Tag: SIR In Bengal

  • বাংলায় ‘অঘোষিত জরুরি অবস্থা’? কমিশনের বিরুদ্ধে এবার গর্জে উঠলেন মমতা

    বাংলায় ‘অঘোষিত জরুরি অবস্থা’? কমিশনের বিরুদ্ধে এবার গর্জে উঠলেন মমতা

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: দোরগোড়ায় এসে গিয়েছে ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026), হাতে বাকি আর মাত্র কয়েকটা দিন। আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল দুই দফায় রাজ্যে হবে বিধানসভা নির্বাচন। ইতিমধ্যেই বিজেপি এবং CPIM প্রথম দফার প্রার্থী তালিকা প্রকাশ্যে এনেছে, অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসও পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করেছে। তাই এখন তুমুল ভোট প্রচার শুরু হয়েছে রাজনীতিবিদদের। এই অবস্থায় ফের নির্বাচন কমিশনারকে নিশানা করল তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। অঘোষিত জরুরি অবস্থা নিয়ে গর্জে উঠলেন তিনি।

    কমিশনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মমতা

    রিপোর্ট মোতাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ, নিজের এক্স হ্যান্ডেলে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি পোস্টে লেখেন, “নির্বাচন কমিশন যেভাবে বাংলাকে আলাদাভাবে টার্গেট করে একের পর এক নিশানা করেছে, তা শুধু নজিরবিহীনই নয় বরং গভীর উদ্বেগের। নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারির আগেই মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি-সহ প্রায় ৫০ জনেরও বেশি উচ্চপদস্থ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও এই তালিকায় রয়েছেন একাধিক এডিজি, আইজি, ডিআইজি এবং জেলাশাসকরা। তাই, এটি কোনও সাধারণ প্রশাসনিক রদবদল নয়, বরং এটি একটি ‘সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ’।”

    নির্বাচনী পর্যবেক্ষকদের ট্রান্সফার নিয়ে প্রশ্ন মমতার

    মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর পোস্টে নির্বাচন কমিশনকে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন করেছেন। তিনি লিখেছেন, “শিলিগুড়ি ও বিধাননগরের পুলিশ কমিশনারদের কোনো বিকল্প ছাড়াই পর্যবেক্ষক হিসেবে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। যার ফলে এই দুই গুরুত্বপূর্ণ শহর কিছু সময়ের জন্য কার্যত অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে। এমনকি যে আধিকারিকদের এতদিন ‘নির্বাচনী কাজের অযোগ্য’ বলে সরানো হচ্ছিল, তাঁদেরই দেখা যাচ্ছে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ভিন রাজ্যে নির্বাচনী পর্যবেক্ষক হিসেবে পাঠানো হয়েছে। যা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।” তিনি আরও জানান, “আইবি, এসটিএফ এবং সিআইডির মতো গুরুত্বপূর্ণ শাখার অফিসারদের সরিয়ে দেওয়ায় প্রশাসনিক কাঠামো পঙ্গু হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যা নাগরিকদের মধ্যে উদ্বিগ্ন ও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।”

    অঘোষিত জরুরি অবস্থা প্রসঙ্গে মমতা

    তৃণমূল সুপ্রিমো নির্বাচন কমিশনকে আক্রমণ শানিয়ে জানান যে, “সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও এখনও সম্পূরক ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। এছাড়া বিতর্কিত এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া এবং নাগরিকত্ব প্রমাণের বাধ্যবাধকতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। এটি কোনো সুশাসন নয়। এটি বিশৃঙ্খলা, বিভ্রান্তি এবং চরম অযোগ্যতা, যাকে ক্ষমতার মোড়কে চালানো হচ্ছে। এটি কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়, বরং জোরজুলুম এবং প্রাতিষ্ঠানিক কারসাজির মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের নিয়ন্ত্রণ দখল করার পরিকল্পনা। আমরা যা দেখছি তা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা দ্বারা পরিচালিত একটি অঘোষিত জরুরি অবস্থা এবং রাষ্ট্রপতির শাসনের এক অপ্রকাশিত রূপ।”

