Tag: West Bengal Election 2026

  • স্বাস্থ্য, মহিলা, কর্মসংস্থান—তৃণমূলের ইস্তেহারে বড় চমক আনতে চলেছেন মমতা

    স্বাস্থ্য, মহিলা, কর্মসংস্থান—তৃণমূলের ইস্তেহারে বড় চমক আনতে চলেছেন মমতা

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: হাতে সময় খুব কম, তাই বিধানসভা ভোটের (West Bengal Election 2026) নির্ঘণ্ট, প্রার্থীর নাম ঘোষণা হতেই বিভিন্ন ইস্যুকে সামনে রেখে দিন রাত ভোট প্রচার করে চলেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রীর সিংহাসন চতুর্থবার দখল করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে তৃণমূল (Trinamool Congress)। তাই অন্তর্বর্তী বাজেট পেশ করার সময় নানা চমক এনেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। আর এবার শীঘ্রই ইস্তাহার (TMC Manifesto) প্রকাশ করতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। মহিলাদের নানা সুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় আনা হতে চলেছে একাধিক চমক।

    তৃণমূলের ইস্তেহারে থাকবে একাধিক চমক

    রিপোর্ট মোতাবেক ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের ইস্তেহার প্রকাশ করতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। শোনা যাচ্ছে আজ বিকেলেই প্রকাশিত হবে। এক বিশেষ নির্বাচনী স্লোগান নিয়ে আসা হয়েছে, আর সেটি হল ‘যে লড়ছে সবার ডাকে, সেই জেতাবে বাংলা মাকে’। শোনা যাচ্ছে বেশ কিছু সামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি মহিলাদের জন্য একাধিক চমক রাখা হচ্ছে। কর্মসংস্থানের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি শিল্পায়নের নতুন দিশা দেখাতে চলেছে তৃণমূলের এই ইস্তেহার। মহিলাদের উন্নয়ন ও সুরক্ষায় বিশেষ জোর দিতে চলেছে শাসকদল। এছাড়াও SC-ST সম্প্রদায়ের উন্নয়নে আরও জোর যেমন দেওয়া হবে ঠিক তেমনই স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে বিশেষ চমক থাকতে পারে ইস্তেহারে।

    টার্গেট করা হচ্ছে সাধারণের নিত্যদিনের কাজকে

    তৃণমূল কংগ্রেসের আগামী ৫ বছরের কাজের পরিকল্পনায় বাঙালি অস্মিতা রক্ষায় জোর দিতে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উল্লেখ্য, ২০২১-এর ইস্তাহারে দুয়ারে রেশন, মা ক্যান্টিন বেশ সাড়া ফেলে দিয়েছিল বঙ্গবাসীদের মনে। তাই এবারের ইস্তাহারেও সাধারণ মানুষের কাজগুলি যেগুলি নিত্যদিনের যোগ থাকবে তার উপর জোর দিতে চলেছে। এদিকে গত রবিবার ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুরোহিত এবং মোয়াজ্জিনদের ভাতা ১৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০০০ টাকা করে দিয়েছিল, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বেশ চর্চা শুরু হয়েছিল, এখন দেখার ইস্তেহারে কী কী চমক অপেক্ষা করছে।

    আরও পড়ুন: ‘জনসংগ্রাম মঞ্চ’ নিয়ে ভোটে রাজন্যা, লড়বেন দুই হেভিওয়েট কেন্দ্র থেকে

    প্রসঙ্গত, নির্বাচনের আবহে যেকোনও রাজনৈতিক দলের কাছে নির্বাচনী ইস্তাহার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আসলে এই ইস্তেহার হল যদি কোনো রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় আসে, তাহলে সেই দল আগামী পাঁচ বছর কী কী কাজ করবে, ইস্তাহারে তা তুলে ধরে এনে জনগণের সামনে। বিজেপি ইতিমধ্যে ইস্তেহার প্রকাশ করেছে, এখন নজর তৃণমূলের দিকে।

  • ‘জনসংগ্রাম মঞ্চ’ নিয়ে ভোটে রাজন্যা, লড়বেন দুই হেভিওয়েট কেন্দ্র থেকে

    ‘জনসংগ্রাম মঞ্চ’ নিয়ে ভোটে রাজন্যা, লড়বেন দুই হেভিওয়েট কেন্দ্র থেকে

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: দোরগোড়ায় ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026), তাই রাজনৈতিক দলগুলির প্রার্থী তালিকা ঘোষণা নিয়ে এইমুহুর্তে এক উত্তেজিনামূলক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে রাজ্য জুড়ে। এমতাবস্থায় ভোটের ময়দানে এবার নিজস্ব দল গঠন করলেন রাজন্যা হালদার (Rajanya Haldar)। জানা গিয়েছে নির্বাচনে দুই হেভিওয়েট কেন্দ্র থেকে ভোটে লড়ছেন তিনি। প্রকাশ্যে আনলেন দলের নামও।

