Tag: Sivok–Rangpo line

  • আজ পর্যন্ত গড়ায়নি ট্রেনের চাকা, দেশের সেই রাজ্যেই রেলপথ তৈরিতে মিলল বিরাট সাফল্য

    আজ পর্যন্ত গড়ায়নি ট্রেনের চাকা, দেশের সেই রাজ্যেই রেলপথ তৈরিতে মিলল বিরাট সাফল্য

    বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: ভারতীয় রেল (Indian Railways) বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম রেল নেটওয়ার্ক। আর সেই দেশেরই একমাত্র রাজ্য সিকিমে (Sikkim) আজ পর্যন্ত গড়ায়নি ট্রেনের চাকা। রেল ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন উত্তর-পূর্ব ভারতের এই রাজ্যকে রেল ট্র্যাকে জুড়তে আগেই বড় উদ্যোগ নিয়েছিল ভারতীয় রেল। সেই সূত্রেই সিকিমের দুর্গম ভূখণ্ড সত্বেও দেশের অন্যান্য অংশের সাথে রাজ্যটির মানুষকে জুড়তে রেলপথ খুলছে রেল। জানা যাচ্ছে, নর্থইস্ট ফ্রন্টিয়ার রেলওয়ের অধীনে পশ্চিমবঙ্গের সেবক থেকে সিকিমের রংপো পর্যন্ত রেললাইন পাতার কাজ চলছে। সবচেয়ে বড় কথা, দুর্গম পরিবেশে পাথর-মাটি কেটে সুরঙ্গ তৈরির কাজে বড় সাফল্য পেয়েছে রেল। যা সেবক-রংপো রেল প্রকল্পকে নতুন মাত্রা দিয়েছে তা বলাই যায়।

    রেলহীন রাজ্যে রেলপথ নির্মাণ করছে ভারতীয় রেল

    ভারতীয় রেলের উদ্যোগে এবং নর্থইস্ট ফ্রন্টিয়ারের তত্ত্বাবধানে পশ্চিমবঙ্গের সেবক থেকে সিকিমের রংপো পর্যন্ত দুর্গম পরিবেশে রেললাইন পাতার কাজ জোর কদমে চলছে। এ প্রসঙ্গে এই রেল প্রকল্পের মুখ্য ডিজাইনার আরমান্দো ক্যাপেলান জানিয়েছেন, 600 জন ইঞ্জিনিয়ার এবং কয়েক হাজার কর্মীকে সাথে নিয়ে হিমালয় এলাকায় ভূগর্ভস্থ মাটি এবং পাথর কাটার কাজ চলেছে। তবে এই অঞ্চলে ডিনামাইট বিস্ফোরণ ঘটিয়ে কাজ করা যায়নি। যার ফলে গাইতি এবং বেলচা দিয়েই মাটি কেটে সুরঙ্গ তৈরি করেছেন কর্মীরা।

    রেল সূত্রে খবর, ট্রেন চলাচলের জন্য 14টি সুরঙ্গ তৈরির কাজ চলছে। ওই সুরঙ্গ দিয়েই ট্রেন পশ্চিমবঙ্গের সেবক থেকে রংপো পর্যন্ত ছুটবে। পরে আবার একই সুরঙ্গ ধরে ফিরে আসবে গন্তব্যে। জানা যাচ্ছে 14টি টানেলের মধ্যে ইতিমধ্যেই 13টি টানেলের কাজ শেষ হয়েছে। যদিও এই সুরঙ্গ তৈরি করতে যথেষ্ট ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হয়েছে কর্মীদের। রেলের দাবি, সুরঙ্গগুলির মধ্যে 8 নম্বর সুরঙ্গটির দৈর্ঘ্য 4,148 কিলোমিটার। এই প্রকল্পের ইঞ্জিনিয়াররা স্বীকার করে নিয়েছেন, পুরনো খনন পদ্ধতি ব্যবহার করে হিমালয়ের গর্ভে পাথর এবং মাটি কাটার কাজ একেবারেই সহজ ছিল না।

    অবশ্যই পড়ুন: বাংলার গুরুত্বপূর্ণ রুটে একাধিক ট্রেন বাতিল করল রেল, সমস্যায় পড়বেন যাত্রীরা

    প্রসঙ্গত, বিশেষজ্ঞ মহলের অনেকেই বলছেন, এই রেল প্রকল্পের অধিকাংশটাই রয়েছে বাংলায়। বাকি কিছু অংশ রয়েছে সিকিমের রংপোতে। কিন্তু তা হলেও বিশেষজ্ঞদের দাবি, রেল ব্যবস্থাহীন রাজ্যকে বাংলার সাথে জুড়তে ভারতীয় রেল যে উদ্যোগ নিয়েছে তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। 8 নম্বর টানেল বা সুরঙ্গ তৈরি করতে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েও তাতে সফল হয়েছেন ইঞ্জিনিয়াররা। সব ঠিক থাকলে, 2027 সালের ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে এই রেল প্রকল্পের কাজ। আর তারপরই কেন্দ্রের অনুমোদন নিয়ে সিকিমের উপর দিয়ে চলবে ট্রেন। এক কথায়, সেবক-রংপো রেল প্রকল্পের হাত ধরে অবশেষে ভারতীয় রেলের মানচিত্রে জায়গা পেতে চলেছে সিকিম।

  • সেবক-রংপো রেল প্রকল্পে শেষ হল বড় কাজ, কবে ছুটবে ট্রেন?

    সেবক-রংপো রেল প্রকল্পে শেষ হল বড় কাজ, কবে ছুটবে ট্রেন?

    বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: হিমালয়ের অন্তর্ভুক্ত তিস্তা বাজার ও মেলি বাজারের (Sevoke-Rangpo Railway) মাঝ বরাবর প্রতিকূল পরিবেশে পাথর-মাটি কেটে অন্তত 4.1 কিলোমিটারের সুদীর্ঘ পথ তৈরির কাজ শেষ হয়েছে ইতিমধ্যেই। সেই সাথে সম্পন্ন হয়েছে সেবক থেকে রংপো রেল প্রকল্পের চ্যালেঞ্জিং কাজও। একেবারে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে হিমালয়ের গর্ভে কাজ করেছেন শ্রমিকরা। এই প্রকল্পের ইঞ্জিনিয়াররা বলছেন, ভূগর্ভস্থ এলাকার পাথর এবং মাটি এতটাই নরম অবস্থায় ছিল যে, কোনও ভাবেই এখানে বিস্ফোরণ ঘটাতে পারেননি তারা। কিন্তু তা সত্বেও সুষ্ঠুভাবেই সম্পন্ন হয়েছে বড় কাজ।

    গাইতি, বেলচা দিয়ে কাটা হয়েছে পাথর-মাটি

    হিমালয় এলাকায় ভূগর্ভস্থ মাটি এবং পাথর এতটাই বিপজ্জনক অবস্থায় ছিল যে ইঞ্জিনিয়াররা আলাদা করে ঝুঁকি না নিয়ে একেবারে গাইতি, বেলচা দিয়ে ভূগর্ভের দু দিক থেকে পাথর এবং মাটি কেটে তা সরিয়ে সুরঙ্গ পথ তৈরি করেন। এ প্রসঙ্গে প্রকল্পের মুখ্য ডিজাইনার আরমান্দো ক্যাপেলান কমপক্ষে 600 ইঞ্জিনিয়ার এবং কয়েক হাজার কর্মীকে সাথে নিয়ে এই কাজ করেছিলেন। জানা গিয়েছে, দিনরাত হাড়ভাঙা খাটুনির পর শেষ পর্যন্ত দুই প্রান্তে পি1 এবং পি2 মিলে যায়। তাতে ব্যাপক উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন কর্মীরা।

    প্রকল্পের কাজ ছিল যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং

    সেবক-রংপো রেলওয়ে প্রকল্পের কাজ পেয়েছিল ইরকন। এই সংস্থার প্রজেক্ট অ্যাডভাইজার মহিন্দর সিং স্পষ্ট জানিয়েছেন, প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যে দিয়ে এখানে সুরঙ্গ করার কাজ অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ছিল। নরম মাটিতে ডেনামাইট বিস্ফোরণ করানো যায়নি। তাই পুরনো খনন পদ্ধতিকে কাজে লাগাতে হয়েছে। কঠিন সময়ে কর্মীরা ধৈর্য ধরে কাজ করেছেন।

    প্রজেক্ট অ্যাডভাইজার মহিন্দর সিং আরও বলেন, পশ্চিমবঙ্গ এবং সিকিমের মধ্যে সংযোগকারী 44.98 কিলোমিটার দীর্ঘ রেল প্রকল্পটি এই মুহূর্তে চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে। এর মধ্যে মাত্র 3.5 কিলোমিটার অংশ সিকিমে রয়েছে। এছাড়া বাকি 41.5 কিলোমিটার অংশ রয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। ওই ব্যক্তির দাবি, এই প্রকল্পের অন্তত 85 শতাংশ কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গিয়েছে। এই বিশেষ রেল প্রকল্পের অধীনে কী কী থাকছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, এই রেল প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে 22টি নতুন সেতু, 14টি টানেল, এছাড়াও সেবক, রিয়াং, তিস্তা বাজার, মেলি সহ মোট 5টি স্টেশন।

    রিপোর্ট অনুযায়ী, 22টি সেতুর মধ্যে ইতিমধ্যেই 19টি সেতুর কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে। বাকি সেতু এবং স্টেশন গুলির কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে আগামী নভেম্বরের মধ্যে। রেল সূত্রে খবর, 14 টানেলের মধ্যে 8 নম্বর টানেলের কাজ শেষ হয়েছে। বাকি একটি টানেলের কাজ চলছে। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের একাধিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, 44.98 কিলোমিটার লাইনের বেশিরভাগ টানেলের কাজ শেষ করে ফেলেছেন তারা। জানা যাচ্ছে, সব ঠিক থাকলে এবং সময়মতো কাজ হলে 2027 সালের ডিসেম্বরের মধ্যে গোটা প্রকল্পের কাজ শেষ হয়ে যাবে। তারপরই কেন্দ্রের অনুমোদন নিয়ে শুরু হবে ট্রেন চলাচল।

    অবশ্যই পড়ুন: ১ এপ্রিল থেকেই বেড়ে যাচ্ছে বার্ষিক টোল পাসের দাম, কত খরচ হবে জানুন

    প্রসঙ্গত, সরকারি সূত্র মারফত খবর, সেবক থেকে রংপো রেল প্রকল্পের যে কাজ চলছে তা শেষ হলে ট্রেনে করে মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে সেবক থেকে রংপো পৌঁছে যাবেন যাত্রীরা। যেখানে সড়কপথে এই যাত্রাপথ অতিক্রম করতে সময় লাগে 5 ঘন্টা বা তারও বেশি। বলে রাখি, এই প্রকল্পে মোট ব্যয় হবে 11 হাজার 973 কোটি টাকা।