Tag: Panihati

  • পানিহাটিতে অভয়ার মা দাঁড়ালে বিজেপির লাভ না ক্ষতি? সমীক্ষায় মিলল চমকপ্রদ উত্তর

    পানিহাটিতে অভয়ার মা দাঁড়ালে বিজেপির লাভ না ক্ষতি? সমীক্ষায় মিলল চমকপ্রদ উত্তর

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) জন্য বিজেপির (BJP) দ্বিতীয় দফা প্রার্থী তালিকা নিয়ে সকলেই আগ্রহ প্রকাশ করেছিল। কারণ পানিহাটিতে (Panihati) আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নির্যাতিতা চিকিৎসকের মা নাকি বিজেপি প্রার্থী হতে চলেছে। পদ্ম-প্রতীকের প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছার কথা নাকি তিনি নিজেই জানিয়েছেন। অন্যদিকে নির্যাতিতার পরিবারকে প্রার্থী হিসাবে পাওয়ার ইচ্ছা যে বিজেপি নেতৃত্বের ছিল, সে কথা বিজেপি সূত্রও অস্বীকার করছে না। তবে বেশ কিছু আইনি জটের কারণে সেই কেন্দ্রে প্রার্থী তালিকা নিয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে অভয়ার মা ভোটে দাঁড়ালে, বিজেপির কি সুবিধে পাবে পানিহাটিতে?

    বিজেপির প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ নির্যাতিতার মায়ের

    পানিহাটির সম্ভাব্য বিজেপি প্রার্থীর কথায়, ‘‘ বিজেপির প্রার্থী হিসাবে আমি লড়তে চাই। অনেক দিন ধরেই আমাকে প্রার্থী হতে বলা হচ্ছিল। আমি রাজি ছিলাম না। কিন্তু আমি দেখলাম যে, নারীদের নিরাপত্তা, নারী সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হলে, আর পশ্চিমবঙ্গকে রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে যাওয়া দুর্নীতি থেকে মুক্তি দিতে হলে তৃণমূলকে মূল থেকে উপড়ে ফেলা দরকার। তাই আমি বিজেপিতে যোগ দিয়েছি এবং প্রার্থী হতে রাজি হয়েছি।’’ এই আবহে ABP আনন্দ ইউটিউব প্ল্যাটফর্ম ও অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়ায় সমীক্ষা করার জন্য প্রশ্ন তুলেছিল যে তিনি পানিহাটি থেকে হয়ে ভোটে দাঁড়ালে, বিজেপি কি ডিভিডেন্ট পাবে? আর সেই প্রশ্নের জবাবে উঠে এসেছে একাধিক জবাব।

    সমীক্ষায় মিলল উত্তর

    সমীক্ষায় জানা যায় আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নির্যাতিতা চিকিৎসকের মা বিজেপির প্রার্থী হিসেবে পানিহাটিতে দাঁড়ালে ৬৭ শতাংশ মানুষ জানিয়েছে বিজেপির লাভ হবে এবং ২৯ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন লাভ হবে না। তবে ৪ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন বলতে পারবেন না। অর্থাৎ সুবিধার ফলাফলটাই বেশি। বুধবার বিকেল পর্যন্ত পানিহাটিতে বিজেপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসাবে নাম ছিল দলের পুরনো নেতা তথা রাজ্য বিজেপির সহ সভাপতি অনিন্দ্য (রাজু) বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কিন্তু বুধবার বিকেলের দিকে প্রার্থী বাছাই নিয়ে জটিলতায় পড়ে বিজেপি, তাই আপাতত ওই কেন্দ্রে প্রার্থী এখনও অঘোষিত আছে।

    আরও পড়ুন: মার্চেও কনকনে ঠান্ডা! ভাঙল ৬ বছরের রেকর্ড, বিপর্যস্ত জনজীবন

    প্রসঙ্গত, রবিবার নির্বাচনের দিন ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রথম দফায় ১৪৪টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছিল বিজেপি। সেখানে ভবানীপুর ও নন্দীগ্রামে প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন শুভেন্দু অধিকারী এদিকে আবার ভবানীপুরে লড়ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং নন্দীগ্রামে করছেন পবিত্র কর। অন্যদিকে খড়গপুরে লড়ছেন দিলীপ ঘোষ। সব মিলিয়ে এবার আসন নিয়ে ভোটের লড়াই যে বেশ জবরদস্ত হবে, তা বেশ বোঝা যাচ্ছে।

  • এই কারণেই পানিহাটিতে অভয়ার মায়ের নাম ঘোষণা করতে পারল না বিজেপি?

