Tag: Mamata Banerjee

  • ‘রাজ্য সরকার চাইলে বাংলায় কমবে গ্যাসের দাম’ কতটা?

    ‘রাজ্য সরকার চাইলে বাংলায় কমবে গ্যাসের দাম’ কতটা?

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: মধ্যপ্রাচ্যে একের পর এক যুদ্ধ পরিস্থিতির ভয়ংকর প্রভাব পড়েছে গোটা বিশ্ববাজারে। এমনকি এই প্রভাব থেকে বাদ পড়েনি ভারতও, গ্যাসের দাম এতটাই বৃদ্ধি (LPG Cylinder Price Hike) পেয়েছে যে মধ্যবিত্তের হেঁশেলে রীতিমত আগুন ধরে গিয়েছে। একধাক্কায় ঘরোয়া সিলিন্ডারের দাম ৬০ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছে কেন্দ্র। অর্থাৎ কলকাতায় ঘরোয়া রান্নার গাসের দাম বেড়ে হল ৯৩৯ টাকা। এবং ১৯ কেজির বাণিজ্যিক রান্নার গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে, বর্তমানে দাম ১৯৯০ টাকা। এই অবস্থায় রাস্তায় প্রতিবাদে নেমেছে তৃণমূল (Trinamool Congress)। তবে কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী (Adhir Chowdhury) বলছেন অন্য কথা, তাঁর দাবি মুখ্যমন্ত্রী নাকি চাইলেই রাজ্যে গ্যাসের দাম বেশ খানিকটা কমতে পারে।

    গ্যাসের দাম কমানোর ফর্মুলা দিল অধীর

    গতকাল অর্থাৎ রবিবার, কংগ্রেসের তরফে একটি সাংবাদিক বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে সাংবাদিকদের সম্মুখে প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী রাজ্যের একাধিক ইস্যু নিয়ে নানা মন্তব্য করছিলেন, আর তখনই উঠে আসে রান্নার গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রসঙ্গে। তিনি বলেন, “দিদি যদি মনে করেন, তাহলে গ্যাসের দাম কিছুটা কমাতে পারেন। দিদি যদি ভাবেন, গ্যাসে যতটা দাম বাড়ল, ততটা যদি সাবসিডি দিই, তাহলে মানুষ সস্তার গ্যাস পাবে। এটা রাজ্য যদি মনে করে, রাজ্য সরকার পারবে।” এছাড়াও তাঁর দাবি, “আপনি যদি লক্ষ্মীর ভান্ডারে মা বোনেদের জন্য পয়সা দিতে পারেন, তাহলে গ্যাসের জন্যও পয়সা দিন। কারণ গ্যাসটা তো ব্যবহার করেন মা-বোনেরাই। যাতে তাঁদের রান্নায় কোনও সঙ্কট তৈরি না হয়।”

    কী বলছেন অধীর চৌধুরী?

    পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত ও যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে যখন চারিদিকে নানা সমস্যা তৈরি হয়েছে, সেই সময় গ্যাসের চড়া দাম বৃদ্ধি নিয়ে অধীর রঞ্জন চৌধুরী দাবি করেন, “রাজ্যের কাছে আবেদন করব, গ্যাসের যে দামটা বাড়ছে, রাজ্য ক্ষতিপূরণের মতো যাতে মানুষের স্বার্থে সাবসিডি অথবা ভর্তুকি দেয়। কারণ বিভিন্ন প্রকল্পে রাজ্য অনুদান দিচ্ছে, তাহলে গ্যাসের ক্ষেত্রেও দেওয়া হোক।” এদিকে গতকালই রান্নার গ্যাসের দাম বৃদ্ধিতে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নেমেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। কালো শাড়িতে হাতা-খুন্তি হাতে রাস্তায় নেমেছিল মহিলা বাহিনী। আন্দোলনে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, সাংসদ মালা রায়, বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ। মিছিল শেষে পরে তাঁরা পুনরায় ধর্মতলায় মুখ্যমন্ত্রীর ধর্নামঞ্চে এসেও হাতা-খুন্তি নিয়ে গ্যাসের দামবৃদ্ধির প্রতিবাদ করেছিলেন।

    আরও পড়ুন: SIR ইস্যুতে ক্ষোভ! উঠল ‘গো ব্যাক’ স্লোগান, কালীঘাটে পুজো দিতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে জ্ঞানেশ কুমার

    প্রসঙ্গত, এইমুহুর্তে রান্নার গ্যাসের দাম বৃদ্ধি সকলের কাছে এক বিরাট সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর ভোটের আবহে এই সমস্যাকেই রাজনীতিবিদরা হাতিয়ার হিসেবে, স্বাভাবিকভাবেই এই চাপানউতোরের মাঝেই চাপা পড়ে যাচ্ছে সাধারণ মানুষ। কলকাতা, মুম্বই, দিল্লি বা চেন্নাই সর্বত্রই এখন জ্বালানির জ্বালায় জেরবার সাধারণ গৃহস্থ। এখন দেখার অধীরের এই ‘ভরতুকি ফর্মুলা’ রাজ্য সরকার গ্রহণ করে কি না। যদিও শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে কিছুই জানানো হয়নি।

  • SIR ইস্যুতে ক্ষোভ! উঠল ‘গো ব্যাক’ স্লোগান, কালীঘাটে পুজো দিতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে জ্ঞানেশ কুমার

    SIR ইস্যুতে ক্ষোভ! উঠল ‘গো ব্যাক’ স্লোগান, কালীঘাটে পুজো দিতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে জ্ঞানেশ কুমার

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) আবহে রাজ্য জুড়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি, মুখ্যমন্ত্রীর সিংহাসন দখলের করার জন্য রীতিমত উঠে পড়ে লেগেছে রাজনৈতিক দলগুলি। আর এই অবস্থায় রাজ্যে তিন দিনের সফরে এসেছেন জাতীয় নির্বাচন কমিশনারের ফুল বেঞ্চ। সোমবার সকালে বৈঠক শুরুর আগে কালীঘাট মন্দিরে পুজো দিতে গিয়েছিলেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার (CEC Gyanesh Kumar)। কিন্তু তাঁর গাড়ি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) পাড়ায় ঢুকতেই শুরু হয় বিক্ষোভ, ওঠে গো ব্যাক স্লোগান। ক্ষুব্ধ পরিস্থিতি মন্দির এলাকা জুড়ে।

