Tag: Strait of Hormuz

  • ভারতে তো ৯৩৯, পাকিস্তানে LPG-র দাম কত জানেন? শুনলে আঁতকে উঠবেন

    ভারতে তো ৯৩৯, পাকিস্তানে LPG-র দাম কত জানেন? শুনলে আঁতকে উঠবেন

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এমনিতেই দেশে জ্বালানি সংকট (LPG Crisis)। ভারতে ডোমেস্টিক গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ইতিমধ্যেই ৬০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। আর বাণিজ্যিক সিলিন্ডার তো পাওয়া যাচ্ছে না বললেই চলে। পাশাপাশি ডোমেস্টিক সিলিন্ডারেরও আকাল পড়েছে। সাধারণত ভারতের বেশিরভাগ শহরেই ৯১২ টাকা থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে মিলছে গৃহস্থলীর গ্যাস সিলিন্ডার। তবে এবার প্রশ্ন উঠছে, আর্থিক দুর্দশায় জড়িত সন্ত্রাসের দেশ পাকিস্তানে গ্যাস সিলিন্ডারের দাম কত (Pakistan LPG Price)? সেখানকার মানুষকে ঠিক কীরকম অসুবিধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে? জানুন।

    পাকিস্তানে গ্যাসের দাম কত?

    বেশ কয়েকটি রিপোর্ট অনুযায়ী জানা যাচ্ছে, পাকিস্তানে একটি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ভারতের থেকে অনেকটাই বেশি এবং তা প্রায়শই ওঠানামা করে। মার্চ মাসের রিপোর্ট অনুযায়ী, একটি ১১.৮ কেজি গার্হস্থ্য সিলিন্ডার পড়ছে প্রায় ২৬৬৪.৮৮ পাকিস্তানি রুপি যা ভারতীয় মুদ্রায় আনুমানিক ৮৮৮ টাকা। তবে ভারতের বাজারে গৃহস্থলীর গ্যাস সিলিন্ডারের ওজন ১৪.২ কেজি। যেটি পাওয়া যাচ্ছে ৯১২ টাকা থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে। সেক্ষেত্রে পাকিস্তানের গ্যাস সিলিন্ডার ভারতে আনুমানিক দাম ৮০০ টাকার মধ্যে। যদিও আগে সিলিন্ডারের দাম ছিল ২৬৬৭.৪০ পাকিস্তানি রুপি।

    কী কারণে পাকিস্তানে গ্যাসের দামের ঊর্ধ্বগতি?

    প্রসঙ্গত, সন্ত্রাসের দেশ পাকিস্তানে গ্যাসের দামের এই ঊর্ধ্বগতির পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ কাজ করছে। প্রথমত, পাকিস্তান তার এলপিজি সরবরাহের সিংহভাগই বিদেশ থেকে আমদানি করে থাকে। সেই কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধি পেলে দেশের বাজারেও দাম বাড়ে। আর যেহেতু এখন পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে গ্যাসবাহী জাহাজগুলি আসতে পারছে না, সেই কারণে সম্প্রতি আরও দাম বেড়েছে। দ্বিতীয়ত, গ্যাসের দামের সঙ্গে উৎপাদন খরচ, পরিবহন, বিপণন ব্যয় আর ১৮% জিএসটি যুক্ত হচ্ছে, যা দামকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।

    আরও পড়ুন: জাহান্নামে যাবে! রেড রোডে ঈদের মঞ্চে মোদিকে ‘অনুপ্রবেশকারী’ তকমা মমতার

    আর সবথেকে বড় ব্যাপার, পাকিস্তানি রুপি বর্তমানে মার্কিন ডলারের বিপরীতে অনেকটাই দুর্বল। আর ডলারের মূল্যবৃদ্ধি গ্যাসের দাম বাড়ায়। এক কথায়, আর্থিক দুর্দশায় জর্জরিত পাকিস্তানে প্রতিনিয়িত গ্যাসের দাম ব্যাপকভাবে ওঠানামা করে, যা সাধারণ মানুষের বাজেটের উপর প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে গ্যাসের ঊর্ধ্বগতি দরিদ্র এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষের উপর আরও চাপ সৃষ্টি করে। আর অনেকেই সেই কারণে কাঠ বা কয়লাতে রান্না করে থাকে। সবথেকে বড় ব্যাপার, পাকিস্তানে গ্যাসের জন্য কোনও রকম ভর্তুকিও মেলেনা সরকারের তরফ থেকে। সেই কারণেই আরও বাড়তি চাপ।

  • করা যাবে না ভিডিও কল, ফেসবুক! ইরান যুদ্ধে বন্ধ হতে পারে বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেট পরিষেবা

    করা যাবে না ভিডিও কল, ফেসবুক! ইরান যুদ্ধে বন্ধ হতে পারে বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেট পরিষেবা

    বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা গোটা বিশ্বজুড়ে তেল এবং গ্যাসের সংকটে পরিণত হয়েছে (Iran War)। দেশের প্রতিটি প্রান্তে রান্নার গ্যাস বা LPG র জন্য তৈরি হয়েছে হাহাকার! এদিকে আমেরিকা ও ইজরায়েল বনাম ইরানের যুদ্ধ তৃতীয় সপ্তাহে পা দিতেই তা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এমতাবস্থায়, জ্বালানির পাশাপাশি এবার চিন্তা বাড়ছে, গোটা বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেট পরিষেবা (Global Internet Crisis) নিয়েও। এর অন্যতম কারণ হরমুজ প্রণালী ও লোহিত সাগরের তলদেশ দিয়ে গোটা বিশ্বে ইন্টারনেট পরিষেবা চালানোর জন্য ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কেবল নেটওয়ার্ক। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে সেই কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ জেরে বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেট পরিষেবা ব্যাহত হতে পারে।

    বড়সড় ক্ষতির মুখে পড়বে গোটা বিশ্ব?

    কমবেশি সকলেই জানেন, হরমুজ প্রণালী এবং লোহিত সাগরের নিচ থেকে গিয়েছে গুরুত্বপূর্ণ একাধিক কেবল। এগুলির মাধ্যমেই গোটা বিশ্বে অর্থাৎ ইউরোপ, এশিয়া এবং আফ্রিকার মধ্যে ইন্টারনেট সংযোগ পরিচালনা করা হয়। এই কেবলগুলির দৌলতেই করা যায় ভিডিও কল, ফেসবুক, ইমেল এমনকি ব্যাঙ্কিং লেনদেনও। রিপোর্ট বলছে, এই মুহূর্তে লোহিত সাগরের নিচে কম করে 17 বা তারও বেশি সাবমেরিন কেবল আছে। অন্যদিকে হরমুজে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কেবল।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পারস্য উপসাগরে এই মুহূর্তে সমুদ্র গর্ভস্থ কেবল গুলির মধ্যে রয়েছে FALCON, Gulf Bridge International Cable System, AAE 1 এবং TATA TGN Gulf। এই লাইনগুলি ভারতের বৈদেশিক ডেটা সংযোগকে সাহায্য করে থাকে। সবচেয়ে বড় কথা, মাইক্রোসফট, অ্যামাজন এমনকি গুগলের মতো মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিগুলিও সংযুক্ত আরব আমিরশাহী থেকে শুরু করে সৌদি আরবের মতো উপসাগরীয় দেশগুলিতে AI ডেটা সেন্টার গড়ে তোলার জন্য প্রচুর পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করেছে।

     

     

    View this post on Instagram

     

    অবশ্যই পড়ুন: “২০০০-৩০০০ রান করব!” IPL শুরুর আগেই গর্জন বৈভব সূর্যবংশীর

    বিশেষজ্ঞদের একটাই বক্তব্য, কোনও কারণে যুদ্ধের মধ্যে যদি হরমুজ এবং লোহিত সাগরের নিচে থাকা কেবলগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয় তবে গ্লোবাল কমিউনিকেশন ক্রাইসিস দেখা দেবে। তাছাড়াও এই বিশেষ জলপথে জোরালো হামলা হলে কিংবা বিস্ফোরণের মতো ঘটনা ঘটলে একবার যদি এই গুরুত্বপূর্ণ কেবলগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয় সেক্ষেত্রে পরবর্তীতে তা মেরামত করা যথেষ্ট কষ্টসাধ্য হয়ে উঠবে। এর ফলে মাসের বড় মাস এইসব কেবল অচল হয়ে থাকতে পারে। তাতে বড়বড় বিপদের মুখে পড়বেন গোটা বিশ্ববাসী।

  • কাতারের রাস লাফানে ইরানের হামলা, সম্পূর্ণ বন্ধ গ্যাস সরবরাহ! ফের LPG সঙ্কটে ভারত?

    কাতারের রাস লাফানে ইরানের হামলা, সম্পূর্ণ বন্ধ গ্যাস সরবরাহ! ফের LPG সঙ্কটে ভারত?

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: আবারও এলপিজি নিয়ে খারাপ খবর (LPG Crisis)। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা (Middle East War) ফের নতুন রূপ ধারণ করল। ইরানের গ্যাস ফিল্ডে হামলা করল ইজরায়েল। পাল্টা কাতারের তরল প্রাকৃতিক গ্যাস কেন্দ্রে ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়ে বদলা নিল তেহরান (Iran Attack on Qatar)। ভারতে এলএনজি গ্যাস মূলত কাতার থেকেই আসে। আর বিশ্বের সবথেকে বড় এলএনজি হাব ছিল কাতারের রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি (Ras Laffan Industrial City)। সেখানেই মিসাইল ইরানের। তাহলে ফের এলপিজির সংকট?