    দুই কেন্দ্র থেকে লড়ছেন রাজন্যা

    বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টের সময় কলকাতার প্রেস ক্লাবে একটি সাংবাদিক বৈঠক করেন একদা তৃণমূলের ছাত্র পরিষদের প্রাক্তন নেত্রী রাজন্যা হালদার। সেখানেই তিনি নিজের রাজনৈতিক দল ‘জনসংগ্রাম মঞ্চ’ প্রকাশ করেন। শুধু দলের নাম নয় এর পাশাপাশি আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে কোন কোন কেন্দ্রে রাজন্যা প্রার্থী দেবে তাও খোলসা করলেন। জানা গিয়েছে, সোনারপুর দক্ষিণ ও আসানসোল দক্ষিণ থেকে প্রার্থী হচ্ছেন রাজন্যা হালদার। এছাড়াও খড়দহে জনসংগ্রাম মঞ্চের প্রার্থী হচ্ছেন আইনজীবী অনির্বাণ ব্যানার্জি, রাজারহাট-নিউটাউনে শুভঙ্কর মুখার্জি, সোনারপুর উত্তরে আইনজীবী নারায়ণ দাস। তবে আরও প্রার্থী ঘোষণা এখনও বাকি।

    মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করলেন রাজন্যা

    সাংবাদিক সম্মেলনে প্রার্থী এবং দল ঘোষণার পর রাজন্যা হালদার তৃণমূল এবং বিজেপি, ২ দলের বিরুদ্ধেই সরব হয়েছেন। তিনি বলেছেন, “ প্রার্থী হিসেবে নানা বিধানসভা কেব্দ্র থেকে ভোটের ময়দানে থাকব। বাংলা কাঁদছে, গণতন্ত্র ধার চাই।” নাম না করেই মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, “যে বাংলার মানুষের দায়িত্ব নিয়েছেন তাঁকে বাংলার গণতন্ত্রকে বাঁচানোর আবেদন সুপ্রিম কোর্টে যেতে হত না। বাংলার গণতন্ত্রকে কীভাবে বাঁচাতে হয় তা তাঁর করে দেখানো উচিৎ ছিল। কিন্তু তা পারেননি। তাই ‘জনসংগ্রাম মঞ্চ’-এর মাধ্যমে ছাত্রযুবরা মাঠে নামছি।” তিনি আরও বলেন, “হারি কি জিতি, লড়াইয়ের ময়দান থেকে সরব না।”

    আরও পড়ুন: সিভিকরা পাবেনা ৬০০ টাকা বোনাস? নবান্নর সিদ্ধান্তের পরই রিপোর্ট চাইল কমিশন

    আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজন্যা হালদার এদিন ‘জনসংগ্রাম মঞ্চ’-এর ইশতেহার প্রকাশ করেন। কর্মসংস্থান, চাকরি সঙ্কট, মানুষের মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত করা, নারী সুরক্ষা এবং নারীর অর্থনৈতিক বিকাশ সুরক্ষা করা, শিশুদের পুষ্টির বিকাশ, শিক্ষার উন্নয়ন ইত্যাদি তুলে ধরেন ইশতেহারে। উল্লেখ্য, আর জি কর-কাণ্ডের আবহে, তিলোত্তমাদের প্রতিবাদ নিয়ে শর্ট ফিল্ম তৈরি করে, দলের রোষে পড়েন তিনি। তারপর তৃণমূল তাঁকে সাসপেন্ড করে দিয়েছিল। জল্পনা ছিল যে, তিনি বিজেপি-তে যোগ দিতে পারেন। যদিও সেই জল্পনা উড়িয়ে অবশেষে নিজের দল তৈরি করলেন রাজন্যা।

  • এই কারণেই পানিহাটিতে অভয়ার মায়ের নাম ঘোষণা করতে পারল না বিজেপি?

    এই কারণেই পানিহাটিতে অভয়ার মায়ের নাম ঘোষণা করতে পারল না বিজেপি?

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026) শুরু হতে আর খুব বেশি দেরি নেই। তাই গত সোমবার, ২৯৪টি আসনের মধ্যে ১৪৪টি আসনের প্রার্থীদের নাম কয়েক দিন আগেই বিজেপি (BJP Candidate) ঘোষণা করে দিয়েছিল। এরপর বাকি ১৫০টি আসনের তালিকা নিয়ে গত তিন দিন ধরে দিল্লিতে দফায় দফায় বৈঠক চলছিল। অবশেষে গতকাল, বৃহস্পতিবার ঘোষণা করা হয় দ্বিতীয় দফার প্রার্থীদের তালিকা। কিন্তু সেই তালিকায় ছিল না পানিহাটির (Panihati) নাম। প্রার্থী তালিকা ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে পানিহাটি থেকে পদ্ম শিবিরের হয়ে নিজেই প্রার্থী হওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন আরজি করের নির্যাতিতার মা। তাতেই নাকি তৈরি হয়েছে সমস্যা।

    ঘোষণা হয়নি পানিহাটির প্রার্থীর নাম

    শুরু থেকেই আরজি করের নির্যাতিতার পরিবারকে প্রার্থী হিসাবে পাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল বিজেপি নেতৃত্ব। কিন্তু নির্যাতিতার পরিবার এত দিন সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। তাই সকলের ধারণা ছিল পানিহাটিতে বিজেপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসাবে নাম থাকবে দলের পুরনো নেতা তথা রাজ্য বিজেপির সহ সভাপতি অনিন্দ্য (রাজু) বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কিন্তু বুধবার বিকেলের পর থেকে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে যায়। কারণ নির্যাতিতার মা ভোটে দাঁড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। নির্যাতিতার মা ভোটে বিজেপির প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা করতেই তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে নাগরিক সমাজের মধ্যে। এদিকে নির্যাতিতা ও তাঁর আত্মীয়দের নাম প্রকাশ নিয়ে আইনি জটিলতার কারণেই নাকি পানিহাটিতে প্রার্থী নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না পদ্ম শিবির।

