Tag: Sikkim

  • ধসে পড়তে পারে গোটা হিমবাহ! জরুরি সতর্কতা জারি সিকিমে

    ধসে পড়তে পারে গোটা হিমবাহ! জরুরি সতর্কতা জারি সিকিমে

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ২০২৬ মানেই যেন বিপর্যয়ের বছর! চারিদিকে যুদ্ধ তো লেগেই রয়েছে, তার উপর আবার শোনা যাচ্ছে, সিকিমে হিমবাহ ধরে পড়তে পারে (Glacier Avalanche Forecast)। ২০২৩ সালে দক্ষিণ লোনাক লেকের সেই ভয়াবহ বিপর্যয়ের ঘটনায় এখনো পর্যন্ত সাধারণ মানুষের মনে গেঁথে রয়েছে। তারই মধ্যে উত্তর ও পূর্ব সিকিমে এবার বিপর্যয়ের আশঙ্কা। সম্প্রতি প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা ডিআরডিও এবং সিকিম বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর যৌথভাবে পূর্ব সিকিমে (Sikkim) হিমবাহ ধস নিয়ে হাই অ্যালার্ট জারি করেছে। আর আগামী ২৪ ঘণ্টা সিকিমের পার্বত্য এলাকার জন্য অত্যন্ত সংকটজনক বলেই দাবি করা হয়েছে।

    কোন কোন জায়গায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে?

    প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, পূর্ব সিকিমের উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলগুলিতে বিশেষ করে নাথুলা, জুলুক এবং নাথাং ভ্যালি এলাকায় হিমবাহে ধসের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। আর গ্যাংটক এবং পাকিয়ং জেলা প্রশাসনকে যে কোনও পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য আগে থেকেই প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নাথুলায় সেনা ছাউনি আর নাথাং ভ্যালিতে ছোট পাহাড়ি গ্রাম থাকার কারণে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা একেবারে উড়িয়ে দিচ্ছে না প্রশাসন।

    আবহাওয়াবিদরা মনে করছেন, বঙ্গোপসাগরে বিপরীত ঘূর্ণাবর্ত এবং উত্তর-পশ্চিম ভারতের পশ্চিমী ঝঞ্ঝার জেরেই হিমালয় সংলগ্ন এলাকায় এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। আর ভারী বৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি এবং তুষারপাত এই তিনের দাপটে একেবারে সাধারণ মানুষের জনজীবন বিপর্যস্ত। পাশাপাশি গত শুক্রবার থেকে উত্তর সিকিমের লাচুং, লাচেন এবং পূর্ব সিকিমের ছাঙ্গু ও নাথুলা তো পুরু বরফে ঢেকে গিয়েছে। তারপর আবার হিমবাহ ধসের আশঙ্কা।

    সান্দাকফুতে আটকে বহু পর্যটক

    বেশ কয়েকটি রিপোর্ট অনুযায়ী জানা যাচ্ছে, সিকিমের পাশাপাশি দার্জিলিংয়ের পাহাড়ের অবস্থাও বেশ উদ্বেগজনক। কারণ, তুষারপাতে সান্দাকফু ও ফালুট চত্বরে মানেভঞ্জন থেকে যাতায়াতের রাস্তা এখন সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে গিয়েছে। আর জানা যাচ্ছে, সান্দাকফুতে বর্তমানে প্রায় ৫০ জন পর্যটক আটকা পড়েছেন। তারা কোনও মতেই আসতে পারছেন না। তারা সুরক্ষিত থাকলেও বরফ গলে রাস্তা পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত নিচে নামিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে না।

    আরও পড়ুন: খোলা ছিল রেলগেট, যাত্রীবোঝাই বাসে ধাক্কা ট্রেনের! ঘটনাস্থলেই নিহত ১২

    এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দফতরের গ্যাংটক শাখার আধিকারিক গোপীনাথ রায় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, শনিবার রাত্রিবেলাও এই এলাকাতে ভারী বৃষ্টি এবং তুষারপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু আশা করা যাচ্ছে যে, রবিবার দুপুরের পর থেকে আবহাওয়া আবার স্বাভাবিক হতে পারে। সোমবার থেকে আটকে পড়া পর্যটকদের আবারো ফেরানোর কাজ শুরু হতে পারে। আর সিকিম সরকার ইতিমধ্যেই বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে দ্রুত ওই এলাকাগুলোতে মোতায়েন রাখতে বলেছে। এখন দেখার পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হয়।