    পুজো দিতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে জ্ঞানেশ

    পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিধানসভা নির্বাচন সংক্রান্ত বৈঠকের জন্য গতকাল অর্থাৎ রবিবার রাতে কলকাতায় এসেছে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। আজ থেকেই দফায় দফায় রাজ্য প্রশাসন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তাদের বৈঠক করার কথা। কিন্তু এসবের আগে সকালে কালীঘাট মন্দিরে পুজো দিতে গিয়েছিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। তাঁর সঙ্গে ছিলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়ালও। কিন্তু এই পুজো দেওয়া নিয়ে মন্দিরের সামনে শুরু হল তুমুল বিক্ষোভ। কালো পতাকা হাতে নিয়ে নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে উঠল গো ব্যাক স্লোগান।

    আরতি এবং অঞ্জলি দিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার

    সোমবার সকাল থেকেই কালীঘাট মন্দিরের (Kalighat Mandir) বাইরে হাতে কালো পতাকা নিয়ে জমায়েত করেছিলেন একদল বিক্ষোভকারী। অভিযোগ, এসআইআর-এর মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে অযথা অনেকের নাম বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে।তবে সেই বিক্ষোভ এবং গো ব্যাকের স্লোগানকে খুব একটা পাত্তা দিলেন না জ্ঞানেশ কুমার। শান্তভাবে বিক্ষোভকারীদের কাটিয়ে মন্দিরে প্রবেশ করেন তিনি। কোনও মন্তব্য করেননি। পুজো দেন মায়ের, আরতি এবং অঞ্জলিও দিয়েছিলেন। এরপর মন্দির থেকে বেরোনোর সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন জ্ঞানেশ কুমার। তিনি বলেন ‘‘পশ্চিমবঙ্গের সকল ভাইবোনকে আমার নমস্কার। কালী মা সকলকে ভাল রাখুন।’’ কিন্তু বিক্ষোভ নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি কমিশনার।

    আরও পড়ুন: ১৮ বছর বয়স হলেই মহিলাদের প্রতি মাসে ১৫০০ টাকা, নতুন স্কিম ঘোষণা রাজ্য সরকারের

    প্রসঙ্গত, শুধু কালীঘাট মন্দিরেই যে শুধু মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার স্লোগান এবং বিক্ষোভের মুখোমুখি হয়েছেন তা কিন্তু নয়, গতকাল রাতে কলকাতা বিমানবন্দর থেকে নিউটাউনের হোটেল পর্যন্ত তাঁর যাত্রাপথে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান ওঠে। দেখানো হয় কালো পতাকাও। যদিও সেই নিয়েও কোনো মন্তব্য করতে চাননি। এদিন ফুল বেঞ্চের সঙ্গে রয়েছেন আরও দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিংহ সান্ধু এবং বিবেক জোশীও। আগামীকাল অর্থাৎ মঙ্গলবার, বেলুর মঠে যাওয়ার কথা তাঁর।

  • নারী দিবসের আগে মহিলা রাষ্ট্রপতিকে অপমান! ফের গর্জে উঠলেন নরেন্দ্র মোদী

    নারী দিবসের আগে মহিলা রাষ্ট্রপতিকে অপমান! ফের গর্জে উঠলেন নরেন্দ্র মোদী

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: গত কয়েকদিন ধরেই রাজ্যে SIR বা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক এবং সমালোচনা হয়েই চলেছে। এখনও থামেনি সেই বিতর্কের ঝড়, আর এই অবস্থায় রাজ্য প্রশাসন এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর (Draupadi Murmu) অসন্তোষ প্রকাশের ঘটনায় রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে৷ এমনকি এই ঘটনাকে নজিরবিহীন এবং লজ্জাজনক বলে শনিবারই সুর চড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)৷ আর এবার সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আগুনে আরও ঘি ঢাললেন নরেন্দ্র মোদী।

    রাষ্ট্রপতি সফর নিয়ে রাজ্য কেন্দ্রের সংঘাত

    গতকাল অর্থাৎ শনিবার শিলিগুড়ি মহকুমার গোঁসাইপুরে নবম আন্তর্জাতিক সাঁওতাল কনফারেন্সে এসেছিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। কিন্তু তাঁকে স্বাগত জানাতে মুখ্যমন্ত্রী বা কোনও মন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন না, যা নিয়ে অভিযোগ তোলেন খোদ রাষ্ট্রপতি। এমনকি একাধিক ইস্যু নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। লিখিত কোনও প্রোটোকল না থাকলেও চিরাচরিত নিয়ম অনুযায়ী, যখনই কোনও রাজ্যে রাষ্ট্রপতি যান তখন সেই রাজ্যের রাজ্যপাল, মুখ্যমন্ত্রীকে রিসিভ করতে দেখা যায়। সেক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রী না গেলেও সাধারণত প্রশাসনিক স্তরের শীর্ষ কর্তারা যান। কিন্তু শনিবার কাউকেই দেখা যায়নি, তাই নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক।

    এক্স হ্যান্ডেলে ক্ষোভ প্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর

    রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপে বেশ ক্ষুব্ধ হন। এরপরই এক্স মাধ্যমে ঘটনার নিন্দা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি জানিয়েছেন, “ এটি লজ্জাজনক এবং অভূতপূর্ব ঘটনা। গণতন্ত্র এবং জনজাতি সম্প্রদায়ের ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী মানুষজন সকলেই মর্মাহত। জনজাতি সম্প্রদায় থেকেই উঠে আসা রাষ্ট্রপতি মহোদয়ার প্রকাশিত বেদনা ও উদ্বেগ ভারতের মানুষের মনে গভীর দুঃখের সঞ্চার করেছে।” এদিন প্রথমে ইংরেজিতে, তার পরে বাংলায় এবং পরে অলচিকি লিপিতেও এই ঘটনার নিন্দা করেন। এখানেই ক্ষান্ত হননি তিনি। এরপর আজ, একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ফের সুর চড়ান মোদী।

    আরও পড়ুন: কালীঘাটে পুজো থেকে বেলুড় দর্শন, বাংলায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সফরনামা

