Tag: Middle East

  • লিটারে ২ টাকা বাড়ল পেট্রোলের দাম! আজ থেকেই কার্যকর নয়া রেট

    লিটারে ২ টাকা বাড়ল পেট্রোলের দাম! আজ থেকেই কার্যকর নয়া রেট

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: পশ্চিম এশিয়ায় চলা যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আবারও বিরাট ধাক্কা খেল ভারত। বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকটের মাঝেই লাগল ধাক্কা। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের গণ্ডি পার হতেই দেশের বাজারে হাহাকার। জ্বালানির দাম দিনের পর দিন বাড়ছে। আর তেল বিপণন সংস্থাগুলি আজ থেকেই প্রিমিয়াম পেট্রোলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিল (Petrol Price Hike)। কতটা বাড়ল এবার দাম?

    দেশজুড়ে বাড়ল পেট্রোলের দাম

    তেল বিপণন সংস্থাগুলির ঘোষণা অনুযায়ী, সাধারণ পেট্রোলের দাম এখনই বাড়ছে না। কিন্তু হ্যাঁ, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্রিমিয়াম পেট্রোলের দাম বাড়ানো হয়েছে। আর এবার প্রতি লিটারে ২.০৯ টাকা দাম বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিপিসিএল-এর ‘স্পিড’, এইচপিসিএল-এর ‘পাওয়ার’ এবং আইওসিএল-এর ‘এক্সপি ৯৫’ এর মতো উন্নত মানের সব জ্বালানি। বিশেষ করে উন্নত ইঞ্জিন পারফরমেন্স এবং বেশি মাইলেজের জন্য ব্যবহার করা হয় এই জ্বালানি। তবে দাম বাড়ার কারনে বিলাসবহুল গাড়ি বা স্পোর্টস বাইক ব্যবহারকারীদের পকেটে যে আরও চাপ পড়বে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

    এদিকে ইরান সহ পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলির মধ্যে দিনের পর দিন সংঘাত বেড়েই চলেছে। যার ফলে বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি হওয়ার কারণে বিশ্ব বাজারে তেলের দাম এখন আকাশছোঁয়া। তার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় দেশগুলি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করলেও অপরিশোধিত তেলের দাম আপাতত ১০০ ডলারের কাছাকাছি ঘোরাফেরা করছে।

    আরও পড়ুন: সর্বকালের সর্বনিম্ন স্তরে ভারতীয় রুপি! এবার ১০০-র গন্ডি টপকানোর পালা?

    সাধারণ পেট্রোল-ডিজেলের দাম কি বাড়বে?

    বলাবাহুল্য, বর্তমানে কেবল প্রিমিয়াম বা ব্র্যান্ডেড জ্বালানির দাম বাড়ানো হলেও সাধারণ মানুষ বা ডিলারদের কপালে পড়ছে চিন্তার ভাঁজ। কারণ, বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম যদি এই হারে বাড়তে থাকে, তাহলে খুব শীঘ্রই সাধারণ পেট্রোল বা ডিজেলের দামও বাড়ানো হতে পারে। আর তেমনটা হলে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা থাকছে।

  • সর্বকালের সর্বনিম্ন স্তরে ভারতীয় রুপি! এবার ১০০-র গন্ডি টপকানোর পালা?

    সর্বকালের সর্বনিম্ন স্তরে ভারতীয় রুপি! এবার ১০০-র গন্ডি টপকানোর পালা?

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: এবার কি তাহলে ১০০-র গণ্ডি টপকাবে ভারতীয় মুদ্রা (Indian Rupee)? ডলারের বিপরীতে সর্বকালের সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছল রুপি। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের (Middle East War) কারণে আগেই আশঙ্খা করা গিয়েছিল যে দিনের পর দিন আরও তলানিতে ঠেকবে দেশের মুদ্রা। সেই আশঙ্কায় সত্যি হল। শুক্রবার মার্কিন ডলারের (United States Dollar) বিপরীতে ভারতীয় মুদ্রার দাম দাঁড়াল একেবারে সর্বকালের সর্বনিম্ন স্তর ৯৩.২৪ টাকায়। অর্থাৎ, এবার এক ডলার কিনতে গেলেই খোয়াতে হবে এত টাকা। অন্যদিকে বিশ্ববাজারে হু হু করে বাড়ছে তেলের দাম। যার প্রভাব পড়ছে মুদ্রার উপরেই। তাহলে কী হবে দেশের অর্থনীতির?

