Tag: Taliban

  • তালিবানদের ঘাঁটি লক্ষ্য করে ফের আফগানিস্তানে এয়ারস্ট্রাইক পাকিস্তানের

    তালিবানদের ঘাঁটি লক্ষ্য করে ফের আফগানিস্তানে এয়ারস্ট্রাইক পাকিস্তানের

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: একদিকে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত, আরেক দিকে দক্ষিণ এশিয়ার (Pakistan-Afghanistan War)। হ্যাঁ, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা আবারও চরমে পৌঁছেছে। সীমান্ত পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার তো কোনও লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না। আর তারই মধ্যে আফগানিস্তানের কান্দাহার অঞ্চলের তালিবান ঘাঁটি লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান (Pakistan Airstrike on Afghanistan)। এমনটাই দাবি আফগান প্রশাসনের। আর এই ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে আবারও নতুন করে সংঘর্ষ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। পাকিস্তানের দাবি, সাম্প্রতিক ড্রোন হামলার জবাবে হিসাবেই তাদের এই আক্রমণ।

    কান্দাহারে ফের বিমান হামলা

    পাকিস্তানের সূত্র মারফৎ খবর, আফগানিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর কান্দাহারের কাছে তালিবানদের একটি ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। আর পাকিস্তানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তের কাছে পাকিস্তানের এলাকায় একাধিক ড্রোন দেখা গিয়েছিল। নিরাপত্তা বাহিনী ড্রোনগুলিকে প্রতিহত করতে সক্ষম হলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে ধ্বংসাবশেষ পড়ে ক্ষয়ক্ষতির খবর মিলেছে।

    এদিকে পাক সেনা কর্মকর্তাদের মতে, এই ড্রোনগুলোর লক্ষ্য ছিল গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাগুলিকে গুঁড়িয়ে দেওয়া। কিন্তু অধিকাংশ ড্রোনই লক্ষ্যভেদ করতে পারেনি। আর কিছু জায়গায় ধ্বংসাবশেষ পড়ে সাধারণ মানুষের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও তারা দাবি করেছে। পাকিস্তানের কোয়েটাতে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে দুই শিশু আহত হয়েছে বলেও খবর মিলেছে। এছাড়াও কোহাট এবং রাওয়ালপিন্ডি এলাকাতেও কয়েকজন আহত হওয়ার খবর সামনে আসে।

    আরও পড়ুন: মেসেজ পেলেও ঢোকেনি যুবসাথীর টাকা? জানুন কী হবে এবার

    আফগানিস্তানকে দায়ী ইসলামাবাদের

    এদিকে এই ঘটনার জন্য সরাসরি আফগানিস্তানকে দায়ী করেছে পাকিস্তান। তাদের দাবি, এই ড্রোন হামলাগুলি আফগানিস্তানের কান্দাহার অঞ্চলের একটি সামরিক ঘাঁটি থেকেই করা হয়েছে। সেনা ঘাঁটি আর সাধারণ মানুষের উপর হামলা চালিয়ে তালিবানরা রেড লাইন অতিক্রম করতে চাইছে। তারই জবাবে পাকিস্তান বিমান হামলা চালিয়েছে। এমনকি সংঘাত আরও বাড়তে পারে এরকম আশঙ্কায় পাকিস্তান সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ইসলামাবাদের আকাশ পথ সাময়িক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর দাবি, নিরাপত্তার স্বার্থেই তাদের এই পদক্ষেপ।

  • গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে করাচি, কোয়েটা, ইসলামাবাদ! পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি তালিবানের

    গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে করাচি, কোয়েটা, ইসলামাবাদ! পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি তালিবানের

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: একদিকে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইজরায়েল আর আমেরিকার সংঘাত, অন্যদিকে দক্ষিণ এশিয়ায় আফগানিস্তান-পাকিস্তানের সংঘাত (2026 Afghanistan–Pakistan War)। এবার বিমান হামলার অভিযোগে নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল। সেই প্রেক্ষাপটে আফগান শাসকগোষ্ঠী তালিবান (Taliban) পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কড়া সতর্কবার্তা জানিয়েছে। তালিবানের এক শীর্ষ কর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, পাকিস্তান যদি এই ধরনের হামলা চালাতে থাকে, তাহলে তাদের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোকেই এবার লক্ষ্যবস্তু করে হামলা করা হবে। ফলে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক যে আরও তিক্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

    কোন শহরগুলিকে নিশানা করার হুমকি?

    এদিন তালিবানের মুখপাত্র স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আফগানিস্তানে হামলা যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে দেশের বড় বড় শহরগুলিকে এবার গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। বিশেষ করে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শহরের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তালিকায় রয়েছে ইসলামাবাদ, করাচি এবং কোয়েটা। এই শহরগুলিকে লক্ষ্য করেই হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছে। আর এতে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও উত্তপ্ত হয়েছে।

    তালিবানদের দাবি, পাকিস্তানের সেনাবাহিনী সম্প্রতি আফগানিস্তানে বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছে। সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, কাবুল এবং কান্দাহার প্রদেশকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়। এমনকি আফগানিস্তানের আরও বেশ কিছু এলাকাতে হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। সেই সূত্রেই এবার হুঁশিয়ারি দিলেন তালিবান কর্মকর্তার মুখপাত্র হাজী জাহিদ। তিনি তালিবান নেতা হাজী ইউসুফের প্রতিনিধিত্ব করেন বলেই খবর। বিশেষজ্ঞদের মতে, তালিবানা শীর্ষ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদার ঘনিষ্ঠ বলেই আফগানিস্তানের উত্তর অঞ্চলে এই গোষ্ঠীর প্রভাব যথেষ্ট শক্তিশালী।

    আরও পড়ুন: দেশে আকাল, বিদেশে রপ্তানি! এলপিজি সংকট নিয়ে কেন্দ্রের থেকে জবাব চাইল হাইকোর্ট

    এদিকে বলে রাখি, আফগানিস্তান আর পাকিস্তানের সীমান্তে দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনা তুঙ্গে। দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত বিরোধ, জঙ্গি কার্যকলাপ আর পাল্টা অভিযানের অভিযোগ প্রায়শই সামনে আসে। বিশেষ করে ডুরান্ড লাইন ঘিরে দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক আর সামরিক বিরোধ দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক এই হুঁশিয়ারি দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে আরও ফাটল সৃষ্টি করছে। আর যদি এরকম ভাবে হামলা চলতে থাকে, তাহলে গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।