    তৃণমূল সরকারকে ধিক্কার জানালেন মোদি

    অনুষ্ঠানে নরেন্দ্র মোদি বলেন, “আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন করা হচ্ছে চারিদিকে। আর ঠিক আগের দিন পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল সরকার মহিলা রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে চরম অপমান করেছেন। দ্রৌপদী মুর্মু আদিবাসীদের উৎসবে সামিল হতে বাংলায় গিয়েছিলেন। কিন্তু তৃণমূল সরকার জনসমক্ষে সাঁওতালদের অপমান করেছে, রাষ্ট্রপতিকে অপমান করেছে।” এছাড়াও মোদী আরও বলেন যে, “রাষ্ট্রপতি আদিবাসী সমাজের বিকাশের কথা চিন্তা করেছেন। আর তাঁকেই নারী দিবসের আগের দিন চরম অপমান করা হল। তাই এটা শুধু সেই রাষ্ট্রপতির অপমান নয়, সংবিধানেরও অপমান। সংবিধানের স্পিরিটের অপমান। যাঁরা জীবনের সংঘর্ষ পেরিয়ে সাফল্য পেয়েছেন, সেই সব মহিলাদের অপমান।”

  • নারী দিবসে কালো শাড়িতে রাস্তায় তৃণমূলের মহিলারা, গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদ

    নারী দিবসে কালো শাড়িতে রাস্তায় তৃণমূলের মহিলারা, গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদ

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নির্দেশে অনুযায়ী আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে ময়দানে নামল মহিলারা। গ্যাসের দাম বৃদ্ধির (LPG Cylinder Price Hike) প্রতিবাদে কালো শাড়ি পরে তুমুল প্রতিবাদ শুরু হল চারিদিকে। শশী পাঁজা, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যদের মতো নেত্রীদের নেতৃত্বে রীতিমত মুখরিত মহিলা ব্রিগেড। থালা-বাসন, খুন্তি বাজিয়ে ধরনা মঞ্চেও কালো শাড়ি পরে চলল প্রতিবাদ। প্রতীকী সিলিন্ডার হাতে প্রতিবাদ জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।

    নারী দিবসের দিন প্রতিবাদের ডাক তৃণমূলের

    রিপোর্ট মোতাবেক, গতকাল অর্থাৎ শনিবার, ধর্মতলায় কেন্দ্রীয় সরকারের গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে ধরনা মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সমগ্র মহিলাদেরকে নিয়ে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের দিন প্রতিবাদের ডাক দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “গ্যাসের দাম বৃদ্ধির জন্য হাঁড়ি, কড়াই, বাটি, ঘটি, হাতা, খুন্তি দিয়ে প্রতিবাদ মিছিল হবে আন্তর্জাতিক মহিলা দিবসে। মানবতাকে পালন করার জন্য কাল মা বোনেরা রাস্তায় নামুন, প্রতিবাদ করুন। প্রয়োজনে কালো শাড়ি পরুন। গ্যাসের ওভেনও পারলে কেউ নিয়ে আসবেন। পারলে কাঁচা আনাজও ঝুড়িতে আনবেন।” আর সেই নির্দেশ মাথায় রেখেই আজ সুবোধ মল্লিক স্কোয়্যারে মিছিলে যোগ দেন মহিলারা। সকলেরই পরনে ছিল কালো পোশাক।

    প্রতিবাদে সরব মুখ্যমন্ত্রী

    মহিলাদের এই আন্দোলনে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, সাংসদ মালা রায়, বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ। মিছিল শেষে পরে তাঁরা পুনরায় ধর্মতলায় মুখ্যমন্ত্রীর ধর্নামঞ্চে এসেও হাতা-খুন্তি নিয়ে গ্যাসের দামবৃদ্ধির প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় সরকারকে নিশানা করেছেন। পাশাপাশি এদিন প্রতীকী সিলিন্ডার হাতে নিয়ে খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও সেই প্রতিবাদে শামিল হন। যদিও তিনি নিজে প্রথাগত সাদা শাড়িই পরেছিলেন। গ্যাসের দামের পাশাপাশি ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটার ইস্যুকেও এই প্রতিবাদের সঙ্গে জুড়ে দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। ফলে ভোটমুখী বাংলায় এসআইআর-র প্রতিবাদে ধরনা মঞ্চ থেকে মমতার প্রতিবাদের ডাকে বেশ চাপের মুখে পড়ল বঙ্গ বিজেপি।

    আরও পড়ুন: ট্রোলের জেরে ছেড়েছিলেন সোশ্যাল মিডিয়া! মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শে কামব্যাক ইমনের

    প্রসঙ্গত, চলতি বছরের শুরুতেই অর্থাৎ ১ জানুয়ারি একধাক্কায় বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম বেড়েছিল ১১১ টাকা। ঠিক তার পরের মাসে অর্থাৎ ১ ফেব্রুয়ারি আরও ৪৯ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে গ্যাসের দাম। সংশোধিত দামের তালিকা অনুযায়ী, ১ মার্চ কলকাতায় ১৯ কেজির বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম দাঁড়িয়েছিল ১৮৭৫ টাকা ৫০ পয়সা। এবার মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝে নতুন দাম বৃদ্ধির পর গ্যাসের দাম বেড়ে হল ১৯৯৯ টাকা। আর তাই বেশ দুশ্চিন্তায় রয়েছে মধ্য এবং নিম্নবিত্তরা।

  • ট্রোলের জেরে ছেড়েছিলেন সোশ্যাল মিডিয়া! মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শে কামব্যাক ইমনের

    ট্রোলের জেরে ছেড়েছিলেন সোশ্যাল মিডিয়া! মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শে কামব্যাক ইমনের

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ‘বঙ্গবিভূষণ’ বিতর্কের জেরে, কিছুদিন আগেই স্যোশাল মিডিয়া ছেড়েছিলেন বাংলার উন্নয়ন পাঁচালির গায়িকা ইমন চক্রবর্তী (Iman Chakraborty)। এমনকি মৃত মাকে নিয়েও একাধিক ট্রোল করা হয়েছিল তাঁকে। শেষে বাধ্য হয়ে সোশ্যাল মিডিয়া (Social Media) ছেড়েছিলেন তিনি। আর এই আবহে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরামর্শে ফের সোশ্যাল মিডিয়ায় আসতে চলেছেন ইমন।

