Tag: Trinamool Congress

  • কুণাল ঘোষের আসনে প্রতীক উর রহমান, প্রাক্তন বাম নেতাকে বড় দায়িত্ব দিল তৃণমূল

    কুণাল ঘোষের আসনে প্রতীক উর রহমান, প্রাক্তন বাম নেতাকে বড় দায়িত্ব দিল তৃণমূল

    বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: একটা সময় তৃণমূল সরকার ভেঙে দেওয়ার দাবিতে সোচ্চার হয়েছিলেন তিনি (Pratik Ur Rahman)। লাল পতাকা হাতে নিয়ে শাসক দলের একের পর এক সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে গিয়েছিলেন। সেই প্রাক্তন বাম নেতা প্রতীক উর রহমানকেই এবার মুখপাত্রের আসনে বসালো তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress)। এক কথায়, যে ছেলেটা সিপিআইএমের হাত মাথায় নিয়ে তৃণমূলকে এক হাত নিয়েছিলেন, সেই ছেলের কাঁধেই এবার তৃণমূল কংগ্রেসের উন্নয়নের পাঁচালী শোনানোর দায়িত্ব।

    কুণাল ঘোষের আসনে প্রতীক উর

    বাম জমানায় রাজনীতিতে পা রেখেছিলেন প্রতীক উর রহমান। বছরের পর বছর লাল পতাকা গায়ে জড়িয়ে সিপিআইএমের একাধিক মিটিং মিছিলে নিজের ছাপ রেখেছেন তিনি। দলের অন্যান্য সহকর্মীদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাজ্যবাসীকে নিজের দলের কথা তুলে ধরেছিলেন এই প্রতীক উরই। এমনকি তৃণমূল কংগ্রেসের তৎকালীন মুখপাত্র কুণাল ঘোষকে নিয়েও বেশ কয়েকবার মন্তব্য করতে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। এবার সেই কুণালের আসনেই বসানো হল প্রাক্তন বাম নেতাকে।

    হ্যাঁ, 2008 সালে রাজনীতিতে আসা ছেলেটা আজ তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র। এবার ঘাসফুলের হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের উন্নয়নের প্রচার করবেন তিনি। একই সাথে দল বিরোধী কোনও মন্তব্য হলে তারও জবাব দেওয়ার দায়িত্ব থাকবে লাল জামানার প্রাক্তন নেতার হাতে। এখন দেখার, কুণাল ঘোষের আসনে বসে রাজনীতির প্রতিদ্বন্দ্বীদের সাথে ময়দানের লড়াইয়ে ঠিক কতটা নিজেকে মেলে ধরতে পারেন তিনি।

    অবশ্যই পড়ুন: শিয়ালদা ডিভিশনে একাধিক লোকাল ট্রেনের গন্তব্য বাড়াল রেল

    উল্লেখ্য, হাজারো জল্পনার মাঝে কিছুদিন আগেই লালেদের দল ছেড়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূলে যোগদান করেন প্রতীক উর। সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি একেবারে স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন, টিকিট পাওয়ার জন্য তৃণমূলে আসেননি তিনি। শেষ পর্যন্ত শাসকদলের প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পরও দেখা গিয়েছে টিকিট পাননি তিনি। তবে বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী করা না হলেও প্রাক্তন বাম নেতাকে অন্য পদে বসালো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল।

  • কমিশনের দুই কর্মীকে গাড়ি থেকে নামিয়ে মারধর তৃণমূলের! দুর্গাপুরে চাঞ্চল্য

    কমিশনের দুই কর্মীকে গাড়ি থেকে নামিয়ে মারধর তৃণমূলের! দুর্গাপুরে চাঞ্চল্য

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বাংলায় বেজে গিয়েছে ভোটের নির্ঘণ্ট (West Bengal Election 2026)। তবে ভোট ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যের নির্বাচন বিধি কড়া ভাবে কার্যকর করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে কমিশন। আর সেই বিধি মেনেই দুর্গাপুরে (Durgapur) সরকারি দেওয়াল থেকে প্রার্থীর নাম মুছতে গিয়ে চরম হেনস্থার শিকার হয়েছেন খোদ নির্বাচন কমিশনারের দুই কর্মী। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। এমনকি অভিযোগের তির উঠছে স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের দিকেই। জানুন ব্যাপারটা।

    ঘটনাটি কী?

    প্রসঙ্গত জানিয়ে রাখি, আগামীকাল অর্থাৎ সোমবার ভোটার তালিকার সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট প্রকাশের কথা। আর তার আগে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য জেলা শাসক ও পুলিশ সুপারদের কড়া নির্দেশিকা দিয়েছে কমিশন। রিপোর্ট অনুযায়ী, এদিন দুর্গাপুর মহকুমা শাসকের দফতর থেকে নিযুক্ত দুই কর্মী এলাকা পরিদর্শন করতে বেরিয়েছিলেন। আর কলোনিপাড়া পোস্ট অফিসের দেওয়ালে প্রার্থীদের নাম লিখে প্রচার চালানো হচ্ছিল বলে অভিযোগ। তবে সেটা নির্বাচন বিধির পরিপন্থী বলে দাবি করা হয় নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে। আর সরকারের নির্দেশ মেনেই সেই দেওয়াল মুছতে গেলে বাঁধে বিপত্তি।

    এ বিষয়ে আক্রান্ত এক কর্মী জানিয়েছেন যে, তারা ডিউটি করছিলেন এবং এসডিও দফতরের নির্দেশে দেয়াল মুছতে গিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য, কাজ শেষ করে আমরা গাড়িতে উঠে পড়েছিলাম। তখনই একদল লোক এসে আমাদের গাড়ি থেকে নামিয়ে আমাদেরকে মারধর শুরু করে। আমরা বারবার পরিচয়পত্র দেখিয়ে সরকারি কর্মচারী হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা আমাদের কোনও কথাই শুনতে চায়নি। আক্রান্তদের দাবি, হামলাকারীরা স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত।

    আরও পড়ুন: দর্শক ছাড়াই হবে খেলা, স্টেডিয়াম মাত্র দুটো! তেল সংকটে বড় সিদ্ধান্ত PSL নিয়ে

    এদিকে ভোটের আগে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে রাজনৈতিক পারদ আরও চড়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ঘটনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সরব হয়েছে বিরোধী শিবির। কিন্তু মারধরের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে তৃণমূলের নেতারা। জোড়াফুল শিবিরের পাল্টা দাবি, মারধরের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। বিজেপির লোকজন বহিরাগতদেরকে নিয়ে এসে জয় শ্রী রাম শ্লোগান দিচ্ছিল এবং নিজেরাই উস্কানিমূলক কাজ করেছে।

  • পবিত্র করকে প্রার্থী করে চমক দিয়েছিল তৃণমূল, এবার নন্দীগ্রামে আরও বড় কাণ্ড ঘটালেন শুভেন্দু!

