Tag: United States

  • ‘আমার অনুমতি ছাড়া টিকতে পারবে না!’ মোজতবা খামেনি নির্বাচিত হওয়াতে হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

    ‘আমার অনুমতি ছাড়া টিকতে পারবে না!’ মোজতবা খামেনি নির্বাচিত হওয়াতে হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: পশ্চিম এশিয়ার সংঘর্ষ দিনের পর দিন তীব্র আকার ধারণ করছে (Iran-Israel War)। এরই মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রয়াণের পর নতুন নেতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মোজতবা খামেনি, যিনি আলি খামেনিরই মেজ ছেলে। আমেরিকা এবং ইজরায়েলের যৌথ সামরিক হামলায় খামেনি নিহত হওয়ার পরই তাঁর নেতৃত্বের প্রশ্ন সামনে এসেছিল। আর সেই পরিস্থিতিতেই মোজতবা খামেনিকেই দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে মত আন্তর্জাতিক মহলের।

    তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এবার নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁর অনুমতি ছাড়া ইরানে কোনও সর্বোচ্চ নেতা দীর্ঘদিন ধরে টিকতেই পারবে না। ট্রাম্পের এই মন্তব্য সামনে আসতেই কূটনৈতিক মহলে পড়েছে শোরগোল।

    দিনের পর দিন বাড়ছে উত্তেজনা

    মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ইতিমধ্যেই দশম দিনে পৌঁছেছে। একদিকে আমেরিকার তরফ থেকে ইরানের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানো হচ্ছে। অন্যদিকে ইরানও পাল্টা আক্রমণ চালাচ্ছে। যার ফলে সংঘাত দিনের পর দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের। এদিকে ইরানের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, প্রয়োজনে তারা এই যুদ্ধ ছয় মাস পর্যন্ত চালিয়ে যেতে প্রস্তুত। অন্যদিকে ট্রাম স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, আপাতত ইরানের সঙ্গে কোনও রকম সমঝোতার পথে হাঁটতে রাজি নয় আমেরিকা।

    ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেস্কিন প্রথমে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সংঘাতের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন যে, ইরানের কোনও দেশের সঙ্গে শত্রুতা নেই। আর অন্য কোনও রাষ্ট্র দখল করার ইচ্ছাও নেই। কিন্তু পরবর্তীতে দেশের ভিতরে রাজনৈতিক চাপ বাড়ার কারণে তিনি নিজের বক্তব্য পরিবর্তন করেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, ইরানের উপর হামলা হলে দেশ আর নিশ্চুপ থাকবে না। উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।

    আরও পড়ুন: ‘রাজ্য সরকার চাইলে বাংলায় কমবে গ্যাসের দাম’ কতটা?

    এদিকে ইরান বাহরিনের রাজধানী মানামায় অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর সদর দফতরেও হামলা চালিয়েছে। আর এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে আমেরিকাও ইরানের বিভিন্ন তেলের ভাণ্ডারে হামলা চালাচ্ছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র তাদের শক্তি বাড়াতে পশ্চিম এশিয়ায় অতিরিক্ত যুদ্ধ জাহাজ মোতায়ন করানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলির প্রতিবেদন দাবি করা হচ্ছে, ইরানে মজুত ইউরেনিয়াম সুরক্ষিত রাখার জন্য বিশেষ বাহিনী পাঠানোর সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করছে আমেরিকা এবং ইজরায়েল। আর এই খবর সামনে আসতেই গোটা বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

  • খামেনির মৃত্যুতে অবশেষে শোক প্রকাশ ভারতের, ফের কোনও কূটনৈতিক বার্তা?

    খামেনির মৃত্যুতে অবশেষে শোক প্রকাশ ভারতের, ফের কোনও কূটনৈতিক বার্তা?

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ইজরায়েল এবং আমেরিকার যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে শোক প্রকাশ করল ভারত (India on Ali Khamenei Death)। বৃহস্পতিবার দিল্লিতে ইরানের দূতাবাসে গিয়ে শোক পুস্তিকায় সই করেছেন স্বয়ং ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিসরি। এমনকি একইসঙ্গে তিনি ভারতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাক্ষাৎকার করেছেন এবং খামেনির প্রয়াণে ভারতের পক্ষ থেকে গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।

    বিদেশ মন্ত্রকের তরফ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, খামেনির মৃত্যুতে ভারত সরকার গভীরভাবেই শোক প্রকাশ করেছে। আর সেই সূত্র ধরেই দিল্লিতে ইরানের দূতাবাসে গিয়ে শোক পুস্তিকায় স্বাক্ষর করেছেন বিদেশ সচিব বিক্রম মিসরি। যদিও এই পদক্ষেপকে কূটনৈতিকভাবে বেশ গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

    কীভাবে মৃত্যু হল খামেনির?

