Tag: Trinamool Congress

  • SIR-র চাপে মৃত ৬১ পরিবারের সদস্যদের হাতে হোমগার্ড পদের নিয়োগপত্র দিলেন মমতা

    SIR-র চাপে মৃত ৬১ পরিবারের সদস্যদের হাতে হোমগার্ড পদের নিয়োগপত্র দিলেন মমতা

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: এসআইআর প্রক্রিয়া ঘিরে শুরু হওয়া বিতর্কের আবহে এবার বিরাট সিদ্ধান্ত নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) সোমবার কলকাতায় এক অনুষ্ঠানে ৬১ জন মৃত ব্যক্তির পরিবারের হাতে হোমগার্ড পদে চাকরি নিয়োগপত্র তুলে দিয়েছেন। জানা যাচ্ছে, যে ৬১ জন এসআইআর-এর চাপে মৃত্যু হয়েছিল, তাদের পরিবারের সদস্যরাই এই সুযোগ পাচ্ছে। রাজ্য সরকারের দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে চরম মানসিক চাপের জেড়ে এই ব্যক্তিরা প্রাণ হারিয়েছেন।

    দোলের অনুষ্ঠানে নিয়োগপত্র প্রদান

    কলকাতায় দোল উৎসব উপলক্ষে আয়োজিত একটি কর্মসূচিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই এই নিয়োগপত্র তুলে দেন। অনুষ্ঠানের দিন নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে তিনি বলেছেন যে, ভোটারদের নাম ভুল ভাবে বাদ দেওয়া এবং আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন তালিকায় ফেলে রাখার ফলে বহু মানুষ এখন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, এক ব্যক্তি আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন শ্রেণীতে পড়ার পর এতটাই মানসিক চাপ পড়েছেন যে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন।

    সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় মোট ৭ কোটি ৪ লক্ষ ভোটারের নাম রয়েছে। যার মধ্যে ৬০ লক্ষ নাম আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন হিসেবে চিহ্নিত। এমনকি মামলাগুলি বর্তমানে ৫০১ জন বিচার বিভাগীয় আধিকারিকের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। আর রাজ্যে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে দাবি করা হচ্ছে যে, এসআইআর প্রক্রিয়ার কারণে রাজ্যে একাধিক ব্যক্তি মানসিক চাপে অসুস্থ রয়েছেন এবং আত্মহত্যার ঘটনা ঘটছে।

    আরও পড়ুন: তৃণমূলের পর এবার বিজেপির চমক! রাজ্যসভায় প্রার্থী হলেন রাহুল সিনহা

    এদিকে গত বছর মুখ্যমন্ত্রী মৃতদের নিকট আত্মীয়দের জন্য ২ লক্ষ টাকার আর্থিক সহায়তার কথা ঘোষণা করেছিলেন বলে রিপোর্ট অনুযায়ী খবর। আর এবার তার সঙ্গে সরকারি চাকরির সুযোগও দেওয়া হল। তৃণমূল কংগ্রেসের বক্তব্য, মা-মাটি মানুষ সরকার ৬১টি শোকাহত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এবং তা পূরণ করেছে।

  • “১ ভোট হলেও ভবানীপুর থেকে আমিই জিতব!” হুঙ্কার মমতার

    “১ ভোট হলেও ভবানীপুর থেকে আমিই জিতব!” হুঙ্কার মমতার

    সৌভিক মুখার্জী, ভবানীপুর: সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। তবে তার আগেই উত্তপ্ত রাজ্যের রাজনীতি। সেই আবহে আজ বড়সড় বক্তব্য রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সম্প্রতি এসআইআর তালিকা প্রকাশের পর ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে প্রায় ৪৭ হাজারের নাম বাদ পড়েছে। এমনকি আরও ১৪ হাজারের বেশি নাম অমীমাংসিত তালিকায় রয়েছে। আর তা নিয়েই এবার বিজেপি হংকার ছেড়েছে যে, এই কেন্দ্রে তারা জিতবে। তবে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, “বারবার আমি লড়াই করেছি এবং আমিই এখানে জিতব।”

    এসআইআর-এ বাদ ৪৭ হাজারে বেশি নাম

    জানিয়ে রাখি, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই ভবানীপুরের বিধায়ক। তবে এতদিন পর্যন্ত এই কেন্দ্রে কতজনের নাম বাদ পড়বে তা নিয়ে চলছিল জল্পনা। তবে তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায় যে, সেখানে ৪৭ হাজারের বেশি নাম বাদ পড়েছে। এমনকি আরও ১৪ হাজারের বেশি নাম অমীমাংসিত তালিকায় পড়ে রয়েছে। ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে মোট ভোটারের সংখ্যা ২ লক্ষ ৬ হাজার ২৯৫। তাছাড়াও ১৬ ডিসেম্বর খসড়া তালিকা প্রকাশের পর দেখা গিয়েছিল ৪৪ হাজার ৭৮৬ জনের নাম সেখান থেকে বাদ পড়েছে। আর এবার আরও ৩২৪ জনের নাম যুক্ত হল। অনুমান করা হচ্ছে, নথি যাচাইয়ের আরও নাম বাদ পড়বে। সেই কারণেই সুর চড়িয়েছিল রাজ্যের বিরোধী দল।

    নির্বাচনের আগেই শুভেন্দু অধিকারী থেকে শুরু করে সুকান্ত মজুমদাররা ভবানীপুরে এসে একাধিকবার দাবি করেছেন যে, এবার বিজেপিই এই আসনে জিতবে। আর শুভেন্দু অধিকারী নিজেই বলেছেন যে, “উনি জানেন কাদের ভোট জিতেছিলেন। ওটা বিজেপির জায়গা। আর আমি চ্যালেঞ্জ করছি, আপনি দাঁড়ান। বাকিটা নিজেই বুঝে নেবেন।” কিন্তু এই বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়া নিয়ে ভোটের উপর কী প্রভাব পড়বে তা নিয়ে উঠছে বড়সড় প্রশ্ন।

    আরও পড়ুন: ‘ভাইপো শাসন চলবে না’— মথুরাপুরে বিজেপির পরিবর্তন যাত্রায় তৃণমূলকে নিশানা অমিতের

    “আমিই জিতব ভবানীপুরে”—মমতা

    এদিকে আজ সভা করতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই বলেছেন যে, “এক ভোট হলেও ভবানীপুর থেকে আমি জিতব। বারবার আমি নিজে এখান থেকে লড়াই করেছি। আর আমাকে নৈতিকভাবেই সবাইকে সমর্থন করুন। এখানে কোনও ভাবেই বিজেপিকে আসতে দেবো না।” এমনকি তিনি এদিন আরও জানিয়েছেন, “বাংলার ১ কোটির ২০ লক্ষ মানুষকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করতে চলেছে কমিশন। বৈধ ভোটারদের নাম বাদ পড়েছে। সমস্ত তথ্য দেওয়ার পরেও নাম কেটেছে নির্বাচন কমিশন। ভেরিফিকেশন ছাড়াই বাদ গেছে ৫৮ লক্ষের নাম। সব দোষই বিজেপির।”