Tag: Israel

  • ইরান-ইজরায়েল নয়, যুদ্ধে সবচেয়ে বড় ক্ষতি ভারতের!

    ইরান-ইজরায়েল নয়, যুদ্ধে সবচেয়ে বড় ক্ষতি ভারতের!

    একবার ভাবুন তো, যদি বলি – আমেরিকা, ইজরায়েল আর ইরানের যুদ্ধে সবথেকে বেশি ক্ষতি ভারতের (India) – বিশ্বাস করবেন?

    হয়তো না।

    কিন্তু সম্প্রতি, যুদ্ধের শুরুতেই উঠে এসেছে এমন কিছু তথ্য, যা শুনলে চোখ কপালে উঠবে আপনারও! অবস্থা এমন হয়েছে, যে যুদ্ধ না থামলে ভারতে পেট্রোল/ডিজেলের দাম লিটার পিছু বাড়তে পারে ১৫ থেকে ২০ টাকা করে! যার ফলে মূল্যবৃদ্ধি হতে পারে সব জিনিসের। চাকরি যেতে পারে প্রায় ১ কোটি মানুষের! শুধু তাই নয় মাত্র ১০ দিনে ক্ষতি হয়েছে ৩১ লক্ষ কোটি টাকা!

    কী অবাক হচ্ছেন? হয়তো হচ্ছেন! কিন্তু এই কথা আমরা বলছি না, বলছে রিপোর্ট!

    আমেরিকা, ইজরায়েল আর ইরানের যুদ্ধের যতটা ক্ষতি ওই দেশগুলোর হয়েছে, তার ১০ গুণ বেশি ক্ষতি ভারতের হয়েছে! কিন্তু, কীভাবে এই যুদ্ধ প্রভাব ফেলল ভারতের অর্থনীতিতে? কীভাবেই বা ক্ষতি হয়ে গেল প্রায় ৩১ লক্ষ কোটি টাকা? যদি ভারতের এই অবস্থা হয়, তাহলে আমেরিকা, ইজরায়েল আর ইরানের কতটা ক্ষতি হয়েছে?

    আজ India Hood ডিকোড-এ আমরা তুলে ধরবো এমন কিছু তথ্য, এমন কিছু সত্য যা জানা উচিত প্রতিটি ভারতবাসীর! তাই ধৈর্য ধরে লেখাটি শেষ পর্যন্ত পড়ুন।

    দিনটা ২৮শে ফেব্রুয়ারি। হঠাৎ করেই ইরানের ওপর আক্রমণ করে বসে আমেরিকা ও ইজরায়েল। খতম করে দেওয়া হয় ইরানের সর্বোচ্চ লিডার খামেইনিকে। আর তারপরেই শুর হয় আক্রমণ ও প্রতি-আক্রমণ। এমনকি এই সংঘর্ষের আঁচ ছড়িয়ে পড়ে কুয়েত, সৌদি আরব থেকে বাহারিনে।

    আর যুদ্ধ হলে এক নয়, একাধিক ক্ষতি যে হবেই সে কথাও কারোর অজানা নয়। কিন্তু, এই যুদ্ধে কেবল জড়িত দেশ আমেরিকা, ইজরায়েল, এবং ইরানের হয়েছে – তা কিন্তু নয়। এই যুদ্ধে ক্ষতি হয়েছে বিশ্বের একাধিক দেশের। আর এই যুদ্ধে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ভারতের। এবার আমরা আপনাদের সামনে এক এক করে তুলে ধরবো – কোন দেশের ঠিক কতটা ক্ষতি হয়েছে!

    আমেরিকা (America)

    প্রথমেই আসি আমেরিকায়। সারা বিশ্বের মধ্যে মার্কিন সেনাশক্তি যে ১ নম্বরে, সেটা কারও অজানা নয়। আমেরিকার সেনা খাতের বাজেট প্রায় ৯১ লক্ষ কোটি টাকা, যে টাকায় পাকিস্তানের মতো তিনটি দেশ কিনে ফেলা যায়।

    জানলে অবাক হবেন, ইরানের বিরুদ্ধে অপারেশন এপিক ফিউরি চালাতে আমেরিকা একদিনে খরচ করেছে প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা

    এর মধ্যে হামলায় খরচ ৭,২০০ কোটি,

    আর প্রস্তুতিতে ৫,৮০০ কোটি টাকা

    কিন্তু যুদ্ধ এখনও চলছে। রিপোর্ট বলছে, যুদ্ধের দ্বিতীয় দিন থেকে পরবর্তী ১০০ ঘণ্টায় আমেরিকা খরচ করেছে দৈনিক প্রায় হাজার কোটি টাকায়। আর এই খরচ ধীরে ধীরে পৌঁছাতে পারে ৮,৩০০ কোটি টাকায়

    পেন্টাগনের রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানের প্রথম সপ্তাহে খরচ হয়েছে প্রায় ৫৫,২০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৩৬,৮০০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে ইরানের হামলা প্রতিহত করতে।

    এই যুদ্ধে এখনও পর্যন্ত আমেরিকার জন সেনা নিহত হয়েছেন।

    কিন্তু এত খরচ হচ্ছে কেন?

    কারণ একটাই—সামরিক সরঞ্জাম। যেমন ধরুন, ইরানের বিরুদ্ধে এয়ারস্ট্রাইকে আমেরিকা ব্যবহার করছে B-2, B-52, B-1B, F-35-এর মতো আধুনিক ও ব্যয়বহুল বিমান। ব্যবহার করা হচ্ছে MQ-9 রিপারলুকাস ড্রোন, রকেট আর্টিলারি, হিমারস, এবং টমাহক ক্রুজ মিসাইল। একটি টমাহক মিসাইলের দামই প্রায় ১৮.কোটি টাকা

    ব্যবহার করা হয়েছে দুটি রণতরী—USS Gerald R Ford এবং USS Abraham Lincoln। একটি Aircraft Carrier Strike Group পরিচালনায় প্রতিদিন খরচ হয় প্রায় ৮৩ কোটি টাকা। এছাড়া আমেরিকা এখনও পর্যন্ত প্রায় ৭,৩৬০ কোটি টাকা মূল্যের ৪০০টি মিসাইল লঞ্চ করেছে।

    তবে আমেরিকা শুধু আক্রমণই করেনি, নিজেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    কাতারের আল-উদেইদ বেসে ইরানের বড় হামলায় ধ্বংস হয়েছে একটি সতর্কতা রাডার, যার দাম প্রায় ১০,১১৮ কোটি টাকা

    এছাড়া UAE-তে থাকা একটি THAAD-2 রাডার ধ্বংস হয়েছে, ক্ষতি প্রায় ৪,৬০০ কোটি টাকা

    কুয়েতে ইরান ধ্বংস করেছে আমেরিকার তিনটি F-15 স্ট্রাইক ইগল জেট, যার মূল্য প্রায় ২,৭৬০ কোটি টাকা

    এরপর বাহরেনে থাকা একটি প্রধান মার্কিন স্যাটেলাইট যোগাযোগ টার্মিনাল এবং একাধিক মার্কিন এয়ারবেসও ধ্বংস করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মোট প্রায় ১৮,৪০০ কোটি টাকার মার্কিন সামগ্রী নষ্ট হয়েছে।

    এই যুদ্ধে ইরান কিন্তু আমেরিকার বেশি ক্ষতি করাচ্ছে। কি বিশ্বাস হচ্ছে না? উদাহরণ দিলেই বুঝবেন। ইরানের একটি মিসাইলের দাম প্রায় ১৮.কোটি টাকা, কিন্তু সেটি আটকাতে আমেরিকাকে তিনটি প্যাট্রিয়ট এয়ার ডিফেন্স মিসাইল ছুঁড়তে হয়েছে, যার মোট খরচ প্রায় ১১০ কোটি টাকা। অর্থাৎ, একটি ইরানি মিসাইল আটকাতে আমেরিকার খরচ প্রায় গুণ বেশি

    এছাড়া ইরান হামলায় ব্যবহার করছে শাহিদ ড্রোন, যার দাম মাত্র ৩২ লক্ষ টাকা। আর সেগুলো ঠেকাতে ব্যবহার হচ্ছে হয় ১১৭ কোটি টাকার THAAD মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা ৩২ কোটি টাকার প্যাট্রিয়ট মিসাইল। অর্থাৎ, অনেক ক্ষেত্রেই আমেরিকার খরচ হচ্ছে ১০০ থেকে ৩৬০ গুণ বেশি

    বিশ্লেষকদের অনুমান, যদি সপ্তাহ যুদ্ধ চলে, তাহলে আমেরিকার ক্ষতি হতে পারে প্রায় ৯২,০০০ কোটি থেকে লক্ষ ১০ হাজার কোটি টাকা। আর যদি মাস চলে, যেমনটা মার্কিন রাষ্ট্রপতি বলেছেন, তাহলে এই খরচ দাঁড়াতে পারে প্রায় সাড়ে লক্ষ কোটি টাকায়

    শুধু তাই নয়, যুদ্ধের প্রভাবে আমেরিকার শেয়ার মার্কেটেও বড় ধস নেমেছে, যেখানে ইতিমধ্যেই গায়েব হয়েছে প্রায় ৮৩ লক্ষ কোটি টাকা

    ইজরায়েল (Israel)