    ব্যাপক ট্রোলিংয়ের মুখে ইমন

    সম্প্রতি গায়িকা ইমন চক্রবর্তী বঙ্গবিভূষণ পেয়েছিলেন রাজ্য সরকারের তরফ থেকে। আর সেই পুরস্কার পেতেই তাঁকে নিয়ে দেদার ট্রোল শুরু হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। ক’দিন আগে মায়ের মৃত্যুবার্ষিকীতে একটি পোস্ট করেছিলেন ইমন। সেখানেও তাঁকে ছাড়েনি ট্রোলাররা। রীতিমত একেরপর এক ব্যক্তিগত আক্রমণ করা হয় তাঁকে। ইমন চক্রবর্তী কেন রাজ্য সরকারের উন্নয়নের পাঁচালি গিয়েছেন, সেই কারণে তাঁকে তো কটাক্ষ, বিদ্রুপ করা হয়েছেই, ছাড় দেওয়া হয়নি গায়িকার প্রয়াত মাকেও। এরপরই লাইভে এসে ইমন জানিয়ে দেন, ব্যক্তিগত জীবন আর সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলে ধরবেন না তিনি। এমনকি তিনি আর সমাজমাধ্যমে আর সক্রিয় থাকবেন না বলেও জানিয়েছিলেন। তবে এবার মুখ্যমন্ত্রীর কথায় সোশ্যাল মিডিয়ায় ফিরছেন তিনি।

    ইমনকে পরামর্শ মমতার

    নিউজ১৮-এর সোজাসাপটা অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্প্রতি ইমন চক্রবর্তীর প্রতি ট্রোলারদের আচরণে বিরক্তিপ্রকাশ করেছিলেন। তিনি বলেন, ” সেদিন ওঁর মায়ের মৃত্যুদিন ছিল! আমরা তো শিবাজী চট্টোপাধ্যায়, শ্রীরাধা বন্দ্যোপাধ্যায়, নচিকেতা চক্রবর্তী, রূপঙ্কর, রাঘব, শ্রীজাত, গণেশচন্দ্র হালুই,শ্রীজাত, বাবুল সুপ্রিয়কেও বঙ্গবিভূষণ দিয়েছি! তাহলে শুধু ইমনকে কেন একঘরে করা হল? এটা খুব খারাপ।” এর পরই তিনি ইমনকে পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘আনসোশ্যাল লোকেদের জন্য তুমি সোশ্যাল মিডিয়া কেন ছাড়বে? বেশি করে ধর!’ এরপরই ইমন চক্রবর্তী পুনরায় সোশ্যাল মিডিয়ায় আসার কথা জানান।

    আরও পড়ুন: ৫টার মধ্যে জবাব চাই! রাষ্ট্রপতি মুর্মুর দার্জিলিং সফরে অব্যবস্থা নিয়ে নবান্নকে কড়া চিঠি

    ইমন চক্রবর্তী একটি সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘ একজন মানুষ হিসেবে দিদিকে আমি খুব ভালোবাসি, শ্রদ্ধা করি। আমি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথাটা শিরোধার্য করলাম। আসলে কষ্টটা খুব মনে পেয়েছি। কথাটা খুব মনে লেগেছে। সেই জন্য এই মন খারাপ, এটা কাটতে একটু বোধ হয় সময় লাগবে। আমার জন্য আমার পরিবারের মানুষদের কোনও খারাপ কথা বললে, সেই খারাপ লাগাটা আরও দীর্ঘস্থায়ী হয়। ঠিক হয়ে যাবো তাড়াতাড়ি। শীঘ্রই স্যোশাল মিডিয়াতে নিশ্চয়ই ফিরবো।’ প্রসঙ্গত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে ‘বঙ্গ সম্মান’-এর ঘোষণা করা হয়েছিল। আর সেই তালিকায় ছিলেন অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। তাঁকেও সমানভাবে ট্রোলড হতে হয়েছিল।

  • যুবসাথীর চক্করে কত হাজার কোটির ধাক্কা রাজ্য সরকারের? ভয়ঙ্কর রিপোর্ট দিল RBI

    যুবসাথীর চক্করে কত হাজার কোটির ধাক্কা রাজ্য সরকারের? ভয়ঙ্কর রিপোর্ট দিল RBI

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026) শুরু হতে আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকি। তার আগেই বড় মাস্টারস্ট্রোক দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। ধর্মতলার ধরনা মঞ্চ থেকেই যুবসাথী (Yuba Sathi Scheme) নিয়ে ঘোষণা করলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য বরাদ্দ ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের ভাতার টাকা ১ এপ্রিল নয়, আজ, শনিবার, ৭ মার্চ থেকেই উপভোক্তাদের দেওয়া হবে টাকা। কিন্তু প্রকল্পের জন্য এই টাকা দেওয়ার চক্করে এবার সরকারি কোষাগারে বড় প্রভাব পড়তে চলেছে। একধাক্কায় খরচ হতে চলেছে অন্তত ১২৬০ কোটি টাকা!

    চলতি মাসেই ১২৬০ কোটি টাকা খরচ

    মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে রাজ্যজুড়ে ‘দুয়ারে সরকার’ ক্যাম্প এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে চলতি বছর গত ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত যুবসাথী প্রকল্পের আবেদন জমা নেওয়া হয়েছিল। রিপোর্ট মোতাবেক সব মিলিয়ে এই প্রকল্পে রাজ্যে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৮৪ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছিল। এর মধ্যে ব্লক স্তরে আয়োজিত অফলাইন শিবিরে প্রায় ৬৫ লক্ষ এবং অনলাইন পোর্টালে প্রায় ১৯ লক্ষ যুবক যুবতী নাম নথিভুক্ত করেছে। আগে জানানো হয়েছিল ১ এপ্রিল থেকে এই টাকা দেওয়া হবে কিন্তু আচমকা দিন বদলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। আর তাতেই চলতি মাসে ১২৬০ কোটি টাকা খরচ হতে চলেছে। সেক্ষেত্রে অনুদানের খরচ সামলাতে জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি এবং মার্চ এই তিন মাসে সম্ভাব্য ধারের পরিমাণ পৌঁছতে পারে ৪৬ হাজার কোটি টাকায়।

    চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করল RBI

    রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, গত জানুয়ারি থেকে চলতি মার্চ মাস পর্যন্ত রাজ্য সরকার প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকা ধার করার প্রস্তাব দিয়েছে যা ত্রৈমাসিকে সর্বাধিক। এছাড়াও চলতি আর্থিক বছরের এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৭৮ হাজার কোটি টাকা ধার করার কথা জানিয়েছিল রাজ্য। ফলে এই তিন মাসের জন্য আরও ৪৬ হাজার কোটি টাকা ধার করতে হলে চলতি আর্থিক বছরেই ধারের পরিমাণ হবে ১.২৪ লক্ষ কোটি টাকা। যা নিয়ে চিন্তিত সকলে। এক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠছে কেন ১ এপ্রিল থেকে ভাতা দেওয়ার কথা ছিল? জানা গিয়েছে, ১ এপ্রিল থেকে নতুন আর্থিক বছর শুরু হবে। তখন থেকে ভাতা চালু করলে ওই বছরের বাজেট থেকে খরচ করা যেত। কিন্তু এখন থেকেই তা চালু হওয়ায় প্রথম মাসের খরচটা চলতি আর্থিক বছরেই ঢুকে যাবে। কিন্তু ভোটের আগে হাতে টাকা পৌঁছে দেওয়া হয়তো জরুরি বলেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করল সরকার।

