Tag: Train Station

  • পার্ক সার্কাস নয়, শিয়ালদা ডিভিশনের সবথেকে নোংরা স্টেশন কোনটি জানলে অবাক হবেন

    পার্ক সার্কাস নয়, শিয়ালদা ডিভিশনের সবথেকে নোংরা স্টেশন কোনটি জানলে অবাক হবেন

    সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ শিয়ালদা ডিভিশনের (Sealdah railway division) সবথেকে নোংরা রেল স্টেশন কোনটি? প্রথমেই নিশ্চয়ই আপনার মাথায় আসবে শিয়ালদা ডিভিশনের পার্ক সার্কাস স্টেশনের নাম। এই স্টেশনের ওপর দিয়ে যারা রোজ যাতায়াত করেন কিংবা একবার হলেও করেছেন তাঁরাই জানবেন স্টেশন ঢোকার মুখে বা ছাড়ার সময়ে চামড়ার গন্ধ কেমন হয়। সেইসঙ্গে ভাগাড় তো রয়েইছেই। কিন্তু জানলে অবাক হবেন, এখন সেই নোংরা স্টেশনের (Dirtiest Railway Station) তকমা হারিয়েছে, এখন অন্য দুইটি স্টেশন সবথেকে বেশি নোংরা হয়ে উঠেছে। নাম শুনলে হয়তো চমকে যাবেন।

    শিয়ালদা ডিভিশনের সবথেকে নোংরা স্টেশন কোনটি?

    এমনিতে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম রেল নেটওয়ার্ক, ভারতীয় রেল, সারা দেশে ৭,৪৬১টি রেল স্টেশন পরিচালনা করে। তবে, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বেশিরভাগ রেল স্টেশনের আধুনিকীকরণ প্রচেষ্টা এবং উল্লেখযোগ্য সংস্কার সত্ত্বেও, কয়েকটি ভারতীয় ট্রেন স্টেশন এখনও জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে এবং আধুনিক স্বাস্থ্যবিধির মানের সাথে সামঞ্জস্য রাখতে পারছে না। দিনে দিনে আরও যেন নোংরা হয়ে উঠছে। রোজ সেই স্টেশনগুলির ওপর যাতায়াত করতে গিয়ে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠে যাচ্ছে। যাইহোক, আজ কথা হচ্ছে শিয়ালদা বিভাগের সন্তোষপুর এবং বাঘাযতীন রেল স্টেশন নিয়ে। হ্যাঁ একদম ঠিক শুনেছেন। বর্তমানে এই দুটি রেল স্টেশন সবথেকে নোংরা স্টেশন হিসেবে পার্ক সার্কাসকেও পেছনে ফেলে দিয়েছে।

    সম্প্রতি পূর্ব রেল যেখানে শিয়ালদহ স্টেশনে চার হাজার বর্গফুট এলাকা থেকে ৫০ টন বর্জ‌্য পরিষ্কার করা হয়েছে, সেখানেই সন্তোষপুর এবং বাঘাযতীন স্টেশনে ৪,০০০ বর্গফুট এলাকা থেকে ১০০ টন করে আবর্জনা সরানো হয়েছে। অন্যান্য প্রধান এলাকাগুলোর মধ্যে মগরাহাটে ২,০০০ বর্গফুট থেকে ৩৫ টন, পাতিপুকুর ও টালায় ৩০ টন করে, এবং বিধাননগর ও কলকাতা স্টেশনে ২০ টন করে আবর্জনা সরানো হয়েছে।রেল একটি পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালায়। সেখানেই উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। এরই সঙ্গে তালিকায় রয়েছে লেক গার্ডেন থেকে শুরু করে সোদপুর, সোনারপুর, হালিশহর, আগরপাড়া, নিউ গড়িয়া, টালিগঞ্জ স্টেশন থেকে কয়েকশো টন নোংরা সরিয়েছে পূর্ব রেলওয়ের এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড হাউসকিপিং ম্যানেজমেন্ট বিভাগ।

    আরও পড়ুনঃ ২৫০ কিমি গতিতে ছুটবে স্বদেশী বুলেট ট্রেন, ১৬টি হাই-স্পিড ট্রেন সেটের অর্ডার

    ভারতের সবথেকে নোংরা স্টেশন কোনটি?

    এছাড়া আপনি কি জানতে ইচ্ছুক ভারতের কোন রেল স্টেশন সবথেকে নোংরা? ভারতীয় রেলওয়ের রেল স্বচ্ছ পোর্টাল অনুসারে, দক্ষিণ রেলওয়ে জোনের চেন্নাই রেলওয়ে বিভাগের তামিলনাড়ুর পেরুঙ্গালাথুর রেলওয়ে স্টেশনটি ভারতের সবচেয়ে নোংরা রেলওয়ে স্টেশন হওয়ার কুখ্যাত তকমা পেয়েছে। এছাড়াও, দেশের সবচেয়ে নোংরা স্টেশনগুলির মধ্যে আরও অসংখ্য রেল স্টেশন রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বিহারের পাটনা, মুজাফফরপুর এবং আরারিয়া কোর্ট রেল স্টেশন, উত্তর প্রদেশের ঝাঁসি ও বরেলি রেল স্টেশন, এবং তামিলনাড়ুর ভেলাচেরি ও গুডুভানচেরি রেল স্টেশন।

  • বাংলা বা মহারাষ্ট্র নয়, ভারতের এই রাজ্যে আছে ১০০০-র বেশি স্টেশন

    বাংলা বা মহারাষ্ট্র নয়, ভারতের এই রাজ্যে আছে ১০০০-র বেশি স্টেশন

    সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ যত সময় এগোচ্ছে ততই ভারতীয় রেলের (Indian Railways) পরিধিও বাড়ছে। ভারতীয় রেল বিশ্বের মধ্যে চতুর্থ বড় রেল নেটওয়ার্ক। ভারতে কত যে ট্রেন চলে, কত হাজার হাজার স্টেশন (Train station) আছে, প্রতিদিন কত কোটি মানুষ যে সফর করেন ট্রেনে তার হিসেব নেই। কিন্তু আজকের এই আর্টিকেলে এমন একটি বিষয় নিয়ে আপনাদের তথ্য দেব যেটি সম্পর্কে জানলে আপনি হয়তো আকাশ থেকে পড়বেন। ভারতে রয়েছে এমন এক রাজ্য যেখানে কিনা ১০০০-রও বেশি রেল স্টেশন রয়েছে। এটা বাংলা বা রাজস্থানে নয় কিন্তু। প্রশ্ন উঠছে তাহলে কোথায়? চলুন জেনে নেবেন।

