Tag: West Bengal Election 2026

  • দলবদলেই ক্যানিং পূর্বে ISF প্রার্থী হলেন আরাবুল ইসলাম

    দলবদলেই ক্যানিং পূর্বে ISF প্রার্থী হলেন আরাবুল ইসলাম

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026) নিয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি রাজ্য রাজনীতিতে। একের পর এক প্রার্থী তালিকা প্রকাশ্যে আসতেই ভোটের উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। আর এই অবস্থায় দলবদল করে কপাল খুলল ভাঙড়ের প্রাক্তন বিধায়ক তথা ‘তাজা নেতা’ আরাবুল ইসলাম (Arabul Islam)। নিজের পছন্দ মত আসনে প্রার্থী হলেন আরাবুল। জানা গিয়েছে শওকত মোল্লার বিপরীতে ভাঙড় থেকে দাঁড়াতে চলেছেন তিনি। তুমুল উচ্ছ্বাস দেখা গিয়েছে আরাবুল ইসলামের অনুগামীদের মধ্যে।

    ভাঙর থেকে প্রার্থী হলেন আরাবুল!

    তৃণমূল ছেড়ে সম্প্রতি ISF-এ যোগ দিয়েছেন ভাঙড়ের প্রাক্তন বিধায়ক ‘তাজা নেতা’ আরাবুল ইসলাম। আর দলে যোগদান করতেই প্রত্যাশা মতোই তাঁকে ক্যানিং পূর্ব থেকে প্রার্থী করল ISF। আজ অর্থাৎ সোমবার ফুরফুরা শরিফ থেকে প্রথম দফা প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে ISF। প্রথম দফায় ২৩টি আসনের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। ISF-এর প্রার্থী তালিকায় ৩০ শতাংশেরও বেশি হিন্দু প্রার্থী রয়েছে। অন্যদিকে ISF বামফ্রন্টের সঙ্গে জোট বেঁধে লড়াই করার কথা বলেছিলেন। তবে চারটি আসন নিয়ে এখনও জটিলতা কাটেনি।

    ২৩ আসনের মধ্যে ISF এর হিন্দু প্রার্থী ঘোষণা

    আজ যে সমস্ত আসনে ISF প্রার্থী ঘোষণা করেছে সেগুলি হল- মালদার সুজাপুর, নদিয়ার পলাশিপাড়া ও চাপড়া, উত্তর ২৪ পরগনার বাদুরিয়া, অশোকনগর, আমডাঙ্গা, মধ্যমগ্রাম, দেগঙ্গা, হাড়োয়া ও বসিরহাট। এখনও পর্যন্ত ২৩ আসনের মধ্যে ISF এর হিন্দু প্রার্থী হলেন ৭ জন। এঁরা হলেন, অশোকনগরের প্রার্থী তাপস বন্দ্যোপাধ্যায়, আমডাঙার বিশ্বজিৎ মাইতি, মধ্যমগ্রামের প্রাক্তন এসএফআই নেত্রী প্রিয়াঙ্কা বর্মন, ক্যানিং পশ্চিমে প্রবীর মণ্ডল, শালবনির পীযূষ হাঁসদা, বারাবনিতর বিশ্বজিৎ বাউড়ি এবং বোলপুরে অধ্যাপক বাপি সরেন।

    ভাঙরে শুধু হাড্ডাহাড্ডির লড়াই

    আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ক্যানিং পূর্বের বিদায়ী বিধায়ক শওকত মোল্লাকে ভাঙড় থেকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল তিনি ভাঙড়ে তৃণমূলের পর্যবেক্ষক থাকাকালীন বার বার আরাবুলের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়তেন, এখন সেই প্রতিপক্ষ হিসেবে নির্বাচনে লড়তে চলেছেন। অন্যদিকে ISF এর প্রার্থী হিসেবে দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলপিতে আব্দুল মালেক মোল্লা, ক্যানিং পশ্চিমে প্রবীর মণ্ডল, ক্যানিং পূর্বে আরাবুল, মগরাহাট পশ্চিমে আব্দুল আজিজ আল হাসান এবং ভাঙড়ে নওশাদ দাঁড়াতে চলেছেন।

    আরও পড়ুন: শিয়ালদা-হাওড়া লাইনে সেতুর সংস্কার, ট্র্যাকে নতুন প্রযুক্তি, একগুচ্ছ পদক্ষেপ পূর্ব রেলের

    প্রসঙ্গত, ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনে ISF এর সঙ্গেই জোট বাঁধল বাম। কিন্তু এখনও কাটেনি চারটি আসন নিয়ে জট! দীর্ঘদিন ধরেই বামফ্রন্টের সঙ্গে জোট বাঁধার ইচ্ছেপ্রকাশ করেছেন নওশাদ। আজ শেষমুহূর্তে প্রার্থী তালিকা প্রকাশের কথা ছিল আইএসফের। কিন্তু নওশাদ জানালেন, একদিন সময় চেয়েছে বামেরা। সেই কারণেই আজ নয়, আগামিকাল তালিকা প্রকাশ করবেন তিনি। সাংবাদিকদের কাছে বিধায়ক জানিয়ে দেন, “সাত মাস বামেদের সঙ্গে জোট নিয়ে আলোচনা চলেছে। আজ একদিন অপেক্ষা করলাম। প্রার্থী তালিকা আজ ঘোষণা করলাম না।”