    এলপিজি নিয়ে ফের উদ্বেগ

    জানিয়ে রাখি, হরমুজ প্রণালীর আশেপাশে এখনো পর্যন্ত ভারতের একটি এলএনজি ভর্তি জাহাজ আর ছয়টি এলপিজি জাহাজ আটকে রয়েছে। তবে সেগুলি ভারতে আসার পরেও দুর্ভোগ কমবে না। কারণ, বিশ্বের সবথেকে বড় এলএনজি হাবেই অ্যাটাক করেছে ইরান। একেবারে মিসাইল মেড়ে উড়িয়ে দিয়েছে রাস লাফান। এমনিতেই এতদিন ধরে এলএনজি প্রোডাকশন বন্ধ রেখেছিল কাতার। এবার পুরোপুরি তা ভেস্তে গেল। আগেই ঘোষণা দিয়েছিল ইরান। তেহরানের তরফ থেকে জানানো হয়েছিল, গালফ অঞ্চলের বিভিন্ন জ্বালানি পরিকাঠামোতে পাল্টা হামলা চালানো হবে। সে মতোই রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে খামেনির দেশ।

    এক্ষেত্রে বলে রাখা ভালো, বর্তমানে কাতারে ১৯.২ কেজি এলএনজির দাম ৮৫০ টাকা। আর ওই একই এলএনজি আমেরিকায় ২২০০ টাকা। পাশাপাশি ১৪.২ কেজি এলপিজি গ্যাসের দাম কাতারে ৯১০ টাকা হলে আমেরিকা সেখানে নেয় ১২০০ টাকা। আর দিনের পর দিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় মুদ্রা একেবারে তলানিতে ঠেকছে। তাই আমদানি খরচ যে বাড়ছে তা বলার জো নেই। সবথেকে বড় ব্যাপার, প্রতি ইউনিট গ্যাস আনতে ভারতের এখন ১১০০ টাকা করে অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। আর মোট হিসাব করলে গ্যাস আমদানিতে প্রায় ২৫০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করতে হচ্ছে নয়া দিল্লিকে।

    সেই সূত্রে গৃহস্থালীর এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১২০০ টাকা হওয়া উচিত। কিন্তু প্রতি সিলিন্ডারে ৩০০ টাকা করে লসে বিক্রি করছে ভারত সরকার। এমনকি বাকি আরও ৩০০ টাকা ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে। এমতাবস্থায় যদি সাপ্লাই চেইন ঠিক না থাকে এবং গ্যাসের উৎপাদন ভারত না বাড়াতে পারে, তাহলে যে আগামী দিনে আবারও তীব্র গ্যাস সংকটে পড়বে দেশ তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এমনকি এই যুদ্ধ কতদিন চলবে তাও অনিশ্চিত। আর তার উপর পেট্রো কোম্পানিগুলি দিনের পর দিন ক্ষতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

    আরও পড়ুন: বর্ধমান লাইনে বিরাট কাজ করে ফেলল পূর্ব রেল, হাওড়া-দিল্লি রুট এখন আরও নিরাপদ

    ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাল্টা হুঁশিয়ারি

    এদিকে ইরান কাতারের গ্যাস ফিল্ডে হামলা করাতে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তেহরানকে সতর্ক করে ট্রাম্প বলেছেন, কাতারের জ্বালানি পরিকাঠামোতে হামলা করলে কঠোর পরিণতি হতে পারে। ইজরায়েল রাগের বশে সাউথ পার্স গ্যাস ফিল্ডের ছোট্ট একটি অংশে হামলা চালিয়েছে। এই হামলার সঙ্গে আমেরিকার কোনও যোগ নেই। ইরান পরিস্থিতি না বুঝেই অন্যায় ভাবে কাতারের গ্যাস কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে। যদি ইরান কাতারের উপর আবারও হামলা চালায়, তাহলে আমেরিকা ইজরায়েলের সহযোগিতা না পেলেও সাউথ পার্স গ্যাস ফিল্ড সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দেবে।

  • ব্যারেল প্রতি ১৩৭ ডলার! হরমুজ সংকটে এপ্রিলে পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়তে পারে ভারতে

    ব্যারেল প্রতি ১৩৭ ডলার! হরমুজ সংকটে এপ্রিলে পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়তে পারে ভারতে

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের (Middle East War) কারণে দিনের পর দিন দেশের অর্থনীতির উপর প্রভাব পড়ছে। শোনা যাচ্ছে, আগামী ৩১ মার্চের পর নাকি পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়বে! হ্যাঁ, ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ঊর্ধ্বগতিতে ঠেকেছে। জানা যাচ্ছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যেখানে এই তেলের দাম ছিল ৭০.৯ ডলার, সেখানে শুক্রবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৬.৫৬ ডলার। অর্থাৎ, ভারতীয় শোধনাগারগুলির জন্য এই অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৯৩ শতাংশ পর্যন্ত ঊর্ধ্বগতিতে ঠেকেছে। সেই সূত্রে আঁচ করা হচ্ছে যে, পেট্রোল-ডিজেলের দামও এবার অনেকটাই বাড়বে (Petrol-Diesel Price Hike)।

    ভারতে বাড়বে জ্বালানির দাম

    বেশ কিছু বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে, বাজেট লক্ষ্যমাত্রা আর আর্থিক ভারসাম্যের উপর নজর রেখেই আগামী ৩১ মার্চ সরকার তেলের দামের মূল্যবৃদ্ধি করতে পারে। তবে হ্যাঁ, যেহেতু বাংলা সহ মোট পাঁচটি রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন, তাই এই রাজ্যগুলিতে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাবনা খুবই কম। তবে তারপর দাম বাড়তে পারে।