    সর্বকালের সর্বনিম্ন স্তরে ভারতীয় রুপি

    বলে দিই, গত ৪ মার্চ মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে ৭০ পয়সা বেড়ে ৯২ এর গণ্ডি ছাপিয়ে গিয়েছিল ভারতীয় মুদ্রা। এই সময় ডলারের বিপরীতে দাম দাঁড়ায় ৯২.১৭ টাকা। আর তার পাঁচ দিনের মধ্যে আরও ধস নামে রুপিতে। তখন সর্বকালের সর্বনিম্ন স্তর ৯২.৩০ টাকায় গিয়ে পৌঁছয়।। তবে এবার আরও পতন হয়ে একেবারে ৯৩ এর গণ্ডি টপকে গেল। আজ সকালে বাজার খুলতেই একেবারে রক্তক্ষরণ রুপিতে। এক ডলার কিনতে গেলেই এখন পড়েছে ৯৩.২৪ টাকা। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম যে হারে বাড়ছে তাতে সিংহভাগ চাপ পড়ছে মুদ্রার উপর। এই কারণেই গতকালের তুলনায় আরও ০.৪ শতাংশ তলানিতে রুপি।

    এক্ষেত্রে জানিয়ে রাখি, আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের গণ্ডি টপকেছে। যার ফলে তেল আমদানি করতেই মুদ্রার উপর চাপ পড়ছে। সেই কারণে ডলারের বিপরীতে দিনের পর দিন এই পতন। বেশ কিছু বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি ক্রুড অয়েলের দাম ১২০ ডলারে পৌঁছে যায়, তাহলে রুপি আরও তলানিতে ঠেকবে। এমনকি তা ৯৪ তে গিয়ে পৌঁছবে। আর আশঙ্কা করা হচ্ছে যে যুদ্ধ যদি এরকমভাবে চলতে থাকে, তাহলে ১০০-র গণ্ডি টপকাতে খুব বেশিদিন সময় লাগবে না। অন্যদিকে শেয়ার বাজারেও পড়ছে ভয়ংকর প্রভাব। কারণ, সেন্সেক্স ও নিফটি ৫০ অনেকটাই লসের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে।

    আরও পড়ুন: ১১৩ বছরের রেকর্ড ব্রেক, প্রথম দিনেই ১০০ কোটির ক্লাব ছুঁল রণবীরের ‘ধুরন্ধর ২’

    বলাবাহুল্য, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইজরায়েল ও আমেরিকার মধ্যে দিনের পর দিন সংঘাত বেড়েই চলেছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর আমেরিকা এবং ইজরায়েলের উপর একের পর এক হামলা চালাচ্ছে তেহরান। যার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের যোগানে ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। এমনকি সম্প্রতি কাতারের রাস লাফানে মিসাইল অ্যাটাক করেছে ইরান। যার কারণে গ্যাস আমদানি সম্পূর্ণ বন্ধ। আর হরমুজ প্রণালীতে ভারতেরতেলবাহী জাহাজগুলি আটকে রয়েছে। এক কথায়, গোটা বিশ্ব এখন জ্বালানি সংকটে ভুগছে। সেই কারণেই বাড়তি টাকা খরচ করে জ্বালানি আমদানি করতে হচ্ছে ভারতকে। যার কারণে ডলারের বিপরীতে মুদ্রার পতন।

  • ভারতের পতাকা দেখেই ছাড়, নিরাপদে হরমুজ পেরোল LPG কার্গো শিবালিক

    ভারতের পতাকা দেখেই ছাড়, নিরাপদে হরমুজ পেরোল LPG কার্গো শিবালিক

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: দেশে কাটতে চলেছে এলপিজির সংকট (LPG Crisis)! পশ্চিম এশিয়ায় চলা উত্তেজনার জেরে যখন জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে দিনের পর দিন উদ্বেগ বাড়ছে, ঠিক সেই সময় সামনে এলো বিরাট স্বস্তির খবর। হ্যাঁ, ভারতের পতাকাবাহী একটি এলপিজি পরিবাহী জাহাজ নিরাপদেই হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) অতিক্রম করল। অনলাইন জাহাজ ট্র্যাকিং পোর্টাল MarineTraffic এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতের পতাকাবাহী এলপিজি পরিবাহী জাহাজ শিবালিক শুক্রবার রাত নগদ সফলভাবেই হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে। ফলে সংকটের মুখে দেশে এলপিজি নিয়ে দুশ্চিন্তা হয়তো দূর হতে চলেছে, এমনটাই মত ওয়াকিবহাল মহলের।

    কাতার থেকে শুরু করেছিল যাত্রা

    বিশ্বস্ত সূত্র অনুযায়ী খবর, এই এলপিজি ভর্তি জাহাজটি বিগত ২৭ মার্চ কাতারের রাস লাফান বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। আর সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ তরলকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বোঝাই করেই জাহাজটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক রুট ধরে এগিয়ে যায়। এমনকি পরে তা নিরাপদে হরমুজ প্রণালী দিয়ে পার হয়ে যায়। প্রথমদিকে কিছু কিছু সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল যে, জাহাজটিকে ভারতীয় যুদ্ধ জাহাজ নিরাপত্তা দিয়েই নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু পরে সেই দাবি নাকোচ করে ভারতীয় নৌ-বাহিনী। তাদের তরফ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, ওই জাহাজকে কোনওরকম সুরক্ষা দেওয়া হয়নি।