    প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ নির্যাতিতার মায়ের

    নির্যাতিতার মায়ের কথায়, ‘‘আমিই সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, বিজেপির প্রার্থী হিসাবে আমি লড়তে চাই। অনেক দিন ধরেই আমাকে প্রার্থী হতে বলা হচ্ছিল। আমি রাজি ছিলাম না। কিন্তু আমি দেখলাম যে, নারীদের নিরাপত্তা, নারী সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হলে, আর পশ্চিমবঙ্গকে রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে যাওয়া দুর্নীতি থেকে মুক্তি দিতে হলে তৃণমূলকে মূল থেকে উপড়ে ফেলা দরকার। তাই আমি বিজেপিতে যোগ দিয়েছি এবং প্রার্থী হতে রাজি হয়েছি।’’ কিন্তু তৈরি হল আইনি জট। আসলে ২০১৮-র নিপুণ সাক্সেনা কেসে, সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল, যৌন নির্যাতনের শিকার নারী বা শিশুর পরিচয় মিডিয়ায় প্রকাশ নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

    আরও পড়ুন: গভীর সঙ্কটে HDFC ব্যাঙ্ক? এবার মুখ খুলল RBI

    পরবর্তী সময়ে ২০২৪-এর ২১ আগস্ট অভয়ার নাম-পরিচয় প্রকাশ বন্ধের জন্য একটি মামলায় সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানায়, ধর্ষণের শিকার কোনও মেয়ের পরিচয় প্রকাশ করা যাবে না। কেন্দ্রকে নির্দেশ দেয়, ওই তরুণীর পরিচয় প্রকাশ্যে আসে, এমন সব ছবি–ভিডিয়ো ইত্যাদি সোশ্যাল ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে দিতে হবে। আর সেক্ষেত্রে নির্যাতিতার মা প্রার্থী হলে তাঁর নামে দেওয়াল লিখন বা ব্যানার পোস্টারে ছবি ছাপা হবে কী ভাবে সেই নিয়ে ওঠে প্রশ্ন। নির্যাতিতার বাবা বলেন, ‘আমরা প্রকাশ্যে আসতে চাই। আমরা পরিচয় প্রকাশ্যে আনতে আদালতে দু’বার হলফনামা দিয়েছি। কিন্তু তা আদালত খারিজ করে দিয়েছে।’ এখন দেখার কীভাবে এই আইনি জট কাটে।

  • বাংলায় প্রচারের ঝাঁঝ বাড়াচ্ছেন মোদী, করবেন ১২ টি সভা, কোথায় কোথায়?

    বাংলায় প্রচারের ঝাঁঝ বাড়াচ্ছেন মোদী, করবেন ১২ টি সভা, কোথায় কোথায়?

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বহু প্রতীক্ষার পর গত রবিবার নির্বাচন কমিশন বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) নির্ঘণ্ট ঘোষণা করে দিয়েছে। আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল দুই দফায় রাজ্যে সংগঠিত হবে ভোট। তাই স্বাভাবিকভাবেই তুমুল ব্যস্ততা শুরু হয়েছে জেলায় জেলায়। দেওয়াল লিখন, প্রচার কোনটাতেই ত্রুটি রাখছে না রাজনীতিবিদরা। এমতাবস্থায় ফের বঙ্গে আসতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গ মিলিয়ে কমপক্ষে তিনি ১২ জনসভা করতে পারেন বলে জানা গিয়েছে।

    ১২টি জনসভা মোদীর

    ভোটের দিনক্ষণ প্রকাশ্যে আসতেই তৃণমূল থেকে বিজেপি, সিপিআইএম- প্রায় সব দল প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে। নির্বাচন কমিশন ভোটের দিন ঘোষণার পরই রাজ্যের ২৯১ আসনের পূর্ণাঙ্গ প্রার্থীতালিকা ঘোষণা করেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপি ও সিপিআইএমও তাদের প্রথম দফার প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে। তার উপর জেলায় জেলায় চলছে দলবদলের পালা। এই অবস্থায় কর্মীদের শক্তি জোগাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রাজ্যে অন্তত ১২টি জনসভা করতে চলেছেন৷ যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে৷

    কোথায় কোথায় সভা হওয়ার সম্ভাবনা?

    কয়েকদিন আগেই ব্রিগেডে মহাসভা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। অসংখ্য লোকের ভিড় দেখা গিয়েছে সেখানে। আর এবার উত্তরবঙ্গে ৩টি ও দক্ষিণবঙ্গে ৯টি জনসভা করতে চলেছেন মোদী। দলীয় সূত্রে খবর উত্তরবঙ্গে কোচবিহার, শিলিগুড়ি ও বালুরঘাটে সভা হবে। এরপর দক্ষিণবঙ্গের খড়গপুর, কাঁথি, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, বীরভূম, হাওড়া, দুই ২৪ পরগনায় তাঁর সভা করার কথা রয়েছে। অর্থাৎ মোট ১২টি সভা করতে পারেন। শোনা যাচ্ছে শুভেন্দু অধিকারীর সমর্থনে কাঁথিতে একইভাবে খড়গপুরে দিলীপ ঘোষের সমর্থনে সভা করার কথা মোদীর। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও ততধিক সভা করতে আসবেন বলে জানা গিয়েছে।

