Tag: Iran

  • “আর হামলা হবে না” হঠাৎ ক্ষমা চাইল ইরান! ঘুরে গেল খেলা?

    “আর হামলা হবে না” হঠাৎ ক্ষমা চাইল ইরান! ঘুরে গেল খেলা?

    বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: আমেরিকা-ইজরায়েলের যৌথ হামলায় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হারিয়েছে ইরান (Iran War Update)। সুপ্রিম লিডারের মৃত্যুর পরই কার্যত পাগল হয়ে গিয়েছিল মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশ। খামেনির মৃত্যুর বদলা হিসেবে উপসাগরীয় দেশগুলিতে থাকা আমেরিকার একের পর এক সামরিক ঘাঁটিতে হাড় কাঁপানো হামলা চালায় ইরানের সেনাবাহিনী। হামলা চলে ইজরায়েলেও। তবে দুই শক্তি ধরের সাথে লড়াইয়ে ইরানের মরণ কামড় খেতে হয়েছিল সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, দোহার মতো প্রতিবেশীদের। যদিও সময় কিছুটা গড়াতেই হঠাৎ পড়শি দেশগুলির কাছে ক্ষমা চেয়ে নিল ইরান। ক্ষমা চেয়েছেন খোদ ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান (Masoud Pezeshkian)।

    হঠাৎ ক্ষমা চেয়ে নিল ইরান

    গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া আমেরিকা-ইজরায়েল বনাম ইরানের ভয়াবহ সংঘাতের কোপে পড়ে ল্যাজে গোবরে অবস্থা হয়েছিল উপসাগরীয় দেশগুলির। রাতবিরেতে ছুটে আসছিল একের পর এক ইরানি মিসাইল। এক কথায়, সুপ্রিম লিডারকে হারানোর পর আমেরিকা ও ইজরায়েলের মতো দেশকে মদত দেওয়ার অভিযোগে নিজের প্রতিবেশী দেশগুলিকেও ছাড়েনি একসময় আমেরিকার বন্ধু দেশটি। এবার সেইসব প্রতিবেশী দেশের কাছেই ক্ষমা চেয়ে নিল ইরান।

    সম্প্রতি ইরানের প্রেসিডেন্ট খুব স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, “ইয়ানের উপর যদি হামলায় আমেরিকা বা ইজরায়েলকে মদত দেওয়া না হলে ইরানও প্রতিবেশী দেশগুলিতে হামলা চালাবে না। উপসাগরীয় এলাকার দেশগুলির সাথে ইরানের কোনও ব্যক্তিগত শত্রুতা নেই।” জানা গিয়েছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনির মৃত্যুর পরই প্রাথমিকভাবে একটি অন্তর্বর্তী কাউন্সিল গঠন করা হয়েছিল। সেই কাউন্সিলর সদস্য ছিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট সহ মোট তিনজন। এবার সেই কাউন্সিলই প্রতিবেশী দেশগুলিতে হামলা না চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

    ইরানের প্রেসিডেন্ট খুব সাফ ভাবে বুঝিয়েছেন, এবার থেকে উপসাগরীয় দেশগুলি যদি আমেরিকা এবং ইজরায়েলকে ইরানের উপর হামলা চালানোর জন্য মদত না যোগায় তবে ইরানের সেনাবাহিনীও এই দেশ গুলির উপর হামলা চালাবে না। এদিন মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশের তরফে প্রতিবেশী দেশগুলির কাছে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি এও জানিয়ে দেওয়া হয়, আমেরিকা এবং ইজরায়েল প্রথমে হামলা চালানো শুরু করেছিল বলেই ইরান প্রত্যাঘাত করে।

     

    অবশ্যই পড়ুন: ভূমিহীন ক্ষেতমজুরদের অ্যাকাউন্টে কবে ঢুকবে টাকা? দিন ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

    ট্রাম্পকে কড়া বার্তা মাসুদের

    সম্প্রতি ইরানের কাছ থেকে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ চেয়েছিলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বলেছিলেন, তাঁর বেছে দেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে থেকে পছন্দের একজনকে ইরানের সিংহাসনে বসানো হোক। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান একেবারে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, “এসব আসলে ট্রাম্পের স্বপ্ন। এই স্বপ্ন নিয়েই তাঁকে সমাধিস্থ হতে হবে।” এক কথায় বলা যায়, প্রতিবেশী দেশগুলির উপর হামলা বন্ধ করলেও আমেরিকা এবং ইজরায়েলের সাথে কোনও মতেই আপস করতে রাজি নয় ইরান। বরং হামলা হলে যে পাল্টা ভয়ঙ্কর প্রত্যাঘাত করা হবে সে কথাও বুঝিয়ে দিয়েছে তেহরান।

