Tag: Pension

  • পেনশন পাওয়া আরও সহজ, GISS সমস্যা মেটাতে নয়া মেমোরেন্ডাম জারি নবান্নর

    পেনশন পাওয়া আরও সহজ, GISS সমস্যা মেটাতে নয়া মেমোরেন্ডাম জারি নবান্নর

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ সরকারি কর্মচারীদের অবসরকালীন সুবিধা বা পেনশন (Pension) প্রাপ্তি আরও সহজ করার জন্য এবার বিরাট পদক্ষেপ নিয়েছে রাজ্য সরকার (Government of West Bengal)। বিশেষ করে জেনারেল ইন্সুরেন্স কাম সেভিংস স্কিম বা জিআইএসএস সংক্রান্ত তথ্যের অভাবে যাদের পেনশন ফাইল এতদিন ধরে আটকে ছিল, তাদের জন্য এবার বিরাট খুশির খবর শুনিয়েছে নবান্ন। গত ১৯ মার্চ অর্থ দফতর থেকে জারি করা একটি নতুন নির্দেশিকা সেই দীর্ঘদিনের সমস্যার স্থায়ী সমাধানের পথ এবার আরও প্রশস্ত করল।

    কেন জারি করা হল নতুন নির্দেশিকা?

    আসলে দীর্ঘদিন ধরে দেখা যাচ্ছিল যে, বহু সরকারি কর্মচারীর সার্ভিস বুকে জিআইএসএস সাবস্ক্রিপশনের হিসেব সঠিক ভাবে আপডেট করা নেই। বিশেষ করে পুরনো নথি কিংবা তথ্য সময় মতো প্রশাসনিক দফতর থেকে না আসার কারণে পেনশনের কাজ থমকে যাচ্ছিল। আর অবসর গ্রহণের পর দিনের পর দিন প্রাপ্য টাকা পাওয়ার জন্য কর্মচারীদের অপেক্ষা করতে হচ্ছিল। কর্মীদের এই ভোগান্তি দূর করার জন্যই অর্থ দফতরের গ্রুপ-জে শাখা বিশেষ মেমোরেন্ডাম জারি করল।

    মেমোরেন্ডাম নম্বর 061-F(J)/2025 অনুযায়ী, এবার পেনশন প্রক্রিয়ায় বাধা দূর করার জন্য সরকার বিশেষ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রথমত, এখন থেকে সংশ্লিষ্ট ক্যাডার কন্ট্রোলিং অথরিটি নিজেরাই জিআইএসএস সাবস্ক্রিপশনের এন্ট্রি করতে পারবে। দ্বিতীয়ত, তথ্য যাচাই বা তথ্য প্রত্যায়িত করার ক্ষমতা সরাসরি কর্তৃপক্ষের হাতে দেওয়া হয়েছে। তৃতীয়ত, ১৯৮৭ সালের পুরনো একটি আইনের সুত্র ধরে এবার রাজ্যপালের বিশেষ অনুমতিক্রমে নতুন নিয়ম কার্যকর করা হচ্ছে।

    এক্ষেত্রে বলে রাখি, এই নির্দেশিকাটি এইচআরএমএস ব্যবস্থা চালুর আগের সময়ের জন্যই প্রযোজ্য। অর্থাৎ, ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসের আগে যদি কোনও কর্মচারী জিআইএসএস সাবস্ক্রিপশনের তথ্য সার্ভিস বুকে নথিভুক্ত না থাকে, সেক্ষেত্রে তা এখন আরও সহজে আপডেট করা যাবে।

    আরও পড়ুন: শিয়ালদা ডিভিশনে একাধিক লোকাল ট্রেনের গন্তব্য বাড়াল রেল

    কীভাবে আপডেট করতে হবে তথ্য?

    সার্ভিস বুকে এই পুরনো তথ্যগুলি নথিভুক্ত করার জন্য এবার নির্দিষ্ট কিছু নিয়মের কথা বলা হয়েছে। প্রথমত, উপযুক্ত প্রমাণের ভিত্তিতেই তথ্য এন্ট্রি করা যাবে। দ্বিতীয়ত, যথাযথভাবে সত্যায়িত সার্ভিস ভেরিফিকেশন সার্টিফিকেট থাকতে হবে এবং তৃতীয়ত, কর্তৃপক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য অন্য যে কোনও বৈধ নথির ভিত্তিতে এই কাজ সম্পন্ন করা যাবে। এমনকি রাজ্যের সমস্ত ট্রেজারি অফিসার, জেলাসচিব, পুলিশ সুপার এবং বিভিন্ন দফতরের সচিবদের কাছে ইতিমধ্যে এ বিষয়ে নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। যার ফলে হাজার হাজার সরকারি কর্মচারী যারা অবসরের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আছেন বা যাদের পেনশনের কাজ আটকে রয়েছে, তারা সরাসরি উপকৃত হবে।

  • অষ্টম পে কমিশনে DA ফর্মুলা পরিবর্তন! কত বাড়বে বেতন, পেনশন? রইল হিসেব

    অষ্টম পে কমিশনে DA ফর্মুলা পরিবর্তন! কত বাড়বে বেতন, পেনশন? রইল হিসেব

    সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ অষ্টম বেতন পে কমিশন নিয়ে উত্তেজনার পারদ চড়ছে সরকারি কর্মীদের মধ্যে। কবে লাগু হবে হবে? বেতন কত বাড়বে? ডিএ (Dearness Allowance) ফর্মুলা কী হবে? উঠছে প্রশ্ন। এসবের মাঝেই এখন অষ্টম বেতন কমিশনের (8th Pay Commission) ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর বিষয়ে একটি বড় আপডেট সামনে এসেছে । পেনশনভোগীরা একটি নতুন ‘হাইব্রিড ফর্মুলা’র প্রস্তাব দিয়েছেন, যার ফলে বেতন ও পেনশনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে। সেইসঙ্গে ডিএ নিয়েও সামনে এসেছে নয়া আপডেট যা সকলের জেনে রাখা উচিৎ।

    কী হবে DA ফর্মুলা?