    এক্ষেত্রে বলে রাখি, শিবালিক একটি বৃহৎ আকারের এলপিজি পরিবাহী জাহাজ। এর কার্গো বহন ক্ষমতা আনুমানিক ৫৪ হাজার টনেরও বেশি। বর্তমানে জাহাজটি ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা শিপিং কর্পোরেশন ইন্ডিয়ার মালিকানাধীন। শিপিং ডাটাবেস Equasis এর একটি তথ্য অনুযায়ী, ২০০৮ সালে তৈরি হওয়া এই জাহাজটির প্রথম মালিক ছিল কাতার শিপিং কোম্পানি। পরে মালিকানা বদলের মাধ্যমে এটি ভারতের আওতায় আসে। এমনকি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই জাহাজে থাকা এলপিজির পরিমাণ ভারতের মোট দৈনিক আমদানির প্রায় একদিনের সমান হতে পারে।

    আরও পড়ুন: দেশে ৩০% বাড়ল LPG-র উৎপাদন, কমবে গ্যাসের ক্রাইসিস

    বলাই বাহুল্য, মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ প্রণালী বিশ্বের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট। কিন্তু আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির জেরে সেখানে এখন তৈরি হয়েছে অস্থিরতা। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে যে বিপুল পরিমাণ তেল বা গ্যাস বাণিজ্য হয়, তার বৃহৎ অংশই এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। কিন্তু উত্তেজনার কারণে এই রুটে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। যার ফলে বিশ্বের অনেক দেশে দেখা যায় জ্বালানির সংকট। তবে সেই হাহাকারের মধ্যেও কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস হয়তো ফেলতে পারে ভারত।

  • ভারতের থেকে আরও ডিজেল চাইছে বাংলাদেশ, কী বলছে দিল্লি?

    ভারতের থেকে আরও ডিজেল চাইছে বাংলাদেশ, কী বলছে দিল্লি?

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ (Middle East War) পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে দিনের পর দিন বাড়ছে অনিশ্চয়তা। আর এই পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশ আবারো ভারতের কাছে অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের জন্য কাকুতিমিনতি জানালো (Bangladesh Import Diesel From India)। বিষয়টি বিবেচনা করছে ভারত সরকার এমনটাই খবর। শুক্রবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিজেই একথা জানিয়েছেন ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্রের রনধীর জয়সওয়াল।

    ভারতের কাছে অতিরিক্ত ডিজেল আমদানির অনুরোধ বাংলাদেশের

    বলে রাখি, ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে জ্বালানি সহযোগিতা নতুন কিছু নয়। বহু বছর ধরেই ভারতের বিভিন্ন শোধনাগার থেকে বাংলাদেশে ডিজেল সরবরাহ করা হয়ে থাকে। বিশেষ করে অসমের নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড থেকে বাংলাদেশে নিয়মিত ডিজেল পাঠানো হয়। এমনকি ২০০৭ সাল থেকে এই সরবরাহ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সেই অনুযায়ী, মোট ১ লক্ষ ২০ হাজার টন ডিজেল বাংলাদেশে পাঠানোর কথা। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতির মধ্যে ইতিমধ্যেই ৫ হাজার টন ডিজেল ওপার বাংলায় পাঠিয়েছে ভারত সরকার, যার সিংহভাগে গিয়েছে পাইপলাইনের মাধ্যমে।

    এছাড়াও দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি সহযোগিতা আরও মজবুত করার জন্য ২০১৭ সালে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। সেই চুক্তিতে ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন একত্রিত হয়। আর এই চুক্তির ভিত্তিতেই বর্তমানে ডিজেল সরবরাহ চলছে। এমনকি সম্প্রতি ওপার বাংলার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সঙ্গে বৈঠকে করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভর্মা।

    ঢাকায় অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকের পর দুই দেশের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, বাংলাদেশে অতিরিক্ত জ্বালানির সরবরাহ করার অনুরোধ জানিয়েছে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত ভারত সরকারের তরফ থেকে কোনও সদুত্তর আসেনি। কিন্তু হ্যাঁ, ওপার বাংলার একাধিক হত্যাকাণ্ড যেমন শরিফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যুতে গ্রেফতার হওয়া অভিযুক্তদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে কিনা বা তাদের সঙ্গে বাংলাদেশী কর্তাদের দেখা করার কোনও অনুমতি দেওয়া হবে কিনা সেই প্রশ্ন করা হলে এদিন বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র এড়িয়ে যান। এমনকি ডিজেল সরবরাহ নিয়েও কোনও রকম মন্তব্য করেননি। সবটাই নির্ভর করছে নয়াদিল্লির উপর।

    আরও পড়ুন: পুলিশের উপরেও চলবে নজরদারি? ভোটে নিরাপত্তা জোরদার করতে বড় পদক্ষেপ কমিশনের

    অন্য দেশও জানিয়েছে অনুরোধ

    এদিকে রনধীর জয়সওয়াল এও জানিয়েছেন যে, বাংলাদেশের পাশাপাশি শ্রীলংকা এবং মালদ্বীপও ভারতের কাছে অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের জন্য অনুরোধ করেছে। কিন্তু হ্যাঁ, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভারতের নিজস্ব জ্বালানির চাহিদা, শোধনাগরের উৎপাদন ক্ষমতা আর মজুদ পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হবে বলেই জানানো হয়েছে মুখপাত্রের তরফ থেকে।

  • LPG সংকটের জের, রেস্তোরাঁর বিলের সাথে যুক্ত হচ্ছে গ্যাসের চার্জ!