  • আজ পর্যন্ত গড়ায়নি ট্রেনের চাকা, দেশের সেই রাজ্যেই রেলপথ তৈরিতে মিলল বিরাট সাফল্য

    আজ পর্যন্ত গড়ায়নি ট্রেনের চাকা, দেশের সেই রাজ্যেই রেলপথ তৈরিতে মিলল বিরাট সাফল্য

    বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: ভারতীয় রেল (Indian Railways) বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম রেল নেটওয়ার্ক। আর সেই দেশেরই একমাত্র রাজ্য সিকিমে (Sikkim) আজ পর্যন্ত গড়ায়নি ট্রেনের চাকা। রেল ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন উত্তর-পূর্ব ভারতের এই রাজ্যকে রেল ট্র্যাকে জুড়তে আগেই বড় উদ্যোগ নিয়েছিল ভারতীয় রেল। সেই সূত্রেই সিকিমের দুর্গম ভূখণ্ড সত্বেও দেশের অন্যান্য অংশের সাথে রাজ্যটির মানুষকে জুড়তে রেলপথ খুলছে রেল। জানা যাচ্ছে, নর্থইস্ট ফ্রন্টিয়ার রেলওয়ের অধীনে পশ্চিমবঙ্গের সেবক থেকে সিকিমের রংপো পর্যন্ত রেললাইন পাতার কাজ চলছে। সবচেয়ে বড় কথা, দুর্গম পরিবেশে পাথর-মাটি কেটে সুরঙ্গ তৈরির কাজে বড় সাফল্য পেয়েছে রেল। যা সেবক-রংপো রেল প্রকল্পকে নতুন মাত্রা দিয়েছে তা বলাই যায়।

    রেলহীন রাজ্যে রেলপথ নির্মাণ করছে ভারতীয় রেল

    ভারতীয় রেলের উদ্যোগে এবং নর্থইস্ট ফ্রন্টিয়ারের তত্ত্বাবধানে পশ্চিমবঙ্গের সেবক থেকে সিকিমের রংপো পর্যন্ত দুর্গম পরিবেশে রেললাইন পাতার কাজ জোর কদমে চলছে। এ প্রসঙ্গে এই রেল প্রকল্পের মুখ্য ডিজাইনার আরমান্দো ক্যাপেলান জানিয়েছেন, 600 জন ইঞ্জিনিয়ার এবং কয়েক হাজার কর্মীকে সাথে নিয়ে হিমালয় এলাকায় ভূগর্ভস্থ মাটি এবং পাথর কাটার কাজ চলেছে। তবে এই অঞ্চলে ডিনামাইট বিস্ফোরণ ঘটিয়ে কাজ করা যায়নি। যার ফলে গাইতি এবং বেলচা দিয়েই মাটি কেটে সুরঙ্গ তৈরি করেছেন কর্মীরা।

    রেল সূত্রে খবর, ট্রেন চলাচলের জন্য 14টি সুরঙ্গ তৈরির কাজ চলছে। ওই সুরঙ্গ দিয়েই ট্রেন পশ্চিমবঙ্গের সেবক থেকে রংপো পর্যন্ত ছুটবে। পরে আবার একই সুরঙ্গ ধরে ফিরে আসবে গন্তব্যে। জানা যাচ্ছে 14টি টানেলের মধ্যে ইতিমধ্যেই 13টি টানেলের কাজ শেষ হয়েছে। যদিও এই সুরঙ্গ তৈরি করতে যথেষ্ট ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হয়েছে কর্মীদের। রেলের দাবি, সুরঙ্গগুলির মধ্যে 8 নম্বর সুরঙ্গটির দৈর্ঘ্য 4,148 কিলোমিটার। এই প্রকল্পের ইঞ্জিনিয়াররা স্বীকার করে নিয়েছেন, পুরনো খনন পদ্ধতি ব্যবহার করে হিমালয়ের গর্ভে পাথর এবং মাটি কাটার কাজ একেবারেই সহজ ছিল না।