  • “ইরানের সিংহাসনে যেই বসুক মরতে হবে!” বিরাট হুমকি ইজরায়েলের

    “ইরানের সিংহাসনে যেই বসুক মরতে হবে!” বিরাট হুমকি ইজরায়েলের

    বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: আমেরিকা এবং ইজরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি (Israel On Iran)। সুপ্রিম লিডারের মৃত্যুতে একেবারে ক্ষেপে গিয়েছে ইরান। মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশের মরণ কামড় খেতে হচ্ছে আরব দেশগুলিকেও। এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার আসনে কাকে বসানো হবে তা নিয়ে চলছে জোর জল্পনা। এর আগে শোনা গিয়েছিল খামেনি ঘনিষ্ঠ আলিরেজা আরাফিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার পদ দেওয়ার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলা হয়। এমতাবস্থায় শোনা যাচ্ছে, আর অন্য কেউ নয় বরং খামেনির পুত্র মোজতবাকেই বসানো হবে ইরানের সিংহাসনে। সেই খবর প্রকাশ্যে আসতেই বড়সড় হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইজারায়েল। সে দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী একেবারে হুঙ্কার দিয়ে বলেছেন, “ইরানের সর্বোচ্চ নেতার আসনে যাকেই বসানো হবে তাঁকেই মৃত্যুবরণ করতে হবে।”

    ইরানকে বিরাট হুশিয়ারি ইজরায়েলের

    86 বছর বয়সে মৃত্যু হয়েছে ইরানের সুপ্রিম লিডার খামেনির। সেই শোক এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি ইরানবাসী। দেশের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে এক প্রকার জীবন বাজি রেখে লড়ছে দেশটির সেনাবাহিনী। ঠিক সেই আবহে শোনা যাচ্ছিল, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার আসনে বসানো হতে পারে খামেনির পুত্র মোজতবাকে। আর এই খবর প্রকাশ্যে আসার পরই ইজরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরাইল কাটজ বুধবার একেবারে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেলেন, “ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির বিকল্প হিসেবে যে নেতাকেই সিংহাসনে বসাক না কেন ইরান, তাঁকে মেরে ফেলা হবে।”

    এর আগে ইরানের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সে দেশের গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, তেহরানের এক অনুষ্ঠানে ইরানিরা খামেনিকে শেষ বিদায় জানাবেন। ইরানের ইসলামিক প্রপ্যাশন কাউন্সিলের প্রধান হোজ্জাতোলেসলাম মাহমুদি জানিয়েছেন, তিন দিনের জন্য বিদায় অনুষ্ঠান অব্যাহত থাকবে। এরপর অন্তষ্টিক্রিয়ার মিছিল ঘোষণা করা হবে। সেই সব পর্ব মিটিয়ে পঞ্চম দিনে পা দিতেই ইজারায়েল ইরান এবং লেবাননে নতুন করে হামলা চালায়। ইরানের গণমাধ্যম বলছে, লেবাননের একের পর এক আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইজরায়েলের ভয়াবহ হামলায়। এদিকে, নতুন রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে খামেনির খেলেকে সিংহাসনে বসানোর আগেই ইজরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর এমন হুমকি চিন্তা বাড়িয়েছে, ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ড থেকে শুরু করে সে দেশের নেতাদের।

     

    অবশ্যই পড়ুন: এক ধাক্কায় খরচ বাড়ল ৯০ হাজার কোটি, দেশের প্রথম বুলেট ট্রেন নিয়ে দুঃসংবাদ!

    উল্লেখ্য, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনির মৃত্যুর খবর সবার প্রথম জানিয়েছিলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম থেকে সর্বপ্রথম আমেরিকান প্রেসিডেন্ট জানিয়েছিলেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ইরানের তরফে সে কথা অস্বীকার করা হলেও পরবর্তীতে সেই সত্যতা মেনে নেয় দেশটি। তবে সর্বোচ্চ নেতা মারা গেলেও যুদ্ধের ময়দান থেকে এক চুলও সরতে রাজি নয় আমেরিকার এক সময়কার বন্ধু।

  • ইরানে আটকে থাকা পড়ুয়াদের নিরাপদে সরাল ভারত, ফিরতে চায় না কিছুজন

    ইরানে আটকে থাকা পড়ুয়াদের নিরাপদে সরাল ভারত, ফিরতে চায় না কিছুজন

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বর্তমানে ইরান এবং ইজরায়েলের যুদ্ধে (Iran-Israel War) উত্তপ্ত গোটা মধ্যপ্রাচ্য। তবে এই পরিস্থিতিতে বহু ভারতীয় ইরানের মাটিতে আটকে রয়েছেন। আর তা নিয়েই উদ্বেগ প্রকাশ করছে আন্তর্জাতিক মহল থেকে শুরু করে ভারতীয়রা। এমনকি এক রিপোর্ট বলছে, প্রায় ৯০০০ ভারতীয় বর্তমানে ইরানে আটকে। যাদের মধ্যে অধিকাংশ পড়ুয়া। আর এই পরিস্থিতিতে বিরাট স্বস্তির খবর জানালো ইরানের ভারতীয় দূতাবাস। হ্যাঁ, দূতাবাস স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আটকে থাকা বেশিরভাগ পড়ুয়াকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। তবে এক্ষেত্রে উদ্বেগও প্রকাশ করছে ওয়াকিবহাল মহল। কারণ, বেশ কিছু পড়ুয়া নিজেদের স্থান ছাড়তে চায়নি।

