Tag: Siliguri

  • স্বপ্না বর্মণের জীবনে শোকের ছায়া, বাবাকে হারিয়ে ভেঙে পড়লেন তৃণমূলের প্রার্থী

    স্বপ্না বর্মণের জীবনে শোকের ছায়া, বাবাকে হারিয়ে ভেঙে পড়লেন তৃণমূলের প্রার্থী

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ক্রমেই এগিয়ে আসছে ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026), কিন্তু তার আগেই ঘটে গেল এক ভয়ংকর বিপদ। উত্তরবঙ্গের রাজগঞ্জ কেন্দ্রের প্রার্থী হওয়ার পরই বড় ধাক্কা খেলেন অ্যাথলিট কন্যা স্বপ্না বর্মন (Swapna Barman)৷ দীর্ঘ অসুস্থতার পর বুধবার রাতে বাবাকে হারালেন (Swapna Barman Father Passes Away) রাজগঞ্জের তৃণমূল প্রার্থী৷ শোকের ছায়া নেমে এল পরিবারে। পাশে দাঁড়ালেন তৃণমূল নেতা নেত্রীরা।

    মারা গেলেন স্বপ্না বর্মনের বাবা

    আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে মাথায় রেখেই গত মঙ্গলবার তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হয়েছে। আর সেই তালিকায় উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে উঠে এল নয়া মুখ স্বপ্না বর্মন। জানা গিয়েছে জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে দাঁড়াতে চলেছেন এই অ্যাথলিট কন্যা। রাজনীতির দুনিয়ায় প্রথমবার ভোটে দাঁড়িয়ে বেশ খুশি তিনিও। কিন্তু এসবের মাঝেই বড় দুর্যোগ নেমে এল তাঁর পরিবারে। জানা গিয়েছে গতকাল, বুধবার রাতে ৭২ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন স্বপ্না বর্মনের বাবা। শোকের ছায়া নেমে এসেছে বর্মন পরিবারে, মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছেন স্বপ্নাও৷

    দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন স্বপ্না!

    সূত্রের খবর, স্বপ্না বর্মনের বাবা পঞ্চানন বর্মন গত বৃহস্পতিবার রাতে ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তড়িঘড়ি ওইদিন রাত প্রায় তিনটের সময় কালিয়াগঞ্জের বাড়ি থেকে পঞ্চাননকে জলপাইগুড়ি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল। এরপর নিউরোলজিক্যাল চিকিৎসার জন্য পরেরদিন, শুক্রবার দুপুরে তাঁকে শিলিগুড়ির একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল। এদিকে ওইদিনই সকালে দুইবার তাঁর হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল। অবস্থা অত্যন্ত সংকটপূর্ণ ছিল। বিশেষ মেডিকেল টিম বানিয়ে তাঁর চিকিৎসার সমস্ত ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু সব চেষ্টাই বৃথা হয়ে গেল।

    আরও পড়ুন: সুরক্ষায় নয়া রেকর্ড গড়ল রেল, ৩০০০ কিমিতে চালু ‘কবচ’, কাজ চলছে আরও ২০০০০ কিমিতে

    এশিয়ান গেমসে সোনা জয়ের লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরেই নানা সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে নিজেকে গড়ে তুলেছেন স্বপ্না বর্মন। দারিদ্র্য, অভাব-অনটন নিয়ে সংসার চালিয়েছিলেন তাঁর বাবা। শেষে সব কিছু পেরিয়ে দেশের হয়ে সোনা জয়ের গল্প ইতিমধ্যেই বহু মানুষের কাছে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। আর এবার স্বপ্না আরও একটি অধ্যায় শুরু করতে চলেছে একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে। কিন্তু সেই নতুন অধ্যায়ের সূচনা প্রাণের প্রিয় মানুষকে হারিয়ে রীতিমত কান্নায় ভেঙে পড়েছেন তিনি। এদিকে রাজগঞ্জ কেন্দ্রকে ঘিরে রাজনৈতিক লড়াইও ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। এখন দেখার এই সবকিছুকে ছাপিয়ে স্বপ্না জয়ের লক্ষ্যে কতটা এগিয়ে যেতে পারে।