    অবশ্যই পড়ুন: বাংলার গুরুত্বপূর্ণ রুটে একাধিক ট্রেন বাতিল করল রেল, সমস্যায় পড়বেন যাত্রীরা

    প্রসঙ্গত, বিশেষজ্ঞ মহলের অনেকেই বলছেন, এই রেল প্রকল্পের অধিকাংশটাই রয়েছে বাংলায়। বাকি কিছু অংশ রয়েছে সিকিমের রংপোতে। কিন্তু তা হলেও বিশেষজ্ঞদের দাবি, রেল ব্যবস্থাহীন রাজ্যকে বাংলার সাথে জুড়তে ভারতীয় রেল যে উদ্যোগ নিয়েছে তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। 8 নম্বর টানেল বা সুরঙ্গ তৈরি করতে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েও তাতে সফল হয়েছেন ইঞ্জিনিয়াররা। সব ঠিক থাকলে, 2027 সালের ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে এই রেল প্রকল্পের কাজ। আর তারপরই কেন্দ্রের অনুমোদন নিয়ে সিকিমের উপর দিয়ে চলবে ট্রেন। এক কথায়, সেবক-রংপো রেল প্রকল্পের হাত ধরে অবশেষে ভারতীয় রেলের মানচিত্রে জায়গা পেতে চলেছে সিকিম।

  • দার্জিলিং-এর আকাশে ওটা কী! রহস্যময় আলো ঘিরে পাহাড়ে শোরগোল

    দার্জিলিং-এর আকাশে ওটা কী! রহস্যময় আলো ঘিরে পাহাড়ে শোরগোল

    সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ আকাশে ওটা কী! দার্জিলিং (Darjeeling) ঘুরতে গিয়ে ঘোরার আনন্দ যেন অনেকেরই মাটি হয়ে গেল। রাতের আকাশে এক রহস্যময় আলো (Mysterious Light) দেখে আতঙ্কিত সকলে। ইতিমধ্যে দার্জিলিং-এর আকাশে দেখা যাওয়া সেই আলোর ছবি সামাজিক মাধ্যমে বিদ্যুতের গতিতে ভাইরাল হচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে, কীসের আলো এটা? কীসেরই বা ইঙ্গিত এটা? ভেবে দিশেহারা সকলে।

    দার্জিলিং-এর আকাশে রহস্যময় আলো

    শুধু দার্জিলিং-ই নয়, শিলিগুড়ি, সিকিমের আকাশেও এই আলো দেখা গিয়েছে। সবথেকে বড় কথা, একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন যে উজ্জ্বল এবং রহস্যময় আলোটা আকাশে ৫–৭ মিনিট ধরে ছিল। আলোটি নাকি উত্তর-পূর্ব থেকে পশ্চিমের দিকে ছিল। তাহলে কি বিমানের থেকে আলো ঠিকরে বেরিয়েছে? সেটাও কেউ বলতে বা মানতে নারাজ। কারণ মানুষ জানিয়েছেন, ঘটনার সময়ে নাকি আকাশে কোনও বিমান বা জেট প্লেনের আওয়াজ বা দেখা মেলেনি।

    আরও পড়ুনঃ শিয়ালদা ডিভিশনের যাত্রীদের পোয়া বারো, একাধিক লোকাল ট্রেনের স্টপেজ বাড়াল রেল

