঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী তালিকায় নাম থাকতে পারে বর্তমান বিধায়কদের মধ্যে ৮৭ থেকে ৮৮ শতাংশের। বাকি ১০ থেকে ১২ শতাংশ শারীরিক অসুস্থতা আর বয়সজনিত কারণে প্রার্থী না হতে চেয়ে দলকে জানিয়েছে বলে খবর। এছাড়াও তালিকায় থাকতে পারে একাধিক নতুন মুখও। যদিও বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বরা কেউই কোনো মন্তব্য করেনি এই ব্যাপারে। এদিকে নির্বাচন ক’দফায় হবে তা এখনও স্পষ্ট না হলেও মোটামুটি এক থেকে তিন দফায় ভোট হতে পারে বলেই ইঙ্গিত মিলছে। অতীতে রাজ্যে নির্বাচনী হিংসা রুখতে ৮ দফায় ভোটগ্রহণের নজির গড়ে উঠেছিল। তবে এবার শোনা যাচ্ছে এত বেশি দফায় ভোটের আর কোনও প্রয়োজনীয়তা নেই।

    আরও পড়ুন: পুলিশের উপরেও চলবে নজরদারি? ভোটে নিরাপত্তা জোরদার করতে বড় পদক্ষেপ কমিশনের

    প্রসঙ্গত, তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা নিয়ে এখনও কিছু মতামত পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে বাংলার সঙ্গেই ভোটের দিন ঘোষণা হবে তামিলনাড়ু, কেরল, অসম, পুদুচেরিতে। রাজ্যে ক’দফায় ভোট হবে, এই নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে রয়েছে। ১ থেকে ৩ দফায় ভোট হতে পারে বলে একটা সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আগামী এপ্রিলেই ভোটের ফল ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে।

  • বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন তৃণমূলের হেভিওয়েট বিধায়ক, ছড়াল জল্পনা

    বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন তৃণমূলের হেভিওয়েট বিধায়ক, ছড়াল জল্পনা

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: দোরগোড়ায় এসে গিয়েছে ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026), হাতে সময় বেশ কম, তাই এখন থেকেই ভোট প্রচারে মনোযোগ দিয়েছে শাসকদল থেকে শুরু করে বিরোধীরা। কমিশন সূত্রে খবর, সোমবার ১৬ মার্চ ঘোষণা হতে পারে ভোটের দিনক্ষণ, তাইতো সকলের মধ্যে এক চাপা উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এমতাবস্থায় বিধানসভা নির্বাচনের আগেই বেসুরো হয়ে উঠলেন তমলুকের তৃণমূল বিধায়ক সৌমেন মহাপাত্র (Soumen Mahapatra)। উঠছে দল বদলের সম্ভাবনা।

    সৌমেন মহাপাত্রের নিরাপত্তায় কাটছাঁট!

    উল্লেখ্য, সৌমেন মহাপাত্র বর্তমানে তমলুকের বিধায়ক। তবে এই পদ ছাড়াও বিধানসভার ‘লোকাল ফান্ড স্ট্যান্ডিং কমিটির’ চেয়ারম্যান তিনি। যদিও মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়লেও এখনও তিনি ‘পাইলট কার’-সহ নিরাপত্তা পান। কিন্ত ভোট যখন বাংলার দোরগোড়ায়, সেই সময় ঘটল বড় চমক। হঠাৎ করেই তমলুকের বিধায়কের বাড়ির এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তা রক্ষী কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। জানা গিয়েছে এইমুহুর্তে নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন তিনজন পুলিশকর্মী। আর এই ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন তৃণমূল বিধায়ক তথা প্রাক্তন মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র।

    ক্ষুব্ধতা প্রকাশ করলেন বিধায়ক

    জানা গিয়েছে, তমলুকের বিধায়ক সৌমেন মহাপাত্র সাংবাদিক বৈঠক করে শাসক দলের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ভোট সামনে থাকলেও দল তাঁকে কাজে লাগাচ্ছে না। এমনকি চারবারের বিধায়ক ও তিনবারের মন্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও কেন তাঁকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না? এদিন সাংবাদিকরা বিজেপির প্রসঙ্গ তুলতেই সৌমেন মহাপাত্র স্বীকার করে নেন যে, পূর্ব মেদিনীপুরে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই কঠিন। কিন্তু একটিবারও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সম্পর্কে কোনো ভালো-খারাপ মন্তব্য করলেন না। আর তাতেই সন্দেহ বাড়ছে তবে কি নির্বাচনের আগেই পদ্ম শিবিরের যোগ দেবেন এই বিধায়ক?