    আরও পড়ুন: সিভিক ভলান্টিয়ারদের বোনাস বাড়াল নবান্ন! এক ধাক্কায় বাড়ল এত টাকা

    নির্বাচন কমিশনকে দোষ দেওয়ার পাশাপাশি এদিন বিজেপিকেও এক হাতে নেন তৃণমূল সুপ্রিম তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “বাংলার মানুষের বিশ্বাস অর্জন করতে ব্যর্থ হয়ে বিজেপি বাংলাকে কব্জা করতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। তাইতো স্বাধীনতার ৭৮ বছর পরেও মানুষকে লাইনে দাঁড়িয়ে নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে বাধ্য করতে হচ্ছে। তবে বাংলা লড়বে, বাংলা প্রতিরোধ গড়বে এবং এই মাটিতে কোনো বিভাজনমূলক ও ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি চাপিয়ে দেওয়ার প্রতিটি চেষ্টাকে বাংলা চূড়ান্তভাবে পরাজিত করবে।”

  • “দাবি না মানলে বাংলাদেশ-নেপালের মতো আন্দোলন” তীব্র হুঁশিয়ারি তৃণমূল নেতৃত্বের

    “দাবি না মানলে বাংলাদেশ-নেপালের মতো আন্দোলন” তীব্র হুঁশিয়ারি তৃণমূল নেতৃত্বের

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026) শুরু হতে আর বেশিদিন বাকি নেই, কিন্তু এখনও রাজ্যে SIR (SIR In Bengal) বিতর্ক যেন কিছুতেই কাটছে না। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি SIR এর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই অশান্তি যেন চরম আকার নিয়েছে। এই অবস্থায় কমিশনের বিরুদ্ধে আজ থেকেই ধর্মতলায় ধর্নায় বসেছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। এক এক করে বিধায়ক নেতা মন্ত্রী উপস্থিত হচ্ছে এই সভায়। আর এবার SIR বিতর্ক নিয়ে দলের সংখ্যালঘু সেলের তরফে রীতিমতো বাংলাদেশের অনুকরণে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিল তৃণমূল নেতৃত্ব।

    বাংলাদেশ বা নেপালের মতো আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

    রিপোর্ট মোতাবেক, গতকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার জলপাইগুড়ির বাহাদুর অঞ্চলে তৃণমূল সংখ্যালঘু সেলের তরফে একটি সভা করা হয়। ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল সংখ্যালঘু সেলের অঞ্চল সভাপতি মেহেবুব আলম, উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল মাদারের জেলা কমিটির সদস্য পল হাসান প্রধান। এদিন SIR কর্মসূচিতে সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছিল সেই সময় তৃণমূল নেতৃত্ব হুঁশিয়ারি দেয় যে আগামীতে যে সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশ হতে চলেছে, সেই তালিকায় যদি সব জীবিত ভোটারদের নাম না থাকে তাহলে জলপাইগুড়ি জেলায় ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন করতে দেবেন না তাঁরা। এখানে শেষ নয়, হুঁশিয়ারি দিয়ে শাসকদল জানায় যে,“ প্রয়োজনে বাংলাদেশ বা নেপালের মতো আন্দোলন করা হবে। তখন যদি কেন্দ্রীয় বাহিনী এগিয়ে আসে তবে তাদের সঙ্গেও সরাসরি সংঘাতের পথে যেতে পিছপা হব না।”

