Tag: Suvendu Adhikari

  • নন্দীগ্রাম নাকি ভবানীপুর, কোথা থেকে প্রার্থী হবেন শুভেন্দু? যা জানালেন বিরোধী দলনেতা

    নন্দীগ্রাম নাকি ভবানীপুর, কোথা থেকে প্রার্থী হবেন শুভেন্দু? যা জানালেন বিরোধী দলনেতা

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election)। তবে তার আগে নন্দীগ্রাম নাকি ভবানীপুর কোথা থেকে ভোটে লড়তে চান শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari), তা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কে কোথায় প্রার্থী হবেন তা বিজেপি নেতৃত্বও ঠিক করবে। কিন্তু তাঁকে যদি বেছে নিতে বলা হয়, তাহলে তিনি কোন আসনকে বেছে নেবেন? নিজেই জানালেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা।

    নন্দীগ্রাম আর ভবানীপুর নিয়ে বড় মন্তব্য শুভেন্দু অধিকারীর

    সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, যদি তাঁকে নন্দীগ্রাম আর ভবানীপুরের মধ্যে বিধানসভা বেছে নিতে হয়, তাহলে নন্দীগ্রামকে বেছে নেবেন। কারণ, তিনি সেখান থেকে লড়াই করতে ইচ্ছুক। কিন্তু ভবানীপুর নিয়েও বেশ কিছুদিন ধরে মন্তব্য করে আসছিলেন বিরোধী দলনেতা। তাহলে এবার কী হল তাঁর? নন্দীগ্রামকে নিয়ে তিনি কি আলাদা কিছু ভাবছেন? নাকি দুই কেন্দ্র থেকেই এবার ভোটে দাঁড়াবেন শুভেন্দু অধিকারী? সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি স্পষ্ট বলেন, “আমার ভাবার কিছুই নেই। বিজেপি ব্যক্তিগত দল না। এটা পিসি -ভাইপোর পার্টি নয়। আর এখানে কোনও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হয় না। বিজেপি আমাকে যেখানে লড়াই করতে দেবে আমি সেখানে লড়াই করব। আমাকে লড়াই করতে দিলেও ঠিক আছে, লড়ালেও ঠিক আছে।”

    এদিন তিনি স্পষ্ট বলেন, “আমাকে যদি জিজ্ঞাসা করা হয়, তাহলে আমি নন্দীগ্রাম থেকেই লড়ব। কিন্তু বিজেপি যদি বলে যে এটা করতে হবে, ওটা করতে হবে, তবে তাই হবে। কিন্তু হ্যাঁ, নন্দীগ্রাম নিয়ে আমার কোনও দ্বিমত নেই। দল আমাকে যেটা করতে বলবে আমি সেটাই করব।” এদিকে ভবানীপুর নিয়ে সম্প্রতি উস্কানিমূলক মন্তব্য করেছিলেন শুভেন্দু। ভবানীপুরে নিজের সভা করেছেন তিনি। আর সেখানকার দোলেও অংশ নেন। এমনকি এসআইআর-এ ভবানীপুর থেকে ৪৭ হাজারের বেশি নাম পড়ার কারণে সেখানে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন শুভেন্দু, এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তুলোধোনাও করেন।

    শুভেন্দু এও বলেন যে, ২০২১ সালে তাঁর কাছে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে যেভাবে হারতে হয়েছিল, এবার ভবানীপুরেও তাঁর পুনরাবৃত্তি হবে। দল চাইলে ভবানীপুরে তিনি প্রার্থী হতে পারেন। কিন্তু তাঁকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি মুখ্যমন্ত্রী মমতা। তিনি স্পষ্ট জবাব দেন যে, “ভবানীপুর থেকে যদি আমি এক ভোটেও জিতি, তাহলেও জিতবো। এখানে আমাকে হারানোর কোনও ক্ষমতা নেই।”