  • ‘গুলির আওয়াজে প্যান্ট ভিজবে!’ খড়গপুরের আইসিকে হুমকি দিলীপ ঘোষের

    ‘গুলির আওয়াজে প্যান্ট ভিজবে!’ খড়গপুরের আইসিকে হুমকি দিলীপ ঘোষের

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) দিনক্ষণ ঘোষণা হতেই একে একে সকল রাজনৈতিক দলগুলি নিজেদের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে চলেছে। এবারের আসন্ন ভোটে খড়গপুর কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী হয়েছেন দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। আর সেই পুরনো কেন্দ্রে ফিরেই আগ্রাসী ভঙ্গিতে প্রচার শুরু করেছেন তিনি। এমনকি খড়গপুর টাউনের আইসি-কে হুমকি দেয়। যার ফলে খড়গপুরের রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়ে গিয়েছে।

    খড়গপুর আইসিকে হুমকি দিলীপের

    রিপোর্ট মোতাবেক, আজ অর্থাৎ সোমবার খড়গপুর টাউনে নির্বাচনী প্রচার সেরে এক সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়েছিলেন দিলীপ ঘোষ। আর সেখানেই নিজের চেনা ঝাঁঝালো মেজাজ দেখালেন তিনি, শুধু তাই নয়, স্থানীয় থানার আইসি-র বিরুদ্ধে করলেন বিতর্কিত মন্তব্য। মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, ”এখানকার আইসি আমাদের কর্মীদের উঠিয়ে নিয়ে গিয়েছে। বলেছে, তৃণমূলের সঙ্গে কাজ করো, নাহলে চার তারিখের পরে গুলি মেরে দেব। শালা, তোর বাপের গুলি! কতগুলো গুলি আছে তোর কাছে? গুলি দেখেছ? এমন দেখাব যে আওয়াজে প্যান্ট ভিজে যাবে।”

    কী বলছেন দিলীপ ঘোষ?

    সোমবার খড়গপুর টাউনে প্রচারে গিয়ে দিলীপ ঘোষ অভিযোগ করেন খড়গপুরের আইসি বিজেপি কর্মীদের হেনস্তা করছেন এবং তাঁদের তৃণমূলের সঙ্গে কাজ করতে চাপ দিচ্ছেন। তাঁর আরও হুঁশিয়ারি, ”আমি অনেক বড় বড় গুন্ডা দেখেছি। এই খড়গপুরে সব ডাকাতদের সঙ্গে চোখে চোখ রেখে কথা বলেছি। তৃণমূলের নেতারা এসব গুন্ডা, মাফিয়াদের চামচাগিরি করে জিতেছে। এখনও এদের সঙ্গে নিয়ে চলছে। দিলীপ ঘোষ এদের চোখে চোখ রেখে কথা বলেছে আগেও করব। বুক চওড়া করে থাকব, কতগুলি বন্দুক কাছে দেখব। এইসব দাদাগিরি আমাদের দেখাবে না। আগামী দিনেও এমন হিসাব করব হিসাব মেলাতে পারবে না। খড়গপুরে এসব চলবে না।”

    আরও পড়ুন: হাইকোর্টের রায়ে বিরাট স্বস্তি পেলেন শুভেন্দু

    প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির হয়ে দিলীপ ঘোষ প্রথম বার ভোটে লড়েছিলেন খড়্গপুর সদর আসন থেকে। সেই আসনে কংগ্রেসের জ্ঞানসিং সোহনপালকে হারিয়ে জিতেছিলেন তিনি। এরপর ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে মেদিনীপুর আসন থেকে জিতে সাংসদ হয়েছিলেন দিলীপ ঘোষ। তবে গত লোকসভা নির্বাচনে হেরে গেলেও খড়্গপুরের সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ করেননি দিলীপ ঘোষ। তাই এবার ফের সেই একই কেন্দ্র থেকে পুনরায় দিলীপকে প্রার্থী করল দলের শীর্ষ নেতৃত্ব।

  • হাইকোর্টের রায়ে বিরাট স্বস্তি পেলেন শুভেন্দু

    হাইকোর্টের রায়ে বিরাট স্বস্তি পেলেন শুভেন্দু

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ছাব্বিশের রাজ্য বিধানসভা ভোটে (West Bengal Election 2026) আরও একবার মুখোমুখি হতে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এবং শুভেন্দু অধিকারী। তবে এবার সেই লড়াই হতে চলেছে ভবানীপুরে। আর এই আবহে কলকাতা হাইকোর্ট থেকে বড় স্বস্তি পেলেন নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। একটি বিশেষ মামলায় ১২ সপ্তাহের জন্য অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করেছে আদালত।

    অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ হাইকোর্টের

    রিপোর্ট মোতাবেক, ২০২০ সালের ২৯ ডিসেম্বর এক বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে খড়দহ থানার তরফে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করা হয়েছিল। আর সেই মামলাতেই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আর এবার সেই মামলায় বড় স্বস্তি পেলেন তিনি। জানা গিয়েছে, আজ, বিচারপতি অজয় কুমার মুখোপাধ্যায়ের একক বেঞ্চ আপাতত তদন্তে ১২ সপ্তাহের জন্য অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করেছে । অর্থাৎ ভোটের মধ্যে এই মামলা নিয়ে আরও কোনও অস্বস্তির মধ্যে পড়তে হবে না শুভেন্দুকে। মামলার পরবর্তী শুনানি একেবারে ভোটপর্ব মিটলে হবে।