    ভাইরাল ভিডিও

    কেউ কেউ বলছেন, চাইনিজ রকেট বা মিসাইল টেস্ট করা হচ্ছে? অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে দাবি করেছেন, দার্জিলিং-এর আকাশে উজ্জ্বল “জেলিফিশ”-এর মতো দেখতে আলো দেখা গিয়েছে, যা সম্ভবত চীনের ইয়াওগাং-৫০-০২ উপগ্রহ উৎক্ষেপণ থেকে এসেছে। গত ১৫ মার্চ তাইয়ুয়ান স্যাটেলাইট লঞ্চ সেন্টার থেকে লং মার্চ-৬এ রকেটে উৎক্ষেপণ করা হয়। আবার এউ কেউ বলছেন ভিনগ্রহ থেকে আসা কোনও যান নয়তো? যদিও এই বিষয়ে এখনও অবধি প্রশাসনের তরফে কিছু জানানো হয়নি।

     

  • সেবক-রংপো রেল প্রকল্পে শেষ হল বড় কাজ, কবে ছুটবে ট্রেন?

    সেবক-রংপো রেল প্রকল্পে শেষ হল বড় কাজ, কবে ছুটবে ট্রেন?

    বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: হিমালয়ের অন্তর্ভুক্ত তিস্তা বাজার ও মেলি বাজারের (Sevoke-Rangpo Railway) মাঝ বরাবর প্রতিকূল পরিবেশে পাথর-মাটি কেটে অন্তত 4.1 কিলোমিটারের সুদীর্ঘ পথ তৈরির কাজ শেষ হয়েছে ইতিমধ্যেই। সেই সাথে সম্পন্ন হয়েছে সেবক থেকে রংপো রেল প্রকল্পের চ্যালেঞ্জিং কাজও। একেবারে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে হিমালয়ের গর্ভে কাজ করেছেন শ্রমিকরা। এই প্রকল্পের ইঞ্জিনিয়াররা বলছেন, ভূগর্ভস্থ এলাকার পাথর এবং মাটি এতটাই নরম অবস্থায় ছিল যে, কোনও ভাবেই এখানে বিস্ফোরণ ঘটাতে পারেননি তারা। কিন্তু তা সত্বেও সুষ্ঠুভাবেই সম্পন্ন হয়েছে বড় কাজ।

    গাইতি, বেলচা দিয়ে কাটা হয়েছে পাথর-মাটি

    হিমালয় এলাকায় ভূগর্ভস্থ মাটি এবং পাথর এতটাই বিপজ্জনক অবস্থায় ছিল যে ইঞ্জিনিয়াররা আলাদা করে ঝুঁকি না নিয়ে একেবারে গাইতি, বেলচা দিয়ে ভূগর্ভের দু দিক থেকে পাথর এবং মাটি কেটে তা সরিয়ে সুরঙ্গ পথ তৈরি করেন। এ প্রসঙ্গে প্রকল্পের মুখ্য ডিজাইনার আরমান্দো ক্যাপেলান কমপক্ষে 600 ইঞ্জিনিয়ার এবং কয়েক হাজার কর্মীকে সাথে নিয়ে এই কাজ করেছিলেন। জানা গিয়েছে, দিনরাত হাড়ভাঙা খাটুনির পর শেষ পর্যন্ত দুই প্রান্তে পি1 এবং পি2 মিলে যায়। তাতে ব্যাপক উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন কর্মীরা।

    প্রকল্পের কাজ ছিল যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং

    সেবক-রংপো রেলওয়ে প্রকল্পের কাজ পেয়েছিল ইরকন। এই সংস্থার প্রজেক্ট অ্যাডভাইজার মহিন্দর সিং স্পষ্ট জানিয়েছেন, প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যে দিয়ে এখানে সুরঙ্গ করার কাজ অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং ছিল। নরম মাটিতে ডেনামাইট বিস্ফোরণ করানো যায়নি। তাই পুরনো খনন পদ্ধতিকে কাজে লাগাতে হয়েছে। কঠিন সময়ে কর্মীরা ধৈর্য ধরে কাজ করেছেন।