    অষ্টম বেতন কমিশন এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে উপযুক্ততা যাচাইয়ের বিষয়ে চাপ বাড়তে শুরু করেছে। ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর (Fitment Factor) হলো সেই একই গুণক, যার মাধ্যমে পুরোনো মূল বেতন নতুন বেতনে রূপান্তরিত করা হয় এবং এটিই পেনশন ও অন্যান্য ভাতার বৃদ্ধি নির্ধারণ করে। অল ইন্ডিয়া ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস (এআইটিইউসি) সহ বেশ কয়েকটি কর্মচারী সংগঠন ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান ব্যবস্থাটি পুনর্বিবেচনা করার জন্য সরকারকে অনুরোধ করেছে। তাই, বেতন ও পেনশন নির্ধারণের পদ্ধতিটি পুনরায় খতিয়ে দেখা উচিত। যদিও সরকার ডিএ ফর্মুলায় পরিবর্তন আনার বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেনি।

    কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের বেতনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ডিএ। মুদ্রাস্ফীতির তথ্যের ভিত্তিতে বছরে দুবার, জানুয়ারি ও জুলাই মাসে, এটি সংশোধন করা হয়। কর্মচারী সংগঠনগুলোর মতে, বর্তমান সূত্রটি এখন আর প্রকৃত ব্যয়কে সঠিকভাবে প্রতিফলিত করে না। কর্মচারী ইউনিয়নগুলোর যুক্তি হলো, সময়ের সাথে সাথে জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেলেও ডিএ (DA) গণনার ভিত্তি মূলত একই রয়ে গেছে। তাদের প্রধান দাবি হলো পরিবারের সদস্য সংখ্যায় পরিবর্তন। বর্তমানে, এই সূত্র অনুযায়ী একটি পরিবারকে তিনটি ভোগ একক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কর্মচারী ইউনিয়নগুলো চায়, নির্ভরশীল বাবা-মায়ের মতো খরচগুলো অন্তর্ভুক্ত করার জন্য এই সদস্য সংখ্যা বাড়িয়ে ৫ করা হোক।

    শিল্প শ্রমিকদের জন্য সর্বভারতীয় ভোক্তা মূল্য সূচক (AICPI-IW)-এর উপর ভিত্তি করে ডিএ (DA) গণনা করা হয়। মুদ্রাস্ফীতির উপর ভিত্তি করে এই শতাংশ নির্ধারণ করা হয় এবং মূল বেতনের উপর প্রয়োগ করা হয়। বর্তমানে, জুলাই ২০২৫ থেকে ডিএ হল ৫৮ শতাংশ। জানুয়ারি ২০২৬-এর মধ্যে ২ থেকে ৩ শতাংশ বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে, যা এটিকে সম্ভাব্যভাবে ৬০ শতাংশ বা তারও বেশি নিয়ে যেতে পারে।

    বেতন বাড়বে?

    সরকার ডিএ (DA) সূত্র পরিবর্তন করলে তা বেতন ও পেনশনের উপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। পারিবারিক ভোগ ইউনিটের সংখ্যা তিন থেকে বাড়িয়ে পাঁচ করা হলে ন্যূনতম মজুরি ১৮,০০০ টাকা থেকে বেড়ে ৩০,০০০ টাকার বেশি হতে পারে। যেহেতু ডিএ মূল বেতনের একটি শতাংশ, তাই মূল বেতন বাড়লে ডিএ এবং পেনশন উভয়ই বাড়বে।

    কত ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর দাবি করা হয়েছিল?

    ফেডারেশন অফ ন্যাশনাল পোস্টাল অর্গানাইজেশনস (FNPO) প্রাথমিকভাবে ৩.০-এর একটি ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের আহ্বান জানিয়েছিল। ২০২৫ সালের একটি রিপোর্টের পরিসর ১.৮২ থেকে ২.৪৬ পর্যন্ত হওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। এদিকে, রেলওয়ে প্রবীণ নাগরিক কল্যাণ কমিটি ২০২৬ সালের ১৪ই মার্চ কমিশনের চেয়ারপার্সনের কাছে একটি নতুন প্রস্তাব জমা দিয়েছে। কমিশনের ১৮টি প্রশ্ন সম্বলিত প্রশ্নমালার জবাবে এই পরামর্শটি পাঠানো হয়েছে। এই সংস্থাটি বলছে,সামঞ্জস্য গুণকটি এমন হওয়া উচিত, যা মুদ্রাস্ফীতি এবং পরিবর্তনশীল অর্থনৈতিক অবস্থার কারণে কর্মচারীদের, বিশেষ করে পেনশনভোগীদের, প্রকৃত আয়ের হ্রাসকে পূরণ করতে পারে।

    ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের হাইব্রিড সূত্রটি কী?

    সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কমিটি ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর নির্ধারণের জন্য একটি ‘হাইব্রিড মডেল’ গ্রহণের সুপারিশ করেছে। এই মডেলটি তিনটি পুরোনো পদ্ধতির সমন্বয়ে গঠিত: ডঃ ওয়ালেস অ্যাকরয়েডের সূত্র, সপ্তম বেতন কমিশনের পদ্ধতি এবং পঞ্চম বেতন কমিশনের কনস্ট্যান্ট রিলেটিভ ইনকাম মডেল।

  • EPFO 3.0-র ধামাকা! এবার পেনশন ও ক্লেম সেটলমেন্ট হবে আরও সহজ, ঘোষণা কেন্দ্রের

    EPFO 3.0-র ধামাকা! এবার পেনশন ও ক্লেম সেটলমেন্ট হবে আরও সহজ, ঘোষণা কেন্দ্রের

    সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ সময় যত এগোচ্ছে ততই ক্রমে বাড়ছে EPFO 3.0 এর আশা। পেনশনের টাকা বৃদ্ধি থেকে শুরু করে সুদের হার বৃদ্ধি সহ একাধিক দাবি জানানো হচ্ছে সরকারের কাছে। এদিকে সরকারের দাবি অনুযায়ী, EPFO 3.0 চালু হলে সকল সদস্য দারুণ ভাবে লাভবান হবেন। প্রশ্ন উঠছে কীভাবে? সরকার এই বিষয়েই এক বড় আপডেট দিল যা প্রতিটি সদস্যের জেনে রাখা উচিৎ।

    EPFO 3.0 নিয়ে বড় আপডেট দিল সরকার

    সরকার লোকসভায় ইপিএফও ৩.০ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। এই নতুন ব্যবস্থার অধীনে, দাবি নিষ্পত্তির (Claim Settle) প্রক্রিয়াকে আরও প্রসারিত বা সহজ ভাষায় বললে উন্নত করা হয়েছে, পেনশন প্রদানের পদ্ধতির উন্নতি করা হয়েছে এবং কার্যপ্রণালীকে উল্লেখযোগ্যভাবে সরল করা হয়েছে। শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী শোভা করন্দলাজে জানিয়েছেন যে, ইপিএফও ৩.০ কম সময়ে গ্রাহকদের আরও বেশি সুবিধা প্রদানের জন্য পরিষেবাগুলিকে ডিজিটাইজ করছে।

    অটোমেটিক মোডে দাবি নিষ্পত্তি করা হচ্ছে

    সরকারের মতে, কেন্দ্রীভূত পেনশন প্রদান ব্যবস্থা (সিপিপিএস) এখন সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়িত হয়েছে। ১ জানুয়ারি, ২০২৫ থেকে ইপিএফও-এর সমস্ত অফিস এই ব্যবস্থায় কাজ করছে। এর ফলে প্রতি মাসে ৭০ লক্ষেরও বেশি পেনশনভোগীকে সময়মতো এবং ত্রুটিমুক্ত পেনশন প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে। দাবি নিষ্পত্তিতেও উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ পর্যন্ত, ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ৩৫.২ মিলিয়নেরও বেশি দাবি অটোমেটিক মোডে নিষ্পত্তি করা হয়েছে। চলতি অর্থ বছরে, মোট অগ্রিম দাবির ৭১.৩৭% ম্যানুয়াল প্রক্রিয়াকরণ ছাড়াই নিষ্পত্তি করা হয়েছে, যার মোট পরিশোধের পরিমাণ প্রায় ৫১,৬২০ কোটি টাকা।

    আরও পড়ুনঃ বর্ধমান লাইনে বিরাট কাজ করে ফেলল পূর্ব রেল, হাওড়া-দিল্লি রুট এখন আরও নিরাপদ

    যেসব কর্মচারী চাকরি পরিবর্তন করেন, তাদের জন্য ইপিএফ অ্যাকাউন্ট ট্রান্সফার করার প্রক্রিয়া এখন অনেক সহজ হয়ে গেছে। ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ পর্যন্ত, কর্মচারী বা নিয়োগকর্তার কোনোরকম সম্পৃক্ততা ছাড়াই ৭০.৫৪ লক্ষেরও বেশি ট্রান্সফার আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে শুরু করা হয়েছে। একবার কেওয়াইসি (KYC) সম্পন্ন হয়ে গেলে, পুরোনো বা নতুন নিয়োগকর্তা কারোরই অনুমোদনের আর প্রয়োজন হয় না। এছাড়াও, ২১.৩৯ লক্ষেরও বেশি কর্মচারী নিয়োগকর্তার কোনো সহায়তা ছাড়াই ট্রান্সফার আবেদন জমা দিয়েছেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আগে যেখানে ক্লেইম সেটল করতে ২০ দিন পর্যন্ত সময় লাগত, এখন তা তিন দিনেরও কম সময়ে সম্পন্ন হচ্ছে। ফলে আখেরে লাভ হচ্ছে সদস্যদেরই।

     

  • EPFO-র পেনশন বাড়াতে সুপারিশ কমিটির, কতটা বৃদ্ধির আশা?

    EPFO-র পেনশন বাড়াতে সুপারিশ কমিটির, কতটা বৃদ্ধির আশা?

    সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ এই মুদ্রাস্ফীতির বাজারে জীবনধারণ করা যেন মুশকিল হয়ে পড়ছে। সেখানে আবার বহু মানুষ মাত্র ১০০০ টাকার পেনশন (Pension) পাচ্ছেন। এই টাকা এখনকার সময়ে কিছুই না। একটা ওষুধ কিনতে বা বাজার করতে গিয়ে একদিনেই খরচ হয়ে যায়। এহেন পরিস্থিতিতে EPFO-র কাছে ন্যূনতম পেনশন ৭৫০০ টাকা করার দাবি জানিয়ে আসছেন পেনশন প্রাপকরা। কিন্তু সরকারের তরফে এই বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এই প্রসঙ্গ ফের একবার সংসদে উঠেছে।

    পেনশন বাড়ানোর সুপারিশ কমিটির

    সম্প্রতি, একটি সংসদীয় কমিটি এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন (EPF) ব্যবস্থার অধীনে ১,০০০ টাকার ন্যূনতম মাসিক পেনশনকে অত্যন্ত অপর্যাপ্ত এবং অসম্মানজনক বলে অভিহিত করেছে। সেইসঙ্গে এই টাকার পরিমাণ বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে। ইপিএফ-এর ন্যূনতম পেনশন অবিলম্বে বৃদ্ধির সুপারিশ করে কমিটি স্পষ্টভাবে বলেছে যে, বর্তমান চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে এটিকে আরও বাস্তবসম্মত ও সম্মানজনক পর্যায়ে উন্নীত করা উচিত।

    পেনশন বাড়াবে সরকার?

