Tag: Nabanna

  • আলুর দাম নিয়ে বড় ঘোষণা নবান্নের, চিন্তা দূর হবে চাষিদের?

    আলুর দাম নিয়ে বড় ঘোষণা নবান্নের, চিন্তা দূর হবে চাষিদের?

    সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ বিধানসভা ভোটের মুখে আলু নিয়ে বিপাকে বাংলার চাষিরা (Farmer)। এবারে ফলন হলেও বাজারে আলুর সঠিক দাম (Potato Price) মিলছে না, যা স্বাভাবিকভাবেই মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে চাষিদের। আলু আতঙ্কে বর্ধমানের এক চাষি আত্মহত্যা অবধি করেছে। এহেন পরিস্থিতিতে বড় পদক্ষেপ নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার।

    আলু চাষিদের জন্য বিরাট ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    কুইন্টাল পিছু ৯৫০ টাকা দরে আলু কেনার কথা ঘোষণা করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। শনিবার চাষিদের স্বার্থে বড় ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানিয়েছেন, ‘আলুর অভাবী বিক্রি রোধ করতে এবং আলু চাষিদের জন্য লাভজনক দাম নিশ্চিত করতে আমরা রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে অন্যান্য বারের মতো এবারেও আলু সংগ্রহ প্রকল্প চালু রেখেছে। আলুর ন্যূনতম সহায়ক মূল্য বাড়িয়ে কুইন্টাল পিছু ৯৫০ টাকা করা হয়েছে।’

    তিনি টুইটারে লেখেন, ‘আমাদের সমবায় দফতরের হিমঘর সহ রাজ্যের প্রায় সমস্ত হিমঘর এই প্রকল্পে অংশ নিচ্ছে। রাজ্যের হিমঘরে ছোট আলু চাষিদের জন্য ৩০ শতাংশ জায়গা সংরক্ষিত আছে। আন্তঃরাজ্যে বাণিজ্যে কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই। রাজ্যের মানুষকে বঞ্চিত না করে অন্য রাজ্যে আলু রপ্তানি করতে চাইলে রাজ্য সরকার কৃষকদের স্বার্থে তাতে কোনও বাধা দেবে না। বরং আলুর ক্ষেত্রে আন্তঃরাজ্য বাণিজ্যে রাজ্যের উৎসাহই আছে।’

    কী অবস্থা রাজ্যের আলু চাষিদের ?

    সূত্রের খবর, ‘গত বছর, রাজ্যে ১১০ লক্ষ টন আলু উৎপাদন হয়েছিল। ফসল তোলার সময় কৃষকরা পর্যাপ্ত দাম পাননি, এবং ব্যবসায়ীরা, যারা হিমাগারে আলু সংরক্ষণ করেছিলেন, তারা মরসুমের শেষে তাদের উৎপাদিত পণ্য অনেক কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হন – প্রায় ₹ ২ কেজি। এই বছর, উৎপাদন অনেক বেশি, এবং ফলস্বরূপ, সমস্যাটি আরও বড়।’

    আরও পড়ুনঃ ট্রেনের টিকিট থেকে শুরু করে খাওয়ার, সবই পাবেন বিনামূল্যে! বড় উদ্যোগ রেলের

    এক সরকারি কর্মকর্তা জানান, “রাজ্যের চাহিদা প্রায় ৬০ লক্ষ টন। বাকিটা আগে বিহার, ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড এবং আসামের মতো রাজ্যে পাঠানো হত। কিন্তু ২০১৯ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে বাংলা সরকার অন্যান্য রাজ্যে আলু বিক্রির উপর বারবার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায়, প্রতিবেশী রাজ্যগুলি আর বাংলার আলুর উপর নির্ভরশীল নয়, যার ফলে ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগ নিয়ে শঙ্কিত।” হুগলি, পূর্ব বর্ধমান, বীরভূম এবং পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় প্রায় ১৫ লক্ষ আলু চাষী রয়েছে। তাঁদের সমস্যা শীঘ্রই দূর করতে বদ্ধপরিকর সরকার বলে খবর।

  • সিভিক, হোমগার্ডদের ইউনিফর্ম স্টিচিং ভাতা দেবে নবান্ন

    সিভিক, হোমগার্ডদের ইউনিফর্ম স্টিচিং ভাতা দেবে নবান্ন

    সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ যে কোনও মুহূর্তে বাংলায় বিধানসভা ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা হতে পারে। এরই মাঝে বাংলায় কর্মরত সিভিক ভলান্টিয়ার ও হোমগার্ডদের জন্য রইল সুখবর। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের (Government of West Bengal) তরফে সকলের জন্য বিশেষ তোড়জোড় শুরু করা হয়েছে। মিলবে টাকা। আপনিও যদি সিভিক ভলান্টিয়ার ও হোমগার্ড হয়ে থাকেন তাহলে বিশদে জেনে নেবেন।

    সিভিক ভলান্টিয়ার ও হোমগার্ডদের জন্য বিরাট সুখবর

    আসলে এবার পশ্চিমবঙ্গ সরকার সিভিক ভলান্টিয়ার ও হোমগার্ডদের ‘ইউনিফর্ম স্টিচিং অ্যালাওয়েন্স’ দিতে উদ্যত হয়েছে। ভোটের মুখে ইউনিফর্ম সেলাইয়ের টাকা পাবেন ১ লক্ষ ৪০ হাজার সিভিক ভলান্টিয়ার এবং হোমগার্ড। মূলত পশ্চিমবঙ্গ এবং কলকাতা পুলিশের সিভিক ভলান্টিয়ার এবং হোমগার্ডরা এই সুবিধা পাবেন বলে সূত্রের খবর। এই নিয়ে ইতিমধ্যে বেশ কিছু তথ্য চেয়ে পাঠানো হয়েছে। সেইসঙ্গে হিসেব নিয়েও কাজ শুরু করে দিয়েছে সরকার বলে কানাঘুষো শোনা যাচ্ছে।

