Tag: Shehbaz Sharif

  • দর্শক ছাড়াই হবে খেলা, স্টেডিয়াম মাত্র দুটো! তেল সংকটে বড় সিদ্ধান্ত PSL নিয়ে

    দর্শক ছাড়াই হবে খেলা, স্টেডিয়াম মাত্র দুটো! তেল সংকটে বড় সিদ্ধান্ত PSL নিয়ে

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: পশ্চিম এশিয়ায় চলা যুদ্ধ পরিস্থিতির (Middle East War) আঁচ পড়ল এবার সন্ত্রাসের দেশ পাকিস্তানের ক্রিকেট মাঠে। হ্যাঁ, নিরাপত্তা আর জ্বালানি সংকটের কথা মাথায় রেখে পাকিস্তান সুপার লিগ ২০২৬ (Pakistan Super League) নিয়ে এবার একগুচ্ছ পরিবর্তনের ঘোষণা করল দেশটির ক্রিকেট বোর্ড। রবিবার পিসিবির সভাপতি মহসিন নকভি সাংবাদিক সম্মেলন করে জানিয়েছেন, আগামী ২৬ মার্চ থেকে শুরু হতে চলা এই টুর্নামেন্ট সম্পূর্ণ দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামেই হবে। এমনকি হবে না কোনও ওপেনিং সেরিমনি, আর স্টেডিয়ামের সংখ্যাও কমানো হচ্ছে।

    কেন নেওয়া হল এই সিদ্ধান্ত?

    আসলে বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে চলা উত্তেজনার জেরে পাকিস্তান আর্থিক দিক থেকে দুর্দশার মধ্যে দিয়ে দিন কাটাচ্ছে। সরকারের পরামর্শ ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো রিপোর্টের ভিত্তিতেই এবার পিসিবি কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। এ বিষয়ে নকভি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, পিএসএল আমাদের একটি আন্তর্জাতিক ব্যান্ড। বিশ্বের বহু নামিদামি ক্রিকেটার এখানে খেলছেন। তাই টুর্নামেন্ট বাতিল করা কোনও ভাবেই সম্ভব নয়। কিন্তু হাজার হাজার মানুষের সমাগম এই মুহূর্তে বিরাট ঝুঁকি তৈরি করতে পারত। সেই কারণেই এবার একাধিক পরিবর্তন আনা হচ্ছে। পরিবর্তনগুলির মধ্যে রয়েছে—

    ১) পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত স্টেডিয়ামে কোনও দর্শক প্রবেশ করতে পারবে না। দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামেই খেলা হবে।

    ২) আগে ছয়টি শহরের ছয়টি স্টেডিয়ামে খেলা হওয়ার কথা থাকলেও এখন শুধুমাত্র করাচি এবং লাহোরের স্টেডিয়াম দুটিতে সমস্ত ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়েছে।

    ৩) টুর্নামেন্টে জাঁকজমকপূর্ণভাবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। সাধারণভাবেই টুর্নামেন্ট শুরু করা হবে।

    ৪) যারা ইতিমধ্যেই খেলা দেখার জন্য টিকিট কেটেছেন, তাদের আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই টাকা ফেরত দেওয়া শুরু হবে।

    আরও পড়ুন: মোদীর কোলে তাঁর ‘খুদে বন্ধু’, কে এই শিশু? সামনে এল পরিচয়

    প্রসঙ্গত, স্টেডিয়ামে দর্শক না থাকার কারণে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর আয়ের সবথেকে বড় অংশই লোকসান হবে বলে মনে করা হচ্ছে। কিন্তু পিসিবি আশ্বস্ত করেছে যে, ক্ষতির সম্পূর্ণ টাকা বোর্ড নিজেই বহন করবে। আর প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের নির্দেশে বর্তমানে পাকিস্তানের স্কুল বন্ধ করা হয়েছে এবং ওয়ার্ক ফ্রম হোম চলছে। সেই কারণে নাগরিকদের চলাচল সীমিত করার জন্যই এই সিদ্ধান্ত। বলে রাখা ভালো, আগামী ২৬ মার্চ থেকে শুরু হচ্ছে পাকিস্তানের জনপ্রিয় এই ক্রিকেট লিগ, যা চলবে আগামী ৩ মে পর্যন্ত। আর এবার মোট আটটি দল অংশ নিচ্ছে, যেখানে মোট ৪৪টি ম্যাচ হবে এবং ৩ মে লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।

