প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল রাজ্যে দুই দফায় হতে চলেছে ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026)। ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে রাজনৈতিক দলগুলির প্রার্থী তালিকা। ভোট প্রচার পর্বও শুরু হয়েছে। এমতাবস্থায় আজ বিকেলেই প্রকাশিত হতে চলেছে SIR-র সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা (First Supplementary Voters List)। যারা এতদিন বিচারাধীন তালিকায় ছিলেন, তাঁদের মধ্যে নিষ্পত্তি হওয়াদের নাম ওই অতিরিক্ত তালিকায় থাকবে। আশঙ্কা করা হচ্ছে প্রথম পর্যায়ে সেই সংখ্যাটা ২৮ লক্ষের আশপাশে থাকবে।
প্রকাশিত হবে প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকা
রিপোর্ট মোতাবেক, রবিবার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল জানিয়েছেন, আজ পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা প্রক্রিয়ায় ‘বিচারাধীন’ তালিকাভুক্ত ভোটারদের প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশিত হতে চলেছে। আশা করা যাচ্ছে বিকেলেই ‘বিচারাধীন’ তালিকায় থাকা ভোটারদের প্রথম অতিরিক্ত তালিকা। জানা গিয়েছে তালিকাটি রাজ্যজুড়ে বুথ, জেলাশাসকের দফতর, মহকুমা শাসকের দফতর, বিডিওয়ের দফতরে টাঙানো হবে। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজ্যে ২৮ লক্ষ ৬ হাজার বিবেচনাধীন ভোটারের তথ্যের নিষ্পত্তি হয়েছে। আগামী সপ্তাহে শুক্রবার দ্বিতীয় তালিকা প্রকাশ হতে পারে বলেও জানা গিয়েছে।
চিন্তিত ভোটারেরা
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে বিচারাধীন ভোটারদের জন্য গঠিত হয়েছে ট্রাইবুনাল। রাজ্যের ২৩টি জেলার জন্য ১৯ জন প্রাক্তন বিচারপতিকে নিয়ে ১৯টি ট্রাইবুনাল গঠন করা হয়েছে। ৭০০ জন বিচারককে দিয়ে নথি যাচাইয়ের কাজ করা হয়েছিল। অবশেষে আজ প্রথম তালিকা প্রকাশিত হবে। তাই স্বাভাবিকভাবেই চিন্তিত ভোটাররা, কারণ এই তালিকার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে তাঁদের ভোটাধিকারের ভবিষ্যৎ। কমিশনের মাধ্যমে জানা গিয়েছে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের মতোই এই তালিকা প্রকাশিত হবে। অনলাইনে কমিশনের ওয়েবসাইটে গিয়ে এই অতিরিক্ত তালিকা দেখা যাবে। কীভাবে ভোটার দেখতে পারবেন নীচে পদ্ধতি জানিয়ে দেওয়া হল
অনলাইনে কীভাবে দেখবেন নাম?
প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় নাম রয়েছে কিনা তা জানার জন্য প্রথমে eci.voters.gov.in টাইপ করতে হবে। এরপর কমিশনের নির্দিষ্ট ওই সাইট খুললে তাতে মোবাইল নম্বর এবং ওটিপি দিয়ে লগইন করে নিতে হবে। এরপর এপিক নম্বর দিয়ে সার্চ করে নিতে হবে নিজের নাম। পাশাপাশি মোবাইলে ECI নেটে গিয়ে পরপর পদ্ধতি অনুযায়ী তালিকা দেখতে পারবেন ভোটাররা। এছাড়াও অফলাইনে বুথ, বিডিও, এসডিও অফিস, ডিএম অফিসে অতিরিক্ত তালিকা ঝোলানো হবে। সেক্ষেত্রে তালিকায় যাদের নাম বাদ পড়বে, তাঁরা ট্রাইবুনালে আবেদন করে নাম তুলতে পারবেন। অন্যদিকে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশের জন্য নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে রাজ্যজুড়ে।
গতকাল অর্থাৎ রবিবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত বৈঠক হয়েছিল CEO দফতরে। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক কমিশনের এক আধিকারিক বলেছেন যে ‘প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশের প্রক্রিয়া যাতে শান্তিপূর্ণ হয়, সেজন্য যাবতীয় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করছি আমরা। সংবেদনশীল অঞ্চলে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা থাকবে। বাড়তি নজরদারিও চলবে।’ শনিবার রাজ্য সচিবালয় নবান্ন থেকে স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতর একটি নির্দেশিকা জারি করেছে। বলা হয়েছে, “সম্ভাব্য জমায়েতের স্থানগুলিতে ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্য উপযুক্ত সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক। স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে কঠোর নজরদারি চালানো হোক। আইন-শৃঙ্খলা যাতে বজায় থাকে তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হোক।”
সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: আজ ২২ মার্চ, রবিবার। বাস-ট্রেনের সংঘর্ষ, LPG-র সংকট দূর, নরেন্দ্র মোদীর নয়া রেকর্ড, রাজ্য-রাজনীতি, অর্থনীতি, বহির্বিশ্ব, কোথায় কী ঘটল আজ? জানতে চোখ রাখুন আজকের সেরা দশে। India Hood-র তরফ থেকে আমরা নিয়ে এসেছি তরতাজা দশটি (Top 10 Bangla News in West Bengal And India) খবর, যা না পড়লে মিস করে যাবেন অনেক কিছুই। বিস্তারিত নতে হলে অবশ্যই প্রতিবেদনটি শেষ পর্যন্ত পড়ুন।
১০) কমিশনের দুই কর্মীকে গাড়ি থেকে নামিয়ে মারধর তৃণমূলের
নির্বাচন বিধি কার্যকর করতে গিয়ে দুর্গাপুরে তৃণমূল কর্মীদের কাছে নির্বাচন কমিশনের দুই কর্মীর হেনস্থার শিকার হওয়ার ঘটনায় এবার ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। কলোনিপাড়া পোস্ট অফিসে সরকারি দেওয়াল থেকে প্রার্থীদের নাম মুছতে গেলে এসডিও দপ্তরের ওই দুই কর্মীকে গাড়ি থেকে নামিয়ে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ। আক্রান্তদের দাবি, পরিচয়পত্র দেখানোর পরেও তাদেরকে মারধর করা হয়েছে। বিরোধীরা এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা করেছে এবং তৃণমূলের নেতৃত্বরা মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বিস্তারিত পড়তে- এখানে ক্লিক করুন
৯) ১৬টি হাই-স্পিড বুলেট ট্রেন সেটের অর্ডার
মুম্বাই-আমেদাবাদ বুলেট ট্রেন করিডোর নিয়ে এবার বিরাট আপডেট দিয়েছে রেল। বিইএমএল এর মেধা র্ভো ড্রাইভস যৌথভাবে ১৬টি হাই স্পিড ট্রেন সেট সরবরাহের জন্য এবার দরপত্র জমা দিয়েছে। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই ট্রেনগুলি ঘন্টায় ২৫০ কিলোমিটার গতিতে ছুটবে বলে জানানো হয়েছে, যেটির সর্বোচ্চ ক্ষমতা হবে ২৮০ কিলোমিটার। ২০১৭ সালের মার্চ মাসের মধ্যে প্রথম ট্রেন আসার কথা রয়েছে। এবং ওই বছরই সুরাট-বিলিমোরা অংশে বাণিজ্যিকভাবে ট্রেন চলাচল শুরু হতে পারে। প্রতিটি ট্রেনের আনুমানিক খরচ ধরা হয়েছে ২৫০ কোটি টাকা। বিস্তারিত পড়তে- এখানে ক্লিক করুন
৮) ঈদের নামাজ শেষে পাকিস্তানে কুপিয়ে খুন লস্কর কমান্ডারকে
