Tag: Success Story

  • ভাঙা চাল দিয়ে পড়ত বৃষ্টির জল! ঋণ নিয়ে পড়াশোনা করে UPSC ক্র্যাক পবনের

    ভাঙা চাল দিয়ে পড়ত বৃষ্টির জল! ঋণ নিয়ে পড়াশোনা করে UPSC ক্র্যাক পবনের

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: দারিদ্রতা, অভাব আর সীমাহীন সংগ্রামের মাঝেও যদি লক্ষ্য ঠিক থাকে, তাহলে সাফল্য যে একদিন ধরা দেয় তার বাস্তব উদাহরণ পবন কুমার (Pawan Kumar)। ছাউনি দেওয়া ঘর, বৃষ্টির দিনে ছাদ ফুড়ে জল পড়া, আর অর্থের সংকট এই সব কিছুর মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। আর শেষ পর্যন্ত দেশের সবথেকে কঠিন পরীক্ষায় সাফল্য অর্জন করলেন (IAS Success Story)। হ্যাঁ, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় তিনি ২৩৯ র‍্যাঙ্ক অর্জন করে প্রশাসনিক পরিষেবায় জায়গা করে নিয়েছেন।

    অভাবের মধ্যেই বেড়ে ওঠা

    আমার উজালার একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, উত্তরপ্রদেশের ছোট্ট গ্রামে জন্ম পবনের। পরিবারের আর্থিক অবস্থা খুব একটা ভালো ছিল না। এমনকি খুবই দরিদ্র পরিবারের সন্তান ছিলেন তিনি। তাঁদের কাছে মাত্র চার বিঘা জমি আর একটি ছোট্ট ঘর ছিল থাকার জন্য। অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে বৃষ্টির সময় ঘরের ছাদ দিয়ে জল পড়ত, এমনকি দেওয়াল ভিজে যেত। কিন্তু তাতেও পড়াশোনা থামায়নি পবন। বই নিয়ে বসে থাকতেন ঘরের এক কোণে আর নিজের মনেই পড়াশোনা করতেন। তাঁর বাবা মুকেশ কুমার বলেন, ছোটবেলা থেকেই পবন বলত, আর একটু সময় দিন সবই বদলে যাবে।

    এমনকি পবনের স্বপ্ন পূরণ করতে গোটা পরিবার একসঙ্গে লড়াই করেছে। হ্যাঁ, বাবা এবং তিন বোন অন্যের জমিতে কাজ করতেন আর মা নিজের গয়না বিক্রি করে পড়াশোনার খরচ চালাতেন পবনের। পাশাপাশি পরিবারকে ঋণও নিতে হয়েছে। আর সেই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও পড়াশোনা কখনো বন্ধ হয়নি। অবশেষে তিনি তাঁর পরিবারের সদস্যদের পরিশ্রমের দাম দিলেন।

    উল্লেখ করার বিষয়, ২০১৭ সালে ইন্টারমিডিয়েট পাস করার পর পবনের বাবা চেয়েছিলেন যে, ছেলে সেনাবাহিনীতে যোগ দিক বা দ্রুত কোনও চাকরি পাক। কিন্তু পবনের লক্ষ্য ছিল সিভিল সার্ভিস। শেষ পর্যন্ত বাবা ছেলের স্বপ্নকে সম্মান জানিয়েই পাশে দাঁড়ান, এবং বলেন যে “তুমি যা চাও সেটাই কর, আমরা সবাই তোমার সঙ্গে আছি।” জানা যায়, পরিবার প্রায় ৪ শতাংশ সুদে ঋণ নিয়ে পবনের পড়াশোনার খরচ জোগাড় করেছিল। আর সেই টাকায় একটি পুরনো মোবাইল ফোনও কেনা হয়েছিল যা দিয়ে তিনি পড়াশোনা করতেন। আর সবথেকে বড় ব্যাপার, সিভিল সার্ভিসের ফল প্রকাশের দিনও তাঁর পরিবার মাঠে কাজ করতে গিয়েছিল। কারণ, তাঁদের মাথার উপর ছিল বড় ঋণের বোঝা।

    আরও পড়ুন: বসতে পারে ট্যাক্স, দামি হওয়ার পথে Jio থেকে Airtel-র রিচার্জ! এবার কতটা?