    ভারতের এই রাজ্যে রয়েছে ১০০০-রও বেশি রেল স্টেশন

    ভারতে সর্বাধিক সংখ্যক রেল স্টেশনের কথা বললে, প্রথমেই যে নামটি মনে আসে তা হলো উত্তরপ্রদেশ, যেখানে ১০০০-এরও বেশি রেল স্টেশন রয়েছে। এগুলি প্রধান শহর, শিল্পকেন্দ্র, তীর্থস্থান এবং প্রত্যন্ত গ্রামগুলিকে সংযুক্ত করে। এর বিস্তৃত রেল নেটওয়ার্ক প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ যাত্রী ও পণ্য পরিবহন করে এবং ভারতকে সংযুক্ত করে। এই নেটওয়ার্কটি দেশে যাত্রী ভ্রমণ এবং পণ্য পরিবহনে সহায়তা করে। উত্তরপ্রদেশ শুধু একটি রাজ্য নয়, এটি ভারতের রেল ব্যবস্থার মেরুদণ্ডও বটে।

    বছরের পর বছর ধরে রেল সংযোগের ক্ষেত্রে উত্তর প্রদেশ অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। ১,০০০-এরও বেশি রেল স্টেশনের মাধ্যমে এই রাজ্যটি প্রধান শহর, শিল্পকেন্দ্র, ধর্মীয় কেন্দ্র এবং প্রত্যন্ত গ্রামগুলিকে সংযুক্ত করেছে। এই রেল নেটওয়ার্ক প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ যাত্রী এবং পণ্য পরিবহন করে, যা এটিকে ভারতীয় পরিবহনের একটি অপরিহার্য অংশ করে তুলেছে। কেন্দ্রীয় অবস্থানের কারণে উত্তর প্রদেশ পূর্ব, পশ্চিম, উত্তর এবং দক্ষিণ ভারতের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ করিডোর হিসেবে কাজ করে।

    ২৫ মিলিয়নেরও বেশি যাত্রী যাতায়াত করেন

    এক হিসেব অনুযায়ী, প্রতি মাসে ২৫ মিলিয়নেরও বেশি যাত্রী উত্তর প্রদেশের রেল স্টেশনগুলো ব্যবহার করেন। দিল্লি-হাওড়া, দিল্লি-মুম্বাই এবং দিল্লি-কলকাতার মতো প্রধান রুটগুলো এই রাজ্যের মধ্যে দিয়ে গেছে। এই নেটওয়ার্কটি দেশজুড়ে যাত্রীদের নির্বিঘ্ন ভ্রমণ এবং পণ্য পরিবহনে অনেকটাই সাহায্য করে। রাজ্যটি উত্তর রেলওয়ে, উত্তর-পূর্ব রেলওয়ে এবং উত্তর-মধ্য রেলওয়ে জোনের মাধ্যমে রেল পরিষেবা পরিচালনা করে।

    আরও পড়ুনঃ আকাশ কালো করে ধেয়ে আসছে কালবৈশাখী, ৫ জেলায় প্রবল বৃষ্টি! আজকের আবহাওয়া

    উত্তর প্রদেশের প্রধান কিছু রেলওয়ে স্টেশন রয়েছে। সেগুলি হল প্রয়াগরাজ জংশন, কানপুর সেন্ট্রাল, বারাণসী জংশন, লখনউ চারবাগ, গোরক্ষপুর জংশন, অযোধ্যা ধাম জংশন, বীরাঙ্গনা লক্ষ্মীবাই ঝাঁসি জংশন, মোরাদাবাদ জংশন, বরেলি জংশন, সাহারানপুর জংশন, মথুরা জংশন, গাজিয়াবাদ জংশন, ইত্যাদি।

  • দাঁড়ায় মাত্র ৫টি স্টেশনে, ‘লোকাল ট্রেনের রাজা’ বলা হয় এই ট্রেনটিকে! চলে হাওড়া-বর্ধমান রুটে

    দাঁড়ায় মাত্র ৫টি স্টেশনে, ‘লোকাল ট্রেনের রাজা’ বলা হয় এই ট্রেনটিকে! চলে হাওড়া-বর্ধমান রুটে

    বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: প্রতিদিন বাংলার বুক চিরে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে চলে অসংখ্য লোকাল ট্রেন (Super Local Train)। নিত্য অফিস যাত্রী থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী, এক কথায় ডেলি প্যাসেঞ্জারদের যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম এই ট্রেনগুলি (Train)। তবে অনেকেই হয়তো জানেন না, বাংলার বুকে এমন একটি লোকাল ট্রেন রয়েছে যাকে যাত্রীরা লোকাল ট্রেনের রাজা বলে ডাকেন। হ্যাঁ, রেলের হোয়ার ইজ মাই ট্রেন অ্যাপেও এই লোকালটির নাম রয়েছে সুপার লোকাল হিসেবেই। কিন্তু কোন রুটে চলে এই ট্রেন? কেনই বা তাকে সুপার লোকাল বা লোকাল ট্রেনের রাজা বলা হয় জানা আছে?

    এই ট্রেনটিকে বলা হয় লোকাল ট্রেনের রাজা

    বাংলার অন্যতম ব্যস্ত রেলরুট বা লাইন হাওড়া-বর্ধমান। প্রতিদিন এই রুটেই চলে একাধিক মেল/এক্সপ্রেস এবং মেমু লোকাল। বলে রাখা প্রয়োজন, বর্ধমান থেকে হাওড়া পর্যন্ত মোট 33টি স্টেশন রয়েছে। এই রুটের প্রায় সব লোকাল ট্রেনই প্রতিটি স্টেশনের স্টপেজ দিয়ে থাকে। তবে এদের মধ্যে এমন একটি লোকাল ট্রেন রয়েছে যেটি বর্ধমান থেকে হাওড়া পর্যন্ত মাত্র পাঁচটি স্টেশনে দাঁড়ায়। হ্যাঁ, প্রতিদিন ভোর 6টা বেজে 35 মিনিটে বর্ধমান থেকে ছেড়ে সকাল সাড়ে আটটায় হাওড়ায় পৌঁছয় এই ট্রেন।

    ট্রেন নম্বর 37822 বর্ধমান-হাওড়া মেন লাইন সুপার লোকাল ট্রেনটি তার যাত্রাপথে বর্ধমান থেকে ছেড়ে প্রথমে মেমারি, তারপর বৈঁচি, এরপর পান্ডুয়া, মগরা, ব্যান্ডেল স্টেশনে স্টপেজ দিয়ে সোজা হাওড়া স্টেশনে ঢোকে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, আর পাঁচটা লোকাল ট্রেন যেখানে এই নির্দিষ্ট যাত্রা পথ অতিক্রম করতে আড়াই ঘণ্টা থেকে পৌনে তিন ঘন্টা সময় নেয় সেখানে এই সুপার লোকাল ট্রেনটি মাত্র 2 ঘন্টায় যাত্রীদের বর্ধমান থেকে হাওড়া আবার হাওড়া থেকে বর্ধমান এ পৌঁছে দেয়।

    অবশ্যই পড়ুন: LPG কানেকশনে শীর্ষে উত্তরপ্রদেশ, বাংলার অবস্থান কোথায়? দেখুন রাজ্যভেদে পরিসংখ্যান

    এক কথায় বলতে গেলে, আপাত দৃষ্টিতে বাংলার বর্ধমান থেকে হাওড়া রুট সহ অন্যান্য শাখার সাধারণ লোকাল ট্রেন গুলির তুলনায় কম স্টপেজ এবং অল্প সময়ে যাত্রা সম্পূর্ণ করার জন্যই এই ট্রেনটিকে লোকাল ট্রেনের রাজা বলেই ডাকেন নিত্যযাত্রীরা। হাওড়া-বর্ধমান শাখার একটা বড় অংশের যাত্রীর দাবি, একই খরচে অন্যান্য লোকাল ট্রেনের তুলনায় এই ট্রেন অনেক আগে গন্তব্যে পৌঁছে দেয়। তাছাড়াও এর স্টপেজ অনেক কম। মূলত সে কারণেই, প্রতিদিন ভোর হলেই এই ট্রেনে ওঠার হিড়িক পড়ে যায় যাত্রীদের মধ্যে।

  • স্টেশনে চোর ধরবে রোবট, যাত্রী নিরাপত্তায় বড় চমক রেলের

    স্টেশনে চোর ধরবে রোবট, যাত্রী নিরাপত্তায় বড় চমক রেলের

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: এবার রেল ব্যবস্থায় যাত্রীদের সুরক্ষার ক্ষেত্রে আনা হচ্ছে বড় চমক! যাত্রীদের ভিড় নিয়ন্ত্রণ করতে এবং চোর ধরতে রাখা হতে চলেছে রোবট। স্টেশনে প্রতি মুহূর্তে অজস্র যাত্রীর যাতায়াত লেগেই থাকে। তাঁদের প্রত্যেকের উপর নজর রাখতে গেলে বিপুল সংখ্যক রেলরক্ষী মোতায়েন করতে হয়। তাতেও যে ১০০ শতাংশ সাফল্য মেলে তাও নয়। তাই এবার যাত্রীদের সুরক্ষা বজায় রাখতে রোবট (Humanoid Robots at Stations) আনতে চলেছে ভারতীয় রেল (Indian Railways)।

    যাত্রী নিরাপত্তায় স্টেশনে রাখা হবে রোবট

    গত কয়েক মাস ধরেই ভারতীয় রেল বোর্ড দাবি করছে, রেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর প্রয়োগ করা হবে। তাই এবার সেই কথা মত রেলের উন্নতির জন্য উঠে পড়ে লেগেছে ইন্ডিয়ান রেলওয়েস। জানা গিয়েছে, প্রধান স্টেশনগুলিকে উচ্চ প্রযুক্তির করে তুলতে হিউম্যানয়েড রোবট মোতায়েনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। জানা গিয়েছে, এই রোবটগুলি মানুষের মতোই যাত্রীদের তথ্য সরবরাহ করবে, তাদের সঠিক পথে পরিচালিত করবে, ভিড় পরিচালনা করবে এবং সন্দেহজনক কার্যকলাপের উপর নজর রাখবে।

    রোবটের গুণাগুনকে কাজে লাগাতে চাইছে রেল

    কৃত্রিম যন্ত্রমেধা এবং যন্ত্রমানব নিয়ে এই মুহূর্তে নানাভাবে কাটাছেঁড়া চলছে পৃথিবীর সর্বত্রই। প্রযুক্তি এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে অদূর ভবিষ্যতে রোবট মানবজাতির উপর আধিপত্য বিস্তার করলেও, অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না বলে মত কারও কারও। তবে রোবটের গুণাগুনকে কাজে লাগাতে চাইছে ভারতীয় রেল। ২০২৬–’২৭–এর বাজেট পেশ করার সময়ে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন জানিয়েছিলেন, রেলের নিরাপত্তা ও যাত্রীদের সুরক্ষা সব সময়েই রেলের কাছে অগ্রাধিকার পাবে। এবং এই খাতে অর্থ বরাদ্দে কোনও রকম কার্পণ্য করা হবে না। তাই যাত্রী নিরাপত্তাকে আরও গুরুত্ব দিতে বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে কেন্দ্র।

    আরও পড়ুন: জগন্নাথের উদ্যোগে রানাঘাট-গেদে-শিয়ালদায় একাধিক ট্রেন দিল রেল, দেখুন সময়সূচি