পাকিস্তানের মুরিদকেতে লস্কর-ই-তৈবার প্রধান সদর দফতর মারকাজ তৈবা চত্বরে ঈদের নামাজ শেষে লস্কর কমান্ডার বিলাল আরিফ সালাফিকে কুপিয়ে গুলি করে খুন করেছে অজ্ঞাত পরিচয়ের আততায়ীরা। জঙ্গি সংগঠনের রিক্রুটমেন্ট নেটওয়ার্কের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ সালাফী মূলত তরুণদের মগজধোলাই এবং কাশ্মীর জিহাদের নামে উস্কানি এবং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করত। প্রকাশ্য দিবালোকে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ধরন গত বছরের অপারেশন সিঁদুরের কৌশলের কথাই মনে করিয়ে দিচ্ছে বলে দাবি করা হচ্ছে বেশ কিছু সংবাদমাধ্যমে। বিস্তারিত পড়তে- এখানে ক্লিক করুন
শিয়ালদা ডিভিশনের সবথেকে নোংরা স্টেশনের তকমা পেল পার্ক সার্কাসকে ছাপিয়ে গিয়ে সন্তোষপুর ও বাঘাযতীন। পূর্ব রেলের সাম্প্রতিক পরিচ্ছন্নতা অভিযানে দেখা গিয়েছে যে, শিয়ালদা স্টেশন থেকে যেখানে ৫০ টন বর্জ্য সরানো হয়েছে, সেখানে সন্তোষপুর এবং বাঘাযতীন স্টেশন থেকেই ১০০ টন করে আবর্জনা পরিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া মগরাহাট, পাতিপুকুর এবং বিধাননগর স্টেশন নোংরা তালিকার উপরের দিকে রয়েছে। আর অন্যদিকে ভারতের সবথেকে নোংরা স্টেশনের তকমা পেয়েছে তামিলনাড়ুর পেরুঙ্গালাথুর। বিস্তারিত পড়তে- এখানে ক্লিক করুন
৬) ভারতের দীর্ঘমেয়াদি সরকার প্রধান হিসাবে ইতিহাস মোদীর
ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে আজ বিরাট মাইলফলক স্পর্শ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী এবং দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সম্মিলিতভাবে ৮৯৩১ দিন ক্ষমতায় থাকার নিরিখে তিনি সিকিমের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পবন কুমার চামলিকে টপকে গিয়েছেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে জয়ের পর জহরলাল নেহেরুর রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছিলেন তিনি এবং তিনি ভারতের দীর্ঘমেয়াদী শাসনকর্তা। স্বাধীনতার ভারতে জন্ম নেওয়া প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর সফর চা বিক্রেতা থেকে শুরু হয়েছিল। বিস্তারিত পড়তে- এখানে ক্লিক করুন
৫) রাজ্যগুলিতে ২০% গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর ঘোষণা কেন্দ্রের
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে তৈরি হওয়া এলপিজি সংকট মেটানোর জন্য আগামী ২৩ মার্চ থেকে রাজ্যগুলিতে ২০ শতাংশ অতিরিক্ত গ্যাস সরবরাহ করার ঘোষণা দিয়েছে কেন্দ্র। পেট্রোলিয়াম সচিব নীরজ মিত্তাল জানিয়ে দিয়েছেন যে, এই পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ ও কালোবাজারি কমাবে। হোটেল, রেস্তোরা এবং ফুটপাতের ছোট দোকানগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস দেওয়ার পাশাপাশি পরিযায়ী শ্রমিকদের সুবিধার্থে ৫ কেজি ছোট সিলিন্ডার যোগান বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র সরকার। বিস্তারিত পড়তে- এখানে ক্লিক করুন
খারাপ আবহাওয়ার পূর্বাভাস থাকার কারণে উত্তরবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী প্রচার কর্মসূচি ভেস্তে গেল। আগামী ২৪ মার্চ আলিপুরদুয়ারে প্যারেড গ্রাউন্ড থেকে তাঁর ভোট প্রচার শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে তা স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ এবং প্রশাসন ও তৃণমূলের জেলা নেতৃত্বরা জানিয়েছেন, নিরাপত্তার খাতিরে এই সিদ্ধান্ত। কিন্তু দলীয় সূত্রের খবর, পরিস্থিতি ঠিকঠাক থাকলে ২৪ তারিখের পরিবর্তে আগামী ২৫ মার্চ বুধবার থেকে তিনি প্রচার শুরু করতে পারেন। বিস্তারিত পড়তে- এখানে ক্লিক করুন
৩) মোবাইল সহ ভোটের একগুচ্ছ নিয়ম চালু করল নির্বাচন কমিশন
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন উপলক্ষে ভোটারদের সুবিধার্থে একগুচ্ছ নতুন নিয়ম জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ভোটকেন্দ্রের ১০০ মিটারের মধ্যে মোবাইল ফোন ব্যবহার করা নিষিদ্ধ। আর ফোন সুইচ অফ বা সাইলেন্ট করে জমা রেখেই বুথে প্রবেশ করতে হবে। এমনকি ভোটারদের সহায়তায় প্রতিটি বুথের কাছে বিএলও সম্বলিত সহায়তা কেন্দ্র থাকবে এবং প্রার্থীদের তথ্য আর নিয়মাবলী সহ চার ধরনের পোস্টার লাগানো থাকবে। এছাড়াও তীব্র গরমের কথা মাথায় রেখে পানীয় জল, শৌচাগারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বিস্তারিত পড়তে- এখানে ক্লিক করুন
২) যাত্রীবোঝাই বাসে ধাক্কা ট্রেনের! ঘটনাস্থলেই নিহত ১২
শনিবার গভীর রাতে বাংলাদেশের কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেল ক্রসিং-এ একটি যাত্রীবোঝাই বাসে দ্রুতগামী মেল ট্রেনের ধাক্কায় ১২ জন নিহত হয়েছে আর দশজনের বেশি আহত হয়েছেন। রেলগেট খোলা থাকার কারণে বাসটি লাইনে উঠে পড়লে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে ট্রেনটি সজরে সেটিকে আঘাত করেছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় কর্তব্যরত দুই গেটম্যানকে বরখাস্ত করে দেওয়া হয়েছে। আর দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। নিহতদের পরিবারকে রেল এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। বিস্তারিত পড়তে- এখানে ক্লিক করুন
১) তেল সংকটে PSL নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে পাকিস্তানে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা গিয়েছে। যার জন্য ২০২৬ সালের পাকিস্তান সুপার লিগে বিরাট পরিবর্তনের ঘোষণা করল পিসিবি। ২৬ মার্চ থেকে শুরু হতে চলা এই টুর্নামেন্ট এবার সম্পূর্ণ দর্শকশুন্য স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। আর কোনও রকম উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে না। নিরাপত্তার খাতিরে ছয়টি ভেন্যুর পরিবর্তে এবার শুধুমাত্র করাচি এবং লাহোর দুটি স্টেডিয়ামে খেলা হবে। টিকিট কাটা দর্শকদের আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই টাকা ফেরত দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। আর ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর আর্থিক ক্ষতির দায়ভার বোর্ড নিজেই নেবে। বিস্তারিত পড়তে- এখানে ক্লিক করুন
বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: আগামী 24 মার্চ অর্থাৎ মঙ্গলবার থেকে আলিপুর দুয়ার হয়ে উত্তরবঙ্গে ভোট প্রচার শুরু করার কথা ছিল তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তবে সেটা হচ্ছে না। বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে আবহাওয়া! তৃণমূলের জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, মমতার সভার দিন খারাপ থাকতে পারে আবহাওয়া। সে কারণেই পিছিয়ে যাচ্ছে তৃণমূল সুপ্রিমোর দলীয় কর্মসূচি। তাহলে কবে থেকে উত্তরবঙ্গে প্রচার শুরু করবেন মমতা?
কবে থেকে উত্তরবঙ্গে প্রচার শুরু করবেন তৃণমূল নেত্রী?