    আরও পড়ুন: বাংলায় কবে ভোটগ্রহণ, গণনা এবং কত দফায় ভোট? জানাল নির্বাচন কমিশন

    এদিকে শুভেন্দুর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে শাসকদোলের বিধায়ক অরূপ চক্রবর্তী কটাক্ষ করেন। তিনি বলেছেন, “শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি দুবারই ধরাশায়ী হয়েছে। ভবানীপুরে কোনও পাত্তা পাবে না শুভেন্দু। যা পারফরমেন্স তাতে ধোপে টিকবে না। বাংলার মানুষ মমতাকেই ৩৯টি আসনে জয়ী করেছিল। আর বিজেপি শমিক ভট্টাচার্যকে রাজ্য সভাপতি করে ওঁর ডানা ইতিমধ্যেই ছেঁটে দিয়েছে। শুভেন্দু এবার টিকিট পাবে কিনা তা নিয়েই সংশয় থেকে যাচ্ছে। নিজের মুখে যখন এরকম কথা বলছে, তাহলে বোঝা যাচ্ছে, বিজেপিতে ঠিক শুভেন্দু কতটা কোণঠাসা।” এমনকি অরূপ এও জানান যে, “লোডশেডিং না করলে ২০২১ সালে বিধায়ক হওয়া হতো না। কিন্তু নন্দীগ্রামে তো এবার লোডশেডিং হবে না। পশ্চিমবঙ্গের বিদ্যুৎ বিভাগ এবার সব ঠিক করে রেখেছে। সবটা সময়েই দেখা যাবে।”

  • “১ ভোট হলেও ভবানীপুর থেকে আমিই জিতব!” হুঙ্কার মমতার

    “১ ভোট হলেও ভবানীপুর থেকে আমিই জিতব!” হুঙ্কার মমতার

    সৌভিক মুখার্জী, ভবানীপুর: সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। তবে তার আগেই উত্তপ্ত রাজ্যের রাজনীতি। সেই আবহে আজ বড়সড় বক্তব্য রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সম্প্রতি এসআইআর তালিকা প্রকাশের পর ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে প্রায় ৪৭ হাজারের নাম বাদ পড়েছে। এমনকি আরও ১৪ হাজারের বেশি নাম অমীমাংসিত তালিকায় রয়েছে। আর তা নিয়েই এবার বিজেপি হংকার ছেড়েছে যে, এই কেন্দ্রে তারা জিতবে। তবে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, “বারবার আমি লড়াই করেছি এবং আমিই এখানে জিতব।”

    এসআইআর-এ বাদ ৪৭ হাজারে বেশি নাম

    জানিয়ে রাখি, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই ভবানীপুরের বিধায়ক। তবে এতদিন পর্যন্ত এই কেন্দ্রে কতজনের নাম বাদ পড়বে তা নিয়ে চলছিল জল্পনা। তবে তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায় যে, সেখানে ৪৭ হাজারের বেশি নাম বাদ পড়েছে। এমনকি আরও ১৪ হাজারের বেশি নাম অমীমাংসিত তালিকায় পড়ে রয়েছে। ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে মোট ভোটারের সংখ্যা ২ লক্ষ ৬ হাজার ২৯৫। তাছাড়াও ১৬ ডিসেম্বর খসড়া তালিকা প্রকাশের পর দেখা গিয়েছিল ৪৪ হাজার ৭৮৬ জনের নাম সেখান থেকে বাদ পড়েছে। আর এবার আরও ৩২৪ জনের নাম যুক্ত হল। অনুমান করা হচ্ছে, নথি যাচাইয়ের আরও নাম বাদ পড়বে। সেই কারণেই সুর চড়িয়েছিল রাজ্যের বিরোধী দল।

    নির্বাচনের আগেই শুভেন্দু অধিকারী থেকে শুরু করে সুকান্ত মজুমদাররা ভবানীপুরে এসে একাধিকবার দাবি করেছেন যে, এবার বিজেপিই এই আসনে জিতবে। আর শুভেন্দু অধিকারী নিজেই বলেছেন যে, “উনি জানেন কাদের ভোট জিতেছিলেন। ওটা বিজেপির জায়গা। আর আমি চ্যালেঞ্জ করছি, আপনি দাঁড়ান। বাকিটা নিজেই বুঝে নেবেন।” কিন্তু এই বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়া নিয়ে ভোটের উপর কী প্রভাব পড়বে তা নিয়ে উঠছে বড়সড় প্রশ্ন।

    আরও পড়ুন: ‘ভাইপো শাসন চলবে না’— মথুরাপুরে বিজেপির পরিবর্তন যাত্রায় তৃণমূলকে নিশানা অমিতের