    পবিত্র করকে প্রার্থী করে চমক দিয়েছিল তৃণমূল, এবার নন্দীগ্রামে আরও বড় কাণ্ড ঘটালেন শুভেন্দু!

    বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: বন্ধুর বিরুদ্ধে বন্ধু! নন্দীগ্রামের আসন দখল করতে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে তাঁরই একসময়ের ঘনিষ্ঠ পবিত্র করকে টিকিট দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। বিধানসভা নির্বাচনের আগে এমন পদক্ষেপ তৃণমূলের তরফে নিঃসন্দেহে বড় চমক বলাই যায়। তবে এবার চমক দেখালেন বিরোধী দলনেতার শুভেন্দু অধিকারীও। নন্দীগ্রামে পবিত্রর খাসতালুকে ভাঙন ধরালেন বিজেপি নেতা! সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজন তৃণমূল নেতাকর্মী থেকে শুরু করে পবিত্রর অঞ্চল বয়ালের এক নম্বর পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধানও এবার বিজেপিতে যোগদান করলেন।

    জোর কদমে প্রচার শুরু শুভেন্দুর

    গত শুক্রবার, নন্দীগ্রামের একাধিক তৃণমূল নেতাকর্মী থেকে শুরু করে বয়াল এক নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধানকে বিজেপিতে যোগদান করিয়ে পুরোদমে নিজের নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। এদিন থেকেই নন্দীগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে সাধারণ মানুষের কাছে আশীর্বাদ চাইতে দেখা গেল রাজ্যের বিরোধী দলনেতাকে।

    সূত্রের খবর, প্রচারের প্রথম দিন দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে নন্দীগ্রামের বিরুলিয়া থেকে শুরু করে হরিপুর, টেংগুয়া সহ একাধিক জায়গায় ভোট প্রচার করেন বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু। এদিন বিজেপি প্রার্থীকে তাঁর প্রতিদ্বন্ধী পবিত্র কর সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে শুভেন্দু অধিকারী অবশ্য বেশি কিছু বলতে চাননি। বিজেপি নেতা শুধু এটুকু বললেন, “ওর সম্পর্কে আমি বেশি কিছু বলব না।” আসলে শুভেন্দু মনে করেন নন্দীগ্রামের মানুষের আশীর্বাদ নিয়ে তিনি যেখানে খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়েছেন, সেখানে পবিত্র করের মতো ব্যক্তি বড় ফ্যাক্টর নয়!

    অবশ্যই পড়ুন: মহম্মদ শামির জন্য চিরতরে বন্ধ ভারতীয় দলের দরজা? বড় সিদ্ধান্ত BCCI-র

    উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার অর্থাৎ তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা প্রকাশের দিন সকালে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূলে যোগদান করেন পবিত্র কর। আর তারপরই তাঁকে নন্দীগ্রাম আসন থেকে প্রার্থী করে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের প্রার্থী তালিকায় নিজের নাম দেখতে পাওয়া মাত্রই নন্দীগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে ভোট চাইতে দেখা গেল শুভেন্দু অধিকারীর একসময়ের বন্ধুকে।

  • দুয়ারে চিকিৎসা থেকে ঘরে ঘরে পানীয় জল, মর্ডান স্কুল! ইস্তেহারে ১০ প্রতিজ্ঞা তৃণমূলের

    দুয়ারে চিকিৎসা থেকে ঘরে ঘরে পানীয় জল, মর্ডান স্কুল! ইস্তেহারে ১০ প্রতিজ্ঞা তৃণমূলের

    বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের আগে একের পর এক চমক দিচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC Manifesto 2026)। এবার ইস্তেহার প্রকাশ করে রাজ্যবাসীকে চমকে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার কালীঘাট থেকে ইস্তেহার প্রকাশ করে বাংলার মানুষ জনের কাছে বড় প্রতিশ্রুতি রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী। ইস্তেহারের নাম রাখা হল “বাংলার জন্য দিদির ১০ প্রতিজ্ঞা।” মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, তৃণমূল কংগ্রেস ফের ক্ষমতায় এলে রাজ্যবাসীর দুয়ারে দুয়ারে পৌঁছে যাবে চিকিৎসা পরিষেবা। সেই সাথে বাংলার মানুষের কাছে আরও 9টি প্রতিজ্ঞা রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

    তৃণমূল এলেই দুয়ারে চিকিৎসা

    শুক্রবার নিজেদের ইস্তেহারে রাজ্যবাসীর কাছে অন্যতম প্রতিশ্রুতি হিসেবে দুয়ারের চিকিৎসা পরিষেবা চালু করার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতার কথায়, “তৃণমূল কংগ্রেসের ক্ষমতায় আসবে এবং দুয়ারে সরকারের আদলে দুয়ারের চিকিৎসা নামে ব্লকে ব্লকে খোলা হবে স্বাস্থ্যশিবির। সেখানে থাকবেন রাজ্যের অভিজ্ঞ চিকিৎসকরা। আর সেই স্বাস্থ্য শিবির থেকেই নিজেদের যাবতীয় চিকিৎসা করাতে পারবে সাধারণ মানুষ।

    বলাই বাহুল্য, 2024 লোকসভা নির্বাচনের আগে নিজের ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রে সেবাস্রয় শিবিরের আয়োজন করেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পরবর্তীতে সেই সেবাশ্রয় গড়ে তোলা হয় নন্দীগ্রামেও। খানিকটা সেই আদলেই আগামী দিনে রাজ্যের প্রতিটি ব্লকে স্বাস্থ্য শিবির গড়ে তোলার কথা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী।

    তৃণমূলের ইস্তেহারে আর কী কী আছে?