    কোষাগার নিয়ে বাড়ছে বিরোধীদের কটাক্ষ

    দিনের পর দিন রাজ্যের কোষাগারের বেহাল অবস্থা নিয়ে চুপ থাকছে না বিরোধীরা। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য মমতার এই প্রকল্প অনুদানের আচমকা নেওয়া সিদ্ধান্তকে কটাক্ষ করেছেন। তিনি বলেন, “রাজ্যকে দেউলিয়া করছে এই সরকার। যুবসাথী যাঁরা নেবেন, তাঁরাও জানেন, এই সরকার তাঁদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার করে দেবে। ফলে ভাতা নিলেও এই সরকারকে বিসর্জন দেবেন তাঁরাই।” অন্যদিকে সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তীও কটাক্ষ করে বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী ‘ক্যাশ ফর ভোট’ মডেলের চক্করে রাজ্যের মানুষের ঘাড়ে বিপুল ঋণের বোঝা চাপছে। আর তার দায় বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীকেই নিতে হবে।’’

    আরও পড়ুন: ভারত না নিউজিল্যান্ড, T20 বিশ্বকাপে কার ক্ষমতা বেশি? পরিসংখ্যান দেখলে ভয় পাবেন!

    বিরোধীদের মন্তব্য মানেনি তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, “রাজ্যের কোষাগারে চাপ ও ঋণের হাল নিয়ে দুশ্চিন্তা না করে কেন্দ্রীয় সরকারকে রাজ্যের প্রাপ্য বকেয়া ছেড়ে দিতে বলুন।” প্রসঙ্গত, গত অন্তর্বর্তী বাজেটে যুবসাথী ছাড়াও খরচসাপেক্ষ একাধিক ঘোষণা করেছিল রাজ্য সরকার। লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পে উপভোক্তার সংখ্যা বাড়িয়ে প্রায় ২.৪২ কোটি করা হয়েছে এবং মাসিক ভাতাও ৫০০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। খেতমজুরদের আর্থিক অনুদান দেওয়ার কথাও ঘোষণা হয়েছিল। সব মিলিয়ে আগের খরচের বহরের উপর আরও বোঝা চাপানো হয়েছে।

  • নাবালিকাকে ধর্ষণ-খুন, যুবসাথীর টাকা…! আজকের সেরা ১০ খবর (৭ মার্চ)

    নাবালিকাকে ধর্ষণ-খুন, যুবসাথীর টাকা…! আজকের সেরা ১০ খবর (৭ মার্চ)

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: আজ ৭ মার্চ, শনিবার। নাবালিকাকে ধর্ষণ-খুন, যুবসাথীর টাকা, পাইকপাড়ায় বিস্ফোরণ, রাজ্য-রাজনীতি, অর্থনীতি, বহির্বিশ্ব, কোথায় কী ঘটল আজ? জানতে চোখ রাখুন আজকের সেরা দশে। India Hood-র তরফ থেকে আমরা নিয়ে এসেছি তরতাজা দশটি (Top 10 Bangla News in West Bengal And India) খবর, যা না পড়লে মিস করে যাবেন অনেক কিছুই। বিস্তারিত নতে হলে অবশ্যই প্রতিবেদনটি শেষ পর্যন্ত পড়ুন।

    ১০) সাতসকালে পাইকপাড়ায় বোমা বিস্ফোরণ

    পাইকপাড়া এলাকায় শনিবার সকালবেলা ভয়াবহ বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছে একটি ক্লাব। পরপর বিস্ফোরণে টিনের ছাদ উড়ে পাশের বাড়ির ছাদে পড়েছে এবং গোটা এলাকায় আগুন লেগে গিয়েছে। খবর পেয়ে দমকল এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বোম্ব স্কোয়াড ও পুলিশ কুকুর দিয়ে তল্লাশি চালানো হয়েছে। এখনো পর্যন্ত হতাহতের কোনও খবর নেই। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রমোটিং সংক্রান্ত বিরোধের জেরেই হয়তো এই বিস্ফোরণ ঘটতে পারে।

    ৯) ভোটের আগে রাজ্য প্রশাসনে বিরাট বদল

    বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্য প্রশাসনে বিরাট রদবদল করল নবান্ন। বিজ্ঞপ্তি জারি করে সাতজন আইএএস অফিসারকে বদলির ঘোষণা করা হল। সুমিত গুপ্তকে কলকাতা পৌরসভার কমিশনার পদ থেকে সরিয়ে এবার ডিএলআরএস পদে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি অনশুল গুপ্তকে নতুন কমিশনারের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি একাধিক জেলায় জেলা শাসক বদলি করা হয়েছে। নির্বাচনের আগে প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা পাকাপোক্ত করতেই এই সিদ্ধান্ত।

    ৮) আজ থেকেই ঢুকবে যুবসাথীর টাকা, ঘোষণা মমতার

    মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে ধরনা মঞ্চ থেকে ঘোষণা করলেন যে, বাংলার যুবসাথী প্রকল্পের টাকা আজ থেকেই বেকার যুবক যুবতীদের অ্যাকাউন্টে ঢোকা শুরু হবে। এই প্রকল্পে মাধ্যমিক পাস করলে এবং ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে বয়স হলে প্রতি মাসে ১৫০০ টাকা করে ভাতা পাওয়া যাবে। আগে ১ এপ্রিল ভাতা দেওয়ার কথা থাকলেও এখন ৭ মার্চ থেকে তা শুরু হচ্ছে বলে খবর। আন্তর্জাতিক নারী দিবসের আগেই এই ঘোষণা করে অনেক বেকার যুবক যুবতীদের মুখে হাসি ফুটিয়েছেন তিনি।

