Tag: Purba Bardhaman

  • তালা ভেঙে অট্টহাস কালী মন্দিরে দুঃসাহসিক চুরি! CCTV অচল করে পালাল দুষ্কৃতীরা

    তালা ভেঙে অট্টহাস কালী মন্দিরে দুঃসাহসিক চুরি! CCTV অচল করে পালাল দুষ্কৃতীরা

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: জাগ্রত মা কালীর গা থেকে খুলে নেওয়া হল সোনার গয়না! তালা ভেঙে চুরি হয়ে গেল সতীপীঠ অট্টহাস মন্দির সংলগ্ন রটন্তী কালী মন্দিরে (Ratanti Kali Temple) লাখ টাকার সম্পদ। শুধু তাই নয় প্রণামীর বাক্স ভেঙে টাকা পয়সা নিয়ে চম্পট দিল দুষ্কৃতীরা। এই ভয়ংকর চুরির ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে মন্দির চত্বরে পুলিশ ক্যাম্প ও সিসিটিভি নজরদারি থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এই চুরির ঘটনা ঘটল। তদন্ত শুরু করেছে কেতুগ্রাম থানার পুলিশ।

    ঠিক কী ঘটেছিল?

    রিপোর্ট মোতাবেক, গত মঙ্গলবার, পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রামের অট্টহাস সতীপীঠের মূল মন্দির সংলগ্ন রটন্তী কালী মন্দিরে প্রত্যেক দিন সন্ধ্যায় নিত্য পুজো হওয়ার পরও পুরোহিত সেখানে বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করেন। এরপর মায়ের সেবা করে রাতে মন্দিরের মূল গেটে তালা দিয়ে চলে যায়। বাইরে পাহারায় থাকেন নিরাপত্তারক্ষীরা। কিন্তু অভিযোগ, তালা ভেঙে চোর দেবীর সোনা ও রুপোর অলঙ্কার লুঠ করে নিয়ে যায়। শুধু তাই নয়, মন্দিরের গর্ভগৃহের মধ্যে থাকা প্রনামি বাক্সও ভেঙে টাকাপয়সা লুঠ করে পালায় দুষ্কৃতীরা। বাক্স ভাঙা অবস্থায় জঙ্গলে পড়ে থাকতে দেখা যায়। এখন স্থানীয়দের মনে প্রশ্ন উঠছে সতীপীঠে পুলিশ ক্যাম্প থাকার পরেও কীভাবে এমন চুরি হল। কেতুগ্রাম থানায় দ্বারস্থ মন্দির কমিটি।

    CCTV ক্যামেরায় কাদা!

    মন্দির সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার পরেরদিন অর্থাৎ বুধবার সকালে মন্দির খুলতে গিয়ে এই ভয়ংকর দৃশ্য দেখেন মন্দিরের এক কর্মী। এবং দেখা যায় মন্দিরে থাকা CCTV ক্যামেরায় কাদা দেওয়া রয়েছে, যাতে চোরদের পরিচয় ধরা না পড়ে। ঘটনার তদন্তে নেমেছে কেতুগ্রাম থানার পুলিশ। মন্দিরের সেবক রামজি মহারাজ জানান, “কালী মূর্তির মাথায় একটি রুপোর মুকুট ছিল, সেটি নিয়ে পালিয়েছে দুষ্কৃতীরা। এছাড়া দেবীর পায়ে থাকা রুপোর তোড়া এবং গলায় থাকা সোনার চেনও চুরি হয়েছে। প্রণামী বাক্সে বেশ কিছু টাকা ছিল।” পুলিশের অনুমান দুষ্কৃতীরা সতীপীঠ লাগোয়া পেছনের মাঠ দিয়ে জঙ্গলের ভেতরের রাস্তা ধরে রটন্তী কালী মন্দিরে ঢুকে পড়েছিল।

    আরও পড়ুন: দূর হবে চিন্তা, LPG নিয়ে এল বড় সুখবর

    এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “আমাদের এখানকার খুবই জাগ্রত মায়ের মন্দির। কত দূরদূরান্ত থেকে এখানে লোকে পুজো দিতে আসে। সারাক্ষণই ভক্তদের ভিড় থাকে। এই মন্দিরে নিরাপত্তারক্ষীরাও থাকেন সর্বক্ষণ। কীভাবে এসবের পরও এমন হল! আমি বলি, চোরেদের কি ধর্মের ভয় নাই?” অপর এক বাসিন্দা জানিয়েছেন মন্দিরের ভেতর ক্যামেরা এবং পুলিশে নিরাপত্তা থাকা সত্ত্বেও যদি চুরি হয় তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়েই প্রশাসন কি ভাবছে। যদিও পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে এবং চুরির ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে।