    স্বস্তিতে শুভেন্দু অধিকারী

    বিধানসভা নির্বাচনের আবহে সকলেই এখন বেশ ব্যস্ত, জেলায় জেলায় প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর সকলেই ময়দানে নেমেছে ভোটের প্রচারের জন্য। এই অবস্থায় শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে হওয়া মামলা নিয়ে বেশ চাপে ছিল দল। বিশেষ করে রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই মামলার অগ্রগতি নিয়ে যথেষ্ট নজর ছিল বিভিন্ন মহলের। অবশেষে হাইকোর্টের নির্দেশে অনেকটাই স্বস্তি ফিরল। এখন দেখার, ১২ সপ্তাহ পর ভোটপর্ব মিটলে মামলার পরবর্তী শুনানিতে কলকাতা হাইকোর্ট কী অবস্থান নেয় এবং তদন্ত প্রক্রিয়া কোন পথে এগোয়।

    আরও পড়ুন: মেরেকেটে ৫ দিনের LPG, ৭ দিনের তেল বেঁচে! জ্বালানির দাম ২০০% বাড়াল পাকিস্তান

    প্রসঙ্গত, ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর এবং নন্দীগ্রাম এই দুই গুরুত্বপূর্ণ আসন থেকে লড়াই করছেন শুভেন্দু অধিকারী। ইতিমধ্যেই তিনি প্রচার শুরু করেছেন। অন্যদিকে ভবানীপুরে লড়ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং নন্দীগ্রামে তৃণমূলের হয়ে লড়ছেন পবিত্র কর। এই অবস্থায় মনোনয়ন পত্র পূরণের জন্য এবং আইনি পথ সুরক্ষিত রাখতে নিজেই পুলিশের বিরোধিতায় সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। অভিযোগ নিজের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার সংখ্যা ও বিস্তারিত তথ্য না দিচ্ছে না পুলিশ। অন্যদিকে একই অভিযোগ জানিয়েছেন বিদায়ী বিজেপি বিধায়ক অশোক দিন্দা।

  • ভবানীপুর নিয়ে কর্মীদের কড়া নির্দেশ অভিষেকের, লোডশেডিং প্রসঙ্গ টানলেন মমতা

    ভবানীপুর নিয়ে কর্মীদের কড়া নির্দেশ অভিষেকের, লোডশেডিং প্রসঙ্গ টানলেন মমতা

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: দোরগোড়ায় এসে গিয়েছে ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026), তাই সকল প্রার্থী নাম ঘোষণার পর শুরু করে দিয়েছে ভোটের প্রচার। গতকাল অর্থাৎ রবিবার থেকেই নির্বাচনের প্রচার শুরু করে দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। ত্রুটি রাখছে না কোনো পরিকল্পনায়। এমতাবস্থায় ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের প্রতি কড়া নির্দেশ দিল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফে (Abhishek Banerjee)। অন্তত ৬০ হাজার ভোটে জেতানোর টার্গেট বেঁধে দিলেন অভিষেক।

    বৈঠকে মমতা অভিষেক

    রিপোর্ট মোতাবেক, গতকাল অর্থাৎ রবিবার সন্ধ্যায় চেতলার অহীন্দ্র মঞ্চে কর্মীদের নিয়ে ভবানীপুরের নির্বাচনী সভা ডেকেছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। বৈঠকে ছিলেন তৃণমূল কাউন্সিলর থেকে ব্লক স্তরের নেতানেত্রীরাও। সেখানে সকল কর্মীদের সতর্কবার্তা দিলেন মমতা-অভিষেক। এদিন অভিষেক দলীয় নেতাকর্মীদের শিথিলতা, নিষ্ক্রিয়তা, আত্মতুষ্টিতে না-ভুগে কাজ করার বার্তা দেন। তাঁর স্পষ্ট নির্দেশ, “ কলকাতার মধ্যে ‘ফার্স্টবয়’ করতে হবে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রকে। অন্তত ৬০ হাজার ভোটে জেতাতে হবে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। আর সে ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা নিতে হবে কর্মীদেরই।”

    ভোট প্রচার কৌশল নিয়ে নির্দেশ অভিষেকের

    অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কর্মীদের প্রচার প্রক্রিয়া নিয়ে জানান, “কেন্দ্রীয় বঞ্চনার কথা মানুষের কাছে তুলে ধরুন। ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করছে ওরা সেটা বলুন। একবার নয় মানুষের কাছে তিনবার যান। দিদির ১০ প্রতিজ্ঞার কথা জানান। নিজেদের বুথ আগলাতে হবে অতন্দ্র প্রহরীর মতো। ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে ২৮৭টি বুথ রয়েছে। উপনির্বাচনে মমতা যখন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, তখন ২৩১টি বুথে তৃণমূল জয় পেয়েছিল। এ বার সেই সংখ্যাকে ছাপিয়ে যেতে হবে।” অন্যদিকে নিজের কেন্দ্রের ভোট পরিচালনার ক্ষেত্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মৃদু সমালোচনা করেছেন কাউন্সিলরদের। তাঁর অভিযোগ, কাউন্সিলদের সক্রিয়তা লোকসভা বা বিধানসভা ভোটে দেখা যায় না। কিন্তু এ বার এই ‘কর্মসংস্কৃতি’ বদলাতে হবে, একনিষ্ঠ হয়ে কাজ করতে হবে।

    লোডশেডিং নিয়ে সতর্ক মমতার

    গতবার নন্দীগ্রামে ১৯৫৬ ভোটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়েছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সেবার তৃণমূলের তরফে অভিযোগ করা হয়েছিল, গণনাকেন্দ্রে লোডশেডিং করে গরমিল করেছিল নাকি বিজেপি। তাই এবার তৃণমূল নেত্রীর মুখে সেই প্রসঙ্গ উঠে এল। এবারও নেত্রীর আশঙ্কা, তেমন কিছু ঘটানো হতে পারে। তাই বৈঠকে গতকাল সাবধানবাণী দেন তিনি। মমতা বলেন, ‘সতর্ক থাকুন। ভোট শেষ হলেই বাড়ি যাবেন না। লোডশেডিং করে দিতে পারে। স্ট্রংরুমে নজর রাখবেন।’ অর্থাৎ কে কী করছেন, কী করছেন না কোনও কিছুই দলীয় শীর্ষনেতৃত্বের নজরের বাইরে থাকবে না বলে জানিয়ে দিল শীর্ষ নেতৃত্ব।