    ইস্তেহারে দুয়ারে চিকিৎসা পরিষেবা চালু করার কথা জানানোর পাশাপাশি রাজ্যের কয়েক হাজার সরকারি স্কুলের আধুনিকীকরণ করা হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই স্কুল গুলিকে মডার্ন স্কুলে রূপান্তরিত করা হবে অর্থাৎ তালিকাভুক্ত প্রতিটি স্কুলে ই লার্নিং সহ আধুনিক পঠন-পাঠন চালানো হবে। এই প্রকল্পের অধীনে নিয়োগ করা হবে প্রচুর শিক্ষক।

     

    অবশ্যই পড়ুন: ট্রেনের খাবার কতটা সতেজ জানতে পারবেন স্ক্যান করেই, QR কোড সিস্টেম চালু করল রেল

    এখানেই শেষ নয়, রাজ্যের প্রবীণ নাগরিকদের দেখাশোনার জন্যও বিশেষ প্রকল্পের ঘোষণা করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। পাশাপাশি বাংলার সাত থেকে আটটি জেলায় নতুন নতুন পৌরসভা তৈরি করার কথাও জানিয়েছেন তিনি। এগুলি ছাড়াও বাংলার প্রত্যেককে পাকা বাড়ি করে দেওয়া হবে বলেও নিশ্চয়তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে তৃণমূলের ইস্তেহারে, বাড়িতে বাড়িতে পানীয় জল, বাংলাকে পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলা, কৃষি ক্ষেত্রে 30 হাজার কোটি টাকার বাজেট এবং প্রতিটি কৃষককে আর্থিক সাহায্য করা, বেকার যুবক যুবতীদের পাশে থাকা অর্থাৎ যুবসাথী প্রকল্প এবং বাংলার মহিলাদের লক্ষ্মীর ভান্ডারের হাত ধরে মাসিক অর্থ সাহায্য দিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

  • বিয়ে না করেও এক সন্তানের মা, মানিকতলার তৃণমূল প্রার্থী শ্রেয়া পান্ডের অতীত জানলে গর্ব হবে

    বিয়ে না করেও এক সন্তানের মা, মানিকতলার তৃণমূল প্রার্থী শ্রেয়া পান্ডের অতীত জানলে গর্ব হবে

    বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: প্রত্যাশা মতোই মঙ্গলবার বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress) । 291টি আসনে প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করেই বড় চমক দিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। এ বছর 74 জন সিটিং MLA কে বসিয়ে রেখে নতুন মুখেদের নির্বাচনে লড়ার টিকিট দিয়েছে শাসক দল। সেই তালিকায় নাম রয়েছে প্রাক্তন মন্ত্রী সাধন পাণ্ডের মেয়ে শ্রেয়া পান্ডের (Shreya Pande)। কলকাতার মানিকতলা কেন্দ্র থেকে তাঁকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। সেই খবর পাঁচ কান হওয়া মাত্রই সাধন কন্যাকে নিয়ে একেবারে মেতে উঠেছেন অনুরাগীরা। কিন্তু কে এই শ্রেয়া পান্ডে?

    চিনে নিন তৃণমূলের মানিকতলা কেন্দ্রের মুখ শ্রেয়া পান্ডেকে

    সালটা 2011। সে বছরই 34 বছরের লাল জামানার অবসান ঘটিয়ে বাংলায় ক্ষমতায় এসেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। আর সে বছরই বিধানসভা নির্বাচনে মানিকতলা কেন্দ্র থেকে আমজনতার রায়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন তৃণমূলের দীর্ঘ সময়ের সৈনিক সাধন পান্ডে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অন্যতম ছায়া সঙ্গী তথা তৃণমূলের একনিষ্ঠ সৈনিক ছিলেন সাধন পান্ডে। 2022 এর 20 ফেব্রুয়ারি রাজ্যের বর্ষিয়ান নেতার মৃত্যু হয়। আর তারপরেই বাবার কেন্দ্রে সাধারণ মানুষের ভরসা হয়ে ওঠেন সাধন কন্যা শ্রেয়া।

    বলাই বাহুল্য, বাবা সাধন পান্ডের উপর অগাধ ভরসা ছিল মানিকতলা কেন্দ্রের সাধারণ মানুষের। সেই ভরসাকে কাজে লাগাতে চান তৃণমূলের টিকিটে বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী শ্রেয়া পান্ডে। একদিন, বাবা অপারেশন থিয়েটারে ঢোকার সময় বলেছিলেন, “সুবিমলকে কম্বলগুলো দিস।” বাবার সেই কথা যেন আজও মনে গেঁথে রেখেছেন শ্রেয়া। লক্ষ্য একটাই বিধানসভা নির্বাচনে জয়যুক্ত হয়ে মানিকতলার মানুষের ঘরের মেয়ের মতো সমস্ত প্রয়োজন পূরণ করা।

    অবশ্যই পড়ুন: বাংলায় প্রচারের ঝাঁঝ বাড়াচ্ছেন মোদী, করবেন ১২ টি সভা, কোথায় কোথায়?

    এবছর মানিকতলা বিধানসভা কেন্দ্রে কনিষ্ঠতম তৃণমূল প্রার্থী হয়েছেন শ্রেয়া। লড়তে হবে বিজেপির অভিজ্ঞ নেতা তাপস রায়ের বিরুদ্ধে। তবে তৃণমূল নেতৃত্বের তরফে তাঁকে মানিকতলার গুরুদায়িত্ব দেওয়ার পরই সাধন কন্যা জানিয়েছিলেন, “সারা বছর মানুষের পাশে থাকি। মানুষের ভালবাসতেই জিতব।” লড়াই কতটা কঠিন এমন প্রশ্নের উত্তরে শ্রেয়া স্পষ্ট বলেন, “লড়াই তখন হবে যখন নির্বাচিত বিধায়ক হিসেবে কী কী কাজ করতে পারব সেটা দেখব। না বললেই নয়, দলের প্রার্থী তালিকায় নিজের নাম দেখতে পাওয়া মাত্রই ভোটারদের দোরে দোরে যাচ্ছেন শ্রেয়া। শুরু করেছেন প্রচারও।

    এদিকে প্রাণের নেতা সাধন পান্ডের মেয়ে শ্রেয়াকে মানিকতলার প্রার্থী করায় আনন্দে আত্মহারা তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষীরা। বয়োজ্যেষ্ঠরা ইতিমধ্যেই ঘরের মেয়েকে একেবারে জড়িয়ে ধরে আশীর্বাদ দিচ্ছেন। ইতিমধ্যেই সেই সব রঙিন মুহূর্তের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে বেশ। কম বেশি সকলেই জানেন, তৃণমূল নেত্রী শ্রেয়া পান্ডে সমাজ মাধ্যমে বেশ সক্রিয়। বিভিন্ন সময় দলের হয়ে নেট দুনিয়াতেই নিজের মতামত রাখেন তিনি। এক কথায় বলতে গেলে, বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের নতুন মুখ হলেও শহর কলকাতায় এবং নেট দুনিয়ায় সাধন কন্যা কিন্তু পুরনো মুখ।