    এবার আসি ইজরায়েলে। ইজরায়েল সারা বিশ্বের মধ্যে সেনা শক্তির দিক থেকে এক নম্বরে না থাকলেও, যথেষ্ট ভালো স্থানে রয়েছে। তাদের সামরিক বাজেট প্রায় ৪ লক্ষ ৩২ হাজার কোটি টাকা, যা পাকিস্তানের চার গুণ। আপনি যদি ইজরায়েলের সেনা শক্তি সম্পর্কে জানতে চান, তাহলে ক্লিক করুন আই বাটনে আর দেখে নিন আমাদের ইজরায়েল স্পেশাল ডিকোড ভিডিওটি।

    ২৮শে ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে রোরিং লায়ন” নামের যে অভিযান শুরু করেছিল ইজরায়েল, সেই অভিযানের সাপ্তাহিক খরচ পৌঁছেছে প্রায় ২৭,৫০০ কোটি টাকায়। বর্তমানে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চালাতে প্রতিদিন প্রায় ৬,৬৫২ কোটি টাকা সামরিক খরচ করছে ইজরায়েল। অর্থাৎ এখনও পর্যন্ত প্রায় ৬০,০০০ কোটি টাকা খরচ হয়ে গেছে। এই যুদ্ধে এখনও পর্যন্ত ১১ থেকে ১৩ জন ইজরায়েলি নাগরিক সেনার মৃত্যু হয়েছে

    তবে ইরানও পাল্টা আক্রমণ করছে ইজরায়েলে, মূলত রাজধানী তেল আভিভে। হামলায় প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরানের ঝাঁকে ঝাঁকে মিসাইল প্রতিহত করতে ইজরায়েলের কাছে রয়েছে উন্নত মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যার এক একটি ব্যবস্থার দাম কয়েক হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত।

    এর মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত আয়রন ডোম, যা রাডারের মাধ্যমে রকেট শনাক্ত করে আকাশেই ধ্বংস করে দেয়। প্রতিটি ইন্টারসেপশনে খরচ হয় প্রায় ৪৫ লক্ষ টাকা। এছাড়া রয়েছে অ্যারো-থ্রি হাইপারসনিক ইন্টারসেপ্টর এবং ডেভিড’স্লিং ইন্টারসেপ্টর। পাশাপাশি ব্যবহার করা হচ্ছে আয়রন বিম লেজার সিস্টেম, যা প্রায় ১০ কিমি দূরের মিসাইল ধ্বংস করতে পারে

    যুদ্ধের কারণে ইজরায়েল ব্যাপকভাবে রিজার্ভ সেনাদেরও ডেকে নিয়েছে। প্রায় থেকে লক্ষ রিজার্ভ সেনা সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছেন। ফলে অনেক শিল্পকারখানা, প্রযুক্তি কোম্পানি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কর্মী সংকটে পড়েছে।

    এছাড়া যুদ্ধের ফলে দেশের অনেক জায়গায় ব্যবসা, স্কুল বিমান চলাচল বন্ধ রয়েছে। উৎপাদন কমছে, পর্যটন বন্ধ হয়ে গেছে, আর বহু মানুষ বাঙ্কারে আশ্রয় নেওয়ায় শ্রমিক সংকট তৈরি হয়েছে। দেশের অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, মাত্র এক সপ্তাহেই প্রায় ২৭,৫০০ কোটি টাকার অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে।

    বিভিন্ন শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে আবাসিক ভবন, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা শিল্প অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এগুলো পুনর্গঠনের জন্য সরকারকে আরও কয়েক লক্ষ কোটি টাকা খরচ করতে হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, যদি যুদ্ধ দীর্ঘ সময় ধরে চলে, তাহলে ইজরায়েলের মোট অর্থনৈতিক ক্ষতি সাড়ে লক্ষ কোটি টাকারও বেশি হতে পারে।

    এছাড়া যুদ্ধের প্রভাবে ইজরায়েলের শেয়ার মার্কেট থেকেও প্রায় লক্ষ ২০ হাজার কোটি থেকে আড়াই লক্ষ কোটি টাকা উধাও হয়ে গেছে

    ইরান (Iran)

    এবার আসি ইরানে। হয়তো অনেকেরই মনে হচ্ছে এই যুদ্ধে এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছে ইরানেরই। কিন্তু বিভিন্ন রিপোর্ট বলছে ভিন্ন কথা। হ্যাঁ, এটা ঠিক যে তারা তাদের সুপ্রিম লিডার আলি খামেনিকে হারিয়েছে, কিন্তু আর্থিক দিক থেকে তাদের ক্ষতির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম।

    যুদ্ধ শুরুর আগেই ইরানের অর্থনীতি বেশ চাপের মধ্যে ছিল। একদিকে দাম বৃদ্ধি, অন্যদিকে আমেরিকার কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা। এর ওপর যুদ্ধের ফলে খাদ্য, জ্বালানি ও প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে, ফলে মুদ্রাস্ফীতিও বাড়বে

    তবে রিপোর্ট বলছে, ইরানের সামরিক বাজেট প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা, যা ইজরায়েলের প্রায় অর্ধেক। তবুও তারা এই যুদ্ধে আমেরিকা ও ইজরায়েলকে সমান তালে টেক্কা দিচ্ছে। এর পেছনে রয়েছে কয়েকটি কারণ—হেজবোল্লা, হামাস ও হুথিদের মতো প্রক্সি গ্রুপের সমর্থন, এবং রাশিয়া ও চীনের কাছ থেকে তুলনামূলক সস্তায় অস্ত্র সংগ্রহ

    যেমন ধরুন, ইরান এই যুদ্ধে ব্যবহার করছে বহুল পরিচিত Shahed-136 ড্রোন, যাকে আকাশপথের AK-47 বলা হয়। এর দাম মাত্র ৩২ লক্ষ টাকা। রয়েছে Fateh-110 ব্যালিস্টিক মিসাইল, যার দাম প্রায় ৪.৫ কোটি টাকা, রয়েছে Sejjil ব্যালিস্টিক মিসাইল, যার দাম প্রায় ১০ কোটি টাকা।

    বিশ্লেষকদের মতে, কয়েকটি বড় হামলায় তারা প্রায় ৬০০টি ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ১,০০০-এর বেশি ড্রোন ব্যবহার করেছে।

    ইরানের আধুনিক যুদ্ধ জাহাজ IRIS Dena ডুবে যাওয়ার ফলে ইরানের ক্ষতি শুধু জাহাজের দামে সীমাবদ্ধ নয়। এই জাহাজে ছিল: ঘাদের এবং নুর অ্যান্টি-শিপ মিসাইল, সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল, টর্পেডো লঞ্চার, র‍্যাডার ও সেন্সর সিস্টেম, হেলিকপ্টার অপারেশন ডেক, প্রশিক্ষিত ১৪০ জন ক্রু। সব মিলিয়ে এর বাস্তবে সামরিক মূল্য প্রায় ২৭৫৫ কোটি টাকা।

    এছাড়া আমেরিকার দাবি অনুযায়ী, তারা ইরানের ৩০টিরও বেশি জাহাজ ডুবিয়েছে

    আমেরিকা ও ইজরায়েলের হামলায় ইরানে এখনও পর্যন্ত প্রায় ১,৩০০ জন সাধারণ মানুষ সৈন্য নিহত হয়েছেন এবং ১৫৩টি শহর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে

    তবে ইরানের জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা তাদের তেল রপ্তানি নির্ভর অর্থনীতি। যুদ্ধের আগে ইরান প্রতিদিন প্রায় ১৭ লক্ষ ব্যারেল তেল উৎপাদন করত। তখন তেলের দাম ছিল প্রায় ৮০ ডলার প্রতি ব্যারেল, অর্থাৎ দৈনিক আয় প্রায় ১,২৪০ কোটি টাকা

    কিন্তু যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর অনেক তেলবাহী জাহাজ রুট পরিবর্তন করেছে, বীমা খরচ বেড়েছে, কিছু বন্দরে রপ্তানি কমেছে এবং কিছু তেল উত্তোলন কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে এখন দৈনিক উৎপাদন কমে প্রায় লক্ষ ব্যারেলে নেমে এসেছে। অর্থাৎ দৈনিক আয় কমে হয়েছে প্রায় ৭৩ কোটি টাকা। শুধু গত ১০ দিনেই তেল থেকে প্রায় ১১,৬০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

    সব মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৩৬,০০০ কোটি টাকাঅর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে ইরানের

    এছাড়া যুদ্ধের ফলে তেল শোধনাগার, গ্যাস প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র, সামরিক ঘাঁটি, ড্রোন উৎপাদন কেন্দ্র বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এগুলো মেরামত ও পুনর্গঠনে বিশ্লেষকদের মতে প্রায় ৪৫,৯০০ কোটি টাকা লাগতে পারে।

    অন্যদিকে, এই যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে ইরানের শেয়ার বাজারেও, যেখানে প্রায় লক্ষ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে

    এবার আপনাদের জানাবো ভারতের কথা। যারা যুদ্ধে অংশ নেয়নি, তা সত্ত্বেও বড়সড় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।

    ভারত (India)

    গত ১০ দিনে ভারতের শেয়ার মার্কেট থেকে গায়েব হয়ে গিয়েছে প্রায় ৩১ লক্ষ কোটি টাকা। যার ফলে মাথায় হাত পড়েছে ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের। আর শুধু ভারতেই নয়, এই যুদ্ধের আঁচে গা পুড়ছে অধিকাংশ দেশেরই।