    এমনিতে বছরে দুটি ইউনিফর্ম তৈরির বর্তমানে বছরে দু’টি ইউনিফর্ম তৈরির জন্য নির্দিষ্ট রঙের কাপড় দিয়ে দেওয়া হয় সিভিক ভলান্টিয়ার ও হোমগার্ডদের। কিন্তু সরকারের তরফে পাঠানো সেই কাপড় সেলাইয়ের টাকা দেওয়া হত না। টাকা বরাদ্দ করত না সরকার। তবে এবার ছবি বদলে গিয়েছে।

    আর্জি অর্থ দফতরে

    শোনা যাচ্ছে, এবার থেকে অর্থ দফতরকে এর জন্য অর্থ বরাদ্দের আর্জি জানানো হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ এবং কলকাতা পুলিশের প্রস্তাবের উপর ভিত্তি করেই অর্থ দফতরের কাছে ছাড়পত্র চেয়েছে রাজ্য স্বরাষ্ট্র দফতর। এখন প্রশ্ন উঠছে, কে কত টাকা পাবেন এবং কতজনই বা টাকা পাবেন? সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতি ইউনিফর্ম সেলাই বাবদ ৫০০ টাকা করে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ। আর কলকাতা পুলিশ প্রস্তাব দিয়েছে ৩০০ টাকার। এদিকে সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে জিএসটি সহ ৫২০ টাকা করে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে স্বরাষ্ট্র দফতর। এখন রাজ্যের অর্থ দফতর সবুজ পতাকা দেখালেই কাজ শুরু হয়ে যাবে। মিলবে টাকা।

    আরও পড়ুনঃ এদের জন্য হরমুজ প্রণালীর দরজা খুলে দিল ইরান, তালিকায় ভারতও? 

    নবান্ন সূত্রে খবর, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ এলাকায় রয়েছেন ১ লক্ষ ২৪ হাজার ৭১৪ জন সিভিক ভলান্টিয়ার। অন্যদিকে কলকাতা পুলিশ এলাকায় প্রায় ৭৫০০ জন। পশ্চিমবঙ্গ ও কলকাতা পুলিশ মিলিয়ে হোমগার্ডের সংখ্যা ১০,৫০০। এছাড়াও মহিলা হোমগার্ডের সংখ্যা ১৫৩৭। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এই সংখ্যক মানুষ টাকা পাবেন।

     

  • পোর্টালে সমস্যায় আপডেট করা যাচ্ছে না সার্ভিস বুক, কর্মীদের নয়া নির্দেশ রাজ্য সরকারের

    পোর্টালে সমস্যায় আপডেট করা যাচ্ছে না সার্ভিস বুক, কর্মীদের নয়া নির্দেশ রাজ্য সরকারের

    সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ চলতি অর্থ বর্ষ যখন শেষ হওয়ার দোরগোড়ায়, তখন আচমকা বিপাকে পড়লেন রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা (Government Employees)। রাজ্য সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পোর্টাল খুলছে না। যখনই পোর্টাল খুলতে যাওয়া হচ্ছে তখনই হয় বলছে Service Unavailable নয়তো Error। এদিকে ইয়ার এন্ডের কাজ করতে গিয়ে স্বাভাবিকভাবেই সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে সকলকে। রাজ্য সরকারের ডব্লিউবিআইএফএমএস (WBIFMS) পোর্টালে বিশেষ সমস্যা দেখা দিয়েছে।

    খুলছে না সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পোর্টাল

    সার্ভার সমস্যার কারণে এই পোর্টাল খুললেও আপডেট করা যাচ্ছে না eService Book। এদিকে অর্থবর্ষ শেষের দিকে এমন সমস্যার ফলে আটকে গিয়েছে অনলাইনে বহু কাজ। ফলে বেজায় উদ্বিগ্ন সরকারি কর্মীরা। থমকে রয়েছে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ কাজ। সময়ের মধ্যে সেই কাজগুলি কীভাবে শেষ হবে তা নিয়ে এখন চিন্তিত সকলে। অর্থ বিভাগের তরফে ইতিমধ্যে কাজগুলির জন্য ডেডলাইন বেঁধে দেওয়া হয়েছে। একদিকে সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার চাপ, অন্যদিকে পোর্টাল না খোলার সমস্যা। কীভাবে কী হবে তা ভেবে কুল কিনারা পাচ্ছেন না কেউ।

