Tag: West Bengal Election 2026

  • বাংলায় ফের বড় অ্যাকশন কমিশনের, পাঁচ DIG সহ ১১ DM-কে সরাল কমিশন

    বাংলায় ফের বড় অ্যাকশন কমিশনের, পাঁচ DIG সহ ১১ DM-কে সরাল কমিশন

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: গত রবিবার সাংবাদিক সম্মেলনের জেরে প্রকাশিত হয়েছে ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) দিনক্ষণ। আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল দুই দফায় ভোট গ্রহণ করা হতে চলেছে বাংলায়। আর এই অবস্থায় রাজ্যে একের পর এক নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিয়ে চলেছে কমিশন (Election Commission Of India)। ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাজ্যের মুখ্যসচিব থেকে ডিজি, সিপি বদল করেছিল কমিশন আর আজ, বুধবার পাঁচ জায়গার ডিআইজি-কেও সরানো হয়েছে। পাশাপাশি ১১ টি জেলার ডিএম বদল করল নির্বাচন কমিশন।

    নজিরবিহীন পদক্ষেপ কমিশনের

    কিছুদিন আগেই নির্বাচন কমিশনার পুলিশ সুপারদের বদলি করেছিল। আর সেই বদলির রেশ কাটতে না কাটতেই উত্তর এবং দক্ষিণবঙ্গ মিলিয়েই ফের ১১টি জেলার DM বদল করার নির্দেশ দিল নির্বাচন কমিশন। তালিকা অনুযায়ী দার্জিলিং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, উত্তর দিনাজপুর, মালদা, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, বর্ধমান, উত্তর ২৪ পরগনা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার DM বা জেলাশাসক পরিবর্তন করা হয়েছে। এ ছাড়াও কলকাতা উত্তর ও দক্ষিণের DEO বদল করা হয়েছে। এদিকে ভোটের আগে ফের একসঙ্গে পাঁচ ডিআইজি বদল করার সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন।

    ১১ টি জেলায় DM বদল কমিশনের

    নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী উত্তরবঙ্গের ক্ষেত্রে কোচবিহারে দায়িত্ব পেলেন জিতিন যাদব, জলপাইগুড়িতে সন্দীপ ঘোষ, উত্তর দিনাজপুরে বিবেক কুমার, মালদায় রজনবীর সিং কাপুর, আলিপুরদুয়ারে টি বালাসুব্রহ্মণ্যম, দার্জিলিংয়ে হরিশঙ্কর পানিক্কর। দক্ষিণবঙ্গের ক্ষেত্রে মুর্শিদাবাদে আর অর্জুন, নদিয়ায় শ্রীকান্ত পল্লি, পূর্ব বর্ধমানে শ্বেতা আগরওয়াল, উত্তর ২৪ পরগনায় শিল্পা গৌরিসারিয়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় অভিষেক কুমার তিওয়ারি। অন্যদিকে কলকাতা উত্তরের DEO ও মিউনিসিপ্যাল কমিশনার হলেন স্মিতা পাণ্ডে এবং রণধীর কুমার হলেন দক্ষিণ কলকাতার DEO।

    আরও পড়ুন: ‘অন্য কোনও মুখ্যমন্ত্রী …’ মমতার ভূমিকায় ক্ষুব্ধ সুপ্রিম কোর্ট

    পাঁচ ডিআইজি বদল কমিশনের

    পাঁচ ডিআইজি বদল করার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকাশ্যে এসেছে নতুন বিজ্ঞপ্তি। জানা গিয়েছে, রায়গঞ্জ রেঞ্জের ডিআইজি হচ্ছেন ২০০৯ ব্যাচের আইপিএস রাঠোর অমিতকুমার ভরত। মুর্শিদাবাদের ডিআইজি হচ্ছেন অজিত কুমার যাদব, বর্ধমানের ডিআইজি হচ্ছেন শ্রীহরি পাণ্ডে, প্রেসিডেন্সি রেঞ্জের ডিআইজি হচ্ছেন কংকর প্রসাদ বাড়ুই এবং জলপাইগুড়ি রেঞ্জের ডিআইজি হচ্ছেন অঞ্জলি সিং। আগামিকাল বৃহস্পতিবার ১১ টার মধ্যেই নয়া এই পাঁচ ডিআইজিকে দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অভিযোগ এক্ষেত্রেও নাকি রাজ্যের সঙ্গে কোনও আলোচনা না করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

  • ভোটের আবহে বাড়ছে উদ্বেগ, বীরভূমে উদ্ধার অসংখ্য বিস্ফোরক, আতঙ্ক নলহাটিতে

    ভোটের আবহে বাড়ছে উদ্বেগ, বীরভূমে উদ্ধার অসংখ্য বিস্ফোরক, আতঙ্ক নলহাটিতে

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনকে (West Bengal Election 2026) লক্ষ্য করে মঙ্গলবার বিকেলে তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রীতিমত এক চাপা উত্তেজনা তৈরি হয়েছে জেলায় জেলায়। এই অবস্থায় মঙ্গলবার রাতেই বীরভূমে (Birbhum) ট্রাক্টর বোঝাই বিস্ফোরক উদ্ধার করল পুলিশ। স্থানীয়দের অভিযোগ ভোটের দিন ঘোষণা হতে না হতেই এলাকায় বিস্ফোরক উদ্ধার হচ্ছে তাহলে আগামী দিন কী অপেক্ষা করছে। ঘটনায় তদন্তে নেমেছে নলহাটি (Nalhati) থানার পুলিশ।

    ঠিক কী ঘটেছিল?

