বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: চিংড়িঘাটা মেট্রো নিয়ে এবার রাজ্যকে ভৎসনা সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court On Chingrighata Metro)। সোমবার, মেট্রোর বকেয়া কাজ নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে হস্তক্ষেপ করেনি দেশের শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল মনুভাই পাঞ্চোলির বেঞ্চে ওঠে মামলা। আর তারপরেই রাজ্য সরকারকে মামলা তুলে নিতে বলে আদালত। অন্যথায় গোটা মামলাটি খারিজ করে দেওয়ার কথাও জানান বিচারপতিরা।
চিংড়িঘাটা মেট্রোর বকেয়া কাজ নিয়ে রাজ্যকে কড়া নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের
এর আগে চিংড়িঘাটা মেট্রোর অবশিষ্ট অংশের কাজ নিয়ে রাজ্যের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছিল মেট্রো কর্তৃপক্ষ। সেই অভিযোগের পরপরই কলকাতা হাইকোর্ট বকেয়া কাজ শেষ করার জন্য রাজ্য সরকারকে সময় বেঁধে দিয়েছিল। এদিকে রাজ্যের তরফে উচ্চ আদালতের সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোটে মামলা হয়। সোমবার সেই মামলা নিয়েই সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি একেবারে খোলাখুলি জানিয়ে দিলেন, “সাধারণ মানুষের প্রকল্প নিয়ে রাজনীতি করবেন না। হাইকোর্ট যা নির্দেশ দিয়েছে, যেভাবে সময় বেঁধে দিয়েছে সেভাবেই কাজ করতে হবে।”
কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশকে বহাল রেখেই সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ সরকার যে অবস্থানে রয়েছে তা সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে গাফিলতিকে ইঙ্গিত করে। এটা একপ্রকার উন্নয়ন আটকানোর জেদ। এদিন চিংড়িঘাটার বকেয়া কাজ নিয়ে রাজ্যের তরফে করা মামলা তুলে নেওয়ার নির্দেশ দেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত। রাজ্য পক্ষের আইনজীবীকে সরাসরি উচ্চ আদালতের বিচারপতি জানান, “কখনও উৎসব চলছে, কখনও পরীক্ষা, কখনও আবার নির্বাচন দেখানো হচ্ছে। সুযোগ দিচ্ছি মামলা এখনই তুলে নিন। না হলে খারিজ করে দেব।”
অবশ্যই পড়ুন: আবারও IPL দেখবে ওপার বাংলা, নিষেধাজ্ঞা তুলে নিচ্ছে বাংলাদেশ!
উল্লেখ্য, মাত্র 316 বর্গমিটার অংশের জন্য আটকে রয়েছে চিংড়িঘাটা মেট্রোর কাজ। এই অংশের জন্যই নিউ গড়িয়া থেকে কলকাতা বিমানবন্দর পর্যন্ত মেট্রোর অরেঞ্জ লাইনের সম্প্রসারণ করা যাচ্ছে না। চিংড়িঘাটা মোড়ের এই অংশের কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে হলে সাময়িকভাবে বাইপাসে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন। তবে অভিযোগ, রাজ্যের কাছে অনুরোধ জানানো সত্বেও অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। ফলে একই জায়গায় আটকে রয়েছে মেট্রো প্রকল্পের কাজ।