    বিপাকে সরকারি কর্মীরা

    সামনেই রয়েছে বিধানসভা ভোট। এদিকে মার্চ মাসটাই হল অর্থবর্ষের শেষ মাস। সব কাজ সময়ের মধ্যে করতে হবে। WBIFMS এই নির্দিষ্ট পোর্টালটি রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য সমস্ত আর্থিক এবং পরিষেবা-সম্পর্কিত কার্যক্রমের প্রাথমিক মাধ্যম। তবে, ওয়েবসাইটটি অ্যাক্সেস করা যাচ্ছে না কিছুতেই। ব্যবহারকারীরা বারবার তাদের স্ক্রিনে ‘503 পরিষেবা অনুপলব্ধ’ বা কখনও কখনও ‘404 Page is Unavailable’ এর মতো বার্তা স্ক্রিনে ভেসে উঠছে। এই চলমান সার্ভার অচলাবস্থার কারণে, সরকারি অফিসগুলির স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তবে WBIFMS এর পোর্টালে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, eService Book মডিউলের কাজ আপাতত রক্ষণাবেক্ষণ রয়েছে, যার জন্য ৭২ ঘণ্টা সময় লাগবে। কর্মীদের ৭২ ঘণ্টা পর নিজেদের কাজ শুরু করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    ২০ মার্চের মধ্যে বিশেষ কাজ করার নির্দেশ নবান্নের

    আসলে আগামী ২০ মার্চের মধ্য সরকারি কর্মীদের একটি বিশেষ কাজ করে নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। রাজ্য অর্থ দফতরের তরফে জারি করা নতুন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সব সরকারি কর্মচারীর সার্ভিস বুক (Service Book) ডিজিটাল বা ই-সার্ভিস বুক হিসেবে তৈরি করতে হবে।

    আরও পড়ুনঃ হানা দেবে কিউমুলোনিম্বাস মেঘ থেকে কালবৈশাখী! টানা ৬ দিন ভয়ঙ্কর দুর্যোগ বঙ্গে

    অর্থ দফতরের তরফে প্রকাশিত নতুন আদেশনামা 835-F(eGov) এবং ২৮/০২/২০২৬ অনুযায়ী, আগামী ২০ মার্চের মধ্যে সমস্ত সরকারি কর্মীর ই-সার্ভিস বুক তৈরির কাজ সম্পূর্ণ করতে হবে। প্রথমে সার্ভিস বুকের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক বা কাস্টোডিয়ানরা মূল নথির পাতাগুলি স্ক্যান করে অনলাইনে আপলোড করবেন। এরপর কর্মচারীদের নিজেদের দায়িত্ব নিতে হবে। তাঁরা সেই স্ক্যান করা নথিগুলি দেখে অনলাইনে নিজেদের সমস্ত তথ্য সতর্কতার সঙ্গে এন্ট্রি করবেন।

     

  • ৫টি পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের জন্য নয়া উন্নয়ন পর্ষদ গঠনের ঘোষণা নবান্নের

    ৫টি পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের জন্য নয়া উন্নয়ন পর্ষদ গঠনের ঘোষণা নবান্নের

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026) নিয়ে বেশ তর্ক বিতর্ক হয়েই চলেছে, এখনও কাটেনি SIR এর জট। কিছুদিন আগে ধর্মতলায় SIR এর প্রতিবাদে রীতিমত পাঁচ দিনের জন্য ধরনা মঞ্চে বসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, যা নিয়ে বিরোধীরা কম কটাক্ষ করেনি। আর এবার বিধানসভা নির্বাচনের আগে বড় ঘোষণা করলেন মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। জানা গিয়েছে, দলিত, আদিবাসী তথা পিছিয়ে থাকা সম্প্রদায়ের উন্নতির জন্য সাংস্কৃতিক ও উন্নয়ন বোর্ড গঠন করতে চলেছে রাজ্য সরকার।

    বড় ঘোষণা মমতার

    আজ অর্থাৎ শুক্রবার নিজের এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তিনি জানিয়েছেন, “ আমি আনন্দের সাথে ঘোষণা করছি মুন্ডা(এসটি), কোরা (এসটি), ডোম (এসসি), কুম্ভকার (ওবিসি), সদগোপদের (ওবিসি) জন্য শীঘ্রই পাঁচটি নতুন উন্নয়ন পর্ষদ গঠন করতে চলেছে আমাদের সরকার। এই সম্প্রদায়গুলি বাংলার প্রাণবন্ত কাঠামোর অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাঁদের সকলকে আমার আন্তরিক অভিনন্দন। এই বোর্ডগুলি উন্নত শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও চাকরি নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাঁদের অনন্য ভাষা ও ঐতিহ্য রক্ষা করবে।

    পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের জন্য পাঁচটি বোর্ড গঠন

    সূত্রের খবর, এই নয়া নির্মিত পাঁচটি বোর্ডের মূল লক্ষ্য হবে সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়গুলির নিজস্ব ভাষা, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে রক্ষা করা। পাশাপাশি, তাদের শিক্ষা, উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সুনিশ্চিত করা। এর ফলে একদিকে যেমন তাদের প্রথাগত অধিকার সুরক্ষিত থাকবে ঠিক তেমনই আবার আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই নির্দেশে বেশ খুশি পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়গুলি। যদিও রাজনৈতিক মহলের মতে রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপগুলো আসলে সবই ভোট পাওয়ার টোপ। আর এক্ষেত্রে তাই টার্গেট করা হয়েছে ST, SC, OBC সম্প্রদায়কে।

    আরও পড়ুন: ব্যবসায়ীদের স্বার্থে বড় ঘোষণা মমতার

    প্রসঙ্গত, গতকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের ব্যবসায়ীদের স্বার্থে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ট্রেডার্স ওয়েলফেয়ার বোর্ড’ গঠন করেছে। যেখানে সরকার এবং ব্যবসায়ী মহলের মধ্যে সমন্বয় যেমন বাড়বে ঠিক তেমনই বাজার, পাইকারি ব্যবসা, খুচরো বাণিজ্য থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরের ব্যবসায়ীদের অভিযোগ ও সমস্যার বিষয় সংক্রান্ত সমস্যা দূর হবে।