    রিপোর্ট মোতাবেক, বীরভূমের নলহাটিতে একটি ট্রাক্টর থেকে প্রায় ১০ হাজার জিলেটিন স্টিক ও ৩৬০টি ডিটোনেটর উদ্ধার করেছে স্থানীয় পুলিশ। অভিযোগ, গতকাল অর্থাৎ মঙ্গলবার রাতেই অনেকগুলো বাক্স বোঝাই ট্রাক্টর দেখে স্থানীয়দের মনে সন্দেহ তৈরি হয়েছিল। আর সেই সন্দেহ থেকেই আচমকা ট্রাক্টর আটকায় বাসিন্দারা এবং সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয় থানায়। এরপরই পুলিশ এসে এই বাক্স খুলতেই দেখে বিস্ফোরক, এক এক করে সবকটাই উদ্ধার করা হয়। আর এই অবস্থায় সুযোগ বুঝে পালিয়েছেন ট্রাক্টর চালক, খোঁজ চলছে তাঁর। এছাড়াও কোথা থেকে এই বিস্ফোরক আনা হয়েছে এবং কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল সবটাই তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

    টিকিট না পাওয়ায় ক্ষোভ বিধায়কদের

    নির্বাচনের দিন ঘোষণা হতেই রাজ্য জুড়ে এক চাপা উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এক এক করে সমস্ত রাজনৈতিক দল প্রকাশ্যে আনছে প্রার্থীদের তালিকা। গত সোমবার বিজেপি প্রথম দফায় ১৯২ আসনে এবং গতকাল তৃণমূল ২৯১টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। প্রার্থীদের নাম ঘোষণার সময়ই জয়ের টার্গেট বেঁধে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিকে বিভিন্ন জেলায় দেখা গেল প্রার্থী নিয়ে বিক্ষোভ। দলের টিকিট না মেলায় দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন চুঁচুড়ার তিনবারের বিধায়ক অসিত মজুমদার। দল ছাড়তে চলেছেন তিনি। এছাড়াও হাওড়া শিবপুরের বিধায়ক মনোজ তিওয়ারি, জোড়াসাঁকোর বিধায়ক বিবেক গুপ্ত, মালদহের কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী, সাবিত্রী মিত্র, রত্না দে নাগ, পরেশ পাল-সহ ৭৩ জন বর্তমান বিধায়ক টিকিট পায়নি।

    আরও পড়ুন: শুভেন্দুর বিরুদ্ধে তৃণমূলের ‘বাজি’ পবিত্র কর, চিনে নিন নন্দীগ্রামের প্রার্থীকে

    প্রসঙ্গত, তৃণমূলের বর্তমান বিধায়কদের মধ্যে যে অনেকেই টিকিট পাবেন না সেই বিষয়ে আগেই আভাস দিয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার তাই হল। কালীঘাট সূত্রে বলা হচ্ছে, স্থানীয় স্তরে প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা মোকাবিলার জন্যই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। অর্থাৎ ওই সকল এলাকায় বর্তমান বিধায়ককে ফের প্রার্থী করলে হেরে যেতে পারত। তা ঠেকাতেই প্রার্থী বদল করা হয়েছে। শুধু বর্তমান বিধায়কদের টিকিট না দেওয়া নয়, কিছু বর্তমান বিধায়কের আসন বদলও হয়েছে।

  • তৃণমূলে যোগ দিয়েই প্রার্থী, সমাজের জন্য যা করেছেন আব্দুল মাতিন, জেনে শ্রদ্ধা বাড়বে

    তৃণমূলে যোগ দিয়েই প্রার্থী, সমাজের জন্য যা করেছেন আব্দুল মাতিন, জেনে শ্রদ্ধা বাড়বে

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) দামামা বেজে গিয়েছে রাজ্য জুড়ে, বিজেপি-সিপিএমের পর তৃণমূলও প্রার্থীতালিকা প্রকাশ করেছে। কিন্তু তার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে ক্রিকেটার শিবশঙ্কর পাল, শিক্ষাবিদ তনুশ্রী হাঁসদা ও আবদুল মাতিন (Abdul Matin) যোগ দেন তৃণমূলে। আর যোগ দেওয়ার পরেই তিনি টিকিটও হাসিল করে নিয়েছেন।

    তৃণমূলে যোগ ৪ জনের

    আজ অর্থাৎ মঙ্গলবার দুপুরের পরেই তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হয়েছে। আর প্রার্থী তালিকা প্রকাশের আগেই শাসকদলে যোগ দেন প্রাক্তন ক্রিকেটার শিবশঙ্কর পাল, শিক্ষাবিদ তনুশ্রী হাঁসদা, মুহম্মদ আব্দুল মতিন। তাঁদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও পার্থ ভৌমিক। অন্য দিকে এ দিন একই সময়ে রাজ্যের আরও কয়েকটি জেলায় বিভিন্ন সমাজকর্মী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বও তৃণমূলের পতাকা হাতে নেন। বাঁকুড়া জেলার শালতোড়া ও বড়জোড়া এলাকা থেকে সমাজসেবী গৌতম মিশ্র তৃণমূলে যোগ দেন।