    আরও পড়ুন: স্ট্রেচার না পেয়ে হাঁটতে গিয়ে মৃত্যু! ফের আরজি করের ট্রমা কেয়ার নিয়ে চরম অভিযোগ

    প্রসঙ্গত, কয়েক দিন আগে তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী ভবানীপুরের প্রিয়নাথ মল্লিক রোডের কার্যালয়ে তৃণমূল কাউন্সিলরদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন। সেখানে ভোটের প্রচারের রণনীতি ঠিক করে দেওয়ার পাশাপাশি, নতুন একটি স্লোগান ব্যবহার করতে নির্দেশ দেন রাজ্য সভাপতি। আর সেটি হল ‘বাংলার উন্নয়ন ঘরে ঘরে, ঘরের মেয়ে ভবানীপুরে’। এদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উত্তরবঙ্গ সফরে যাচ্ছেন। আগামীকাল সেখানে তাঁর তিনটি জনসভা করার কথা। অন্যদিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও আগামীকাল থেকেই দক্ষিণ ২৪ পরগনায় প্রচারে নামছেন।

  • কমিশনের দুই কর্মীকে গাড়ি থেকে নামিয়ে মারধর তৃণমূলের! দুর্গাপুরে চাঞ্চল্য

    কমিশনের দুই কর্মীকে গাড়ি থেকে নামিয়ে মারধর তৃণমূলের! দুর্গাপুরে চাঞ্চল্য

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বাংলায় বেজে গিয়েছে ভোটের নির্ঘণ্ট (West Bengal Election 2026)। তবে ভোট ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যের নির্বাচন বিধি কড়া ভাবে কার্যকর করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে কমিশন। আর সেই বিধি মেনেই দুর্গাপুরে (Durgapur) সরকারি দেওয়াল থেকে প্রার্থীর নাম মুছতে গিয়ে চরম হেনস্থার শিকার হয়েছেন খোদ নির্বাচন কমিশনারের দুই কর্মী। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। এমনকি অভিযোগের তির উঠছে স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের দিকেই। জানুন ব্যাপারটা।

    ঘটনাটি কী?

    প্রসঙ্গত জানিয়ে রাখি, আগামীকাল অর্থাৎ সোমবার ভোটার তালিকার সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট প্রকাশের কথা। আর তার আগে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য জেলা শাসক ও পুলিশ সুপারদের কড়া নির্দেশিকা দিয়েছে কমিশন। রিপোর্ট অনুযায়ী, এদিন দুর্গাপুর মহকুমা শাসকের দফতর থেকে নিযুক্ত দুই কর্মী এলাকা পরিদর্শন করতে বেরিয়েছিলেন। আর কলোনিপাড়া পোস্ট অফিসের দেওয়ালে প্রার্থীদের নাম লিখে প্রচার চালানো হচ্ছিল বলে অভিযোগ। তবে সেটা নির্বাচন বিধির পরিপন্থী বলে দাবি করা হয় নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে। আর সরকারের নির্দেশ মেনেই সেই দেওয়াল মুছতে গেলে বাঁধে বিপত্তি।

    এ বিষয়ে আক্রান্ত এক কর্মী জানিয়েছেন যে, তারা ডিউটি করছিলেন এবং এসডিও দফতরের নির্দেশে দেয়াল মুছতে গিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য, কাজ শেষ করে আমরা গাড়িতে উঠে পড়েছিলাম। তখনই একদল লোক এসে আমাদের গাড়ি থেকে নামিয়ে আমাদেরকে মারধর শুরু করে। আমরা বারবার পরিচয়পত্র দেখিয়ে সরকারি কর্মচারী হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা আমাদের কোনও কথাই শুনতে চায়নি। আক্রান্তদের দাবি, হামলাকারীরা স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত।

    আরও পড়ুন: দর্শক ছাড়াই হবে খেলা, স্টেডিয়াম মাত্র দুটো! তেল সংকটে বড় সিদ্ধান্ত PSL নিয়ে

    এদিকে ভোটের আগে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে রাজনৈতিক পারদ আরও চড়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ঘটনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সরব হয়েছে বিরোধী শিবির। কিন্তু মারধরের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে তৃণমূলের নেতারা। জোড়াফুল শিবিরের পাল্টা দাবি, মারধরের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। বিজেপির লোকজন বহিরাগতদেরকে নিয়ে এসে জয় শ্রী রাম শ্লোগান দিচ্ছিল এবং নিজেরাই উস্কানিমূলক কাজ করেছে।

  • টিকিট না পেয়ে একের পর এক বোমা ফাটালেন দিলীপ পত্নী! রিঙ্কুর নিশানায় কে?

    টিকিট না পেয়ে একের পর এক বোমা ফাটালেন দিলীপ পত্নী! রিঙ্কুর নিশানায় কে?