    এদিকে একসময় তাঁদের বাড়িতে গ্যাস সিলেন্ডার ভরানোর টাকা পর্যন্ত ছিল না। হ্যাঁ, পবনের মা সুমনা দেবী তখন কাঠের উনুনেই রান্না করতেন। সবথেকে বড় ব্যাপার, বাড়ির হ্যান্ডপাম্প নষ্ট থাকার কারণে পরিবারের সদস্যদের কাছের এক সরকারি স্কুল থেকেই জল এনে ব্যবহার করতে হতো। জানা যায়, কলেজে স্নাতক শেষ করার পর পবন সম্পূর্ণ মনোযোগ দিয়েই ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেন। প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পড়াশোনা করতেন তিনি। যার সাফল্য তিনি নিজেই পেলেন। এক কথায়, তাঁর এই জীবন সংগ্রাম আজকালকার দিনে বহু বেকার যুবক-যুবতীদের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠতে পারে।

  • রোজ ৯ ঘণ্টার চাকরি, টিউশন ছাড়াই UPSC ক্র্যাক! IAS শ্বেতার কাহিনী যেন রূপকথা

    রোজ ৯ ঘণ্টার চাকরি, টিউশন ছাড়াই UPSC ক্র্যাক! IAS শ্বেতার কাহিনী যেন রূপকথা

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: কঠোর পরিশ্রম আর অদম্য ইচ্ছাশক্তি (Success Story) থাকলে সবকিছুই যে সম্ভব তা আরও একবার প্রমাণ করলেন শ্বেতা ভারতী (Shweta Bharti)। প্রতিদিন ৯ ঘণ্টা চাকরির পরেও নিজের স্বপ্নকে কখনও অধরা হতে দেননি তিনি। অফিসের কাজ শেষ করে রাত জেগে পড়াশোনা করেই তিনি কঠিন ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। হ্যাঁ, ২০২১ সালের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় ৩৫৬ তম র‍্যাঙ্ক অর্জন করেন তিনি, যা তাঁর আইএএস হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করে। তাঁর এই যাত্রা আজকের দিনে বহু তরুণদের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।

    ছোট শহর থেকেই দেখেন স্বপ্ন

    এনডিটিভির একটি রিপোর্ট অনুযায়ী জানা যাচ্ছে, শ্বেতা বিহারের নালন্দা জেলার বাসিন্দা। স্কুলের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছিলেন পাটনাতে। তারপর ভাগলপুর থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন। আর পড়াশোনা শেষ করার পর তিনি ওই Wipro-তে চাকরি শুরু করেন। চাকরি করার সময়ই তিনি ভাবেন যে, যে করে হোক ইউপিএসসি পরীক্ষা উত্তীর্ণ হতে হবে। সেই সূত্রেই তাঁর প্রস্তুতি নেওয়া।

    এই ট্রিকেই সেলফ স্টাডি করে IAS

    কিন্তু অনেকেই ইউপিএসসি প্রস্তুতির জন্য চাকরি ছেড়ে দেন। তবে পারিবারিক দায়িত্বের কারণে শ্বেতা সেই সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি। বরং তিনি ঠিক করেন, চাকরির পাশাপাশি প্রস্তুতি নেবেন। প্রতিদিন দিনের বেলায় অফিসের কাজ শেষ করে সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত তিনি পড়াশোনা করতেন। আর কঠোর রুটিন মেনেই নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যেতেন তিনি। এমনকি মনোযোগ ধরে রাখার জন্য তিনি সোশ্যাল মিডিয়া থেকেও নিজেকে সম্পূর্ণ দূরে সরিয়ে রেখেছিলেন।

    আরও পড়ুন: ৪টি বন্দে ভারতের সময়সূচি বদল করল রেল, প্রভাবিত হবেন যাত্রীরা! দেখুন নতুন টাইম

    ইউপিএসসি-র আগে তিনি বিহার পাবলিক সার্ভিস কমিশন পরীক্ষাও চেষ্টা করেছিলেন। সেখানে তিনি ৬৫ র‍্যাঙ্ক অর্জন করেন। এমনকি তিনি ডিস্ট্রিক্ট প্রোগ্রাম অফিসের পদে নিযুক্ত হন। সেই চাকরি পাওয়ার পরও তিনি ইউপিএসসি প্রস্তুতি থামাননি। বরং, আরও মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যান। অবশেষে ২০২১ সালে ইউপিএসসি পরীক্ষায় সফল হয়েই তিনি আইএএস হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করেন। বর্তমানে তিনি ভাগলপুরে অ্যাসিস্ট্যান্ট কালেক্টর হিসেবে নিযুক্ত রয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। এক কথায়, তাঁর এই প্রচেষ্টা আর সাফল্য যে আজকের দিনে তরুণ-তরুণীদের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

  • ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে UPSC ক্র্যাক, ৪ বার সার্জারি হওয়া সঞ্জয়ের কাহিনী অনুপ্রেরণা দেবে

    ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে UPSC ক্র্যাক, ৪ বার সার্জারি হওয়া সঞ্জয়ের কাহিনী অনুপ্রেরণা দেবে

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: জীবনের বড় সাফল্য (Success Story) পাওয়ার জন্য সব সময় কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি থাকতে হয়, একথা আমরা সকলেই শুনি। তবে বাস্তবে তা করে দেখানো সত্যিই কঠিন। কিন্তু নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর লড়াই থাকলে সবকিছু যে সম্ভব তা আরও একবার প্রমাণ করলেন ছত্তিশগড়ের যুবক সঞ্জয় ধরিয়া। মারণরোগ ক্যান্সারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই চালিয়েও তিনি সফলভাবে ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় (UPSC Civil Service Examination) উত্তীর্ণ হলেন। ২০২৫ সালের এই পরীক্ষায় তিনি ৯৪৬ তম র‍্যাঙ্ক অর্জন করেছেন। তাঁর এই সাফল্য ঘিরে ধন্যিধন্যি পড়েছে গোটা ভারতবর্ষে।

    ক্যান্সার ধরা পড়ার পরেই শুরু লড়াই

    জানা যাচ্ছে, ছত্তিশগড়ের মহাসমুন্দ জেলার বাসিন্দা সঞ্জয় ধরিয়া। ২০১২ সালে হঠাৎ করেই তাঁর লালাগ্রন্থিতে ক্যান্সার ধরা পড়ে। এই খবর পাওয়ার পর তিনি এবং তাঁর পরিবার বিরাট ঝটকা খান। তারপর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা। ২০১২ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে রায়পুর, ভিলা এবং মুম্বাই সহ বেশ কিছু শহরে তাঁর চিকিৎসা চলে। আর এই সময় প্রায় চারবার অস্ত্রোপচার করতে হয় তাঁকে।

    তবে ক্যান্সারের মতো কঠিন রোগের সঙ্গে লড়াই করলেও সঞ্জয় কখনো নিজের স্বপ্ন দেখা ছাড়েননি। ছোটবেলা থেকেই তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল দেশের সবথেকে কঠিন পরীক্ষা ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিস পাস করা। তাই চিকিৎসার পাশাপাশি তিনি পড়াশোনা চালিয়ে গিয়েছিলেন এবং রায়পুর থেকেই ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করেন।

    চাকরি, চিকিৎসা, পড়াশোনা সবকিছুই একসঙ্গে

    সবথেকে অবাক করার বিষয় হল, সঞ্জয় শুধুমাত্র চিকিৎসা এবং পড়াশোনা করেননি, বরং সেই সময় নিজের চাকরিও করেছেন। ২০১৩ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত তিনি আইডিবিআই ব্যাঙ্কে কর্মরত ছিলেন। তারপর ২০১৭ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত মহাসমুন্দ পোস্ট অফিসেও তিনি চাকরি করেছেন। আর সবকিছুর পাশাপাশি তার ইউপিএসসি প্রস্তুতি চলেছে। অবশেষে ২০২২ সাল থেকেই তিনি পরীক্ষায় বসা শুরু করেন। আর তৃতীয়বারের প্রচেষ্টায় সাফল্য অর্জন করেন।

    আরও পড়ুন: সাধ্যের মধ্যেই হতে পারে ভারতের প্রথম বুলেট ট্রেনের ভাড়া, কত? দেখুন রিপোর্ট

    তবে সঞ্জয়ের র‍্যাঙ্ক অনুযায়ী, তিনি সম্ভবত ইন্ডিয়ান রেভিনিউ সার্ভিসে যোগদান করার সুযোগ পাবেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি নিজেই বলেছেন, আমি জানিনা আমি আইএএস হতে পারব কিনা। কিন্তু আইআরএস হওয়ার সম্ভাবনা হয়তো রয়েছে। ছোটবেলা থেকে যে পরীক্ষায় পাস করা স্বপ্ন দেখেছিলাম, আজ সেটাই আমার পূরণ হয়েছে।

  • দৃষ্টিশক্তি ছাড়াই UPSC-তে ২০ তম র‍্যাঙ্ক, খান স্যারের লেকচার শুনে IAS কৃষকের ছেলে

    দৃষ্টিশক্তি ছাড়াই UPSC-তে ২০ তম র‍্যাঙ্ক, খান স্যারের লেকচার শুনে IAS কৃষকের ছেলে