    সমাজকর্মী হিসেবে আব্দুল মতিনের নাম জনপ্রিয়

    শিক্ষাক্ষেত্রে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নাম হল আবদুল মাতিন। তিনি মূলত ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দিয়ে শুরু করে তাঁর পরিচালিত প্রতিষ্ঠান রাজ্য মাদ্রাসা বোর্ড ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত কাজ করে চলেছেন। মেয়েদের শিক্ষা সম্প্রসারে নির্মাণ করেছেন ১৮ টি স্কুল। একইসঙ্গে অল ইন্ডিয়া সুন্নত উল জামাত নামে এক সংগঠনের সংগঠনের সম্পাদকও তিনি। এর পাশাপাশি তৈরি করেছেন ২টি আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। একাদশ ও দ্বাদশ শেণিতে মেয়েদের ভর্তি নেওয়া হয় ওইসব প্রতিষ্ঠানে।

    আরও পড়ুন: হিরণ ছাড়া বিজেপির প্রার্থী তালিকা থেকে বাদ আরও ৮ বিধায়ক, দেখুন লিস্ট

    আজ তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় আব্দুল মতিনের নাম জ্বলজ্বল করছে। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার হাড়োয়া থেকে আব্দুল মতিনকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

  • নন্দীগ্রামে মমতার আঘাতপ্রাপ্ত খুঁটিতে ধূপ-ধুনো! প্রচার শুরু বিজেপির, ভাইরাল ভিডিও

    নন্দীগ্রামে মমতার আঘাতপ্রাপ্ত খুঁটিতে ধূপ-ধুনো! প্রচার শুরু বিজেপির, ভাইরাল ভিডিও

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বহু জল্পনা এবং প্রতীক্ষার পর অবশেষে গত রবিবার কমিশন রাজ্যে দুই দফায় নির্বাচনের দিন (West Bengal Election 2026) ঘোষণা করল। ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণের পর ৪ মে প্রকাশ্যে আসবে ফলাফল। এমতাবস্থায় গতকাল প্রকাশ্যে এল বিজেপির প্রার্থীদের তালিকা। ভবানীপুর এবং নন্দীগ্রাম (Nandigram) থেকে দাঁড়াতে চলেছেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। নাম ঘোষণায় আনন্দে মেতে উঠেছেন কর্মীরা। এমতাবস্থায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আঘাতপ্রাপ্ত খুঁটিতে পুজো করে নন্দীগ্রামে প্রচার শুরু করে বিজেপি। ভাইরাল সেই ভিডিও।

    নন্দীগ্রামে খুঁটি পুজো বিজেপি কর্মীদের

    রবিবার কমিশনের নির্বাচনের দিন ঘোষণার পরেই নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর সমর্থনে শুরু হয়ে যায় দেওয়াল লিখন। যদিও তখনও অফিসিয়ালি ঘোষণা হয়নি তাঁর নাম। তবে পরে নাম ঘোষণা হতেই উল্লাসে মেতে ওঠেন বিজেপির কর্মী সমর্থকরা। ব্যান্ড পার্টি নিয়ে দলের পতাকা ওড়াতে ওড়াতে সোজা চলে যান নন্দীগ্রামের বিরুলিয়া বাজারে। সেখানে যে খুঁটিতে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই খুঁটিতে ধূপকাঠি জ্বালিয়ে পুজো করতে দেখা যায় বিজেপি কর্মীদের। পুজো দেওয়ার পাশাপাশি জয় শ্রীরাম স্লোগানও দেন তাঁরা। ইতিমধ্যেই সেই ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন বিজেপি নেতা তথা আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি।

    কী কারণে এই খুঁটি পুঁজো?

    গতবার বিধানসভা নির্বাচনের সময় নন্দীগ্রামের ওই খুঁটিতে পায়ে আঘাত লেগেছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। পায়ে প্লাস্টার নিয়েই রাজ্যজুড়ে ভোটের প্রচার করেছিলেন তিনি। যদিও বিজেপির নেতাদের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘নাটক’ করেছিলেন। তাতেও লাভ হয়নি তাঁর। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৯৫৬ ভোটে পরাজিত করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তাই শাসক দলকে মোক্ষম জবাব দিতে সোমবার রাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আঘাতপ্রাপ্ত খুঁটিতে পুজো করে নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর হয়ে প্রচার শুরু করেন বিজেপি কর্মীরা। তুমুল ভাইরাল হয় সেই ভিডিও। আর তাতেই রাজনৈতিক তরজা চরম আকার নেয়।

    আরও পড়ুন: পরিচারিকাতে ভরসা বিজেপির, আউশ গ্রামের পদ্মের প্রার্থী কলিতা মাজির নাম বিচারাধীন