    প্রজেক্ট অ্যাডভাইজার মহিন্দর সিং আরও বলেন, পশ্চিমবঙ্গ এবং সিকিমের মধ্যে সংযোগকারী 44.98 কিলোমিটার দীর্ঘ রেল প্রকল্পটি এই মুহূর্তে চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে। এর মধ্যে মাত্র 3.5 কিলোমিটার অংশ সিকিমে রয়েছে। এছাড়া বাকি 41.5 কিলোমিটার অংশ রয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। ওই ব্যক্তির দাবি, এই প্রকল্পের অন্তত 85 শতাংশ কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গিয়েছে। এই বিশেষ রেল প্রকল্পের অধীনে কী কী থাকছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, এই রেল প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে 22টি নতুন সেতু, 14টি টানেল, এছাড়াও সেবক, রিয়াং, তিস্তা বাজার, মেলি সহ মোট 5টি স্টেশন।

    রিপোর্ট অনুযায়ী, 22টি সেতুর মধ্যে ইতিমধ্যেই 19টি সেতুর কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে। বাকি সেতু এবং স্টেশন গুলির কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে আগামী নভেম্বরের মধ্যে। রেল সূত্রে খবর, 14 টানেলের মধ্যে 8 নম্বর টানেলের কাজ শেষ হয়েছে। বাকি একটি টানেলের কাজ চলছে। উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের একাধিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, 44.98 কিলোমিটার লাইনের বেশিরভাগ টানেলের কাজ শেষ করে ফেলেছেন তারা। জানা যাচ্ছে, সব ঠিক থাকলে এবং সময়মতো কাজ হলে 2027 সালের ডিসেম্বরের মধ্যে গোটা প্রকল্পের কাজ শেষ হয়ে যাবে। তারপরই কেন্দ্রের অনুমোদন নিয়ে শুরু হবে ট্রেন চলাচল।

    অবশ্যই পড়ুন: ১ এপ্রিল থেকেই বেড়ে যাচ্ছে বার্ষিক টোল পাসের দাম, কত খরচ হবে জানুন

    প্রসঙ্গত, সরকারি সূত্র মারফত খবর, সেবক থেকে রংপো রেল প্রকল্পের যে কাজ চলছে তা শেষ হলে ট্রেনে করে মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে সেবক থেকে রংপো পৌঁছে যাবেন যাত্রীরা। যেখানে সড়কপথে এই যাত্রাপথ অতিক্রম করতে সময় লাগে 5 ঘন্টা বা তারও বেশি। বলে রাখি, এই প্রকল্পে মোট ব্যয় হবে 11 হাজার 973 কোটি টাকা।

  • গরমের ছুটিতে সিকিম ভ্রমণ হবে আরও মজাদার, খুলছে বহুল প্রতীক্ষিত টুরিস্ট স্পট

    গরমের ছুটিতে সিকিম ভ্রমণ হবে আরও মজাদার, খুলছে বহুল প্রতীক্ষিত টুরিস্ট স্পট

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: অবশেষে প্রতীক্ষার অবসান, উত্তর সিকিমের (North Sikkim) পর্যটকদের জন্য আসতে চলেছে বড় সুখবর। অবশেষে উন্মুক্ত হয়ে চলেছে লাচেন (Lachen Route Reopens) যাওয়ার পথ। রোজনামচা কাজের ফাঁকে নিজেকে চিনতে এবং নিজের সঙ্গে সময় কাটাতে অনেকেই পাহাড়ে ভ্রমণ করতে যায়। সেক্ষেত্রে অনেকেরই প্রথম পছন্দ হিসেবে উঠে আসে উত্তর সিকিমের নাম। লাচুং, ইয়ামথাং ভ্যালি, জিরো পয়েন্ট ছাড়াও এবার সেই ভ্রমণের তালিকায় যুক্ত হতে চলেছে লাচেন। তার মধ্যে সামনেই আসছে গরমের ছুটি, সেই ছুটির আগে লাচেন খুলে যাওয়া মানে পর্যটকদের জন্য এক আলাদাই পাওনা।