    শুধুমাত্র, তেলের জন্যই অতিরিক্ত খরচ বাড়তে পারে দৈনিক ৪ লক্ষ ৯৬ হাজার কোটি টাকা! যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে, যেখান থেকে ভারত প্রতিদিন আড়াই থেকে ২.৭ মিলিয়ন ব্যারেল তেল আনে। ইরানের IRGC বলেছে, বর্তমানে এক ব্যারেল তেলের দাম সারা বিশ্বে ৮১ ডলার। কিন্তু তারা সেটাকে ২০০ ডলারে নিয়ে যেতে চাইছে। তাদের মতো মূল্যবৃদ্ধি সব দেশে হোক তারা সেটার চাইছে। আর এর প্রভাব ইতিমধ্যেই দেখা গিয়েছে অনেক দেশে। কারণ যুদ্ধের কারণে তেলের দাম ইতিমধ্যেই ব্যারেল প্রতি ১১৪ ডলারে পৌঁছেছে। ফলে পরিবহন খরচ, শিল্প উৎপাদন, বিমান পরিবহন, বিদ্যুৎ উৎপাদন – সব ক্ষেত্রেই ব্যয় বাড়বে।তেলের দাম প্রতি ১ ডলার বাড়লে ভারতের অতিরিক্ত খরচ হয় প্রায় ১৬,০০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ ৩১ ডলার বেড়ে যাওয়া মানে এই অতিরিক্ত খরচের পরিমাণ কতটা বেড়ে যেতে পারে আশা করছি সেটা বুঝতেই পারছেন! আর তেলের দাম বাড়লে গাড়ি ভাড়া বাড়বে, ফলে বাড়বে জিনিসপত্রের দাম।

    যদিও, আপাতত রাশিয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকা ভারতকে তেল পাঠাচ্ছে এবং ভারতের কাছে যথেষ্ট তেল মজুদ রয়েছে তাই এখনই এই দুর্দিন আসছে না।

    ভারতের অন্যান্য শক্তিও ক্ষতির সম্মুখীন! এছাড়া, ভারতের ৬০ শতাংশ জ্বালানি শক্তি আসে ইরাক, সৌদি আরব, কুয়েত, UAE থেকে, আর এর মধ্যে সবগুলোতেই আক্রমণ করেছে ইরান। ফলত, ২০২৬ সালের ৭ মার্চ থেকে ভারতে ১৪.২ কেজি LPG সিলিন্ডারের দাম ৬০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। এবং একই সঙ্গে ১৯ কেজি কমার্শিয়াল সিলিন্ডারের দাম ১১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। যার আঁচ পড়েছে সরাসরি সাধারণ মানুষের পকেটের ওপর।

    ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে রপ্তানিও! এছাড়া, ভারত অনেক পণ্য বিদেশে রপ্তানি করে যেগুলি বন্ধ হলে, ভারত আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ভারত ২০২৫ সালে ২৩ বিলিয়ন ডলারের আইফোন UAE -তে রপ্তানি করেছিল। এছাড়াও, ভারত সাড়ে চার বিলিয়ন ডলারের বৈদ্যুতিক এবং প্রযুক্তিগত পণ্য মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলিতে রপ্তানি করে, এবার সেটাও হরমুজের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সংক্ষেপে, ভারতের ১৭% রপ্তানি যায় ওই অঞ্চলে, প্রায় ১ কোটি ভারতীয় সেখানে কাজ করে। যদি যুদ্ধ দীর্ঘ হয় তাহলে ভারতের রেমিট্যান্স কমতে পারে, ভারতীয় কোম্পানির ব্যবসা কমতে পারে।

    তো এবার কী এই যুদ্ধ আমার আপনার পকেটে টান ফেলবে? জানাতে ভুলবেন না আপনাদের মতামত কমেন্ট করে।

  • India Hood Decode: কেন ৫৭টি মুসলিম দেশ ভয় পায় ইজরায়েলকে? কেনই বা তাদের হারানো অসম্ভব?

    India Hood Decode: কেন ৫৭টি মুসলিম দেশ ভয় পায় ইজরায়েলকে? কেনই বা তাদের হারানো অসম্ভব?

    দিনটা ২০২৬-এর ২৮শে ফেব্রুয়ারি। সকাল ঠিক ৬টা বেজে ৪৫ মিনিট। ইজরায়েল (Israel) থেকে টেকঅফ করে একটি ফাইটার জেট। এই জেটে ছিল এমন কিছু মিসাইল, যা ১০০০ কিমি দূরে থাকা টার্গেটকেও খতম করতে পারে নিমেষে।

    এরপর, এয়ারস্পেসের নজরদারি এড়িয়ে ইরানের গা ঘেঁষে বেশ কিছুক্ষণ উড়তে থাকে ওই ফাইটার জেট। তারপর ঠিক ৯টা ৫০ বাজতেই, হামলা চালায় ইরানের পাস্তার স্ট্রিটের এক বিল্ডিংয়ে। একটি নয়, দুটি নয়, লঞ্চ করা হয় একসাথে ৩০টি মিসাইল। আর সেখানে তখন মিটিংয়ে ব্যস্ত ছিলেন ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়েতুল্লাহ খামেইনি সহ ইরানের বেশ কিছু তাবড় তাবড় নেতা। আর হামলার মুহূর্তের মধ্যেই খতম হয়ে যায় প্রায় প্রত্যেকে।

    তবে, আয়েতুল্লাহ খামেইনি কিন্তু ছোটখাটো কোনও নেতা ছিলেন না। তিনি ছিলেন ইরানের সর্বাধিনায়ক, সবথেকে সুরক্ষিত একজন ব্যাক্তি। এমনকি ইরানে যখনই কোনও বড় কিছু হত, খামেইনি মুহূর্তের মধ্যে গায়েব হয়ে যেত। অধিকাংশ সময়েই তিনি বিভিন্ন শেফ হাউস কিংবা বাঙ্কারে গা ঢাকা দিয়ে থাকতেন।

    তাহলে এত কিছুর পরেও তাঁকে কীভাবে খুঁজে পেল ইজরায়েল? কীভাবে ইরানের ডিফেন্সকে বোকা বানিয়ে চালানো হল এই নিখুঁত হামলা?

    জানলে অবাক হবেন, ভারতের স্বাধীনতার পর তৈরি হওয়া এই দেশের জনসংখ্যা এক কোটিরও কম, অথচ ক্ষমতার দিক দিয়ে কাবু করতে পারে বিশ্বের তাবড় তাবড় দেশগুলিকে।

    চারিদিকে শত্রু দিয়ে ঘেরা থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যে একাই রাজত্ব করে এই দেশ!

    না আছে তেল, না আছে কয়লা, না আছে চাষের জন্য কোনও উর্বর জমি – অথচ আর্থিক ও সামরিক – সব দিক দিয়েই উন্নত এই দেশ।

    এমনকি তাদের ডিফেন্স সিস্টেমকে ভয় পায়, সারা বিশ্বের ২০০ কোটি জনসংখ্যার ৫৭টি মুসলিম দেশ। জানলে অবাক হবেন, স্বয়ং আমেরিকাও ভয় পায় ইজরায়েলকে!

    কিন্তু ভাবুন তো, সম্পূর্ণ মরুভুমিতে ঢাকা এই দেশ, যেখানে কোনও প্রাকৃতিক সম্পদ নেই – সেখানে এত টাকা এল কোথা থেকে? মাত্র ৯৪ লক্ষের দেশ আর্থিকভাবে এতটা শক্তিশালী কীভাবে?

    গুগল হোক বা ফেসবুক – এগুলিকে আমেরিকান কোম্পানি মনে হলেও, এগুলির পেছনে রয়েছেন ইজরায়েলি নাগরিক। প্রযুক্তিগতভাবে এই দেশ এতটাই উন্নত যে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত আপনি তাদের ওপরেই নির্ভরশীল!

    শুধু তাই নয়, সামরিক দিক দিয়ে এই দেশ এতটাই অ্যাডভান্স, যে এই দেশ থেকেই ফাইটার জেট থেকে শুরু করে মিসাইল কেনে ইউরোপ, আমেরিকা, ভারত সহ মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশ! আর এই দেশের গোয়েন্দা সংস্থা সবার ধরা ছোঁয়ার বাইরে, তাদের এক একটা মিশন সম্পর্কে জানলে মাথা ঘুরে যাবে আপনার! তারা ছড়িয়ে রয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে!

    আজ India Hood ডিকোড-এ আমরা তুলে ধরবো এমন কিছু তথ্য, যা পাল্টে দেবে ইজরায়েল সম্পর্কে আপনার সমস্ত ধারণা। তাই ধৈর্য ধরে লেখাটি শেষ পর্যন্ত দেখুন।

    টার্গেট খামেইনি!

    ইরান ও ইজরায়েলের এই দ্বন্দের সূত্রপাত কিন্তু আজকের নয়। এই দ্বন্দের সূত্রপাত হয় ইজরায়েলের জন্মের সময় থেকেই। আর এর পেছনের মূল কারণ ইজরায়েলের বাসিন্দা জিউশ অর্থাৎ ইহুদীরা। কারণ ইহুদীদের বেশ কিছু কারণে পছন্দ করতেন না মুসলিমরা। তাই ইহুদীদের রাষ্ট্র ইজরায়েলকে কখনোই মন থেকে মেনে নিতে পারেনি ইরান।

    তবে, কেবল এই একটি নয়, সময়ের সাথে সাথে এই দ্বন্দের আগুনে ঘিয়ের কাজ করেছে আরও একাধিক কারণ। যার মধ্যে অন্যতম হল – পরমাণু শক্তি।

    আপনি যদি ইরান আর ইজরায়েলের শত্রুতার ইতিহাস সম্পর্কে সবিস্তারে জানতে চান, তাহলে এই নিয়ে আমাদের একটি বিস্তারিত ভিডিও রয়েছে। আপনি আই বাটনে ক্লিক করে দেখে নিতে পারেন ইরান-ইজরায়েল ডিকোড ভিডিওটি!