    খুঁটিপুজো প্রসঙ্গে তমলুক সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সহ-সভাপতি প্রলয় পাল বলেন ‘মেদিনীপুরে ছেলে শুভেন্দু অধিকারী এবার নন্দীগ্রামের পাশাপাশি ভবানীপুরেও প্রার্থী হয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী যেখানেই দাঁড়ান না কেন আমাদের নেতা তাঁকে বিদায় জানাবেন। রীতি অনুযায়ী সনাতন ধর্মের মানুষ কিছু শুভ কাজ করার আগে খুঁটি পুজো করে। আমরা তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেই খুঁটিতে আঘাত পেয়েছিলেন, সেই খুঁটিতে পুজো করে শুভ কাজ শুরু করলাম।” অন্যদিকে ওই জেলার তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি সুজিত রায় বলেন, “যে বিজেপি নেতা খুঁটি পুজো করছেন তিনি মহিলাদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ কথা বলেন। তাঁরাই শুভেন্দুর সম্পদ। এই নির্বাচনে মহিলারা বিজেপিকে উচিত শিক্ষা দেবেন।”

  • হিরণ ছাড়া বিজেপির প্রার্থী তালিকা থেকে বাদ আরও ৮ বিধায়ক, দেখুন লিস্ট

    হিরণ ছাড়া বিজেপির প্রার্থী তালিকা থেকে বাদ আরও ৮ বিধায়ক, দেখুন লিস্ট

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল রাজ্যে দুদফায় ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026) হবে। এই অবস্থায় গতকাল অর্থাৎ সোমবার প্রথম দফায় ১৪৪টি আসনের জন্য প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে বিজেপি (Bharatiya Janata Party)। কিন্তু তালিকা প্রকাশ্যে আসতেই দেখা যায় ১৪৪টি আসনের মধ্যে ৪৮টি আসন এমন, যেগুলি বিজেপির দখলেই ছিল। কিন্তু তার মধ্যে টিকিট পেলেন ৪০ জন। বাদ পড়লেন আট জন বিধায়ক। তুঙ্গে রাজনৈতিক বিতর্ক।

    বাদ পড়েছে ৮ বিজেপি বিধায়ক

    বিজেপির প্রার্থী তালিকা অনুযায়ী যে আটটি জয়ী আসনে প্রার্থী বদল করা হয়েছে, তার মধ্যে তিনটি উত্তরবঙ্গে, তিনটি রাঢ়বঙ্গে, বাকি দু’টি রাঢ় ঘেঁষা দক্ষিণবঙ্গে। অর্থাৎ তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন বালুরঘাটের অশোক লাহিড়ি, খড়্গপুর সদরের হিরণ চট্টোপাধ্যায়, শীতলকুচির বরেন্দ্রচন্দ্র বর্মন, কালিয়াগঞ্জের সৌমেন রায়, বলরামপুরের বালেশ্বর মাহাতো, রঘুনাথপুরের বিবেকানন্দ বাউরি, আরামবাগের মধুসূদন বাগ এবং গোঘাটের বিশ্বনাথ কারক। এদিকে খড়্গপুর সদরের বিধায়ক তথা কাউন্সিলর হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের বদলে বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি তথা ওই আসনের প্রাক্তন বিধায়ক দিলীপ ঘোষকে টিকিট দেওয়া হয়। পুনরায় এই একই আসনে প্রার্থী হওয়ায় বেশ খুশি তিনি।

    দ্বিতীয় বিয়েই কি কাল হল হিরণের!

    কয়েক মাস আগে থেকেই দলীয় অন্দরে শোনা যাচ্ছিল যে, দিলীপ ঘোষ এবারেও খড়্গপুর সদরের প্রার্থী হতে পারবেন না। কিন্তু সম্প্রতি হিরণের দ্বিতীয় বিবাহ ঘিরে বিতর্ক চরম আকার নেওয়ায় পাশা পাল্টে যায়। যার ফলে স্থানীয় সমীক্ষাতেও দিলীপের নামই বেশি সমর্থন পাচ্ছিল। ফলে দিলীপ সেই আসন ফিরে পেলেন, যেখান থেকে তিনি প্রথম বার জনপ্রতিনিধি হয়েছিলেন। এই কাণ্ডে হিরণের প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা বলেন, ‘‘সম্প্রতি যে ঘটনাটি ঘটেছে, তা সাধারণ মানুষ ভাল ভাবে নেননি। বিজেপি-ও যে তার এই কাণ্ড ভাল চোখে দেখেনি, তা এই প্রার্থিতালিকা থেকেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে।’’

    আরও পড়ুন: প্রতি দফায় ২ লাখ ৫০ হাজার কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান, অশান্তি হলে … কড়া বার্তা কমিশনের

    প্রসঙ্গত, আজ, মঙ্গলবার বিকেলে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করতে চলেছে। এদিকে নাম ঘোষণার আগেই সকাল থেকে একাধিক জেলায় শাসক দলে যোগ দেওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। আজ কলকাতার দলীয় কার্যালয়ে প্রাক্তন ক্রিকেটার শিবশঙ্কর পাল, সাঁওতাল সম্প্রদায়ের পরিচিত শিক্ষাবিদ তনুশ্রী হাঁসদা এবং ইসলামিক স্কলার আবদুল মতিন তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। এখন দেখার ভোটের জন্য প্রতিটি কেন্দ্রে কাকে নির্বাচনের মুখ করেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

  • প্রতি দফায় ২ লাখ ৫০ হাজার কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান, অশান্তি হলে … কড়া বার্তা কমিশনের

    প্রতি দফায় ২ লাখ ৫০ হাজার কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান, অশান্তি হলে … কড়া বার্তা কমিশনের

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। এই অবস্থায় রাজ্যে সুষ্ঠু এবং অবাধ নির্বাচন করার লক্ষ্য নিয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে (Central Force) আরও বেশি দায়িত্ব নিতে হবে বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল। সেক্ষেত্রে প্রতিটি পর্যায়ে ২,০০০ থেকে ২,৫০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করতে পারে বলে মনে করছে কমিশন (Election Commission Of India)। পাশাপাশি, সতর্ক করা হয়েছে বাহিনীকে। সিইও জানান, যদি কোনও বুথের মধ্যে অশান্তি হয়, তবে তার দায় সিআরপিএফের।

    ভোট শৃঙ্খলা নিয়ে বড় পদক্ষেপ কমিশনের

    রিপোর্ট মোতাবেক, গতকাল অর্থাৎ সোমবার, মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়েছেন যে, “যেহেতু বাংলায় এই নির্বাচন দুই দফায় হতে চলেছে তাই এমন পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিতে চলেছে। আমাদের একমাত্র লক্ষ্য হল অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা। তাই ভোটের প্রতিটি পর্যায়ে প্রায় ২,০০০ থেকে ২,৫০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী প্রয়োজন হতে পারে। ভোটকেন্দ্রে কোনও গন্ডগোল হলে তা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ওপর। শুধু তাই নয়, কোনও অনৈতিক কাজকর্ম দেখলেও তারা সেটা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবে।” অর্থাৎ প্রতি দফায় নিয়োগ করা হতে চলেছে ২ লাখ ৫০ হাজার কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান।

    গন্ডগোলের জন্য দায়ী থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনী

    সতর্কবার্তা স্বরূপ মনোজ কুমার আগরওয়াল সাংবাদিক সম্মেলনে জানান, “সিআরপিএফ কোনও সুবিধা নেবে না। জেলাশাসকদেরও তেমনই নির্দেশ দেওয়া হবে। যদি কেউ সুবিধা নেয় তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত হবে। অতীতে সুবিধা নেওয়ার জন্য সিআরপিএফ কর্মীর শাস্তি হয়েছে। বুথের ভিতরে কোনও রকম অনিয়ম হলে বা কোনও ধরনের গন্ডগোলের জন্য দায়ী করা হবে সিআরপিএফ-কেই।” তাঁর কথায়, ‘‘রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন নিয়ে কোনও অসুবিধা হবে না। কারণ সেই সময় অন্য রাজ্যের ভোট শেষ হয়ে যাবে।’’ মনোজের কথায়, ‘‘শান্তিতে ভোট করানোর জন্য যে কোনও ধরনের সাহায্য করবে কমিশন। আধিকারিকদের শুধু সাহায্য চাইতে হবে।’’

    আরও পড়ুন: নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর প্রতিপক্ষ প্রায় চূড়ান্ত, কাকে মাঠে নামাচ্ছে তৃণমূল?

    অন্যদিকে ভোটের আগে রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল। তাই রাজ্যের প্রতিটি থানাকে তাদের এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে হবে প্রতিটি থানার ওসিকে নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। সেক্ষেত্রে যদি আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজন পরে কমিশন তা করতে প্রস্তুত।

  • পরিচারিকাতে ভরসা বিজেপির, আউশ গ্রামের পদ্মের প্রার্থী কলিতা মাজির নাম বিচারাধীন

    পরিচারিকাতে ভরসা বিজেপির, আউশ গ্রামের পদ্মের প্রার্থী কলিতা মাজির নাম বিচারাধীন

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: রবিবার নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) দিন ঘোষণার পরেই গতকাল, সোমবার বিজেপির প্রথম দফার প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। আর সেই তালিকায় নাম উঠে এল পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রাম বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী কলিতা মাজি (Kalita Majhi)। ২০২১-এও প্রার্থী করেছিল বিজেপি কিন্তু পরাজিত হন তিনি। তবে এবারও তাঁর উপরেই ভরসা রেখে তপশিলি সংরক্ষিত এই আসনে কলিতাকে প্রার্থী করে রীতিমতো চমক দিল বিজেপি। কিন্তু এবার সেই প্রার্থীকে নিয়ে উঠল আরেক বিতর্ক।

    প্রার্থী হয়েও ভোটার তালিকায় বিবেচনাধীন!