    আরও পড়ুন: ৫টি পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের জন্য নয়া উন্নয়ন পর্ষদ গঠনের ঘোষণা নবান্নের

    প্রসঙ্গত, তৃণমূলের জন্মলগ্ন থেকেই দলের সঙ্গে রয়েছেন সৌমেন মহাপাত্র। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভার তিনবারের মন্ত্রীও ছিলেন। এমনকী গত বিধানসভা নির্বাচনে তমলুক সাংগঠনিক জেলার সভাপতির পদও সামলেছেন সৌমেন মহাপাত্র। কিন্তু আচমকাই গত ২০২২ সালে সৌমেন মহাপাত্রকে মন্ত্রিত্বকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এমনকী ক্ষুদ্র শিল্প নিগমের চেয়ারম্যান পদ এবং সমস্ত দলীয় পদও খোয়াতে হয় তাঁকে। এদিকে নিরাপত্তা প্রত্যাহার প্রসঙ্গে সৌমেন মহাপাত্রের স্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী সুমনা মহাপাত্রও একই সুরে অভিযোগ তোলেন। যদি ওই বিষয় নিয়ে এখনো তৃণমূলের তরফে কোন প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। এখন দেখার নির্বাচনের আগে তৃণমূলের সঙ্গে সৌমেন মহাপাত্রের সম্পর্কের সমীকরণটি বদলায় নাকি।

  • পুলিশের উপরেও চলবে নজরদারি? ভোটে নিরাপত্তা জোরদার করতে বড় পদক্ষেপ কমিশনের

    পুলিশের উপরেও চলবে নজরদারি? ভোটে নিরাপত্তা জোরদার করতে বড় পদক্ষেপ কমিশনের

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে (West Bengal Election 2026) ঘিরে নিরাপত্তার ঘেরাটোপ আরও জোরদার হতে চলেছে। সূত্রের খবর, এবারের ভোটে জেনারেল অবজারভার (General Observer) এবং পুলিশ অবজারভারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে চলেছে কমিশন (Election Commission Of India)। এমনকি প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য একজন করে পুলিশ অবজারভার নিয়োগের বিষয়েও ভাবনা-চিন্তা চলছে। এই তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই জলঘোলা পরিস্থিতি রাজ্য রাজনীতিতে।

    ভোটে নজিরবিহীন কড়াকড়ি

    রিপোর্ট মোতাবেক, গত সোমবার কলকাতায় রাজ্যের ২৩ টি জেলার জেলাশাসক, পুলিশ সুপার এবং বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সংস্থার আধিকারিকদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার সহ কমিশনের ফুল বেঞ্চ। আলোচনার পর কমিশনের পর্যবেক্ষণ, পশ্চিমবঙ্গে কিছু প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলাজনিত সমস্যা থাকলেও তা ভোট পরিচালনার ক্ষেত্রে বড় বাধা নয়। অর্থাৎ এতদিন পশ্চিমবঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিরোধীদের যে তীব্র অভিযোগ ছিল, তা সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছে কমিশন। তবে এবার আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে নিরাপত্তার ঘেরাটোপ আরও আঁটসাঁট করতে চলেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন।

    প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশ অবজারভার থাকবে

    সূত্রের খবর, ২০২১ এর তুলনায় ২০২৬-এর নির্বাচনে পর্যবেক্ষকদের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কমিশনের তরফে। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে এবং পুলিশ নজরদারির জন্য এ বার প্রত্যেকটি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য এক জন করে ‘জেনারেল অবজার্ভার’ নিয়োগ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এবং আয় ব্যয়ের হিসেব নিকেশ দেখতে ‘এক্সপেন্ডিচার অবজার্ভার’-এর সংখ্যাও এ বার অনেকটাই বাড়ানো হচ্ছে। আর এই আবহে রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা আসনের জন্য ২৯৪ জন রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ করা হল বৃহস্পতিবার।