    তবে দ্বন্দের কারণ যাই হোক না কেন, ইরানের সুপ্রিম লিডারকে মারাটা মোটেও সহজ ছিল না।

    কিন্তু এই অসম্ভবকে সম্ভব করার জন্য ইজরায়েলকে করতে হয়েছে বছরের পর বছর ধরে অপেক্ষা।

    জানলে অবাক হবেন, ইরানের রাজধানী তেহরানের ট্র্যাফিক ক্যামেরা গত ১০ বছর ধরে হ্যাক করে রেখেছিল ইজরায়েল। যা থেকে ইরানের রাস্তার প্রতিটি কোণায় নজরদারি চালিয়েছিল তারা। নজর রাখা হয়েছিল বিভিন্ন নেতৃত্বদের ওপরেও। এমনকি ইরানের নেতৃত্বের মধ্যেও এমন একজন ছিলেন যিনি এই সব তথ্যের নিশ্চয়তা দিয়েছিলেন ইজরায়েলকে।

    ফলত কোন নেতা কার সাথে আসছে, কোন নেতার ডেলি রুটিন কি? কে কতগুলো গাড়ি নিয়ে আসে? কে কোথা দিয়ে কখন যায়? সব তথ্যই মজুদ ছিল ইজরায়েলের গোয়েন্দা বিভাগের কাছে। পাশাপাশি ছিল কলিং ডেটা থেকে শুরু করে কথোপকথনের ইতিহাস এমনকি লোকেশন সহ সবকিছুই।

    আর এই সমস্ত তথ্য বিশ্লেষণ করার জন্য ইজরায়েল তৈরি করেছিল এমন একটি অ্যালগরিদম, যা সবকিছু বিশ্লেষণ করতো এবং নিয়মের বাইরে কিছু হলেই সেগুলোকে পয়েন্ট আউট করতো। সেই সবকিছু থেকেই জানা যায়, ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ইরানের পাস্তার স্ট্রিটের কাছেই ওই বিল্ডিংয়ে ইরানের বেশিরভাগ নেতৃত্বরা একসাথে থাকবে। থাকবেন খামেইনি-ও। এই একই তথ্যের নিশ্চয়তা দিয়েছিল আমেরিকার গোয়েন্দা বিভাগ CIA-ও।

    আর তারপরেই, ঠিক সময়ে, নিখুঁতভাবে হামলা চালায় ইজরায়েলি এয়ারফোর্স। আর বাকিটা তো আপনাদের জানাই।

    অর্থাৎ, একদিকে প্রযুক্তিগত উন্নতি আর অন্যদিকে নিজেদের গোয়েন্দা বিভাগের সক্রিয়তা – এই দুইয়ে মিলেই এই মিশনকে সফল করেছে ইজরায়েল।

    কিন্তু, একদিনে কি এতটা শক্তিশালী, এতটা উন্নত হয়েছে ইজরায়েল?

    একদমই না। ১৯৪৮ সালের আগে ইজরায়েল নামের কোনও দেশই ছিল না। ১৯৩০ সালে হিটলার যখন ইহুদীদের বিভিন্নভাবে অত্যাচার এবং মারধর করছিল, তখন এই ইহুদিরা নিজেদের সুরক্ষার্থে ইউরোপ ছেড়ে পালাতে থাকে। এবং তারা প্যালেস্টাইনকে নিজেদের পূর্বপুরুষদের ভূমি হিসেবে মনে করতো তাই সেখানে অনুপ্রবেশ করা শুরু করে। কিন্তু, সেখানের আরব লোকেরা ইহুদীদের আগমনকে মেনে নেয়নি। ফলে তারাও ইহুদীদের ওপর শুরু করে অত্যাচার। আর ওই সময়ে ব্রিটিশরাও ইহুদীদের বিরুদ্ধে নানা রকম পদক্ষেপ নেয়, ফলত শুরু হয় এক বিশাল বড় দাঙ্গা।

    এরপর ১৯৪৭ সালে এই বিষয়টি জাতিসংঘে গিয়ে পৌঁছায়। আর ওই বছরের নভেম্বর মাসে প্যালেস্টাইন ভাগের প্রস্তাব পাশ হয়। পুরো ভুখন্ডকে হাফ হাফ করে ইজরায়েল আর প্যালেস্টাইন বানানো হয়।

    ১৯৪৮ সালের ১৪ই মে, ডেভিড বেন গুরিয়েন ইজরায়েলের প্রতিষ্ঠা করে। পশ্চিম এশিয়ার এই দেশ ভুমধ্যসাগরের সাথে অবস্থিত, যার উত্তরে রয়েছে লেবানন, পূর্বে জর্ডান, দক্ষিণে ইজিপ্ট সহ আরও একাধিক আরব দেশ।

    ইজরায়েলের দক্ষিণ পশ্চিমে রয়েছে গাজা আর পূর্বে রয়েছে ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক, যা নিয়ে প্যালেস্টাইন গঠিত। কিন্তু, ইজরায়েল দেশের মর্যাদা পেয়ে গেলেও, প্যালেস্টাইন এখনও দেশের মর্যাদা পায়নি।

    যদিও স্বাধীনতার পর থেকেই, ১৯৪৮, ১৯৬৭ আর ১৯৭৩ সালে আরব দেশ আর ইজরায়েলের মধ্যে বড় বড় তিনটি যুদ্ধ হয়। সবেতেই ইজরায়েল জয়লাভ করে। ১৯৭৩ সালের যুদ্ধের পর অধিকাংশ আরব দেশ ইজরায়েলের সাথে সমঝোতা করে নিলেও, প্যালেস্টাইন ও ইরানের মতন অন্যান্য চরমপন্থীরা এই শত্রুতা রেখে দেয়।

    তবে, এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমেরিকা প্রথম থেকেই ইজরায়েল এবং ইহুদীদের সমর্থন করে এসেছে। আর সেই সমর্থন এক সময়ে নিয়ন্ত্রণে পরিনত হয়েছে। না এটা ভাববেন না, আমেরিকা ইজরায়েলকে নিয়ন্ত্রণ করে, বরং ইজরায়েল আমেরিকাকে নিয়ন্ত্রণ করে।

    হ্যাঁ ঠিকই শুনেছেন।

    আর এর কারণ, ইজরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা, শিক্ষা, জীবনযাত্রার মান, প্রযুক্তিগত উন্নতি, আবিষ্কার, প্রতিরক্ষা আর জাতীয়তাবাদী মনোভাব। ইজরায়েলের রয়েছে একাধিক উন্নতমানের গোয়েন্দা সংস্থা, যেমন – মোসাদ, শীন বেত, আমান।

    আর এই খামেইনিকে মারা হোক কিংবা ইজরায়েলের প্রতিরক্ষা, কিংবা শত্রুকে বের করে খতম করা সব ক্ষেত্রেই রয়েছে মোসাদের ভূমিকা। এদেরকে সারা বিশ্বের মধ্যে সেরা গোয়েন্দা সংস্থা হিসাবে মনে করা হয়। এদের থেকে মাঝে মাঝে ট্রেনিং নিতে যায় স্বয়ং আমেরিকার গোয়েন্দা বিভাগ CIA।

    এখন যদি আপনি মোসাদ এবং মোসাদের বিভিন্ন মিশন সম্পর্কে একটি বিস্তারিত ভিডিও চান, তাহলে কমেন্টে লিখুন MOSSAD। যদি ৫০০ জন কমেন্টে MOSSAD লেখেন। তাহলে আমরা আপনাদের জন্য এই বিষয়ে একটি বিস্তারিত ডিকোড ভিডিও করবো।

    এবার জানবো, ঠিক কী কী কারণে এতটা উন্নত হল ইজরায়েল?

    প্রথম কারণ – নেতৃত্ব

    ইজরায়েলের এত উন্নতি, এত প্রভাব-প্রতিপত্তি, এত অর্থ – এই সবের পেছনে রয়েছে ইজরায়েলের নেতৃত্ব।

    ১৯৮৪ সাল নাগাদ, এই দেশের মূল্যবৃদ্ধি যেখানে বেড়ে গিয়েছিল ৪৪৫ শতাংশে, এক বছর পরে অর্থাৎ ১৯৮৫ সালে সরকারের বেশ কিছু নীতির ফলে সেই মূল্যবৃদ্ধি নেমে আসে মাত্র ২০ শতাংশে। অর্থাৎ সুদক্ষ নেতৃত্ব দিয়েই এই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পেরেছিল ইজরায়েল।

    দ্বিতীয় কারণ – প্রতিটি নাগরিকই সেনা

    দেশের প্রতিটি নাগরিকের মধ্যে জাতীয়তাবাদী ও দেশপ্রেম জাগানোর জন্য ইজরায়েলে রয়েছে একটি বিশেষ নিয়ম। সেখানে ১৮ বছরের পর প্রতিটি নাগরিকের মিলিটারি প্রশিক্ষণ নেওয়া বাধ্যতামূলক। অর্থাৎ ভাবুন, দেশের সব নাগরিকই সেনা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। বর্তমানে ইহুদিরা বিশ্বের যে প্রান্তেই থাকুক, তাদের শিকড়, তাদের আনুগত্যতা রয়েছে শুধুমাত্র নিজেদের লোকেদের জন্য।

    তৃতীয় কারণ – আত্মনির্ভর ইজরায়েল

    শুরুর দিকে ইজরায়েল সামরিকভাবে নির্ভরশীল ছিল ফ্রান্স এবং আমেরিকার ওপর। কিন্তু, তারা খুব শীঘ্রই বুঝে যায় তাদের নিজেদের সক্ষমতা দরকার। তাই সময়ের সাথে সাথে ইজরায়েল নিজেকে উন্নত করেছে। নিজেদের অস্ত্রশস্ত্রকেও আধুনিক করেছে। ইজরায়েল আজ বিশ্বের সবচেয়ে বড় অস্ত্র উৎপাদনকারী দেশ।

    চতুর্থ কারণ – টাকার সৎ ব্যবহার

    সরকারের কাছে যে টাকা বাঁচতো, সেই টাকায় দুর্নীতি নয়, বরং দেশের কল্যাণে, যেমন বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, গবেষণায় ব্যবহার করা হত। জানলে আরও অবাক হবেন, বিশ্বের প্রধান ৫০০টি টেক-জায়েন্টের মধ্যে ৮০টির গবেষণাকেন্দ্র রয়েছে ইজরায়েলে। ইজরায়েলকে বলা হয় উদ্যোক্তাদের রাজধানী।

    পঞ্চম কারণ – উন্নত প্রযুক্তি

    ইজরায়েল মরুপ্রধান দেশ হলেও এরা প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে ধুধু বালু প্রান্তরকে উর্বর ভূমিতে রুপান্তর করেছে। এরা শুধু নিজের দেশের জন্য তাজা ফল ও সবজি উৎপাদন করেছে তা নয়, এরা সেই ফসল রপ্তানিও করছে। বিশ্বের মধ্যে জনপ্রিয় ড্রিপ সেচ পদ্ধতি এই ইজরায়েলই শুরু করেছে।

    ষষ্ঠ কারণ – ব্যবসা

    তারা শুধু উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে তাই নয়। তারা জানে প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে কীভাবে টাকা কামানো যায়। তাই তারা ভারত, আমেরিকার মতো বড় বড় দেশকে নিজেদের বন্ধুর তালিকায় রেখেছে। একদিকে তারা বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করে উৎপাদিত শস্য আবার অন্যদিকে রপ্তানি করে উন্নত সেরা সরঞ্জাম।

    জানলে অবাক হবেন, ইজরায়েল, আমেরিকা আর ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের দেশগুলিকে ১০ শতাংশ সেনা সরঞ্জাম দেয়। আধুনিক যুদ্ধের মূল হাতিয়ার ড্রোন, আর সারা বিশ্বের ড্রোনের ৬০ শতাংশ ইজরায়েলে তৈরি হয়।

    সপ্তম ও আসল কারণ – অস্তিত্বের লড়াই

    এতক্ষণ ধরে যেগুলি বললাম, সেগুলি ইজরায়েলের উন্নতির অন্যতম কারণ হলেও, ইজরায়েলের এত শক্তির আসল কারণ হল তাদের অস্তিত্বের লড়াই। হ্যাঁ ঠিকই শুনেছেন। ইহুদীদের কেবলমাত্র একটিই দেশ ইজরায়েল। তাদের কাছে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখাটাই সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ইতিহাস তারা ভোলেনি। মুসলিম হোক বা ব্রিটিশ – বারবার অত্যাচার করেছে এই ইহুদীদের ওপর! বিশ্বে যেখানে মুসলিমদের জনসংখ্যা ২০০ কোটি, সেখানে মুসলিমদের চোখের বিষ তথা ইহুদীদের জনসংখ্যা মাত্র এক কোটি। তাই নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখাটা তাদের উন্নতির মূল কারণ। একটা কথা নিশ্চয়ই আপনারা শুনেছেন – Necessity is the mother of invention. আর একথা প্রমাণ করেছে ইজরায়েল।

    আমেরিকা কেন ভয় পায় ইজরায়েলকে? | Why Israel Is So Powerful?

    আচ্ছা এতক্ষণ তো শুনলেন ইজরায়েল এত শক্তিশালী হল কীভাবে। কিন্তু আপনি কি জানেন কেন আমেরিকাও ভয় পায় ইজরায়েলকে?

    এর জন্য আপনাদের জানতে হবে বেশ কিছু তথ্য। বলা যায় – আপনি ইজরায়েলকে পছন্দ নাই করতে পারেন, কিন্তু আপনি তাদেরকে অবহেলা কিংবা অবজ্ঞা করতে পারবেন না।

    জানলে অবাক হবেন, আমেরিকায় যে সমস্ত কার্টুন দেখানো হয়, তার অধিকাংশই নিয়ন্ত্রণ করে ইহুদীরা। আর সেই সকল কার্টুনে ইজরায়েলকে সৎ এবং মহান হিসাবে দেখানো হয়। ফলত ছোট থেকেই আমেরিকানদের মনে ইজরায়েল নিয়ে একটি সফট কর্নার তৈরি করা হয়ে আসছে। এমন একটি কার্টুন হল দ্যা প্রিন্স অফ ইজিপ্ট।

    তবে, এখানেই শেষ নয়। জানলে অবাক হবেন, আমেরিকার শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলির ২০ শতাংশ শিক্ষকই ইহুদী। এমনকি হলিউড সিনামের মাধ্যমে ছড়ানো হয় ইজরায়েল ভাবাবেগ। হলিউডের ৫৯ শতাংশ লেখক এবং পরিচালক সবাই ইহুদী। রিপোর্ট বলছে, আমেরিকার চারটি প্রধান ফিল্ম কোম্পানি ইহুদীদের। স্টিভেন স্পিলবার্গ – যিনি আমেরিকার অস্কারজয়ী পরিচালক, তিনিও ইহুদী ধর্মের লোক। শুধু তাই নয়, আমেরিকার একাধিক প্রধান সংবাদ সংস্থা ইজরায়েলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। রিপোর্ট বলছে, প্রধান আমেরিকান সংবাদ সংস্থাগুলির ৬১ জন লেখক ইজরায়েলপন্থী। ৩টি প্রধান নিউজ মিডিয়া কোম্পানির সিইও ইহুদী, যেমন সিএনএন, এনবিসি, এবং নিউ ইয়র্ক টাইমস। সুতরাং, সিনেমা থেকে সংবাদ – যারা শুধু আমেরিকার নয়, সারা বিশ্বের পার্সপেকটিভ তৈরি করে সেখানেই নিয়ন্ত্রন চলে ইহুদীদের। হিন্ডেনবার্গ থেকে ব্লুমবার্গ – সবারই মালিক ইহুদী।

    এছাড়া, ব্যাঙ্কিং সেক্টরের মধ্যে গোল্ডম্যান শ্যাক্স, জেপি মরগ্যান চেজ, ব্ল্যাক রক, ডিই শ, পে প্যাল সবই হয় প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে ইহুদী নিয়ন্ত্রিত।

    এছাড়া ইন্টেল, যারা প্রসেসর তৈরি করে, এনভিডিয়া – যারা র‍্যাম এবং গ্রাফিক্স কার্ড তৈরি করে, এদের সবথেকে বড় হাব আছে ইজরায়েলে।

    ডেল কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা মাইকেল ডেল, তিনিও একজন ইহুদী।

    ফেসবুকের মালিক মার্ক জাকারবার্গ একজন ইহুদী। তিনি বর্তমানে হোয়াটসঅ্যাপ, ইন্সটাগ্রাম এবং ম্যাসেঞ্জারের মালিক।

    এমনকি জানলে হবেন, বর্তমানে এআই-এর পথিকৃৎ ওপেন এআই অর্থাৎ চ্যাটজিপিটি-র সিইও স্যাম অল্টম্যান একজন ইহুদী।

    এবার আসা যাক আরও বড় একটি চিত্রে। গুগল, অর্থাৎ যাকে ছাড়া আমাদের জীবন অসম্পূর্ণ। সেই গুগলের মালিক কারা? ল্যারি পেজ আর সারগেই ব্রিন। এরা দুজনেই ইহুদী। ইউটিউব থেকে শুরু করে গুগল প্লেস্টোর এবং গুগল পে সবকিছুই এদের অধীনে।

    এমনকি ফ্যাশন ব্র্যান্ড ক্যাল্ভিন ক্লেন থেকে পোলো, র‍্যালফ লড়েন সবার মালিক ইহুদী। হোটেল ব্যবসায় প্রসিদ্ধ নাম হায়াত রেজেন্সির মালিকও একজন ইহুদী।

    আশা করছি, পেগাসস মামলা আপনারা কেউই ভোলেননি। পৃথিবীর সবথেকে বড় হ্যাকিং সফটওয়্যার পেগাসস ইজরায়েলেরই তৈরি। যে সফটওয়্যারকে ব্যবহার করে বিশ্বের যে কোনও প্রান্তের, যে কোনও ব্যাক্তির কথোপকথন, মেল বা ম্যাএসজ হ্যাক করে নিতে পারে এই সফটওয়্যার। কয়েক বছর আগে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে এই সফটওয়্যার ব্যবহারের অভিযোগ এনেছিল মমতা-রাহুল-রা।