  • DA নিয়ে সংঘাত চরমে! আন্দোলনের মাঝেই কর্মীদের কড়া নোটিস নবান্নর

    DA নিয়ে সংঘাত চরমে! আন্দোলনের মাঝেই কর্মীদের কড়া নোটিস নবান্নর

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) আবহে রাজ্য জুড়ে সমস্ত দলগুলির মধ্যে এক উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আর এই অবস্থায় আজ ফের ডিএ ইস্যুতে ধর্মঘটের (DA Strike) ডাক দিয়েছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। তবে এব্যাপারে কড়া অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। আন্দোলনের মাঝেই সরকারি কর্মীদের জন্য নোটিস দিল নবান্ন (Nabanna)। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে ওই দিন রাজ্য সরকারের সমস্ত দফতর স্বাভাবিক নিয়মেই খোলা থাকবে, উল্টে কেউ যদি ধর্মঘটের জন্য ছুটি নেন তাহলে সেই দিনের বেতন কাটা হবে তাঁর।

    ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ

    উল্লেখ্য, সম্প্রতি সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা মামলার রায় কার্যকর করার সময়সীমা বাড়ানোর জন্য নতুন করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জমা দিয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। জানানো হয়েছিল, ডিএ বকেয়া পরিশোধ সংক্রান্ত নির্দেশ বাস্তবায়নে একাধিক প্রশাসনিক, প্রযুক্তিগত এবং আর্থিক জটিলতার মুখে পড়তে হচ্ছে। সেই কারণেই অন্তত ২৫ শতাংশ বকেয়া ডিএ এবং প্রথম কিস্তির অর্থ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হোক। স্বাভাবিকভাবে রাজ্যের জানানো আর্জিতে হতাশ সরকারি কর্মীরা। আর তারই প্রতিবাদে আজ, শুক্রবার ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। কিন্তু DA আন্দোলনের মাঝেই সরকারি কর্মীদের জন্য কড়া নোটিস দিল নবান্ন।

    নোটিসে কী জানিয়েছে প্রশাসন?

    পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে সাফ জানানো হয়েছে, ধর্মঘটের দিন প্রত্যেক সরকারি কর্মীর উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। ওইদিন কোনও কর্মী যদি অনুপস্থিত থাকেন তাহলে তাঁকে ‘ডাইস নন’ হিসাবে গণ্য করা হবে অর্থাৎ ওই দিনের বেতন কেটে দেওয়া হবে। তবে কিছু ক্ষেত্রে কর্মীদের ছাড় দেওয়া হবে। যদি কোনও কর্মী চিকিৎসাধীন কিংবা পরিবারের কেউ গুরুতর অসুস্থ, পরিবারে কারও মৃত্যু হলে, মাতৃত্বকালীন ছুটি বা আগে থেকে নেওয়া ছুটির ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হবে। তবে যদি কোনও কর্মী অনুমতি ছাড়াই ছুটি নেন, তবে তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠাতে হবে। সেক্ষেত্রে সন্তোষজনক জবাব দিতে না পারলে ছুটি মঞ্জুর করা হবে না।এমনকি নোটিসের জবাব যদি না দেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।

    আরও পড়ুন: দুর্ভোগ কমবে শিয়ালদা-হাওড়া লাইনের যাত্রীদের, নশিপুর হল্ট স্টেশন নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত রেলের

    প্রসঙ্গত, যে কোনও ধর্মঘটের ক্ষেত্রে বরাবর কড়া অবস্থান নিয়ে এসেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শাসকদল বা প্রশাসনের বিরুদ্ধে কোনরকম ধর্মঘট ও আন্দোলন আপোস করতে চান না তিনি। তাই এবারেও কর্মীদের ধর্মঘট নিয়ে করা অবস্থান নিলেন। তবে নাছোড়বান্দা কর্মীদের সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ, যে করেই হোক আন্দোলন করে ছাড়বে। এই প্রসঙ্গে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের তরফে ভাস্কর ঘোষ বলেন, “গোটা ভারত সুপ্রিম কোর্টে আইন মেনে চলে। তবে বাংলায় একজনের নির্দেশে আইন চলে। সেমিফাইনাল শেষ। এবার ১৩ মার্চ ফাইনাল খেলা হবে।”

  • নবান্নের দিকে জানলা ব্যালকনি রাখা যাবে না! পুলিশের শর্তে বড় ধাক্কা দিল হাইকোর্ট

    নবান্নের দিকে জানলা ব্যালকনি রাখা যাবে না! পুলিশের শর্তে বড় ধাক্কা দিল হাইকোর্ট

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: নবান্নের (Nabanna) সামনে বাড়ি তৈরির জন্য স্থানীয় প্রশাসনের দেওয়া তিনটি শর্ত খারিজ করে দিল কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta High Court)। আর এই রায়ের নিরিখে স্বস্তি পেল নির্মাণকারীরা। হাই সিকিউরিটি জোন হিসেবে চিহ্নিত নবান্নের দিকে বাড়ি তৈরির ক্ষেত্রে পুলিশ স্পষ্ট জানিয়েছিল কোনো জানলা থাকবে না, ছাদের উপরে তুলতে হবে পাঁচিল! যেটা খুবই অস্বস্তিকর, এই নিয়ে মামলা উঠতেই বড় সিদ্ধান্ত নিল কলকাতা হাইকোর্ট।