    গুসকরা পুরসভার ১৯৫ নম্বর বুথের ভোটার কলিতা মাজি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশন এসআইআর-এর যে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছিল, সেখানে দেখা যাচ্ছে ওই বুথে ৩৯৭ নম্বর সিরিয়ালে রয়েছে কলিতা মাজির নাম। কিন্তু নামের উপর লেখা ‘আণ্ডার অ্যাডজুডিকেশন’। আর তাতেই তৃণমূল প্রশ্ন করছে কীভাবে অমীমাংসিত তালিকায় থাকা একজনকে বিজেপি প্রার্থী করল। এই নিয়েই এলাকায় শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। যদিও এই নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন কলিতা মাজি। তিনি জানান, “আমার উপযুক্ত নথিপত্র আছে। সবকিছু দাখিল করেছি। এরপর কমিশন যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার নেবে। তবে আমার বিশ্বাস যোগ্য ভোটার হিসাবে আমার যথাযথ নথিপত্র রয়েছে। আপাতত কমিশনের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন।”

    Kalita Majhi

    ভোটে জেতার আশ্বাস কলিতা মাজির

    জানা গিয়েছে, পূর্ব বর্ধমানের গুসকরা পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মাঝপুকুর পাড়ের বাসিন্দা কলিতা মাজি। পেশায় তিনি একজন পরিচারিকা। পরিবারে রয়েছেন স্বামী ও এক ছেলে। ছেলে পার্থ এ বছর উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছে। গত বিধানসভা নির্বাচনে এই আসনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী অভেদানন্দ থাণ্ডার জয়ী হয়েছিলেন। তিনি পেয়েছিলেন ১ লক্ষ ৩৯২টি ভোট। বিজেপি প্রার্থী কলিতা মাজি দ্বিতীয় হয়ে পেয়েছিলেন ৮৮ হাজার ৫৭৭টি ভোট। কিন্তু এবার প্রশ্ন উঠছে প্রার্থী হয়েও তিনি কি এবার ভোটে লড়তে পারবেন কিনা। তবে তাঁর বিশ্বাস এবার তাঁরাই জিতবে।

    আরও পড়ুন: এই কারণেই ভবানীপুরে মমতা ব্যানার্জির বিরুদ্ধে প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী! ফাঁস মেগা প্ল্যান

    জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক বাগবুল ইসলাম বলেন, “আমরা প্রথম থেকেই যে অভিযোগ করছিলাম, এখন তা কার্যত প্রমাণিত হল। বিজেপির সঙ্গে যে কমিশনের আঁতাত আছে এটা বোঝা গেল।” তবে এই বিষয়ে বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন, “গোটা বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে। কিন্তু এতে তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ যে ভুল তা প্রমাণিত হল। কমিশন জাত বা ধর্ম দেখে নয়, তাদের নিয়ম অনুযায়ী কাজ করছে।”

  • ৬০ লক্ষ নাম এখনও বিচারাধীন! ভোট দিতে পারবেন কি তাঁরা? জানালেন জ্ঞানেশ কুমার

    ৬০ লক্ষ নাম এখনও বিচারাধীন! ভোট দিতে পারবেন কি তাঁরা? জানালেন জ্ঞানেশ কুমার

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বহু প্রতীক্ষার পর অবশেষে গতকাল রবিবার, সাংবাদিক বৈঠকের মাধ্যমে ভোটের দিনক্ষণ (West Bengal Election 2026) ঘোষিত হল। এবার রাজ্যে আট দফার পরিবর্তে দুই দফা ভোট হবে। প্রথম দফার ভোট হবে ২৩ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় দফার ভোট হবে ২৯ এপ্রিল। কিন্তু এর মাঝেও ভোট নিয়ে বেশ চিন্তিত এসআইআর প্রক্রিয়ায় বিচারাধীন তালিকার ভোটারেরা। ৬০ লক্ষের বেশি নাম এখনও রয়েছে তালিকায়। অবশেষে এই বিষয়ে মুখ খুললেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার (Gyanesh Kumar)।

    কী বলছেন জ্ঞানেশ কুমার?

    মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জানিয়েছেন, ”পশ্চিমবঙ্গে এই মুহুর্তে ৬ কোটি ৪৪ লক্ষ ভোটার রয়েছে। সঙ্গে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা যোগ হবে। ৭০০-৮৫০ ভোটার নিয়ে একটি করে বুথ হবে। ১০০% ওয়েবকাস্টিং হবে। সংবিধান মেনে রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR হয়েছে। অবৈধ ভোটাররা যাতে বাদ পড়েন এবং বৈধ ভোটারদের যাতে নাম ওঠে, সেই লক্ষ্যেই রাজ্যে এই কর্মসূচি প্রক্রিয়া। বিচারাধীন থাকা যোগ্য ভোটারদের নাম উঠবে ভোটার তালিকায়। তার জন্য অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে। তবে অযোগ্য ভোটারদের নাম বাদ যাবে।”

    বিচারাধীন ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন

    SIR এর খসড়া তালিকায় প্রথম দফায় প্রায় ৫৮ লক্ষ নাম বাদ পড়েছিল। মৃত, স্থানান্তরিত এবং ভুয়ো ভোটারের নাম মূলত বাদ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী শুনানির পর আরও প্রায় ৫ লক্ষ নাম বাদ গিয়েছে। ফর্ম ৭-এর মাধ্যমে আপত্তির ভিত্তিতে ৫ লক্ষ ৪৬ হাজার ৫৩ জনের নাম মুছে ফেলা হয়েছে। এরপর ফর্ম ৬ ও ৬এ-এর মাধ্যমে নতুন করে ১ লক্ষ ৮২ হাজার ৩৬ জন ভোটারের নাম তালিকায় যুক্ত হয়েছে। সবশেষে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ্যে আমার পর বর্তমানে ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জনের নাম বিচারাধীন রয়েছে। আশা করা যাচ্ছে খুব শীঘ্রই এই আবেদনগুলির নিষ্পত্তি করা হবে এবং সংখ্যায় আরও কিছু পরিবর্তন হতে পারে।