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: সাফল্য কখন যে কাকে কীভাবে ধরা দেয় তা কেউ বলতে পারে না। দৃষ্টিশক্তি ছাড়াই ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় বিরাট কৃতিত্ব (UPSC Success Story) অর্জন করলেন বিহারের বাসিন্দা রবি রাজ। হ্যাঁ, বিহারের যুবক রবি রাজ গোটা দেশের মধ্যে ২০ তম র‍্যাঙ্ক অর্জন করেছেন কোনও রকম দৃষ্টিশক্তি ছাড়াই। আর তাঁর পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করেছেন নিজের মা এবং খান স্যার। এখন নিশ্চয়ই ভাবছেন কীভাবে? বুঝিয়ে বলছি সবটা।

    দৃষ্টিশক্তি ছাড়াই কৃতিত্ব যুবকের

    নিউজ ১৮-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী জানা যাচ্ছে, বিহারের নওয়াদা জেলায় আকবরপুর ব্লকের মাহুলি গ্রামের বাসিন্দা রবি রাজ শৈশবে এক অসুস্থতার কারণে তাঁর দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেন। গ্রামের ছোট্ট একটি কৃষক পরিবারের সদস্য তিনি। আর তাঁর বাবা কৃষিকাজ করেই সীমিত উপার্জন করতেন। কিন্তু ছেলের পড়াশোনা এবং অন্যান্য চাহিদাকে কখনো অবহেলা করেননি। তবে দৃষ্টিশক্তি হারানোর পর যখন তিনি ভেবেছিলেন যে তাঁর জীবন অন্ধকারে ডুবে গিয়েছে, তখন সেই ভুল প্রমাণ করেন তাঁর নিজের মা। হ্যাঁ, রবির কাছে সাফল্যের সবথেকে বড় নায়ক ছিলেন তাঁর মা বিভা সিনহা।

    জানা যাচ্ছে, একজন গৃহিণী হিসেবেই বিভা সিনহা নিজের ছেলের আইপিএস অফিসার গড়ে তোলার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেন। তিনি রবিকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে বই পড়ে শোনাতেন। আর রবি সেগুলি মুখস্থ করে পড়তেন। একসাথে মা-ছেলের জুটি তাঁকে এই বিরাট কৃতিত্ব অর্জন করিয়েছে। রবি নিজেই বলেছেন যে, তাঁর সাফল্যের ৯০ শতাংশ কৃতিত্ব তাঁর মায়ের, যিনি তাঁকে কখনো অন্যদের থেকে আলাদাভাবে দেখেননি। বরং, সবসময় নিজের সর্বত্র চেষ্টা দিয়ে ছেলেকে সাফল্যের পথে এগিয়ে দিয়েছেন।

    খান স্যারের বক্তৃতা শুনেই সাফল্য

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, রবি প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা বাড়িতে পড়াশোনা করতেন। আর দৃষ্টিশক্তি কম থাকা সত্ত্বেও তিনি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে পড়তেন। হ্যাঁ, তিনি নিয়মিত ইউটিউবে খান স্যারের বক্তৃতা শুনতেন। আর খান স্যারের ক্লাসগুলোর মাধ্যমেই তাঁর জীবন বদলে যায়। রবি নিজেই জানিয়েছেন যে, পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পেছনে মায়ের পাশাপাশি খান স্যারের অবদানও অনস্বীকার্য। শেখার আগ্রহ থাকলে অর্থাভাব বা শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কখনোই বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না।

    আরও পড়ুন: ‘আমার অনুমতি ছাড়া টিকতে পারবে না!’ মোজতবা খামেনি নির্বাচিত হওয়াতে হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

    জানা যাচ্ছে, ২০২৪ সালে বিহার পাবলিক সার্ভিস কমিশনের ৫৯ তম সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় রবি রাজ উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। তারপর তিনি রাজস্ব কর্মকর্তা পদে নির্বাচিত হন। তবে তাঁর স্বপ্ন ছিল আইএস অফিসার হওয়ার। ২০২৪ সালে ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা দিয়েছিলেন তিনি। সেখান তিনি ১৮২ তম র‍্যাঙ্ক অর্জন করেন। পরপর তিনবার ব্যর্থ হওয়া সত্বেও চতুর্থ প্রচেষ্টায় তিনি ইউপিএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। আর পঞ্চমবার প্রচেষ্টার মাধ্যমে তিনি শীর্ষ ২০ র‍্যাঙ্ক অর্জন করেন। আর এবার তিনি ভারতীয় প্রশাসনিক পরিষেবাতে যোগ দেবেন। এক কথায়, তাঁর এই সাফল্য লক্ষ লক্ষ প্রার্থীদের জন্য যে অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