    কটাক্ষ বিজেপির

    বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে তৃণমূল নেতাদের এই হুনসমূলক মন্তব্যকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলে। যা নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়লেন না বিজেপির জেলা কমিটির সদস্য সৌজিত সিংহ। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “দেশে বাংলাদেশের মত জামাতের সরকার নেই। তাই তৃণমূল নেতাদের সংযত হয়ে মন্তব্য করাই ভালো।” পাশাপাশি তিনি SIR এ ভোটার তালিকায় বিচারাধীন নামের প্রসঙ্গে বলেন, “অনেক বিজেপি নেতা কর্মীদের নামও বিচারাধীন রয়েছে। তাই তাঁরাও উদ্বিগ্ন। কিন্তু প্রয়োজনীয় নথি দেখাতে না পারলে নাম অবশ্যই কাটা যাবে। তাই সকলে চিন্তামুক্ত থাকুন এবং নির্বাচন কমিশনারের ওপর বিশ্বাস রাখুন।”

    আরও পড়ুন: ভোটাধিকার রক্ষায় ধরনায় মমতা, ধর্মতলায় কতদিন চলবে এই কর্মসূচি?

    প্রসঙ্গত, এসআইআর শুরুর আগে জলপাইগুড়িতে মোট ভোটার ছিল ১৯১৪০২২ জন। কিন্তু এসআইআর শুরুর পর মৃত ও স্থানান্তরিত ভোটার হিসেবে বাদ যায় ১,৩৩,১০৭ জনের নাম। এরপর লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সিতে ডাক পান ২,৭৫,৪০২ জন ভোটার। অন্যদিকে, আনম্যাপ ক্যাটাগরিতে ছিলেন ৭৭৪৪০ জন ভোটার। পরে শুনানি পর্ব মিটলে শুনানির পর এবার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ল ৩২,৭৮৫ জন ভোটারের। এবং বর্তমানে মোট ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭৪৮৯১৪ জন। এখন দেখার সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকায় কী ফলাফল বেরোয়।

  • ERO, AERO-র বদান্যতায় বিচারাধীন বিশ্বকাপজয়ী রিচা ঘোষের নাম, জানিয়ে দিল কমিশন

    ERO, AERO-র বদান্যতায় বিচারাধীন বিশ্বকাপজয়ী রিচা ঘোষের নাম, জানিয়ে দিল কমিশন

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় মোট ভোটারের সংখ্যা ৬ কোটি ৪৪ লক্ষ ৫২ হাজার ৬০৯ জন। সেখানে প্রথম দফার আপাতত বাদ গিয়েছে ৫ লক্ষ ৪৬ হাজার ৫৩ জনের নাম। আর বিচারাধীন রয়েছে ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন ভোটারের নাম। আর সেই তালিকায় এবার নাম উঠে এল ক্রিকেটার রিচা ঘোষের (Richa Ghosh), যিনি কিনা বিশ্বকাপ জিতিয়ে দেশকে গর্বিত করেছেন। স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে তাঁর নাম অমীমাংসিতের তালিকায় রাখা। আর সেই নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠতেই জবাব দিলেন নির্বাচন কমিশন।

    অমীমাংসিতের তালিকায় রিচা ঘোষের নাম

    রিপোর্ট মোতাবেক শিলিগুড়ির কলেজপাড়ার ৩০ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা রিচা ঘোষ। বরাবর ওই ওয়ার্ডেরই বাসিন্দা তিনি। সেখানেই রিচা ভোট দেন। কিন্তু SIR এর চূড়ান্ত তালিকায় এবার রিচা ঘোষের নামের পাশে জ্বলজ্বল করছে আন্ডার অ্যাডজুডিকেশনের স্ট্যাম্প। শুধু রিচা নয়, তাঁর দিদি সোমাশ্রীর নামও অ্যাপ্রুভড তালিকায় নেই। এমনই দাবি করেছেন রিচার বাবা। যে ক্রিকেটার দেশের হয়ে খেলেছেন, যে ক্রিকেটার ভারতের হয়ে বিশ্বকাপ খেলেছেন, কাপ জিতিয়েছেন দেশকে, সেই রিচা ঘোষের নাম কীভাবে অমীমাংসিতের তালিকায় থাকতে পারে, সেই প্রশ্ন তুলে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কটাক্ষ করে বলেন, তা হলে তো ভারতের বিশ্বকাপটাই বিচারাধীন। এরপরই মুখ খুলল নির্বাচন কমিশন।