    শ্রেয়ার আরও একটি পরিচয় আছে

    মানিকতলা বিধানসভা কেন্দ্রের প্রাক্তন বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সাধন পান্ডের মেয়ে শ্রেয়া পান্ডে আজ পর্যন্ত বৈবাহিক জীবনে পা রাখেননি ঠিকই, তবে বিয়ে না করেও তিনি এক সন্তানের মা। হ্যাঁ, বিষয়টা প্রথম প্রথম শুনলে অবাক লাগবে এটাই স্বাভাবিক। তবে এর পেছনের কাহিনী জানলে চোখ ভিজবে অনেকের। সালটা 2021। সে বছর মে মাসে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের তাণ্ডবে একেবারে লন্ডভন্ড হয়ে গিয়েছিল বাংলার বহু এলাকা। বিশেষ করে উপকূলবর্তী অঞ্চলগুলিতে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছিল এই ঘূর্ণিঝড়ের।

    কমবেশি সকলেই জানেন, সে বছর ঘূর্ণিঝড় ইয়াস বিধ্বস্ত সুন্দরবনের অসহায় মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দিতে গিয়েছিলেন লোকনাথ দাস। সুন্দরবনে যাওয়ার পথে গাড়ি দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় তাঁর। লোকনাথের মৃত্যুতে মাথার ছাদ হারিয়েছিল তাঁর সন্তানরা। সেই সময় সহকর্মীর সন্তানদের দায়িত্ব নিয়েছিলেন শ্রেয়া। পরবর্তীতে, বাড়িতে কিছু না জানিয়েই সিঙ্গেল মাদার হওয়ার সিদ্ধান্তটাও নিয়েছিলেন  তিনিই। 2017 সালে সারোগেসির মাধ্যমে শ্রেয়ার মা হওয়ার বিষয়টিকে অনেকেই ভালো চোখে দেখেননি। শুনতে হয়েছিল বহু কটাক্ষ। তবে সেসব পাশ কাটিয়েই আদর ওরফে ইন্দিরাকে মানুষ করেছিলেন তিনি।

    এখানে বলে রাখা প্রয়োজন, শ্রেয়া পান্ডে যে সিঙ্গেল মাদার হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সে কথাটা বাবার সাধন পান্ডে জেনেছিলেন খবরের কাগজে দেখে। পরে মেয়ে গোটা বিষয়টি তাঁকে খুলে বললে তিনিও সবটা মেনে নেন। একবার এক সাক্ষাৎকারে শ্রেয়া জানিয়েছিলেন, “মেয়ে ইন্দিরার নামকরণ করেছিল বাবা। এর পেছনেও একটা ছোট্ট গল্প আছে। আসলে আমার নাম রেখেছিলেন ইন্দিরা গান্ধী। তাই বাবা মেয়ের নাম রাখেন ইন্দিরা।” যদিও নিজের ব্যস্ত রাজনৈতিক জীবনের মাঝে মেয়েকে খুব একটা সময় দিতে পারেন না শ্রেয়া। তবে তৃণমূল নেত্রী জানিয়েছিলেন, দিন শেষ বাড়িতে ফিরে মাম্মা ডাকটাই তাঁকে পৃথিবীর সর্ব সুখ এনে দেয়।”

  • ‘বিরোধী নেই, আমি নিজেই প্রতিদ্বন্দ্বী’ বিপক্ষকে পাত্তাই দিতে নারাজ ইন্দ্রনীল সেন

    ‘বিরোধী নেই, আমি নিজেই প্রতিদ্বন্দ্বী’ বিপক্ষকে পাত্তাই দিতে নারাজ ইন্দ্রনীল সেন

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর ভোটযুদ্ধ (West Bengal Election 2026) শুরু হয়ে গিয়েছে জেলায় জেলায়, রবিবার নির্বাচন কমিশনের দিন ঘোষণার পরেই সোমবার প্রথম দফার প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছিল গেরুয়া শিবির। ঠিক তার পরের দিনই অর্থাৎ মঙ্গলবার ২৯৪ টি কেন্দ্রের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ্যে আনে তৃণমূল (Trinamool Congress)। সেই তালিকায় যেমন নতুন মুখ দেখা গিয়েছিল ঠিক তেমনই আবার বেশ কিছু পুরোনো মুখও ছিল। যার মধ্যে অন্যতম হলেন ইন্দ্রনীল সেন (Indranil Sen)। টানা তৃতীয়বারের জন্য চন্দননগর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হিসেবে জয়ের গান গাইলেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী ইন্দ্রনীল সেন।

    হ্যাটট্রিকের পথে ইন্দ্রনীল সেন

    মঙ্গলবার ঘোষণা করা হয়েছিল তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা। সেখানে তৃতীয়বারের জন্য তৃণমূলের প্রার্থী হলেন ইন্দ্রনীল সেন। ২০১৬ সালে প্রথম চন্দননগর বিধানসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হন সংগীত শিল্পী ইন্দ্রনীল সেন। সেখান থেকেই জয়লাভ করে বিধায়ক হন। এরপর ২০২১ সালেও চন্দননগর থেকেই প্রার্থী হয়ে জয়লাভ করেন ইন্দ্রনীল। আর এবার ২০২৬ এর লক্ষ্যে বিধানসভা ভোটে চন্দননগর বিধানসভায় ইন্দ্রনীলের উপরেই ভরসা রাখল তৃণমূল কংগ্রেস। তাই সেই ভরসার দাম দিতে রীতিমত চন্দননগরে ঘর গোছাতে শুরু করলেন তিনি। যদিও তাঁর বিশ্বাস এবার সে হ্যাটট্রিক গড়বেই।

    সাংবাদিকদের সঙ্গে মুখোমুখি ইন্দ্রনীল

    রিপোর্ট মোতাবেক গতকাল অর্থাৎ বুধবার চন্দননগরের কলুপুকুরধার এলাকার একটি লজে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করেন ইন্দ্রনীল। তারপরেই সাংবাদিকদের সঙ্গে মুখোমুখি তিনি বলেন, “চন্দননগরে একাধিক উন্নয়ন হয়েছে। তবু যদি কেও মনে করেন আরও কিছু কাজ হওয়ার দরকার ছিল, সেই কাজ গুলি হয়নি। তবে সেই কাজের লিস্ট আপনারা পাঠাবেন করে দেব। আগামী দিন আর কী কী কাজ হবে তা সবাইকে নোটিস দিয়ে এবং সাংবাদিক বৈঠকের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে।” এছাড়াও তিনি বুঝিয়ে দিলেন, চন্দননগরে তাঁর লড়াই কোনও নির্দিষ্ট দলের বিরুদ্ধে নয়, বরং নিজের উন্নয়নের রেকর্ডের সঙ্গেই।

    আরও পড়ুন: স্বপ্না বর্মণের জীবনে শোকের ছায়া, বাবাকে হারিয়ে ভেঙে পড়লেন তৃণমূলের প্রার্থী