    সংসদীয় কমিটির এই সুপারিশ ইপিএফ-এর অধীনে ন্যূনতম মাসিক ৭,৫০০ টাকা পেনশনের জন্য কর্মচারী সংগঠনগুলোর দীর্ঘদিনের দাবিকে আরও শক্তিশালী করেছে। সূত্রের খবর, নাকি সরকার ইতিমধ্যেই পেনশন বাড়িয়ে ২,৫০০ থেকে ৩,০০০ টাকা করার বিষয়টি বিবেচনা করছে। কমিটির মতে, ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি সত্ত্বেও ১,০০০ টাকার ন্যূনতম পেনশন দীর্ঘদিন ধরে অপরিবর্তিত রয়েছে। বিশেষ করে বয়স্ক এবং অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল সুবিধাভোগীদের আর্থিক অসুবিধার কথা বিবেচনা করে, পেনশনভোগীদের পক্ষ থেকে ন্যূনতম পেনশন বৃদ্ধির জন্য অসংখ্য অনুরোধ করা হয়েছে বিগত কয়েক বছরে। অভিযোগ, সরকার এই বিষয়ে কোনওরকম কর্নপাত করেনি।

    আরও পড়ুনঃ ইতিহাস গড়লেন TTE, বিনা টিকিটে যাত্রীদের ধরে একদিনেই ২.৫৭ লাখ আদায় রেলের

    কমিটির মতে, কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পে আর্থিক সহায়তা প্রদান করছে, যার মধ্যে বিদ্যমান ইপিএফ সদস্যদের জন্য ১.১৬ শতাংশ যোগদান এবং প্রতি মাসে ন্যূনতম ১,০০০ টাকা পেনশন নিশ্চিত করার জন্য বাজেট বরাদ্দ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ন্যূনতম পেনশন বাড়ানোর জন্য, কমিটি শ্রম মন্ত্রককে বাজেট সহায়তা বাড়ানোর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার সুপারিশ করেছে, যাতে পেনশনভোগীরা আজকের জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ একটি যুক্তিসঙ্গত ন্যূনতম পেনশন পেতে পারেন।

  • ‘দু’বছরের আগে হাত দেওয়া যাবে না DA-র টাকায়!’ মহার্ঘ ভাতার এ কেমন নিয়ম?

    ‘দু’বছরের আগে হাত দেওয়া যাবে না DA-র টাকায়!’ মহার্ঘ ভাতার এ কেমন নিয়ম?

    সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ বকেয়া ডিএ (Bengal DA) নিয়ে অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বিজ্ঞপ্তি জারি হয়ে গিয়েছে। সোমবার পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অর্থ দফতরের এক বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, নবান্ন রাজ্য কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতার (Dearness allowance) বকেয়া একাধিক ধাপে পরিশোধ করবে। ২০০৮ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের এই বকেয়ার কথা রবিবার ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও সরকার জানিয়েছে মার ৪৮ মাসের বকেয়া আগে শোধ করা হবে। তারপরে বাকিটা কবে কী শোধ করা হবে তা পরে জানাবে সরকার। এখন প্রশ্ন উঠছে, কে কে টাকা পাবে এবং কবে থেকে পাবেন? চলুন জেনে নেওয়া যাক।

    ৪৮ মাসের টাকা দেবে সরকার

    সরকারের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে, সর্বভারতীয় ভোক্তা মূল্য সূচকের ভিত্তিতে ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বকেয়া গণনা করা হবে। এই অর্থ দুটি কিস্তিতে প্রদান করা হবে প্রথমটি ২০২৬ সালের মার্চ মাসে এবং দ্বিতীয়টি ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার নেতৃত্বাধীন মনিটরিং কমিটি কর্তৃক মোট বকেয়ার চূড়ান্ত নির্ধারণের ওপর এই অর্থপ্রদান নির্ভরশীল থাকবে।

    এপ্রিল ২০০৮ থেকে ডিসেম্বর ২০১৫ সময়কালের জন্য কী কী করা হবে তা পরবর্তীতে জানানো হবে। কর্মকর্তারা আরও জানান, গ্রুপ ‘এ’, ‘বি’ এবং ‘সি’-এর বকেয়া তাদের জিপিএফ অ্যাকাউন্টে জমা করা হবে, আর গ্রুপ ‘ডি’-এর কর্মচারীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা সরাসরি ট্রান্সফার করা হবে। হ্যাঁ একদম ঠিক শুনেছেন। যদিও এই টাকা নিয়ে অনেকেই নানা কথা বলছেন। কেউ বলছেন ডিএ-র টাকা যদি জিপিএফ অ্যাকাউন্টেই জমা হবে, তাহলে সেই তো একই বিষয় দাঁড়াল। এই টাকা আবার ২ বছরের আগে তোলা যাবে না।

    সরকারি কর্মী, পেনশন প্রাপকদের জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি সরকারের

    সরকার বর্তমানে কর্মরত কর্মী, পেনশনভোগীদের জন্য ডিএ সংক্রান্ত পৃথক বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। সরকার ৪৮ মাসের বকেয়া টাকাটি রাজ্য সরকারি কর্মচারী, পেনশনভোগী এবং অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী, স্কুল ও কলেজের শিক্ষক এবং অশিক্ষক কর্মচারী, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী ও পেনশনভোগী, পৌরসভা ও পঞ্চায়েতের মতো স্থানীয় সংস্থাগুলিতে কর্মরত কর্মচারীদের প্রদান করবে। রাজ্য সরকারের প্রাক্তন রাজ্য সরকারি কর্মচারী, পেনশনভোগীদের প্রাথমিকভাবে ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বকেয়া ডিএ দেওয়া হবে। টাকা দেওয়া হবে দুটি সমান কিস্তিতে। প্রথম কিস্তির টাকা দেওয়া হবে মার্চে। দ্বিতীয় কিস্তির টাকা ঢুকবে সেপ্টেম্বরে। যাঁরা বর্তমানে পেনশনভোগী, তাঁদের অ্যাকাউন্টে সরাসরি নগদ টাকা ঢুকবে।