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে (West Bengal Election 2026) কেন্দ্র করে ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। একে একে সকল রাজনৈতিক দলগুলি নিজেদের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করছে। কিছুদিন আগেই বিজেপি দ্বিতীয় দফার প্রার্থী তালিকা (BJP  Candidates) ঘোষণা করেছে, কিন্তু শত অনুরোধ করার পরেও টিকিট না পেয়ে এবার দলের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ আনলেন দিলীপজায়া রিঙ্কু মজুমদার (Rinku Majumder)। নাম না করে বেনজির আক্রমন শুভেন্দু অধিকারীকে।

    ভোটের টিকিট না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ রিঙ্কু মজুমদার

    আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হতে চেয়ে বিজেপি নেতৃত্বের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন দিলীপ পত্নী রিঙ্কু মজুমদার। ইচ্ছে ছিল রাজারহাট-নিউটাউন আসনে প্রার্থী হবেন, সেই কারণে নিজের বায়োডাটাও জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার বিজেপির দ্বিতীয় প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হতেই দেখা যায় ওই কেন্দ্রে পীযূষ কানোরিয়াকে প্রার্থী করেছে বিজেপি। এমনকি ঘোষিত ২৫৫ আসনের কোথাও প্রার্থী করা হয়নি তাঁকে। আর তাতেই কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করলেন রিঙ্কু মজুমদার। তাঁর দাবি রাজারহাট-নিউটাউন ও বীজপুরে যে প্রার্থীদের দাঁড় করানো হয়েছে, তাঁরা সকলেই নাকি আর্থিক দুর্নীতি-সহ একাধিক কাজে যুক্ত।

    প্রার্থীদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ রিঙ্কুর

    গতকাল অর্থাৎ শুক্রবার বিধাননগরে বিজেপির দফতরে এসে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সুনীল বনসলের সঙ্গে দেখা করেন রিঙ্কু মজুমদার। এরপরই সাংবাদিকদের সঙ্গে মুখোমুখি হয়ে জানান যে, ”রাজারহাট-নিউটাউন ও বীজপুরে যে প্রার্থীদের দাঁড় করানো হয়েছে, তাঁরা আর্থিক দুর্নীতি-সহ একাধিক কুকাজে যুক্ত। আমি সুনীল বনশালজিকে একথা জানিয়েছি। জানি না, কেন এঁদের প্রার্থী করল, কিন্তু দলের এসব লোকজনের আসল পরিচয় শীর্ষ নেতাদের জানানো আমার কর্তব্য।” অন্যদিকে টিকিট না পাওয়ায় নিয়ে আক্ষেপ করে জানান, ” সুনীল বনশাল মুখে যা-ই বলুন, আমাকে টিকিট দেবে না। তাহলে এতক্ষণে প্রার্থী বদলে দিত। তাহলে এতগুলো বছর ধরে কোন দল করলাম, কাদের জন্য করলাম?”

    আরও পড়ুন: ৭ নতুন জেলা, ২৫ মডেল শহর! তালিকায় আপনার এলাকা আছে? জানুন

    রিঙ্কু মজুমদার ক্ষোভের সুরে সাংবাদিকদের জানান, “কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব আমাকে যুক্তি দিয়েছিলেন একই পরিবার থেকে একাধিক ব্যক্তিকে প্রার্থী করা যাবে না। কিন্তু অধিকারী পরিবার, সিংহ পরিবারের একাধিক ব্যক্তি টিকিট পেয়েছেন। যদি এটা লজিক হয়, তাহলে সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হবে।“ এখানে অধিকারী পরিবার বলতে শুভেন্দু অধিকারী এবং সিংহ পরিবার বলতে অর্জুন সিংয়ের কথা বলতে চেয়েছেন দিলীপ-পত্নী। সবশেষে অভিমানের সুরে বলেন, “নতুনদের সুযোগ দেওয়া উচিত। যাঁরা হারছে তাঁদেরকেই বারবার কেন টিকিট দেওয়া হচ্ছে। এটা আমার প্রশ্ন।“ উল্লেখ্য দিলীপ ঘোষকে এবার তাঁর পুরনো কেন্দ্র খড়গপুর সদর থেকে প্রার্থী করেছে বিজেপি।

  • ৭ নতুন জেলা, ২৫ মডেল শহর! তালিকায় আপনার এলাকা আছে? জানুন

    ৭ নতুন জেলা, ২৫ মডেল শহর! তালিকায় আপনার এলাকা আছে? জানুন

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বহু প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে গতকাল, শুক্রবার বিকেলে ২০২৬ সালের নির্বাচনকে (West Bengal Election 2026) টার্গেট করে ইস্তেহার প্রকাশ করে তৃণমূল (Trinamool Congress Manifesto)। যার পোশাকি নাম দেওয়া হয় ‘প্রতিজ্ঞা’। রাজ্যবাসীর কাছে একগুচ্ছ ‘প্রতিজ্ঞা’ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee)। সেখানেই উঠে এল, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, যুবসাথী, দুয়ারে চিকিৎসার কথা। এছাড়াও প্রশাসনিক দিক থেকে নতুন জেলা এবং নতুন পুরসভা সহ ১০ প্রতিজ্ঞার কথা ঘোষণা করেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, ‘আমাদের অঙ্গীকার, প্রতিজ্ঞা, যা বলি, তাই করে দেখাই।’

    নতুন সাত জেলার ঘোষণা মমতার

    মহিলা, যুব, কৃষক, সাধারণ পরিবার—প্রায় সব স্তরের মানুষের জন্য একাধিক আর্থিক ও সামাজিক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে তৃণমূলের ইস্তেহারে। পাশাপাশি কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ‘বঞ্চনা’র অভিযোগ তুলে রাজনৈতিক সুরও চড়িয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার, কালীঘাট থেকে নির্বাচনী ইস্তেহার ঘোষণার সময় মমতা জানান, নতুন জেলা, নতুন পুরসভা তৈরি করা হবে। রাজ্যে যে নতুন সাত জেলার কথা ঘোষণা করা হয়েছে, সেগুলি হল, সুন্দরবন, ইছামতী (উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ মহকুমা ও বাগদা নিয়ে), বসিরহাট, রানাঘাট, বিষ্ণুপুর, বহরমপুর এবং কান্দি। আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা এবং উন্নতমানের পরিষেবা দিতেই এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