    ভারতীয়দের নিরাপদ স্থানের সরিয়ে ফেলেছে ইরান

    গতকাল ইরানের ভারতীয় দূতাবাসের তরফ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, যে সমস্ত ভারতীয়রা তেহরানে আটকে ছিল, তাদের বেশিরভাগকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে রাখা হয়েছে। তেহরানে প্রতিনিয়ত হামলার কারণেই তাদেরকে সরানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। আর যারা সেই প্রস্তাব মেনে নিয়েছে, তাদেরকেই নিরাপদ নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এমনকি তাদের জন্য থাকা খাওয়ার বন্দোবস্ত করেছে ভারতীয় দূতাবাস।

    তবে এক্ষেত্রে রয়েছে বিভ্রান্তি। কারণ, বেশ কিছু পড়ুয়া সরকারের দেওয়া নিরাপদ আশ্রয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছে। কারণ, তারা নিজেদের বাসস্থান ছাড়তে চায়নি। হ্যাঁ, তারা এখনো পর্যন্ত তেহরানেই আটকে রয়েছে। যদিও সেই সংখ্যা সীমিত। তবে তাদের আগের মতো নিরাপদে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আর ইরানে আটকে থাকা ভারতীয়দের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে গত রবিবার নির্দেশিকাও জারি করা হয়েছিল। সেখানে বলা হয়েছিল, যে যেখানে আছেন সেখানেই থাকুন। যতটা সম্ভব বাড়িতেই থাকুন। বাইরে বেরোনোর চেষ্টা করবেন না। আর জানালার ধারে থাকবেন না। এমনকি একাধিক হেল্পলাইন নম্বরও দেওয়া হয়।

    আরও পড়ুন: খামেনির মৃত্যুর ৪ দিন পরও নীরব মোদি, নিন্দা করেনি ভারত! নেপথ্যে কী কারণ?

    বলে রাকি, শুধুমাত্র ইরান নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশে প্রচুর ভারতীয়রা আটকে রয়েছে। যেমন সৌদি আরব, দুবাই, বাহরাইন ইত্যাদি। আর তাদেরকেও দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছে ভারত সরকার। এমনকি ইতিমধ্যে দুবাই বিমানবন্দরে তিনটি এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাতে আটকে থাকা সমস্ত ভারতীয়দের দেশে ফেরানো হবে বলেই জানানো হয়েছে।

  • খামেনির মৃত্যুর ৪ দিন পরও নীরব মোদি, নিন্দা করেনি ভারত! নেপথ্যে কী কারণ?

    খামেনির মৃত্যুর ৪ দিন পরও নীরব মোদি, নিন্দা করেনি ভারত! নেপথ্যে কী কারণ?

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ভয়ংকর যুদ্ধ যেন কিছুতেই থামতে চাইছে না। গতকালও নতুন করে হামলার খবর পাওয়া গেছে। এদিকে গত শনিবার, মার্কিন-ইজরায়েল যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি-র (Ayatollah Ali Khamenei Death) মৃত্যু হয়েছিল। যা নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছিল, ভারতেও সেই ঘটনার ছায়া পড়েছে। বিরোধীরা সরকারের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতির দাবি করে চলেছে। কিন্তু এদিকে খামেনির মৃত্যুর ৪ দিন কেটে গেলেও এখনও নীরব মোদি সরকার। দেওয়া হয়নি কোনো বিবৃতি।

    খামেনির মৃত্যু নিয়ে নীরব মোদি

    গত সোমবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন যে, পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি গুরুতর উদ্বেগের বিষয়। এমনকি কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে যৌথ সংবাদিক বৈঠকেও তিনি জানিয়েছেন, “ভারত শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে। ভারত সর্বদা এই ধরনের বিরোধের সমাধান খুঁজে বের করার জন্য সংলাপ এবং কূটনীতির আহ্বান জানিয়েছে।” অর্থাৎ মধ্য এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে সংযম এবং উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। কিন্তু একবারের জন্যও ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি-র মৃত্যু নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। আর তাতেই অবাক সকলে। আসলে নয়াদিল্লি আগ বাড়িয়ে দুনিয়ার বৃহৎ শক্তিকে চটাতে চাইছে না বলেই মনে করছেন কূটনীতিবিদরা।