    আরও পড়ুনঃ বিজ্ঞপ্তি জারি করলেও DA নিয়ে ‘চালাকি’ রাজ্যের, ফের সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার হুঁশিয়ারি

    আসলে সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামোর একটি অপরিহার্য অংশ হলো মহার্ঘ ভাতা। ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির সাথে কর্মীদের মানিয়ে নিতে সাহায্য করার জন্যই এটি চালু করা হয়েছে। অন্যদিকে পেনশনভোগীদের জন্য ডিএ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি অবসরের পর তাদের ক্রয়ক্ষমতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। ডিএ প্রদানে দেরি হওয়া সকলের বাজেটকে অনেক ক্ষেত্রে প্রভাবিত করে।

     

  • DA, পেনশনে আসবে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন! অষ্টম পে কমিশনে আরও এক ধাপ এগোল সরকার

    DA, পেনশনে আসবে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন! অষ্টম পে কমিশনে আরও এক ধাপ এগোল সরকার

    সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ বর্তমানে লক্ষ লক্ষ ভারতীয় সরকারি কর্মচারীর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হল অষ্টম বেতন কমিশন (8th Pay Commission)। দেশের ৫০.১৪ লক্ষ কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী এবং ৬৯ লক্ষেরও বেশি পেনশনভোগীর জন্য, এটি কেবল একটি সরকারি ঘোষণা নয়, বরং তাদের ভবিষ্যৎ, আর্থিক নিরাপত্তা এবং উন্নত জীবনযাত্রার মানের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এবার এই অষ্টম বেতন পে কমিশন নিয়েই আরও এক ধাপ এগোল কেন্দ্রীয় সরকার। নিশ্চয়ই ভাবছেন কী সেই পদক্ষেপ? তাহলে বিশদে জানতে চোখ রাখুন আজকের এই প্রতিবেদনটির ওপর।

    অষ্টম বেতন পে কমিশন নিয়ে বড় আপডেট

    অষ্টম বেতন কমিশন এখন সক্রিয়, এবং কর্মচারী, পেনশনভোগী এবং বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকে পরামর্শ চাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই কমিশন বেতন, ভাতা এবং পেনশনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই পরিবর্তনগুলি সরাসরি ৪৮ লক্ষ কর্মচারী এবং ৬৭ লক্ষ পেনশনভোগীদের উপর প্রভাব ফেলবে। কমিশন এই উদ্দেশ্যে একটি অনলাইন পোর্টাল খুলেছে, যেখানে আপনি ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ পর্যন্ত আপনার মতামত এবং পরামর্শ জমা দিতে পারবেন।

    অষ্টম বেতন কমিশন MyGov পোর্টালে ১৮টি প্রশ্নের একটি বিস্তারিত অনলাইন প্রশ্নপত্র প্রকাশ করেছে, যাতে ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ সালের মধ্যে জনসাধারণ এবং কর্মচারীদের কাছ থেকে পরামর্শ চাওয়া হয়েছে। এই প্রশ্নগুলিতে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের জন্য ডক্টর আইক্রয়েড সূত্রের প্রাসঙ্গিকতা, ৩% বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির সাথে কর্মক্ষমতার সংযোগ স্থাপন, MACP স্কিমে ১০, ২০ এবং ৩০ বছরের ব্যবধান হ্রাস এবং মহিলা কর্মচারীদের জন্য শিশু যত্ন ছুটি (CCL) উন্নত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ এবং ব্যবহারিক বিষয়গুলি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। উল্লেখ্য, গত ২০২৫ সালের নভেম্বরে সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি হওয়ার পর থেকে, বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের নেতৃত্বে কমিশন তার কাজ উল্লেখযোগ্যভাবে শুরু করেছে। কমিশন ২০২৭ সালের মে মাসের মধ্যে সরকারের কাছে তার বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার লক্ষ্য রেখেছে। যে কারণে বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের সাথে বৈঠক এবং পরামর্শ অব্যাহত রয়েছে।

    বেতন কতটা বাড়তে পারে?

    যেকোনো বেতন কমিশনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফর্মুলা হল এর “ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর” (Fitment Factor)। এটি হল জাদুকরী সংখ্যা যা আপনার মূল বেতন এবং পরিণামে আপনার হাতে থাকা বেতন নির্ধারণ করে। বর্তমানে, কর্মচারী ইউনিয়নগুলি জোরালোভাবে দাবি করছে যে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর সপ্তম বেতন কমিশনের ২.৫৭ থেকে বাড়িয়ে কমপক্ষে ২.৮৬ বা অষ্টম বেতন কমিশনের ৩.১৫ করা হোক। সরকার যদি ২.৮৬ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর গ্রহণ করে, তবুও পরিবর্তনগুলি তাৎপর্যপূর্ণ এবং ইতিবাচক হবে। নিম্ন স্তরের কর্মচারীরা অর্থাৎ গ্রেড ১ থেকে ৫ সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন। তাদের ন্যূনতম মূল বেতন, বর্তমানে ১৮,০০০ টাকা, বেড়ে ৫১,৪৮০ টাকা হতে পারে।

    আরও পড়ুনঃ বাড়ছে ঋণের বোঝা, আর্থিক স্বাস্থ্যে বিহার-ইউপির পিছনে বাংলা! শেষ তিনে পশ্চিমবঙ্গ