    আরও পড়ুন: লটারি লাগল রেল কর্মীদের! ৫০% DA বৃদ্ধির পর এবার ২৫ শতাংশ বাড়ছে KMA

    প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দলের সাংগঠনিক দশটি বিভাগের মধ্যে ৭টি বিভাগে সভা ইতিমধ্যেই করেছেন। যার মধ্যে আলিপুর, দমদম, দুর্গাপুর, তাহেরপুর, মালদহ, সিঙ্গুর ও ব্রিগেড উল্লেখযোগ্য ৷ তাই এবার বাকি এলাকাগুলিকে টার্গেট করা হচ্ছে। একটাই লক্ষ্য গেরুয়া শিবিরের প্রচার আরও বিস্তৃত করা৷ এছাড়া, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও রাজ্যে একাধিক জনসভা করবেন বলে জানা গিয়েছে৷ যদিও কিছুই এখনও সরকারিভাবে ঘোষণা হয়নি।

  • আশীর্বাদ নিয়ে মায়ের বিরুদ্ধেই লড়াইয়ে নামলেন ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির তৃণমূল প্রার্থী রঞ্জন

    আশীর্বাদ নিয়ে মায়ের বিরুদ্ধেই লড়াইয়ে নামলেন ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির তৃণমূল প্রার্থী রঞ্জন

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনে (West Bengal Election 2026) বড় চমক! এবার শিলিগুড়িতে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির বিজেপি প্রার্থী ‘মা’য়ের প্রতিদ্বন্দ্বী হলেন তৃণমূল প্রার্থী ‘ছেলে’। জানা গিয়েছে এই বিধানসভা আসনে এবার বিজেপি প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছেন শিখা চট্টোপাধ্যায়। এবং তাঁর বিরুদ্ধে রাজ্যের শাসকদল প্রার্থী করেছে তাঁর ছেলে রঞ্জন শীল শর্মাকে (Ranjan Shil Sharma)। তাই সেই প্রচারের শুরুতেই মায়ের আশীর্বাদ নিতে বৃহস্পতিবার সকাল সকাল শিখা দেবীর দরবারে গেলেন ছেলে রঞ্জন।

    বিজেপি প্রার্থীকে প্রণাম করে প্রচারে তৃণমূল প্রার্থী

    বিজেপি প্রার্থী শিখা চট্টোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেসে থাকাকালীন তাকে মা বলে ডাকতেন তৃণমূল নেতা রঞ্জন শীল শর্মা। এবার সেই মায়ের বিরুদ্ধেই তিনি ডাবগ্রাম-ফুলবাড়িতে তৃণমূলের প্রার্থী হলেন। যা নিয়ে শুরু হয়েছে বেশ চর্চা। যদিও দলীয় এবং রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও মা-ছেলের সম্পর্কের ভালোবাসা এখনও অটুট রয়েছে। তাই আজও রঞ্জন শীল শর্মা, শিখাকে ‘মা’ বলেই ডাকেন। ঠিক তেমনই আবার রঞ্জনকেও নিজের ছেলের মতোই ভালোবাসেন শিখা। তাইতো ভোটের আগে মায়ের আশীর্বাদ নিয়েই মায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রচার শুরু করলেন রঞ্জন। পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করে কৌশলে ছেলে আবার জানিয়ে দিলেন এবার হারছেন মা। জিতবে ছেলেই।

    কী বলছেন রঞ্জন শীল শর্মা?

    সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রঞ্জন বলেন, “মায়ের আশীর্বাদ নিলাম। কিন্তু এটা মমতা বন্দোপাধ্যায়ের লড়াই। এলাকার আশা-আকাঙ্খা পূরণ করতে পারেননি মা। ভোটের ফল দেখবেন।” এছাড়াও রঞ্জন বার্তা দেন জিতলেই ডাবগ্রাম-ফুলবাড়িব চারটি গ্রাম পঞ্চায়েতকে নিয়ে পুরসভা করা হবে। এছাড়াও এদিন নিউ জলপাইগুড়ি পৌঁছে কর্মীদের সঙ্গে ভোট প্রচার নিয়ে বৈঠক করেন। অন্যদিকে শিখা চট্টোপাধ্যায় বলেন, “এটা ধর্মের লড়াই । এখানে ব্যক্তিগত কিছু নয়। তবে তৃণমূল কংগ্রেস যেখানে যেখানে পারে না সেখানে পরিবারের মধ্যে রাজনীতি ঢুকিয়ে দেয়। ঠাকুর বাড়িতেও ঢুকিয়েছে। কিন্তু ধর্মের জয় হবে। এবারও বিজেপি জিতবে। আমি ছেলেকে ধর্মের রাস্তায় আনতে পারলাম না এটা আমার অক্ষমতা।”

    আরও পড়ুন: ভোটের আগে অন্য খেলা! শুভেন্দু হাইকোর্টে যেতেই শোরগোল

    প্রসঙ্গত, ২০১১ ও ২০১৬ সালে পরপর দুইবার ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি থেকে জয় লাভ করেছিলেন তৃণমূলের গৌতম দেব। কিন্তু ২০২১ সালে শিখা চট্টোপাধ্যায় টিকিট না পাওয়ায় দল ছেড়েছিলেন। এরপরই প্রয়াত মুকুল রায়ের হাত ধরে তিনি বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। তারপর ওই কেন্দ্রে গৌতম দেবকে বিপুল ভোটে পরাজিত করেন শিখা চট্টোপাধ্যায়। এখন দেখার এই কেন্দ্রে মা ও ছেলের মধ্যে কে বিপুল ভোটে জয় লাভ করে। অন্যদিকে, পাঁশকুড়া পূর্ব বিধানসভার বিদায়ী বিধায়ক তথা মন্ত্রী বিপ্লব রায়চৌধুরীর বাড়িতেও আশীর্বাদ নিতে যান সেখানকার তৃণমূলের প্রার্থী অসীম মাজি।