    ৭) অন্ধ্রপ্রদেশে ১৩ বছরের কম বয়সীদের ব্যান সোশ্যাল মিডিয়া

    অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু জানিয়েছেন, ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার নিষিদ্ধ করার জন্য আইন প্রণয়ন করা হবে। আগামী ৯০ দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে আইন আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ১৩ থেকে ১৬ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রেও এই নতুন নিয়ম নিয়ে আলোচনা চালানো হচ্ছে। শিশুদের পড়াশোনা এবং মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্যই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে। সরকারের এই প্রস্তাব কার্যকর হলে এটি দেশের প্রথম কঠোর পদক্ষেপ হতে পারে।

    ৬) গ্যাস সংকটে গুজরাটে বন্ধ ১০০ কারখানা

    গুজরাটের মোরবি শহরে গ্যাস সংকটের কারণে প্রায় ১০০টি সিরামিক কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে গিয়েছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার কারণেই এই সমস্যা হচ্ছে বলে খবর, যা কাতার থেকে আমদানিকে প্রভাবিত করছে। শিল্প প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন যে, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে আরও ৪০০টি কারখানা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আর এতে হাজার হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান ঝুঁকির মুখে পড়বে এবং ভারতের জ্বালানি বাজারেও চাপ পড়তে পারে।

    ৫) সাঁইথিয়ায় নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুন

    সাঁইথিয়ায় এক নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ উঠল। জানা যাচ্ছে, সেখানকার এক বাড়িতে ১৪ বছরের নাবালিকা পরিচালিকার কাজ করত। হ্যাঁ বীরভূমের সাঁইথিয়ার পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের মার্বেল পাথর ব্যবসায়ী পঙ্কজ পারেকের বাড়িতেই কাজ করতে হয় নাবালিকা। তবে দোলের পরদিন সে আর বাড়ি ফেরেনি বলে অভিযোগ। পরে জানা যায় যে, নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। আর এ নিয়ে উত্তপ্ত হয় সাঁইথিয়া। স্থানীয়রা অভিযোগ করে, ওই বাড়ির গৃহকর্তাই তাঁকে খুন করেছে। এমনকি এ বিষয়ে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

    ৪) তৃণমূল না করলে সে বাঙালি নয়, মন্তব্য মহুয়া মৈত্রের

    মহুয়া মৈত্রর মন্তব্যকে ঘিরে এবার তীব্র বিতর্ক শুরু হল রাজনৈতিক অঙ্গনে। ভোটের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ধর্মতলার ধরনা মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মহুয়া মৈত্র স্পষ্ট বলেন যে, যারা তৃণমূলের সঙ্গে নেই, তারা কোনও ভাবে বাঙালি নয়। এই মন্তব্য ভাইরাল হতেই বিরোধীদের সমালোচনা শুরু হয়। বিজেপি নেতা তরুনজ্যোতি তিওয়ারি কটাক্ষ করে বলেছেন যে, সাধারণ মানুষের সমস্যাকে এরকম ভাবে অস্বীকার করা মোটেও ঠিক নয়। ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনাও বাড়ছে।

    ৩) রান্নার গ্যাসের দাম বাড়ায় প্রতিবাদ মমতার

    রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রান্নার গ্যাসের দাম বৃদ্ধির তীব্র প্রতিবাদ করলেন। নতুন সিদ্ধান্তে কলকাতাতে ঘরোয়া গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ৬০ টাকা বাড়িয়ে ৯৩৯ টাকা করা হয়েছে। আর ১৯ কেজি বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম বাড়ানো হয়েছে ১১৪ টাকা। এই সিদ্ধান্তের জন্য কেন্দ্র সরকারকে দায়ী করে তিনি বলেছেন যে, এতে সাধারণ মানুষ এবং মহিলাদের উপরেই চাপ বাড়ছে। নারী দিবস উপলক্ষে হাঁড়ি কড়াই নিয়ে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদের ডাক দিয়েছেন তিনি।

    ২) অষ্টম বেতন কমিশন নিয়ে চাওয়া হল একাধিক পরামর্শ

    অষ্টম বেতন কমিশন কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী এবং পেনশনভোগীদের কাছ থেকে বেতন, ভাতা এবং অন্যান্য সুবিধা সংক্রান্ত পরামর্শ চাইল। আর এই মতামত জমা দেওয়ার শেষ তারিখ আগামী ২৩ এপ্রিল ২০২৬। কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ৫ মার্চ থেকে একটি অনলাইন পোর্টাল চালু করা হয়েছে। আর সেখানে কর্মচারী, পেনশনভোগী, ইউনিয়ন এবং বিভিন্ন সংস্থার তাদের প্রস্তাব জমা দেবে। অফলাইন ইমেইল বা পিডিএফ কোনও ভাবে গ্রহণ করা হবে না। পাশাপাশি বেতন কাঠামো এবং সুবিধা নিয়ে ১৮টি প্রশ্নের একটি প্রশ্নপত্র প্রকাশ করা হয়েছে

    ১) হোলির রং লাগাতে হিন্দু যুবককে খুন মুসলিমদের

    দিল্লির উত্তমনগর এলাকায় হোলির দিন একটি ছোট ঘটনা বিরাট সংঘর্ষে পরিণত হল। ১১ বছরের এক মেয়ের ছড়া জলভরা বেলুন এক মুসলিম মহিলার গায়ে লেগেছিল। আর এতে দুই পরিবারের মধ্যে তর্ক বিতর্ক শুরু হয়। অভিযোগ ওঠে, কয়েকজন মিলে ২৬ বছরের এক যুবক তরুণ কুমারকে ব্যাট, লাঠি এবং পাথর দিয়ে মারধর করেছে। আর গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হলে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় আট জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে আর গোটা এলাকায় এখনও পর্যন্ত উত্তেজনা ছড়িয়ে।

  • সাবধান করেছিল সুপ্রিম কোর্ট, এবার লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে যা বলল SBI

    সাবধান করেছিল সুপ্রিম কোর্ট, এবার লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে যা বলল SBI

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: এইমুহুর্তে সাধারণ নাগরিকদের কাছে রাজ্যের সবথেকে জনপ্রিয় প্রকল্পগুলির মধ্যে একটি হল লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প (Lakshmir Bhandar)। এই প্রকল্প মূলত মহিলাদের জন্য নিতে এসেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। তবে শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, নির্বাচনে ভোটারদের আকৃষ্ট করার জন্য একাধিক রাজ্য একের পর এক প্রকল্প নিয়ে এসেছে জনসাধারণের জন্য। কিন্তু এই প্রকল্পগুলিতে রাজনৈতিক লাভ হলেও সরকারের কোষাগারে বিপুল চাপ পড়ে, আর এবার তাই প্রকল্পগুলি বাস্তবায়নের ব্যয়ের সীমা সীমাবদ্ধ করার সুপারিশ দিল স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (State Bank Of India)। মহিলা ভোটার নিয়েও দিল বড় আপডেট।