    এলাকার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে সিপিএম প্রার্থীর করা অভিযোগকে উড়িয়ে দিয়ে ইন্দ্রনীল সেন জানিয়েছেন, “ওঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা উচিত। ওঁর চক্ষু পরীক্ষা করা উচিত। তাঁর জন্য সরকারি হাসপাতাল রয়েছে। স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্প রয়েছে। স্বাস্থ্য বীমা রয়েছে। তার পরেও যদি আমার কোনও ব্যক্তিগত সাহায্য দরকার হয়, আমি করব।” এছাড়াও ভোটের ময়দানে কর্মীদের একগুচ্ছ পরামর্শ দেন ইন্দ্রনীল। তাঁর কথায়, “বিরোধী নেই, আমি নিজেই আমার প্রতিদ্বন্দ্বী। সবাইকে বলব শরীর সুস্থ রাখুন। সম্পর্ক সবার সাথে ভাল রাখুন। ভোটাররা যাতে ভোট দিতে পারে সেদিকে নজর দিন। সকলে যেন নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে সেদিকে নজর দিন।”

  • বাংলার মসনদে ফের তৃণমূল নাকি বিজেপি? নিজের দলকে পিছিয়ে রেখে ভবিষ্যদ্বাণী অভিষেকের!

    বাংলার মসনদে ফের তৃণমূল নাকি বিজেপি? নিজের দলকে পিছিয়ে রেখে ভবিষ্যদ্বাণী অভিষেকের!

    সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ পশ্চিমবঙ্গ সহ ৫ রাজ্যে বিধানসভা ভোটের (West Bengal Election 2026) দামামা বেজে গিয়েছে। এদিকে ভোট ঘোষণার পরেই তৃণমূল থেকে শুরু করে বাম, বিজেপি নিজেদের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে দিয়েছে। এখন শুধুমাত্র বাকি রয়েছে কংগ্রেস, আইএসএফ। যাইহোক, এরই মাঝে বাংলায় কে জিতবে, তা নিয়ে বড় দাবি করলেন সিনিয়র কংগ্রেস নেতা তথা আইজীবী অভিষেক মনু সিংভি। সবথেকে বড় কথা, বাংলায় কংগ্রেসের কী অবস্থা হবে তারও ইঙ্গিত দিলেন। চলুন বিশদে জেনে নেবেন।

    ২৬-এর ভোটে বাংলায় কে জিতবে?

    ২৬-এর ভোটে বাংলায় কে জিতবে? বিজেপি, তৃণমূল নাকি অন্য কেউ? অভিষেক মনু সিংভির উত্তর সকলকে চমকে দিয়েছে। আসলে সম্প্রতি বাংলায় কংগ্রেসের লড়াই করা উচিৎ কি না, একসঙ্গে লড়া ভালো নাকি জোটে? এই প্রশ্নের উত্তরে অভিষেক মনু সিংভি বলেন, “এটা আমার ব্যক্তিগত মতামত যে বাংলায় জোট হওয়া উচিত। কিন্তু এমন অনেক কারণ আছে যার জন্য জোট গঠন করা যায় না। এটা আমাদের বা কয়েকজন নেতার সিদ্ধান্ত হতে পারে না। কংগ্রেসের তিন-চারজন এই সিদ্ধান্ত নেন।”

    তিনি আরও বলেন, “আমার ব্যক্তিগত বিশ্বাস হলো, নির্বাচন আসন্ন হওয়ায় সঠিক সংখ্যার ভিত্তিতে জোট গঠন করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। আমি আবারও বলছি যে এটি আমার ব্যক্তিগত মতামত।” এদিকে, অভিষেক মনু সিংভি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী এবং তৃণমূল নেত্রী প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে যদি এমন কোনো নেত্রী থাকেন যিনি মানুষের মন জয় করেছেন, তবে তিনি হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তাঁর শিরায় শিরায় বইছে।” তাহলে কি ভোট, ফলাফলের আগেই বাংলার মসনদে ফের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরিচালিত তৃণমূলই বসছে? সেই ইঙ্গিতই কি দিতে চাইলেন দিল্লির এই সিনিয়র কংগ্রেস নেতা? উঠছে প্রশ্ন।

    মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভুয়সী প্রশংসা কংগ্রেস নেতার

    কংগ্রেস নেতা আরও বলেছেন যে, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে অফুরন্ত শক্তি, সামর্থ্য, দিকনির্দেশনা এবং গতি রয়েছে। তিনি বাংলার সংকট বোঝেন। সমস্ত ভারতীয় নেতাদের মধ্যে, বিশেষ করে নারীদের মধ্যে, তাঁর চেয়ে ভালো রাজনীতি আর কেউ করতে পারেন না। অভিষেক মনু সিংভিও বিজেপির নির্বাচনী প্রচারের বিষয়ে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, “আমার বিশ্বাস, বিজেপি কেবল একটি পরিবেশ তৈরি করছে। প্রত্যেকের ব্যক্তিগত জীবনই একসময় শেষ হয়ে যায়। কিন্তু বিজেপি ভাবছে এটাই সঠিক সময়, আমি বলবে এমনটা ভাবা ঠিক নয়।’

    আরও পড়ুনঃ একসময় বিজেপিতে আস্থা দেখিয়েছিল ভবানীপুর, জিতেছিল গেরুয়া শিবির

    অভিষেক মনু সিংভি বলেছেন, “গতবারের মতোই এবারও প্রচুর শোরগোল হবে। সে সময় এমন একটা আবহ তৈরি করা হয়েছিল যে বিজেপি জিতছে এবং ২০২, ২২৫, ২৫০-এর মতো সংখ্যাও দেওয়া হয়েছিল। মানুষ এমনকি বিশ্বাস করতে শুরু করেছিল যে বাংলায় গেরুয়া ঝড় বইতে চলেছে, কিন্তু ‘পাহাড় খুঁড়তে গিয়ে ইঁদুর’ প্রবাদটি সেই সময়ে সত্যি প্রমাণিত হয়। তাই বাংলার মানুষের আতঙ্কিত হওয়া উচিত নয়; ঢাক পেটানোই বিজেপির স্বভাব।”

  • শুভেন্দুর বিরুদ্ধে তৃণমূলের ‘বাজি’ পবিত্র কর, চিনে নিন নন্দীগ্রামের প্রার্থীকে

    শুভেন্দুর বিরুদ্ধে তৃণমূলের ‘বাজি’ পবিত্র কর, চিনে নিন নন্দীগ্রামের প্রার্থীকে

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) দিন ঘোষণা হতেই রাজ্য রাজনীতিতে এক তুমুল উত্তেজনামূলক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ভোটের আবহে ঘোষণা হয়ে গিয়েছে রাজনৈতিক দলগুলির প্রার্থীদের তালিকা। বিজেপির তরফে জানানো হয়েছে নন্দীগ্রাম (Nandigram) এবং ভবানীপুর থেকে এবার লড়াই করবেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। এরপরেই জল্পনা বাড়ে কে তৃণমূলের প্রার্থী হবে এই যুদ্ধে। গতকালই প্রকাশ্যে আসে তালিকা। জানা যায় ভবানীপুরে লড়াই করবেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং নন্দীগ্রাম থেকে লড়াই করবেন পবিত্র কর (Pabitra Kar)।

    কে এই পবিত্র কর?