    অর্থাৎ, ব্যাঙ্কিং সফটওয়্যার থেকে আপনার সার্চ অপশন, ইমেল থেকে শুরু করে পেমেন্ট সবকিছুই কখনও প্রত্যক্ষ আবার কখনও পরোক্ষভাবে ইজরায়েলের অধীনে রয়েছে। ইউএসবি ফ্ল্যাশ ড্রাইভ, অ্যাপল ডিভাইসের ফেস আইডি, ভিওআইপি কলিং থেকে শুরু করে বিশ্বের প্রথম ইনস্ট্যান্ট ম্যাসেজিং সার্ভিস, নেটওয়ার্ক ফায়ারওয়াল, এন্ডোস্কপির জন্য ব্যবহৃত ছোট ক্যামেরা, হাইব্রিড শশার বীজ, ড্রিপ সেচ পদ্ধতি থেকে প্রতিরক্ষা খাতের একাধিক অস্ত্র সামগ্রী সবই ইজরায়েলের।

    এদের কাছে রয়েছে অর্থ, রয়েছে বিস্তৃত প্রযুক্তি।

    অনেকেই আবার বলছেন জেফ্রে এপস্টিন নিজেও একজন মোসাদের স্পাই, কিংবা মোসাদের হয়ে কাজ করতেন। যদিও এর কোনও সত্যতা এখনও পাওয়া যায়নি। কিন্তু, অনেকেই বিশ্বাস করেন, এই কারণেই আজ ট্রাম্পের ওপর ইজরায়েলের এত কর্তৃত্ব।

    এবার আসি কেন ইজরায়েলকে হারানো অসম্ভব?

    কোনও দেশ কতটা শক্তিশালী সেটা বোঝা যায়, সেই দেশের সামরিক সরঞ্জাম, অস্ত্রশস্ত্র, সৈন্যবল, আর্থিক ক্ষমতা, এবং পারমাণবিক শক্তির ওপর ভিত্তি করে।

    মাত্র ১ কোটি জনসংখ্যার দেশ ইজরায়েলের এই সকল সামরিক সরঞ্জাম টেক্কা দিতে পারে পাকিস্তান, ইরানে, সৌদি আরবের মতো বহু দেশকে।

    ইজরায়েলের প্রকৃত সৈন্য সংখ্যা প্রায় ৬ লক্ষ। যা তাদের জনসংখ্যার ৬ শতাংশ। আবার একথা আপনাদের আগেই বলেছি যে তাদের প্রায় সব নাগরিকই সেনা প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত। তাহলে সংখ্যাটা কী দাঁড়াল? প্রায় ১ কোটি।

    এছাড়া, ইজরায়েলের রয়েছে নিজেদের তৈরি বিশ্বের অন্যতম উন্নত ট্যাঙ্ক Merkava ট্যাঙ্ক। আর তাদের মোট ট্যাঙ্কের পরিমাণ দেড় হাজারের বেশি। রয়েছে আধুনিক আর্টিলারি, ড্রোন ও সাইবার সাপোর্ট।

    এছাড়া রয়েছে সাড়ে ছয় হাজারের বেশি আরমার্ড ভেহিকেল, ৭০০ আর্টিলারি এবং ৫০-এর বেশি MLRS রকেট সিস্টেম।

    এবার আসি জলপথ সম্পর্কে। ইজরায়েলের রয়েছে প্রায় ৭০টি নৌযান, ৫-৬টি সাবমেরিন, ৪০-এর বেশি মিসাইল করভেট এবং পেট্রোল বোট।

    আকাশপথের জন্য তাদের রয়েছে আমেরিকার তৈরি F-35I Adir, F-15, F-16-এর মতন উন্নত যুদ্ধবিমান। মোট সামরিক বিমানের সংখ্যা ৬০০, ফাইটার জেটের সংখ্যা ২৫০, এবং হেলিকপ্টারের সংখ্যা ১৫০।

    এছাড়াও, ইজরায়েলের কাছে রয়েছে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যেমন – স্বল্পপাল্লার রকেট ধ্বংসকারী Iron Dome। মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানোর জন্য David’s Sling। ব্যালিস্টিক মিসাইল আটকানোর জন্য রয়েছে Arrow system। যার মাধ্যমে যে কোনও রকেত বা যুদ্ধ বিমান কিংবা ড্রোণ হামলা থেকে তারা নিজেদের রক্ষা করতে পারে।

    এবার আসি তাদের সবথেকে বড় শক্তি সম্পর্কে অর্থাৎ পারমাণবিক শক্ত। ইজরায়েলের মতো এই ছোট্ট দেশের কাছে রয়েছে আনুমানিক ৯০টি অ্যাটমিক ওয়ারহেড। যেখানে ১৫০ কোটির দেশ ভারতের কাছে রয়েছে ১৮০টি এবং ২০ কোটির দেশ পাকিস্তানের কাছে রয়েছে ১৭০টি।

    আর এই দেশের সামরিক বাজেট জানলে মাথা ঘুরে যাবে আপনার। পাকিস্তানের সামরিক খাতে বাজেট যেখানে মাত্র ১০ থেকে ১২ বিলিয়ন ডলার। সেখানে ইজরায়েলের এই সংখ্যাটা ২০ থেকে ২৪ বিলিয়ন ডলার। ভাবতে পারছেন?

    তাই যদি কেউ ইজরায়েলের ওপর পরমাণু হামলা করে, তাহলে ইজরায়েল সেই দেশের সাথে আরও ১০টি দেশকে খতম করার ক্ষমতা। তাই এই তথ্যগুলো সহজেই পরিষ্কার করে দেয় ইজরায়েলকে হারান একপ্রকার অসম্ভব।

    ইজরায়েলের এই উন্নতি নিয়ে আপনাদের কী মনে হয়? কীভাবে দেখবেন তাদের এই আগ্রাসনকে? ইজরায়েল কী ঠিক করছে? নাকি ভুল? জানাতে ভুলবেন না আপনাদের মতামত কমেন্ট করে।

  • আসতে পারে বড় সংকট! ইরানের তেল ভাণ্ডার লক্ষ্য করে প্রথম হামলা ইজরায়েলের

    আসতে পারে বড় সংকট! ইরানের তেল ভাণ্ডার লক্ষ্য করে প্রথম হামলা ইজরায়েলের

    বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: ইরান-ইজরায়েল সংঘাত যেন থামছেই না (Israel Attacks Iran Oil Reserve)। গতকাল রাতে তেল আবিবের বুকে একাধিকবার মিসাইল ছুঁড়েছিল ইরান (Iran)। এবার তার পাল্টা প্রত্যাঘাত হিসেবে তেহরানের তেল মজুদ লক্ষ্য করে বড়সড় হামলা চালালো বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দেশ। একাধিক সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, শনিবার ইরানের হামলার পরই তেহরানের অয়েল রিজার্ভকে টার্গেট করে ইজরায়েল। আর তারপরই চলে ভয়াবহ হামলা। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আমেরিকা এবং ইজরায়েল একেবারে যৌথভাবে ইরানকে শায়েস্তা করতে উঠে পড়ে লেগেছে। তাঁদের দাবি, ইরান যাতে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করে নেয় সেজন্যেই নতুন নতুন ছক কষছে এই দুই দেশ।

    বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিতে পারে ইরানে

    সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইজরায়েলের নতুন হামলার পর ইরানে লজিস্টিক, ট্রাফিক এবং বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিতে পারে। ইরানের কয়েকটি সংবাদ মাধ্যম তাদের প্রতিবেদনে দাবি করছে, তেহরানের একাধিক জায়গায় রিফাইনারি কমপ্লেক্সে বড় হামলা হয়েছে। এদিকে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু একেবারে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান আত্মসমর্পণ না করলে আগামী দিনে আরও কঠিন পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তাঁর কথায়, “তেহরানের তেল স্টোরেজে আগুন জ্বলছে।”

    BBC বলছে, ইতিমধ্যেই ইরানের তেল মজুদ লক্ষ্য করে হামলার খবর নিশ্চিত করেছে ইজরায়েলের সেনাবাহিনী। এদিকে বিশ্লেষক মহল দাবি করছেন, খুব সম্ভবত এই প্রথমবার ইজরায়েল ইরানের কোনও বেসামরিক শিল্প প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে হামলা চালালো। এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম উত্তরাঞ্চলের রাজধানী এবং প্রতিবেশী দেশগুলিতে হামলার জন্য আমেরিকা এবং ইহুদি শাসন ব্যবস্থাকে দায়ী করেছে।

    অবশ্যই পড়ুন: ভারত বনাম নিউজিল্যান্ডের ফাইনাল লন্ডভন্ড করবে বৃষ্টি? দেখুন ওয়েদার রিপোর্ট

    উল্লেখ্য, সম্প্রতি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান প্রতিবেশী দেশগুলিতে হামলা চালানোর জন্য তাদের কাছে একপ্রকার ক্ষমা চেয়ে নিয়েছিলেন। ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, “উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলি যদি আমেরিকা এবং ইজরায়েলকে ইরানে হামলা চালানোর মদত না দেয়, তবে ইরানও তাদের উপর হামলা করবে না। ইরানের সাথে প্রতিবেশী দেশগুলির কোনও রকম শত্রুতা নেই।” একই সাথে এদিন ট্রাম্পের দাবিকে নস্যাৎ করে ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ চেয়েছেন। তাঁকে এই স্বপ্ন নিয়েই সমাধিস্থ হতে হবে।