  • দার্জিলিং-এর আকাশে ওটা কী! রহস্যময় আলো ঘিরে পাহাড়ে শোরগোল

    দার্জিলিং-এর আকাশে ওটা কী! রহস্যময় আলো ঘিরে পাহাড়ে শোরগোল

    সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ আকাশে ওটা কী! দার্জিলিং (Darjeeling) ঘুরতে গিয়ে ঘোরার আনন্দ যেন অনেকেরই মাটি হয়ে গেল। রাতের আকাশে এক রহস্যময় আলো (Mysterious Light) দেখে আতঙ্কিত সকলে। ইতিমধ্যে দার্জিলিং-এর আকাশে দেখা যাওয়া সেই আলোর ছবি সামাজিক মাধ্যমে বিদ্যুতের গতিতে ভাইরাল হচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে, কীসের আলো এটা? কীসেরই বা ইঙ্গিত এটা? ভেবে দিশেহারা সকলে।

    দার্জিলিং-এর আকাশে রহস্যময় আলো

    শুধু দার্জিলিং-ই নয়, শিলিগুড়ি, সিকিমের আকাশেও এই আলো দেখা গিয়েছে। সবথেকে বড় কথা, একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন যে উজ্জ্বল এবং রহস্যময় আলোটা আকাশে ৫–৭ মিনিট ধরে ছিল। আলোটি নাকি উত্তর-পূর্ব থেকে পশ্চিমের দিকে ছিল। তাহলে কি বিমানের থেকে আলো ঠিকরে বেরিয়েছে? সেটাও কেউ বলতে বা মানতে নারাজ। কারণ মানুষ জানিয়েছেন, ঘটনার সময়ে নাকি আকাশে কোনও বিমান বা জেট প্লেনের আওয়াজ বা দেখা মেলেনি।

    আরও পড়ুনঃ শিয়ালদা ডিভিশনের যাত্রীদের পোয়া বারো, একাধিক লোকাল ট্রেনের স্টপেজ বাড়াল রেল

    ভাইরাল ভিডিও

    কেউ কেউ বলছেন, চাইনিজ রকেট বা মিসাইল টেস্ট করা হচ্ছে? অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে দাবি করেছেন, দার্জিলিং-এর আকাশে উজ্জ্বল “জেলিফিশ”-এর মতো দেখতে আলো দেখা গিয়েছে, যা সম্ভবত চীনের ইয়াওগাং-৫০-০২ উপগ্রহ উৎক্ষেপণ থেকে এসেছে। গত ১৫ মার্চ তাইয়ুয়ান স্যাটেলাইট লঞ্চ সেন্টার থেকে লং মার্চ-৬এ রকেটে উৎক্ষেপণ করা হয়। আবার এউ কেউ বলছেন ভিনগ্রহ থেকে আসা কোনও যান নয়তো? যদিও এই বিষয়ে এখনও অবধি প্রশাসনের তরফে কিছু জানানো হয়নি।

     

  • বিজেপি কর্মী বোঝাই ট্রেনে ছোঁড়া হল পাথর, ভাঙল একাধিক জানলার কাঁচ! চাঞ্চল্য শিলিগুড়িতে

    বিজেপি কর্মী বোঝাই ট্রেনে ছোঁড়া হল পাথর, ভাঙল একাধিক জানলার কাঁচ! চাঞ্চল্য শিলিগুড়িতে

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election)। ইতিমধ্যেই সময়সূচি ঘোষণা হয়েছে নির্বাচনের। তার আগে গতকাল কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জনসভা ছিল। আর সেখানে উত্তরবঙ্গ থেকে শুরু করে গোটা দেশের বিভিন্ন রাজ্য থেকে বিজেপি সমর্থকরা ভিড় জমিয়েছিল। সেই সূত্রে উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়িতে (Siliguri) বিজেপি কর্মী সমর্থকদের নিয়ে ফিরছিল একটি ট্রেন। আর সেই ট্রেনকে লক্ষ্য করেই পাথর ছোঁড়ার অভিযোগ ওঠে দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে।