    বিধানসভা ভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত রিটার্নিং অফিসারদের প্রাপ্ত তালিকা থেকে দেখা যাচ্ছে, অতিরিক্ত জেলাশাসক, মহকুমাশাসক, জেলা পরিষদের সচিব, জেলা পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন আধিকারিক, জেলা সংখ্যালঘু উন্নয়ন আধিকারিক, জেলা তফসিলি জাতি-জনজাতি উন্নয়ন আধিকারিক, জেলা পরিকল্পনা আধিকারিক স্তরের অফিসারেরা এ বার রিটার্নিং অফিসার হিসাবে নিয়োগ পেয়েছেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পরিসংখ্যান বলছে, সে বার রাজ্যে মোট জেনারেল অবজার্ভার ছিলেন ১৬০ জন, ৩৭ জন পুলিশ অবজারভার এবং ৮৪ জন এক্সপেন্ডিচার অবজারভার নিয়োগ করা হয়েছিল। অর্থাৎ একাধিক কেন্দ্রের দায়িত্ব সামলাতে হয়েছিল এক এক জন আধিকারিককে। তবে এবার পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়ে বিশেষ পদক্ষেপ করা হতে চলেছে।

    আরও পড়ুন: DA নিয়ে সংঘাত চরমে! আন্দোলনের মাঝেই কর্মীদের কড়া নোটিস নবান্নর

    সূত্রের খবর, এ বার জেলা বা মহকুমার বদলে বিশেষ বিশেষ অঞ্চল বা বিধানসভা ভিত্তিক পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হতে পারে। এছাড়াও জানা গিয়েছে, স্পর্শকাতর বিধানসভা এলাকাগুলিতে এক জন নয়, একাধিক পুলিশ পর্যবেক্ষকও নিয়োগ করা হতে পারে। অর্থাৎ বঙ্গে ভোট নিয়ে কমিশনের এই ‘মাইক্রো-প্ল্যানিং’ থেকেই বোঝা যাচ্ছে, ভোট নিয়ে কোনও রকম মাপঝোপ থাকবে না। কারণ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জানান, ভোট প্রক্রিয়ায় কোথাও যদি অবহেলা বা ইচ্ছাকৃত ভুল প্রমাণিত হয়, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোরতম শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিয়ে নতুন নিয়ম, বড় আপডেট দিলেন জ্ঞানেশ কুমার

    ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিয়ে নতুন নিয়ম, বড় আপডেট দিলেন জ্ঞানেশ কুমার

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ভোটের দামামা বেজে গিয়েছে রাজ্য জুড়ে, আর কিছুদিন পরেই শুরু হতে চলেছে ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026), তাই জোর কদমে চলছে প্রস্তুতি। যদিও এখনও কমিশনের তরফে ঘোষণা করা হয়নি যে কবে হবে বিধানসভা নির্বাচন। ইতিমধ্যেই রাজ্যে এসেছে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। চলছে একাধিক বৈঠক। এমতাবস্থায় ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে মোবাইল নিয়ে যাওয়া নিয়ে বড় আপডেট দিল মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার (CEC Gyanesh Kumar)।

    মোবাইল নিয়ে বড় আপডেট কমিশনের

    বরাবরই ভোট কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে মোবাইল ফোন নিয়ে ঢোকা নিষেধ বলেই গণ্য হয়ে আসছে। কিন্তু অনেকেই অভ্যাসের বশে পকেটে ফোন নিয়ে ভোট দিতে যান। আর সেখানে গিয়ে সমস্যায় পড়েন। তাই এবার সেই নিয়ে বড় আপডেট দিল কমিশন। জানা গিয়েছে, প্রতিটি বুথের বাইরে মোবাইল রাখার জায়গা থাকবে। ভোট দেওয়ার পর বাইরে বেরিয়ে মোবাইল নিতে পারবেন সকলে। এছাড়াও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে কমিশন। জানানো হয়েছে, কোনও বুথে ১২০০-র বেশি ভোটার থাকবে না। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার ইনফরমেশন স্লিপ দেবেন আধিকারিকরা।

    শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে একাধিক পদক্ষেপ কমিশনের

    মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জানিয়েছেন, রাজ্যের প্রবীণ ভোটারদের জন্য ভোটকেন্দ্রগুলি বিল্ডিংয়ের নীচের তলায় রাখা হবে। এছাড়াও তাঁদের সুবিধার্থে বিশেষ হুইল চেয়ার থাকবে। এবং সেগুলো চালানোর জন্য ভলান্টিয়ার থাকবে। এছাড়াও ভোটকেন্দ্রের প্রত্যেক বুথে পানীয় জলের রাখার পাশাপাশি ভোটার সহায়তা কেন্দ্র থাকবে। এছাড়াও মুখ্য নির্বাচন কমিশনার আরও জানিয়েছেন, “পশ্চিমবঙ্গে ৮০ হাজারেরও বেশি পোলিং স্টেশন রয়েছে। সমস্ত বুথে ১০০ শতাংশ ওয়েব কাস্টিং হবে। ভোট শতাংশ ECINET দেওয়া হবে। যাতে জানা যাবে, কত ভোট শতাংশ পড়ল।সব ভোটারদের আবেদন করব, ECINET ডাউনলোড করুন। কত শতাংশ ভোট পড়ল, রেজাল্টও এখানে দেখতে পাওয়া যাবে।”