    বলে দিই, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ছিল ব্যারেল প্রতি ৭০.৯ ডলার। আর ১২ মার্চ সেই দাম দাঁড়ায় ১৮৭.২ ডলার। এমনকি গত শুক্রবার সেই দাম পৌঁছে গিয়েছে এক্কেবারে ১৩৬.৫ ডলারে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪০ শতাংশের বেশি আর ইউরালস ক্রুডের দাম প্রায় ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। আসলে ইরানের সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার কারণে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল আর গ্যাস সরবরাহ কমে গিয়েছে। আর এই সংকটের কারণেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ছে। যেহেতু ভারতের মোট জ্বালানির প্রায় ৬০% এই পথ দিয়ে আসে, সেই কারণেই পড়ছে প্রভাব।

    এদিকে এও বলে রাখি, ভারত দীর্ঘদিন ধরেই রাশিয়ায় রাশিয়া থেকে অল্প দামে তেল কিনে আসছে। কিন্তু সম্প্রতি রাশিয়ার ইউরালস ক্রুডের দাম ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। সেই কারণেই আরও চাপ বাড়ছে। এ বিষয়ে অর্থনীতিবিদ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি অপরিশোধিত তেলের দাম সারা বছর প্রায় ১০০ ডলারের কাছাকাছি থাকে, তাহলে ভারতের আমদানি ব্যয় বেড়ে ৮০ বিলিয়ন ডলারের পৌঁছবে। এমনকি ২০২৬ সালে অপরিশোধিত তেলের গড় মূল্য ৮৫ ডলার থাকলে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ০.৩ থেকে ০.৪ শতাংশ কমে যেতে পারে, আর মুদ্রাস্ফীতি বাড়তে পারে ০.৬০%।

    আরও পড়ুন: পরিচারিকাতে ভরসা বিজেপির, আউশ গ্রামের পদ্মের প্রার্থী কলিতা মাজির নাম বিচারাধীন

    এখন বিশেষজ্ঞদের একটাই বক্তব্য, হরমুজ প্রণালী দিয়ে যতদিন না পর্যন্ত তৈলবাহী জাহাজগুলি সাধারণভাবে চলাচল করতে পারছে, ততদিন বাজারে এই অস্থিরতা বজায় থাকবে এবং ভারতীয় ভোক্তাদের উপরে প্রভাব পড়বে। এমনকি পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতির কারণে বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে চ্যালেঞ্জ। ফেব্রুয়ারি মাসের আমদানি-রফতানির পরিসংখ্যানেও দেখা গিয়েছে আমূল পরিবর্তন। হ্যাঁ, আমদানি ২৪.১১% বেড়ে ৬৩.৭১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। আর বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২৭.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এখন দেখার, পেট্রোল-ডিজেলের দামের উপর কোনও প্রভাব পড়ে কিনা, আর এই পরিস্থিতি নয়াদিল্লি কীভাবে সামাল দেয়।

  • হরমুজে ভারতীয় জাহাজকে ছাড় কেন? ইরানের সিদ্ধান্ত গর্বিত করবে ভারতীয়দের

    হরমুজে ভারতীয় জাহাজকে ছাড় কেন? ইরানের সিদ্ধান্ত গর্বিত করবে ভারতীয়দের

    বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: যুদ্ধের আবহে বিশ্বজুড়ে দেখা দিয়েছে জ্বালানি সংকট। ভারতও সেই তালিকার বাইরে নয়। তবে এই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও মিলেছে স্বস্তির খবর। ইতিমধ্যেই ইরানের (Iran) অনুমোদনের পর বিপুল অপরিশোধিত তেল নিয়ে দেশে ফিরেছে দুটি জাহাজ। এছাড়াও হাজার হাজার টন LPG নিয়ে নিরাপদে হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) পেরিয়ে ভারতে এসেছে শিবালিক কার্গো। এমতাবস্থায় অনেকেরই প্রশ্ন, ঠিক কোন কারণে বা কীসের বিনিময়ে ভারতের জাহাজকে ছাড়পত্র দিল তেহরান?

    কারণ ব্যাখ্যা করলেন বিদেশমন্ত্রী

    আমেরিকা এবং ইজরায়েলের যৌথ হামলায় মৃত্যু হয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির। আর তারপরই একেবারে পাগলের মতো প্রত্যাঘাত করতে শুরু করে তেহরান। এরই মাঝে হরমুজ প্রণালীতে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরানের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, অনুমতি ছাড়া যদি কেউ এই হরমুজ দিয়ে জ্বালানি নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে তবে জাহাজে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হবে। যদিও এমন হুমকির পর ভারত সহ একাধিক দেশকে এই অংশ দিয়ে জ্বালানি নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে ইরান। আর তারপরই প্রশ্ন উঠছে, ভারতের জাহাজকে ছাড়পত্র দেওয়ার জন্য কি ইরানের সাথে কোনও চুক্তি হয়েছে?