    LPG সংকটের জের, রেস্তোরাঁর বিলের সাথে যুক্ত হচ্ছে গ্যাসের চার্জ!

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: এবার থেকে হোটেল বা রেস্তোরাঁয় খেতে গেলে হয়তো একটু বাড়তি খরচ করতে হতে পারে (Restaurant Extra Charges)। কারণ, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কিছু রেস্তোরাঁ গ্রাহকদের বিলের সঙ্গে এলপিজি সারচার্জ বা গ্যাস ফি যুক্ত করে দিচ্ছে। হ্যাঁ, পশ্চিম এশিয়ায় চলা সংঘাতের জেরে রান্নার গ্যাসের টানাটানি (LPG Crisis) এমনিতেই ভারতে। আর সেই পরিস্থিতিতেই এবার বিরাট সিদ্ধান্ত নিচ্ছে রেস্তোরাঁর মালিকরা।

    বিলের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে এলপিজি সারচার্জ

    রেস্তোরাঁর মালিকরা দাবি করছে, বর্তমানে বাণিজ্যিক রান্নার গ্যাসের দাম আর সরবরাহ দুটোই অনিশ্চিত। এই কারণে অনেক জায়গায় রেস্তোরাঁগুলিকে অতিরিক্ত খরচ করতে হচ্ছে। পাশাপাশি কিছু কিছু রেস্তোরাঁ বা হোটেল গ্যাসের অভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছে। আর সেই খরচ সামাল দেওয়ার জন্যই কিছু রেস্তোরাঁ গ্রাহকদের বিলের মধ্যে গ্যাস ফি বা এলপিজি সারচার্জ নামে আলাদা চার্জ যুক্ত করছে। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বিল ভাইরাল হয়েছে। আর সেখানে Geeraas Restaurant নামে একটি রেস্তোরাঁ গ্রাহকের বিলের সঙ্গে ৯.৫২ টাকা গ্যাস ফি যুক্ত করেছে। বিষয়টি সামনে আসার পর অনেকেই প্রশ্ন করেছেন, এই ধরনের অতিরিক্ত চার্জ নেওয়া ঠিক কতটা যুক্তিযুক্ত?

    এমনকি শুধুমাত্র রেস্তোরাঁ নয়, বরং দেশের বিভিন্ন শহরে কিছু কিছু খাবারের দোকান বিলের মধ্যে নতুন করে লাইন আইটেম যুক্ত করেছে। যেমন এলপিজি রিভিশন চার্জ, গ্যাস সাপ্লাই ইস্যু ফি, ফুয়েল অ্যাডজাস্টমেন্ট চার্জ। আর এসবের অর্থ একটাই, গ্যাসের দাম বাড়ার কারণে সেই অতিরিক্ত খরচের একটা অংশ গ্রাহকদের উপরেই চাপানো হচ্ছে।

    আরও পড়ুন: বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন তৃণমূলের হেভিওয়েট বিধায়ক, ছড়াল জল্পনা

    এদিকে সব রেস্তোরাঁ সরাসরি চার্জ নিচ্ছে না। বরং অনেক জায়গায় আবার মেনুতে খাবারের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে বলতে পারি, বেঙ্গালুরুর Krishna Vaibhava নামক এক রেস্তোরাঁর বেশ কয়েকটি খাবারের দাম ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। আসলে ভারতের রান্নার গ্যাসের একটি বৃহৎ অংশ আমদানি করা হয় মধ্যপ্রাচ্য থেকে। কিন্তু সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে সেই সরবরাহে কিছুটা সমস্যা দেখা যাচ্ছে। যার ফলে বাজারে বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম আর সরবরাহ দুটোই অনিশ্চিত। আর তারই প্রভাব পড়ছে হোটেল বা রেস্তোরাঁর মালিকদের উপর।

  • কাটবে পেট্রোল-ডিজেলের অনিশ্চয়তা, বাজারে ছাড়া হচ্ছে ৪০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল

    কাটবে পেট্রোল-ডিজেলের অনিশ্চয়তা, বাজারে ছাড়া হচ্ছে ৪০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে প্রভাব পড়ছে গোটা বিশ্বের জ্বালানি বাজারে। তেলের সরবরাহ (Oil Import) নিয়ে ইতিমধ্যে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। যার ফলে বহু দেশের পেট্রোল এবং ডিজেলের দাম আর সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে। ঠিক সেই পরিস্থিতিতে স্বস্তির বার্তা দিয়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা আইইএ (International Energy Agency)। সংস্থার তরফ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, বিশ্ববাজারে তেলের ঘাটতি সামাল দেওয়ার জন্য সদস্য দেশগুলির জরুরী মজুদ থেকে প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বাজারে ছাড়া হবে।

    কেন নেওয়া হচ্ছে এই সিদ্ধান্ত?

    ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সির তরফ থেকে জানানো হয়েছে, সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে গোটা বিশ্বজুড়ে। আর বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহ বাড়িয়ে এই সংকট কিছুটা হলেও কমানোর যাবে। তাই এই সিদ্ধান্ত। সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরল জানিয়ে দিয়েছেন, বর্তমানে পরিস্থিতি বিশ্ব তেলবাজারের জন্য সবথেকে চ্যালেঞ্জিং। জরুরি তেলের মজুদ বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারকে আরও স্থিতিশীল রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

    বলে রাখি, এই ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি হল একটি আন্তর্জাতিক আন্তঃসরকারি সংস্থা। এদের মূল লক্ষ্য হল বিশ্ব জ্বালানির বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। আর বর্তমানে বিশ্বের ৩২টি দেশ এই সংস্থার সদস্য। জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিলে বা বাজারে কোনও রকম অস্থিরতা বাড়লে সদস্য দেশগুলোর জরুরী মজুদ থেকেই তেল ছেড়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। বর্তমানে সংস্থার সদস্য দেশগুলির কাছে আনুমানিক ১.২ বিলিয়ন ব্যারেলের বেশি জরুরী তেলের মজুদ রয়েছে। এছাড়াও শিল্প খাতের কাছে আরও ৬০০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল সংরক্ষিত।

    আরও পড়ুন: হাওড়া-শিয়ালদা থেকে ১৮টি স্পেশাল ট্রেন চালাবে রেল, দেখুন রুট ও সময়সূচি

    কীভাবে আসবে এই তেল?

    আইইএ-এর তরফ থেকে জানানো হয়েছে, সদস্য দেশগুলির পরিস্থিতি আর প্রয়োজন অনুযায়ী ধাপে ধাপে তেল বাজারে ছাড়া হবে। যার ফলে বিশ্ববাজারে সরবরাহ বাড়বে এবং তেলের দাম বাড়ার সম্ভাবনাও কমবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপের ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের চাপ কিছুটা কমতে পারে। কারণ, বিশ্বের সবথেকে বড় অংশের অপরিশোধিত তেল আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকেই। কিন্তু সেখানে এমনিতেই যুদ্ধ পরিস্থিতিতে তেলের আশঙ্কা। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। কারণ, সেখান থেকে ২০ শতাংশ তেল পরিবহন হয়। যদিও খুশির খবর এই যে, আজ হরমুজ প্রণালী দিয়ে ইরান ভারতের জাহাজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করেছে।

  • জয়শঙ্করের হস্তক্ষেপেই স্বস্তি, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের অনুমতি পেল ভারতীয় জাহাজ

    জয়শঙ্করের হস্তক্ষেপেই স্বস্তি, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের অনুমতি পেল ভারতীয় জাহাজ

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের (Middle East War) মধ্যেই ভারতের জন্য আসলো বিরাট স্বস্তির খবর। কূটনৈতিক আলোচনার পর ইরান ভারতীয় পতাকাযুক্ত তেলবাহী জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) দিয়ে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে বলে সূত্র অনুযায়ী খবর। আর এই সিদ্ধান্ত ভারতের বিধানমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং ইরানের বিদেশ মন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার পরেই সামনে এল। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝে এই কূটনৈতিক সমঝোতা যে ভারতের জন্য বিরাট সাফল্য তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

    বেশ কয়েকটি বিশ্বস্ত সূত্র অনুযায়ী খবর, ইতিমধ্যেই অন্তত দুটি ভারতীয় তেলবাহী জাহাজ নিরাপদে ওই জলপথ পার হচ্ছে, এবং একটি জাহাজ মুম্বাই বন্দরে পৌঁছেছে। আর এই জাহাজগুলোর মধ্যে রয়েছে MT Pushpak এবং MT Parimal। কিন্তু এখনো পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ এবং ইজরায়েলের সঙ্গে যুক্ত জাহাজগুলোর উপরে কিছু বিধিনিষেধ আরোপিত রয়েছে বলেই সূত্রের খবর।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ এই হরমুজ প্রণালী?

    বলে দিই, বিশ্বের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হল এই হরমুজ প্রণালী। এটি ইরান এবং ওমানের মাঝখানে অবস্থিত একটি সরু সমুদ্রপথ। আর এই পথ দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি অপরিশোধিত তেল পরিবহন হয়ে থাকে। বিশ্বের মোট তেল ব্যবহারের প্রায় ২০%-ই এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসে। আর শুধুমাত্র তেল নয়, বরং বিশ্বের সবথেকে বড় অংশের এলএনজি পরিবহনও এই পথ দিয়ে হয়। যার ফলে এই জলপথে সামান্য সমস্যা তৈরি হলেই বিশ্ববাজারে তেলের দাম আর জ্বালানি সরবরাহে বিরাট প্রভাব পড়ে।