    হঠাৎ করে ট্রেনে পাথর বৃষ্টি

    জানা যাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ব্রিগেড সমাবেশে যোগ দিয়ে উত্তরবঙ্গের কর্মী সমর্থকরা ওই ট্রেনে করে শিলিগুড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন। আর সেই সময় হঠাৎ করে ট্রেনটিকে লক্ষ্য করে পাথর ছোঁড়া হয় বলে অভিযোগ। সূত্রের খবর, এই ঘটনাটি ঘটে শিলিগুড়ির পুর নিগমের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কয়লাডিপো এলাকায়। বিজেপি অভিযোগ করছে, কলকাতায় প্রধানমন্ত্রীর সভাশেষ হওয়ার সময় এই হামলার ঘটনা ঘটে। এমনকি এতে ট্রেনের কয়েকটি জানালার কাঁচ ভেঙে যায় আর যাত্রীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই আতঙ্কে সিট থেকে সরে যান।

    এদিকে এই ঘটনায় বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয় যে, তৃণমূল কংগ্রেসের আশ্রিত দুষ্কৃতীরায় পরিকল্পনা করে তাদের উপর এই হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, বিজেপির কর্মীরা যাতে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে না পারে, সেই উদ্দেশ্যেই আক্রমণ করা হয়েছে। তবে অন্যদিকে তৃণমূল তাদের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। শাসকদলের দাবি, বিজেপি রাজনৈতিকভাবে বিষয়টিকে দেখাতে চাইছে। স্থানীয় কিছু বাসিন্দাদের বক্তব্য, ট্রেন থেকে কয়েকজন বিজেপি কর্মী উস্কানিমূলক আচরণ করেছিলেন এবং অশালীন অঙ্গভঙ্গিও করেন। তাতেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

    আরও পড়ুন: দুই দফায় নির্বাচন বাংলায়, কোন জেলায় কবে ভোটগ্রহণ? দেখুন তালিকা

    এদিকে স্থানীয়রা আরও দাবি করে, ঘটনার পর দুই পক্ষের মধ্যে পাথর ছোঁড়াছুড়ি হয়। আর এতে ট্রেনের বেশ কয়েকটি জানালার কাঁচও ভেঙে যায়। আর এই ঘটনায় যাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু সেরকম কোনও হতাহতের খবর মেলেনি। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

  • দোলে রেকর্ড মদ বিক্রি উত্তর থেকে দক্ষিণবঙ্গে, কোন জেলায় কত? দেখুন পরিসংখ্যান

    দোলে রেকর্ড মদ বিক্রি উত্তর থেকে দক্ষিণবঙ্গে, কোন জেলায় কত? দেখুন পরিসংখ্যান

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: হোলির মরশুম (Holi 2026) ঘিরে তুমুল হইচই রাজ্য জুড়ে। আবির আর পিচকারির এই বর্ণময় আনন্দের মাঝেই উঠে এল এক নয়া তথ্য। জানা গিয়েছে সুরাপ্রেমীদের দৌলতে নাকি রাজ্যের (West Bengal) কোষাগারে রেকর্ড পরিমাণ রাজস্ব লাভ করল প্রশাসন। আবগারি দফতরের প্রাথমিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরে দোল ও হোলির দিনগুলোতে রাজ্যে মদ বিক্রি (Record Liquor Sold In West Bengal) নাকি বিগত সমস্ত রেকর্ডকে ছাপিয়ে গিয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুর এবং দার্জিলিং এর দোকানে দোকানে ভিড় উপচে পড়েছে।