  • “ইরানের সিংহাসনে যেই বসুক মরতে হবে!” বিরাট হুমকি ইজরায়েলের

    “ইরানের সিংহাসনে যেই বসুক মরতে হবে!” বিরাট হুমকি ইজরায়েলের

    বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: আমেরিকা এবং ইজরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি (Israel On Iran)। সুপ্রিম লিডারের মৃত্যুতে একেবারে ক্ষেপে গিয়েছে ইরান। মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশের মরণ কামড় খেতে হচ্ছে আরব দেশগুলিকেও। এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার আসনে কাকে বসানো হবে তা নিয়ে চলছে জোর জল্পনা। এর আগে শোনা গিয়েছিল খামেনি ঘনিষ্ঠ আলিরেজা আরাফিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার পদ দেওয়ার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলা হয়। এমতাবস্থায় শোনা যাচ্ছে, আর অন্য কেউ নয় বরং খামেনির পুত্র মোজতবাকেই বসানো হবে ইরানের সিংহাসনে। সেই খবর প্রকাশ্যে আসতেই বড়সড় হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইজারায়েল। সে দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী একেবারে হুঙ্কার দিয়ে বলেছেন, “ইরানের সর্বোচ্চ নেতার আসনে যাকেই বসানো হবে তাঁকেই মৃত্যুবরণ করতে হবে।”

    ইরানকে বিরাট হুশিয়ারি ইজরায়েলের

    86 বছর বয়সে মৃত্যু হয়েছে ইরানের সুপ্রিম লিডার খামেনির। সেই শোক এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি ইরানবাসী। দেশের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে এক প্রকার জীবন বাজি রেখে লড়ছে দেশটির সেনাবাহিনী। ঠিক সেই আবহে শোনা যাচ্ছিল, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার আসনে বসানো হতে পারে খামেনির পুত্র মোজতবাকে। আর এই খবর প্রকাশ্যে আসার পরই ইজরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরাইল কাটজ বুধবার একেবারে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেলেন, “ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির বিকল্প হিসেবে যে নেতাকেই সিংহাসনে বসাক না কেন ইরান, তাঁকে মেরে ফেলা হবে।”

    এর আগে ইরানের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সে দেশের গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, তেহরানের এক অনুষ্ঠানে ইরানিরা খামেনিকে শেষ বিদায় জানাবেন। ইরানের ইসলামিক প্রপ্যাশন কাউন্সিলের প্রধান হোজ্জাতোলেসলাম মাহমুদি জানিয়েছেন, তিন দিনের জন্য বিদায় অনুষ্ঠান অব্যাহত থাকবে। এরপর অন্তষ্টিক্রিয়ার মিছিল ঘোষণা করা হবে। সেই সব পর্ব মিটিয়ে পঞ্চম দিনে পা দিতেই ইজারায়েল ইরান এবং লেবাননে নতুন করে হামলা চালায়। ইরানের গণমাধ্যম বলছে, লেবাননের একের পর এক আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইজরায়েলের ভয়াবহ হামলায়। এদিকে, নতুন রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে খামেনির খেলেকে সিংহাসনে বসানোর আগেই ইজরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর এমন হুমকি চিন্তা বাড়িয়েছে, ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ড থেকে শুরু করে সে দেশের নেতাদের।

     

    অবশ্যই পড়ুন: এক ধাক্কায় খরচ বাড়ল ৯০ হাজার কোটি, দেশের প্রথম বুলেট ট্রেন নিয়ে দুঃসংবাদ!

    উল্লেখ্য, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনির মৃত্যুর খবর সবার প্রথম জানিয়েছিলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম থেকে সর্বপ্রথম আমেরিকান প্রেসিডেন্ট জানিয়েছিলেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ইরানের তরফে সে কথা অস্বীকার করা হলেও পরবর্তীতে সেই সত্যতা মেনে নেয় দেশটি। তবে সর্বোচ্চ নেতা মারা গেলেও যুদ্ধের ময়দান থেকে এক চুলও সরতে রাজি নয় আমেরিকার এক সময়কার বন্ধু।

  • ইরানে হামলার পিছনে ইজরায়েলের সাথে হাত আছে মোদীর? জানালেন দেশটির রাষ্ট্রদূত

    ইরানে হামলার পিছনে ইজরায়েলের সাথে হাত আছে মোদীর? জানালেন দেশটির রাষ্ট্রদূত

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: মধ্যপ্রাচ্যে এখন চলছে যুদ্ধ। তবে তারই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) ইজরায়েল সফর নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হল। ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি তিনি ইজরায়েল সফরে গিয়েছিলেন। আর ঠিক তা দু’দিন পর অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি ইজরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানের উপর সামরিক হামলা চালায়। এমনকি ১ মার্চ ইরানের সর্বোচ্চ নেতার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে নিকেশ করে দেয়। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, সফর চলাকালীন কি তাহলে হামলার বিষয়ে কিছু জানানো হয়েছিল? প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদীর এর পিছনে হাত রয়েছে?

    সফরের সময় নেওয়া হয়নি কোনও সিদ্ধান্ত

    এদিন ভারতে নিযুক্ত ইজরায়েলের রাষ্ট্রদূত রুভেন আজার স্পষ্ট ভাষায় এই সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, প্রধানমন্ত্রী মোদী ইজরায়েল থাকাকালীন হামলার কোনও রকম সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তাঁর কথায়, অপারেশন অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালবেলা। ততক্ষণে প্রধানমন্ত্রী সফর শেষ করে দেশে ফিরে গিয়েছেন। এমনকি তিনি আরও জানিয়েছেন, হামলার পর ইজরায়েলের বিধানমন্ত্রী ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়সঙ্করের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন আর পরিস্থিতির ব্যাখ্যাও করেন।

    বলে রাখি, গত এক বছরের মধ্যে দ্বিতীয়বার ইরানের উপর ইজরায়েল হামলা চালিয়েছে। ইজরায়েলের দাবি, এটি ছিল প্রি-এম্পটিভ স্ট্রাইক। অর্থাৎ সম্ভাব্য কোনও বড় হুমকি ঠেকাতে আগাম পদক্ষেপ। আর রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য অনুযায়ী, ইজরায়েলের প্রধান উদ্বেগ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং ব্যালিস্টিক মিসাইলের সক্ষমতা। তাঁর অভিযোগ, ইরান দীর্ঘদিন ধরেই সামরিক উদ্দেশ্যে পারমাণবিক প্রযুক্তি উন্নয়নের চেষ্টা করে আসছে। আর আঞ্চলিক বিভিন্ন গোষ্ঠীকে অর্থ এবং অস্ত্র দিয়ে সহায়তা করছে। ভাই ইজরায়েল নিরাপত্তাজনিত কারণেই সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছে।

    আরও পড়ুন: রাত হতেই বদলে যায় রেলের এই নিয়মগুলো! ট্রেনে ওঠার আগে জানুন, নাহলেই বিপদ

    এদিকে ইরানে সরকার পরিবর্তন হবে কিনা সে বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য না করলেও রাষ্ট্রদূত স্পষ্ট বলেছেন যে, আমরা জানি না শাসন ব্যবস্থায় পরিবর্তন আদৌ হবে কিনা। কিন্তু ইরানের জনগণ নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেরাই ঠিক করবে। তিনি দাবি করেছেন, ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব নিজের দেশেই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। এর ফলে অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ বাড়ছে।

  • যুদ্ধের আবহে পাকিস্তানে অভিযান মোসাদের? ইজরায়েলের বিরুদ্ধে ভয়ঙ্কর অভিযোগ

    যুদ্ধের আবহে পাকিস্তানে অভিযান মোসাদের? ইজরায়েলের বিরুদ্ধে ভয়ঙ্কর অভিযোগ

    বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: গত শনিবার আমেরিকা এবং ইজরায়েলের যৌথ হামলায় প্রাণ গিয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির। আর তাঁর মৃত্যুর বদলা নিতে আহত বাঘের মতো লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। ইতিমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের 8 দেশে থাকা 27 টি মার্কিন সেনা ঘাঁটিতে জোরালো হামলা চালিয়েছে ইরানের সেনাবাহিনী। এরই মাঝে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে তাঁকে হত্যার ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন পাক প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ।

    পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমও ইরানের আম জনতাকে সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে একপ্রকার রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছিল। আর তারপরই নাকি হ্যাক করে নেওয়া হয় পাকিস্তানের বিভিন্ন টিভি চ্যানেল (Pakistan Tv Channels Hacked)। তাতে আঙুল উঠছে ইজরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের দিকে।

    পাকিস্তানের একাধিক টিভি চ্যানেল হ্যাক করে নেওয়ার অভিযোগ

    গতকাল অর্থাৎ রবিবার পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকটি টিভি চ্যানেলের সম্প্রচার বারবার ব্যাহত হয়েছিল। পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার অনুমান, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের উপর হওয়া হামলা এবং খামেনির মৃত্যু সংবাদ সম্প্রচার করার কারণেই একেবারে ছক করে তাদের টিভি চ্যানেলগুলিকে হ্যাক করা হয়েছিল। পাক সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস ট্রিবিউন বলেছ, গতকাল পাকিস্তানের জনপ্রিয় টিভি চ্যানেল জিও নিউজ থেকে শুরু করে এ আর আই নিউজ এমনকি সামা টিভিও হ্যাক করার চেষ্টা হয়েছিল। যেই ঘটনায় প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে দায়ী করা হচ্ছে ইজরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মেসাদকে।