    চুপ উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলিও

    ইরান ইজরায়েলের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে এই মুহূর্তে লক্ষ লক্ষ ভারতীয় আটকে রয়েছে, তাই তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে এখন বেশ দুশ্চিন্তায় রয়েছে ভারত সরকার। ইতিমধ্যেই এই বিষয়টি নিয়ে উপকূলীয় দেশগুলির রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গেও আলোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। কারণ ইরান যে ভাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের জনবহুল এলাকাগুলিতেও হামলা চালাচ্ছে, তাতে সেখানে বসবাসকারী ভারতীয়দেরও জীবন সংকটের মুখে পড়েছে। এদিকে উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলিও বেশিরভাগই পশ্চিমী শক্তির পক্ষে, তাই আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি-র মৃত্যু নিয়ে নীরব আছে। জাপান এবং জার্মানি স্থিতিশীলতা এবং উত্তেজনা বৃদ্ধির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, কিন্তু কোনও শোক বিবৃতি দেয়নি।

    আরও পড়ুন: নির্বাচিত হলেন মুস্তাফিজুর রহমান, বড় সিদ্ধান্ত IPL মালিকদের!

    কেন্দ্রের তরফে কিছু না জানানো হলেও মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতের আবহে ভারত একটি পক্ষকে যে সমর্থন করে সেই নিয়ে সম্প্রতি একটি প্রতিবেদনও লিখেছেন কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধি। যা নিয়ে দেশে বেশ শোরগোল পরে গিয়েছিল। এদিকে খানিক পিছনের দিকে গেলে দেখা যাবে ভারতের বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে অনভিপ্রেত মন্তব্য করেছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। তিনি কখনও কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বিলোপ, কখনও CAA আবার কখনও দিল্লির হিংসা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিল, যা কেন্দ্রীয় সরকারের বিপক্ষে ছিল, আর সকলের ধারণা সেই কারণের জন্যই খামেনি-র মৃত্যু নিয়ে নীরব নরেন্দ্র মোদি। যদিও সবটাই অনুমান, এখনও এই নিয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে।

  • ইরানে হামলার পিছনে ইজরায়েলের সাথে হাত আছে মোদীর? জানালেন দেশটির রাষ্ট্রদূত

    ইরানে হামলার পিছনে ইজরায়েলের সাথে হাত আছে মোদীর? জানালেন দেশটির রাষ্ট্রদূত

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: মধ্যপ্রাচ্যে এখন চলছে যুদ্ধ। তবে তারই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) ইজরায়েল সফর নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হল। ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি তিনি ইজরায়েল সফরে গিয়েছিলেন। আর ঠিক তা দু’দিন পর অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি ইজরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানের উপর সামরিক হামলা চালায়। এমনকি ১ মার্চ ইরানের সর্বোচ্চ নেতার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে নিকেশ করে দেয়। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, সফর চলাকালীন কি তাহলে হামলার বিষয়ে কিছু জানানো হয়েছিল? প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদীর এর পিছনে হাত রয়েছে?

    সফরের সময় নেওয়া হয়নি কোনও সিদ্ধান্ত

    এদিন ভারতে নিযুক্ত ইজরায়েলের রাষ্ট্রদূত রুভেন আজার স্পষ্ট ভাষায় এই সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, প্রধানমন্ত্রী মোদী ইজরায়েল থাকাকালীন হামলার কোনও রকম সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তাঁর কথায়, অপারেশন অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালবেলা। ততক্ষণে প্রধানমন্ত্রী সফর শেষ করে দেশে ফিরে গিয়েছেন। এমনকি তিনি আরও জানিয়েছেন, হামলার পর ইজরায়েলের বিধানমন্ত্রী ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়সঙ্করের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন আর পরিস্থিতির ব্যাখ্যাও করেন।

    বলে রাখি, গত এক বছরের মধ্যে দ্বিতীয়বার ইরানের উপর ইজরায়েল হামলা চালিয়েছে। ইজরায়েলের দাবি, এটি ছিল প্রি-এম্পটিভ স্ট্রাইক। অর্থাৎ সম্ভাব্য কোনও বড় হুমকি ঠেকাতে আগাম পদক্ষেপ। আর রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য অনুযায়ী, ইজরায়েলের প্রধান উদ্বেগ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং ব্যালিস্টিক মিসাইলের সক্ষমতা। তাঁর অভিযোগ, ইরান দীর্ঘদিন ধরেই সামরিক উদ্দেশ্যে পারমাণবিক প্রযুক্তি উন্নয়নের চেষ্টা করে আসছে। আর আঞ্চলিক বিভিন্ন গোষ্ঠীকে অর্থ এবং অস্ত্র দিয়ে সহায়তা করছে। ভাই ইজরায়েল নিরাপত্তাজনিত কারণেই সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছে।

    আরও পড়ুন: রাত হতেই বদলে যায় রেলের এই নিয়মগুলো! ট্রেনে ওঠার আগে জানুন, নাহলেই বিপদ

    এদিকে ইরানে সরকার পরিবর্তন হবে কিনা সে বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য না করলেও রাষ্ট্রদূত স্পষ্ট বলেছেন যে, আমরা জানি না শাসন ব্যবস্থায় পরিবর্তন আদৌ হবে কিনা। কিন্তু ইরানের জনগণ নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেরাই ঠিক করবে। তিনি দাবি করেছেন, ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব নিজের দেশেই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। এর ফলে অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ বাড়ছে।

  • মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের মাঝে তেলের সঙ্কট এড়াতে বিরাট প্ল্যান ভারতের!

    মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের মাঝে তেলের সঙ্কট এড়াতে বিরাট প্ল্যান ভারতের!

    বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা ক্রমশ বাড়ছে। ইজরায়েল এবং আমেরিকার যৌথ হামলার পর সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুতে ক্ষেপে গিয়েছে ইরান। আর তারপরেই মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশে আমেরিকার একের পর এক সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস করছে তারা। আর এই যুদ্ধ পরিস্থিতিতে গোটা বিশ্বে লাফিয়ে বাড়ছে তেলের দাম। ইতিমধ্যেই ব্যারেল প্রতি 13 শতাংশ দাম বেড়েছে অপরিশোধিত তেলের। গত ফেব্রুয়ারিতে যেই দাম ব্যারেল প্রতি 65 থেকে 67 ছিল তাই ইতিমধ্যেই 82 ডলার ছুঁয়ে ফেলেছে। আশঙ্কা আগামীতে এই তেলের দাম আরও বাড়বে। কারণ বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত এখনই থামার নয়। ঠিক সেই আবহে দেশে তেলের যোগান অব্যাহত রাখতে নতুন পরিকল্পনা ফাঁদছে ভারত (India On Oil Price)।

    হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে হুঙ্কার ইরানের

    যুদ্ধ আবহে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। শুধু তাই নয়, গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ বন্ধ করার পাশাপাশি ইরান একেবারে হুঁশিযারি দিয়ে বলেছে যদি কেউ এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে তাহলে জাহাজে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হবে। বলাই বাহুল্য, গোটা বিশ্বে তেলের বাণিজ্যের অন্তত 20 শতাংশ হয়ে থাকে স্ট্রেট অফ হরমুজ প্রণালী হয়ে। অন্যদিকে বিশ্বের তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের বাণিজ্যের প্রায় এক তৃতীয়াংশ হয় এই স্ট্রেট অফ হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা বাড়লে সবার প্রথমে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে এই জলপথ। আর এই পথ থেকে তেল যাতায়াত না করতে পারলে গোটা বিশ্বের বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম যে বাড়বে সে কথা বলার অপেক্ষা রাখে না।

    বিকল্প ভেবে রেখেছে ভারত

    এই মুহূর্তে যা অবস্থা তাতে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এখনই কমছে না। আর সেটা না হলে হরমুজ প্রণালী খুলবে না ইরান। অনির্দিষ্টকালের জন্য এই জলপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ধীরে ধীরে তেলের দাম আকাশ ছোঁয়া হবে, এমনটাই বলছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের দাবি, এই সংঘাতের পরিস্থিতিতে অপরিশোধিত জ্বালানির দাম গোটা বিশ্বে পৌঁছে যেতে পারে ব্যারেল প্রতি 100 ডলার বা তারও বেশি অর্থে। এমনটা হলে পেট্রোলিয়ামের দামও অন্তত 40 শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে। যার ধাক্কা দিয়ে পড়বে সরাসরি পেট্রোল এবং ডিজেলের দামে। আজকের দিনে দাঁড়িয়ে যে পেট্রোলের দাম 100 থেকে 105 টাকা, আগামী দিনে সেটারই দাম হয়ে দাঁড়াতে পারে 140 থেকে 145 টাকা।

    মধ্যপ্রাচ্যের চরম অস্থিরতার মধ্যে তেলের দামের ব্যাপক বৃদ্ধির আঁচ যাতে ভারতবাসীর পকেটে না পড়ে সেজন্যই নাকি নতুন পরিকল্পনা করছে কেন্দ্রীয় সরকার। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন তেল কোম্পানি গুলির সাথে আলোচনা শুরু হয়েছে সরকারের। কয়েকটি রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতের বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি ঠেকাতে পেট্রোল, ডিজেল রপ্তানি নিষিদ্ধ করা, রাশিয়া থেকে ফের অপরিশোধিত তেল আমদানি বাড়ানো সহ অন্য কোনও বিকল্প দেশ থেকে তেল কেনা যায় কিনা সেই সব দিকে নিয়ে বৈঠক চলছে সরকারি আধিকারিকদের।

    অবশ্যই পড়ুন: সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ডোবাতে পারেন ভারতের এই ৬ প্লেয়ার