    এদিকে, মধ্য স্তরের কর্মকর্তাদের (গ্রেড ৬ থেকে ৯), যাদের মূল বেতন বর্তমানে ৪৪,৯০০ টাকা, তাদের জন্য এটি ১.২৮ লক্ষ টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। মূল বেতন বৃদ্ধির ফলে বাড়ি ভাড়া ভাতা (HRA) উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। উচ্চ স্তরের কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ বেতন ২.৫০ লক্ষ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩.৭৫ লক্ষ টাকা করে ৪.৫০ লক্ষ টাকা করার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও সরকার শেষ অবধি কী সিদ্ধান্ত নেয় এখন সেদিকেই নজর রয়েছে সকলের।

  • ক্যাবিনেটের বৈঠকে বড় সিদ্ধান্ত! DA বাড়ছে শীঘ্রই? জানুন আপডেট

    ক্যাবিনেটের বৈঠকে বড় সিদ্ধান্ত! DA বাড়ছে শীঘ্রই? জানুন আপডেট

    সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ ডিএ (Dearness allowance) কি বাড়ল নাকি আশাহত হতে হল সকল কর্মচারীকে? বর্তমানে কয়েক কোটি সরকারি কর্মী এবং পেনশন প্রাপকরা মহার্ঘ্য ভাতা এবং অষ্টম বেতন পে কমিশন (8th Pay Commission) লাগু হওয়ার অপেক্ষা করছেন। অপরদিকে গতকাল মঙ্গলবার মন্ত্রিসভার বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। সকলে আশা করেছিলেন যে সরকার DA বৃদ্ধি নিয়ে কোনও ঘোষণা করবে। ঘোষণা হল কি? চলুন জেনে নেবেন।

    DA নিয়ে কী বলছে কেন্দ্র?

    সকলে জানুয়ারি-জুন মাসের অর্ধ-বছরের জন্য মহার্ঘ্য ভাতা নিয়ে সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করছেন। এমনিতে সাধারণত, কেন্দ্রীয় সরকার হোলির দিন বা তার আগে মহার্ঘ্য ভাতা ঘোষণা করে, রিপোর্ট অনুযায়ী, এবার এই নিয়ে কোনও উচ্চবাচ্য করেনি সরকার! অনেক কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী আশা করেছিলেন যে মঙ্গলবার মোদী সরকারের মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, কিন্তু তা হয়নি।

    আরও পড়ুনঃ হবে মাল্টিট্র্যাকিং, চতুর্থ লাইন! বাংলায় ফের একগুচ্ছ রেল প্রকল্পের ঘোষণা

    এদিকে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের বেতন (Salary Hike) ও পেনশন সম্পর্কিত গঠিত হতে যাওয়া অষ্টম বেতন কমিশনের সামনে কর্মচারী সংগঠনগুলি তাদের দাবিগুলি পেশ করতে শুরু করেছে। এই বিষয়ে, অল ইন্ডিয়া ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস (AITUC) কমিশনের চেয়ারপারসন বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের কাছে ১৮টি প্রশ্নের উত্তর সহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ পাঠিয়েছে। এই পরামর্শগুলির মধ্যে রয়েছে কর্মচারীদের বেতন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি, পুরাতন পেনশন প্রকল্প (OPS) পুনরুদ্ধার, আরও পদোন্নতি এবং ভাতা বৃদ্ধির মতো দাবি।

    কতটা ডিএ বাড়তে পারে?

    এখন প্রশ্ন উঠছে, সরকার যখনই ঘোষণা করুক, কতটা ডিএ বৃদ্ধি হবে? মুদ্রাস্ফীতির তথ্যের উপর ভিত্তি করে, জানুয়ারি-জুন ২০২৬ অর্ধ-বছরের জন্য মহার্ঘ ভাতা প্রায় ২% বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এটি বাস্তবায়িত হলে, বর্তমান ৫৮% থেকে মূল বেতনের প্রায় ৬০% পর্যন্ত ডিএ বৃদ্ধি পেতে পারে। এই মহার্ঘ্য ভাতা এবং মহার্ঘ্য ত্রাণ সরকারি কর্মীদের ওপর আর্থিক বোঝা কমানোর ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করে।

     

  • ‘DA, পেনশন দূর! বেতনই বন্ধ হতে পারে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কর্মীদের!’ চাঞ্চল্যকর তথ্য

    ‘DA, পেনশন দূর! বেতনই বন্ধ হতে পারে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কর্মীদের!’ চাঞ্চল্যকর তথ্য

    সহেলি মিত্র, কলকাতা: একদিকে যখন বকেয়া ডিএ (Dearness allowance), পেনশন নিয়ে আন্দোলন চলছে বাংলার সরকারি কর্মীদের। তখন অন্যদিকে বলা হল, নাকি এসবের পাশাপাশি এবার মাইনেটাও বন্ধ হয়ে যেতে পারে! শুনে চমকে গেলেন তো? কিন্তু এটাই সত্যি। আর ফেসবুক লাইভে এসে ঠিক এমনই মন্তব্য করে সকলের চিন্তা বাড়িয়েছেন বিশ্লেষক এবং অধ্যাপক বিশ্বনাথ চক্রবর্তী। চলুন তিনি কী বলেছেন সেটা বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।

    DA, পেনশন, মাইনে সব বন্ধ হয়ে যাবে?