    আরও পড়ুন: পুরুলিয়া থেকে দিল্লির ট্রেনের ঘোষণা দক্ষিণ পূর্ব রেলের, দেখুন সময়সূচি

    বৈঠকের মাধ্যমে জানা গিয়েছে, পোস্টাল কাউন্টিং EVM -এর দুই রাউন্ডের আগেই নাকি শেষ করা যাবে। এছাড়াও ইলেকশন সম্পর্কিত সমস্ত তথ্য গণনার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ECINET অ্যাপ দ্বারা বা কমিশনের ওয়েবসাইটে জানানো হবে। সেক্ষেত্রে যদি কোনও সমস্যা দেখা দেয় তাহলে EVM-এর পুরো VVPAT গণনা করা হবে কাউন্টিং এজেন্টের সামনে। এর ফলে গণনার ৭ দিনের মধ্যে যে কোনও পরাজিত প্রার্থী EVM খতিয়ে দেখতে পারবেন।

  • SIR ইস্যুতে ক্ষোভ! উঠল ‘গো ব্যাক’ স্লোগান, কালীঘাটে পুজো দিতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে জ্ঞানেশ কুমার

    SIR ইস্যুতে ক্ষোভ! উঠল ‘গো ব্যাক’ স্লোগান, কালীঘাটে পুজো দিতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে জ্ঞানেশ কুমার

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) আবহে রাজ্য জুড়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি, মুখ্যমন্ত্রীর সিংহাসন দখলের করার জন্য রীতিমত উঠে পড়ে লেগেছে রাজনৈতিক দলগুলি। আর এই অবস্থায় রাজ্যে তিন দিনের সফরে এসেছেন জাতীয় নির্বাচন কমিশনারের ফুল বেঞ্চ। সোমবার সকালে বৈঠক শুরুর আগে কালীঘাট মন্দিরে পুজো দিতে গিয়েছিলেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার (CEC Gyanesh Kumar)। কিন্তু তাঁর গাড়ি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) পাড়ায় ঢুকতেই শুরু হয় বিক্ষোভ, ওঠে গো ব্যাক স্লোগান। ক্ষুব্ধ পরিস্থিতি মন্দির এলাকা জুড়ে।

    পুজো দিতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে জ্ঞানেশ

    পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিধানসভা নির্বাচন সংক্রান্ত বৈঠকের জন্য গতকাল অর্থাৎ রবিবার রাতে কলকাতায় এসেছে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। আজ থেকেই দফায় দফায় রাজ্য প্রশাসন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তাদের বৈঠক করার কথা। কিন্তু এসবের আগে সকালে কালীঘাট মন্দিরে পুজো দিতে গিয়েছিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। তাঁর সঙ্গে ছিলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়ালও। কিন্তু এই পুজো দেওয়া নিয়ে মন্দিরের সামনে শুরু হল তুমুল বিক্ষোভ। কালো পতাকা হাতে নিয়ে নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে উঠল গো ব্যাক স্লোগান।

    আরতি এবং অঞ্জলি দিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার

    সোমবার সকাল থেকেই কালীঘাট মন্দিরের (Kalighat Mandir) বাইরে হাতে কালো পতাকা নিয়ে জমায়েত করেছিলেন একদল বিক্ষোভকারী। অভিযোগ, এসআইআর-এর মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে অযথা অনেকের নাম বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে।তবে সেই বিক্ষোভ এবং গো ব্যাকের স্লোগানকে খুব একটা পাত্তা দিলেন না জ্ঞানেশ কুমার। শান্তভাবে বিক্ষোভকারীদের কাটিয়ে মন্দিরে প্রবেশ করেন তিনি। কোনও মন্তব্য করেননি। পুজো দেন মায়ের, আরতি এবং অঞ্জলিও দিয়েছিলেন। এরপর মন্দির থেকে বেরোনোর সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন জ্ঞানেশ কুমার। তিনি বলেন ‘‘পশ্চিমবঙ্গের সকল ভাইবোনকে আমার নমস্কার। কালী মা সকলকে ভাল রাখুন।’’ কিন্তু বিক্ষোভ নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি কমিশনার।