    উল্লেখ্য, গত মাসে বিশাখাপত্তনম স্টেশনে AI-চালিত, রেলের রোবোকপ অর্জুন দুই কুখ্যাত দুষ্কৃতী ‘হড়পা শিব’ ও তার সহযোগী বাঙ্গারুকে ধরতে সাহায্য করেছিল। রেল পুলিশ জানিয়েছে, স্টেশন চত্বরে টহল দেওয়ার সময়ে রোবোকপের ‘ফেশিয়াল রেকগনিশন সিস্টেম’ প্রত্যেক যাত্রীর মুখাবয়বের ছবির ‘রিয়েল টাইম অ্যানালিসিস’ করে গিয়েছে। অর্জুনের ডেটাবেসের সঙ্গে দুই দুষ্কৃতি হড়পা শিব এবং বাঙ্গারুর মুখের ছবির বিশ্লেষণ মিলে যেতেই সে সতর্ক করেছে কন্ট্রোল রুমকে, তারপরেই ধরা হয়। বিশাখাপত্তনম স্টেশনে রেলের ‘রোবোকপ’ বা রোবট–পুলিশ অর্জুনের এমন সাফল্য রেলের কর্তাদের উৎসাহ বাড়িয়েছে। প্রমাণিত হয়েছে দাগি দুষ্কৃতী ধরতে এই প্রযুক্তি যে কতটা কার্যকর।

  • শিয়ালদহ ডিভিশনের ৭ স্টেশন নিয়ে বড় পরিকল্পনা রেলের, সুবিধা হবে যাত্রীদের

    শিয়ালদহ ডিভিশনের ৭ স্টেশন নিয়ে বড় পরিকল্পনা রেলের, সুবিধা হবে যাত্রীদের

    বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: স্টেশনের (Indian Railways) পাশেই পড়ে রয়েছে বিশালাকার ময়লা-আবর্জনার স্তুপ। গন্ধে টেকা দায় স্থানীয়দের পক্ষে। তাই নাকে রুমাল চেপে পৌঁছতে হয় স্টেশনে। তবুও স্টেশন লাগোয়া আবর্জনার গন্ধ নাক থেকে যেন সরেই না। এই প্রবণতা কমাতে অর্থাৎ শিয়ালদহ (Sealdah) ডিভিশনের একাধিক স্টেশনের নামের পাশ থেকে নোংরা তকমা সরাতে গত ফেব্রুয়ারির 15 তারিখ থেকে সাফাই অভিযান শুরু করেছিল রেল। সেই অভিযানে শিয়ালদহ শাখার সাতটি স্টেশন মিলিয়ে মোট 300 টন বর্জ্য পদার্থ উদ্ধার করা গিয়েছে। এর ফলে 50 হাজার বর্গমিটার জমি উদ্ধার করতে পেরেছে রেল।

    পরিবেশের কথা চিন্তা করেই এমন পদক্ষেপ রেলের

    রেল সূত্রে খবর, শিয়ালদহ শাখার বাঘা যতীন, সন্তোষপুর, পার্ক সার্কাস, বিধান নগর রোড এবং সোদপুর স্টেশনের পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে এতদিন আবর্জনা স্তূপ উপেক্ষা করে যাতায়াত করতে হয়েছে যাত্রীদের। পচা বর্জ্য পদার্থের গন্ধে যাত্রীদের যেমন ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে তেমনই স্টেশন গুলির পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে হেঁটে যাওয়া পথ চলতি মানুষও নাক চেপেই যাতায়াত করছিলেন এই কদিন। মূলত সে কারণেই, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ থেকে রোগের সংক্রমণ ঠেকাতে এবং পরিবেশ রক্ষা করতে সাফাই অভিযান শুরু করে ইস্টার্ন রেলওয়ে।

    জানা গিয়েছে, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বা বাজার লাগোয়া স্টেশন গুলির পাশে আবর্জনার স্তুপ উদ্বেগ বাড়াচ্ছিল রেল আধিকারিকদেরও। সে কারণেই স্টেশনগুলির পাশে থাকা আবর্জনা থেকে যাতে পরিবেশ দূষণ বৃদ্ধি না পায় এবং অগ্নিকাণ্ডের মতো ঝুঁকি কমে সে কারণেই শিয়ালদহ ডিভিশনের উল্লেখিত স্টেশন গুলিতে সাফাই অভিযান চালায় রেল।

    অবশ্যই পড়ুন: সাধ্যের মধ্যেই হতে পারে ভারতের প্রথম বুলেট ট্রেনের ভাড়া, কত? দেখুন রিপোর্ট

    উদ্ধার হওয়া জমিতে বিশেষ পরিকল্পনা রেলের

    রেল সূত্রে যা খবর, শিয়ালদহ ডিভিশনের বিধাননগর রোড, পার্ক সার্কাস, সন্তোষপুর, সোদপুর সহ 7টি স্টেশনে সাফাই অভিযান চালিয়ে উদ্ধারকৃত 50 হাজার বর্গমিটার জমিতে গাছ লাগিয়ে বাগান তৈরির পরিকল্পনা করছে রেল। রেল আধিকারিকদের একাংশের দাবি, মূলত যাত্রীদের স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে পরিবেশ দূষণ কমিয়ে শিয়ালদহ থেকে সন্তোষপুর অর্থাৎ প্রতিটি স্টেশনের পাশে উদ্ধারকৃত জমিতে ফুলের গাছ সহ অন্যান্য রকমারি গাছ লাগিয়ে নতুন করে বাগান তৈরি করা হবে। আর এর ফলে রেল যাত্রীদেরই সুবিধা হবে। তবে রেল আধিকারিকরা বলছেন, রেল নিজে দায়িত্ব নিয়ে যতই স্টেশন সংলগ্ন এলাকাগুলি পরিষ্কার রাখার চেষ্টা করুক যাত্রীরা সচেতন না হলে কোনও লাভই নেই।

  • আলিপুরদুয়ার অমৃত ভারত এক্সপ্রেস পেল নয়া স্টপেজ, কোন স্টেশনে দাঁড়াবে জানাল রেল