    আরও পড়ুন: তৃণমূল ছাড়লেন আরাবুল ইসলাম, কোন দলে যোগ দিচ্ছেন? ভাঙড়ে নতুন সমীকরণ

    প্রসঙ্গত, ২০২৫ এর ২৭ অক্টোবর নিবিড় সংশোধনী কর্মসূচি বা এসআইআর ঘোষণা করা হয়েছিল জাতীয় নির্বাচন কমিশনের তরফে। ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়। এদিকে এই SIR নিয়ে শাসকদল এবং বিরোধীদলের মধ্যে তর্ক বিতর্ক লেগেই রয়েছে। শুরু থেকেই নির্বাচন কমিশনারকে বিজেপির দাস বলে কটাক্ষ করে গিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ভ্যানিশ কুমার বলেও কটাক্ষ করেছেন। এখন দেখার পালা বিচারাধীন তালিকা থেকে কতজনের নাম বাদ যায়।

  • ২৪-র লোকসভা ভোট হিংসায় যুক্ত পুলিশ অফিসারদের তালিকা তলব, বড় পদক্ষেপ কমিশনের

    ২৪-র লোকসভা ভোট হিংসায় যুক্ত পুলিশ অফিসারদের তালিকা তলব, বড় পদক্ষেপ কমিশনের

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: অবশেষে ২৬ এর বিধানসভা (West Bengal Election 2026) নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করল জাতীয় নির্বাচন কমিশন (Election Commission Of India)। ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ২৩ এপ্রিল এবং ২৯ এপ্রিল দুই দফায় অনুষ্ঠিত হবে রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন। আর তার কয়েক ঘণ্টার পরেই প্রশাসনিক রদবদলের ইঙ্গিত দিল কমিশন। শুধু তাই নয়, ২০২৪-এর ভোট হিংসায় যুক্ত ‘দাগি’ পুলিশ কর্তাদের তালিকা (Police Officers List) পাঠানোর নির্দেশ দিল কমিশন।

    সময়সীমা বেঁধে দিল কমিশন

    রিপোর্ট মোতাবেক, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পরেই একাধিক এলাকায় ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগ উঠে এসেছিল। একাধিক এলাকায় দলীয় কর্মীদের খুন হতে হয়েছিল। এমনকি ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনের পরেও ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগ উঠেছিল। তৃণমূলের তরফে বিজেপির দিকে আঙুল যেমন তোলা হয়েছিল, ঠিক তেমনই বিজেপিও তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিল। এমতাবস্থায় জানা গিয়েছে, সমস্ত হিংসাকবলিত এলাকায় থাকা থানাগুলিতে সেইসময় কারা ওসি ছিলেন তাঁদের তালিকা রাজ্য পুলিশের ডিজির কাছে চাইল নির্বাচন কমিশন। এর জন্য বেঁধে দেওয়া হল সময়সীমা। আজ সোমবার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যেই রিপোর্ট দিতে হবে।

    ডিজিপি, সিপি বদল কমিশনের

    রবিবার রাতেই রাজ্যের ডিজিপি, সিপি বদল করার নির্দেশ পাঠানো হয় নির্বাচন কমিশনের তরফে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী পীযুস পাণ্ডের পরিবর্তে রাজ্যের নতুন ডিজি হলেন সিদ্ধিনাথ গুপ্তা। তিনি ১৯৯২ ব্যাচের আইপিএস। অন্যদিকে সিপি হলেন অজয় নন্দ, তিনি পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার ছিলেন এবং এডিজি আইন শৃঙ্খাল হলেন অজয় রানাডে, তিনি ১৯৯৫ ব্যাচের আইপিএস। কারা দফতরের ডিজি হয়েছেন এন রমেশ বাবু। উল্লেখ্য, ভোট পর্বে কখনও কারা প্রশাসন, কারা দফতর বদল করতে পদক্ষেপ করেনি নির্বাচন কমিশন। কিন্তু এবার সেই পদক্ষেপ নিল কমিশন। অনুমান করা হচ্ছে বেশ কয়েকদিন ধরে অভিযোগ উঠে এসেছে যে ভোট এলেই নাকি জেল থেকে অনেক অপরাধীকে ছেড়ে দেওয়া হয়, আর তাই সেই কারণে এই উদ্যোগ।

    আরও পড়ুন: নন্দিনী চক্রবর্তীর জায়গায় রাজ্যের নতুন মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিওয়ালা, চিনে নিন এই আমলাকে