    এমন প্রশ্নের উত্তরে ভারতের বিদেশ মন্ত্রী এস জয়শঙ্কর একেবারে খোলাখুলি জানিয়েছেন, ভারত এবং ইরানের মধ্যে এখনও পর্যন্ত নতুন কোনও চুক্তি হয়নি। তবে তেহরানের সাথে আলোচনায় ইতিবাচক ফল মিলেছে। এখনও তাদের সাথে আলোচনা চালাচ্ছে দিল্লি।” বিদেশ মন্ত্রীর কথায়, “দিল্লি এবং তেহরানের মধ্যে লেনদেনের এক দীর্ঘ ইতিহাস আছে। সেই ইতিহাসকেই পাথেও করেই আলোচনা হয়েছে আমাদের। তবে জ্বালানি নিয়ে আসার জন্য কোনও বিনিময় চুক্তি হয়নি।” ইরানের এই সিদ্ধান্ত যে প্রতিটা ভারতবাসীর কাছে গর্ব, সে আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

    ভারত এবং ইরানের বহু পুরনো সম্পর্ককে কাজে লাগিয়েই হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে নিরাপদে দেশে ফিরছে একের পর এক জাহাজ। এ প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে জয়শঙ্কর বলেন, “ইরানে যে হামলা চলছে তা সত্যিই আমাদের জন্য দুর্ভাগ্যজনক।” হরমুজ দিয়ে ভারতের জাহাজ পারাপার করছে এমন বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে দেশের বিদেশ মন্ত্রী জানান, “এটা তো সবে শুরু। ওখানে আমাদের অনেক জাহাজ এখনও আটকে রয়েছে। এক কথায় আলোচনা চলবে।” সবমিলিয়ে, নরেন্দ্র মোদি সরকারের কূটনৈতিক পদক্ষেপে ইরানের মন যে কিছুটা গলেছে সেটা বলাই যায়।

     

    অবশ্যই পড়ুন: শিয়ালদার তিন রুটে EMU পরিষেবা সম্প্রসারণ, যাত্রীদের স্বার্থে বড় উদ্যোগ রেলের

    উল্লেখ্য, সম্প্রতি হরমুজ দিয়ে জ্বালানি নিয়ে আসার সময় থাইল্যান্ডের একটি কার্গোতে জোরালো হামলা চালায় ইরান। তাছাড়াও হামলা চালানো হয় আমেরিকার জাহাজেও। এরই মধ্যে কয়েকটি সূত্র দাবি করেছে, আমেরিকা, ইজরায়েল এবং তাদের মিত্র দেশগুলি ছাড়া বিশ্বের বাকি দেশ হরমুজ দিয়ে জ্বালানি আদান প্রদান করতে পারবে।

  • মিসাইল ছুঁড়লেই শেষ! ভয়েই হরমুজ পেরোতে পারল না বাংলাদেশের জাহাজ

    মিসাইল ছুঁড়লেই শেষ! ভয়েই হরমুজ পেরোতে পারল না বাংলাদেশের জাহাজ

    বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: ইরান যুদ্ধে হরমুজে (Strait of Hormuz) আটকে ছিল বিশ্বের একাধিক দেশের পণ্যবাহী তরী। তেহরানের তরফে নতুন ঘোষণা পাওয়া মাত্রই আমেরিকা, ইজরায়েল এবং তাদের মিত্র শক্তি ছাড়া বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলি একে একে নিজেদের জাহাজ নিয়ে ফিরতে শুরু করেছে। এরই মাঝে বেকায়দায় পড়েছে বাংলাদেশের (Bangladesh) জাহাজ। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালীতে আটকে রয়েছে বাংলাদেশের শিপিং কর্পোরেশনের জাহাজ এমভি বাংলার জয়যাত্রা। এই বুঝি মিসাইল ছুঁড়ে সব কিছু তছনছ করে দেয় সেই ভয়ে হরমুজ পেরোতে পারেনি জাহাজটি।

    জাহাজে আটকে 31 জন বাংলাদেশী নাবিক

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত 12 মার্চ হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রবেশ করে 66 ন্যাটিক্যাল মাইল দূরে গিয়ে দাঁড়িয়েছিল জাহাজটি। পরবর্তীতে ইরানের মিসাইল হামলার খবর পাওয়া মাত্রই সেখানেই চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকেন জাহাজের নাবিকরা। এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর কোস্টগার্ডদের তরফে নিরাপত্তার কারণে ওই জাহাজটিকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। আর তারপর জাহাজটি পারস্য উপসাগর দিয়ে পুনরায় ফিরে যায়।

    প্রথম আলোর প্রতিবেদন বলছে, ওই জাহাজ বর্তমানে UAE র শারজা বন্দরের কাছাকাছি রয়েছে। সূত্রের খবর, জাহাজটি কাতার থেকে নতুন করে কিছু পণ্য তোলার পরিকল্পনা করছিল। জানা গিয়েছে, 11 মার্চ এই জাহাজের নাবিকদের জেবেল আলী বন্দরে পণ্য নামিয়ে কুয়েতের নতুন পণ্য তোলার পরিকল্পনা ছিল। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতি ক্রমশ ভয়াবহ মোড় মিলে তা সম্ভব হয়নি। এর মাঝে সদ্য ইরানের তরফে বিশ্বের একাধিক দেশের জন্য হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার খবর পাওয়ার সত্ত্বেও জাহাজটি নতুন করে মিসাইল হামলার ভয়ে হরমুজ প্রণালী পেরোতে পারেনি। জানা গিয়েছে, ওই জাহাজে বর্তমানে 31 জন বাংলাদেশি নাবিক আটকে রয়েছেন।