    ২৫টি প্রধান শহরকে মডেল শহর গড়বে সরকার

    গত ১৫ বছরে বাংলায় উন্নয়নের এক নতুন মডেল তৈরি করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেই অনুযায়ী তৃণমূলের ইস্তেহারে ‘মিশন মহানগর’ নামের আরেকটি প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। সেখানে পশ্চিমবঙ্গের ২৫টি প্রধান শহরকে মডেল শহর হিসাবে তুলে ধরা হবে। তার মধ্যে রয়েছে, হাওড়া, ডায়মন্ড হারবার, বর্ধমান, দুর্গাপুর, বোলপুর, কৃষ্ণনগর, বারাসত, রায়গঞ্জ, শিলিগুড়ি, বহরমপুর, মালদহ, কল্যাণী, শ্রীরামপুর, অণ্ডাল, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, দিঘা, মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, এনকেডিএ এলাকা, গঙ্গারামপুর, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার এবং দার্জিলিং।

    আরও পড়ুন: পানিহাটিতে অভয়ার মা দাঁড়ালে বিজেপির লাভ না ক্ষতি? সমীক্ষায় মিলল চমকপ্রদ উত্তর

    তৃণমূলের ইস্তেহারে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রাস্তা, বিদ্যুৎ, কৃষি—সব ক্ষেত্রেই উন্নয়নের দাবি করেছে শাসকদল। আগামী ১০ বছরে বাংলা হবে দেশের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি। ৫ বছরে ৪০ লক্ষ কোটি টাকার অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্য রাখা হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্যও বড় চমক আনা হয়েছে। জানা গিয়েছে, রাজ্যে সপ্তম পে কমিশন চালু হবে। বকেয়া মহার্ঘ ভাতা ধাপে ধাপে মেটানো হবে। এ ছাড়া নতুন প্রশাসনিক ইউনিটও গঠন করা হবে। অর্থাৎ বোঝাই যাচ্ছে এই ইস্তেহারই আগামী নির্বাচনে শাসকদলের প্রধান অস্ত্র হতে চলেছে।

  • পানিহাটিতে অভয়ার মা দাঁড়ালে বিজেপির লাভ না ক্ষতি? সমীক্ষায় মিলল চমকপ্রদ উত্তর

    পানিহাটিতে অভয়ার মা দাঁড়ালে বিজেপির লাভ না ক্ষতি? সমীক্ষায় মিলল চমকপ্রদ উত্তর

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) জন্য বিজেপির (BJP) দ্বিতীয় দফা প্রার্থী তালিকা নিয়ে সকলেই আগ্রহ প্রকাশ করেছিল। কারণ পানিহাটিতে (Panihati) আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নির্যাতিতা চিকিৎসকের মা নাকি বিজেপি প্রার্থী হতে চলেছে। পদ্ম-প্রতীকের প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছার কথা নাকি তিনি নিজেই জানিয়েছেন। অন্যদিকে নির্যাতিতার পরিবারকে প্রার্থী হিসাবে পাওয়ার ইচ্ছা যে বিজেপি নেতৃত্বের ছিল, সে কথা বিজেপি সূত্রও অস্বীকার করছে না। তবে বেশ কিছু আইনি জটের কারণে সেই কেন্দ্রে প্রার্থী তালিকা নিয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে অভয়ার মা ভোটে দাঁড়ালে, বিজেপির কি সুবিধে পাবে পানিহাটিতে?

    বিজেপির প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ নির্যাতিতার মায়ের

    পানিহাটির সম্ভাব্য বিজেপি প্রার্থীর কথায়, ‘‘ বিজেপির প্রার্থী হিসাবে আমি লড়তে চাই। অনেক দিন ধরেই আমাকে প্রার্থী হতে বলা হচ্ছিল। আমি রাজি ছিলাম না। কিন্তু আমি দেখলাম যে, নারীদের নিরাপত্তা, নারী সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হলে, আর পশ্চিমবঙ্গকে রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে যাওয়া দুর্নীতি থেকে মুক্তি দিতে হলে তৃণমূলকে মূল থেকে উপড়ে ফেলা দরকার। তাই আমি বিজেপিতে যোগ দিয়েছি এবং প্রার্থী হতে রাজি হয়েছি।’’ এই আবহে ABP আনন্দ ইউটিউব প্ল্যাটফর্ম ও অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়ায় সমীক্ষা করার জন্য প্রশ্ন তুলেছিল যে তিনি পানিহাটি থেকে হয়ে ভোটে দাঁড়ালে, বিজেপি কি ডিভিডেন্ট পাবে? আর সেই প্রশ্নের জবাবে উঠে এসেছে একাধিক জবাব।

    সমীক্ষায় মিলল উত্তর

    সমীক্ষায় জানা যায় আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নির্যাতিতা চিকিৎসকের মা বিজেপির প্রার্থী হিসেবে পানিহাটিতে দাঁড়ালে ৬৭ শতাংশ মানুষ জানিয়েছে বিজেপির লাভ হবে এবং ২৯ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন লাভ হবে না। তবে ৪ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন বলতে পারবেন না। অর্থাৎ সুবিধার ফলাফলটাই বেশি। বুধবার বিকেল পর্যন্ত পানিহাটিতে বিজেপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসাবে নাম ছিল দলের পুরনো নেতা তথা রাজ্য বিজেপির সহ সভাপতি অনিন্দ্য (রাজু) বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কিন্তু বুধবার বিকেলের দিকে প্রার্থী বাছাই নিয়ে জটিলতায় পড়ে বিজেপি, তাই আপাতত ওই কেন্দ্রে প্রার্থী এখনও অঘোষিত আছে।