  • তেল সঙ্কটের জের! পাকিস্তান দিবসে সামরিক কুচকাওয়াজ করবে না শেহবাজ সরকার

    তেল সঙ্কটের জের! পাকিস্তান দিবসে সামরিক কুচকাওয়াজ করবে না শেহবাজ সরকার

    বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: পশ্চিম এশিয়ায় অশান্তি ক্রমশ বেড়েই চলেছে। এর জেরে জ্বালানি সংকটে ভুগছে বিশ্বের বহু দেশ। সেই তালিকায় একেবারে প্রথম দিকে নাম রয়েছে পাকিস্তানের (Pakistan)। ইরান যুদ্ধের কারণে রান্নার গ্যাস, তেলের সংকট দেখা দিয়েছে সে দেশে। ঠিক সেই পরিস্থিতিতে 23 মার্চ, পাকিস্তান দিবসের দিন সামরিক কুচকাওয়াজ (Pakistan Day Military Parade) কর্মসূচি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিল শেহবাজ শরীফের সরকার। সেই মর্মেই বিবৃতি জারি করেছে ইসলামাবাদ।

    বিবৃতি জারি করে কী জানাল পাকিস্তান সরকার?

    প্রত্যেক বছর 23 মার্চ মুসলিম লিগের মুসলিমদের জন্য আলাদা দেশ গঠনের প্রস্তাবকে স্মরণ করে দিনটিকে পাকিস্তান দিবস হিসেবে পালন করা হয় পশ্চিমের দেশে। এই দিনই আয়োজন করা হয় সামরিক কুচকাওয়াজের। তবে এবছর সেই পরিস্থিতি নেই পাকিস্তানে। মঙ্গলবার বিবৃতি জারি করে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের পরিস্থিতিতে খরচ কমানোর পথে হাঁটছে দেশ। তাই দেশের বিভিন্ন জায়গায় পতাকা উত্তোলন কর্মসূচি চললেও সামরিক কুচকাওয়াজ আপাতত বন্ধ রাখা হচ্ছে।

    বলাই বাহুল্য, পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত তীব্রতর হলে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয় ইরান। পরবর্তীতে তেহরানের তরফে জানানো হয় ইরানের অনুমতি ছাড়া এই প্রণালী দিয়ে যাতায়াতের চেষ্টা করলে জাহাজে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হবে। আর এমন ঘটনার পরই হরমুজে আটকে যায় একের পর এক জাহাজ। সেই তালিকায় ছিল পাকিস্তানের জাহাজও। এর ফলে সে দেশে দেখা যায় জ্বালানির তীব্র সংকট। সে কারণেই কঠিন সময় জ্বালানি বাঁচাতে সামরিক কুচকাওয়াজ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাক সরকার।

     

    অবশ্যই পড়ুন: জোয়ার আসবে বাণিজ্য থেকে পর্যটন শিল্পে! বাংলার নতুন রেলপথ নিয়ে বড় সুখবর

    উল্লেখ্য, তেল আমদানির জন্য পুরোপুরি পশ্চিম এশিয়ার উপর নির্ভরশীল পাকিস্তান। এখানকার দেশগুলি থেকেই তেল আমদানি করে থাকে ইসলামাবাদ। গত 15 মার্চ ইরানের অনুমতি পাওয়ার পরেই পাকিস্তানের একটি তেলবাহী জাহাজ হরমুজ পেরিয়ে এসেছে। বুধবারের মধ্যে ওই জাহাজটি করাচিতে পৌঁছে যাওয়ার কথা।