    নন্দীগ্রাম-২ ব্লকের বয়ালের বাসিন্দা হলেন তৃণমূলের নয়া প্রার্থী তথা দাপুটে নেতা পবিত্র কর। শিক্ষাগত যোগ্যতা উচ্চমাধ্যমিক পাশ। তাঁর মাছের পারিবারিক ব্যবসা রয়েছে। প্রথম দিকে পবিত্র কর তৃণমূলেই ছিলেন। সেই সময় নন্দীগ্রাম-২ ব্লকের বয়াল-১ গ্রাম পঞ্চায়েতে একাধিক বার প্রধান ও উপপ্রধানের দায়িত্ব সামলে ছিলেন। কোনোরকম প্রচার ছাড়াই নিজের মত করে এলাকার কাজ করে গিয়েছেন। বলা হয়, বিজেপির মধ্যে যারা কড়া হিন্দুত্ববাদী নেতা রয়েছেন, তাঁদের মধ্যে এই পবিত্র কর একজন। বর্তমানে বয়াল ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের তাঁর স্ত্রী শিউলি কর প্রধান। তবে ২০২০ সালে পবিত্র কর তৃণমূল ছেড়ে দিলীপ ঘোষের হাত থেকে বিজেপির পতাকা তুলে নেন। আর তার পরেই তৃণমূল ছেড়ে শুভেন্দু অধিকারীও যোগ দেন বিজেপিতে।

    পুনরায় তৃণমূলে যোগ পবিত্রর

    ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৯৫৬ ভোটে পরাজিত করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই সংখ্যা জাহির করে প্রায়ই নিজের কথা বলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এবারেও শুভেন্দু দাবি করেছেন যে ২০২১-এ তাঁর কাছে নন্দীগ্রামে যেভাবে হারতে হয়েছিল মমতাকে, ভবানীপুরে তার পুনরাবৃত্তি হবে। তাই স্বাভাবিকভাবেই সকলের মনে প্রশ্ন জাগছে কে হবে। যদিও জল্পনা আগেই উঠেছিল পবিত্র করের। কারণ গত ডিসেম্বর থেকে এই পবিত্রর দলবদল নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। এমনকি আইপ্যাকের সঙ্গে পবিত্রর গোপন বৈঠকে বোঝা গেছিল এবার দলবদলের পালা তাঁর। আর সেটাই বাস্তবের রূপ নিল।

    আরও পড়ুন: নবান্নর DA বিজ্ঞপ্তি নিয়ে ক্ষোভ, এরা আদৌ পাবেন মহার্ঘ ভাতা? ফের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

    গতকাল, মঙ্গলবার, তৃণমূলের বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী ঘোষণার আগেই সকালবেলায় বিজেপি থেকে তৃণমূলে যোগ দিলেন পবিত্র কর। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে তুলে নিয়েছিলেন দলীয় পতাকা। এরপর বিকেলেই নন্দীগ্রামের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয় তাঁর নাম। একসময় যে কিনা শুভেন্দুর ঘনিষ্ঠ ছিলেন সেই এখন শুভেন্দুর প্রতিপক্ষ হয়ে ভোট ময়দানে নামবেন। এ বার দেখার পালা নিজের ঘুঁটি কী ভাবে সাজান পবিত্র। তবে তৃণমূল ইতিমধ্যেই বলতে শুরু করে দিয়েছে, এ বার নন্দীগ্রামে খেলা হবে, বিরাট খেলা হবে, বইবে সবুজ ঝড়।

  • তৃণমূলের প্রার্থী ঘোষণা, কাবুলের হাসপাতালে হামলা…! আজকের সেরা ১০ খবর (১৭ মার্চ)

    তৃণমূলের প্রার্থী ঘোষণা, কাবুলের হাসপাতালে হামলা…! আজকের সেরা ১০ খবর (১৭ মার্চ)

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: আজ ১৭ মার্চ, মঙ্গলবার। তৃণমূলের প্রার্থী ঘোষণা, কাবুলের হাসপাতালে হামলা, ভারতে দূর হচ্ছে এলপিজি সংকট, রাজ্য-রাজনীতি, অর্থনীতি, বহির্বিশ্ব, কোথায় কী ঘটল আজ? জানতে চোখ রাখুন আজকের সেরা দশে। India Hood-র তরফ থেকে আমরা নিয়ে এসেছি তরতাজা দশটি (Top 10 Bangla News in West Bengal And India) খবর, যা না পড়লে মিস করে যাবেন অনেক কিছুই। বিস্তারিত নতে হলে অবশ্যই প্রতিবেদনটি শেষ পর্যন্ত পড়ুন।

    ১০) ২৫ হাজার কোটি দিয়ে সবুজ জ্বালানির চুক্তি রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের

    ভারতের সবুজ জ্বালানির ক্ষেত্রে এবার বিরাট সাফল্য পেল রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ। দক্ষিণ কোরিয়ার Samsung C&T Corporation এর সঙ্গে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার চুক্তিতে আগামী ১৫ বছর গ্রিন অ্যামোনিয়া সরবরাহ করবে সংস্থাটি, এমনটাই খবর। ২০১৯ থেকে কার্যকর হওয়া এই প্রকল্পের মাধ্যমে ভারত গ্রিন এনার্জি রফতানিতে শক্তিশালী অবস্থান দেখাবে। গ্রিন অ্যামোনিয়া যা কিনা কম কার্বন নিঃসরণযুক্ত একটি জ্বালানি, ভবিষ্যতের ক্লিন ফুয়েল হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। আর এই উদ্যোগ ন্যাশনাল গ্রিন হাইড্রোজেন মিশনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। বিস্তারিত পড়তে- এখানে ক্লিক করুন