    প্রসঙ্গত জানিয়ে রাখি, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের এক ভয়াবহ সামরিক হামলায় নিহত হন দেশের সুপ্রিম লিডার আয়তুল্লাহ আলি খামেনি। অভিযোগ ওঠে, এই হামলার পেছনে ছিল ইজরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ অভিযান। এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইজরায়েলের প্রশাসনিক দফতরের তরফ থেকে এই কথা স্বীকার করা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণত এই ধরনের হামলা রাতের বেলায় হয়। কিন্তু খামেনের অবস্থান সম্পর্কে নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়ার পর দিনের বেলাতেই এই হামলা চালানো হয়। আর ইজরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ এই অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে রিপোর্ট।

    এমনকি পরদিন আমেরিকা এবং ইজরায়েল যৌথভাবেই ঘোষণা করে যে উক্ত অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি নিহত হয়েছেন। আর পরে ইরান সরকারের তরফ থেকেও আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়। জানা যাচ্ছে, মৃত্যুকালে নেতার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। ১৯৮৯ সাল থেকেই তিনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে সিংহাসনে বসে রয়েছেন। অন্যদিকে খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের নেতৃত্ব নিয়ে বাড়ছে জল্পনা। জানা যাচ্ছে, তিন সদস্যের একটি অন্তর্বর্তী কাউন্সিল দেশের নতুন সুপ্রিম লিডার হিসেবে খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনির নামই বেছে নিয়েছে।

    আরও পড়ুন: মৃত্যু হয়েছে শাশুড়ির, অন ক্যামেরায় চলছে কান্নাকাটি! ট্রোলের মুখে ‘প্রবাসে ঘরকন্না’ মহুয়া

    মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উদ্বেগ

    এদিকে এই মুহূর্তে গোটা মধ্যপ্রাচ্য কার্যত যুদ্ধের দামামায় জ্বলছে। ইরান ওই অঞ্চলে থাকা সমস্ত মার্কিন ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। আর সবথেকে বড় ব্যাপার, দুবাই থেকে শুরু করে বাহারাইন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, ওমান, জর্ডান সহ একাধিক দেশের উপর হামলা চালাচ্ছে ইরান। আর এতে পরিস্থিতি দিনের পর দিন জটিল হয়ে উঠছে। কার্যত একে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ বলেও আখ্যা দিতে পিছপা হচ্ছে না বুদ্ধিজীবীরা। সবথেকে বড় ব্যাপার, গত কয়েকদিন ইরান প্রায় ৫০০টি ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং ২০০০ এর বেশি ড্রোন হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে আমেরিকা এবং ইজরায়েলও যৌথভাবে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

  • ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামবে পাকিস্তান! বিদেশমন্ত্রীর মন্তব্যে বড়সড় ইঙ্গিত

    ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামবে পাকিস্তান! বিদেশমন্ত্রীর মন্তব্যে বড়সড় ইঙ্গিত

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: পশ্চিমের আকাশে যুদ্ধের কালো মেঘ দিনের পর দিন ঘন হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান এবং ইজরায়েলের সংঘাত তুঙ্গে। হ্যাঁ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত যখন নতুন মাত্রা নিচ্ছে, তখনই সেই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের (Pakistan) সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উঠতে শুরু করেছে বিভিন্ন রকম প্রশ্ন। সম্প্রতি ইসলামাবাদের মন্তব্যে ইঙ্গিত মিলছে যে, সৌদি আরব আক্রান্ত হলে তারা চুপ করে বসে থাকবে না। বরং, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করবে।

    ইশাক দারের মন্তব্য ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে

    সম্প্রতি পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রী ইশাক দার প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, সৌদি আরবের সঙ্গে তাদের আলাদা সামরিক চুক্তি রয়েছে এবং সেই চুক্তির বাধ্যবাধকতা তারা মানবে। এমনকি তিনি স্পষ্ট বলেন, ইরানকে ইতিমধ্যেই সতর্ক করা হয়েছে, যাতে সৌদি ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো না হয়। এই মন্তব্য নিয়েই নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। তাহলে কি পাকিস্তানি এবার সরাসরি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামছে?