    আলিপুরদুয়ার অমৃত ভারত এক্সপ্রেস পেল নয়া স্টপেজ, কোন স্টেশনে দাঁড়াবে জানাল রেল

    সহেলি মিত্র, কলকাতা: বাংলা এবং দক্ষিণ ভারতের রেল যাত্রীদের জন্য রইল দারুণ সুখবর। অবশেষে নতুন এক স্টপেজ পেল আলিপুরদুয়ার –এসএমভিটি বেঙ্গালুরু-আলিপুরদুয়ার অমৃত ভারত এক্সপ্রেস (Alipurduar – SMVT Bengaluru Amrit Bharat Express)। দীর্ঘদিন ধরেই এই ট্রেনের একটি স্টপেজ বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছিলেন সাধারণ রেল যাত্রীরা। অবশেষে সকলের সেই ইচ্ছার দাম দিয়ে নতুন স্টপেজ দেওয়া হল। আপনিও কি জানতে ইচ্ছুক নতুন স্টপেজের নাম কী? চলুন বিশদে জেনে নেওয়া যাক।

    নতুন স্টপেজ পেল এই রুটের অমৃত ভারত এক্সপ্রেস

    পূর্ব রেলের তরফে ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। সেই বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আলিপুরদুয়ার –এসএমভিটি বেঙ্গালুরু-আলিপুরদুয়ার অমৃত ভারত এক্সপ্রেস এবার থেকে দলগাঁও স্টেশনে থামবে। যাত্রীদের সুবিধার্থে ট্রেন নম্বর ১৬৫৯৮/১৬৫৯৭ আলিপুরদুয়ার-এসএমভিটি বেঙ্গালুরু-আলিপুরদুয়ার অমৃত ভারত এক্সপ্রেস এবার থেকে নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী দলগাঁও স্টেশনে থামবে। গতকাল ৯ মার্চ থেকে নিয়মটি কার্যকর হবে।

    আরও পড়ুনঃ দাঁড়ায় প্রায় সব ট্রেন! তবে বাংলার এই স্টেশনের নাম জানেন না যাত্রীরা

    এক নজরে ট্রেনের কর্মসূচি

    বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১৬৫৯৮ আলিপুরদুয়ার-এসএমভিটি অমৃত ভারত এক্সপ্রেস রাত ২৩:৪৬ নাগাদ দলগাঁও স্টেশনে পৌঁছাবে এবং সেখান থেকে ছাড়বে ২৩:৪৮ মিনিটে অর্থাৎ মাত্র ২ মিনিটের হল্ট দেওয়া হবে। এদিকে ফিরতি পথে ১৬৫৯৭ এসএমভিটি বেঙ্গালুরু-আলিপুরদুয়ার অমৃত ভারত এক্সপ্রেস ১৪ মার্চ, ২০২৬ থেকে সকাল ৮:০১ মিনিটে দলগাঁওতে থামবে এবং ছাড়বে ৮:০৩ মিনিটে। যদিও ট্রেনটির অন্যান্য সকলের স্টেশনের কর্মসূচি অপরিবর্তিত থাকবে।

    উল্লেখ্য, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে আলিপুরদুয়ার-এসএমভিটি বেঙ্গালুরু অমৃত ভারত এক্সপ্রেস ট্রেন পরিষেবা চালু হবে । নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের শ্রেণীর যাত্রীদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যের এবং উচ্চমানের পরিষেবা প্রদানের জন্য এই নতুন নন-এসি ট্রেনটি তৈরি করা হয়েছে। ট্রেনটি ছয়টি রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলির মধ্য দিয়ে যাবে: পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ু এবং কর্ণাটক। ট্রেনটি বোলপুর শান্তিনিকেতন, ডানকুনি, খুরদা রোড, নেলোরের মতো কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে স্টপেজ দেয়।

     

  • দাঁড়ায় প্রায় সব ট্রেন! তবে বাংলার এই স্টেশনের নাম জানেন না যাত্রীরা

    দাঁড়ায় প্রায় সব ট্রেন! তবে বাংলার এই স্টেশনের নাম জানেন না যাত্রীরা

    বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: এ বাংলায় (West Bengal) কমবেশি 700 র বেশি রেল (Indian Railways) স্টেশন রয়েছে। যে গুলির প্রত্যেকটি একে অপরের থেকে আলাদা। তবে পশ্চিমবঙ্গের বুকেই এমন এক স্টেশন রয়েছে যেখানে থেকে প্রতিদিন বহু মানুষ যাতায়াত করলেও কোনও নাম নেই সেই স্টেশনের। এক কথায় যাকে বলা যায় নামহীন বা অনামিকা স্টেশন। ভারতীয় রেলের অধীনস্থ এই স্টেশনের নামকরণ না হওয়ার কারণে স্টেশনটিতে প্রতিদিন অজস্র ট্রেন দাঁড়ালেও এই স্টেশনের নাম দেখায় না Where Is My Train অ্যাপেও! কোথায় রয়েছে সেই স্টেশন?

    বাংলাতেই রয়েছে নামহীন রেল স্টেশন

    ভারতীয় রেলের হাজার হাজার রেল স্টেশনের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের নামহীন রেলস্টেশনটি। জানলে অবাক হবেন, এই স্টেশনই দেশের একমাত্র স্টেশন যার নামকরণ আজ পর্যন্ত হয়নি। নিশ্চয়ই জানতে ইচ্ছে হচ্ছে কোথায় রয়েছে এমন স্টেশন? বাংলা তথা ভারতের একমাত্র নামহীন রেল স্টেশনটি রয়েছে বর্ধমান জেলার জেলা সদর থেকে অন্তত 35 কিলোমিটার দূরে অবস্থিত রায়না নামক একটি গ্রামে।