    ১২০ কোটি টাকার মদ বিক্রি রাজ্যে

    আবগারি দফতরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের দোলের মরসুমে রাজ্যজুড়ে মদ বিক্রি করে রাজস্ব আদায় হয়েছে প্রায় ১২০ কোটি টাকা। রেকর্ড হারে মদ বিক্রি হয়েছে এলাকায় এলাকায়, যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাহিদা ছিল বিয়ারের। শুধুমাত্র বিয়ার বিক্রি থেকেই এসেছে ৭০ কোটি টাকা। আর এই সুরাপ্রেমীদের দৌলতে পূর্ব মেদিনীপুরেও দোল ও হোলির দিনগুলোতে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১ থেকে ৪ মার্চ পর্যন্ত এই চার দিনে মোট ৩০ কোটি ১১ লক্ষ টাকার মদ বিক্রি হয়েছে। যার মধ্যে দেশি মদ বিক্রি হয়েছে প্রায় ২ লক্ষ ৭৭ হাজার লিটার। পাশাপাশি বিদেশি মদ বিক্রি হয়েছে প্রায় ১ লক্ষ ৮৬ হাজার লিটার।

    ৩ দিনে মোট ১১ কোটির বেশি মদ বিক্রি

    পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় দিঘা, মন্দারমণি, তাজপুর–সহ একাধিক জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে। ফলে যে কোনও ছুটির মরশুমেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি ভিন রাজ্য থেকেও বহু পর্যটক এখানে ভিড় করেন। তাই সেখানে নদের চাহিদাও বেশি। একইভাবে দোলের দিন শিলিগুড়ি সহ দার্জিলিংয়েও রেকর্ড বিক্রি হয়েছে মদ। আবগারি দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে ২ মার্চ থেকে ৪ মার্চ পর্যন্ত ৩ দিনে মোট ১১ কোটি ১৬ লক্ষ ৮০ হাজার টাকার মদ বিক্রি হয়েছে। গত ২ মার্চ দার্জিলিং এ ৪ কোটি ১০ লক্ষ টাকার মদ বিক্রি হয়েছে। ৩ মার্চ ৬ কোটি ৮৭ লক্ষ টাকার মদ বিক্রি হয়েছে এবং ৪ তারিখ ১ কোটি ৯৮ লক্ষ টাকার মদ বিক্রি হয়েছে।

    আরও পড়ুন: লক্ষ্মীর ভাণ্ডার অতীত! বাংলার মহিলাদের জন্য গঠন হবে ৫৭০০ কোটির তহবিল

    রাজ্যে বৈধ মদের পাশাপাশি অবৈধ চোলাই মদের রমরমাও বেশ বেড়েছে, তাই সেই তৎপরতা রুখতে সক্রিয় হয়েছে প্রশাসন। গোটা ফেব্রুয়ারি মাস জুড়ে জেলায় অভিযান চালিয়েছে আবগারি দফতর ও প্রশাসন। জানা গিয়েছে, পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় দোলের দিন বিশেষ অভিযান চালিয়ে আবগারি দপ্তর মোট ১৩২ লিটার চোলাই মদ উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় দু’জনকে গ্রেপ্তার করার পাশাপাশি দু’টি বাইকও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এদিকে রাজ্যের এই বিপুল পরিমাণ মদ বিক্রি নিয়ে আতঙ্কিত মাদক বিরোধী সংগঠনগুলো। পূর্ব মেদিনীপুর জেলা মদ ও মাদক দ্রব্য বিরোধী কমিটির আহ্বায়ক নারায়ণচন্দ্র নায়ক বলেন, ‘রাজ্য সরকার ঢালাও মদের লাইসেন্স দেওয়ার কারণেই এই অপরাধ বাড়ছে। যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অশনিসংকেত।’

  • ‘আমি ক্লান্ত, আর চালাতে পারব না’, শিলিগুড়িগামী ট্রেন স্টেশনে রেখে চলে গেলেন চালক

    ‘আমি ক্লান্ত, আর চালাতে পারব না’, শিলিগুড়িগামী ট্রেন স্টেশনে রেখে চলে গেলেন চালক

    সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাজ নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন রেল কর্মীরা। বিশেষ করে লোকো পাইলটরা (Loco Pilot)। তাঁদের অভিযোগ, অমানুষিক খাটনি খাটছেন তাঁরা। ডিউটি আওয়ারের কোনও সময় নেই। এহেন ঘটনার প্রতিবাদেই এবার থাকতে না পেরে বিরাট কাণ্ড ঘটালেন এক লোকো পাইলট। গত বুধবারের ঘটনা। বিহারের ঠাকুরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে রেলের নিয়ম লঙ্ঘন এবং যাত্রীদের অসহায়ত্বের এক অনন্য ঘটনা সামনে এসেছে।