  • ৮ বছরের তপস্যার ফল, UPSC পরীক্ষায় বিরাট কৃতিত্ব সাধারণ ট্রাক চালকের মেয়ের

    ৮ বছরের তপস্যার ফল, UPSC পরীক্ষায় বিরাট কৃতিত্ব সাধারণ ট্রাক চালকের মেয়ের

    সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ ইচ্ছা থাকলেই উপায় হয়, এই কথাটা আবারও যেন প্রমাণিত হল। আর এই কথাটা প্রমাণিত করেছেন ফাইরুজ ফাতিমা। নিশ্চয়ই ভাবছেন সে কী করেছেন? তাহলে জানিয়ে রাখি, উত্তরাখণ্ডের হরিদ্বার জেলার ফাইরুজ ফাতিমাও ২০২৫ সালের ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় নতুন কৃতিত্ব (UPSC Success Story) অর্জন করেছেন। সবথেকে বড় কথা, তাঁর বাবা একজন ট্রাক চালক। পারিবারিক স্বচ্ছলতা না থাকা সত্ত্বেও আজ নিজের স্বপ্ন পূরণ করেছেন ফাতিমা। চলুন আরও বিশদে জেনে নেওয়া যাক।

    UPSC পরীক্ষায় বিরাট নজির ট্রাক চালকের মেয়েরে

    জানা গিয়েছে, ফাতিমা এই পরীক্ষায় সারা ভারতে ৭০৮ তম স্থান অর্জন করেছেন। ২৭ বছর বয়সী এই তরুণী তার তৃতীয় প্রচেষ্টায় এই কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। স্বাভাবিকভাবেই মেয়ে ফাতিমার কৃতিত্বে পরিবার আনন্দিত এবং অভিনন্দনের ঝড় বইছে। তার এই সাফল্য সমগ্র এলাকায় গর্ব এবং আনন্দের সৃষ্টি করেছে।

    রুরকির পিরান কালিয়ারের বাসিন্দা ফাতিমা, একজন ট্রাক ড্রাইভার ইকবাল আহমেদ (৫২) এর মেয়ে। ফাতিমার মা একজন সাধারণ গৃহিণী। তাঁরা হয়তো কেউ স্বপ্নেও ভাবতে পারেননি ফাতিমা এমন কৃতিত্ব অর্জন করবে। ফাতিমা একমাত্র সন্তান এবং বর্তমানে দিল্লিতে রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার ডেপুটি ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত। ফাতিমা রাগবি খেলতে এবং দেখতে খুব ভালোবাসেন। ফাতিমা প্রমাণ করেছেন যে পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, কঠোর পরিশ্রমকারীদের কাছ থেকে সাফল্য কেড়ে নেওয়া অতটা সহজ নয়।

    দীর্ঘ ৮ বছরের তপস্যার ফল পেলেন ফাতিমা

    ফাতিমা তিনি তার সাফল্যের জন্য তার বাবা-মাকে কৃতিত্ব দেন। তাদের বাবা-মায়ের কঠোর পরিশ্রমই ফাতিমাকে অনুপ্রাণিত করেছিল বলে জানান। সীমিত সম্পদ থাকা সত্ত্বেও, ফাতিমার পরিবার তাকে সর্বদা পড়াশোনা চালিয়ে যেতে উৎসাহিত করেছে। সে তার বাবা-মায়ের ইচ্ছা অনুসরণ করে এবং সাফল্যের সিঁড়ি বেয়ে উঠতে থাকে। সে প্রায় ৮ বছর ধরে পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল এবং শেষ দুটি পরীক্ষায় ফেল করলেও, কখনও হাল ছাড়েনি। এরপর তৃতীয় বারের চেষ্টায় সে সাফল্য লাভ করেছে।

    আরও পড়ুনঃ শ্রীরামপুর স্টেশন নিয়ে বড় ঘোষণা রেলমন্ত্রীর, হাওড়া লাইনে হতে পারে আরেকটি হল্ট স্টেশনও

    ফাতিমার পাশাপাশি উত্তরাখণ্ডের তেহরির মীনাল নেগি ২০২৫ সালের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় ৬৬তম স্থান অর্জন করেছেন। মীনালের বাবা একজন স্কুল শিক্ষিকা এবং তিনি দ্বিতীয়বারের মতো পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। চম্পাওয়াতের বারাকোট ব্লকের ছুলাপে গ্রামের অনুজ পান্ত ৬৯তম স্থান অর্জন করেছেন। পিথোরাগড়ের রাই অঞ্চলের আদিত্য পাঠক ১৮৯তম স্থান অর্জন করেছেন।