    সালটা 2008। সে বছর এই গ্রামেই তৈরি হয়েছিল রেল স্টেশনটি। জানা যায়, ভারতীয় রেলের তরফে স্টেশনটি তৈরির পর এর নামকরণ করার প্রস্তুতি নেওয়া হলে রায়না এবং পার্শ্ববর্তী গ্রাম রায়নগরের বাসিন্দাদের মধ্যে স্টেশনের নামকরণ নিয়ে ব্যাপক মতপার্থক্য দেখা দিলে শেষ পর্যন্ত এই স্টেশনের নামকরণ করা যায়নি।

    জানা যায়, 2008 এ রায়নগর নামের একটি স্টেশন ছিল। পরবর্তীতে রায়নগরের বাসিন্দারা বাঁকুড়া থেকে মসাগ্রাম লাইনের নবনির্মিত স্টেশনটির নাম রায়নগর রাখার পরামর্শ দেন। তাতে ঘোর আপত্তি জানান রায়নার বাসিন্দারা। আসলে স্টেশনটি রায়না গ্রামের আওতায় পড়ায় সেই স্টেশনের নাম রায়না হওয়া উচিত বলেই দাবি করে বসেন রায়নার বাসিন্দারা। তাতে বাধা দেন পার্শ্ববর্তী গ্রামের সকলেই। ফলে দুই পক্ষের তীব্র মতপার্থক্যের কারণে এই স্টেশনের নাম রাখা সম্ভব হয়নি। যার কারণে আজও এই স্টেশনে গেলে হলুদ সাইনবোর্ডে দেখা যাবে না কোনও নাম। যাত্রীরা সেটা জেনেই এই নামহীন স্টেশনে ট্রেন ধরতে আসেন। টিকিট কাউন্টার থেকে টিকিট কাটার সময়ও যাত্রীরা বলেন রায়না গ্রামের স্টেশনের টিকিট দিতে।

    অবশ্যই পড়ুন: ভক্তদের আশায় জল ঢাললেন KKR তারকা!

    সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, রবিবার দিন অর্থাৎ ছুটির দিনটিতে এই স্টেশনে বাজে না ট্রেনের বাঁশি। অর্থাৎ এই দিন একেবারে নিরব থাকে স্টেশনটি। যাতায়াত করেন না যাত্রীরা। স্থানীয় সূত্রে খবর, এই স্টেশনে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে টিকিট কাটার ব্যবস্থা না থাকায় রবিবার দিন স্টেশন মাস্টার বর্ধমান শহরে যান টিকিট কিনতে। সে কারণেই এই দিন এই স্টেশনের যাত্রী পরিষেবা পুরোপুরি বন্ধ থাকে। বলে রাখি, স্টেশনের নির্দিষ্ট কোনও নাম না থাকায় টিকিট ছাপানো হয় রায়নগর নামে। একই সাথে মোবাইল অ্যাপে বাঁকুড়া মসাগ্রাম লাইনে রায়নগর স্টেশনের নাম উল্লেখ রয়েছে। তবে হিসেব করে দেখতে গেলে, এই স্টেশন অনামিকা স্টেশন হওয়ায় আদতে এর নাম নেই অ্যাপে।

  • নতুন প্ল্যাটফর্ম নির্মাণ, ট্রেন ধারণের ক্ষমতা হবে দ্বিগুণ! হাওড়া স্টেশন নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত রেলের

    নতুন প্ল্যাটফর্ম নির্মাণ, ট্রেন ধারণের ক্ষমতা হবে দ্বিগুণ! হাওড়া স্টেশন নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত রেলের

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ভারতবর্ষের সবথেকে বড় আর অন্যতম পুরনো রেলওয়ে স্টেশন হাওড়াকে (Howrah Railway Station) এবার নতুন রূপে সাজানো হবে। ১৭৩ বছরের পুরনো পশ্চিমবঙ্গের বৃহৎ এই স্টেশনকে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যেই উন্নত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে রেল মন্ত্রণালয়। ১৮৫৪ সালে নির্মিত হাওড়া স্টেশনের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটানোর জন্য বেশ কয়েকবার সম্প্রসারিত করা হয়েছে। তবে ২০৩০ সালের মধ্যে ট্রেন পরিচালনা ক্ষমতা দ্বিগুণ করানোর জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে (Indian Railways)।

    বলে দিই, ১৯০৫ সালে হাওড়া রেলওয়ে স্টেশনে নতুন ছয়টি প্ল্যাটফর্ম যুক্ত করা হয়। যার ফলে প্ল্যাটফর্ম সংখ্যা দাঁড়ায় সাতটি। আর ১৯৮৪ সালে আরও আটটি প্ল্যাটফর্ম নির্মাণ করা হয়। ফলে তখন প্লাটফর্ম সংখ্যা দাঁড়িয়ে ছিল ১৫টিতে। আর ১৯৯২ সালে আরও চারটি প্ল্যাটফর্মসহ নতুন একটি টার্মিনাল কমপ্লেক্স তৈরি করা হয়। পরে ২০০৯ সালে স্টেশনটিকে আবারো সম্প্রসারণ করা হয় এবং বর্তমানে এই স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম সংখ্যা দাঁড়ায় ২৩টি।

    ২০৩০ সালের মধ্যেই ট্রেন পরিচালনা ক্ষমতা হবে দ্বিগুণ

    রেলওয়ে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, আগামী পাঁচ বছর প্রধান স্টেশনগুলির ট্রেন পরিচালনা ক্ষমতা দ্বিগুণ করা হবে। যার মধ্যে হাওড়া স্টেশন অন্যতম। এ বিষয়ে পূর্ব রেলের প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা শিবরাম মাঝি বলেছেন, নতুন প্ল্যাটফর্ম এবং প্লাটফর্ম সম্প্রসারণের মাধ্যমে হাওড়া স্টেশনের টার্মিনাল ক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে। ভারতবর্ষের অন্যতম ব্যস্ততম রেল টার্মিনালের ট্রেন পরিচালনা ক্ষমতা বাড়ানো হবে আর ট্রাফিক আরও উন্নত করা হবে। হাওড়া স্টেশনে আসা দূরপাল্লার ট্রেনগুলি বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব রেলের ট্রেনগুলির সময়ানুবর্তিতা করার জন্যই এই পদক্ষেপ।