  • ধর্মীয় অত্যাচারে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে ভারতে, CAA-তে আবেদনে ৮ মাসেই মিলল নাগরিকত্ব

    ধর্মীয় অত্যাচারে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে ভারতে, CAA-তে আবেদনে ৮ মাসেই মিলল নাগরিকত্ব

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা CAA নিয়ে প্রথম থেকেই কেন্দ্রের বিরোধিতা করে আসছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress)। যদিও এখনও প্রতিবাদ করেই চলেছে মমতা সরকার। তবে সম্প্রতি নির্বাচনের আবহে SIR কর্মসূচি লাগু হওয়ার পর CAA নিয়ে তীব্র সংকট দেখা দিল। আর এই আবহে মধ্যেই নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করে সার্টিফিকেট (CAA Certificate) পেল বাংলাদেশ থেকে আসা পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলীর (Purbasthali) একাধিক পরিবার।

    নাগরিকত্বের সার্টিফিকেট পেল ৩টি পরিবার

    রিপোর্ট মোতাবেক, পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলীর কালেখাঁতলা ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের মোট ৩ টি পরিবার কিছুদিন আগেই ভারতীয় নাগরিকত্ব পেতে CAA-র জন্য আবেদন করেছিল, অবশেষে মিলল সেই সার্টিফিকেট। আবেদনকারীদের মধ্যে একজন, সরস্বতী মল্লিক এবং তার দুই ছেলে দুলাল মল্লিক ও অরবিন্দ মল্লিক আগে বাংলাদেশের গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া থানা এলাকায় বসবাস করতেন। কিন্তু ধর্মীয় নিপীড়নের কারণে ২০০৬ সালে এদেশে চলে এসেছিল। এখানকার ভোটার কার্ড এবং আধার কার্ড সহ যাবতীয় নথি থাকলেও তাঁদের মনে ভয় ছিল। শেষে স্থানীয় বিজেপি নেতার কথায় গত বছর অক্টোবর মাসে CAA তে আবেদন করে। শেষে চার মাসের মাথায় ইমেইলের মারফত তারা নাগরিকত্ব সার্টিফিকেটের সফট কপি পায়। বেশ খুশি আবেদনকারীরা।

    ৩ মাসের মধ্যে মিলেছে সার্টিফিকেট

    এর আগে পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলীর কালেখাতলা পঞ্চায়েতের বড়গাছি গ্রামের বাসিন্দা সবুজ দাসও নাগরিকত্বের সার্টিফিকেট পেয়েছিল। জানা যায় প্রায় ২৬ বছর আগে সে বাংলাদেশের চট্টগ্রামে অত্যাচারিত হয়ে এদেশে এসেছিলেন। আর তারপর থেকেই পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলীতেই রয়েছেন। ভোটার, আধার-সহ যাবতীয় নথি থাকলেও SIR এর ভয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের উপর ভরসা করে CAA-তে আবেদন করেছিলেন, এরপর ৩ মাসের মধ্যেই পেয়ে যান নাগরিকত্বের সার্টিফিকেট। এ প্রসঙ্গে স্থানীয় বিজেপি নেতারা বলেন, “শাসকদল অপ্রপ্রচার করছে। বিভ্রান্ত না হলে ভারতীয় নাগরিকত্ব পেতে আবেদন করুন।”

    আরও পড়ুন: টিম ইন্ডিয়ার লজ্জা লাগা উচিৎ! বিশ্বকাপ ট্রফি নিয়ে মন্দিরে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ কীর্তি আজাদ

    বিজেপি নেতা বেচারাম দাস বলেন, “আমরা এই এলাকায় প্রায় দেড় হাজার পরিবারকে CAA-এর জন্য আবেদন করতে সাহায্য করেছি। আশা রাখছি আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এলাকার সকলেই CAA এর সার্টিফিকেট পেয়ে যাবে। রাজ্যের শাসক দল সিএএ নিয়ে লাগাতার মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে গিয়েছে। নানা স্লোগান দিয়ে শাসকদল কতই মিটিং-মিছিল করেছে। কিন্তু বাংলার মানুষ এখন বুঝতে পারছেন CAA নিয়ে শাসক দল এতদিন তাঁদের শুধুই ভুল বুঝিয়ে গিয়েছে।”