    কমিশনের সাফাই

    অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাংবাদিক বৈঠকের অনতিবিলম্বে সমাজমাধ্যমে রিচাকে নিয়ে একটি পোস্ট করেছে নির্বাচন কমিশন। সেখানে স্পষ্ট জানানো হয়েছে “ SIR এর খসড়া তালিকায় প্রথমে তাঁকে ‘আনম্যাপ্‌ড’ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। সেই সময় তাঁর পরিবর্তে এক আত্মীয় শুনানিতে উপস্থিত হন এবং প্রয়োজনীয় নথি জমা দেন। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, সংশ্লিষ্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার অর্থাৎ ERO বা অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার AERO বিষয়টি নিষ্পত্তি করেননি। তাই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, বিষয়টি বিচারকদের কাছে নিষ্পত্তির জন্য পাঠানো হয়েছে।” অর্থাৎ এই ঘটনায় ERO কিংবা AERO-কেই পরোক্ষেভাবে দায়ী করা হয়েছে কমিশনের তরফে।

    আরও পড়ুন: SIR মামলা শুনছেন যিনি, ভোটার লিস্টে সেই বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর নামেই বিরাট ভুল

    প্রসঙ্গত, ভোটার লিস্টে যোগ্য তালিকায় মেয়ের নাম না ওঠে বেশ চিন্তিত রিচা ঘোষের বাবা মায়ের। এদিকে ২০০২-এর তালিকায় রিচার বাবা-মা দুজনেরই নাম রয়েছে। তাহলে কেন রিচার নাম অমীমাংসিতের তালিকায় রয়েছে, তা বুঝতে পারছেন না রিচার বাবা-মা। যদিও বলে রাখা প্রয়োজন, অমীমাংসিতের তালিকায় নাম থাকলেই যে তাঁর নাম বাদ হয়ে যাবে, তা একেবারেই নয়। অমীমাংসিত তালিকায় যাঁদের নাম রয়েছে, তাঁরা এখনও বিচারাধীন প্রক্রিয়ায় রয়েছেন। আর তাঁদের নথি খতিয়ে দেখছেন জুডিশিয়াল অফিসাররা। নথি যাচাইয়ের পর সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট প্রকাশিত হবে।

  • SIR মামলা শুনছেন যিনি, ভোটার লিস্টে সেই বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর নামেই বিরাট ভুল

    SIR মামলা শুনছেন যিনি, ভোটার লিস্টে সেই বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর নামেই বিরাট ভুল

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: গত শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, SIR বা বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা (Final SIR Voter List) প্রকাশ করেছিল কমিশন। এর প্রথম দফার চূড়ান্ত তালিকা থেকে আপাতত বাদ গিয়েছে ৫ লক্ষ ৪৬ হাজার ৫৩ জনের নাম। যেখানে খসড়া তালিকায় নাম ছিল ৭ কোটি ৮ লক্ষ ১৬ হাজার ৬৩০ জনের। আর সেখানে বাদ পড়েছিল ৫৮ লক্ষ ২০ হাজার ৮৯৯ জন। ফলে সব মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত বাদের হিসাব দাঁড়াল ৬৩ লক্ষ ৬৬ হাজার ৯৫২ জনের। এমতাবস্থায় ঘটল আরেক ঘটনা। নামের গরমিল নিয়ে সুপ্রেইম কোর্টের বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর এজলাসে এতদিন যে SIR মামলার শুনানি চলছিল এবার তাঁরই নামের বানানে ধরা পড়ল বড় ভুল।

    ভোটার লিস্টে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির নামের বানান ভুল