    বিশ্বনাথ চক্রবর্তী জানান, ‘কলেজগুলিতে শিক্ষা কর্মীদের পাওনা টাকা দেওয়া হচ্ছে না। স্যার, ম্যাডামদের দৈনন্দিন ক্লাসের টাকা অবধি দেওয়া হচ্ছে না। কম্পোজিট গ্রান্ট স্কুলগুলিতে পৌঁছাচ্ছে না। একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ৪ মার্চ অবধি প্রায় ৫৪ হাজার শিক্ষক, শিক্ষা কর্মীদের বেতন পাননি। সরকার ক্রমাগত দেউলিয়া হয়ে যেতে চলেছে। আগামী ৬ মার্চ অর্থাৎ আগামীকাল শুক্রবার জানা যাবে সরকারকে কত কিস্তিতে টাকা মেটাতে হবে কর্মীদের। এই দিনটার অপেক্ষা করছেন সকলে।’

    আরও পড়ুনঃ ১৫ মার্চই শেষ হবে ডেটা এন্ট্রি, কবে ঢুকবে বেকার ভাতার টাকা? যুবসাথী নিয়ে বড় খবর

    বকেয়া DA প্রসঙ্গে বিশ্বনাথবাবু জানান, ‘ডিএ-টা বড় কথা নয়, একটা সময়ে যদি মূল বেতনটাই না পাওয়া যায়! একবার ভাবুন আপনি লড়াই করছেন ডিএ-র জন্য। আমাদের কোষাগার, এমন হচ্ছে না তো নির্বাচনের পর সরকারি কর্মচারীদের বেতন দেওয়ার মতো জায়গায় থাকবে না সরকার! খবর বিভিন্নভাবে বুঝতে পারা যায়, সেটা হল, বেতন দেওয়া নিয়ে ইতিমধ্যে বেশ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে সরকারকে। ডিএ তো অনেক দূরের কথা, ডিএ আপনি সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরেও পাননি। আদালত অবমাননার মামলা করা হয়েছে। কবে শুনানি হবে, কিভাবে হবে, আদৌ হবে কিনা কেউ জানেন না।’

    আরও পড়ুনঃ এক্সট্রা বোনাস, এই কর্মীরা পাবে সর্বোচ্চ ২২ হাজার টাকা! বিজ্ঞপ্তি জারি নবান্নর

    বিশ্ববিদ্যালয়গুলির হাল বেহাল

    বিশ্বনাথ চক্রবর্তী আগে জানান, ‘ডিএ সরকার দেবে না এটা আগেও বলেছিলাম। নানা অজুহাত দেবে এই সরকার। ভাবলে খারাপ লাগে অন্যান্য রাজ্যের কর্মীদের থেকে আমরা কত কম টাকা পাই। দীর্ঘদিন ধরে আমরা ডিএ থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। আমরা আতঙ্কিত। কিন্তু একবার ভেবে দেখেছেন, এই নির্বাচনের পর সরকারের যে আর্থিক অবস্থা তৈরি হবে, তাতে বিশেষ করে শিক্ষা কর্মী, পঞ্চায়েত, পুরসভা কর্মী তাঁদের বেতনটা নিয়মিত হবে তো? যারা অধ্যাপক আছেন, কোথাও যদি গেস্ট প্রফেসর থাকে তাঁদের অনুদান এখন অনেকটা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলি চলবে কীভাবে? প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষক নেই, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বাধ্য হচ্ছে কোর্স কমপ্লিট করার জন্য গেস্ট অধ্যাপক রাখতে।’ লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, বেকার ভাতা দেওয়ার জন্য সরকার যে পরিমাণে ঋণ নিচ্ছে হাত গুটিয়ে নেবে না তো সরকার? আশঙ্কায় ভুগছেন সরকারি কর্মীরা। বাকিটা শুনে নিন ভিডিওতে

  • বাড়াতে হবে পেনশন, বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক সিনিয়র সিটিজেনদের

    বাড়াতে হবে পেনশন, বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক সিনিয়র সিটিজেনদের

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: পিএফ-এর আওতায় থাকা ইপিএস-৯৫ পেনশনভোগীদের ন্যূনতম পেনশন (Pension) বৃদ্ধিতে কেন্দ্র সরকারের অবস্থান দীর্ঘদিন ধরেই অনড়। তার প্রতিবাদেই আন্দোলনের পথে নামছে প্রবীণ নাগরিকরা। দীর্ঘদিন ধরেই পেনশন বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছিলেন তারা। তবে তাতে কোনও রকম কাজ না হওয়ায় বিরাট পদক্ষেপের পথে হাঁটছে প্রবীণ নাগরিকরা। একাধিক কমিটি সুপারিশ করলেও এখনো পর্যন্ত কোনও রকম পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলেই অভিযোগ।

    আসলে সম্প্রতি বাজেট অধিবেশন চলাকালীন সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে কেন্দ্রীয় শ্রম মন্ত্রকের বক্তব্যে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, আপাতত নূন্যতম পেনশন বৃদ্ধির বিষয়ে সরকার কোনও রকম চিন্তাভাবনা করছে না। এর পরেই আন্দোলনের ঝাঁজ বাড়ানোর জন্য দিল্লিতে বৃহত্তর বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে পেনশনভোগীদের সংগঠন।

    তিনদিনের সমাবেশ দিল্লিতে

    ইপিএস-৯৫ এর আওতায় পেনশনভোগীদের ভারতীয় সংগঠন ন্যাশনাল অ্যাগিটেশন কমিটি আগামী ৯ থেকে ১১ মাস দিল্লি যন্তরমন্তরে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করেছে। সংগঠন দাবি করছে, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ৫০ হাজার প্রবীণ নাগরিক এই কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। এমনকি সংগঠনের রাজ্য শাখার সভাপতি তপন দত্ত জানিয়েছেন, দিল্লির কেন্দ্রীয় সমাবেশ সফল করতে ইতিমধ্যে বিভিন্ন জেলায় ছোট ছোট সভার আয়োজন করা হয়েছে। উদ্দেশ্য একটাই, পেনশনভোগীদের সচেতনতা বাড়ানো।