    অবশ্যই পড়ুন: বিশ্বকাপ শেষ হতেই এবার পাকিস্তানের অধিনায়ককে শাস্তি দিল ICC

    প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের একাধিক সংবাদমাধ্যম দাবি করছে হরমুজ প্রণালীতে আটকে পড়া বাংলাদেশের ওই জাহাজটিকে নিরাপদে ইরানের নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে তৎপর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ইতিমধ্যেই নাকি ওই জাহাজটিকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে নিয়ে আসতে কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়েছে ওপার বাংলার নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়।

  • এদের জন্য হরমুজ প্রণালীর দরজা খুলে দিল ইরান, তালিকায় ভারতও?

    এদের জন্য হরমুজ প্রণালীর দরজা খুলে দিল ইরান, তালিকায় ভারতও?

    বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের মাঝেই মিলল স্বস্তির খবর। গোটা বিশ্বে তেল সরবরাহের যে পথ অর্থাৎ হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) নিয়ে এবার বড়সড় সুখবর দিল ইরান (Iran)। কঠিন সময়ে ইরানের তরফে একেবারে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু দেশ বাদে বিশ্বের প্রত্যেকটি দেশ হরমুজ দিয়ে তেল সহ LPG ও অন্যান্য জ্বালানি নিয়ে যেতে পারবে। ছাড়পত্র দেওয়া দেশগুলির জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালাবে না তেহরান।

    এই দেশগুলি হরমুজে ছাড়পত্র পেল না

    ইরানের মূল শত্রুতা আমেরিকা এবং ইজরায়েলের সাথে। প্রথমে এই দুই দেশই যৌথভাবে তেহরানের উপর জোরালো হামলা চালিয়েছে। তাতেই মৃত্যু হয় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির। যে ঘটনার পর একেবারে পাগলের মতো প্রত্যাঘাত শুরু করে পশ্চিম এশিয়ার এই দেশটি। বন্ধ করে দেওয়া হয় হরমুজ প্রণালী। ইরানের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়, হরমুজ দিয়ে যদি কেউ তেল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে তবে জাহাজে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হবে।

    বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলির জন্য হরমুজে যাতায়াত বন্ধ করলেও প্রথমে রাশিয়া এবং চিনের জন্য সম্পূর্ণ খোলা ছিল হরমুজের দরজা। পরবর্তীতে সেই তালিকায় যুক্ত হয় ভারতও। নয়া দিল্লিকে বন্ধু সম্মোধন করে এদেশের জন্য হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করে দেয় তেহরান। তবে এবার ইরানের তরফে একেবারে স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয়া হলো, আমেরিকা। ইজরায়েল এবং তার মিত্র দেশগুলি ছাড়া বিশ্বের সমস্ত দেশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিজেদের প্রয়োজনীয় জ্বালানি আমদানি এবং রপ্তানি করতে পারবে।

     

    অবশ্যই পড়ুন: “জঘন্য ফুটবল খেলছে ইস্টবেঙ্গল!” কোচের পদ হারাবেন অস্কার?

    সহজ ভাষায় বলতে গেলে, হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত তেল সরবরাহ নিয়ে তৈরি হয় ঘোর সংকট। সেটা বুঝতে পেরেই এবার আমেরিকা এবং ইজরায়েল ও তাদের মিত্রশক্তিগুলি ছাড়া বিশ্বের সমস্ত দেশের জন্য হরমুজের দরজা খুলে দিল ইরান। এর মধ্যে দিয়ে বোঝাই যাচ্ছে, যে দেশ আমেরিকা এবং ইজরায়েলকে সমর্থন করছে এবং আগামীতে করবে তাদের জন্য এই বিশেষ জলপথ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে।

  • ভারতের পতাকা দেখেই ছাড়, নিরাপদে হরমুজ পেরোল LPG কার্গো শিবালিক

    ভারতের পতাকা দেখেই ছাড়, নিরাপদে হরমুজ পেরোল LPG কার্গো শিবালিক

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: দেশে কাটতে চলেছে এলপিজির সংকট (LPG Crisis)! পশ্চিম এশিয়ায় চলা উত্তেজনার জেরে যখন জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে দিনের পর দিন উদ্বেগ বাড়ছে, ঠিক সেই সময় সামনে এলো বিরাট স্বস্তির খবর। হ্যাঁ, ভারতের পতাকাবাহী একটি এলপিজি পরিবাহী জাহাজ নিরাপদেই হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) অতিক্রম করল। অনলাইন জাহাজ ট্র্যাকিং পোর্টাল MarineTraffic এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতের পতাকাবাহী এলপিজি পরিবাহী জাহাজ শিবালিক শুক্রবার রাত নগদ সফলভাবেই হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে। ফলে সংকটের মুখে দেশে এলপিজি নিয়ে দুশ্চিন্তা হয়তো দূর হতে চলেছে, এমনটাই মত ওয়াকিবহাল মহলের।