  • হাড়োয়ায় উদ্ধার তৃণমূল নেতার ক্ষতবিক্ষত দেহ! গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে খুন? উত্তেজনা এলাকায়

    হাড়োয়ায় উদ্ধার তৃণমূল নেতার ক্ষতবিক্ষত দেহ! গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে খুন? উত্তেজনা এলাকায়

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) নির্ঘণ্ট বেজে গিয়েছে। জেলায় জেলায় প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে দেওয়াল লিখন। কিন্তু এই অবস্থায় ভোটের আগেই রক্ত ঝড়ল বাংলায়। তৃণমূল নেতাকে কুপিয়ে খুন করা হল। উদ্ধার করা হল দেহটি (TMC Worker Body)।ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার হাড়োয়ার (Haroa) সোনাপুকুর শংকরপুরে। ঘটনায় রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। তদন্তে নেমেছে পুলিশ।

    ভোটের আগেই খুন এক তৃণমূল কর্মী

    রিপোর্ট মোতাবেক, উত্তর ২৪ পরগনার হাড়োয়ার সোনাপুকুর শংকরপুরের তৃণমূল নেতা মশিউর কাজী বুধবার রাত থেকে নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের দাবি, রাতে তাঁকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু অনেক সময় পেরিয়ে গেলেও সে বাড়ি আসেনি। কিন্তু পরে আজ, বৃহস্পতিবার সকালে হাড়োয়া থানা এলাকার সোনাপুকুর শংকরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের নব্বই পাট ঘেরির পাশ থেকে ওই কর্মীর ক্ষতবিক্ষত ও অর্ধনগ্ন মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ এবং হাড়োয়া গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মশিউরের দুই হাতের কব্জি কাটা ছিল এবং সারা শরীরে গভীর ক্ষতের চিহ্ন রয়েছে। কান্নায় ভেঙে পড়ে গোটা পরিবার।

    ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন!

    মৃত তৃণমূল কর্মী মশিউর কাজী রাজনীতি করার পাশাপাশি পেশায় জামাকাপড়ের ব্যবসায়ী ছিলেন। এবং দেগঙ্গার চাঁপাতলা পঞ্চায়েতের ১৭৮ নম্বর বুথের বুথ সভাপতি ছিলেন। পুলিশের তরফে প্রথমে ওই কর্মীর পরিচয় জানা যায়নি। পরে পরিবারের লোকজন দেহ শনাক্ত করেন। তাঁদের দাবি, চক্রান্ত করে ডেকে খুন করা হয়েছে মশিউর কাজীকে। ভোটের মুখে তৃণমূল নেতার দেহ উদ্ধারের ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে অত্যন্ত নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে তাঁকে। কে বা কারা এই খুন করল, তা জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। এমনকি গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের সম্ভাবনাও উঠে আসছে।

    আরও পড়ুন: ভারতের সবথেকে সস্তার শহর কলকাতা, খরচ কত? দেখুন রিপোর্ট

    প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই বঙ্গ সফরে এসেছিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। সেই সময় বৈঠকে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে ভোটে হিংসা ও ভোট পরবর্তী হিংসা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে বদ্ধপরিকর কমিশন। তাই কোনও ধরনের গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না। কিন্তু ভোট শুরু হওয়ার আগেই বাংলায় তৃণমূল কর্মী খুন হওয়ায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছে কমিশন।

  • ‘বিরোধী নেই, আমি নিজেই প্রতিদ্বন্দ্বী’ বিপক্ষকে পাত্তাই দিতে নারাজ ইন্দ্রনীল সেন

    ‘বিরোধী নেই, আমি নিজেই প্রতিদ্বন্দ্বী’ বিপক্ষকে পাত্তাই দিতে নারাজ ইন্দ্রনীল সেন

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর ভোটযুদ্ধ (West Bengal Election 2026) শুরু হয়ে গিয়েছে জেলায় জেলায়, রবিবার নির্বাচন কমিশনের দিন ঘোষণার পরেই সোমবার প্রথম দফার প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছিল গেরুয়া শিবির। ঠিক তার পরের দিনই অর্থাৎ মঙ্গলবার ২৯৪ টি কেন্দ্রের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ্যে আনে তৃণমূল (Trinamool Congress)। সেই তালিকায় যেমন নতুন মুখ দেখা গিয়েছিল ঠিক তেমনই আবার বেশ কিছু পুরোনো মুখও ছিল। যার মধ্যে অন্যতম হলেন ইন্দ্রনীল সেন (Indranil Sen)। টানা তৃতীয়বারের জন্য চন্দননগর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হিসেবে জয়ের গান গাইলেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী ইন্দ্রনীল সেন।