    এদিকে জানিয়ে রাখি, হাওড়া স্টেশনের ১৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মের পুনঃনির্মাণ এবং সম্প্রসারণ সম্পন্ন হয়েছে। হ্যাঁ প্ল্যাটফর্মটি ৩১২ মিটার থেকে ৫৯১ মিটার পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। যার ফলে ২২ থেকে ২৪টি কোচবিশিষ্ট দূরপাল্লার ট্রেনগুলি আরামসে দাঁড়াতে পারবে। কারণ, আগে এই প্ল্যাটফর্মে শুধুমাত্র লোকাল ট্রেন চলাচল করতে পারত। এছাড়াও ১৪ নম্বর প্ল্যাটফর্মের সম্প্রসারণ সম্পন্ন হয়েছে। এটির দৈর্ঘ্য ৫৬৪ মিটার থেকে ৫৮১ মিটার করা হয়েছে। যার ফলে বেশি কোচের ট্রেনগুলি সহজেই দাঁড়াতে পারে।

    আরও পড়ুন: ব্যবসার জন্য ১০ লক্ষ দিচ্ছে রাজ্য সরকার! হাফ টাকা মুকুব, মাধ্যমিক পাসেই আবেদন

    তৈরি হবে নতুন প্ল্যাটফর্ম

    এদিকে স্টেশনের ক্ষমতা সম্প্রসারণ করানোর জন্য আরও দুটি নতুন প্ল্যাটফর্ম তৈরি হবে বলেই খবর। আর এই প্ল্যাটফর্ম দুটি হবে ৬৩৫ মিটার লম্বা, যাতে ২৪টি কোচবিশিষ্ট দূরপাল্লার ট্রেন দাঁড়াতে পারবে। এই প্ল্যাটফর্মগুলি নির্মিত হলে সেগুলি শহরতলির সাথে দূরপাল্লার পরিষেবাকে আরও উন্নত করবে বলেই অনুমান করা হচ্ছে। পাশাপাশি যাত্রীদের ভোগান্তিও দূর হবে।

  • শ্রীরামপুর স্টেশন নিয়ে বড় ঘোষণা রেলমন্ত্রীর, হাওড়া লাইনে হতে পারে আরেকটি হল্ট স্টেশনও

    শ্রীরামপুর স্টেশন নিয়ে বড় ঘোষণা রেলমন্ত্রীর, হাওড়া লাইনে হতে পারে আরেকটি হল্ট স্টেশনও

    সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ নির্ঘন্ট প্রকাশ না পেলেও বাংলার বিধানসভা ভোট নিয়ে কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে। আর এই সময়কে কাজে লাগিয়েই এক অঘোষিত রাজনৈতিক প্রচারে নেমে পড়েছে বাম থেকে শুরু করে শাসক দল তৃণমূল, বিজেপি ও অন্যান্যরা। জায়গায় জায়গায় যাচ্ছেন রাজনৈতিক দলীয় নেতৃবৃন্দরা। এদিকে বাংলায় নিজেদের জমি দখল করতে বিজেপিও একের পর এক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এসে ঘুরে গিয়েছেন। এবার বঙ্গ সফরে এলেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব (Ashwini Vaishnaw)। সম্প্রতি তিনি হুগলীর শ্রীরামপুর (Serampore) গিয়েছিলেন এবং সেখানে গিয়ে বড় ঘোষণা করেছেন।

    বঙ্গ সফরে এসে বড় ঘোষণা রেলমন্ত্রী

    বঙ্গ সফরে এসে শ্রীরামপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ রেলস্টেশন নিয়ে বড় ঘোষণা করেন অশ্বিনী বৈষ্ণব। সেইসঙ্গে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কেন্দ্রীয় বাজেটে বাংলার জন্য রেল প্রকল্পের ক্ষেত্রে কত কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে সে বিষয়ে বড় তথ্য দেন তিনি। অশ্বিনী বৈষ্ণব জানালেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই বছরের সাধারণ বাজেটে বাংলার রেলওয়ের উন্নয়নের জন্য রেকর্ড ১৪,২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছেন। এছাড়াও, রাজ্যে ইতিমধ্যেই ৯৩,০০০ কোটি টাকার বিভিন্ন রেল উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে।

    স্থানীয়দের তরফে রেলমন্ত্রীর কাছে একটি বিশেষ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। দক্ষিণেশ্বর স্টেশন যেমন দক্ষিণেশ্বর মন্দিরের আদলে হয়েছে। তেমনই এবার মাহেশের জগন্নাথ মন্দিরের আদলে যেন শ্রীরামপুর স্টেশন করা হবে বলে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী। এমনকি রেলমন্ত্রীর কাছে এদিন হাওড়া লাইনে শ্রীরামপুর থেকে রিষড়ার মধ্যে একটি হল্ট স্টেশন হয় সেই দাবিও জানানো হয়। এই স্টেশনটি হলে মাহেশের রথযাত্রা দেখতে আসা দর্শনার্থীদের অনেক সুবিধা হবে।

    সরকারের বিরুদ্ধে গুরতর অভিযোগ রেলমন্ত্রীর

    রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব শনিবার আবারও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারকে নিশানা করেন। দাবি করেন যে রাজ্য সরকারের অসহযোগিতার কারণে বাংলায় হাজার হাজার কোটি টাকার অনেক গুরুত্বপূর্ণ রেল প্রকল্প ঝুলে আছে। এদিন হুগলি জেলার শ্রীরামপুরে বিজেপির পরিবর্তন যাত্রায় অংশগ্রহণকারী অশ্বিনী বৈষ্ণব সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় অভিযোগ করেন যে রাজ্য সরকার রেল প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা করছে না। জমি অধিগ্রহণের জন্য রাজ্য সরকারের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা না পাওয়ায় তিনি হতাশা প্রকাশ করেন।

    আরও পড়ুনঃ বদলে গেল ভোল, অমৃত ভারত প্রকল্পের আওতায় অত্যাধুনিক হল সিউড়ি থেকে হলদিয়া স্টেশন