    ৯) ভারতে আসলো দুটি এলপিজি ভর্তি জাহজ

    এলপিজি সংকটের মধ্যেও স্বস্তি এনে ভারতে পৌঁছল দুটি জাহাজে মোট ৯৩ হাজার মেট্রিক টন গ্যাস। শিবালিক এবং নন্দাদেবী জাহাজ গুজরাট বন্দরে এলপিজি পৌঁছে দিয়েছে। আর বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে সাময়িকভাবে সরবরাহ স্বাভাবিক হতে পারে। কিন্তু হ্যাঁ, দীর্ঘমেয়াদি সংকট এতে কাটবে না। পারস্য উপমহাসাগরে আটকে থাকা আরও জাহাজ দেশে ফিরলে পরিস্থিতি পুরোপুরি উন্নত হবে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়া থেকে আমদানি অব্যাহত রাখাও জরুরি বলে জানিয়েছে কেন্দ্র। এখনই গ্যাসের দাম কমবে কিনা সে বিষয়ে কোনও রকম তথ্য নেই। বিস্তারিত পড়তে- এখানে ক্লিক করুন

    ৮) সিকিমে রেলপথ তৈরি করে বিরাট সাফল্য

    ভারতের একমাত্র রেলবিহীন রাজ্য সিকিমে এবার বিরাট সাফল্য পেল ভারতীয় রেল। নর্থইস্ট ফ্রন্টিয়ার রেলের  উদ্যোগে পশ্চিমবঙ্গের সেবক থেকে রংপো পর্যন্ত রেললাইন তৈরির কাজ দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে। দুর্গম হিমালয় অঞ্চলের মধ্য দিয়ে ১৪টি টানেলের মধ্যে ১৩টির কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে। আর কঠিন পরিস্থিতিতে পুরনো পদ্ধতিতে খনন করে এই সাফল্য মিলেছে বলেই খবর। এই প্রকল্প সম্পন্ন হলে সিকিমে প্রথমবার রেলপথ যুক্ত হবে। আর সবকিছু যদি ঠিকঠাক থাকে তাহলে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই কাজ শেষ হতে পারে। বিস্তারিত পড়তে- এখানে ক্লিক করুন

    ৭) কাবুলের হাসপাতালে হামলা পাকিস্তানের, মৃত্যু ৪০০

    আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে ভয়াবহ বিমান হামলার অভিযোগ উঠল পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। এই হামলায় একটি হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করছে আফগান প্রশাসন। এর প্রতিবাদ জানিয়েছে তালিবান সরকার এবং একে নৃশংস বলেই আখ্যা দিয়েছে। কিন্তু পাকিস্তান সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়ে দিয়েছে যে, শুধুমাত্র সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটিগুলি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। সীমান্ত সংঘর্ষের পর এই ঘটনা ঘটেছে বলে খবর, যা কিনা দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। বিস্তারিত পড়তে- এখানে ক্লিক করুন

    ৬) বকেয়া ডিএ ইস্যুতে নয়া বিজ্ঞপ্তি নবান্নের

    বকেয়া ডিএ ইস্যুতে নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের ডিএ বকেয়া দুই কিস্তিতে দেওয়া হবে। কিন্তু ২০০৮ থেকে ২০১৫ সালের বকেয়া পরিশোধের নিয়ম পরে জানিয়ে দেওয়া হবে, যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছে কর্মীরা। কনফেডারেশনের নেতা মলয় মুখার্জি অভিযোগ করছেন যে, সরকার আদালতের নির্দেশ মানেনি এবং চালাকি করছে। এ নিয়ে ফের সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। কর্মচারীদের একাংশ সুদসহ টাকা ফেরত দেওয়ার দাবি তুলছেন। বিস্তারিত পড়তে- এখানে ক্লিক করুন

    ৫) আউশ গ্রামের বিজেপি প্রার্থী কলিতা মাজির নাম ভোটার তালিকায় বিচারাধীন

    আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আউসগ্রামের বিজেপি প্রার্থী কলিতা মাঝিকে ঘিরে এবার বিতর্ক শুরু হল। তাঁর নাম ভোটার তালিকায় আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন হিসেবে চিহ্নিত থাকার কারণে প্রশ্ন তুলছে তৃণমূল কংগ্রেস। যদিও কলিতা জানিয়েছেন যে, প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়েছেন এবং কমিশনের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি। পেশায় পরিচালিকা কলিতা আগেও এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। আর এবারও জয়ের আশাবাদী তিনি। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক বেড়েছে। বিস্তারিত পড়তে- এখানে ক্লিক করুন

    ৪) আদ্রা ডিভিশনে একাধিক ট্রেন বাতিল

    মার্চ মাসে যাত্রীদের বিরাট ভোগান্তির মুখে ফেলল ভারতীয় রেল। দক্ষিণ-পূর্ব রেলের আদ্রা ডিভিশনে ১৬ থেকে ২২ মার্চ পর্যন্ত রক্ষণাবেক্ষণের কাজের জন্য একাধিক ট্রেন বাতিল আর দেরিতে চলবে বলে জানানো হয়েছে। কিছু ট্রেনের যাত্রাপথও সংক্ষিপ্ত করে দেওয়া হয়েছে। আর আদ্রা-মেদিনীপুর, আদ্রা-ভাগা ও ভজুডিহি-চন্দ্রপুরা রুটের মেমু ট্রেনগুলি নির্দিষ্ট দিনগুলোতে বাতিল থাকবে। পাশাপাশি টাটানগর-আসানসোল সহ বেশ কিছু ট্রেন আংশিক চলবে কিংবা দেরিতে পৌঁছবে। যাত্রীদের অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। বিস্তারিত পড়তে- এখানে ক্লিক করুন

    ৩) রাজ্যপাল হিসাবে শপথ নিয়েই নবান্নকে চিঠি আরএন রবির

    নতুন রাজ্যপাল হিসেবে শপথ নিয়েই প্রশাসনিক কাজে তৎপর হয়েছেন আরএন রবি। আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজভবনের একাধিক শূন্যপদ পূরণের জন্য নবান্নকে চিঠি পাঠিয়ে দিয়েছেন তিনি। সচিব, বিশেষ সচিব, যুগ্ম সচিব এবং ডেপুটি সচিবসহ মোট পাঁচটি নিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ফাঁকা থাকা পদগুলো দ্রুত পূরণ করে প্রশাসনিক কাজের গতি বাড়ানোই মূলত তাঁর লক্ষ্য। প্রাক্তন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের সময় এই পদগুলি খালি ছিল বলে জানানো হয়েছে। আর এবার নতুন উদ্যোগে রাজভবন এবং নবান্নের সমন্বয় আরও জোরদার হবে। বিস্তারিত পড়তে- এখানে ক্লিক করুন