    একাধিক শর্ত আরোপ হাইকোর্টের

    নবান্নর নিরাপত্তার মূল দায়িত্বে রয়েছে লালবাজার। পুলিশের ২০১৯-এর বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ওই এলাকা ‘হাই সিকিউরিটি জোন’ হিসেবে চিহ্নিত। তাই নবান্নের আশেপাশে বাড়ি তৈরি করার জন্য ১৭ দফা শর্ত বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। নবান্নের আশেপাশের আবাসনে কাউকে ফ্ল্যাট বিক্রির আগে সেই ব্যক্তির অতীত সম্পর্কে প্রোমোটারকে খোঁজ নিতে হবে। আইনজীবীদের ব্যাখ্যা, কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনও ক্রিমিনাল কেস থাকলে তাঁর কাছে ফ্ল্যাট বিক্রি করা যাবে না। শুধু তাই নয় কোনও ভাবেই আশেপাশের আবাসন বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা যাবে না। বিল্ডিং তৈরির পরে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো সংক্রান্ত একাধিক নিয়ম জারি করা হয়েছিল। এমনকি জানলা এবং ব্যালকনি নিয়েও শর্ত রাখা হয়েছিল।

    শর্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা দায়ের

    নবান্নের পাশে বাড়ি তৈরির লালবাজারের অন্যতম শর্ত ছিল নবান্নের দিকে মুখ করে কোনও জানলা অথবা বারান্দা রাখা যাবে না৷ ছাদে নবান্নের দিকে পাঁচিলের উচ্চতা হতে হবে অন্তত ১০ ফুট। নবান্ন যাতে দেখা না যায় তা নিশ্চিত করতে ছাদের উপরেও ১০ মিটার উঁচু পাচিল তুলতে হবে৷ এদিকে নবান্নের সামনে ক্ষেত্রমোহন বন্দ্যোপাধ্যায় লেনে এক ব্যক্তি পাঁচ তলা বাড়ি তৈরি করতে চেয়েছিলেন। তাই হাওড়া পুরসভার কাছে বাড়ির পরিকল্পনা জমা দিয়ে প্রয়োজনীয় অনুমোদন চান তিনি। কিন্তু অভিযোগ, তখনই তাঁকে পুলিশের ১৭টি শর্ত ধরানো হয়। তাই এবার নির্দিষ্ট এই শর্তগুলি চ্যালেঞ্জ করে জমির মালিক এবার সরাসরি কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হলেন।

    প্রশ্ন তোলা হয় শর্তগুলি নিয়ে

    জানা গিয়েছে, নবান্ন থেকে ১০০ মিটার দূরে হাওড়া পুরসভার ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডে ৫ তলা ওই বাড়িটি তৈরির পরিকল্পনা করেছিলেন জমির মালিক৷ বছর সাতেক আগে হাওড়া পুরসভায় প্রস্তাবিত বাড়িটির নকশা অনুমোদনের জন্য জমা দেওয়া হয়৷ কিন্তু নবান্নের দিকে জানলা, বারান্দা না রাখতে দেওয়া, ছাদের উপরে দশ মিটার উচ্চতার পাঁচিল তোলার শর্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়৷ মামলাকারীর আইনজীবী শ্রীজীব চক্রবর্তীর প্রশ্ন, আইন অনুযায়ী এই ধরনের শর্ত কি কোনও বাড়ির উপর চাপানো যায়? কী ভাবে বাড়ি তৈরি করা হবে, তা কি প্রশাসন ঠিক করে দিতে পারে? অবশেষে গতকাল সেই শর্ত খারিজ করে দিল হাই কোর্টের বিচারপতি গৌরাঙ্গ কান্তের বেঞ্চ।

    আরও পড়ুন: DA আন্দোলনে যেতে পারবেন না শিক্ষকরা! নোটিশ জারি মধ্যশিক্ষা পর্ষদের

    শর্ত খারিজ হাইকোর্টের

    আদালতের পর্যবেক্ষণ, কোনও এলাকার নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ হলেও শর্তাবলি আইনের সীমার মধ্যে রাখা উচিত। ছাদে ১০ ফুটের দেওয়াল তৈরি করতে গেলে বাড়ির প্রয়োজনীয় আলো-বাতাস বন্ধ হয়ে যাবে। লালবাজারের জানলা বা বারান্দার নির্মাণ নিষিদ্ধ করাও অমানবিক, এতে আবাসিকদের স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই এই জোড়া শর্তকে ‘অবৈধ’ বলে উল্লেখ করেছেন বিচারপতি। এছাড়াও আদালত জানিয়েছে, কে বাড়িতে থাকবেন, তা নির্ধারণ করা পুরসভার কাজ নয়। তাই পুলিশের ক্রাইম ইনসিডেন্ট ভেরিফিকেশন শর্তটিও খারিজ করা হয়েছে।

  • নবান্নে স্টেশনারি সামগ্রী সরবরাহের সুযোগ! বিজ্ঞপ্তি করল অর্থ দফতর

    নবান্নে স্টেশনারি সামগ্রী সরবরাহের সুযোগ! বিজ্ঞপ্তি করল অর্থ দফতর

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: সামনেই বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন। তবে তার আগে বিভিন্ন দফতরের দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহের জন্য এবার কোটেশন আহ্বান করেছে রাজ্যের অর্থ দফতর (Government of West Bengal)। নবান্ন এবার সরকার অনুমোদিত হোলসেল কনজিউমার কো-অপারেটিভ সোসাইটিগুলির কাছ থেকে এবার স্টেশনারি, গ্রোসারি, স্যানিটারি এবং অন্যান্য সামগ্রী সরবরাহের জন্য দরপত্র জমা দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। এমনকি এই সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তিও জারি করেছেন নবান্ন।

    কী বলা হল ওই বিজ্ঞপ্তিতে?