    তিনি বলেন যে, বাংলায় রেল প্রকল্পের জন্য মাত্র ২৭ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে, যেখানে ৭৩ শতাংশ এখনও অঅধিগ্রহণ করা হয়নি। তিনি দাবি করেন যে এর ফলে অনেক প্রকল্প আটকে আছে। রেলমন্ত্রী বলেন, রাজ্য সরকারের অব্যাহত অসহযোগিতা সত্ত্বেও, রেল প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রচুর প্রচেষ্টা এবং কঠোর পরিশ্রম করা হচ্ছে। বাংলায় ১০ থেকে ১২টি এমন রেল প্রকল্প রয়েছে যেখানে কাজ করার জন্য সরকার কোনও সাহায্য করছে না। রেলমন্ত্রী জানান, ২০১৪ সালের আগের ৪০ বছরে, পূর্ববর্তী সরকারগুলির অধীনে, কলকাতা মেট্রো লাইনের মাত্র ২৭ কিলোমিটার সম্প্রসারণ করা হয়েছিল। কিন্ত ২০১৪ সালে মোদী সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে ১১ বছরে, কলকাতায় ৪৫ কিলোমিটার মেট্রো লাইন সম্প্রসারণ করা হয়েছে।

    আরও পড়ুনঃ যুবসাথীর চক্করে কত হাজার কোটির ধাক্কা রাজ্য সরকারের? ভয়ঙ্কর রিপোর্ট দিল RBI

    রেলমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্পের আওতায় বর্তমানে বাংলা জুড়ে ১০১টি রেলস্টেশন সংস্কার করা হচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে এই বছরের বাজেটে বাংলার জন্য একটি বুলেট ট্রেনের পাশাপাশি একটি নতুন ডেডিকেটেড ফ্রেইট করিডোর অনুমোদন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে, বুলেট ট্রেনটি শিলিগুড়িকে সংযুক্ত করবে।

  • বদলে গেল ভোল, অমৃত ভারত প্রকল্পের আওতায় অত্যাধুনিক হল সিউড়ি থেকে হলদিয়া স্টেশন

    বদলে গেল ভোল, অমৃত ভারত প্রকল্পের আওতায় অত্যাধুনিক হল সিউড়ি থেকে হলদিয়া স্টেশন

    সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ ভারতীয় রেলের (Indian Railways) উদ্যোগে পুরো ভোল বদলে যাচ্ছে বাংলার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ রেল স্টেশনের। আজকের এই আর্টিকেলে তেমনই কিছু রেল স্টেশন নিয়ে আলোচনা করা হবে যেখানে কোনও না কোনওদিন আপনি নিশ্চয়ই গিয়ে থাকবেন। তবে কয়েক বছর আগের দেখা আর এখনের স্টেশনের মধ্যে আকাশ পাতাল তফাৎ। নিশ্চয়ই ভাবছেন কোন কোন স্টেশনকে নিয়ে কথা হচ্ছে? জানতে চোখ রাখুন আজকের এই প্রতিবেদনটির ওপর।

    আসলে অমৃত ভারত স্কিমের (Amrit Bharat Station Scheme) আওতায় বাংলা সহ দেশের বহু রাজ্যের রেল স্টেশনকে পুননির্মাণ করছে রেল। যার মধ্যে রেলের নজরে রয়েছে বাংলারও বেশ কিছু স্টেশন। যদিও আজ কথা হচ্ছে সিউড়ি এবং হলদিয়া রেল স্টেশনকে নিয়ে। দুটি স্টেশনের চেহারাই আগের থেকে অনেক বদলে গিয়েছে। আগের তুলনায় হয়ে গিয়েছে একদম ঝাঁ চকচকে এবং আরও আধুনিক। কয়েক বছর আগের স্টেশন আর এখনের স্টেশনের মধ্যে মানুষ রীতিমতো গুলিয়ে যাবেন।

    অমৃত ভারত স্টেশন স্কিম কী?

    আলোচনা করে নেওয়া যাক অমৃত ভারত স্টেশন স্কিম ঠিক কী?  ভারতের সমস্ত রেলওয়ে স্টেশনগুলিকে রূপান্তরিত করা হচ্ছে, নানান সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে। স্টেশনগুলির সৌন্দর্যায়নের কাজ চলছে। এটি সরকারের অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্পের আওতায় সম্পন্ন করা হচ্ছে। সারা দেশে ১০৩টি অমৃত ভারত স্টেশন উদ্বোধন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই সমস্ত স্টেশনের উদ্বোধন করেছেন। অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্পের আওতায়, সারা দেশের স্টেশনগুলিকে একটি অনন্য চেহারা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই স্টেশনগুলি বিভিন্ন থিমের উপর নির্মিত হয়েছে। এগুলি শিল্প ও স্থানীয় সংস্কৃতির পাশাপাশি বন্যপ্রাণীকেও প্রদর্শন করে।

    আরও পড়ুনঃ যাতায়াত করে বন্দে ভারত, রাজধানীর মতো ট্রেন, এটিই বাংলার একমাত্র দোতলা স্টেশন

    এই পরিকল্পনার লক্ষ্য স্টেশনগুলিকে পরিষ্কার, আরামদায়ক এবং অ্যাক্সেসযোগ্য করে তোলা। আকর্ষণীয় প্রবেশ এবং প্রস্থান গেটগুলি ডিজাইন করা হয়েছে, যাত্রীদের জন্য আরামদায়ক অপেক্ষা কক্ষ, পরিষ্কার শৌচালয় এবং সম্পূর্ণরূপে নিরাপদ ও আপগ্রেডেট প্ল্যাটফর্ম সহ। এছাড়াও, স্টেশনগুলিতে যাত্রীদের জন্য লিফটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিনামূল্যে ওয়াই-ফাইয়ের মতো সুযোগ-সুবিধার পাশাপাশি বিভিন্ন সাইনবোর্ডও স্থাপন করা হয়েছে। “এক স্টেশন, এক পণ্য” প্রকল্পের আওতায় এই অমৃত স্টেশনগুলিতে স্থানীয় পণ্য বিক্রি করা হবে।