  • পাকিস্তানে হাহাকার! কর্মীদের ৩০% বেতন কাটল সরকার

    পাকিস্তানে হাহাকার! কর্মীদের ৩০% বেতন কাটল সরকার

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: সংকটের মুখে কত কিছু যে করতে হবে কাঙাল পাকিস্তানের (Pakistan) তা হয়তো ভাবতেও পারবেন না আপনি। হ্যাঁ, টানাটানির মধ্যে পড়ে এবার দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলিতে কর্মরত কর্মীদের ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেতন কাটছাঁটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ। চলমান যুক্তরাষ্ট্র, ইজরায়েল আর ইরান সংঘাতের (Middle East War) জেরে তৈরি হওয়া এই জ্বালানির সংকট মেটানোর জন্যই বড়সড় সিদ্ধান্তের পথে হাঁটল সন্ত্রাসের দেশের প্রশাসন।

    জ্বালানি সংকট মেটাতে বড় সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের

    প্রসঙ্গত, ইরানের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আর ইজরায়েলের সংঘাত দিনের পর দিন বাড়ছে। যার কারণে শুধুমাত্র পাকিস্তান নয়, বরং বিশ্বের একাধিক দেশে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। কারণ, হরমুজ প্রণালী দিয়ে তৈলবাহী জাহাজগুলি আসতে পারছে না, যেহেতু ইরান সেখানে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। আর সেই কারণেই বিশ্বজুড়ে বাড়ছে অপরিশোধিত তেলের দাম। এমনকি সম্প্রতি পাকিস্তানে পেট্রোলের দাম ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। যার ফলে এখন ১ লিটার পেট্রোলের দামই পড়ছে ৩৪৫ টাকা। অন্যদিকে হাইস্পিড ডিজেলের দাম প্রায় ৩৫৫ টাকা প্রতি লিটার ছুঁয়েছে। সেই বৃদ্ধির ফলে সারা দেশে পরিবহন খরচ এবং খাদ্যের দামের উপর প্রভাব পড়েছে।

    এদিকে গ্যাসের শুল্কও দিনের পর দিন বাড়ছে। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারে এলএনজি আমদানির খরচ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে গৃহস্থালির গ্যাসের দামও ২৫ শতাংশ বেড়েছে পাকিস্তানের। সেই কারণেই এবার জ্বালানি সংকট কাটানোর জন্য বড়সড় সিদ্ধান্ত নিচ্ছে পাকিস্তান। সম্প্রতি অর্থ দফতরের তরফ থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি করে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, রাষ্ট্রায়ত্ত মালিকানধীন প্রতিষ্ঠান এবং স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলির কর্মীদের বেতন এবার ৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হবে, যাতে ডুবে যাওয়া অর্থনীতিকে কিছুটা হলেও ত্বরান্বিত করা যায়।

    আরও পড়ুন: “বাড়িতে আঘাতের চিহ্ন নেই, পার্টি অফিসে ব্যান্ডেজ!” শশী পাঁজাকে একহাত নিলেন সজল ঘোষ

    তবে এই সিদ্ধান্ত সামনে আসতেই কর্মকর্তারা নিজেদের মত প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ বলছেন, এই পদক্ষেপ সরকারের আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করবে। আর পাকিস্তানের সংকট এবং ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক জ্বালানির দামের ফলে অর্থনৈতিক ক্ষতি মোকাবেলা করতে পারবে। তবে কেউ কেউ দাবি করছে, বিশ্বজুড়ে চলমান সংকটের প্রভাব শুধুমাত্র কর্মকর্তাদের উপর চাপিয়ে দেওয়া ঠিক না। এদিকে অর্থনীতিবিদরা বলছেন যে, জ্বালানি আর গ্যাসের ক্রমবর্ধমান দাম বৃদ্ধি পাকিস্তানের অর্থনীতিকে আরও চাপে ফেলতে পারে আর মুদ্রাস্ফীতি আরও বাড়তে পারে। এখন দেখার দেশটির অর্থনীতি আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারে কিনা।