    এদিকে ইসলামাবাদ এবং রিয়াধের সম্পর্কে বহু পুরনো। আর সাম্প্রতিক বছরগুলিতে তা তারও মজবুত হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত বিশেষ চুক্তি অনুযায়ী, যে কোনও এক দেশের উপর হামলা হলে অন্য দেশের উপরেও হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে। জানা গিয়েছে, পাকিস্তান ইতিমধ্যেই সৌদি আরবে সামরিক সহায়তা জোরদার করেছে। এমনকি অত্যাধুনিক এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি রিয়াধের হাতেও তুলে দেওয়া হয়েছে। আর পাকিস্তান বায়ুসেনার LY-80, FM-90 সিরিজের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এমনকি প্রাক্তন পাক সেনাপ্রধান রাহেল শরীফ ৪৩টি দেশ নিয়ে গঠিত ইসলামিক মিলিটারি কাউন্টার টেরোরিজমেশনের দায়িত্ব রয়েছেন। যার ফলে সৌদি-পাক সামরিক সমন্বয় আরও সুসংগত হবে।

    অন্যদিকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে নামার অভিযোগ উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইজরায়েলের বিরুদ্ধে। এই দুই দেশ মিলেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে নিকেশ করেছে বলে খবর। পাল্টা বদলা হিসাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলিকেও নিশানা করেছে তেহরান। আর এই সংঘাতের জেরে গোটা পশ্চিম এশিয়া এখন অস্থির হয়ে উঠেছে। কার্যত যুদ্ধের আগুনে জ্বলছে মধ্যপ্রাচ্য। আর সৌদি আরবেও বেছে বেছে হামলার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবি। পাকিস্তানের তরফ থেকে বলা হয়েছে, সৌদির সঙ্গে তাদের সামরিক চুক্তি থাকায় সেখানে বড়সড় আক্রমণ করা হয়নি।

    আরও পড়ুন: এক ডলার ৯২ টাকারও বেশি! মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের জেরে রেকর্ড পতন ভারতীয় মুদ্রায়

    আবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ সম্প্রতি সৌদির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সলমনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। আর সৌদিকে সমস্ত রকম ভাবে সহায়তা করবেন বলে আশ্বাস দেন তিনি। তাঁর এই যোগাযোগকে অনেকে সম্ভাব্য যৌথ সামরিক অভিযানের ইঙ্গিত হিসেবেও দেখছে। আর এই পরিস্থিতিতে ভারতের ভূমিকা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। কারণ, দিল্লির সঙ্গে রিয়াধের সম্পর্ক বেশ বন্ধুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। তাই বর্তমান সংঘাতে ভারত এখনো পর্যন্ত স্পষ্ট কোনও পক্ষ নেয়নি। শান্তির পক্ষে বার্তা দিলেও সরাসরি কোনও দেশকে নিন্দা কিংবা সমর্থন করছে না নয়াদিল্লি।

  • ইজরায়েল-আমেরিকার হামলায় মৃত্যু খামেনির! কী হবে এবার ইরানের?

    ইজরায়েল-আমেরিকার হামলায় মৃত্যু খামেনির! কী হবে এবার ইরানের?

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি (Ali Khamenei) নিহত হয়েছেন। ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থার তরফ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবেই এ কথা নিশ্চিত করা হয়েছে। এমনকি খামেনি সহ তাঁর নাতনি, জামাই ও মেয়েরও মৃত্যু হয়। যার কারণে ইরান সরকার ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। তবে তাঁর মৃত্যু নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে যে তোলপাড় পড়ে গিয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

    বলে রাখি, আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় এবং রাজনৈতিক নেতা। ১৯৭৯ সালে ইসলামিক বিপ্লবের পর থেকেই দেশের শাসন কাঠামোর সুপ্রিম লিডার হিসেবে তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। সেনা, সরকার আর ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সব ক্ষেত্রেই তাঁর প্রভাব বিস্তৃত। তাঁর এহেন মৃত্যুতে ইরানের রাজনৈতিক ইতিহাসের মোড় যে ঘুরে যেতে পারে তাও আঁচ কর‍তে পারছে ওয়াকিবহাল মহল। এমনকি ক্ষমতায় রদবদল, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব আর গৃহযুদ্ধের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

    ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান

    এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলার পর এক বিবৃতিতে ইরানের জনগণের উদ্দেশ্য বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এটাই ইরানের মানুষের জন্য নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের সবথেকে বড় সুযোগ। তিনি ইরানের সেনা এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে অস্ত্র সমর্পণের আহ্বান জানিয়েছেন। আর জনগণকে সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে বলেছেন। ট্রাম্পের এই মন্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে যে, শুধুমাত্র সামরিক হামলায় নয়, বরং ইরানের রাজনৈতিক কাঠামোতেও এবার বিরাট কোনও পরিবর্তন আনার লক্ষ্য থাকতে পারে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এরকম পদক্ষেপের প্রভাব বহু বছর ধরেই চলতে পারে। তার জন্য সম্ভাব্য কয়েকটি পরিস্থিতিও তুলে ধরা হচ্ছে। প্রথমত ইরানের ভিতর ক্ষমতার লড়াই, দ্বিতীয়ত সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ সংঘাত, তৃতীয়ত চরমপন্থী গোষ্ঠীর উত্থান, চতুর্থত গোটা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং শরণার্থী সংকট। আর ইরান ইতিমধ্যেই অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের জেরে চাপে ছিল। আর সেই সূত্রে এই হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