    হ্যাটট্রিকের পথে ইন্দ্রনীল সেন

    মঙ্গলবার ঘোষণা করা হয়েছিল তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা। সেখানে তৃতীয়বারের জন্য তৃণমূলের প্রার্থী হলেন ইন্দ্রনীল সেন। ২০১৬ সালে প্রথম চন্দননগর বিধানসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হন সংগীত শিল্পী ইন্দ্রনীল সেন। সেখান থেকেই জয়লাভ করে বিধায়ক হন। এরপর ২০২১ সালেও চন্দননগর থেকেই প্রার্থী হয়ে জয়লাভ করেন ইন্দ্রনীল। আর এবার ২০২৬ এর লক্ষ্যে বিধানসভা ভোটে চন্দননগর বিধানসভায় ইন্দ্রনীলের উপরেই ভরসা রাখল তৃণমূল কংগ্রেস। তাই সেই ভরসার দাম দিতে রীতিমত চন্দননগরে ঘর গোছাতে শুরু করলেন তিনি। যদিও তাঁর বিশ্বাস এবার সে হ্যাটট্রিক গড়বেই।

    সাংবাদিকদের সঙ্গে মুখোমুখি ইন্দ্রনীল

    রিপোর্ট মোতাবেক গতকাল অর্থাৎ বুধবার চন্দননগরের কলুপুকুরধার এলাকার একটি লজে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করেন ইন্দ্রনীল। তারপরেই সাংবাদিকদের সঙ্গে মুখোমুখি তিনি বলেন, “চন্দননগরে একাধিক উন্নয়ন হয়েছে। তবু যদি কেও মনে করেন আরও কিছু কাজ হওয়ার দরকার ছিল, সেই কাজ গুলি হয়নি। তবে সেই কাজের লিস্ট আপনারা পাঠাবেন করে দেব। আগামী দিন আর কী কী কাজ হবে তা সবাইকে নোটিস দিয়ে এবং সাংবাদিক বৈঠকের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে।” এছাড়াও তিনি বুঝিয়ে দিলেন, চন্দননগরে তাঁর লড়াই কোনও নির্দিষ্ট দলের বিরুদ্ধে নয়, বরং নিজের উন্নয়নের রেকর্ডের সঙ্গেই।

    আরও পড়ুন: স্বপ্না বর্মণের জীবনে শোকের ছায়া, বাবাকে হারিয়ে ভেঙে পড়লেন তৃণমূলের প্রার্থী

    এলাকার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে সিপিএম প্রার্থীর করা অভিযোগকে উড়িয়ে দিয়ে ইন্দ্রনীল সেন জানিয়েছেন, “ওঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা উচিত। ওঁর চক্ষু পরীক্ষা করা উচিত। তাঁর জন্য সরকারি হাসপাতাল রয়েছে। স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্প রয়েছে। স্বাস্থ্য বীমা রয়েছে। তার পরেও যদি আমার কোনও ব্যক্তিগত সাহায্য দরকার হয়, আমি করব।” এছাড়াও ভোটের ময়দানে কর্মীদের একগুচ্ছ পরামর্শ দেন ইন্দ্রনীল। তাঁর কথায়, “বিরোধী নেই, আমি নিজেই আমার প্রতিদ্বন্দ্বী। সবাইকে বলব শরীর সুস্থ রাখুন। সম্পর্ক সবার সাথে ভাল রাখুন। ভোটাররা যাতে ভোট দিতে পারে সেদিকে নজর দিন। সকলে যেন নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে সেদিকে নজর দিন।”

  • মমতা, শুভেন্দুর বিরুদ্ধে মুসলিম ক্যান্ডিডেট! ভবানীপুরে কাকে প্রার্থী করলেন হুমায়ুন?

    মমতা, শুভেন্দুর বিরুদ্ধে মুসলিম ক্যান্ডিডেট! ভবানীপুরে কাকে প্রার্থী করলেন হুমায়ুন?

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ঘোষণা হয়ে গিয়েছে ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) দিন। আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল দুই দফায় রাজ্যে হবে ভোট। এদিকে তৃণমূল বিজেপি এবং লাল শিবির প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে দিয়েছে। এমতাবস্থায় আর দেরি না করে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করল হুমায়ুন কবীরের জনতা উন্নয়ন পার্টি (Candidate Lists Of Humayun Kabir Party)। জানা গিয়েছে, তাঁরা এবার ১৮২টি আসনে প্রার্থী দিচ্ছে তাঁরা।

    দুই জায়গার প্রার্থী হলেন হুমায়ুন কবীর

    গতকাল অর্থাৎ বুধবার, জনতা উন্নয়ন পার্টির ১৫ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছেন হুমায়ুন কবীর। এদিন সাংবাদিক বৈঠক করে হুমায়ুন জানিয়েছেন, “আমরা ১৮২টি আসনে প্রার্থী দিচ্ছি। বাকি প্রার্থী তালিকা আগামী ২২ মার্চ তারিখ প্রকাশ করা হবে।” এছাড়াও তিনি জানিয়েছেন ‘মিম’ অর্থাৎ অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমীনের সঙ্গেও আসন সমঝোতা চলছে। তাঁদের নাকি কয়েকটি আসন ছাড়া হয়েছে, তারা সেখানে লড়বে। কিন্তু সূত্রের খবর, এবার হুমায়ুন কবীর লড়বেন না ভরতপুর থেকে। শুভেন্দু অধিকারী যেমন নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর থেকে লড়বেন, ঠিক তেমনই হুমায়ুন কবীরও মুর্শিদাবাদের রেজিনগর এবং নঁওদা থেকে লড়বেন।

    কে কোথায় লড়ছেন?

    জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী তালিকা অনুযায়ী, বর্ধমান পূর্বস্থলী উত্তর থেকে লড়াই করবেন বাপন ঘোষ। ইয়াসিন হায়দার কান্দি থেকে লড়াই করবেন। মালতীপুর থেকে আবদুল মিনাজ শেখ, বেলডাঙা থেকে সৈয়দ আহমেদ কবীর, মানিকচক থেকে আবু শইদ, মালদহ রতুয়া থেকে রয়াল ইসলাম, সুজাপুর থেকে নাসিমুল হক, ভরতপুর থেকে সৈয়দ খুবাইব আমিন সাহেব, বেহালা পূর্ব থেকে অনুপম রোহদগীর, ফরাক্কা থেকে ইমতিয়াজ মোল্লা, হরিহর পাড়া থেকে বিজয় শেখ এবং ভবানীপুর আসনে একজন অবাঙালি মুসলিমকে বেছে নেওয়া হয়েছে। তাঁর নাম আগামী ২২ তারিখে প্রকাশ্যে আসবে।

    আরও পড়ুন: স্বপ্না বর্মণের জীবনে শোকের ছায়া, বাবাকে হারিয়ে ভেঙে পড়লেন তৃণমূলের প্রার্থী

    সূত্রের খবর, তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা থেকে বেশ কয়েকজন মুসলিম বিধায়কের নাম বাদ পড়েছে এবার তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইছেন হুমায়ুন। তাঁর লক্ষ্য তৃণমূলকে উচিত শিক্ষা দেওয়া এবং রাজ্যের মুসলিম ভোট এক করা। এর আগে সিপিআইএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের সঙ্গে জোট গঠনের জন্য সাক্ষাৎ করেছিলেন হুমায়ুন। কিন্তু তা ফলপ্রসূ হয়নি। উল্টে এই নিয়ে সিপিআইএমের অন্দরে শুরু হয়েছে বিতর্ক। একজন দেখার বিজেপি দ্বিতীয় দফা ভোটের জন্য কাকে কাকে প্রার্থী তালিকায় জায়গা দেয়।

  • স্বপ্না বর্মণের জীবনে শোকের ছায়া, বাবাকে হারিয়ে ভেঙে পড়লেন তৃণমূলের প্রার্থী

    স্বপ্না বর্মণের জীবনে শোকের ছায়া, বাবাকে হারিয়ে ভেঙে পড়লেন তৃণমূলের প্রার্থী

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ক্রমেই এগিয়ে আসছে ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026), কিন্তু তার আগেই ঘটে গেল এক ভয়ংকর বিপদ। উত্তরবঙ্গের রাজগঞ্জ কেন্দ্রের প্রার্থী হওয়ার পরই বড় ধাক্কা খেলেন অ্যাথলিট কন্যা স্বপ্না বর্মন (Swapna Barman)৷ দীর্ঘ অসুস্থতার পর বুধবার রাতে বাবাকে হারালেন (Swapna Barman Father Passes Away) রাজগঞ্জের তৃণমূল প্রার্থী৷ শোকের ছায়া নেমে এল পরিবারে। পাশে দাঁড়ালেন তৃণমূল নেতা নেত্রীরা।

    মারা গেলেন স্বপ্না বর্মনের বাবা

    আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে মাথায় রেখেই গত মঙ্গলবার তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হয়েছে। আর সেই তালিকায় উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে উঠে এল নয়া মুখ স্বপ্না বর্মন। জানা গিয়েছে জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে দাঁড়াতে চলেছেন এই অ্যাথলিট কন্যা। রাজনীতির দুনিয়ায় প্রথমবার ভোটে দাঁড়িয়ে বেশ খুশি তিনিও। কিন্তু এসবের মাঝেই বড় দুর্যোগ নেমে এল তাঁর পরিবারে। জানা গিয়েছে গতকাল, বুধবার রাতে ৭২ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন স্বপ্না বর্মনের বাবা। শোকের ছায়া নেমে এসেছে বর্মন পরিবারে, মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছেন স্বপ্নাও৷

    দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন স্বপ্না!

    সূত্রের খবর, স্বপ্না বর্মনের বাবা পঞ্চানন বর্মন গত বৃহস্পতিবার রাতে ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তড়িঘড়ি ওইদিন রাত প্রায় তিনটের সময় কালিয়াগঞ্জের বাড়ি থেকে পঞ্চাননকে জলপাইগুড়ি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল। এরপর নিউরোলজিক্যাল চিকিৎসার জন্য পরেরদিন, শুক্রবার দুপুরে তাঁকে শিলিগুড়ির একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল। এদিকে ওইদিনই সকালে দুইবার তাঁর হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল। অবস্থা অত্যন্ত সংকটপূর্ণ ছিল। বিশেষ মেডিকেল টিম বানিয়ে তাঁর চিকিৎসার সমস্ত ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু সব চেষ্টাই বৃথা হয়ে গেল।

    আরও পড়ুন: সুরক্ষায় নয়া রেকর্ড গড়ল রেল, ৩০০০ কিমিতে চালু ‘কবচ’, কাজ চলছে আরও ২০০০০ কিমিতে