    তবে, রাশিয়া থেকে তেল আমদানি কমানোর কারণে ভারতের উপর থেকে শুল্ক কমিয়েছে আমেরিকা। শুধু তাই নয়, বাণিজ্য চুক্তিতেও সম্মত হয়েছে দুই দেশ। এমতাবস্থায়, ভারত যদি ফের রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বাড়ায় সেক্ষেত্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতিগতি কোন দিকে গিয়ে ঠেকবে, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয়ে রয়েছেন অনেকে। বিশ্লেষক মহলের অনেকেই বলছেন, ভারত রাশিয়া থেকে তেলে আমদানি বাড়িয়ে দিলে ফের শুল্ক বাড়াতে পারে আমেরিকা। যদিও নয়া দিল্লি চিরকালই বলে এসেছে, জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষার্থে যেখান থেকে তেল কিনতে হয় কিনবে ভারত।

  • খামেনির উত্তরসূরী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের কয়েক ঘন্টার মধ্যেই মৃত্যু আরাফির! দাবি রিপোর্টে

    খামেনির উত্তরসূরী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের কয়েক ঘন্টার মধ্যেই মৃত্যু আরাফির! দাবি রিপোর্টে

    বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: ইজরায়েল এবং আমেরিকার যৌথ হামলায় প্রাণ গিয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির। সেই খবর নিজেই জানিয়েছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দেশের সুপ্রিম লিডারের মৃত্যুতে শোকে ভেসেছিলেন ইরানের বাসিন্দারা। খামেনির যোগ্য মুখ খুঁজতে একেবারে হিমশিম খেতে হচ্ছিল মধ্যপ্রাচ্যের দেশটিকে। তার মধ্যেও ইরানের ভবিষ্যৎ মুখ হিসেবে উঠে এসেছিল বেশ কয়েকজনের নাম। সেই তালিকায় ছিলেন খামেনি ঘনিষ্ঠ ধর্মগুরু আলিরেজা আরাফি (Alireza Arafi Death)। তাঁকেই বসানো হয়েছিল ইরানের সর্বোচ্চ নেতার আসনে। এবার শোনা যাচ্ছে, এক বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন তিনিও।

    খামেনির উত্তরসূরিকেও মারল আমেরিকা?

    গত শনিবার, ইরানে ভয়াবহ হামলা চালিয়ে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনিকে হত্যা করে সেই দায় নেয় আমেরিকা। প্রাথমিকভাবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি এমন দাবি অস্বীকার করলেও পরবর্তীতে জানা যায় আদতেই মৃত্যু হয়েছে খামেনির। এরপরই তাঁর যোগ্য উত্তরসূরি খোঁজার কাজ শুরু হয়। সেই সূত্রেই উঠে আসে প্রতিষ্ঠিত আলেম আরাফির নাম। শোনা যাচ্ছিল, তাঁকেও নাকি খামেনির উত্তরসূরি হিসেবে জায়গা দিয়েছিল ইরানের নেতৃত্ব। তবে একাধিক রিপোর্ট অনুযায়ী, 2 মার্চ এক বিমান হামলায় মৃত্যু হয়েছে সেই আরাফিরও।

    এক্স হ্যান্ডেলে ভেসে আসা একের পর এক রিপোর্ট দাবি করছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনির মৃত্যুর পর তাঁর যোগ্য উত্তরসূরী হিসেবে 67 বছরের আরাফিকে বসানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁকে ছক মারা হয়েছে। যদিও প্রতিবেদনটি লেখার আগে পর্যন্ত তাঁর মৃত্যুর দায়ভার নেয়নি ইজরায়েল বা আমেরিকা। ফলে কীভাবে আরাফির মৃত্যু হল তা নিয়ে তৈরি হয়েছে সংশয়।

     

    অবশ্যই পড়ুন: T20 বিশ্বকাপের সেমিতে কবে, কখন, কাদের বিরুদ্ধে খেলবে ভারত? দেখে নিন

    উল্লেখ্য, তুলনামূলকভাবে কম পরিচিত হলেও ইরানের সদ্য প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা খামেনির অত্যন্ত কাছের লোক ছিলেন আরাফি। মৃত্যুর আগে পর্যন্ত আরাফি অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টসের ডেপুটি চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন। এর আগে তিনি প্রভাবশালী গার্ডিয়ান কাউন্সিলের সদস্য ছিলেন। তাছাড়াও ইরান সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে কাজ করার গাঢ় অভিজ্ঞতা ছিল তাঁর।

  • ব্যবহার হয়নি আগে, এই সস্তার ড্রোন দিয়েই ইরানে ধ্বংসযজ্ঞ চালাল আমেরিকা

    ব্যবহার হয়নি আগে, এই সস্তার ড্রোন দিয়েই ইরানে ধ্বংসযজ্ঞ চালাল আমেরিকা

    বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: আশঙ্কাই সত্যিতে পরিণত হয়েছে (Iran-US War)। গত শনিবার থেকে ইরানের উপর জোরালো হামলা চালানো শুরু করে আমেরিকা। সবচেয়ে বড় কথা, যা দিয়ে ইরানে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে সেই, ড্রোন প্রযুক্তি এর আগে কোনও অভিযানে ব্যবহার করেনি ওয়াশিংটন ডিসি। রিপোর্ট অনুযায়ী, এপিক ফিউরিতে ইজরায়েলের সাথে হাত মিলিয়ে ইরানে হামলা চালানোর সময় প্রথমবারের মতো এই বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সব একেবারে ধুলিস্যাৎ করে দিল আমেরিকা।