    তবে শুধু পুলিশ অধি কর্তাদের অদল বদল নয়, রবিবার রাতে সাড়ে বারোটার পর বদলি করে দেওয়া হল রাজ্যের মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিবকে। নন্দিনী চক্রবর্তীকে সরিয়ে ১৯৯৩ ব্যাচের আইএএস দুষ্মন্ত নারিয়ালাকে মুখ্যসচিব নিয়োগ করা হয়েছে। অন্যদিকে জগদীশ প্রসাদ মীনার পরিবর্তে ১৯৯৭ ব্যাচের আইএএস সংঘমিত্রা ঘোষকে স্বরাষ্ট্রসচিব পদে বসানো হচ্ছে। কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশ নন্দিনী চক্রবর্তী ও জগদীশ প্রসাদ মীনাকে নির্বাচন প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত কোনও পদেও বসানো যাবে না।

  • নন্দিনী চক্রবর্তীর জায়গায় রাজ্যের নতুন মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিওয়ালা, চিনে নিন এই আমলাকে

    নন্দিনী চক্রবর্তীর জায়গায় রাজ্যের নতুন মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিওয়ালা, চিনে নিন এই আমলাকে

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বহু প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বিধানসভা ভোটের (West Bengal Election 2026) নির্ঘণ্ট ঘোষণা করা হল। আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল দুদফায় রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন হবে। এদিকে দিনক্ষণ ঘোষণার প্রায় ছয় ঘণ্টার মধ্যেই বড় সিদ্ধান্ত নিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন (Election Commission Of India)। রাজ্যের মুখ্য সচিবের পদ থেকে নন্দিনী চক্রবর্তীকে সরিয়ে তাঁর পরিবর্তে নিয়োগ করা হল প্রবীণ IAS অফিসার দুষ্মন্ত নারিওয়ালাকে (Dushyant Nariala)। চলুন আজকের প্রতিবেদনের মাধ্যমে জেনে নেওয়া যাক কে এই দুষ্মন্ত নারিয়ালা।

    নয়া দায়িত্ব গ্রহণের নির্দেশ কমিশনের

    রিপোর্ট মোতাবেক, নন্দিনী চক্রবর্তীকে সরিয়ে রাজ্যের নতুন মুখ্যসচিব পদে দুষ্মন্ত নারিওয়ালাকে নিয়ে এসেছে কমিশন পাশাপাশি নতুন স্বরাষ্ট্রসচিব করা হয়েছে সংঘমিত্রা ঘোষকে। আজ, সোমবার দুপুর ৩টের মধ্যে তাঁদের দায়িত্ব গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আসলে ভোট ঘোষণা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্যে আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর হয়ে গিয়েছে। এই সময় রাজ্য সরকারের আমলা, আধিকারিক, পুলিশকর্তাদের বদলির নির্দেশ দিতে পারে কমিশন। এবারেও তাই হয়েছে কিন্তু মুখ্যসচিব পরিবর্তন সাম্প্রতিক সময়ে বড় নজির গড়ে তুলেছে। যদিও এই নয়া মুখ্যসচিব এর আগে একাধিক দায়িত্ব সামলেছেন।

    কে এই দুষ্মন্ত নারিওয়ালা?

    জানা গিয়েছে, দুষ্মন্ত নারিওয়ালা, ১৯৯৩ সালের ব্যাচের আইএএস আধিকারিক। আগে রাজ্য সরকারের উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব পদে কর্মরত ছিলেন তিনি। সেই সময় উত্তরবঙ্গের পরিকাঠামো উন্নয়ন, অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং সামাজিক কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলির পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের কাজ তদারকি করতেন তিনি। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে তিনি জিটিএ-র প্রধান সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। দার্জিলিং পাহাড় এবং সংলগ্ন এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং রাজ্য সরকার ও জিটিএ-র মধ্যে নীতিগত সমন্বয় রক্ষার দায়িত্ব তাঁর উপর ছিল। ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের অগস্ট পর্যন্ত সামলেছেন বিপর্যয় মোকাবিলা এবং অসামরিক প্রতিরক্ষা দফতরের দায়িত্বও।

    আরও পড়ুন: মমতার ধরনা মঞ্চে ‘ভুয়ো সাধু’? ‘আমাদের কেউ না’ রামকৃষ্ণ মিশনের বিজ্ঞপ্তিতে নতুন বিতর্ক

    উল্লেখ্য, দুষ্মন্ত নারিওয়ালা কুরুক্ষেত্র বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিদ্যায় স্নাতক (বি.এসসি.) এবং আইন বিষয়ে স্নাতক (এলএল.বি.) ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন। তিনি পশ্চিম মেদিনীপুর এবং পূর্ব মেদিনীপুর— এই দুই স্পর্শকাতর জেলার জেলাশাসক (DM) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর কাজের দক্ষতা এবং প্রতিভাকে সামনে রেখেই তাই নন্দিনীকে সরিয়ে তাঁকেই রাজ্যের নতুন মুখ্যসচিব করল কমিশন। অন্যদিকে জগদীশের বদলে নতুন স্বরাষ্ট্রসচিব করা হয়েছে IAS আধিকারিক সংঘমিত্রাকে। তিনি ১৯৯৭ ব্যাচের পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের আইএএস অফিসার। এত দিন তিনি নারী ও শিশুকল্যাণ দফতরের প্রধান সচিব ছিলেন।