    আরও পড়ুন: মার্চেও কনকনে ঠান্ডা! ভাঙল ৬ বছরের রেকর্ড, বিপর্যস্ত জনজীবন

    প্রসঙ্গত, রবিবার নির্বাচনের দিন ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রথম দফায় ১৪৪টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছিল বিজেপি। সেখানে ভবানীপুর ও নন্দীগ্রামে প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন শুভেন্দু অধিকারী এদিকে আবার ভবানীপুরে লড়ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং নন্দীগ্রামে করছেন পবিত্র কর। অন্যদিকে খড়গপুরে লড়ছেন দিলীপ ঘোষ। সব মিলিয়ে এবার আসন নিয়ে ভোটের লড়াই যে বেশ জবরদস্ত হবে, তা বেশ বোঝা যাচ্ছে।

  • জল্পনা কাটিয়ে ২৯ কেন্দ্রে প্রার্থী দিল ISF! নন্দীগ্রামে বামদের প্রার্থী তোলার আবেদন নওশাদের

    জল্পনা কাটিয়ে ২৯ কেন্দ্রে প্রার্থী দিল ISF! নন্দীগ্রামে বামদের প্রার্থী তোলার আবেদন নওশাদের

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) দিন ঘোষণা হতেই রাজ্য জুড়ে এক চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। একে একে বিজেপি, তৃণমূল এবং সিপিআইএম প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করছে। আর এবার পালা ISF দের। কয়েকদিনের জল্পনা শেষে অবশেষে আজ অর্থাৎ শুক্রবার ISF চেয়ারম্যান নওশাদ সিদ্দিকী (Naushad Siddiqui) জানিয়ে দিলেন, কতগুলি আসনে প্রার্থী দিলেন তারা। অন্যদিকে নন্দীগ্রাম সহ আরও তিন আসনে বামেদেরকে প্রার্থী প্রত্যাহারের অনুরোধ জানাল ISF।

    ২৯টি আসন নিয়ে সমঝোতা ISF দের

    রিপোর্ট মোতাবেক আজ অর্থাৎ শুক্রবার ISF চেয়ারম্যান নওশাদ সিদ্দিকী সাংবাদিক বৈঠকে জানান যে, “বিজেপি ও তৃণমূলকে পরাস্ত করতে আসন নিয়ে আমরা আমাদের সর্বোচ্চ ত্যাগ করেছি। একাধিকবার চিঠির আদানপ্রদান, আলিমুদ্দিনে আলোচনার পর অবশেষে আসন্ন নির্বাচনে বামেদের সঙ্গে আমরা বেশ কিছু আসনে সমঝোতা করতে পেরেছি। বামেদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে ২৯টি আসন নিয়ে সমঝোতা হয়েছে। আজ সেই আসনগুলির ঘোষণা করা হচ্ছে।” পেশ করা তালিকা অনুযায়ী ISF মোথাবাড়ি, সুজাপুর, সামশেরগঞ্জ, রঘুনাথগঞ্জ, নাকাশিপাড়া, অশোকনগর, আমডাঙা, মধ্যমগ্রাম, দেগঙ্গা, হাড়োয়া, মিনাখাঁ, বাদুড়িয়া, বসিরহাট উত্তর, বাসন্তী, কুলপি এলাকায় নামতে চলেছে।

    প্রতীক চিহ্ন হিসেবে রাখা হয়েছে ‘খাম’

    এছাড়াও ISF এর প্রকাশিত তালিকায় রয়েছে মন্দিরবাজার, ক্যানিং পশ্চিম, ক্যানিং পূর্ব, মগরাহাট পশ্চিম, ভাঙড়, উলুবেড়িয়া পূর্ব, জগৎবল্লভপুর, হরিপাল, খানাকুল, মহিষাদল এবং বীরভূম জেলার বোলপুর সহ মোট ২৯টি কেন্দ্র। বামেদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ISF । তাঁদের প্রতীক চিহ্ন হয়েছে ‘খাম’। নওশাদ সিদ্দিকী আরও বলেন, “আরও কয়েকটি আসনে বামফ্রন্টের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আমাদের আলোচনা চলছিল। পাঁশকুড়া পশ্চিম, নন্দীগ্রাম, ভগবানগোলা এবং মুরারই। কিন্তু ইতিমধ্যে বামেরা সেখানে প্রার্থী ঘোষণা করে দিয়েছে। কিন্তু, এই চারটি বিধানসভা কেন্দ্রে আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি। তাই এই চারটে আসনে যাতে বামেরা প্রার্থী না দেয়, সেই আবেদন করছি।”

    আরও পড়ুন: বেতন-স্থায়ীকরণের দাবিতে বাড়ছে ক্ষোভ, ভোটে তৃণমূলকে হারানোর ডাক পার্শ্ব শিক্ষকদের