    প্রাকৃতিক বিপর্যয় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল লাচেনে

    উল্লেখ্য, উত্তর সিকিমের লাচেন মূলত গুরুদংমার লেকের প্রবেশদ্বার। যা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৭,০০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত। এই হ্রদটি ইয়ামথাং ভ্যালির মতোই ভারতের অন্যতম এবং পর্যটকদের কাছে প্রধান আকর্ষণীয় জায়গা। কিন্তু গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের জুন মাসে প্রবল বৃষ্টিপাত এবং ধস নামার ফলে উত্তর সিকিমের বিস্তীর্ণ এলাকা কার্যত তছনছ হয়ে গিয়েছিল। একাধিক রাস্তা ও সেতু ভয়াবহ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় এই পাহাড়ি জনপদটি মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। যার ফলে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর থেকে এই রুটটি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। কাজ চলছিল এতদিন, তবে এবার পর্যটকদের জন্য পুনরায় খুলতে চলেছে লাচেন যাওয়ার রাস্তা।

    কী বলছেন নর্থ সিকিমের জেলা শাসক?

    নর্থ সিকিমের জেলা শাসক অনন্ত জৈন জানিয়েছেন, চুংথাং থেকে লাচেন পর্যন্ত রাস্তা এতদিন বন্ধ ছিল কারণ ওই রুটের শেষ সেতুটির নির্মাণকাজ চলছিল। সম্প্রতি ওই এলাকায় নির্মিত নতুন ৪০০ ফুট দীর্ঘ সেতুর উদ্বোধন করা হয়েছে। এরপর থেকেই এই রুটে আবার যান চলাচল শুরু হয়েছে। জানা গিয়েছে, এই রুটে থাকা সেতুগুলি পার হওয়ার সময় গাড়ি চালকদের জন্য বিশেষ নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। যেহেতু সেতুর প্রস্থ কম তাই একবারে কেবল একটি গাড়িই পার হতে পারবে।

    Lachen Route Reopens

    আরও পড়ুন: সিভিকের মতো এবার পথবন্ধু ভলান্টিয়ার নিয়োগ করতে চায় রাজ্য সরকার, কী কাজ করবে?

    এতদিন লাচেনের রাস্তা বন্ধ থাকায় স্থানীয় হোটেল ব্যবসায়ীরাও চরম অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছিলেন। প্রতিবারই আশা করে থাকেন যে এবার হয়ত খুলবে রাস্তা, অবশেষে জেলাশাসক অনন্ত জৈনের ঘোষণার পর স্বস্তি পেলেন তাঁরা। আগের মত ফের লাভের মুখ দেখতে পাবেন এমনটাই আশা ব্যবসায়ী মহলের একটা বড় অংশের। ইতিমধ্যেই নির্দেশিকা পর্যটন দফতর, বিভিন্ন চেকপোস্ট এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। যেহেতু, প্রায় ৯০ শতাংশ পর্যটন পারমিট ‘থার্ড মাইল’ অফিস থেকে অনলাইনে ইস্যু করা হয় তাই সেখানেও নতুন করে পারমিট দেওয়ার জন্য এই বিষয়ে জানানো হয়েছে।

  • সুদৃশ্য কাঞ্চনজঙ্ঘা, হাতছানি দেবে পাইন গাছ, গরমের ছুটিতে ঘুরে আসুন এই তিন হিল স্টেশন

    সুদৃশ্য কাঞ্চনজঙ্ঘা, হাতছানি দেবে পাইন গাছ, গরমের ছুটিতে ঘুরে আসুন এই তিন হিল স্টেশন

    সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ পাকাপাকিভাবে গ্রীষ্মকা না পড়লেও আকাশ বাতাস জানান দিচ্ছে গরম আসন্ন। একদিকে যখন গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা হয় অনেকের সেখানে অন্যদিকে অনেকের আবার খুশির শেষ থাকে না। কারণ গরমের ছুটি পড়বে। আর এই ছুটিকে কাজে লাগিয়ে কেউ যান পাহাড়ে তো কেউ যান আবার সমুদ্রে। আপনিও কি এই গরমের ছুটিতে শরীর ও মন ঠান্ডা করতে কোথাও ঘুরতে যেতে চাইছেন? কিন্তু কোথায় যাবেন বুঝতে পারছেন না? তাহলে আজকের এই প্রতিবেদনটি একদম আদর্শ হতে চলেছে আপনার জন্য। চলুন জেনে নেওয়া যাক।