    এই ড্রোন ব্যবস্থাই ইরানে ধ্বংসযজ্ঞের কারণ

    একাধিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ইজরায়েলের সাথে হাতে হাত মিলিয়ে ইরানের হামলা চালানোর সময় LUCAS আক্রমণাত্মক ড্রোনটি ব্যবহার করা হয়। বলাই বাহুল্য, এই ড্রোনগুলি ইরানের সস্তা কিন্তু শক্তিশালী ড্রোনগুলির অনুলিপি। গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া ক্রমাগত হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনিকে হত্যা করার দাবি করেছে আমেরিকা।

    দেশের শীর্ষস্থানীয় নেতার মৃত্যুর পাশাপাশি ইরানের বুকে কম্পন ধরাতে ইরানেরই ড্রোন কৌশল অবলম্বন করেছিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেশ। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আমেরিকা এবং ইজরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতার পাশাপাশি কয়েক ডজন সরকারি কর্মকর্তার মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

    বলে রাখা ভালো, যৌথভাবে ইরানের উপর হামলা চালাতে সস্তার LUCAS ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহারের পাশাপাশি দূরপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র সহ অন্যান্য সমরাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল ল। যার ধার কার্যত ইরানের বুক চিরে দিয়েছে।

    LUCAS ড্রোনের বিশেষত্ব

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমেরিকার তরফে ইরানে ছোরা সস্তার ড্রোনগুলি একটা দীর্ঘ সময় ব্যবহার করার পর দ্বিতীয় বার আর ব্যবহার করা যায় না। তবে দামে অনেকটাই কম হয় অর্থাৎ খরচ কম হয় একসাথে অধিক সংখ্যক ড্রোন নিক্ষেপ করা যায় শত্রুর ডেরায়।

    অবশ্যই পড়ুন: খামেনির মৃত্যুর প্রতিবাদে করাচিতে মার্কিন দূতাবাসে হামলা, পাল্টা প্রতিরোধে নিহত ১০

    না বললেই নয়, আমেরিকার LUCAS হল ইরানি শাহেদ-136 এর উপর ভিত্তি করে তৈরি একটি কম খরচের আক্রমণাত্মক ড্রোন। এমন ড্রোন দিয়ে ইরানে হামলা প্রসঙ্গে CENTCOM স্পষ্ট জানিয়েছে, আমেরিকা এবং ইসরাইলের যৌথ উদ্যোগে এপিক ফিউরির সময় প্রথমবারের মতো ইরানের ক্ষেত্রেই ব্যবহার করল কোনও দেশ। কয়েকজন সামরিক বিশেষজ্ঞ বলছেন, ইরানের সামরিক কৌশল এবং ড্রোন কৌশল রপ্ত করেই শাহেদ 136 এর অনুকরণ করে সস্তার LUCAS ড্রোন তৈরি করা হয়েছিল। এবার সেটাই ইরানের বুকে বিরাট ধ্বংসযজ্ঞ চালাল।

  • ইরানের রোষানলে দুবাই, শাহরুখ-আদানি-ঐশ্বর্য সহ আর কোন ভারতীয়র সম্পত্তি আছে সেখানে?

    ইরানের রোষানলে দুবাই, শাহরুখ-আদানি-ঐশ্বর্য সহ আর কোন ভারতীয়র সম্পত্তি আছে সেখানে?

    বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: ইরানে হাড় কাঁপানো হামলা চালিয়েছে আমেরিকা-ইজরায়েল। এরই মাঝে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেশের তরফে দাবি করা হয়েছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি মার্কিন হামলায় মারা গিয়েছেন। যেই খবর প্রকাশ্যে আসতেই ইরানের রাস্তায় নেমে পড়েছেন খামেনির অনুগামীরা। এদিকে প্রত্যাঘাত হিসেবে পশ্চিম এশিয়ার মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইরান বাহিনী। হামলা চালানো হয় দুবাই, দোহা সহ সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর একাধিক এলাকায়। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য, দুবাইয়ে আমেরিকান সেনার কোনও ঘাঁটি নেই। কিন্তু তাও কেন এই অঞ্চলে হামলা চালালো ইরান? উঠছে প্রশ্ন। তার উপর দুবাই ভারতীয় ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বলিউড অভিনেতা অভিনেত্রীদের ক্ষেত্রে আর্থিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ (Celebrity Properties In Dubai)। এখানেই বিপুল বিনিয়োগ রয়েছে ভারতীয় তারকাদের।