ভোটের মুখে আলিপুরদুয়ার থেকে উত্তরবঙ্গের প্রচার শুরু করার কথা থাকলেও আবহাওয়ার কারণে পিছিয়ে যেতে হচ্ছে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এ প্রসঙ্গে আলিপুরদুয়ারের পুলিশ সুপার অমিত কুমার সাউ এবং তৃণমূলের জেলা চেয়ারম্যান গঙ্গাপ্রসাদ শর্মা খুব পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন, আবহাওয়া খারাপ হওয়ার কারণে 24 মার্চ হচ্ছে না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কর্মসূচি।
সূত্রের খবর, 24 তারিখের বদলে আগামী 25 মার্চ অর্থাৎ বুধবার থেকে উত্তরবঙ্গে ভোট প্রচার শুরু করতে পারেন দলনেত্রী। যদিও এ নিয়ে চূড়ান্ত কোনও তথ্য দেয়নি তৃণমূল কংগ্রেস। তবে আশা করা হচ্ছে, ওই দিন থেকেই উত্তরবঙ্গে প্রচারের কাজটা শুরু করে দেবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
প্রসঙ্গত, আলিপুরদুয়ারের পুলিশ সুপার অমিত কুমার সাউ জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা হওয়ার কথা ছিল প্যারেড গ্রাউন্ডে। এখান থেকে সভা করেই উত্তরবঙ্গে নিজের ভোট প্রচারের কাজটা শুরু করতেন তিনি। তবে আবহাওয়ার কারণে সেই জনসভা স্থগিত রাখতে হচ্ছে। অন্যদিকে জেলা তৃণমূল চেয়ারম্যানের গলাতেও শোনা গিয়েছে একই সুর। গঙ্গাপ্রসাদ জানিয়েছেন, “24 তারিখ যে জনসভা ছিল তা আবহাওয়ার কারণে বাতিল করা হচ্ছে। নতুন দিনক্ষণ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। হলেই জানিয়ে দেওয়া হবে।”
সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: আজ ২১ মার্চ, শনিবার। ট্রেন বাতিল, ঈদের মঞ্চে মমতার কটাক্ষ, মুরগির মাংসের দাম ঊর্ধ্বগতি, রাজ্য-রাজনীতি, অর্থনীতি, বহির্বিশ্ব, কোথায় কী ঘটল আজ? জানতে চোখ রাখুন আজকের সেরা দশে। India Hood-র তরফ থেকে আমরা নিয়ে এসেছি তরতাজা দশটি (Top 10 Bangla News in West Bengal And India) খবর, যা না পড়লে মিস করে যাবেন অনেক কিছুই। বিস্তারিত নতে হলে অবশ্যই প্রতিবেদনটি শেষ পর্যন্ত পড়ুন।
১০) দেশে মুরগির মাংসের দাম ঊর্ধ্বগতি, ৩০০ ছুঁই ছুঁই
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দেশে এমনিতেই জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। তবে গ্যাসের অভাব এবং দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি এবার মুরগির মাংসের দাম হু হু করে বাড়ছে। হ্যাঁ, এক সপ্তাহে কেজি প্রতি ১৮০-১৯০ টাকা থেকে বেড়ে এবার ২৫০-২৮০ টাকায় পৌঁছে গেল। এমনকি কোথাও ৩০০ ছুঁই ছুঁই। উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, ভ্যাকসিন আর ভিটামিনের ঘাটতি এবং গরমে উৎপাদন কমার কারণে দাম দিনের পর দিন বাড়ছে। যার ফলে সাধারণ মানুষের উপরই চাপ পড়ছে। পাশাপাশি জ্বালানির দাম বৃদ্ধিতে পরিবহন খরচ বাড়ছে। বিস্তারিত পড়তে- এখানে ক্লিক করুন
দিলীপ পত্নী রিংকু মজুমদার বিজেপির টিকিট না পেয়ে প্রকাশ্যে এবার ক্ষোভ উগড়ে দিলেন। রাজারহাট নিউটাউন আসনে প্রার্থী হতে চাইলেও তাঁকে কোনও রকম ভাবে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। এরপর তিনি অভিযোগ করেছেন, দলের কিছু প্রার্থী আর্থিক দুর্নীতিতে জড়িত। নাম না করে শুভেন্দু অধিকারী সহ প্রভাবশালী নেতাদের বাড়ির পরিবারকে একাধিক টিকিট দেওয়ার সমালোচনা করেছেন। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের দ্বিচারিতার অভিযোগ তুলেই নতুনদের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি। আর বিষয়টি ঘিরে ভোটের আগে বিজেপি অন্দরে অসন্তোষ প্রকাশ্যে আসলো। বিস্তারিত পড়তে- এখানে ক্লিক করুন
৮) আসানসোলে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল নির্মীয়মাণ সেতু
আসানসোলের বিদায়গড় এলাকায় নুনিয়া নদীর উপর নির্মীয়মান একটি সেতু হঠাৎ করে ভেঙে পড়েছে। যার ফলে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এই ঘটনায় কেউ হতাহত না হলেও স্থানীয়দের ক্ষোভ এখন চরমে। অভিযোগ উঠছে, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করার কারণ এই সেতু ধসে পড়েছে। প্রায় ২ কোটি টাকার এই প্রকল্পটি বহুদিনেরই দাবি ছিল যা ভোটের আগে শেষ করার কথা ছিল। ঘটনার কারণে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে আর তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি ঘিরে রাজনৈতিক জলঘোলা শুরু হয়েছে। বিস্তারিত পড়তে- এখানে ক্লিক করুন
৭) রবিবার আসানসোল ডিভিশনে বাতিল একাধিক ট্রেন
ভারতীয় রেলের আসানসোল ডিভিশনে ২২ মার্চ ট্র্যাক রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বহু ট্রেন বাতিল করে দেওয়া হল। নরগঞ্জ-ঝাঝা, অন্ডাল, রানীগঞ্জ, মধুপুরসহ সহ বিভিন্ন শাখায় এই কাজ চলবে বলে জানানো হয়েছে। ফলে একাধিক লোকাল এবং প্যাসেঞ্জার ট্রেন পরিষেবা বন্ধ থাকবে। এছাড়াও ১৩৩৩১ ধানবাদ-পাটনা ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস দেরিতে চলবে। আর কিছু ট্রেন সংক্ষিপ্ত যাত্রা করবে। যেমন দেওঘর-পাটনা মেমু ঝাঝা থেকে চলবে। পাশাপাশি ভাস্কো দা গামা-জসিডি এক্সপ্রেস মধুপুরে শেষ হবে বলে জানানো হয়েছে। যাত্রীদের আগে থেকে সময়সূচি দেখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিস্তারিত পড়তে- এখানে ক্লিক করুন
৬) এপ্রিলে ৩ মাসের রেশন একসাথে দেওয়ার ঘোষণা
ভারত সরকার ঘোষণা করল যে, এপ্রিল মাসে রেশন গ্রাহকদের এক সঙ্গে তিন মাসের চাল এবং গম দেওয়া হবে। আর এতে বারবার রেশন দোকানে যাওয়ার ঝামেলা অনেকটাই কমবে এবং সাধারণ মানুষের সুবিধা বাড়বে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন ফসল সংরক্ষণের জন্য গুদামে জায়গা তৈরি করার জন্যই হয়তো এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সমস্ত রাজ্যকে দ্রুত শস্য তুলে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর বিনামূল্যে রেশন প্রকল্পের আওতায় গ্রামীণ এবং শহর দুই ক্ষেত্রেই এই সুবিধা মিলবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। কোনও সমস্যা হলে জেলা খাদ্য দফতরে যোগাযোগ করা যাবে। বিস্তারিত পড়তে- এখানে ক্লিক করুন
৫) মালদহ ডিভিশনে বিরাট পদক্ষেপ রেলের
ভারতীয় রেলের মালদা ডিভিশনের ট্রেন চলাচল দ্রুত করার জন্য নতুন ইন্টারমিডিয়েট ব্লক সিগনাল চালু হল। নওপাড়া মহিষাসুর হল্টে। মনিগ্রাম এবং মহিপাল রোডের মাঝে এই ব্যবস্থায় ১২ কিলোমিটার ব্লক সেকশনকে ভাগ করে ৬ কিলোমিটার করে দেওয়া হয়েছে। যার ফলে ট্রেনের অপেক্ষা এবং সিগন্যাল জুড়ে দেরি অনেকটাই কমবে। ইন্টারলকিং সিস্টেমেও পরিবর্তন আনা হয়েছে এবং লেভেল ক্রসিং যুক্ত করা হচ্ছে। যাত্রীদের ভ্রমণের সময় এতে অনেকটাই কমবে বলে মত রেল কর্তৃপক্ষের। রেল কর্মীদের প্রশিক্ষণও চলছে আর পরিষেবা আরও উন্নত হবে। বিস্তারিত পড়তে- এখানে ক্লিক করুন