    গরমের ছুটিতে ঘুরে আসুন এই ৩ হিল স্টেশনে

    আজকের এই আর্টিকেলে আপনাদের এমন তিন হিল স্টেশনের (Hill Station) সন্ধান দেব যেখানে একবার পা রাখলে আর ফিরে যেতে মন চাইবে না। সেখানকার প্রকৃতি, ল্যান্ডস্কেপ আপনার মনে আলাদাই জায়গা করে নেবে। মনে হবে, ইসস এখানে সারাজীবন থেকে গেলে কীই না মজা হত। চলুন জেনে নেওয়া যাক।

    রাবাংলা

    পাহাড় প্রেমী অথচ সিকিমের রাবাংলা যাননি বা এখানে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেন না, তা হতেই পারে না। সিকিমের এমন কিছু জায়গা আছে যেখানে না গেলেই নয়, তার মধ্যে অন্যতম সুন্দর এবং শান্ত জায়গা হল এই রাবাংলা। এখানকে বৌদ্ধ মন্দির দেখলে চোখ ধাঁধিয়ে যাবে। এখানকার রাস্তাও অসাধারণ। এই রাবাংলা থেকে আপনি কাঞ্চনজঙ্ঘা, পান্ডিম, সিনিওলচু ও কাবর-এর মতো গোটা হিমালায়ন রেঞ্জ খুব সুন্দরভাবে দেখতে পাবেন।

    আরও পড়ুনঃ ১৪০০ টাকার বিনিয়োগে পেয়ে যান ২৫ লক্ষ টাকা, মধ্যবিত্তদের জন্য দারুণ প্ল্যান LIC-র

    পানবুদারা

    যারা পাহাড়ে গেলেই কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখবেন বলে একদম বদ্ধপরিকর থাকেন, যাদের স্বপ্নে রীতিমতো কাঞ্চনজঙ্ঘা ঘোরাফেরা করে তাঁদের জন্য এই পানবুদারা একদম পারফেক্ট জায়গা হিসেবে প্রমাণিত হতে পারে। এই পানবুদারায় গেলে আপনি রুদ্ধশ্বাস পাহাড়ি ভিউ দেখতে পাবেন। সবথেকে বড় কথা, কাঞ্চনজঙ্ঘা এত সুন্দর দেখতে পাবেন যেন মনে হবে হাত দিয়েই পাহাড় ছুঁয়ে নিতে পারবেন। এই পানবুদারার ভিউ পয়েন্ট থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার ১৮০ ডিগ্রি ভিউ পাওয়া যায়। এমনিতে সন্ধে হলে পাহাড়ের এক আলাদাই রূপ দেখা যায়। এখানেও তাই। সবথেকে বড় কথা, এই পানবুদারার কাছেই রয়েছে চারখোল, দূরপিনদারা, ঝান্ডিদারার মতো জায়গা যেখানে আপনি অনায়াসেই ঘুরে আসতে পারেন।

    আরও পড়ুনঃ ৯৬% কাজ শেষ নতুন চার লেনের ফারাক্কা ব্রিজের, কবে হবে উদ্বোধন?

    সান্তক

    আপনিও যদি পাহাড়ে ঘুরতে গিয়ে একটু কম কোলাহল এবং অফবিট জায়গা পছন্দ করে থাকেন তাহলে এই সান্তক একদম আদর্শ জায়গা। এখানে গেলে গরম কাকে বলে ভুলে যাবে। হাতে ২-৪ দিনের ছুটি থাকলে এই জায়গা থেকে অনায়াসে ঘুরে আসতে পারেন। রেয়িং এবং পায়ুং নদী-পাহাড়ের মাঝে সুন্দর এই গ্রাম। এখানে বিস্তৃত থাকা পাইনের বিশাল জঙ্গল এবং কাঞ্চনজঙ্ঘার সৌন্দর্য আপনাকে মুগ্ধ করবে। ফলে আর দেরি না করে আগাম উত্তরবঙ্গ যাওয়ার ট্রেনের টিকিট কেটে ফেলুন এবং ঘুরে আসুন এই অফবিট হিল স্টেশনগুলি থেকে।