    অর্থ দফতরের তরফ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আগামী ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে ৩১ মার্চ ২০২৭ পর্যন্ত এক বছরের জন্য বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহের উদ্দেশ্যেই কোটেশন আহ্বান করা হচ্ছে। ইচ্ছুক সরকারি অনুমোদিত কো-অপারেটিভ সংস্থাগুলিকে নিয়ম মেনেই সিল করা খামে কোটেশন জমা করতে হবে। এমনকি সেই কোটেশন জমা করার শেষ তারিখ ১৯ মার্চ ২০২৬। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নবান্নে অবস্থিত অর্থ দফতরের কার্যালয়ে এই কোটেশন জমা দিতে হবে। যার ঠিকানা ফাইন্যান্স ডিপার্টমেন্ট, গ্রুপ–এইচ; ১০ তলা, রুম নম্বর ১০০৪; নবান্ন, হাওড়া।

    তবে সমস্ত জামা পড়া কোটেশন খোলা হবে ২৩ মার্চ ২০২৬ দুপুর ১২ টার সময়। আর এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে অর্থ দফতরের স্পেশালিস্ট সেক্রেটারী দফতরের মাধ্যমে। এমনকি বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, দফতরের প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের স্টেশনারি সামগ্রী, গ্রোসারি পণ্য, স্যানিটারি সামগ্রী এবং অন্যান্য অফিসের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরবরাহ করা হবে। আর এই সমস্ত সামগ্রীর নির্দিষ্ট তালিকা অর্থ দফতর থেকে সংগ্রহ করা হবে। পাশাপাশি আগ্রহী প্রতিনিধিরা নবান্নে এসে নমুনা দেখতে পারবে।

    আরও পড়ুন: ৫২৪টি LPG সিলিন্ডার ভর্তি ট্রাক উধাও! গ্যাসের সংকটের মধ্যেই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঝাঁসিতে

    রয়েছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্ত

    তবে বিজ্ঞপ্তিতে গুরুত্বপূর্ণ কিছু শর্ত উল্লেখ করা হয়েছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, কোটেশনে উল্লেখিত দাম জিএসটি ছাড়াই দিতে হবে। আর সরবরাহ করা সামগ্রী অবশ্যই দফতরের দেওয়া নমুনা অনুযায়ী হতে হবে। পাশাপাশি কোনও সংস্থার কোটেশন গ্রহণ করা কিংবা বাতিল করার সম্পূর্ণ অধিকার দফতরের হাতেই থাকবে। আর বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, যে সংস্থার কোটেশন গ্রহণ করা হবে তাদের দফতরের চাহিদা পাওয়ার সাত দিনের মধ্যেই সমস্ত সামগ্রী সরবরাহ করতে হবে। সময়ের মধ্যে সরবরাহ না করলে সেই সংস্থা ব্ল্যাকলিস্ট হতে পারে।

    অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি- Download Now

  • ফাইল আটকে নবান্নেই? ১০০ দিনের টাকা বন্ধের আসল কারণ নিয়ে বিস্ফোরক দাবি

    ফাইল আটকে নবান্নেই? ১০০ দিনের টাকা বন্ধের আসল কারণ নিয়ে বিস্ফোরক দাবি

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ক্রমেই এগিয়ে আসছে ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন, তাই স্বাভাবিকভাবেই রাজ্য জুড়ে এক উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে প্রকল্প নিয়ে কেন্দ্র এবং রাজ্যের মধ্যে সংঘাত যেন কিছুতেই থামছে না। কখনও আবাস যোজনা প্রকল্প তো কখনও আবার MGNREGA-এর প্রকল্প (MGNREGA Scheme)। আর এই পরিস্থিতির মাঝেই এবার মমতা সরকারের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক তথ্য তুলে ধরলেন বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য।

    ১০০ দিনের কাজ নিয়ে তুমুল বিতর্ক

    দুর্নীতির অভিযোগে প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে ১০০ দিনের কাজে রাজ্য সরকারকে প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। যদিও এই নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি। কখনও এর বিরুদ্ধে মামলা করে হাইকোর্টে যেতে হয়েছে তো কখনও আবার সুপ্রিম কোর্টে। আদালত জানিয়ে ছিল, দুর্নীতির তদন্ত চলুক, তবে সাধারণ মানুষের টাকা আটকে রাখা যাবে না। একই সঙ্গে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কেন্দ্রকে শর্তও ঠিক করতেও বলেছিল আদালত। কিন্তু কেন্দ্রের দেওয়া শর্তগুলি মানতে নারাজ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই সেই নিয়ে ঝামেলার শেষ নেই। আর এই অবস্থায় লোকসভার তরফে দেওয়া এক চাঞ্চল্যকর তথ্য তুলে ধরলেন অমিত মালব্য।

    MGNREGA নিয়ে নয়া তথ্য ফাঁস

    সম্প্রতি তৃণমূলের এক সাংসদ প্রতিমা মণ্ডল MGNREGA নিয়ে বেশ কয়েকটি প্রশ্ন তুলে ধরেছিলেন। তিনি জানতে চেয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গে মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা প্রকল্প তহবিল দীর্ঘ সময় ধরে আটকে কেন রাখা রয়েছে। এবং কবে বরাদ্দ টাকা মিলবে সেই নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। অবশেষে তার জবাব পেয়ে ফ্যাসাতে পড়ল শাসকদল। রিপোর্ট মোতাবেক, আজ, বুধবার, বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে লোকসভার সেই প্রশ্নের জবাবের তথ্য পোস্ট করেন। যেখানে স্পষ্ট জানানো হয় পশ্চিমবঙ্গ সরকার MGNREGA-এর জন্য শ্রম বাজেট প্রস্তাব জমা দেয়নি। আর এই নিয়ে বেশ শোরগোল শুরু হয়। অমিত কটাক্ষ করে জানান তাহলে বোঝাই যাচ্ছে বাংলার লক্ষ লক্ষ দরিদ্র শ্রমিকের কাছে MGNREGA মজুরি পৌঁছানো থেকে আসলে কে আটকাচ্ছে?

    আরও পড়ুন: গ্যাস সংকটের প্রভাব এবার পরিবহণে! CNG-র দাম বাড়ায় কলকাতায় বাড়ছে অটোভাড়া, কতটা?

    প্রসঙ্গত, শুরু থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলিতে ১০০ দিনের কাজ নিয়ে একাধিক অভিযোগ করে এসেছে। তাঁদের এও বলা হয়েছিল যে বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলিতে ১০০ দিনের কাজে নাকি অধিক বরাদ্দ দেওয়া হয়, কিন্তু মমতা সরকার ঠিকভাবে কাজ করেও কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে কোনো সুবিধা পায়নি। এদিকে লোকসভার এই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসতেই বিজেপির তরফে নানাবিধ মন্তব্য করা হলেও এখনও তৃণমূলের তরফে কিছু জানানো হয়নি।

  • অবশেষে বকেয়া DA দিচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার? ২০ মার্চের মধ্যে বিশেষ কাজ করার নির্দেশ নবান্নের

    অবশেষে বকেয়া DA দিচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার? ২০ মার্চের মধ্যে বিশেষ কাজ করার নির্দেশ নবান্নের

    সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ সামনেই রয়েছে বিধানসভা ভোট। এখনও অবধি বিধানসভা ভোটের নির্ঘন্ট প্রকাশ না পেলেও তোড়জোড় ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। অন্যদিকে বকেয়া ডিএ (Dearness allowance) ইস্যুতে সরকারের চাপ বাড়াচ্ছেন রাজ্যের সরকারি কর্মীরা। এই ক্ষোভ কবে প্রশমন হবে? উত্তর জানা নেই কারোর। এরই মধ্যে সরকারি কর্মীদের উদ্দেশ্যে নতুন নির্দেশিকা জারি করল নবান্ন (Nabanna)। আগামী ২০ মার্চের মধ্য সরকারি কর্মীদের একটি বিশেষ কাজ করে নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। চলুন বিশদে জেনে নেওয়া যাক।

    ২০ মার্চের মধ্যে এই কাজ করার নির্দেশ নবান্নের

    আপনিও কি জানতে ইচ্ছুক যে সরকার ২০ মার্চের মধ্যে কী কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে? তাহলে জানিয়ে রাখি, রাজ্য অর্থ দফতরের তরফে জারি করা নতুন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সব সরকারি কর্মচারীর সার্ভিস বুক (Service Book) ডিজিটাল বা ই-সার্ভিস বুক হিসেবে তৈরি করতে হবে। তাহলে কি বকেয়া DA নিয়ে তোড়জোড় শুরু করতে চাইছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার? সুপ্রিম কোর্টে চলা পঞ্চম বেতন পে কমিশনের বকেয়া ডিএ মেটানোর বিষয়ে এটা প্রথম পদক্ষেপ? এই নিয়ে সরকারের তরফে কিছু না জানানো হলেও, ইতিমধ্যে সরকারি কর্মীদের মধ্যে ফিসফাস শুরু হয়ে গিয়েছে।

    এমনিতেই বকেয়া ডিএ মামলায় নতুন করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। সুপ্রিম কোর্টে শাসক দল জানিয়েছে, এখনই সরকারের পক্ষে সকলের বকেয়া মেটানো সম্ভব নয়। যে কারণে আগামী ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৬ সাল অবধি সময় দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। এদিকে সরকারের এহেন মন্তব্যে ক্ষোভে ফুঁসছেন সরকারি কর্মী থেকে শুরু করে পেনশন প্রাপকরা। তাঁদের অপেক্ষা আরও কত দীর্ঘ হবে? আদৌ টাকাটা মিলবে তো? এই আশঙ্কায় ভুগছেন সকলে।

    কী আছে বিজ্ঞপ্তিতে?

    অর্থ দফতরের তরফে প্রকাশিত নতুন আদেশনামা 835-F(eGov) এবং ২৮/০২/২০২৬ অনুযায়ী, আগামী ২০ মার্চের মধ্যে সমস্ত সরকারি কর্মীর ই-সার্ভিস বুক তৈরির কাজ সম্পূর্ণ করতে হবে। প্রথমে সার্ভিস বুকের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক বা কাস্টোডিয়ানরা মূল নথির পাতাগুলি স্ক্যান করে অনলাইনে আপলোড করবেন। এরপর কর্মচারীদের নিজেদের দায়িত্ব নিতে হবে। তাঁরা সেই স্ক্যান করা নথিগুলি দেখে অনলাইনে নিজেদের সমস্ত তথ্য সতর্কতার সঙ্গে এন্ট্রি করবেন।

  • ৫টার মধ্যে জবাব চাই! রাষ্ট্রপতি মুর্মুর দার্জিলিং সফরে অব্যবস্থা নিয়ে নবান্নকে কড়া চিঠি

    ৫টার মধ্যে জবাব চাই! রাষ্ট্রপতি মুর্মুর দার্জিলিং সফরে অব্যবস্থা নিয়ে নবান্নকে কড়া চিঠি

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ভোটের কারণে উত্তপ্ত বঙ্গ রাজ্য রাজনীতি, একাধিক ইস্যু নিয়ে তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে সংঘাত লেগেই চলেছে। আর এই আবহে বাংলায় রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর (Draupadi Murmu) সভা ঘিরে বিতর্ক যেন আরও দানা বাধল। জানা গিয়েছে বাংলার মুখ্যসচিবের কাছে এবার সরাসরি রিপোর্ট চাইলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব। রিপোর্টের মাধ্যমে জানতে চাওয়া হয়েছে কেন রাষ্ট্রপতির সভার স্থানবদল করা হয়েছে। বেঁধে দেওয়া হয়েছে সময়সীমা।

    রাষ্ট্রপতির সফর ঘিরে মহা বিতর্ক

    গতকাল অর্থাৎ শনিবার শিলিগুড়িতে আন্তর্জাতিক সাঁওতাল কনফারেন্সে যোগ দিতে এসেছিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ বায়ুসেনার বিশেষ বিমানে বাগডোগরা বিমানবন্দরে পৌঁছন রাষ্ট্রপতি। শুক্রবার বিকেলে উত্তরবঙ্গে আসার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু কিছু কারণে তাঁর সফরসূচির পরিবর্তন হয়। আগের অনুষ্ঠান সূচি অনুযায়ী, বিধাননগরে আন্তর্জাতিক সাঁওতাল কনফারেন্সে যোগ দেওয়ার কথা ছিল রাষ্ট্রপতির। কিন্তু নিরাপত্তার কারণে গোঁসাইপুর থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে সাঁওতাল কনফারেন্সে যোগ দেন তিনি। কিন্তু পরে এই স্থান পরিবর্তন নিয়েই অসন্তুষ্ট হন রাষ্ট্রপতি মুর্মু। রাজ্যের ব্যবস্থাপনা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করেন।

    মুখ্য সচিবের কাছে রিপোর্ট চাইল কেন্দ্র

    রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, “আমিও বাংলার মেয়ে। আমাকে বাংলায় আসতেই দেওয়া হয় না। মমতাদি আমার ছোট বোন। জানি না, আমার উপর কী রাগ। যাই হোক… কোনও অভিযোগ নেই। কোনও ক্ষোভ নেই। উনি ভাল থাকুন, আপনারাও ভাল থাকুন।” এমতাবস্থায় গতকাল রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সফরে কী কী ঘটেছে, স্থানবদল কেন করা হয়েছে, প্রশাসন কী কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, সবটাই লিখিতভাবে জানতে চাওয়া হয়েছে কেন্দ্রের তরফে। রিপোর্ট মোতাবেক, আজ অর্থাৎ রবিবার, সকালে রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীর কাছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহন এই বিষয়ে একটি নির্দেশিকা পাঠিয়েছেন। যেখানে বলা হয়েছে, আজ বিকেল পাঁচটার মধ্যেই রিপোর্ট জমা দিতে হবে।

    রাষ্ট্রপতি সফর নিয়ে কী বলছে প্রশাসন?

    উত্তরবঙ্গ সফরে এসে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর মন্তব্যকে ঘিরে যে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তাই নিয়ে রাজ্য প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, শিলিগুড়ির যে অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি যোগ দিয়েছিলেন সেটি ছিল ‘ইন্টারন্যাশনাল সান্তাল কাউন্সিল’ নামে একটি বেসরকারি সংগঠনের উদ্যোগ, এবং সেখানে প্রোটোকল ভাঙার কোনও ঘটনা ঘটেনি। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী বিজেপিকে টার্গেট করে বলেন, “মাননীয়া রাষ্ট্রপতিকে আমরা সম্মান করি। তাঁকে দিয়েও পলিটিক্স বেচতে পাঠানো হয়েছে! বিজেপির এজেন্ডা বেচতে পাঠানো হয়েছে!’’

    আরও পড়ুন: যুবসাথীর চক্করে কত হাজার কোটির ধাক্কা রাজ্য সরকারের? ভয়ঙ্কর রিপোর্ট দিল RBI

    রাষ্ট্রপতির উত্তরবঙ্গ সফর সংঘাতকে নিয়ে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্বয়ং। রাষ্ট্রপতির অপমান করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তিনি। প্রথমে ইংরেজিতে, তার পরে বাংলায় এবং পরে অলচিকি লিপিতেও এই ঘটনার নিন্দা করেন। পাশাপাশি দার্জিলিঙের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তা বলেন, “রাজ্যের গাফিলতির কারণে এই পরিস্থিতি, এটা দেশের সাংবিধানিক প্রধানকে অপমান, আদিবাসী-সাঁওতাল সমাজকে অপমান।”