    জনসংযোগ বাড়াতে প্রকল্প নীতি

    নির্বাচন আসলেই রাজনীতিবিদরা সাধারণ জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য একের পর এক জনদরদী প্রকল্প নিয়ে আসে। আর এই সব প্রকল্পে বরাদ্দ করা হয় কয়েক কোটি টাকা। উপভোক্তাদের সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে নগদ অর্থ পাঠানো হয়, তাতে সরকারের কোষাগারে বেশ চাপ পড়ে। এই নিয়ে সুপ্রিম কোর্টও উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। সমালোচনা করে শীর্ষ আদালত বলেছিল যে জনগণকে বিনামূল্যে প্রকল্পের মাধ্যমে নগদ দেওয়ার পরিবর্তে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা উচিত যাতে তারা তাদের মর্যাদা এবং আত্মসম্মান অর্জন করতে পারে। কিন্তু তবুও বন্ধ হয়নি প্রকল্প। তাই এবার বিনামূল্যের এই সব সুবিধা এবং নগদ অর্থের মতো প্রকল্পগুলি বাস্তবায়নের ব্যয়ের সীমা GSDP-র একটি শতাংশে সীমাবদ্ধ করার সুপারিশ করা হয়েছে, যাতে সরকারের প্রয়োজনীয় এবং কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলি প্রভাবিত না হয়।

    কী বলছে স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া?

    সম্প্রতি স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ এসেছে। যেখানে বলা হয়েছে, “বিধানসভা নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলি পৃথক রাজ্যগুলির জন্য GSDP-র ০.১ থেকে ২.৭ শতাংশ, যা রাজ্যগুলির নিজস্ব মোট রাজস্ব সংগ্রহের প্রায় ৫ থেকে ১০ শতাংশ। তবে এইমুহুর্তে এই খাতে ব্যয়ের জন্য মোট রাজস্বের এক শতাংশের সীমা নির্ধারণ করতে হবে।” এছাড়াও SBI এর রিপোর্ট অনুযায়ী, যে সব রাজ্যে মহিলাকেন্দ্রিক প্রকল্প রয়েছে, সেখানে মহিলারা ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছেন। অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গ, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, ঝাড়খণ্ড, বিহারের মতো রাজ্য এই তালিকায় রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে SBI জানিয়েছে, ২০২১ সালে বাংলার বিধানসভা ভোটে অতিরিক্ত ২৯ লক্ষ ১০ হাজার মহিলা বুথমুখী হয়েছেন। যার নেপথ্য রয়েছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প।

    আরও পড়ুন: আহমেদাবাদে মেগা ফাইনাল ভারত-নিউজিল্যান্ডের, মাঠে থাকবেন নরেন্দ্র মোদী?

    প্রসঙ্গত, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প নিয়ে বেশ প্রশংসা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। যেখানে বলা হয়েছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতে প্রকল্পের জন্য পশ্চিমবঙ্গে ভোগ্যপণ্যের বিক্রি বেড়েছে। কিছুদিন আগেই অন্তর্বতী বাজেট পেশ করেছিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। সেখানেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকার অঙ্ক বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে এই প্রকল্পের মাধ্যমে সাধারণ মহিলারা মাসে ১৫০০ টাকা ও পিছিয়ে পড়া মহিলাদের মাসে ১৭০০ টাকা করে দেওয়া হয়।

  • গ্যাসের দাম বাড়তেই ক্ষুব্ধ মমতা, নারী দিবসে হাঁড়ি-কড়াই নিয়ে প্রতিবাদের ডাক মুখ্যমন্ত্রীর

    গ্যাসের দাম বাড়তেই ক্ষুব্ধ মমতা, নারী দিবসে হাঁড়ি-কড়াই নিয়ে প্রতিবাদের ডাক মুখ্যমন্ত্রীর

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আঁচ পড়েছে হেঁশেলে। আজ অর্থাৎ শনিবার থেকে ঘরোয়া এবং বাণিজ্যিক দুই রান্নার গ্যাসের দামই (Gas Cylinder Price Hike) এবার বাড়ানো হল। ঘরোয়া রান্নার গ্যাসের দাম একলাফে বাড়ানো হল সিলিন্ডার প্রতি ৬০ টাকা করে। অর্থাৎ কলকাতায় রান্নার গাসের দাম বেড়ে হল ৯৩৯ টাকা। এবং ১৯ কেজির বাণিজ্যিক রান্নার গ্যাসের দাম বাড়ানো হল সিলিন্ডার প্রতি ১১৪ টাকা ৫০ পয়সা। অর্থাৎ দাম বেড়ে হল ১৯৯০ টাকা। আর তাই গ্যাস সিলিন্ডার দাম বৃদ্ধি নিয়ে এবার কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ।

    গ্যাসের দাম বৃদ্ধি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ মমতার

    রিপোর্ট মোতাবেক, আজ, শনিবার ধরনা মঞ্চে রান্নার গ্যাসের দাম বৃদ্ধি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গ্যাসের দাম ৬০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তিনি জানান, রান্নার গ্যাসের দাম বৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে মহিলাদের উপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। গতকাল ৬০ টাকা গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে। তার আগে তিনদিন আগে ৪৯ টাকা গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে। বড় সিলিন্ডাররে দাম ২১০০ টাকা হয়ে গিয়েছে। আর ছোট সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার টাকা হয়ে গিয়েছে। বলছে ২১ দিন আগে থেকে বুক করতে হবে। যার বাড়িতে গ্যাস শেষ হয়ে যাবে সে কী ২১ দিন রান্না না করে থাকবে? খাবেন কী করে? মাথা খাবেন?”