৪) ডিএ নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে নতুন মামলা
পশ্চিমবঙ্গে বকেয়া ডিএ ইস্যুতে উত্তেজনার মাঝেই এবার ষষ্ঠ বেতন কমিশন নিয়ে নতুন মামলা দায়ের করা হল কলকাতা হাইকোর্টে। ইউনিটি ফোরাম সংগঠন এই মামলা দায়ের করেছে। আর AICPI অনুযায়ী ডিএ নির্ধারণ করতে হবে বলে জানানো হয়েছে। বর্তমানে রাজ্যের কর্মীরা ২২ শতাংশ ডিএ পেলেও কেন্দ্র সরকারি কর্মচারীদের ৫৮ শতাংশের তুলনায় প্রায় তা ৪০ শতাংশ কম। আবেদনকারীরা অভিযোগ করছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মানা হয়নি এবং ৬ এপ্রিল মামলার শুনানি হতে পারে। একইসঙ্গে সপ্তম বেতন কমিশন গঠনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। বিস্তারিত পড়তে- এখানে ক্লিক করুন
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেড রোডে ঈদের অনুষ্ঠানে সম্প্রীতির বার্তার পাশাপাশি তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণও করেছেন। নরেন্দ্র মোদীকে অনুপ্রবেশকারী বলে কটাক্ষ করে তিনি বিজেপি, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে এবার পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছেন। এসআইআর তালিকা থেকে বহু নাম বাদ পড়ার প্রসঙ্গ তুলে মানুষের অধিকার রক্ষার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। এর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকার এবং অমিত শাহকে অফিস থেকে চাপ এবং হুমকির অভিযোগ করেছেন। ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে তাঁর মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। বিস্তারিত পড়তে- এখানে ক্লিক করুন
২) বকেয়া DA থেকে নতুন পে কমিশন, বড় ঘোষণা মমতার
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের ইস্তেহারে বকেয়া ডিএ মেটানো এবং নতুন বেতন কমিশন নিয়ে বড়সড় ঘোষণা করা হল। জানানো হয়েছে যে, ২০১৬-২০১৯ সালের ৪৮ মাসের বকেয়া ডিএ ধাপে ধাপে দিয়ে দেওয়া হবে। আর যার প্রথম কিস্তি মার্চে এবং পরেরটি সেপ্টেম্বর মাসে মিলবে। কিন্তু কেন্দ্রীয় স্তরে ডিএ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি। আর্থিক চাপের কথা উল্লেখ করে সরকার সপ্তম বেতন কমিশন চালুর প্রস্তাব দিয়েছে, যেটি কার্যকর হলে বেতন, ভাতা এবং পেনশন অনেকটাই বাড়তে পারে অনুমান করা হচ্ছে। কিন্তু কবে তা বাস্তবায়িত হবে তা স্পষ্ট নয়। বিস্তারিত পড়তে- এখানে ক্লিক করুন
১) হাওড়া-শিয়ালদা লাইনে বাতিল ৪৭টি লোকাল
পূর্ব রেলের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২২ মার্চ রক্ষণাবেক্ষণের কাজের জন্য হাওড়া ডিভিশনের বিভিন্ন শাখায় ট্রাফিক ব্লক থাকবে। যার ফলে ব্যাপক ট্রেনের বিভ্রাট ঘটবে। আনুমানিক ৪৭টি লোকাল এবং প্যাসেঞ্জার ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। যার মধ্যে হাওড়া-বর্ধমান, ব্যান্ডেল, কাটোয়া, পাঁশকুড়া সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রুটের ট্রেন রয়েছে। আর তার পাশাপাশি কিছু এক্সপ্রেস ট্রেনের সময় পিছিয়ে গিয়েছে। আর কয়েকটি ট্রেন ৪৫ থেকে ১২০ মিনিট পর্যন্ত নিয়ন্ত্রিতভাবে চলবে বলে জানানো হয়েছে। যাত্রীদের আগেভাগে সময়সূচি দেখে বেরোনোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিস্তারিত পড়তে- এখানে ক্লিক করুন
প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের আবহে দেশজুড়ে জ্বালানির হাহাকার দেখা দিয়েছে। রান্নার গ্যাস সংকট এখনও কাটেনি বেশ কয়েকটি জেলায়। আর এর মাঝেই সাধারণ মানুষের জন্য এল বড় দুঃসংবাদ। রান্নার গ্যাসের দামবৃদ্ধির (Cooking Gas) পর এবার এক ধাক্কায় অনেকটাই বাড়ানো হল মুরগির মাংসের দাম (Chicken Price Hike)। মাথায় হাত পড়ল মধ্যবিত্তদের।
বাড়ল মুরগির দাম
পশ্চিম এশিয়ার উত্তপ্ত পরিস্থিতির জেরে জ্বালানি সরবরাহের শৃঙ্খল ভেঙে পড়েছে। এর প্রভাব পড়ছে জীবনের প্রতিটি স্তরে। পর্যাপ্ত সিলিন্ডার না থাকায় ধুঁকছে হোটেল ও রেস্তরাঁগুলি। অনেক জায়গায় পরিষেবা বন্ধ হওয়ার উপক্রম। এই অবস্থায় চিকেনের দামও বেশ বেড়েছে। রিপোর্ট মোতাবেক, গতকাল অর্থাৎ শুক্রবার মুরগির মাংসের দাম ২৫০-২৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। প্রায় কম বেশি প্রতিদিনই নাকি দাম বাড়ছে। গত এক সপ্তাহে কেজি প্রতি চিকেনের দাম ১৮০-১৯০ টাকা থেকে বাড়তে বাড়তে আড়াইশোর গণ্ডি ছাড়িয়েছিল। এই প্রসঙ্গে খামার মালিকরা জানাচ্ছেন বর্তমানে মুরগি উৎপাদন খরচ বেড়ে গিয়েছে অনেকটাই, তাই এইভাবে দাম বাড়ছে।
ব্রয়লার মুরগিদের ভ্যাকসিনের আকাল
বাজারে খাসির মাংস বা মাটনের দাম ক্রমেই বেড়ে চলেছে। তার উপর ব্রয়লার মুরগিও দামবৃদ্ধির কারণে নিম্নবিত্তদের হাতের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। রাজ্য পোলট্রি ফেডারেশনের বক্তব্য, ব্রয়লার মুরগিদের যে ভিটামিন এবং ভ্যাকসিন দেওয়া হয়, তা মূলত আসে বিদেশ থেকে। যুদ্ধের প্রভাবে তাতে ভাঁটা পড়েছে। অন্যদিকে ওয়েস্ট বেঙ্গল পোল্ট্রি ফেডারেশন-এর সাধারণ সম্পাদক মদনমোহন মাইতি বলেন, ‘সারা দেশে চিকেনের দাম বেড়েছে। এ রাজ্যে গরম তেমন না পড়লেও, অন্যান্য রাজ্যে তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করেছে। তার ফলে মুরগির উৎপাদন কমায় দাম বাড়ছে।” তবে আশা করা যাচ্ছে খুব দ্রুত এই দাম নাগালে আসবে।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালে লোকসভা ভোটের আগেও কলকাতায় চিকেনের দাম কেজি প্রতি ৩০০ টাকা ছুঁয়েছিল। সে বার অবশ্য অতিরিক্ত গরমের জন্য মুরগির উৎপাদন কমে গিয়েছিল। কিন্তু ঈদের মরশুমে এইভাবে দাম বাড়ায় বেশ চিন্তায় পড়েছে সকলে। এদিকে মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে অটোর জ্বালানির দাম যে হারে বেড়েছে, তাতে কার্যত দিশেহারা অটোচালকরা। প্রথম দফায় বেড়েছিল কয়েক দিন আগে প্রতি লিটারে ৫ টাকা বেড়ে দাম হয়েছিল ৬২.৬৮ টাকা। আজ এক ধাক্কায় আরও ৮ টাকা বাড়ল দাম। বর্তমানে এলপিজির দাম লিটার প্রতি ৭০.৬৮ টাকা। এবার ভাড়া বাড়ানোর পথে হাঁটতে চলেছে অটোচালকেরা।
বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: রেল যাত্রীদের জন্য চরম সুখবর (Indian Railways)! এবার থেকে আর ঘন্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হবে না ট্রেনে! পূর্ব রেলের মালদহ (Malda)ডিভিশনের উদ্যোগে রেল পরিষেবাকে আরও গতিশীল এবং আধুনিক করে তুলতে নিউ ফারাক্কা-আজিমগঞ্জ শাখার মনিগ্রাম ও মহিপাল রোড স্টেশনের মাঝে নওপাড়া মহিষাসুর হল্ট স্টেশনটিতে চালু করা হলো ইন্টারমিডিয়েটের ব্লক সিগন্যালিং ব্যবস্থা। এর ফলে এখন থেকে আর সিগন্যালের জন্য সমস্যায় পড়তে হবে না ট্রেন চালকদের। ফলে কমবে, ট্রেনে সফরের সময়ও।