    কাতার থেকে শুরু করেছিল যাত্রা

    বিশ্বস্ত সূত্র অনুযায়ী খবর, এই এলপিজি ভর্তি জাহাজটি বিগত ২৭ মার্চ কাতারের রাস লাফান বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। আর সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ তরলকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বোঝাই করেই জাহাজটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক রুট ধরে এগিয়ে যায়। এমনকি পরে তা নিরাপদে হরমুজ প্রণালী দিয়ে পার হয়ে যায়। প্রথমদিকে কিছু কিছু সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল যে, জাহাজটিকে ভারতীয় যুদ্ধ জাহাজ নিরাপত্তা দিয়েই নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু পরে সেই দাবি নাকোচ করে ভারতীয় নৌ-বাহিনী। তাদের তরফ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, ওই জাহাজকে কোনওরকম সুরক্ষা দেওয়া হয়নি।

    এক্ষেত্রে বলে রাখি, শিবালিক একটি বৃহৎ আকারের এলপিজি পরিবাহী জাহাজ। এর কার্গো বহন ক্ষমতা আনুমানিক ৫৪ হাজার টনেরও বেশি। বর্তমানে জাহাজটি ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা শিপিং কর্পোরেশন ইন্ডিয়ার মালিকানাধীন। শিপিং ডাটাবেস Equasis এর একটি তথ্য অনুযায়ী, ২০০৮ সালে তৈরি হওয়া এই জাহাজটির প্রথম মালিক ছিল কাতার শিপিং কোম্পানি। পরে মালিকানা বদলের মাধ্যমে এটি ভারতের আওতায় আসে। এমনকি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই জাহাজে থাকা এলপিজির পরিমাণ ভারতের মোট দৈনিক আমদানির প্রায় একদিনের সমান হতে পারে।

    আরও পড়ুন: দেশে ৩০% বাড়ল LPG-র উৎপাদন, কমবে গ্যাসের ক্রাইসিস

    বলাই বাহুল্য, মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ প্রণালী বিশ্বের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট। কিন্তু আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির জেরে সেখানে এখন তৈরি হয়েছে অস্থিরতা। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে যে বিপুল পরিমাণ তেল বা গ্যাস বাণিজ্য হয়, তার বৃহৎ অংশই এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। কিন্তু উত্তেজনার কারণে এই রুটে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। যার ফলে বিশ্বের অনেক দেশে দেখা যায় জ্বালানির সংকট। তবে সেই হাহাকারের মধ্যেও কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস হয়তো ফেলতে পারে ভারত।

  • হরমুজে ছার নেই ভারতেরও, জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়নি! বলে দিল ইরান

    হরমুজে ছার নেই ভারতেরও, জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়নি! বলে দিল ইরান

    বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতের জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে ইরান (Iran On India)। সকাল থেকেই শোনা যাচ্ছে এমন খবর। একাধিক রিপোর্টে দাবি করা হচ্ছে, ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সাথে নাকি কথা হয়েছে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির। আর তারপরেই নাকি হরমুজ দিয়ে ভারতীয় পণ্যবাহী জাহাজ (Oil Tanker) চলাচলের ছাড়পত্র দেয় তেহরান। এবার এমন দাবি সরাসরি খারিজ করে দিল আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দেশ। তেহরানের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এই মর্মে ভারতের সাথে কোনও আলোচনা বা চুক্তি হয়নি।

    ভারতের জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেয়নি ইরান

    বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই শোনা যাচ্ছে, ভারতের দুই তৈলবাহী জাহাজ পুষ্পক এবং পরিমলকে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে দেশে ফিরে আসার অনুমতি দিয়েছে ইরান। এও শোনা যাচ্ছিল, ভারতীয় বিদেশমন্ত্রীর বক্তব্যের পরই কূটনৈতিক পদক্ষেপে ইরানের মন গলে যায়। তারপরেই নাকি রাশিয়া এবং চিনের মতো ভারতের জাহাজ হরমুজ দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেয় তেহরান। এবার সেই দাবি সরাসরি খারিজ করলো পশ্চিম এশিয়ার দেশটি।

    টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান জানিয়েছে এই ধরনের দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা। ভারতের জন্য আলাদা করে কোনও বিশেষ ব্যবস্থা করেনি তারা। ভারতের দুই জাহাজ হরমুজ পেরিয়ে অনেকটাই চলে এসেছে বলে জানা যাচ্ছিল এতক্ষণ। তবে ইরান সেই দাবি খারিজ করে জানাচ্ছে, হরমুজ প্রণালীতে প্রবেশের আগে অবশ্যই তাদের অনুমতি নিতে হবে। অন্যথায় সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

    অবশ্যই পড়ুন: IPL শুরুর আগেই বড় ক্ষতি হয়ে গেল KKR তারকার!