    এদিকে চলমান সংঘাতের জেরে ইরান আগেই জানিয়েছিল যে, হরমুজ প্রণালিতে নিষেধাজ্ঞা মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপ এবং তাদের মিত্র দেশগুলির জাহাজের জন্যই প্রযোজ্য। সেই কারণেই ভারতের মতো পশ্চিমে দেশের জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে কিছুটা ছাড় দেওয়ার ইঙ্গিত মিলেছিল। আর মার্চের প্রথম সপ্তাহে এই নীতির স্পষ্টতা সামনে এসেছিল। সেখানে বলা হয়েছে, ভারতগামী বা ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজগুলি এই পথ ব্যবহার করতে পারবে।

    আরও পড়ুন: চমক জোয়ার ভাঁটার, ধস পরশুরামের জনপ্রিয়তায়! টপার কে? দেখুন টিআরপি তালিকা

    যুদ্ধের পর প্রথম তেলবাহী জাহাজ পৌঁছল ভারতে

    প্রসঙ্গত, সংঘাত শুরু হওয়ার পর প্রথমবারের মতো একটি তেলবাহী জাহাজ নিরাপদে হরমুজ প্রণালী পার হয়ে ভারতে পৌঁছেছে। Shenlong Suezmax নামের এই জাহাজ সৌদি আরবের রাস তানুরা অয়েল টার্মিনাল থেকে অপরিশোধিত তেল নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল। আর জাহাজটি শেষ পর্যন্ত ভারতের মুম্বাই বন্দরে পৌঁছয়। জানা গিয়েছে, বিপজ্জনক এলাকা পার হওয়ার সময় কিছু সময়ের জন্য ট্রাকিং সিস্টেম বন্ধ করে দিয়েছিল জাহাজটি। তবে কোনও রকম সমস্যা ছাড়াই ভারতে পৌঁছতে পেরেছে ওই ট্যাংকার।

  • মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ, নদিয়ায় পেট্রোল পাম্পে লম্বা লাইন! বাংলায় তেল নিয়ে হাহাকার?

    মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ, নদিয়ায় পেট্রোল পাম্পে লম্বা লাইন! বাংলায় তেল নিয়ে হাহাকার?

    সৌভিক মুখার্জী, নদীয়া: মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের জেরে হঠাৎ করেই তেল সংকটের আতঙ্কে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হল বাংলার নদিয়া জেলায় (Oil Crisis in Nadia)। বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে দেখা যাচ্ছে দীর্ঘ লাইন সারি, সারি গাড়ি দাঁড়িয়ে রয়েছে তেল নেওয়ার আশায়। এমনকি অনেকে ব্যারেল নিয়ে ভিড় জমাচ্ছে পাম্পগুলোতে। ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। আবার কেউ কেউ একাধিক পাম্প ঘুরেও তেল পাচ্ছে না। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, গত কয়েকদিন ধরেই পরিস্থিতি চরমে পৌঁছচ্ছে। মূলত মধ্যপ্রাচ্যে চলা সংঘাতকে (Middle East Conflict) কেন্দ্র করেই তেলের যোগান কমে যেতে পারে, সেই আশঙ্কায় এখন স্থানীয় মানুষরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

    উপচে পড়া ভিড় পাম্পে

    নদিয়ার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে সকাল থেকেই দেখা যাচ্ছে গাড়ির লম্বা লাইন। এমনকি অনেকেই ভোর থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে পড়ছে যাতে তেল পাওয়া যায়। কিছু ক্রেতারা অভিযোগ করছে, তিন থেকে চার ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়েও ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না। আবার অনেক পাম্পের ডিজেল শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে সাময়িকভাবে পরিষেবা বন্ধ রাখা হচ্ছে। এ বিষয়ে পাম্পের এক কর্মী নিজেই জানিয়েছেন, গত দুইদিন ধরে অস্বাভাবিক হারে ডিজেল বিক্রি হয়েছে। যার ফলে অনেক পাম্পের ডিজেল দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। আর পেট্রোল এখনো পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু সেটাও খুব দ্রুত হয়ে বিক্রি হয়ে যাবে।

    আসলে এই পরিস্থিতিতে সবথেকে বেশি সমস্যায় পড়েছেন কৃষকরা। কারণ, তাদের চাষবাসের কাজে সেচের প্রয়োজন হয়। সেই কারণে অনেকেই দীর্ঘ সময় ধরে বাধ্য হয়ে লাইনে দাঁড়াচ্ছে। এ বিষয়ে এক কৃষক জানিয়েছেন, শোনা যাচ্ছে যুদ্ধের কারণে ডিজেল পাওয়া যাবে না। তাই আগে থেকে ডিজেল কিনে রাখার চেষ্টা করছি। ধান চাষের সময় ডিজেল না পেলে আমাদের বিরাট সমস্যায় পড়তে হবে।

    আরও পড়ুন: ‘সংঘাতে সমস্যা মেটে না..’ পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ নিয়ে প্রথম বিবৃতি মোদির

    মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ

    এদিকে সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন রকম গুজব ছড়িয়ে পড়ছে। সেই কারণে দেশে তেল সরবরাহের উপর প্রভাব পড়তে পারে বলে মত প্রকাশ করছে সাধারণ মানুষ। কিন্তু কেন্দ্রের তরফ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, বর্তমানে দেশে প্রায় ২৫ দিনের তেল মজুদ রয়েছে। আর তেলের সরবরাহ নিয়েও কোনও রকম সমস্যা নেই। এমনকি রানাঘাট লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ জগন্নাথ সরকার স্পষ্ট বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত চললেও ভারতের তেল সরবরাহের একাধিক পথ খোলা রয়েছে। অতিরিক্ত তেল মজুদ করার কোনও রকম প্রয়োজন নেই। গুজবে কান দিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল করবেন না।

  • মধ্যপ্রাচ্যে ভয়াবহ যুদ্ধের মাঝে গোপনে মারণ ড্রোন ‘শেষনাগ 150’ তৈরি করছে ভারত!

    মধ্যপ্রাচ্যে ভয়াবহ যুদ্ধের মাঝে গোপনে মারণ ড্রোন ‘শেষনাগ 150’ তৈরি করছে ভারত!

    বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: যুদ্ধ যুদ্ধ খেলায় মেতে উঠেছে কার্যত গোটা বিশ্ব। আমেরিকা, ইজরায়েল এবং ইরানের সংঘাত যে পর্যায়ে পৌঁছেছে তাতে স্বার্থ রক্ষার্থে এই ভয়াবহ সংঘাতে নেমে পড়তে পারে বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলিও। ঠিক এমন আশঙ্কার মধ্যেই প্রতিরক্ষা খাতে বিশেষ নজর দিয়েছে ভারত। ভবিষ্যতে আধুনিক যুদ্ধে যাতে সেনাবাহিনীকে দ্বিতীয় চিন্তা করতে না হয় সেজন্যই গোপনে বিশেষ ড্রোন সিস্টেম (Sheshnag 150) তৈরি করছে নয়া দিল্লি। যা চোখের পলকে শত্রুকে পুড়িয়ে খাক করবে। হ্যাঁ, আকাশে ভারতের রক্ষাকবচ হবে এমন উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন মারণ ড্রোন সিস্টেম শেষনাগ 150 তৈরিতে কোমর বেঁধেছে ভারতীয় বিজ্ঞানীরা।

    শেষনাগ 150 এর ক্ষমতা সম্পর্কে জানুন

    মধ্যপ্রাচ্যের চরম অস্থিরতার মধ্যে নিজের আখের গোছাতে একটুও ভুল করছে না ভারত। ভারতীয় বিজ্ঞানীরা গোপনে যে শেষনাগ 150 নামক নতুন ড্রোন সিস্টেম তৈরি করছেন সেটি ভারতের আকাশে উড়ে শত্রুর গতিবিধির উপর নজরদারি চালাতে সক্ষম। বলাই বাহুল্য, পৌরাণিক কাহিনী অনুযায়ী বহু পুরনো শক্তিশালী সাপ শেষনাগের বৈশিষ্ট্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি হচ্ছে এই বিশেষ ড্রোন সিস্টেমটি। তাই এর নামকরণও করা হয়েছে সেই শক্তিশালী সাপটির নামে। এক কথায়, শেষনাগের মতোই অপরাজেয় শক্তির প্রতীক হবে এই ড্রোন সিস্টেম।

    প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের একটা বড় অংশের দাবি, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে যেসব যুদ্ধ হয়েছে তাতে বড় ভূমিকা ছিল ড্রোনের। শুধুমাত্র নজরদারি নয় বরং সরাসরি শত্রুর ঘাঁটিতে হামলা চালাতে সিদ্ধ অস্ত্র এই খুদে দস্যু। গত মে মাসে অপারেশন সিঁদুর চলাকালীন তার প্রমাণ পেয়েছে ভারতও। তাছাড়াও ভবিষ্যতের আধুনিক যুদ্ধে ড্রোনের যে বিকল্প হবে না সে কথা ভাল ভাবেই বুঝেছে নয়া দিল্লি। তাই বর্তমান যুদ্ধ আবহে জোর কলমে চলছে শেষনাগের প্রস্তুতি।

     

    অবশ্যই পড়ুন: সেমিতে তৈরি হবে ইতিহাস, কপিল-হরভজনদের রেকর্ডে ভাগ বসাতে চলেছেন বুমরাহ

    না বললেই নয়, ভারতের হাতে তৈরি হতে যাওয়া নতুন শেষনাগ 150 ড্রোন সিস্টেমের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য এটি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন সেন্সর যুক্ত এবং এর সহনশীলতা। বিশেষজ্ঞদের দাবি, এই ড্রোন যেমন শত্রুদের উপর নজরদারি চালানোর পাশাপাশি সেই তথ্য সেনাবাহিনীকে পাঠাতে পারবে তেমনই একসাথে 150 কেজি ওজন বহন করে শত্রুর ডেরায় হামলা চালাতে পারবে। সবচেয়ে বড় কথা, এই ড্রোন অধিক উচ্চতায় উড়তে পারার কারণে এটিকে বিভিন্ন দুর্গম অঞ্চল অর্থাৎ লাদাখ বা অরুনাচলের পাহাড়ি বা পার্বত্য এলাকায় কাজে লাগানো যেতে পারে।