সুবিধা হবে যাত্রীদের
পূর্ব রেল সূত্রে খবর, মনিগ্রাম এবং মহিপাল রোড স্টেশনের মাঝে নওপাড়া মহিষাসুর হল্টে যে নতুন ইন্টারমিডিয়েটেড ব্লক সিগন্যালিং ব্যবস্থা চালু করা হল তাতে এবার থেকে ট্রেন চলাচলের গতি যেমন বাড়বে তেমনই সিগন্যালিংয়ের ক্ষেত্রেও দ্রুত কাজ হবে। মালদহ রেল ডিভিশন সূত্রে খবর, এই বিশেষ প্রকল্পের অধীনে মনিগ্রাম স্টেশনের সিমেন্সের ইলেকট্রনিক্স ইন্টারলকিং ব্যবস্থাতেও কিছু বদল এসেছে। মূলত ইন্টারমিডিয়েটেড ব্লক ব্যবস্থা কার্যকর করার জন্যই এমন পদক্ষেপ।
রেল সূত্রে খবর, মহিপাল রোড স্টেশনের ইন্টারলকিং সিস্টেমেও বড় বদল এসেছে। একই সাথে একটি নন ইন্টারলকড লেভেল ক্রসিং গেটকেও ইন্টারমিডিয়েটেড ব্লক সিগন্যালিং ব্যবস্থার সাথে যুক্ত করা হয়েছে। এক কথায়, যাত্রী সুবিধার কথা মাথায় রেখে এবং ট্রেনের সিগন্যালিং ব্যবস্থা কার্যকর করে তোলার জন্যই এমন ব্যবস্থা নিয়েছে রেল। এ প্রসঙ্গে মালদহ ডিভিশনের ডিআরএম মনিশ কুমার গুপ্তা স্পষ্ট জানিয়েছেন, টেলিকম ইঞ্জিনিয়ার ও সিনিয়র ডিভিশনাল সিগনাল রাজেন্দ্র কুমারের তত্ত্বাবধানেই সমস্ত কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
রেল আধিকারিকদের তরফে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নতুন সিগনালিং ব্যবস্থা চালু করার ফলে এবার থেকে পূর্বের প্রায় 12 কিলোমিটার দীর্ঘ ব্লক সেকশনকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি ব্লক সেকশন 6 কিলোমিটার করে। আসলে ট্রেনের গতি বৃদ্ধি এবং যাত্রীদের সফরের সময় কমাতেই এমন উদ্যোগ নিয়েছে রেল। তাছাড়াও এতদিন রেল যাত্রীরা অভিযোগ করে আসছিলেন এই লাইনে সিগন্যালের জন্য বারবার দাঁড়িয়ে পড়ে গাড়ি। এই সমস্যা কমাতেই এই নয়া ব্যবস্থা।
প্রসঙ্গত, নতুন সিগন্যালিং ব্যবস্থা চালু করার পাশাপাশি অপারেটিং স্টাফদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজও শুরু করেছে রেল। যাক আগামী এক সপ্তাহ ধরে চলবে। নওপাড়া মহিষাসুর হল্ট স্টেশনে নতুন সিগন্যালিং ব্যবস্থা চালু হয়ে যাওয়ায় মালদহ ডিভিশনে ট্রেন পরিষেবা অনেকটাই উন্নত হবে বলেই আশা করছেন রেলের আধিকারিকরা।
একদিকে যখন ভোট যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে তৃণমূল-বিজেপি-সিপিএম, ঠিক সেই মুহূর্তেই এক নতুন যুদ্ধ শুরু করেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে, এই যুদ্ধ কিন্তু কোনও দল বা নির্বাচন কমিশনের সাথে নয়, এই যুদ্ধ ভারতের সাংবিধানিক প্রধান তথা রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মূ-র সাথে (President VS Chief Minister)।
এত বছর ধরে বাংলা দেখেছে, দেশের প্রধানমন্ত্রীর সাথে মুখ্যমন্ত্রীর লড়াই, রাজ্যপালের সাথে মুখ্যমন্ত্রীর লড়াই। আর এবার প্রথমবার বাংলা দেখছে রাষ্ট্রপতির সাথে মুখ্যমন্ত্রীর লড়াই।
গত ১০ দিন কেটে গেলেও, এই যুদ্ধ যেন থামার নামই নিচ্ছে না। দুপক্ষই যেন বলছে – হাম ঝুঁকেগা নেহি! পরিস্থিতি এমন যে তৃনমূলের আচরণে ভয়ঙ্কর ক্ষুব্ধ ভারতের রাষ্ট্রপতি, এমনকি রাষ্ট্রপতি শাসনও জারি হতে পারে বাংলায়।
কিন্তু, হঠাৎ কীভাবে শুরু হল এই যুদ্ধ? কেনই বা একে অপরের সাথে ঠাণ্ডা লড়াইয়ে নেমেছে ভারতের দুই ক্ষমতাধারী মহিলা? হঠাৎ কী এমন করল তৃণমূল যার জন্য তেলে বেগুনে জ্বলে উঠেছেন স্বয়ং রাষ্ট্রপতি? কেন সারা ভারতের সামনে লজ্জার মুখে পড়তে হচ্ছে বাঙালীদেরকে?
আজ India Hood ডিকোড-এ আমরা তুলে ধরবো এমন কিছু ঘটনা, যা আমার-আপনার ধারণারও বাইরে! তাই ধৈর্য ধরে লেখাটি শেষ পর্যন্ত প্ড়ুন।
দ্বন্দের সূত্রপাত!
দিনটা ছিল ৬ই মার্চ। রাষ্ট্রপতি হওয়ার প্রায় চার বছর পর প্রথমবার উত্তরবঙ্গ সফরে আসেন দ্রৌপদী মুর্মু। দুই দিনের সফর। প্রথম দিন তিনি পৌঁছান বাগডোগরা বিমানবন্দরে। সেখান থেকে যান লোকভবনে। সেখানে তাঁর একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ছিল – দার্জিলিং হিল ফেস্টিভ্যালের উদ্বোধন। সেই দিন রাত কাটান রাজভবনে।
পরের দিন অর্থাৎ ৭ই মার্চ, রাষ্ট্রপতির যাওয়ার কথা ছিল বিধাননগরে। সেখানে আদিবাসী সম্প্রদায়ের একটি বড় অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা ছিল তাঁর। প্রথমে বিধাননগরে এই অনুষ্ঠান হওয়ার কথা থাকলেও, নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে পরে সেই অনুষ্ঠান সরিয়ে আনা হয় গোঁসাইপুরে।
আর এই দিন থেকেই শুরু হয় বিতর্ক।
প্রথমে গোঁসাইপুরের মঞ্চ থেকেই রাষ্ট্রপতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এরপর নিজেই চলে যান বিধাননগরে, খতিয়ে দেখেন – কেন বিধাননগরে তাঁকে অনুষ্ঠান করতে দেওয়া হল না, কোন নিরাপত্তার কারণে তাঁর এই অনুষ্ঠান স্থানান্তর করা হল।
কিন্তু কোনও কারণ না খুঁজে পেয়ে, এরপর সেখান থেকেই তিনি সমালোচনা করা শুরু করেন রাজ্য সরকারের। তিনি বলেন – “প্রশাসনের মনে কী চলছিল জানি না। আমি তো সহজেই এখানে চলে এলাম। ওরা বলেছিল জায়গা নেই। অথচ এখানে তো পাঁচ লক্ষ লোক হয়ে যাওয়ার কথা!”
এরপর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে তিনি বলেন – “আমিও বাংলার মেয়ে। আমাকে বাংলায় আসতেই দেওয়া হয় না। মমতাদি আমার ছোট বোন। জানি না আমার উপর কী রাগ।”
এখানেই থামেননি ম্যাডাম প্রেসিডেন্ট। রাজ্যের আদিবাসী সমাজের অবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তিনি বলেন, “দেখে মনে হচ্ছে না যে সাঁওতাল বা আদিবাসী সমাজের মানুষেরা সমস্ত সরকারি সুযোগ-সুবিধা পান।“
এছাড়াও, কোনও রাজ্যে রাষ্ট্রপতি এলে সাধারণ প্রোটোকল অনুযায়ী, রাজ্যের রাজ্যপাল, মুখ্যমন্ত্রী, এবং মন্ত্রিসভার সদস্যরা তাঁকে অভ্যর্থনা জানান বা সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। কিন্তু, ঘটনাচক্রে এই সময়ে ধর্মতলায় SIR-এর প্রতিবাদে ধর্না দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই তিনি রাষ্ট্রপতির সাথে দেখাও করেননি। যা নিয়েও অনেকে মুখ্যমন্ত্রীকে খোঁচা দেন।
রাষ্ট্রপতির এই বক্তব্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায় সোশ্যাল মিডিয়ায়। এই মন্তব্যের পরেই বিষয়টি রাজ্য রাজনীতির গণ্ডি ছাড়িয়ে জাতীয় রাজনীতিতে পৌঁছে যায়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই বিষয় নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, – “এটি লজ্জাজনক এবং নজিরবিহীন। গণতন্ত্রে বিশ্বাসী প্রত্যেক মানুষ এই ঘটনায় ব্যথিত। পশ্চিমবঙ্গ সরকার রাষ্ট্রপতির প্রতি অসম্মান দেখিয়েছে। রাষ্ট্রপতির পদ রাজনীতির ঊর্ধ্বে। এই পদের মর্যাদা সর্বদা রক্ষা করা উচিত।“
এরপর পাল্টা জবাব দেয় মুখ্যমন্ত্রী!