    প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় ইংরেজি এবং বাংলা দুই ভাষাতেই প্রকাশ করা হয়েছিল সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর নামের ‘বাংলা বানান’ ভুল রয়েছে। সেখানে লেখা রয়েছে ‘জোযমল্যা বাগচি’। যদিও ভোটার তালিকার ইংরেজি সংস্করণে বিচারপতির নামের বানান ঠিক আছে। এইরকম ভুল শুধু বিচারপতিই নন, এমনকি কমিশনের এক আধিকারিকের নামের বাংলা বানানেও ভুল রয়েছে। পাশাপাশি রাজ্যের প্রচুর সংখ্যক মানুষের ক্ষেত্রে হয়েছে। আর এই ঘটনায় নির্বাচন কমিশনও এমন ভুলের কথা স্বীকার করেছে। তাদের যুক্তি, আসলে প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে বাংলা বানানে ভুল হয়েছে। তাই ভোটার তালিকার ইংরেজি সংস্করণ দেখেই বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।

    কমিশনের প্রযুক্তি নিতে উঠছে প্রশ্ন

    কমিশনের এক আধিকারিকের কথায়, ‘‘ইংরেজিতে ভোটার তালিকা দেখা নিয়ম। প্রান্তিক মানুষরা যাতে ভোটার তালিকা দেখতে পারেন, সেই কারণে আঞ্চলিক ভাষায় লেখা হয়েছে। প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে এমনটা হয়েছে। আগামী দিনে এগুলো সংশোধন করা যাবে।’’ আর এখানেই প্রশ্ন উঠছে, ভোটারদের নামের বানান নিয়ে এই ধরনের ভুল কি ইচ্ছাকৃত? অভিযোগ, আগেও এই ধরনের ভুল ছিল, কমিশন কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। সেই ভুলই রেখে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ইংরেজিতেই নাম প্রকাশ সঠিক ধরা হলে, তাহলে কেন বাংলায় ভুলে ভরা তালিকা প্রকাশের প্রয়োজনীয়তা ছিল? যদিও এই নিয়ে আর বিশেষ কোনো মন্তব্য করেনি নির্বাচন কমিশন।

    আরও পড়ুন: ‘এই দিনের মধ্যে DA দিতেই হবে পশ্চিবঙ্গ সরকারকে’

    প্রসঙ্গত, নতুন ভোটার কার্ডের ক্ষেত্রেও ব্যাপক ভুল দেখা যাচ্ছে। সেখানেও ইংরেজি নামের নানান ঠিক থাকলেও বাংলায় সেটি সম্পূর্ণ ভুল। আর এতেই সমস্যায় পড়ছে সাধারণেরা। যদিও কমিশনের মতে, নতুন ভোটারদের ক্ষেত্রে নামের বানান ভুলের অভিযোগ খুবই কম। চূড়ান্ত তালিকায় ২০০২ সালের ওই সব ভুলই থেকে গিয়েছে। তাহলে কি এই পুরো প্রক্রিয়ায় কমিশন অনেক বেশি প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে পড়েছে বলেই এত ত্রুটি? অন্যদিকে তালিকায় নাম রয়েছে, অথচ নথি যাচাই এবং নিষ্পত্তি হয়নি, ওই ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জনের তালিকায় লেখা ‘বিচারাধীন’। তাই সেই নিয়েও এক চাপা উত্তেজনা বাড়ছে।