    কমবেশি প্রায় সকলেই জানে, এই মুহূর্তে ইরান নিজেদের শক্তিশালী ড্রোন সিস্টেম ব্যবহার করে ইজরায়েল সহ আরব দেশগুলিতে থাকা আমেরিকার সামরিক ঘাঁটিগুলিতে জোরালো হামলা চালাচ্ছে। ফলে, সময়ের সাথে সাথে ড্রোন সিস্টেমের গুরুত্ব বাড়ছে লাফিয়ে। সেই সবটা বুঝেই আধুনিক যুদ্ধের জন্য নিজেদের পুরোপুরি তৈরি রাখতে চাইছে ভারতও। ভবিষ্যতে যাতে শত্রুর সামনে দুর্বল হয়ে না পড়তে হয়, সেজন্যেই আগে থেকে নিজেদের অস্ত্রাগারে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন ভয়ানক সব ড্রোন সিস্টেম মোতায়েন করতে চায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রক।

  • এক ডলার ৯২ টাকারও বেশি! মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের জেরে রেকর্ড পতন ভারতীয় মুদ্রায়

    এক ডলার ৯২ টাকারও বেশি! মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের জেরে রেকর্ড পতন ভারতীয় মুদ্রায়

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: মধ্যপ্রাচ্যে বাজছে যুদ্ধের দামামা। ইরানের একের পর এক হামলায় দিশেহারা ইজরায়েল ও আমেরিকা। আর সেই যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই প্রভাব পড়ল ভারতের মুদ্রা বাজারে। হ্যাঁ, বুধবার সকালে লেনদেন শুরু হতেই মার্কিন ডলারের বিপরীতে ৭০ পয়সা বেড়ে ৯২.১৭ টাকায় দাঁড়িয়েছে ভারতীয় মুদ্রা (Indian Rupee)। আর বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে এতটা দুর্বল অবস্থা ভারতীয় মুদ্রাকে কখনো দেখা যায়নি। প্রসঙ্গত, সোমবার এক ডলারের দাম ছিল  ৯১.৪৯ টাকা। মাত্র দু’দিনের ব্যবধানেই এতটা উত্থান পতন।

    বাড়ছে ডলারের চাহিদা

    ইরানকে ঘিরে ইজরাইল এবং আমেরিকার সঙ্গে সংঘাত এখন চরম উচ্চতায় পৌঁছেছে। পরিস্থিতি জেরে আপাতত সেরকম কোনও তৈলবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পারাপার করতে পারছে না। যার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে এবং দামও অনেকটাই ঊর্ধ্বমুখী। আর ভারত তার মোট আমদানিকৃত তেলের সবথেকে বড় অংশই ইরান, সৌদি আরব এবং কুয়েতের মতো মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে আনে। যার ফলে ওই অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়লে ভারতের আমদানি ব্যয় অনেকটাই বেড়ে যায়। আর তেলের দাম বাড়লে বেশি পরিমাণে ডলার খরচ করতে হয়। এতে স্বাভাবিকভাবেই ডলারের চাহিদা বাড়ছে আর টাকার উপর চাপ পড়ছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই কারণে টাকার মূল্য দিনের পর দিন তলানিতে ঠেকছে।

    অন্যদিকে বাণিজ্যিক সমঝোতার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার হয়েছে ভারতের। সেই কারণে রাশিয়া থেকে তুলনামূলকভাবে তেল কেনা কমিয়েছে ভারত। এমনটাই বাজার মহল ধারণা করছে। আর এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের উপর নির্ভরতা অনেকটা বেড়েছে। এমনকি বর্তমান অস্থির পরিস্থিতিতে আরও চাপে ফেলতে পারে ভারতের অর্থনীতিকে, এমনটাই মত প্রকাশ করছে ওয়াকিবহাল মহল।

    আরও পড়ুন: হোলির দিন মধ্যমগ্রামে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, সিলিন্ডার ফেটে ভস্মীভূত একাধিক দোকান

    তবে শুধু তেলের দাম নয়, বরং মুদ্রা বাজারের অস্থিরতার প্রভাব পড়ছে ভারতের শেয়ার বাজারেও। মুম্বাইয়ের দালাল স্টিকে দেখা গিয়েছিল বড়সড় পতন। BSE Sensex এক ধাক্কায় প্রায় ১৫০০ পয়েন্ট হারিয়ে ৮০ হাজারের নিচে নেমে আসে। এমনকি NIFTY 50 ৪০০ পয়েন্টের বেশি পড়ে যায়। বিনিয়োগকারীদের মতে, শেয়ারবাজারেও দিনের পর দিন তৈরি হচ্ছে অনিশ্চয়তা এবং আতঙ্ক। আর বিশেষজ্ঞরা দাবি করছে, যদি মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি সমাধান না হয়, তাহলে বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে।