Tag: Lok Sabha

  • ৫৩২ থেকে বেড়ে ৮১৬ হবে লোকসভার আসন, মহিলাদের জন্য থাকবে ২৭৩টি! বড় খবর

    ৫৩২ থেকে বেড়ে ৮১৬ হবে লোকসভার আসন, মহিলাদের জন্য থাকবে ২৭৩টি! বড় খবর

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নারী শক্তি বন্দন অধীনিয়ম বা নারী সংরক্ষণের আইন কার্যকর করার ক্ষেত্রে এবার এক মাস্টার প্ল্যান তৈরি করল কেন্দ্র। সমস্ত জল্পনা সত্যি করে এবার লোকসভা কেন্দ্রগুলির আসন (Lok Sabha Seat) সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়ে এই সংরক্ষণ ব্যবস্থা চালু করতে চাইছে নরেন্দ্র মোদী সরকার (Government of India)। এমনকি নারীদের জন্য থাকবে আলাদা সংরক্ষিত আসন। সোমবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের (Amit Shah) নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত একটি সর্বদলীয় বৈঠকে খসড়া প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে বলেই সূত্র মারফৎ খবর।

    এবার আসন সংখ্যার টার্গেট ৮১৬

    উক্ত বৈঠকে জানা গিয়েছে, ২০১১ সালের জনগণনার উপর ভিত্তি করে লোকসভার বর্তমান ৫৩২টি আসন বাড়িয়ে এবার ৮১৬টি করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, আসন সংখ্যা এবার ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে। আর এই বর্ধিত আসন সংখ্যার মধ্যে আনুমানিক এক তৃতীয়াংশ বা ২৭৩টি আসন নারীদের জন্যই সংরক্ষিত থাকবে।

    তবে এক্ষেত্রে বলে রাখি, সাধারণত নতুন জনগণনা এবং তার পরবর্তী সীমানা পুনঃনির্ধারণ প্রক্রিয়ার পরেই নারী সংরক্ষণ ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। তবে ২০২৯ সালের আগে নতুন করে জনগণনা সম্পন্ন হওয়া একেবারে অনিশ্চিত, এমনটাই মত ওয়াকিবহাল মহলের। সেই কারণে সরকার চাইছে ২০১১ সালের ডেটা ব্যবহার করেই এখনই আসন সংখ্যা বাড়াতে। তবে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলির দীর্ঘদিনের ভয় ছিল যে জনসংখ্যা কম থাকার কারণে তাদের আসন কমে যাবে। কিন্তু সরকারের নতুন প্রস্তাবে প্রতিটি রাজ্যের বর্তমান আসনের অনুপাত এবার একই রাখা হবে।

    উত্তরপ্রদেশে বাড়বে আসন

    এদিকে নতুন ফর্মুলা কার্যকর হলে উত্তর ভারতের রাজ্যগুলির আসন সংখ্যা অনেকটাই বাড়বে বলে অনুমান করা হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ বলতে পারি, উত্তরপ্রদেশে লোকসভা আসন ৮০ থেকে বেড়ে এবার ১২০ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে বৈঠকে উপস্থিত এক সাংসদ জানিয়েছেন যে, কোন আসনটি নারীদের জন্য সংরক্ষিত হবে তা লটারি পদ্ধতির মাধ্যমে ঠিক করা হবে। আর প্রতি তিনটি আসনের মধ্যে একটি আসন মহিলাদের জন্য বরাদ্দ থাকতে পারে। কিন্তু হ্যাঁ, এই আসনগুলি স্থায়ীভাবে নাকি রোটেশন ভাবে পরিবর্তিত হবে সে বিষয়ে এখনো পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

    আরও পড়ুন: পাকিস্তানে গুপ্তচরবৃত্তির জন্য গ্রেফতার ভারতীয় বায়ুসেনার এক বেসামরিক কর্মী

    এমনকি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ইতিমধ্যে বিজেডি, এনসিপি বা শারদ পাওয়ার, শিবসেনার মতো বিরোধী দলের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। আর খুব শীঘ্রই কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস সহ অন্যান্য দলের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। মনে করা হচ্ছে, এই ঐতিহাসিক সংশোধনের বিলটি যদি পাস করা হয়, তাহলে সংসদদের বর্তমান অধিবেশনের মেয়াদ বাড়ানো হতে পারে।

  • রেলে প্রবীণদের ভাড়ায় আবারও দেওয়া হতে পারে ৫০% ছাড়! লোকসভায় উঠল দাবি

    রেলে প্রবীণদের ভাড়ায় আবারও দেওয়া হতে পারে ৫০% ছাড়! লোকসভায় উঠল দাবি

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: প্রবীণ নাগরিকদের জন্য আসতে পারে আবারও সুখবর। দূরপাল্লার ট্রেনে (Indian Railways) তাদের জন্য ৫০ শতাংশ ভাড়ার ছাড় আবারো চালু করার দাবি জোরালো হল (Senior Citizen Ticket Discount)। হ্যাঁ, সোমবার লোকসভায় এই দাবি নিয়ে সরব হয়েছেন বিরোধী দলের একাধিক সাংসদ। বিশেষ করে কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদরা এই সুবিধা দ্রুত ফিরিয়ে আনার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আর্জি জানিয়েছেন। তাহলে কি আবারো ছাড় পাবেন প্রবীণ নাগরিকরা?

    কেন বন্ধ হয়েছিল ছাড়?

    জেনে রাখা ভালো, করোনা মহামারীর সময় অর্থাৎ ২০২০ সালের মার্চ মাসে দেশজুড়ে লকডাউন জারি হয়। সেই সময় রেলের একাধিক পরিষেবার সঙ্গে সঙ্গে প্রবীণ নাগরিকদের ছাড়ের সুবিধা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর আগে রাজধানী, শতাব্দীসহ বেশ কিছু দূরপাল্লার ট্রেনে প্রবীণ নাগরিকরা এই ৫০% ছাড় পেতেন। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও এখনো পর্যন্ত সেই সুবিধা চালু হয়নি, যা নিয়ে দিনের পর দিন অসন্তোষ বাড়ছে।

    এ বিষয়ে কংগ্রেসের সাংসদ তারেক আনোয়ার বলেছেন, এই ছাড় বন্ধ থাকার কারণে প্রবীণ নাগরিকদের ভ্রমণের আর্থিক চাপ অনেকটাই বেড়েছে। তিনি কেন্দ্রের কাছে জানতে চান যে, কবে থেকে এই সুবিধা আবারো চালু করা হবে। এমনকি তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ জুন মালিয়া একই সুরে দাবি তুলেছেন। তিনি বলেন যে, প্রবীণ নাগরিকদের স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত দ্রুত কার্যকর করার প্রয়োজন। এছাড়াও জেডিইউ সাংসদ কৌশলেন্দ্র কুমার এই বিষয়টি উত্থাপন করে কেন্দ্রকে পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছেন।

    আরও পড়ুন: আজ পর্যন্ত গড়ায়নি ট্রেনের চাকা, দেশের সেই রাজ্যেই রেলপথ তৈরিতে মিলল বিরাট সাফল্য

    উল্লেখ করার বিষয়, ২০২৩ সালে এক সাংসদীয় স্থায়ী কমিটি প্রবীণ নাগরিকদের এই ছাড় চালু করার সুপারিশ দিয়েছিল। কিন্তু এখনো পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকার সে বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। তবে এই আলোচনার মধ্যে কংগ্রেস সাংসদরা রেল স্টেশন আধুনিকীকরণ প্রকল্প নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের অভিযোগ, প্রতি বছর ১২ হাজার কোটি টাকা করে বরাদ্দ করা হয়। কিন্তু কাজের গতি অত্যন্ত ধীর। আর অনেক প্রকল্প এখনো পর্যন্ত অসম্পূর্ণ। বিশেষ করে গোমতিনগর রেল স্টেশনের কাজে ধীরগতির কথা উল্লেখ করা হয়। আর এত বিপুল পরিমাণ বরাদ্দ করা সত্ত্বেও প্রবীণ নাগরিকদের জন্য এই ছাড় কেন দেওয়া হচ্ছে না তা নিয়ে সরব হয়েছে বিরোধীরা।