এত কিছুর পর এবার পাল্টা জবাব দিতে মাঠে নামেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ধর্মতলার ধর্নামঞ্চ থেকেই তিনি বলেন – “মাননীয়া রাষ্ট্রপতি, আমি দুঃখিত। আপনার প্রতি আমার শ্রদ্ধা আছে। কিন্তু আপনি বিজেপির নীতির ফাঁদে পড়ে গিয়েছেন।” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, “রাষ্ট্রপতিকে বিজেপি তাদের রাজনৈতিক প্রচারের জন্য ব্যবহার করছে। কই মণিপুরে যখন আদিবাসী সমাজের উপর হামলা হচ্ছিল, তখন রাষ্ট্রপতি কোনও মন্তব্য করেননি কেন?“
এছাড়া, SIR নিয়ে মমতা, রাষ্ট্রপতিকে বলেন, ‘‘SIR নিয়ে কই একটা কথাও বললেন না তো? কত আদিবাসীর নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, সেই খবর রেখেছেন? খোঁজ নিয়ে নিন, আমরা আদিবাসীদের জন্য কী কী করেছি। অন্য রাজ্য কী করেছে।‘’
এরপর ওই দিনই, ধর্না মঞ্চ থেকে তৃণমূল কংগ্রেস সিদ্ধান্ত নেয়, ‘’রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করবে তাদের প্রতিনিধি দল। মুখ্যমন্ত্রী দায়িত্ব দেন তৃণমূলের দুই শীর্ষ সাংসদ—ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তাঁদের বলা হয় রাষ্ট্রপতির কাছে গিয়ে জানাতে—পশ্চিমবঙ্গে আদিবাসী উন্নয়নের জন্য রাজ্য সরকার কী কী কাজ করেছে।
এছাড়াও, মোদীর কটাক্ষের উত্তর দিতে গিয়ে একটি পুরনো ছবি দেখিয়ে তৃণমূলের তরফ থেকে দাবি করা হয়, রাষ্ট্রপতিকে অসম্মান করেছেন স্বয়ং মোদীও। যে ছবিতে দেখা যাচ্ছে, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী দাঁড়িয়ে লালকৃষ্ণ আদবানীকে ভারতরত্ন পুরষ্কার দিচ্ছেন। আর তাঁর সামনে একটি চেয়ারে বসে রয়েছেন মোদী। পাশাপাশি তৃণমূলের নেতারা বক্তৃতায় জুড়ে দেন রামমন্দির উদ্বোধনে রাষ্ট্রপতিকে আমন্ত্রণ না-জানানোর প্রসঙ্গও।
কিন্তু, বিজেপিও এর পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানায়। তারা সোশ্যাল মিডিয়া এই ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়ে বলে – ভারতরত্ন পুরস্কার প্রদানের সময় সরকারী প্রোটোকল অনুসারে, উপস্থিত অন্যরা বসে থাকবেন। তাই এক্ষেত্রে কোনও ধরণের ভঙ্গিমা লঙ্ঘন করা হয়নি।“ পোস্টটিতে আরও বলা হয়, “এটা লজ্জাজনক যে তৃণমূল কংগ্রেস আবারও মাননীয়া রাষ্ট্রপতি শ্রীমতি দ্রৌপদী মুর্মু, প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ভারতরত্ন শ্রী লালকৃষ্ণ আদভানির সাথে জড়িত একটি মর্যাদাপূর্ণ মুহূর্তকে তুচ্ছ রাজনীতির জন্য বিকৃত করার চেষ্টা করছে।”
এছাড়া রাষ্ট্রপতির সাথে দেখা না করার ক্ষেত্রে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার জন্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৭ই মার্চ রাতেই এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, “রাষ্ট্রপতির কর্মসূচির আয়োজক ‘আন্তর্জাতিক সাঁওতাল কাউন্সিল’, যারা একটি বেসকরকারি সংস্থা। সেই কর্মসূচির বিষয়েও রাষ্ট্রপতির সচিবালয়ের সঙ্গে জেলা প্রশাসন সমন্বয়ও রেখেছিল। সেখানেই বিধাননগরের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি না থাকার কথা জানানো হয়। এছাড়াও, শিলিগুড়ির মেয়র, দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক সকলেই রাষ্ট্রপতিকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য হাজির ছিলেন। সেখানে কোনও প্রোটোকল বিঘ্নিত হয়নি। শেষে তিনি লেখেন, ‘‘সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক হল, বিজেপি নিজেদের দলীয় উদ্দেশ্যে দেশের সর্বোচ্চ পদকেও ব্যবহার করছে।‘’
তবে, এই রাজনৈতিক সংঘর্ষ এখানেই থেমে থাকেনি।
“মুখের ওপর না” বলে দেয় রাষ্ট্রপতি!
এরপর দিনটা ৯ই মার্চ। রাষ্ট্রপতির সাথে দেখা করার জন্য তৃনমূলের তরফ থেকে রাষ্ট্রপতি ভবনে চিঠিও পাঠানো হয়। ১২ থেকে ১৫ জন দলীয় প্রতিনিধি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করবেন বলে চিঠিতে জানানো হয়েছিল। সেই প্রতিনিধি দলে থাকার কথা তৃণমূল সাংসদ এবং মন্ত্রীদের।
কিন্তু, ১২ই মার্চ সেই আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়। এক প্রকার “মুখের ওপর তৃনমূলকে না বলে দেয়” রাষ্ট্রপতি। তৃণমূলের চিঠির জবাবে রাষ্ট্রপতি ভবন জানায়, তাদের অনুরোধটি বিবেচনা করা হয়েছিল। কিন্তু সময়ের অভাবে আবেদন গ্রহণ করা যাচ্ছে না। এর পরেই আগামী সপ্তাহে ফের রাষ্ট্রপতির সময় চান তৃণমূল সাংসদেরা।
এবার পাল্টা “না” বলে তৃণমূল!
এবার পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে থাকে। ১৪ই মার্চ শুরু হয় নতুন বিতর্ক। কারণ, সেদিন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু সমস্ত রাজনৈতিক দলের সাংসদদের ১৬ই মার্চ রাষ্ট্রপতি ভবনে প্রাতরাশের আমন্ত্রণ জানানো হয়। কিন্তু সেই আমন্ত্রণ ফিরিয়ে দেয় তৃণমূল কংগ্রেস। দলের রাজ্যসভার মুখ্যসচেতক নাদিমুল হক রাষ্ট্রপতি ভবনকে জানান, “তৃণমূলের সাংসদরা এই অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন না।“
কিন্তু কেন? কারণ হিসেবে বলা হয়—রমজান মাস চলছে। মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষেরা দিনভর উপবাস করেন। তাই সেই সময় প্রাতরাশ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া ঠিক হবে না।
আর এই সিদ্ধান্তই নতুন করে বিতর্ক তৈরি করে। কারণ প্রশ্ন ওঠে, – যদি সকালে না যেতে চান, তাহলে কখন যাবেন তারা? কারণ বিকালে দেখা করতে বললে, – তখন তো আবার ইফতার চলে!
বিরোধীরা বলছে—এটা আসলে রাজনৈতিক প্রতিবাদ। অন্যদিকে তৃণমূলের দাবি—বিজেপি রাজনৈতিক স্বার্থে রাষ্ট্রপতির পদ ব্যবহার করছে।
যদিও পরে দেখা যায়, রাষ্ট্রপতি ভবনের ওই প্রাতরাশের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে রাষ্ট্রপতির সাথে দেখা করেন তৃনমূলের বর্ষীয়ান সাংসদ সৌগত রায়।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে – এই ঠাণ্ডা লড়াইয়ের কতটা প্রভাব পড়বে বাংলার ভোটে?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন—সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে জঙ্গলমহল এলাকায়।
কারণ, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে জঙ্গলমহলের সবকটি আসন জিতেছিল বিজেপি। কিন্তু ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সেই অঞ্চল অনেকটাই পুনর্দখল করে তৃণমূল। আর ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে পশ্চিমাঞ্চলের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আসন—বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম এবং মেদিনীপুর—দখল করে নেয় তৃণমূল।
তাই আদিবাসী ভোট এখন দুই দলের কাছেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পরিসংখ্যান বলছে – পশ্চিমবঙ্গে মোট ২৯৪টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ১৬টি আসন জনজাতিদের জন্য সংরক্ষিত। কিন্তু বাস্তবে প্রায় ৫২টি আসনে উল্লেখযোগ্য আদিবাসী ভোট রয়েছে। অর্থাৎ, এই বিতর্ক শুধু সংরক্ষিত আসনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং বৃহত্তর রাজনৈতিক সমীকরণেও এর প্রভাব পড়তে পারে। তাই এখন প্রশ্নটা শুধু একটি অনুষ্ঠান বা একটি বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।
এই সংঘর্ষ কি শেষ পর্যন্ত প্রভাব ফেলবে বাংলার ভোটে? আপনার কী মনে হয়? জানাতে ভুলবেন না আপনার মতামত কমেন্ট করে।
সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: আজ ২০ মার্চ, শুক্রবার। তৃণমূলের ইস্তেহার, আরজি করে রহস্যমৃত্যু, অটোর এলপিজি-র দাম বৃদ্ধি, রাজ্য-রাজনীতি, অর্থনীতি, বহির্বিশ্ব, কোথায় কী ঘটল আজ? জানতে চোখ রাখুন আজকের সেরা দশে। India Hood-র তরফ থেকে আমরা নিয়ে এসেছি তরতাজা দশটি (Top 10 Bangla News in West Bengal And India) খবর, যা না পড়লে মিস করে যাবেন অনেক কিছুই। বিস্তারিত নতে হলে অবশ্যই প্রতিবেদনটি শেষ পর্যন্ত পড়ুন।
১০) ভোটের আগে ২৯ কেন্দ্রে প্রার্থী দিল ISF
আইএসএফ ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বামেদের সঙ্গে সমঝোতা করে এবার ২৯টি আসনে প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল। চেয়ারম্যান নওশাদ সিদ্দিকী জানিয়েছেন যে, বিজেপি এবং তৃণমূলকে হারাতে তারা সমঝোতায় এসেছে। মোথাবাড়ি থেকে বোলপুর পর্যন্ত বিভিন্ন কেন্দ্রে প্রার্থী দিয়েছে আইএসএফ আর প্রতীক রাখা হয়েছে খাম। পাশাপাশি নন্দীগ্রাম সহ আরও চারটি আসনে বামেদের প্রার্থী প্রত্যাহারের আবেদন জানানো হয়েছে বলে খবর। বিস্তারিত পড়তে- এখানে ক্লিক করুন
৯) আরজি করে লিফটে আটকে রহস্যমৃত্যু ব্যক্তি
আরজি কর হাসপাতালে লিফটে আটকে রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হল দমদমের বাসিন্দা অরূপ চট্টোপাধ্যায়ের। তাঁর বয়স আনুমানিক ৪০ বছর। হাসপাতলে ভর্তি ছেলেকে দেখতে স্ত্রী এবং সন্তানকে নিয়ে লিফটে ওঠার সময় দুর্ঘটনা ঘটেছে। লিফট অপারেটর না থাকার কারণে তিনজনই আটকে পড়েছেন। পরে উদ্ধার করা হলে অরূপবাবুর মৃত্যু হয়। আর স্ত্রী এবং ছেলে দুজনেই সুস্থ রয়েছেন। টালা থানা তদন্ত শুরু করেছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই মৃতদেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। আর রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে। বিস্তারিত পড়তে- এখানে ক্লিক করুন
৮) ১৬,৩৯৮ কিমি ট্র্যাকের পাশে বেড়া বসাল ভারতীয় রেল
ভারতীয় রেল নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য ১৬,৩৯৮ কিলোমিটার রেল লাইনের পাশে বেড়া বসানোর কাজ সম্পন্ন করল। যার ফলে অনধিকার প্রবেশ এবং দুর্ঘটনা অনেকটাই কমবে। পাশাপাশি দ্রুতগতির ট্রেন চলাচল আরও নিরাপদ হবে। আর উত্তর-মধ্যে, দক্ষিণ-মধ্য এবং পশ্চিম রেল জোনে বেশি কাজ হয়েছে বলে খবর। মানুষ শর্টকাট লাইনে পার হওয়া এবং পশু প্রবেশ রুখতেই বিশেষ করে এই উদ্যোগ। কিন্তু কিছু কিছু রুটে ট্রেনে দেরি নিয়ে যাত্রীদের অভিযোগ রয়েছে। ভবিষ্যতে আরও করিডরে বেড়া বসানো এবং ট্রাক উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। বিস্তারিত পড়তে- এখানে ক্লিক করুন
৭) সর্বকালের সর্বনিম্ন স্তরে ভারতীয় রুপি
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে ভারতীয় রুপি মার্কিন ডলারের বিপরীতে সর্বকালের সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছে গেল। এবার এক ডলার কিনতে গেলে খরচ পড়ছে ৯৩.২৪ টাকা। ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ১০০ ডলার পর্যন্ত হয়ে যাওয়ায় আমদানি খরচ অনেকটাই বেড়েছে। যার প্রভাব পড়ছে ভারতীয় মুদ্রার উপরে। কয়েকদিন আগেও রুপি ছিল ৯২ টাকার আশেপাশে। কিন্তু আরও দ্রুত পতন হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, তেলের দাম আরও বাড়লে ৯৪ টাকা বা তার বেশি নেমে যেতে পারে। এমনকি ১০০ টাকার গণ্ডিও টপকে যেতে পারে। বিস্তারিত পড়তে- এখানে ক্লিক করুন
৬) ফের বেড়ে গেল অটোর LPG-র দাম
অটোর এলপিজি গ্যাসের দাম হঠাৎ করে ৮ টাকা বেড়ে যাওয়ার কারণে কলকাতায় ৭০.৬৮ টাকায় পৌঁছে গেল, যা বৃহস্পতিবার রাত থেকে কার্যকর হচ্ছে। যার ফলে যাত্রীদের ভাড়া বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যে পশ্চিম এশিয়ার অশান্তি এবং এলপিজির সংকটে অনেক অটো রাস্তায় নামছে না। আর পাশাপাশি ভোটের কারণে বহু বেসরকারি বাস তুলে নেওয়ার কারণে পরিবহন ব্যবস্থা আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে। এতে নিত্যযাত্রীদের উপরে যে চাপ বেশি পড়ল তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সব মিলিয়ে নির্বাচনের আগে শহর এবং রাজ্যে যাতায়াতের সমস্যা তৈরি হয়েছে। বিস্তারিত পড়তে- এখানে ক্লিক করুন
বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাংলায় আইএএস এবং আইপিএস আধিকারিকদের জন্য রাজ্যে বদলি নিয়ে বিতর্ক এখন তুঙ্গে। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টের মামলা দায়ের করেছেন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যের সঙ্গে আলোচনা না করে নির্বাচন কমিশন একের পর এক পদক্ষেপ নিচ্ছে যা প্রশাসনিক কাজে ব্যাঘাত সৃষ্টি করছে। আর প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ মামলার অনুমতিও দিয়েছে এবং সোমবার এই মামলার শুনানি হবে বলে জানানো হয়েছে। প্রসঙ্গত, এই ইস্যুতে আগেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিস্তারিত পড়তে- এখানে ক্লিক করুন
৪) লিটারে ২ টাকা বাড়ল পেট্রোলের দাম
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়াতেই ভারতের প্রিমিয়াম পেট্রোলের দাম অনেকটাই বেড়ে গেল। তেল বিপণন সংস্থাগুলি আজ থেকেই প্রতি লিটারে ২.০৯ টাকা দাম বাড়িয়ে ফেলেছে। বিপিসিএল-এর ‘স্পিড’, এইচপিসিএল-এর ‘পাওয়ার’ ও আইওসিএল-এর ‘এক্সপি ৯৫’ এর মতো জ্বালানিতে এই বৃদ্ধি কার্যকর হচ্ছে বলে খবর। কিন্তু সাধারণ পেট্রোল-ডিজেলের দাম এখনো পর্যন্ত অপরিবর্তিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে ভবিষ্যতে জ্বালানির দাম বাড়তে পারে। তাই সাধারণ মানুষের খরচ আরও বাড়বে। বিস্তারিত পড়তে- এখানে ক্লিক করুন
৩) বাংলায় ঈদের ছুটি ২ দিন, ঘোষণা রাজ্যের
চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করে এবছর ঈদ-উল-ফিতর ২১ মার্চ ভারতে পালিত হবে বলে খবর। পশ্চিমবঙ্গে এই উপলক্ষে ২০ এবং ২১ মার্চ দুইদিন সরকারি ছুটি ঘোষণা করে দেওয়া হয়েছে। যার ফলে স্কুল, কলেজ এবং সরকারি অফিস টানা দুই দিন বন্ধ থাকবে। কিন্তু রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নির্দেশ অনুযায়ী, ব্যাঙ্ক বন্ধ থাকবে শুধুমাত্র ২১ মার্চ। আর সৌদি আরবে একদিন আগে পালিত হওয়ার কারণে ভারতে একদিন পরে উৎসব হচ্ছে। রমজান মাস শেষে এই উৎসব মুসলিমদের প্রধান আকর্ষণ, যা আনন্দ এবং উৎসের সঙ্গেই পালিত হয়। বিস্তারিত পড়তে- এখানে ক্লিক করুন