    এই কারণেই পানিহাটিতে অভয়ার মায়ের নাম ঘোষণা করতে পারল না বিজেপি?

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026) শুরু হতে আর খুব বেশি দেরি নেই। তাই গত সোমবার, ২৯৪টি আসনের মধ্যে ১৪৪টি আসনের প্রার্থীদের নাম কয়েক দিন আগেই বিজেপি (BJP Candidate) ঘোষণা করে দিয়েছিল। এরপর বাকি ১৫০টি আসনের তালিকা নিয়ে গত তিন দিন ধরে দিল্লিতে দফায় দফায় বৈঠক চলছিল। অবশেষে গতকাল, বৃহস্পতিবার ঘোষণা করা হয় দ্বিতীয় দফার প্রার্থীদের তালিকা। কিন্তু সেই তালিকায় ছিল না পানিহাটির (Panihati) নাম। প্রার্থী তালিকা ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে পানিহাটি থেকে পদ্ম শিবিরের হয়ে নিজেই প্রার্থী হওয়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন আরজি করের নির্যাতিতার মা। তাতেই নাকি তৈরি হয়েছে সমস্যা।

    ঘোষণা হয়নি পানিহাটির প্রার্থীর নাম

    শুরু থেকেই আরজি করের নির্যাতিতার পরিবারকে প্রার্থী হিসাবে পাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল বিজেপি নেতৃত্ব। কিন্তু নির্যাতিতার পরিবার এত দিন সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। তাই সকলের ধারণা ছিল পানিহাটিতে বিজেপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসাবে নাম থাকবে দলের পুরনো নেতা তথা রাজ্য বিজেপির সহ সভাপতি অনিন্দ্য (রাজু) বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কিন্তু বুধবার বিকেলের পর থেকে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে যায়। কারণ নির্যাতিতার মা ভোটে দাঁড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। নির্যাতিতার মা ভোটে বিজেপির প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা করতেই তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে নাগরিক সমাজের মধ্যে। এদিকে নির্যাতিতা ও তাঁর আত্মীয়দের নাম প্রকাশ নিয়ে আইনি জটিলতার কারণেই নাকি পানিহাটিতে প্রার্থী নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না পদ্ম শিবির।

    প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ নির্যাতিতার মায়ের

    নির্যাতিতার মায়ের কথায়, ‘‘আমিই সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, বিজেপির প্রার্থী হিসাবে আমি লড়তে চাই। অনেক দিন ধরেই আমাকে প্রার্থী হতে বলা হচ্ছিল। আমি রাজি ছিলাম না। কিন্তু আমি দেখলাম যে, নারীদের নিরাপত্তা, নারী সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হলে, আর পশ্চিমবঙ্গকে রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে যাওয়া দুর্নীতি থেকে মুক্তি দিতে হলে তৃণমূলকে মূল থেকে উপড়ে ফেলা দরকার। তাই আমি বিজেপিতে যোগ দিয়েছি এবং প্রার্থী হতে রাজি হয়েছি।’’ কিন্তু তৈরি হল আইনি জট। আসলে ২০১৮-র নিপুণ সাক্সেনা কেসে, সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল, যৌন নির্যাতনের শিকার নারী বা শিশুর পরিচয় মিডিয়ায় প্রকাশ নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

    আরও পড়ুন: গভীর সঙ্কটে HDFC ব্যাঙ্ক? এবার মুখ খুলল RBI

    পরবর্তী সময়ে ২০২৪-এর ২১ আগস্ট অভয়ার নাম-পরিচয় প্রকাশ বন্ধের জন্য একটি মামলায় সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানায়, ধর্ষণের শিকার কোনও মেয়ের পরিচয় প্রকাশ করা যাবে না। কেন্দ্রকে নির্দেশ দেয়, ওই তরুণীর পরিচয় প্রকাশ্যে আসে, এমন সব ছবি–ভিডিয়ো ইত্যাদি সোশ্যাল ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে দিতে হবে। আর সেক্ষেত্রে নির্যাতিতার মা প্রার্থী হলে তাঁর নামে দেওয়াল লিখন বা ব্যানার পোস্টারে ছবি ছাপা হবে কী ভাবে সেই নিয়ে ওঠে প্রশ্ন। নির্যাতিতার বাবা বলেন, ‘আমরা প্রকাশ্যে আসতে চাই। আমরা পরিচয় প্রকাশ্যে আনতে আদালতে দু’বার হলফনামা দিয়েছি। কিন্তু তা আদালত খারিজ করে দিয়েছে।’ এখন দেখার কীভাবে এই আইনি জট কাটে।