    ইরানের তরফে ভারতীয় জাহাজ চলাচলের দাবি নস্যাৎ করার মাত্রই ফের বাড়ছে উদ্বেগ। বলাই বাহুল্য, বৃহস্পতিবার আমেরিকার জাহাজ লক্ষ্য করে জোরালো হামলা চালায় ইরান। দাউদাউ করে জ্বলতে থাকে সেই পণ্যবাহী তরী। এদিকে সংবাদ সংস্থা IANS জানিয়েছে, পুষ্পক এবং পরিমল নামক দুই ভারতীয় তেলের ট্যাংকার নিরাপদে হরমুজ পেরিয়েছে। তবে আমেরিকা, ইউরোপ এবং ইজরায়েলের জাহাজগুলি আটকেই রয়েছে।

  • জয়শঙ্করের হস্তক্ষেপেই স্বস্তি, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের অনুমতি পেল ভারতীয় জাহাজ

    জয়শঙ্করের হস্তক্ষেপেই স্বস্তি, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের অনুমতি পেল ভারতীয় জাহাজ

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের (Middle East War) মধ্যেই ভারতের জন্য আসলো বিরাট স্বস্তির খবর। কূটনৈতিক আলোচনার পর ইরান ভারতীয় পতাকাযুক্ত তেলবাহী জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) দিয়ে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে বলে সূত্র অনুযায়ী খবর। আর এই সিদ্ধান্ত ভারতের বিধানমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং ইরানের বিদেশ মন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার পরেই সামনে এল। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝে এই কূটনৈতিক সমঝোতা যে ভারতের জন্য বিরাট সাফল্য তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

    বেশ কয়েকটি বিশ্বস্ত সূত্র অনুযায়ী খবর, ইতিমধ্যেই অন্তত দুটি ভারতীয় তেলবাহী জাহাজ নিরাপদে ওই জলপথ পার হচ্ছে, এবং একটি জাহাজ মুম্বাই বন্দরে পৌঁছেছে। আর এই জাহাজগুলোর মধ্যে রয়েছে MT Pushpak এবং MT Parimal। কিন্তু এখনো পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ এবং ইজরায়েলের সঙ্গে যুক্ত জাহাজগুলোর উপরে কিছু বিধিনিষেধ আরোপিত রয়েছে বলেই সূত্রের খবর।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ এই হরমুজ প্রণালী?

    বলে দিই, বিশ্বের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হল এই হরমুজ প্রণালী। এটি ইরান এবং ওমানের মাঝখানে অবস্থিত একটি সরু সমুদ্রপথ। আর এই পথ দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি অপরিশোধিত তেল পরিবহন হয়ে থাকে। বিশ্বের মোট তেল ব্যবহারের প্রায় ২০%-ই এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসে। আর শুধুমাত্র তেল নয়, বরং বিশ্বের সবথেকে বড় অংশের এলএনজি পরিবহনও এই পথ দিয়ে হয়। যার ফলে এই জলপথে সামান্য সমস্যা তৈরি হলেই বিশ্ববাজারে তেলের দাম আর জ্বালানি সরবরাহে বিরাট প্রভাব পড়ে।

    এদিকে চলমান সংঘাতের জেরে ইরান আগেই জানিয়েছিল যে, হরমুজ প্রণালিতে নিষেধাজ্ঞা মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপ এবং তাদের মিত্র দেশগুলির জাহাজের জন্যই প্রযোজ্য। সেই কারণেই ভারতের মতো পশ্চিমে দেশের জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে কিছুটা ছাড় দেওয়ার ইঙ্গিত মিলেছিল। আর মার্চের প্রথম সপ্তাহে এই নীতির স্পষ্টতা সামনে এসেছিল। সেখানে বলা হয়েছে, ভারতগামী বা ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজগুলি এই পথ ব্যবহার করতে পারবে।

    আরও পড়ুন: চমক জোয়ার ভাঁটার, ধস পরশুরামের জনপ্রিয়তায়! টপার কে? দেখুন টিআরপি তালিকা

    যুদ্ধের পর প্রথম তেলবাহী জাহাজ পৌঁছল ভারতে

    প্রসঙ্গত, সংঘাত শুরু হওয়ার পর প্রথমবারের মতো একটি তেলবাহী জাহাজ নিরাপদে হরমুজ প্রণালী পার হয়ে ভারতে পৌঁছেছে। Shenlong Suezmax নামের এই জাহাজ সৌদি আরবের রাস তানুরা অয়েল টার্মিনাল থেকে অপরিশোধিত তেল নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল। আর জাহাজটি শেষ পর্যন্ত ভারতের মুম্বাই বন্দরে পৌঁছয়। জানা গিয়েছে, বিপজ্জনক এলাকা পার হওয়ার সময় কিছু সময়ের জন্য ট্রাকিং সিস্টেম বন্ধ করে দিয়েছিল জাহাজটি। তবে কোনও রকম সমস্যা ছাড়াই ভারতে পৌঁছতে পেরেছে ওই ট্যাংকার।