২) ভোটে তৃণমূলকে হারানোর ডাক পার্শ্ব শিক্ষকদের
বিধানসভা নির্বাচনের আগে বেতন বৃদ্ধি এবং স্থায়ীকরণের দাবিতে পার্শ্ব শিক্ষকদের ক্ষোভ এবার তীব্র হল। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিশ্রুতি দিলেও রাজ্য সরকার কোনও ভাবেই পূরণ করেনি। যার ফলে এবার লিফলেট প্রচার, স্ট্রিট কর্নার এবং আন্দোলনের মাধ্যমে তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রচারে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। এমনকি ভোটে শাসক দলকে হারানোর ডাকও দিয়েছে। অন্যদিকে তৃণমূল দাবি করছে, শিক্ষকদের জন্য একাধিক সুবিধা ইতিমধ্যে চালু করা হয়েছে। আর প্রায় ৪১,৫০০ শিক্ষকদের এই ক্ষোভ ভোটে প্রভাব ফেলতে পারে। বিস্তারিত পড়তে- এখানে ক্লিক করুন
১) ইস্তেহারে ১০ প্রতিজ্ঞা তৃণমূলের
বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেস বাংলার জন্য দিদির ১০ প্রতিজ্ঞা শীর্ষক ইস্তেহার প্রকাশ করল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দুয়ারে চিকিৎসা পরিষেবা চালু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। আর সেখানে ব্লক করে স্বাস্থ্য শিবির হবে। এছাড়াও সরকারি স্কুলকে আধুনিকীকরণ করে ই-লার্নিং চালু করা হবে, নতুন পৌরসভা গঠন করা হবে। পাশাপাশি সবার জন্য পাকা বাড়ি তৈরি করে দেওয়া হবে এবং ঘরে ঘরে পানীয় জল দেওয়া, কৃষকদের আর্থিক সহায়তা, যুবকদের কর্মসংস্থান আর মহিলাদের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার চালু রাখার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। বিস্তারিত পড়তে- এখানে ক্লিক করুন
বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের আগে একের পর এক চমক দিচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC Manifesto 2026)। এবার ইস্তেহার প্রকাশ করে রাজ্যবাসীকে চমকে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার কালীঘাট থেকে ইস্তেহার প্রকাশ করে বাংলার মানুষ জনের কাছে বড় প্রতিশ্রুতি রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী। ইস্তেহারের নাম রাখা হল “বাংলার জন্য দিদির ১০ প্রতিজ্ঞা।” মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, তৃণমূল কংগ্রেস ফের ক্ষমতায় এলে রাজ্যবাসীর দুয়ারে দুয়ারে পৌঁছে যাবে চিকিৎসা পরিষেবা। সেই সাথে বাংলার মানুষের কাছে আরও 9টি প্রতিজ্ঞা রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
তৃণমূল এলেই দুয়ারে চিকিৎসা
শুক্রবার নিজেদের ইস্তেহারে রাজ্যবাসীর কাছে অন্যতম প্রতিশ্রুতি হিসেবে দুয়ারের চিকিৎসা পরিষেবা চালু করার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতার কথায়, “তৃণমূল কংগ্রেসের ক্ষমতায় আসবে এবং দুয়ারে সরকারের আদলে দুয়ারের চিকিৎসা নামে ব্লকে ব্লকে খোলা হবে স্বাস্থ্যশিবির। সেখানে থাকবেন রাজ্যের অভিজ্ঞ চিকিৎসকরা। আর সেই স্বাস্থ্য শিবির থেকেই নিজেদের যাবতীয় চিকিৎসা করাতে পারবে সাধারণ মানুষ।
বলাই বাহুল্য, 2024 লোকসভা নির্বাচনের আগে নিজের ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রে সেবাস্রয় শিবিরের আয়োজন করেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পরবর্তীতে সেই সেবাশ্রয় গড়ে তোলা হয় নন্দীগ্রামেও। খানিকটা সেই আদলেই আগামী দিনে রাজ্যের প্রতিটি ব্লকে স্বাস্থ্য শিবির গড়ে তোলার কথা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী।
তৃণমূলের ইস্তেহারে আর কী কী আছে?
ইস্তেহারে দুয়ারে চিকিৎসা পরিষেবা চালু করার কথা জানানোর পাশাপাশি রাজ্যের কয়েক হাজার সরকারি স্কুলের আধুনিকীকরণ করা হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই স্কুল গুলিকে মডার্ন স্কুলে রূপান্তরিত করা হবে অর্থাৎ তালিকাভুক্ত প্রতিটি স্কুলে ই লার্নিং সহ আধুনিক পঠন-পাঠন চালানো হবে। এই প্রকল্পের অধীনে নিয়োগ করা হবে প্রচুর শিক্ষক।
উন্নয়নের চাকা যাতে অবিরাম গতিতে এগিয়ে চলে এবং আমার প্রাণপ্রিয় বাংলার প্রতিটি ঘরে ঘরে যেন খুশির আলো জ্বলে ওঠে, সেই লক্ষ্যেই চতুর্থবারের জন্য আমাদের সরকারের আগামী পাঁচ বছরের পথচলার পাথেয় হিসেবে আমি আমার ১০টি ‘প্রতিজ্ঞা’ আপনাদের চরণে সশ্রদ্ধচিত্তে পেশ করছি।
এখানেই শেষ নয়, রাজ্যের প্রবীণ নাগরিকদের দেখাশোনার জন্যও বিশেষ প্রকল্পের ঘোষণা করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। পাশাপাশি বাংলার সাত থেকে আটটি জেলায় নতুন নতুন পৌরসভা তৈরি করার কথাও জানিয়েছেন তিনি। এগুলি ছাড়াও বাংলার প্রত্যেককে পাকা বাড়ি করে দেওয়া হবে বলেও নিশ্চয়তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে তৃণমূলের ইস্তেহারে, বাড়িতে বাড়িতে পানীয় জল, বাংলাকে পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলা, কৃষি ক্ষেত্রে 30 হাজার কোটি টাকার বাজেট এবং প্রতিটি কৃষককে আর্থিক সাহায্য করা, বেকার যুবক যুবতীদের পাশে থাকা অর্থাৎ যুবসাথী প্রকল্প এবং বাংলার মহিলাদের লক্ষ্মীর ভান্ডারের হাত ধরে মাসিক অর্থ সাহায্য দিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ইসলামিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, শাওয়াল মাসের প্রথম দিনে ঈদ উদযাপিত হয় এবং ঈদের তারিখ চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করে। তাই সৌদি আরবে চাঁদ দেখার পর পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal) সহ সারা ভারতে ঈদ-উল-ফিতর (Eid Ul Fitr) উদযাপিত হয়। এই কারণে প্রতিবার ঈদের তারিখ নিয়ে মানুষ কিছুটা বিভ্রান্ত থাকে। এমনকি ঈদের ছুটি নিয়েও বিভ্রান্তি রয়েছে। চলুন আজকের প্রতিবেদনের মাধ্যমে জেনে নেওয়া যাক চলতি বছর ঈদের জন্য রাজ্য কোন কোন দিন ব্যাঙ্ক, স্কুল, কলেজ এবং অফিস বন্ধ থাকবে।
সৌদি আরবে আজ খুশির ঈদ
পবিত্র রমজান মাসের শেষে সকলেই অপেক্ষায় থাকেন খুশির ঈদের জন্য। কারণ এটি হল রমজান মাসের রোজা সমাপ্তির উৎসব। প্রতি বছর ঈদ-উল-ফিতর চাঁদ দেখার মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। তাই বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে এই উৎসবটি বিভিন্ন দিনে উদযাপিত হয়। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সৌদি আরবে ঈদ উদযাপিত হয় সবার আগে। এইবছর সৌদি আরবে চাঁদ দেখা নিয়েও নানা সমস্যা তৈরি হয়েছিল। বুধবার শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। তারপর ঠিক হয়েছিল বৃহস্পতিবার অর্থাৎ ১৯ মার্চ চাঁদ দেখা গেলে ভারতে আজ ঈদ পালন করা হবে। তবে শেষে দেখা গেল, সৌদি আরবে আজ খুশির ঈদ পালন করা হচ্ছে। অর্থাৎ আগামীকাল অর্থাৎ শনিবার ভারতে পালন করা হবে ঈদ-উল-ফিতর।
বাংলায় কোন দিন ঈদের ছুটি?
পশ্চিমবঙ্গ অর্থ দফতরের বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, আগামীকাল অর্থাৎ ২১ মার্চ সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এদিকে আবার রাজ্য সরকার আজকেও ঈদের জন্য সরকারি ছুটির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। একই সঙ্গে রাজ্য শিক্ষাপরিষদও ২০ ও ২১ মার্চ-উভয় দিনই ঈদের ছুটি হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। ফলে বাংলার স্কুল, কলেজ এবং অফিসে টানা দু’দিন ছুটি থাকার থাকতে চলেছে। অন্যদিকে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া বাংলায় আগামীকাল, ২১ মার্চ ঈদের ছুটি ঘোষণা করেছে।
প্রসঙ্গত, মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে বছরের সবচেয়ে পবিত্র সময় হল রমজান মাস। এই গোটা এক মাসে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোজা রাখেন মুসলিমরা। এই বছর ভারতে রমজান মাস শুরু হয় ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে। আর রমজান মাসের শেষ দিনে পালিত হয় মুসলিমদের সবচেয়ে বড় উৎসব ইদ-উল ফিতর। ওইদিন সকালে ইদের প্রার্থনা, নতুন পোশাক ও মিষ্টিমুখ করে ইদের আনন্দে মেতে ওঠেন সবাই।