  • বাংলায় SIR তালিকা থেকে বাদ কত সংখ্যালঘুর নাম? রিপোর্টে চাঞ্চল্য

    বাংলায় SIR তালিকা থেকে বাদ কত সংখ্যালঘুর নাম? রিপোর্টে চাঞ্চল্য

    সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ সকল অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রকাশ পেয়েছে SIR-এর চূড়ান্ত তালিকা। পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোটের প্রাক্কালে গতকাল শনিবার নির্বাচন কমিশনের তরফে চূড়ান্ত তালিকা (SIR In Bengal) প্রকাশ করা হয়েছে। এদিকে এই তালিকা প্রকাশ পেতেই চক্ষু চড়কগাছ হয়েছে সকলের। নাম বাদ পড়েছে কয়েক লক্ষ মানুষের। সাড়ে ৬৩ লক্ষেরও বেশি নাম বাদ গিয়েছে। তবে চাপ নেই, নাম বাদ গেলেও পুনরায় আবেদন কয়রা যাবে বলে খবর। যদিও আজ কথা হবে, এবারের তালিকা থেকে কতজন সংখ্যালঘুর নাম বাদ গেল সে বিষয়ে। তাহলে চলুন বিশদে জেনে নেওয়া যাক।

    কতজন সংখ্যালঘুর নাম বাদ গেল?

    মুখ্য নির্বাচন কর্মকর্তা মনোজ কুমার আগরওয়াল এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন যে এসআইআর-এর পরে রাজ্যে মোট ভোটারের সংখ্যা ৭০,৪৫৯,২৮৪। তিনি আরও জানিয়েছেন যে বাংলায় ৬০ লক্ষেরও বেশি মানুষ এখনও বিচারাধীন বিভাগে রয়েছেন। তবে, এসআইআর-এর পরে প্রস্তুত ভোটার তালিকায় তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তিনি আরও জানিয়েছেন যে রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকে প্রায় ৬৬ লক্ষ নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যাইহোক, এদিকে মালদা থেকে মুর্শিদাবাদ, দক্ষিণ ২৪ পরগনার মতো মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলি বছরের পর বছর ধরে নির্বাচনে বড় ভূমিকা পালন করে আসছে। কিন্তু এবারে SIR-এর চূড়ান্ত তালিকা থেকে বহু জনের নাম বাদ পড়েছে। সেই রিপোর্টই এখন সামনে এসেছে।

    রিপোর্টে চাঞ্চল্য

    এক রিপোর্ট অনুযায়ী, মালদায় খসড়া তালিকায় ২ লক্ষ ১ হাজার ৮৭৩ জনের নাম বাদ গিয়েছিল। চূড়ান্ত তালিকায় সংখ্যাটা ২ লক্ষ ২০ হাজার ১৫৩। সেই অনুযায়ী বিচার করলে আরও ১৮ হাজার ২৮০ নাম বাদ গিয়েছে। অন্যদিকে মুর্শিদাবাদে খসড়া তালিকায় নাম বাদ গিয়েছিল ২ লক্ষ ৭৮ হাজার জনের। আর চূড়ান্ত তালিকায় বাদ গেল আরও ১৪ হাজার ৯৮৫ নাম, সব মিলিয়ে প্রায় ২ লক্ষ ৯৩ হাজার। জেলায় খসড়া তালিকায় নাম বাদ গিয়েছিল ৭ লক্ষ ৯২ হাজারের উপর। চূড়ান্ত তালিকায় দেখা গেল নাম বাদ গেছে আরও ১ লক্ষ ৪২ হাজার ২৯৭ জনের।

    আরও পড়ুনঃ মাসের প্রথম দিনে সোনা, রুপোর দামে মহা পরিবর্তন! আজকের রেট

    আবার দক্ষিণ ২৪ পরগনায় খসড়া তালিকায় ৮লক্ষ ১৮ হাজার ৪৩২ ভোটারের নাম বাদ গিয়েছিল, শনিবারের চূড়ান্ত তালিকায় দেখা গেল ৮৭ হাজার ৫৪৮ জন ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। এ নিয়ে বড় মন্তব্য করেছেন তৃণমূল নেতা ফিরহাদ হাকিম। তাঁর বক্তব্য, “ওরা যতই ফন্দি করুক, অমিত শাহ যতই মুর্শিদাবাদকে ভয় পান, যতই বাঙালি ভোটার কাটুন, বাংলাকে কাটাতে পারবে না। আমরা কেউ অনুপ্রবেশকারী নই, আমরা কেউ রোহিঙ্গা নই।”