  • বাংলায় আরেক চিটফাণ্ড কেলেঙ্কারি! পূর্বস্থলীতে কোটি কোটি টাকা তছরুপ

    বাংলায় আরেক চিটফাণ্ড কেলেঙ্কারি! পূর্বস্থলীতে কোটি কোটি টাকা তছরুপ

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: সারদা-রোজভ্যালিতে চিটফান্ড কাণ্ড (Chit Fund Case) নিয়ে বিতর্ক এখনও শেষ হয়নি। হাজার হাজার বিনিয়োগকারীর থেকে বেআইনিভাবে আমানত সংগ্রহ করা হয়েছিল, যদিও এই ঘটনা সংক্রান্ত মামলা এখন বিচারাধীন। ইডি জানিয়েছে, তারা প্রায় ৪৫০ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে যা বিনিয়োগকারীদের ফেরানো হবে। আর এই অবস্থায় সারদার স্মৃতি দেখা গেল পূর্বস্থলীতে (Purbasthali), আরেক চিটফান্ড কাণ্ডের হদিস পাওয়া গেল। আমানতকারীদের টাকা নিয়ে পালাল প্রতারকরা।

    পূর্বস্থলীতে চিটফান্ড কাণ্ড

    রিপোর্ট মোতাবেক, পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলী এলাকায় চিটফান্ডে টাকা বিনিয়োগের নাম করে কোটি কোটি টাকা আদায় করা হয়েছিল গ্রাহকদের কাছ থেকে। দাবি করা হয়েছিল টাকা বিনিয়োগ করলে অল্প সময়েই বিপুল পরিমাণ সুদ মিলবে। অনেকেই তাঁদের টোপ গিলে টাকা বিনিয়োগও করে বসছেন। দীর্ঘদিন ধরে এই সংস্থায় টাকা জমা করেছিলেন। কিন্তু এখন টাকা ফেরত চাইতে গিয়ে চোখ কপালে উঠল লগ্নিকারীদের। অভিযোগ, জমানো কোটি কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে গেল দুই চিটফান্ড মালিক। ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত থানায় কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি।

    অফিসিয়াল কাগজপত্রের মধ্যেও রয়েছে ত্রুটি

    লগ্নিকারীদের অভিযোগ, টাকা নেওয়ার সময় যে কাগজপত্র চিটফান্ড থেকে দেওয়া হয়েছিল তাতেও একাধিক গোলযোগ ছিল। এমনকি ওই কাগজে ওই প্রতারকরা পুরো স্বাক্ষর করত না। এখানেই শেষ নয়, অফিসিয়াল কাগজপত্রের মধ্যেও ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংকের কোনও অনুমোদনও ছিল না। এইভাবেই এই চিট ফান্ড চালানো হত, আর সাধারণেরা এই প্রতারকদের বিশ্বাস করে তাঁদের সমস্ত সঞ্চয় বিনিয়োগ করতেই জালিয়াতির শিকার হল। জানা গিয়েছে, ওই দুই মালিকের মধ্যে একজনের বাড়ি পূর্বস্থলী থানার সিংহারি গ্রামে এবং অপরজনের বাড়ি পূর্বস্থলী নতুন বাজারপাড়া এলাকায়। এই বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করছেন অনেকেই।

    আরও পড়ুন: একদম ঝাঁ চকচকে, অমৃত ভারত প্রকল্পে ভোল বদলে গেল পুরুলিয়ার দুই রেল স্টেশনের

    প্রসঙ্গত, এলাকায় একাধিক চিটফান্ডের রমরমা ব্যবসা চলছে ইদানিং। সারদা থেকে শুরু করে রোজভ্যালি, একসময় চিটফান্ডের রমরমা কারবার দেখে রীতিমতো চোখ কপালে উঠেছিল সাধারণ মানুষের। কিন্তু, ধীরে ধীরে এই সমস্ত বড় চিটফান্ডগুলি প্রতারণার জাল ছড়িয়ে ফেলেছে, আর তাতেই সাধারণের কোটি কোটি টাকা জলে চলে যাচ্ছে। এখন প্রশ্ন উঠছে প্রতারকদের বিরুদ্ধে কি আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে পুলিশ প্রশাসনের তরফে।