    “আমিই জিতব ভবানীপুরে”—মমতা

    এদিকে আজ সভা করতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই বলেছেন যে, “এক ভোট হলেও ভবানীপুর থেকে আমি জিতব। বারবার আমি নিজে এখান থেকে লড়াই করেছি। আর আমাকে নৈতিকভাবেই সবাইকে সমর্থন করুন। এখানে কোনও ভাবেই বিজেপিকে আসতে দেবো না।” এমনকি তিনি এদিন আরও জানিয়েছেন, “বাংলার ১ কোটির ২০ লক্ষ মানুষকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করতে চলেছে কমিশন। বৈধ ভোটারদের নাম বাদ পড়েছে। সমস্ত তথ্য দেওয়ার পরেও নাম কেটেছে নির্বাচন কমিশন। ভেরিফিকেশন ছাড়াই বাদ গেছে ৫৮ লক্ষের নাম। সব দোষই বিজেপির।”

  • মমতার বিরুদ্ধে হবে ভোটে লড়াই, ভবানীপুরে বিরাট কাজ করলেন শুভেন্দু

    মমতার বিরুদ্ধে হবে ভোটে লড়াই, ভবানীপুরে বিরাট কাজ করলেন শুভেন্দু

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। তবে তার আগে রাজনৈতিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে জোড়কদমে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুরে তাঁকেই এবার কড়া চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিল বিজেপি। হ্যাঁ, সেই লক্ষ্যেই ভবানীপুরে বিশেষ ওয়ার রুম তৈরি করে ফেলেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।

    কোথায় তৈরি হচ্ছে এই ওয়ার রুম?

    দক্ষিণ কলকাতার ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের ৮/১ বি চক্রবেড়িয়া রোডের একটি বাড়ির নিচতলায় এই নির্বাচনী কার্যালয় গড়ে তোলা হচ্ছে বলে বেশ কয়েকটি সুত্রের খবর। এমনকি বিজেপির তরফ থেকে দাবী করা হচ্ছে, এই অফিস থেকেই ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের সার্বিক ভোট পরিচালনা করা হবে। আর ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রটি গঠিত হয়েছে কলকাতা পৌরসভার মোট আটটি ওয়ার্ড নিয়ে। সেই ওয়ার্ডগুলি হলে যথাক্রমে ৬৩, ৭০, ৭১, ৭২, ৭৩, ৭৪, ৭৭ এবং ৮২।

    এদিকে বিজেপি নেতৃত্বদের মতে, ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর থেকে ভবানীপুরের একাধিক পদ্ম শিবির ভালো ফলাফল করেছে। বিশেষ করে ৬৩, ৭০, ৭১, ৭২ এবং ৭৪ নম্বর ওয়ার্ডে বিজেপি ভালো ভোট পেয়েছে। তবে ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ভবানীপুর বিধানসভা অংশে বিজেপি প্রার্থী তথাগত রায় তৃণমূল প্রার্থী সুব্রত বক্সীর থেকে মোট ১৭৬টি ভোটে এগিয়ে ছিলেন। আর সেই পরিসংখ্যানকেই বিজেপি নেতা নেতৃত্বরা রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে। এদিকে দলের এক স্থানীয় নেতার দাবি, ৭৭ নম্বর ওয়ার্ডে সংখ্যালঘু ভোটের ব্যবধানেই তৃণমূল অতীতে জয়ী হয়েছে। কিন্তু এসআইআর এর তালিকা পরিস্থিতি বদলাতে পারে।

    আরও পড়ুন: হোলির ৪ দিন বন্ধ থাকবে হাওড়ার পুরনো ক্যাব রোড! বিকল্প উপায় কী?

    পাশাপাশি ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মুখ্যমন্ত্রী ভবানীপুর ছেড়ে নন্দীগ্রামে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। আর সেখানে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হন। পরে ভবানীপুর উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সাংবাদিক শর্ত পূরণ করেছিলেন তিনি। বিজেপি নেতাদের অনুমান, ২০২৬ সালে মুখ্যমন্ত্রী নিজেই লড়াই করবেন। আর সেই সম্ভাবনাকে মাথায় রেখে শুভেন্দু অধিকারী প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার ভবানীপুরের দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন বলে খবর। দক্ষিণ কলকাতা বিজেপির এক সূত্রের দাবি, ৭০ নম্বর ওয়ার্ডে দলের শক্ত ভিত রয়েছে বলেই সেখানে এই ওয়ার রুম তৈরি করা হয়েছে। আর ঘটনাচক্রে সম্প্রতি ওই এলাকাতেই জনসংযোগ কর্মসূচি করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।