    এ বিষয় তিনি বলেছেন, আমরা কেন্দ্রীয় শাসকদলের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি বিভিন্ন সাংসদদের কাছেও আমাদের দাবি বহুবারই জানিয়েছি। আর পিএফ-র কেন্দ্রীয় অছি পরিষদের সদস্যদের কাছে স্মারকলিপিও জমা দেওয়া হয়েছে। তবে প্রবীণ নাগরিকদের পক্ষে টানা তিনদিন দিল্লিতে অবস্থান করা শারীরিকভাবে কষ্টকর হলেও অনেকেই এই আন্দোলনে যোগ দিতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন সংগঠনের উচ্চ পদস্থ নেতারা।

    আরও পড়ুন: DA মামলায় জোড়া চাপে পশ্চিমবঙ্গ সরকার

    প্রসঙ্গত, সংগঠনের সচিব অমিয়কুমার দাস বানিয়েছেন, তাদের মূল দাবি হল ন্যূনতম মাসিক পেনশন ৭৫০০ হাজার টাকা করতে হবে। আর তার সঙ্গে মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ যুক্ত করতে হবে, এবং প্রবীণ নাগরিকদের জন্য পৃথক স্বাস্থ্য সুবিধা প্রকল্প চালু করতে হবে। বর্তমানে ইপিএস-৯৫ প্রকল্পের আওতায় অত্যন্ত কম অংকের পেনশন পেয়ে থাকেন প্রবীণরা। আর এতে সংসার চালানোর কার্যত কঠিন বলে দাবি তাদের।

  • ৩৭ লক্ষ মানুষের অ্যাকাউন্টে ২০০০ টাকা, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর! কারা পেলেন?

    ৩৭ লক্ষ মানুষের অ্যাকাউন্টে ২০০০ টাকা, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর! কারা পেলেন?

    সহেলি মিত্র, কলকাতা: হোলির আবহে বিরাট সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। প্রবীণ নাগরিক থেকে শুরু করে বিধবা, প্রতিবন্ধীদের অ্যাকাউন্টে টাকা ট্রান্সফার করল সরকার। হ্যাঁ একদম ঠিক শুনেছেন। তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন মঙ্গলবার ঘোষণা করেছেন যে তাঁর সরকার পেনশন (Pension) বাবদ ৩৭.৭৯ লক্ষ সুবিধাবঞ্চিত মানুষের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ২০০০ টাকা করে বিশেষ ফান্ড জমা করেছে।

    রাজ্যবাসীকে ২০০০ টাকা দিল সরকার

    মুখ্যমন্ত্রী স্ট্যালিন একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট মারফট বলেছেন যে বয়স্ক, বিধবা, বয়স্ক তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তি এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য অতিরিক্ত সহায়তার দাবিতে, সরকার আজ তাদের বিদ্যমান মাসিক পেনশনের পাশাপাশি প্রত্যেককে ২,০০০ টাকা করে প্রদান করা হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই উৎসবের আবহে সরকারের তরফে এমন টাকা প্রদান অনেকের কাছেই বিরাট উপহারের সমান। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো সমাজের প্রান্তিক মানুষের অর্থনৈতিক বোঝা কমানো।

    বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় সুবিধা গ্রহণকারী প্রায় ২৯.২৯ লক্ষ প্রবীণ নাগরিক এবং বিধবা তাদের নিয়মিত পেনশন ১,২০০ টাকার পাশাপাশি অতিরিক্ত ২,০০০ টাকা পেয়েছেন। মোট ৩,২০০ টাকা তাদের অ্যাকাউন্টে জমা করা হয়েছে। এছাড়াও রাজ্যের ৫.৯২ লক্ষ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ৩,৫০০ টাকা (১,৫০০ টাকা পেনশন + ২,০০০ টাকা বিশেষ তহবিল) পেয়েছেন। বিশেষ যত্নের প্রয়োজন এমন প্রায় ২.৫৮ লক্ষ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি তাদের অ্যাকাউন্টে মোট ৪,০০০ টাকা জমা পেয়েছেন।

    মৎস্যজীবী এবং চা চাষীদের জন্য ত্রাণ ঘোষণা

    মুখ্যমন্ত্রী কেবল পেনশনভোগীদের জন্যই নয়, অন্যান্য শ্রমিক শ্রেণীর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেছেন। তিনি ঘোষণা করেছেন যে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার সময়কালের জন্য (এপ্রিল থেকে জুন) ১,৬২,৯০০টি মৎস্যজীবী পরিবারকে প্রতি পরিবারে ৮,০০০ টাকা করে সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়াও, নীলগিরি জেলার ১৪,৮৭০ জন ক্ষুদ্র চা চাষীর জন্য ৮.৫৩ কোটি টাকার সহায়তা মূল্য প্রকাশ করা হয়েছে।

    আরও পড়ুনঃ পদত্যাগ করতে পারেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার! JDU-র সাথে জোট ভাঙবে BJP?

    উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারিতে কালাইগনার মাগালির উরিমাই থোগাই স্কিমের অধীনে মহিলাদের জন্য ২০০০ টাকার একটি বিশেষ গ্রীষ্মকালীন প্যাকেজ বিতরণ করা হয়েছিল, যার বর্তমান কিস্তির অর্থায়ন করা হয়েছে। এই স্কিমের ফলে অনেকের লাভ হয়েছে।  মুখ্যমন্ত্রীর মতে, সরকার রাজ্যের বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় সুবিধা গ্রহণকারী ২৯.২৯ লক্ষ সুবিধাভোগীর কাছে ৩,২০০ টাকার একটি বিশেষ সহায়তা প্যাকেজ হস্তান্তর করেছে, যার মধ্যে প্রবীণ নাগরিক এবং বিধবারাও রয়েছেন।