    ৯ ঘন্টা ডিউটির পর আর ট্রেন চালাতে অস্বীকার চালকের

    মালদা থেকে শিলিগুড়িগামী ট্রেন নম্বর ৭৫৭১৯ ডেমু ট্রেন দুপুর ২:৫২ মিনিটে শুরু হয়ে প্রায় তিন ঘন্টা ধরে ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে ছিল। কোনও যান্ত্রিক ত্রুটি বা দুর্ঘটনা নয়, বরং ট্রেনের লোকো পাইলট তার দায়িত্ব শেষ করার পরেও কাজ করতে অস্বীকার জানান। তিনি ক্লান্ত, কাজ করতে পারবেন না বলে জানান। এহেন ঘটনাকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র।

    আরও পড়ুনঃ নিচে মেট্রো, মাঝখানে ট্রেন, উপরে ছুটবে বুলেট ট্রেন! ভারতে তৈরি হচ্ছে ১৬ তলার স্টেশন

    ট্রেনটি নির্ধারিত সময়সূচী অনুসারে মালদা ছেড়ে যায়, কিন্তু ঠাকুরগঞ্জে পৌঁছানোর পর, ড্রাইভার স্টেশন মাস্টারকে জানায় যে তার নয় ঘন্টার ডিউটি ​শেষ হয়েছে। রেলওয়ে নিরাপত্তা বিধিমালার উল্লেখ করে লোকো পাইলট বলেন যে নির্ধারিত সময়ের বেশি ট্রেন চালানো হলে অপারেশনাল নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এদিকে স্টেশন মাস্টার ও অন্যান্য রেল আধিকারিকরা বারবার তাঁকে ট্রেনটি গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ করলেও তিনি নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন। সাফ জানিয়ে দেন, ‘আমি ক্লান্ত, আর কিছুতেই যাবো না।’

    রেলের নিয়ম কী?

    এমনিতে রেলের নিয়ম অনুযায়ী, অপারেশনাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য, লোকো পাইলটদের সর্বোচ্চ ৯ থেকে ১০ ঘন্টা একটানা ডিউটির পর বিশ্রাম নেওয়ার বাধ্যতামূলক অধিকার রয়েছে, যাতে ক্লান্তির কারণে বড় দুর্ঘটনা এড়ানো যায়। সেই নিয়ম উল্লেখ করেই ওই লোকো পাইলট আর ট্রেন এগিয়ে নিয়ে যেতে অস্বীকৃতি জানান। এদিকে দুপুর ২:৫২ থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ট্রেনটি আটকে থাকায় যাত্রীদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যায়। ট্রেনটি ব্যবসায়ী, দিনমজুর এবং ছোট বাচ্চাদের পরিবার নিয়ে শিলিগুড়ি এবং কিষাণগঞ্জ যাচ্ছিল। ঘন্টার পর ঘন্টা স্টেশনে আটকে থাকার জন্য যাত্রীরা রেল প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দেন।

  • যানজট এড়িয়ে ১৫ মিনিটেই সমতল থেকে পাহাড়, কার্শিয়াংয়ে কবে থেকে শুরু হবে রোপওয়ে?

    যানজট এড়িয়ে ১৫ মিনিটেই সমতল থেকে পাহাড়, কার্শিয়াংয়ে কবে থেকে শুরু হবে রোপওয়ে?

    সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ পর্যটকদের জন্য রইল দারুণ সুখবর। আপনিও কি সম্প্রতি পাহাড়ে ঘুরতে যাওয়ার প্ল্যান করছেন? তাহলে জানিয়ে রাখি, এবার আপনি মাত্র ১৫ মিনিটে সমতল থেকে পাহাড়ে এবং পাহাড় থেকে সমতলে ওঠানামা করতে পারবেন। আর এর জন্য দীর্ঘ বহু বছর পর চালু হবে কার্শিয়াংয়ে রোপওয়ে (Kurseong Ropeway) পরিষেবা। হ্যাঁ একদম ঠিক শুনেছেন। এই রোপওয়ে পরিষেবার মাধ্যমে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সাধারণ পর্যটকরা দারুণভাবে লাভবান হবেন।

    এবার সমতল থেকে পাহাড়ে পৌঁছান মাত্র ১৫ মিনিটে

    জানা গিয়েছে, দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে শিলিগুড়ির রোহিণী লেক থেকে কার্শিয়াংয়ের গিদ্দা পাহাড় পর্যন্ত যাত্রীবাহী রোপওয়ে পরিষেবা শুরু হতে চলেছে। ২০১৪ সালে প্রায় আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ এই রোপওয়ে তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল। লক্ষ্য ছিল ১৮ মাসের মধ্যে কাজ শেষ করা। কিন্তু এক যুগ পেরিয়ে গেলেও কাজের কাজ কিছু হয়নি। এরপর ২০২৩ সালে বরাতপ্রাপ্ত কলকাতার সংস্থাকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এদিকে এখন পাহাড়ের গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন নতুন করে অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করতে টেন্ডার ডেকেছে। সংস্থার মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শক্তিপ্রসাদ শর্মা জানিয়েছেন, নতুন কোনও সংস্থাকে দায়িত্ব দিয়ে দ্রুত কাজ শেষ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, এ বার আর বাধা আসবে না।

    এই প্রোজেক্টের সঙ্গে যুক্ত এক কর্মকর্তা জানান, “২.৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রোপওয়ে শিলিগুড়ি এবং কার্শিয়াংয়ের পর্যটক এবং বাসিন্দাদের জন্য উপকারী হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, পাহাড়ি রাস্তা ধরে যানবাহনের তুলনায় রোপওয়েটি ভ্রমণের সময়কে উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেবে। রোপওয়েতে ভ্রমণে প্রায় ১৫ মিনিট সময় লাগবে এবং যানবাহন চলাচলে ৪০-৪৫ মিনিট সময় লাগবে।”

    আরও পড়ুনঃ ‘এই দিনের মধ্যে DA দিতেই হবে পশ্চিবঙ্গ সরকারকে’

    কী কী রয়েছে গিদ্দা পাহাড়ে?

    এই মনোকেবল কন্টিনিউয়াস রোটেটিং গন্ডোলাতে ২২টি কেবিন থাকবে এবং প্রতি ঘন্টায় ৫০০ জন যাত্রী বহন করতে পারবে। এটি একটি দূষণমুক্ত পরিবহন ব্যবস্থাও প্রদান করবে। মোট প্রকল্প ব্যয় প্রায় ১৮ কোটি টাকা বলে খবর। কার্শিয়ং বাস স্ট্যান্ড থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত গিদ্দা পাহাড় থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা এবং উপত্যকার বেশ মনোরম দৃশ্য দেখা যায়।

    আরও পড়ুনঃ মার্চেই হাঁসফাঁস পরিস্থিতি দক্ষিণবঙ্গে? ৪ জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ, শিলাবৃষ্টি! আজকের আবহাওয়া

    গিদ্দাপাহাড়ে অবস্থিত নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু জাদুঘরটি একটি প্রধান পর্যটন আকর্ষণ। এটি মূলত ১৯২২ সালে লেখক এবং প্রবীণ স্বাধীনতা সংগ্রামী শরৎ চন্দ্র বসুর কেনা একটি ব্যক্তিগত বাড়ি ছিল। পরবর্তীতে ১৯৩৩ থেকে ১৯৩৫ সালের মধ্যে, শরৎচন্দ্র এবং পরবর্তীকালে নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুকে ব্রিটিশরা এখানে গৃহবন্দী করে রেখেছিল বলে খবর। গিদ্দা পাহাড় সেতি মাতা মন্দির – দেবী দুর্গার হিন্দু মন্দির – পর্যটকদের জন্য আরেকটি প্রধান আকর্ষণ।