    এশিয়ান গেমসে সোনা জয়ের লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরেই নানা সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে নিজেকে গড়ে তুলেছেন স্বপ্না বর্মন। দারিদ্র্য, অভাব-অনটন নিয়ে সংসার চালিয়েছিলেন তাঁর বাবা। শেষে সব কিছু পেরিয়ে দেশের হয়ে সোনা জয়ের গল্প ইতিমধ্যেই বহু মানুষের কাছে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। আর এবার স্বপ্না আরও একটি অধ্যায় শুরু করতে চলেছে একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে। কিন্তু সেই নতুন অধ্যায়ের সূচনা প্রাণের প্রিয় মানুষকে হারিয়ে রীতিমত কান্নায় ভেঙে পড়েছেন তিনি। এদিকে রাজগঞ্জ কেন্দ্রকে ঘিরে রাজনৈতিক লড়াইও ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। এখন দেখার এই সবকিছুকে ছাপিয়ে স্বপ্না জয়ের লক্ষ্যে কতটা এগিয়ে যেতে পারে।

  • একসময় বিজেপিতে আস্থা দেখিয়েছিল ভবানীপুর, জিতেছিল গেরুয়া শিবির

    একসময় বিজেপিতে আস্থা দেখিয়েছিল ভবানীপুর, জিতেছিল গেরুয়া শিবির

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বাংলায় ভোটের আখড়া রীতিমত জমে উঠেছে। রবিবার নির্বাচন কমিশনের ভোটের (West Bengal Election 2026) দিনক্ষণ ঘোষণার পরেই পরেরদিন সোমবার, বিজেপি প্রথম দফার প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে। আর সেই তালিকায় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে দেখা গিয়েছে ভবানীপুর (Bhabanipur) এবং নন্দীগ্রামের প্রার্থী হতে। অন্যদিকে গতকাল, তৃণমূল কংগ্রেস প্রকাশ্যে এসেছে সম্পূর্ণ ভোটার তালিকায়। উল্লেখ্যযোগ্য বিষয় হল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এবার ভবানীপুর থেকে ভোটে দাঁড়াতে চলেছেন। অর্থাৎ নন্দীগ্রামের হাইভোল্টেজ লড়াই এবার দেখা যাবে ভবানীপুরে।

    ভবানীপুরে জোর টক্কর তৃণমূল বিজেপির

    ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম কেন্দ্র থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। মমতাকে ১৯৫৬ ভোটে পরাজিত করেছিলেন শুভেন্দু। প্রতি মুহূর্তে সেই সংখ্যা জাহির করে প্রায়ই নিজের প্রশংসা করেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এবারেও শুভেন্দু দাবি করেছেন যে ২০২১-এ তাঁর কাছে নন্দীগ্রামে যেভাবে হারতে হয়েছিল মমতাকে, ২০২৬ এ ভবানীপুরে তার পুনরাবৃত্তি হবে। কিন্তু ইতিহাস বলছে, ভবানীপুর দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি। তাই মমতাকে হারাতে গেলে অনেক কষ্ট করতে হবে। কিন্তু এর মাঝেও উঠছে উল্টো হিসেব, কারণ একসময় কিন্তু বিজেপিও ভবানীপুরে জিতেছিল।

    ভবানীপুরে জিতেছিল বিজেপি!

    রিপোর্ট অনুযায়ী জানা যাচ্ছে, ২০১১ সালের পর থেকে ভবানীপুর কেন্দ্রে একাধিকবার জিতেছিল শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। ২০১১ ও ২০২১ সালের উপনির্বাচন এবং ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জিতেছিল তৃণমূল। যদিও ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ভালো ফল করতে পারেনি তৃণমূল, উল্টে গেরুয়া শিবির কম ভোট পেলেও হারিয়েছিল শাসকদলকে। রিপোর্ট বলছে ২০১৪ এর লোকসভা নির্বাচনে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে সর্বমোট ১৮৫ ভোটে জিতেছিল বিজেপি (যদিও সেটি আসন জয় নয়, তবে সেবার ভবানীপুরে প্রথমবার এমন পটপরিবর্তন দেখা গিয়েছিল)। যদিও ওই একটি বারই, গত ১৫ বছরে মোট ৮টি নির্বাচনের মধ্যে ৭টিতেই তৃণমূল জয়ী বা এগিয়ে ছিল। ফলে এই কেন্দ্র এখনও তৃণমূলের ঘাঁটি বলেই ধরা হয়।

    আরও পড়ুন: বাংলায় ফের বড় অ্যাকশন কমিশনের, পাঁচ DIG সহ ১১ DM-কে সরাল কমিশন

    বেশ কয়েকটি সংবাদ প্রতিবেদনে শোনা যাচ্ছে, ভবানীপুরে প্রায় ৪০% বাঙালি ভোটার, সমসংখ্যক গুজরাতি, মারওয়ারি, বিহারি ও অন্যান্য রয়েছে এছাড়াও মুসলিম ভোটারের পরিসংখ্যানও এখানে ২০%। এই মিশ্র সামাজিক গঠন নির্বাচনের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা নেয়। সেক্ষেত্রে দুই দলের মধ্যে কোন দল জিতবে সেই নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। যদিও তৃণমূল এবং বিজেপি দুজনেই আশা রাখছে তারাই জিতবে। এখন দেখার মমতা বনাম শুভেন্দুর লড়াইয়ের টক্করে কে জেতে।