    এক বিবৃতিতে জিও নিউজ ম্যানেজমেন্ট জানিয়েছে, গত 24 ঘন্টা ধরে কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট প্যাকসেটে থাকার পরেও টিভি চ্যানেলটিকে বারবার হ্যাক করার চেষ্টা করা হয়েছে। এর ফলে এর সম্প্রচার ব্যাহত হয়। বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, জিও নিউজের সম্প্রচার বারবার ব্যাহত হয়েছিল হ্যাকারদের কারণেই। এ বিষয়ে জিও নিউজের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আজহার আব্বাস উর্দুতে একটি পোস্ট লিখেছেন, “জিও নিউজের স্ক্রিন হ্যাক করে সেখানে একটি অনুপযুক্ত বার্তা প্রচার করা হচ্ছিল। এই ধরনের বার্তার সাথে জিও নিউজের কোনও সম্পর্ক নেই। এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করছি।”

    পাকিস্তানের কয়েকটি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেসাদের সমর্থনকারীরা গুগলে বিজ্ঞাপন চালানোর জন্য বেশ কয়েকটি নিউজ ওয়েবসাইটকে ব্যবহার করেছিল। কম করে 19টি দেশে বিভিন্ন ওয়েবসাইট গুলিতে এই ধরনের বিজ্ঞাপন চালানো হয়। যদিও পাকিস্তানের টিভি চ্যানেলগুলি হ্যাক হওয়া নিয়ে এখনও পর্যন্ত বিবৃতি দেয়নি পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।

    অবশ্যই পড়ুন: ক্রিকেট বোর্ডের নাম থেকে মুছতে হবে ভারত বা ভারতীয় শব্দ, কঠোর পদক্ষেপ কেন্দ্রের

    উল্লেখ্য, গত রবিবার ইজারায়েল এবং আমেরিকা যৌথভাবে ইরানে ভয়াবহ হামলা চালালে মৃত্যু হয় সর্বোচ্চ নেতা খামেনির। সেই খবর প্রকাশ্যে আসতেই রাস্তায় নেমে পড়েন ইরানের মানুষজন। চোখ থেকে জল গড়ায় খামেনির অনুগামীদের। এদিকে খামেনির মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে পাকিস্তানের করাচির মার্কিন দূতাবাসে জোরালো হামলা চালান বিক্ষোভকারীরা। ভেঙে দেওয়া হয় দূতাবাসের জানালার কাছ থেকে শুরু করে অন্যান্য প্রয়োজনীয় আসবাব।

  • ইজরায়েল-আমেরিকার হামলায় মৃত্যু খামেনির! কী হবে এবার ইরানের?

    ইজরায়েল-আমেরিকার হামলায় মৃত্যু খামেনির! কী হবে এবার ইরানের?

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি (Ali Khamenei) নিহত হয়েছেন। ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থার তরফ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবেই এ কথা নিশ্চিত করা হয়েছে। এমনকি খামেনি সহ তাঁর নাতনি, জামাই ও মেয়েরও মৃত্যু হয়। যার কারণে ইরান সরকার ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। তবে তাঁর মৃত্যু নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে যে তোলপাড় পড়ে গিয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

    বলে রাখি, আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় এবং রাজনৈতিক নেতা। ১৯৭৯ সালে ইসলামিক বিপ্লবের পর থেকেই দেশের শাসন কাঠামোর সুপ্রিম লিডার হিসেবে তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। সেনা, সরকার আর ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সব ক্ষেত্রেই তাঁর প্রভাব বিস্তৃত। তাঁর এহেন মৃত্যুতে ইরানের রাজনৈতিক ইতিহাসের মোড় যে ঘুরে যেতে পারে তাও আঁচ কর‍তে পারছে ওয়াকিবহাল মহল। এমনকি ক্ষমতায় রদবদল, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব আর গৃহযুদ্ধের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

    ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান

    এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলার পর এক বিবৃতিতে ইরানের জনগণের উদ্দেশ্য বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এটাই ইরানের মানুষের জন্য নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের সবথেকে বড় সুযোগ। তিনি ইরানের সেনা এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে অস্ত্র সমর্পণের আহ্বান জানিয়েছেন। আর জনগণকে সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে বলেছেন। ট্রাম্পের এই মন্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে যে, শুধুমাত্র সামরিক হামলায় নয়, বরং ইরানের রাজনৈতিক কাঠামোতেও এবার বিরাট কোনও পরিবর্তন আনার লক্ষ্য থাকতে পারে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এরকম পদক্ষেপের প্রভাব বহু বছর ধরেই চলতে পারে। তার জন্য সম্ভাব্য কয়েকটি পরিস্থিতিও তুলে ধরা হচ্ছে। প্রথমত ইরানের ভিতর ক্ষমতার লড়াই, দ্বিতীয়ত সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ সংঘাত, তৃতীয়ত চরমপন্থী গোষ্ঠীর উত্থান, চতুর্থত গোটা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং শরণার্থী সংকট। আর ইরান ইতিমধ্যেই অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের জেরে চাপে ছিল। আর সেই সূত্রে এই হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

    আরও পড়ুন: মাসের প্রথম দিনে সোনা, রুপোর দামে মহা পরিবর্তন! আজকের রেট

    সবথেকে বড় ব্যাপার, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্দরেও এই পদক্ষেপ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। কারণ, বিরোধী মহলগুলি অভিযোগ করছে, কংগ্রেসের সম্পূর্ণ অনুমোদন ছাড়া বড় কোনও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। কেউ কেউ এটাকে ইরাক যুদ্ধের পুনরাবৃত্তি হিসেবেও দেখছে। আর বিশেষজ্ঞদের একাংশের দাবি, সরকার পতন ঘটানো তুলনামূলকভাবে সহজ হলেও পরবর্তী পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হতে পারে। এখন দেখার ইরানের অবস্থা কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়।

  • মার্কিন-ইসরায়েলি হানায় মৃত্যু আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির! ইরানে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক

    মার্কিন-ইসরায়েলি হানায় মৃত্যু আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির! ইরানে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক

    সহেলি মিত্র, কলকাতা: এ যেন একটাই যুগের অবসান ঘটল ইরানে। জানা গিয়েছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনীর মৃত্যু (Ali Khamenei Death) হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভি এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এদিকে স্বাভাবিকভাবেই দেশের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুতে একদিকে যখন সর্বত্র শোকের ছায়া বিরাজ করছে, তেমনই তৈরী হয়েছে রাজনৈতিক অস্থিরতা। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনী ২০২৬ সালের ১ মার্চ মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন। এই ঘটনার পর, ইরান সরকার ৪০ দিনের জাতীয় শোক এবং সাত দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে। অপরদিকে ৪৭ বছরের শাসনব্যবস্থার পতনের সাথে সাথে ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী, আইআরজিসি (ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ডস কর্পস) এখনো আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

    মৃত্যু ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ খামেনীর

    আইআরজিসি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া এড়িয়ে দ্রুত একজন নতুন উত্তরসূরি নির্বাচন করতে চায় যাতে শাসনব্যবস্থার উপর তাদের দখল বজায় রাখা যায়। এই ঘটনা কেবল ইরানের ভবিষ্যৎ নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে না বরং মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতেও উল্লেখযোগ্য অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি শনিবার সকালে তেহরানে খামেনির বাসভবন এবং অফিস (কম্পাউন্ড) লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। ইরান প্রথমে এই দাবি অস্বীকার করলেও পরে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থাগুলি নিশ্চিত করেছে যে ৮৬ বছর বয়সী খামেনী “শহীদ” হয়েছেন।

    ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মতে, ধ্বংসস্তূপ থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এটিকে ইরানের সামরিক সক্ষমতা এবং নেতৃত্বকে নির্মূল করার লক্ষ্যে একটি বড় যৌথ অভিযান হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অপরদিকে নেতানিয়াহুও একটি বিবৃতি জারি করে বলেছেন যে খামেনী মারা গেছেন। প্রশ্ন উঠছে, ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা কে হবে?

    ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা কে?

    আয়াতুল্লাহ খামেনির মৃত্যু ইরানের জন্য এক বিরাট আঘাত, তা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। এর দশকের পুরনো ব্যবস্থার ভিত্তিকে নাড়িয়ে দিয়েছে। তার মৃত্যুর পরপরই, দেশটির সামরিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থায় ব্যাপক বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। ইরান ইন্টারন্যাশনালের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে কমান্ডের শৃঙ্খল ভেঙে যাওয়ার ফলে আদেশ বাস্তবায়নে অসুবিধা হচ্ছে। বর্তমানে ইরানের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল ভেঙে পড়া সামরিক কাঠামো এবং জনরোষ নিয়ন্ত্রণে সক্ষম এমন একজন নেতা খুঁজে বের করা।

    আরও পড়ুনঃ দোলের আগে অনেকটাই দাম বাড়ল LPG সিলিন্ডারের, জানুন নতুন রেট

    সূত্রের খবর, IRGC সাংবিধানিক সংস্থা, বিশেষজ্ঞ পরিষদ ছাড়াই নতুন নেতা নিয়োগের জন্য চাপ দিচ্ছে। তারা চায় রবিবারের মধ্যে নতুন নেতার নাম চূড়ান্ত করা হোক। সামরিক বাহিনী আশঙ্কা করছে যে নিয়োগ বিলম্বিত করলে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়বে।