    মহিলাদেরকে নিয়ে প্রতিবাদের ডাক মমতার

    কেন্দ্রীয় সরকারের এই গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে ধরনা মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সমগ্র মহিলাদেরকে নিয়ে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের দিন প্রতিবাদের ডাক দিলেন। তিনি বলেন, “কালকে মিছিল হবে। গ্যাস নাই, রান্না নাই। গ্যাস নাই, খাবার নেই। সেই জন্য হাঁড়ি, কড়াই, বাটি, ঘটি, হাতা, খুন্তি দিয়ে প্রতিবাদ মিছিল হবে আন্তর্জাতিক মহিলা দিবসে। মানবতাকে পালন করার জন্য কাল মা বোনেরা রাস্তায় নামুন, প্রতিবাদ করুন। প্রয়োজনে কালো শাড়ি পরুন। আর হাতে এইসব রাখবেন। গ্যাসের ওভেনও পারলে কেউ নিয়ে আসবেন। পারলে কাঁচা আনাজও ঝুড়িতে আনবেন।”

    আরও পড়ুন: ধর্ষণ করে খুন, গোডাউনে লুকোনো দেহ! সাঁইথিয়ায় নাবালিকা মৃত্যুতে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী

    প্রসঙ্গত, গত কয়েক মাস ধরেই বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম ধারাবাহিকভাবে বেড়েই চলেছে। চলতি বছরের শুরুতেই অর্থাৎ ১ জানুয়ারি একধাক্কায় ১১১ টাকা বেড়েছিল বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম। এরপর পরের মাসে অর্থাৎ ১ ফেব্রুয়ারি আরও ৪৯ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে গ্যাসের দাম। সংশোধিত দামের তালিকা অনুযায়ী, ১ মার্চ কলকাতায় ১৯ কেজির বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম দাঁড়িয়েছিল ১৮৭৫ টাকা ৫০ পয়সা। এবার নতুন বৃদ্ধির পর সেই দাম বেড়ে হল ১৯৯৯ টাকা। বেশ দুশ্চিন্তায় রয়েছে সকলে।

  • ‘যারা তৃণমূলের সঙ্গে নয়, তারা বাঙালি নয়!’  মহুয়া মৈত্রর মন্তব্য ঘিরে তুঙ্গে বিতর্ক

    ‘যারা তৃণমূলের সঙ্গে নয়, তারা বাঙালি নয়!’ মহুয়া মৈত্রর মন্তব্য ঘিরে তুঙ্গে বিতর্ক

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) আগে ফের বিতর্কে জড়ালেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra)। বাঙালি কারা? সেটা বোঝাতে গিয়েই করলেন বিতর্কিত মন্তব্য। রাজ্যে SIR প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ্যে আসার পর এখনও ৬০ লক্ষ নাম ‘বিচারাধীন’ রয়েছে। আর সেই নিয়ে তুমুল অশান্তি শুরু হয়েছে রাজ্য জুড়ে। এমতাবস্থায় বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে গতকাল অর্থাৎ শুক্রবার থেকে ধর্মতলায় ধরনায় বসেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) সহ শতাধিক নেতা-নেত্রীরা। রাতভর মেট্রো চ্যানেলে প্রতিবাদ মঞ্চে থেকেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেই মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিতর্কে জড়ালেন তিনি।

    ধর্মতলায় ধরনায় মমতা

    ভোটাধিকারের লড়াইয়ে গতকাল অর্থাৎ শুক্রবার, ধর্মতলায় মেট্রো চ্যানেলে প্রতিবাদ মঞ্চে ধরনা করছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ একাধিক নেতা নেত্রী। সেখানে ‘ভোট নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। এই অধিকার কেড়ে নিতে দেব না’ লেখা পোস্টার গলায় ঝুলিয়ে ধরনা মঞ্চে বক্তব্য রাখতে ওঠেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তিনি বলেন, ‘‘এটা নীতি বা আদর্শের লড়াই নয়। এটা বেঁচে থাকার লড়াই। আজ কলকাতার কোনও মানুষ, যাঁরা বাসে-ট্রামে যাচ্ছেন, আর ভাবছেন, মমতা তো আবার বসেছেন (ধর্নায়), তাঁর মতো অপরাধী আর নেই। এসআইআর এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে সাধারণ শিক্ষিত মানুষও বুঝতে পারছেন না।

    ফের বিতর্কে জড়ালেন মহুয়া মৈত্র

    বিজেপি নেতা তথা আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন, সেখানে মহুয়া মৈত্রকে বলতে শোনা যাচ্ছে, “বুদ্ধিজীবী সমাজ, শিক্ষিত ছেলেমেয়েরাও এসআইআরের পরিকল্পি গেম, চক্রান্তটা ধরতে পারছে না। সবাইকে বলছি যে এখন আজকে তৃণমূলের সঙ্গে নয়, সে কিন্তু বাঙালি নয়, তাঁর বাংলায় থাকার অধিকার নেই।’ বলে দিই, ইন্ডিয়া হুড সেই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি। এছাড়াও একই সভা থেকে তথ্যগত অসঙ্গতি থেকে ভোটার তালিকায় নাম বাদ নিয়ে কমিশন এবং বিজেপিকেও তোপ দাগেন মহুয়া মৈত্র। এরপরই সেই মন্তব্য মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। বাঙালি জাতিকে অসম্মানের অভিযোগ ওঠে চারিদিক থেকে। এমনকি এই নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়লেন না বিজেপি নেতা তথা আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি। তিনি বলেন, “যাদের জীবন ও জীবিকা শাসকদল বছরের পর বছর দুর্নীতির মাধ্যমে লুট করেছে, তারা কি অন্য গ্রহের মানুষ?”

    আরও পড়ুন: গ্যাসের সংকট দেখা দিতেই গুজরাটে ১০০ কারখানায় কাজ বন্ধ, ঝুঁকির মুখে আরও ৪০০

    তরুণজ্যোতি তিওয়ারি মহুয়াকে কটাক্ষ করে জানিয়েছেন যে, “যে হাজার হাজার তরুণ-তরুণী বছরের পর বছর ধরে ন্যায্য সরকারি চাকরির আশায় পড়াশোনা করে, নিয়োগ কেলেঙ্কারিতে তাদের ভবিষ্যৎ ধ্বংস হতে দেখেছে, তারা কি বাঙালি নন? অসংখ্য সাধারণ নাগরিক স্বাস্থ্যসেবা এবং পরিষেবা পেতে লড়াই করে চলেছে এখনও। এমনকি মহুয়া মৈত্রের প্রতিনিধিত্বকারী সংসদীয় এলাকার লোকেরাও প্রায়শই উন্নয়ন এবং চিকিৎসা পরিকাঠামোর অভাবের অভিযোগ করেন। তাহলে তাঁরা কি চাঁদে থাকেন? আসলে বাঙালি অস্মিতা স্লোগানে পশ্চিমবঙ্গে একটি নতুন রাজনৈতিক নাটক শুরু করেছে তৃণমূল।”