    আরও পড়ুন: মাসের প্রথম দিনে সোনা, রুপোর দামে মহা পরিবর্তন! আজকের রেট

    সবথেকে বড় ব্যাপার, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্দরেও এই পদক্ষেপ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। কারণ, বিরোধী মহলগুলি অভিযোগ করছে, কংগ্রেসের সম্পূর্ণ অনুমোদন ছাড়া বড় কোনও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। কেউ কেউ এটাকে ইরাক যুদ্ধের পুনরাবৃত্তি হিসেবেও দেখছে। আর বিশেষজ্ঞদের একাংশের দাবি, সরকার পতন ঘটানো তুলনামূলকভাবে সহজ হলেও পরবর্তী পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হতে পারে। এখন দেখার ইরানের অবস্থা কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়।

  • মার্কিন-ইসরায়েলি হানায় মৃত্যু আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির! ইরানে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক

    মার্কিন-ইসরায়েলি হানায় মৃত্যু আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির! ইরানে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক

    সহেলি মিত্র, কলকাতা: এ যেন একটাই যুগের অবসান ঘটল ইরানে। জানা গিয়েছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনীর মৃত্যু (Ali Khamenei Death) হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভি এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এদিকে স্বাভাবিকভাবেই দেশের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুতে একদিকে যখন সর্বত্র শোকের ছায়া বিরাজ করছে, তেমনই তৈরী হয়েছে রাজনৈতিক অস্থিরতা। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনী ২০২৬ সালের ১ মার্চ মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন। এই ঘটনার পর, ইরান সরকার ৪০ দিনের জাতীয় শোক এবং সাত দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে। অপরদিকে ৪৭ বছরের শাসনব্যবস্থার পতনের সাথে সাথে ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী, আইআরজিসি (ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ডস কর্পস) এখনো আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

    মৃত্যু ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ খামেনীর

    আইআরজিসি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া এড়িয়ে দ্রুত একজন নতুন উত্তরসূরি নির্বাচন করতে চায় যাতে শাসনব্যবস্থার উপর তাদের দখল বজায় রাখা যায়। এই ঘটনা কেবল ইরানের ভবিষ্যৎ নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে না বরং মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতেও উল্লেখযোগ্য অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি শনিবার সকালে তেহরানে খামেনির বাসভবন এবং অফিস (কম্পাউন্ড) লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। ইরান প্রথমে এই দাবি অস্বীকার করলেও পরে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থাগুলি নিশ্চিত করেছে যে ৮৬ বছর বয়সী খামেনী “শহীদ” হয়েছেন।

    ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মতে, ধ্বংসস্তূপ থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এটিকে ইরানের সামরিক সক্ষমতা এবং নেতৃত্বকে নির্মূল করার লক্ষ্যে একটি বড় যৌথ অভিযান হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অপরদিকে নেতানিয়াহুও একটি বিবৃতি জারি করে বলেছেন যে খামেনী মারা গেছেন। প্রশ্ন উঠছে, ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা কে হবে?

    ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা কে?

    আয়াতুল্লাহ খামেনির মৃত্যু ইরানের জন্য এক বিরাট আঘাত, তা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। এর দশকের পুরনো ব্যবস্থার ভিত্তিকে নাড়িয়ে দিয়েছে। তার মৃত্যুর পরপরই, দেশটির সামরিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থায় ব্যাপক বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। ইরান ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে কমান্ডের শৃঙ্খল ভেঙে যাওয়ার ফলে আদেশ বাস্তবায়নে অসুবিধা হচ্ছে। বর্তমানে ইরানের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল ভেঙে পড়া সামরিক কাঠামো এবং জনরোষ নিয়ন্ত্রণে সক্ষম এমন একজন নেতা খুঁজে বের করা।

    আরও পড়ুনঃ দোলের আগে অনেকটাই দাম বাড়ল LPG সিলিন্ডারের, জানুন নতুন রেট

    সূত্রের খবর, IRGC সাংবিধানিক সংস্থা, বিশেষজ্ঞ পরিষদ ছাড়াই নতুন নেতা নিয়োগের জন্য চাপ দিচ্ছে। তারা চায় রবিবারের মধ্যে নতুন নেতার নাম চূড়ান্ত করা হোক। সামরিক বাহিনী আশঙ্কা করছে যে নিয়োগ বিলম্বিত করলে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়বে।