    আরও পড়ুন: ১৮ বছর বয়স হলেই মহিলাদের প্রতি মাসে ১৫০০ টাকা, নতুন স্কিম ঘোষণা রাজ্য সরকারের

    প্রসঙ্গত, শুধু কালীঘাট মন্দিরেই যে শুধু মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার স্লোগান এবং বিক্ষোভের মুখোমুখি হয়েছেন তা কিন্তু নয়, গতকাল রাতে কলকাতা বিমানবন্দর থেকে নিউটাউনের হোটেল পর্যন্ত তাঁর যাত্রাপথে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান ওঠে। দেখানো হয় কালো পতাকাও। যদিও সেই নিয়েও কোনো মন্তব্য করতে চাননি। এদিন ফুল বেঞ্চের সঙ্গে রয়েছেন আরও দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিংহ সান্ধু এবং বিবেক জোশীও। আগামীকাল অর্থাৎ মঙ্গলবার, বেলুর মঠে যাওয়ার কথা তাঁর।

  • ভোটাধিকার রক্ষায় ধরনায় মমতা, ধর্মতলায় কতদিন চলবে এই কর্মসূচি?

    ভোটাধিকার রক্ষায় ধরনায় মমতা, ধর্মতলায় কতদিন চলবে এই কর্মসূচি?

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) প্রাক্কালে ক্রমেই বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ। জেলায় জেলায় প্রচার এবং জনসংযোগ বৃদ্ধি করতে দিন রাত কাজ করে চলেছে নেতা মন্ত্রীরা। এমতাবস্থায় আজ অর্থাৎ শুক্রবার থেকে কলকাতার ধর্মতলায় ধরনায় বসলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। মেট্রো চ্যানেলে ইতিমধ্যেই মঞ্চ তৈরি হয়ে গিয়েছে। দল বেঁধে এক এক করে বিভিন্ন জেলা থেকে তৃণমূলের বিধায়ক এবং নেতারাও জড়ো হতে শুরু করেছেন। বিজেপি যেখানে জেলায় জেলায় ‘পরিবর্তন যাত্রা’ শুরু করেছে সেখানে মুখ্যমন্ত্রীর ধর্মতলায় এই ধরনা বসা নিয়ে তৈরি হয়েছে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি।

    ধরনায় বসলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    এসআইআর নিয়ে শুরু থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সওয়াল করে চলেছেন, এমনকি এই নিয়ে মামলাও দায়ের করেছেন সুপ্রিম কোর্টে, কিন্তু তার পরেও রাজ্যে প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম বিবেচনাধীন বলে প্রকাশ করেছে কমিশন। যা নিয়ে রীতিমত তীব্র সংঘাত তৈরি হয়েছে, তাই এরই প্রতিবাদে আজ থেকে ধর্মতলায় মেট্রো চ্যানেলে ধরনায় বসলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উপস্থিত থাকার কথা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়েরও। এছাড়াও ধরনা মঞ্চে থাকবেন SIR প্রক্রিয়ায় নাম বাদ যাওয়া ভোটার, এবং ‘মৃত’ বলে চিহ্নিত হওয়া ভোটারেরা। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে কতদিন থাকবে এই ধরনা সভা।

    কতদিন থাকবে এই ধরনা সভা?

    তৃণমূলের তরফে ইতিমধ্যেই জানানো হয়েছে যে, এই ধরনা শুধু একদিনের জন্য নাও হতে পারে। সম্ভাবনা রয়েছে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে এই ধরনের কর্মসূচি চালানোর। আর সেই কারণে মন্ত্রী, মুখপাত্র এবং দলের বক্তাদের কয়েকদিনের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। কারণ, ধরনা মানে তো শুধু বসে থাকা নয়। লাগাতার সেই মঞ্চ থেকেই ধারাবাহিকভাবে নেতারা বক্তব্য রাখবেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও যেকোনো সময় তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করবেন। যদিও এর আগেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কখনোই একদিনের জন্য ধরনা দেননি, তাই এবারেও যে এটি হবে না তা সকলের বিশ্বাস। এদিকে এই নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়ছে না বিজেপি।

    আরও পড়ুন: মনোনয়ন ঘিরে একাধিক বিভ্রান্তি! স্ক্রুটিনির পর অবশেষে গৃহীত রাহুল সিনহার ফর্ম

    বঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জানান, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ধরনায় বসলেও কোনও ফারাক পড়বে না। এই সরকারের বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে। তৃণমূল আর ফিরবে না। প্রসঙ্গত, রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা চলছে। সেক্ষেত্রে এই নিয়ে আসন্ন ভোট শুরুর আগে তৃণমূলের এই ধরনা উদ্যোগ এক বিশেষ পরিকল্পনা বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। তাঁদের দাবি এগুলি আসলে রাজ্যের নানা বিতর্ক এবং সরকারবিরোধী অভিযোগ থেকে নজর ঘোরানোর এক স্ট্র্যাটেজি।

  • রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের হাত ধরে তৃণমূলে যোগ সৌরভের

    রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের হাত ধরে তৃণমূলে যোগ সৌরভের

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) প্রাক্কালে বড় চমক নিয়ে আসল তৃণমূল (Trinamool Congress)। এবার শাসকদলের ঝাণ্ডা ধরলেন আইনজীবী সৌরভ চন্দ্র (Lawyer Sourav Chunder)। আজ অর্থাৎ বৃহস্পতিবার, অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের হাত ধরে সৌরভ জোড়া ফুলে যোগ দিলেন। একদিকে যখন বিজেপির শিবিরে তুখোড় সাংবাদিক সন্তু পান অমিত শাহের হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দিলেন, সেই সময় সৌরভের তৃণমূলে যোগদান নিয়ে জোর চর্চা চলছে রাজনৈতিক শিবিরে।

    তৃণমূলে যোগ দিলেন সৌরভ

    রিপোর্ট মোতাবেক, আজ অর্থাৎ বৃহস্পতিবার, তৃণমূল ভবনে এক সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবং কলকাতা হাইকোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী সৌরভ চন্দ্র। সেখানে একদিকে যেমন তৃণমূল কংগ্রেসের উন্নয়ন নিতে একাধিক আলোচনা করা হয়েছে ঠিক তেমনই আবার বিজেপির বিরুদ্ধে একাধিক সমালোচনা করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, আইনজীবী সৌরভ চন্দ্র খুবই সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান। তাঁর বাবা একজন নামকরা কাপড়ের ব্যবসায়ী ছিলেন এবং মা ছিলেন রাজা রাজেন্দ্র মল্লিকের পরিবারের সদস্য। আর এই পরিবারের সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে পারে বেশ আপ্লুত তৃণমূল কংগ্রেস।

    মেনকা গুরুস্বামীর নাম রাজ্যসভার প্রার্থী তালিকায়

    কিছুদিন আগেই রাজ্যসভায় প্রার্থী তালিকায় তৃণমূল সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামীর নাম ঘোষণা করেছিলেন, তারপরেই রীতিমত শোরগোল পড়ে গিয়েছিল, একের পর এক আইনজীবীর এই যোগদান নিয়ে শাসকদল ক্রমেই বৃহত্তর শক্তি প্রদর্শন করে চলেছে, যা বিরোধী দলকে খানিক চিন্তায় ফেলে দিয়েছে। যদিও কিছুদিন আগেই অমিত শাহের হাত ধরে পরিবর্তন যাত্রায় মথুরাপুরে বিশিষ্ট সাংবাদিক সন্তু পানে যোগদান করেন বিজেপিতে। আর এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই রীতিমত বিজেপি অন্দরে তুমুল উচ্ছ্বাস দেখা গিয়েছে। তাঁর দাবি রাজ্যের পরিবর্তনে গেরুয়া শিবিরের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন তিনি।

    আরও পড়ুন: ‘তিন মাসের সামগ্রী …’ যুদ্ধের আবহে রেশন নিয়ে রাজ্যগুলোকে বড় নির্দেশ কেন্দ্রের

    প্রসঙ্গত, সামনেই বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন। তাই তার আগে থেকেই নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করতে রাজ্যজুড়ে ‘পরিবর্তন যাত্রা’ শুরু করেছে বিজেপিতে। অন্যদিকে উন্নয়নের বার্তা পৌঁছে দিতে জেলায় জেলায় মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে নেতা মন্ত্রীরা। বিধানসভা নির্বাচনের আবহে এই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই নিয়ে রীতিমত স্তম্ভিত রাজ্য বাসী, এখন দেখার চতুর্থবার মুখ্যমন্ত্রীর পদ কে দখল করে।