    ২) LPG সঙ্কটের মাঝে গ্যাস নিয়ে নয়া নির্দেশিকা কেন্দ্রের

    এলপিজি সংকটের মধ্যে কেন্দ্র সরকার নতুন করে নির্দেশিকা জারি করল। এখন সমস্ত গ্যাস গ্রাহকদের জন্য এলপিজি কেওয়াইসি বাধ্যতামূলক করে দেওয়া হয়েছে। প্রায় ৩৩ কোটি গ্রাহককে বায়োমেট্রিক আধার যাচাইকরন করতে হবে। আর যদি না করা হয়, তাহলে সিলিন্ডার পাওয়া বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এই প্রক্রিয়া ঘরে বসে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে করা যাচ্ছে। সরকারের মূল লক্ষ্য হল ভর্তুকি সঠিক গ্রাহকদের কাছে পৌঁছানো আর স্বচ্ছতা বজায় রাখা। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনা প্রকল্পের আওতায় সুবিধাভোগীদের জন্য এই যাচাইকরন জরুরী। বিস্তারিত পড়তে- এখানে ক্লিক করুন

    ১) ভোটের প্রার্থী ঘোষণা করল তৃণমূল

    পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এবার ২৯১টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করল তৃণমূল কংগ্রেস। জানা যাচ্ছে, দার্জিলিংয়ের তিনটি আসনে তারা লড়বে না। আর বিরাট চমক হিসেবে ভবানীপুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই প্রার্থী হয়েছেন। সেখানে তাঁর প্রতিদ্বন্ধী স্বয়ং শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রামে তৃণমূল প্রার্থী হয়েছেন পবিত্র কর। এছাড়া ফিরগাদ হাকিম, মদন মিত্র, কুনাল ঘোষ সহ একাধিক পরিচিত মুখ রয়েছেন। রাজ্যের মোট ২৯৪ আসনের মধ্যে অধিকাংশ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। বিস্তারিত পড়তে- এখানে ক্লিক করুন

  • ৭৪ জন বর্তমান বিধায়ককে টিকিট দিল না তৃণমূল, আসন বদল হল কাদের? দেখুন

    ৭৪ জন বর্তমান বিধায়ককে টিকিট দিল না তৃণমূল, আসন বদল হল কাদের? দেখুন

    বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: কথামতোই প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করল তৃণমূল কংগ্রেস (West Bengal Assembly Election)। মঙ্গলবার বিকেলে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেই তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেন। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয়, সেই তালিকায় নাম নেই একাধিক বর্তমান বিধায়কের। হাওড়া শিবপুরের বিধায়ক মনোজ তিওয়ারি থেকে শুরু করে পরেশ পালের মতো 74 জন সিটিং MLA শাসক দলের টিকিট পাননি।

    74 জন তৃণমূল বিধায়কের নাম নেই প্রার্থী তালিকায়

    নির্বাচন ঘোষণার আগে জল্পনা বেড়েছিল বহু বিধায়কের টিকিট পাওয়া নিয়ে। তাছাড়াও অনেকেই ভেবেছিলেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের মতো বিধায়করা নিজেদের কেন্দ্র থেকে এ বছর আর লড়তে পারবেন না। তবে হয়েছে তার উল্টো। শিবপুরের বিধায়ক মনোজ তিওয়ারি, জোড়াসাঁকর বিধায়ক বিবেক গুপ্ত, মালদহের কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরি থেকে শুরু করে রত্না দে নাগ, পরেশ পাল, সাবিত্রী মিত্রর মতো মোট 74 জন বর্তমান বিধায়ক এবারের প্রার্থী তালিকায় জায়গা পাননি।

    বলাই বাহুল্য, উল্লিখিত নাম গুলি ছাড়াও 74 জনের তালিকায় নাম রয়েছে বলাগড়ের মনোরঞ্জন ব্যাপারী, চুঁচুড়ার অসিত মজুমদার, সপ্তগ্রামের তপন দাশগুপ্ত, শ্রীরামপুরের ডক্টর সুদীপ্ত রায়, ডোমজুড়ের কল্যাণ ঘোষদের। হিসেব বলছে, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে সবমিলিয়ে 33 শতাংশ বিধায়ককেই নতুন করে টিকিট দেয়নি, দল তৃণমূল কংগ্রেস। যদিও এ নিয়ে আগেই হালকা ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

    এ প্রসঙ্গে দলীয় সূত্রে খবর, স্থানীয় স্তরের কিছু বিরোধিতার কারণেই এ বছর নতুন করে টিকিট পেলেন না 74 জন বিধায়ক। শোনা যাচ্ছে, নতুন করে তাঁদের টিকিট দেওয়া হলে হেরে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। সেই দিক মাথায় রেখেই বর্তমান বিধায়কদের ফের প্রার্থী তালিকায় জায়গা দেয়নি তৃণমূল কংগ্রেস।

    আসন বদলেছে বহু বিধায়কের

    এদিকে বর্তমান বিধায়কদের মধ্যে অনেকেই টিকিট পেলেও আগের আসন থেকে লড়তে পারছেন না। সেই তালিকায় নাম রয়েছে 15 জনের। এদের মধ্যে বেহালা পূর্বের বিধায়ক রত্না চট্টোপাধ্যায়কে পাঠানো হয়েছে বেহালা পশ্চিমে। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে খড়দহ থেকে সরিয়ে নিয়ে বালিগঞ্জ বিধানসভার প্রার্থী করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য নাম শওকত মোল্লাকে ক্যানিংয়ের বদলে প্রার্থী করা হয়েছে ভাঙরে। একই সাথে ডেবরার বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে মুর্শিদাবাদের ডোমকলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর বদলে ডেবরায় টিকিট পেয়েছেন সেচ এবং বন মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়।

    অবশ্যই পড়ুন: অধিনায়ক কে হবে ঘোষণা করে দিল KKR, নাম জানলে চমকে যাবেন

    বলে রাখি, বর্তমান বিধায়কদের মধ্যে এবছর 135 জন টিকিট পেয়েছেন। ওদিকে হাবড়ার জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে নিয়ে কানাঘুষা শোনা গিয়েছিল হয়তো এ বছর হাবড়া থেকে তাঁকে দাঁড় করানো হবে না। তবে সেসব জল্পনাতে কান না দিয়েই স্থানীয় স্তরে বালু দা হিসেবে পরিচিত নেতাকে ফের একই আসন থেকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। ওদিকে হাবড়ার সম্ভাব্যপ্রার্থীর তালিকায় থাকা কুনাল ঘোষ টিকিট পেয়েছেন বেলেঘাটায়। তবে ইমন চক্রবর্তীর মতো ব্যক্তিদের প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও এখনই সেই পথে হাঁটেনি তৃণমূল।