    বৈঠকে সাংবাদিকরা আইএসএফের প্রার্থী তালিকা প্রকাশের দিনক্ষণ জানতে চাওয়ায় নওশাদ সিদ্দিকী জানিয়েছেন, “আগামিকাল ঈদ উদযাপন। স্বাভাবিকভাবে মানুষ উৎসবের মেজাজে রয়েছেন। তাই ঈদের পর পরই আমরা প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করব।” ইতিমধ্যেই বিজেপির তরফে নন্দীগ্রামে ভোটের ময়দানে নামতে চলেছে বিরোধী দলনেতার শুভেন্দু অধিকারী এবং শাসকদলের তরফে সেই কেন্দ্রে লড়াই করবেন পবিত্র কর। এমতাবস্থায় CPIM আসনটি সিপিআইকে ছেড়েছে এবং সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন শান্তি গিরি। এখন দেখার ISF-এর অনুরোধ CPIM রাখেন কিনা।

  • বেতন-স্থায়ীকরণের দাবিতে বাড়ছে ক্ষোভ, ভোটে তৃণমূলকে হারানোর ডাক পার্শ্ব শিক্ষকদের

    বেতন-স্থায়ীকরণের দাবিতে বাড়ছে ক্ষোভ, ভোটে তৃণমূলকে হারানোর ডাক পার্শ্ব শিক্ষকদের

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026) নিয়ে বেশ তোড়জোড় শুরু হয়েছে রাজ্য জুড়ে। রবিবার নির্বাচনের দিন ঘোষণার পরেই মঙ্গলবার, পূর্ণাঙ্গ প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। জনবিচ্ছিন্ন নয়, বরং সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত থাকার জন্য তালিকায় নতুন পুরাতন মুখকে দাঁড় করানো হয়েছে। কিন্তু এসবের মাঝেই পার্শ্ব শিক্ষকদের (Para Teachers) ক্ষোভ আরও বড় আকার নিল। প্রতিশ্রুতি না পূরণ হওয়ায় এবার শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয় চেয়ে পথে নামতে চলেছে পার্শ্ব শিক্ষকেরা।

    প্রতিশ্রুতি পূরণ করেনি রাজ্য সরকার

    স্থায়ীকরণ ও বেতন বৃদ্ধির দাবিতে এখনও অনড় রাজ্যের সকল পার্শ্ব শিক্ষকরা। কিন্তু কোনো সুফল মিলছে না। নিখিল বঙ্গ পার্শ্ব শিক্ষক সমিতির সভাপতি মধুমিতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী কি সবটাই ভুলে গেলেন? সাধারণ শিক্ষকদের মতোই পার্শ্ব শিক্ষকেরাও স্কুলের সব দায়িত্ব পালন করছেন। তবু আমরা কেন দীর্ঘ দিন অবহেলিত থাকব? দী‌র্ঘ বছর ধরে নিয়োগ না হওয়ায় এখন বিভিন্ন স্কুলে শিক্ষকের অভাব। তবে আমরা লিফলেট তৈরি করে আমাদের বঞ্চনার কথা লিখে সাধারণের মধ্যে ছড়িয়ে দেব।’’ তবে এই সকল অভিযোগ অস্বীকার করছে শাসকদল। পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির রাজ্য সভাপতি মইদুল ইসলাম জানিয়েছেন, “শিক্ষকদের অবসরকালীন ৫ লক্ষ টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে। ৬০ বছর পর্যন্ত চাকরি সুনিশ্চিত করেছে, মাতৃত্বকালীন ছুটি চালু করেছে।”

    ভাতা নিয়েও বাড়ছে ক্ষোভ

    পার্শ্ব শিক্ষকদের অভিযোগ, ২০০৯ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন বিরোধী দলনেত্রী। তখন পার্শ্ব শিক্ষকদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, সরকারে এলে তাঁর প্রধান কাজ হবে পার্শ্ব শিক্ষকদের স্থায়ীকরণ। এখনও সেই বক্তব্যের ভিডিয়ো রেকর্ডিং, খবরের কাটিং আছে তাঁদের কাছে। এমনকি ২০১১ সালে ক্ষমতায় এসে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকের শেষে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন, পার্শ্ব শিক্ষকদের ছয় মাস থেকে তিন বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে স্থায়ীকরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কিন্তু এত বছর পরে সেই স্থায়ীকরণ আজও হয়নি। এমনকি আট বছর পরে ভাতা বেড়েছে মাত্র এক হাজার টাকা।

    আরও পড়ুন: ‘জনসংগ্রাম মঞ্চ’ নিয়ে ভোটে রাজন্যা, লড়বেন দুই হেভিওয়েট কেন্দ্র থেকে

    পার্শ্ব শিক্ষক ঐক্য মঞ্চের সভাপতি ভগীরথ ঘোষ জানিয়েছেন, “স্কুল সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষায় ৫৫ বছর পর্যন্ত বসার সুযোগ ছিল। তৃণমূলের সরকার সেই সংরক্ষণের নিয়মও তুলে দেয়। তাই এ বারের ভোটে তৃণমূলের পরাজয় চেয়ে মাঠে নামতে চাইছেন ক্ষুব্ধ পার্শ্ব শিক্ষকেরা। রাজ্যে পার্শ্ব শিক্ষকের সংখ্যা ৪১ হাজারের মতো। প্রতিটি পরিবারে চার জন সদস্য আছেন ধরে নিলে মোট ভোটারের সংখ্যা কিছু কম নয়। আমাদের আবেদন, যে এলাকায় যে বিরোধী দল শক্তিশালী, তাদের ভোট দিন। আমরা কলকাতার ভবানীপুর-সহ বেশ কিছু এলাকায় স্ট্রিট কর্নার করছি।” জানা গিয়েছে, খুব শীঘ্রই রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সমাবেশ-মিছিল করতে চলেছেন তাঁরা। এখন দেখার এই ক্ষোভের মুখে পড়ে রাজ্য সরকার পার্শ্ব শিক্ষকদের জন্য কোনো উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করে কিনা।