    দুবাইয়ে বিপুল সম্পত্তি রয়েছে ভারতীয় তারকাদের

    ইরানের রোষানালে থাকা দুবাই ভারতীয় তারকাদের জন্য আর্থিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। আসলে সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর এই শহর বিলাসবহুল জীবন যাপনের জন্য বিশ্বের অন্যতম সেরা ঠিকানা। তাই তো বিনিয়োগের জন্য দুবাইকেই বেছে নিয়েছেন ভারতের বলিউড তারকা থেকে শুরু করে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা। না বললেই নয়, বিলাসবহুল বাড়ি, সুউচ্চ ভিলা থেকে শুরু করে বহু মূল্যের অ্যাপার্টমেন্ট সবই রয়েছে ভারতীয়দের।

    অনেকেই হয়তো জানেন, বলিউড অভিনেতা অভিষেক বচ্চন এবং অভিনেত্রী ঐশ্বর্য রাই 2015 সালে দুবাইয়ে জুমেইরাহ গলফ স্টেটের স্যাঙ্ক চুয়ারি ফলস এ একটি দারুণ ভিলা কিনেছিলেন। চোখ ধাঁধানো ডিজাইন দ্বারা সুগঠিত এই ভিলার আনুমানিক বাজার মূল্য 16 কোটি টাকা। এখানেই রয়েছে সুইমিং পুল থেকে শুরু করে বিরাট গার্ডেন, পার্ক এমনকি পিকনিক স্পটও। এছাড়াও এমিরেটস হিল এ বিলাসবহুল বাংলো রয়েছে বচ্চন পরিবারের।

    দুবাইয়ে বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খানের জনপ্রিয়তা কতটা তা আলাদা করে বলার প্রয়োজন পড়ে না। বলিউড কিং শাহরুখের নামে দুবাইয়ের জুমেইরাহতে রয়েছে একটি চোখধাঁধানো বিচ ফ্রন্ট ভিলা। এই বিলাস বহুল ভিলাটি ভারতীয় তারকা শাহরুখের জীবনযাত্রাকে নির্দেশ করে থাকে। অত্যাধুনিক সাজসজ্জার সাথে সাথে সি ফেসিং এই বাড়ি দুবাইয়ের সেলিব্রিটি হোমগুলির মধ্যে অন্যতম।

    দুবাইয়ের জনপ্রিয় শহরে নিজস্ব সম্পত্তি রয়েছে বলিউড অভিনেতা তথা ভাইজান সলমান খানেরও। একাধিক রিপোর্ট অনুযায়ী, দুবাইতে বলা ভাল সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে ছবির শুটিংয়ের সময় গেলে প্রায়শই নিজের সম্পত্তিতে একবার ঢু মেরে আসেন সলমান। বলিউডের এই দুই নামজাদা অভিনেতা ছাড়াও দুবাইয়ে বিনিয়োগ করেছেন বলিউডের অতি পরিচিত এবং অভিজ্ঞ অভিনেতা অনিল কাপুরও। বিভিন্ন ছবির শুটিং সহ ছুটির সময় দুবাইয়ে ঘুরতে আসেন তিনি।

    এখানেই শেষ নয়, দুবাইয়ের বুর্জ প্যাসিফিক প্রজেক্টে বিনিয়োগ করেছেন সলমান খানের ভাই সোহেল খানও। মাঝেমধ্যেই কাজের সূত্রে কিংবা ঘুরতে পরিবার নিয়ে দুবাইতে গেলে নিজের সব ব্যক্তিগত সম্পত্তি অর্থাৎ এই ফ্লাট গুলিতে থাকেন সোহেল খান সহ তাঁর আত্মীয়রা। দুবাইতে বুর্জ খালিফায় 50 কোটি মূল্যের একটি ফ্ল্যাট রয়েছে এ বলিউড অভিনেত্রী শিল্পা শেট্টির। 2010 এ বিবাহবার্ষিকী উপলক্ষ্যে স্বামী রাজ কুন্দ্রার কাছ থেকে এই ফ্ল্যাটটি উপহার পেয়েছিলেন তিনি।

    অবশ্যই পড়ুন: ভারত বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচ নিয়ে বড় কথা বলে দিলেন সৌরভ গাঙ্গুলি…

    এদিকে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে ধনকুবের মুকেশ আম্বানি থেকে শুরু করে ভারতীয় বংশোদ্ভুত বিনোদ আদানি সহ রেনুকা জগতিয়ানি এমনকি ইউসুফ আলিরও বিপুল সম্পত্তি রয়েছে দুবাইতে। এরমধ্যে রেনুকা জাগতিয়ানি ল্যান্ডমার্ক গ্রুপের চেয়ারম্যানের মোট সম্পত্তির পরিমাণ 5.6 বিলিয়ন ডলার। ( 2025 এর হিসেব অনুযায়ী।) ওদিকে গৌতম আদানির ভাই বিনোদের দুবাইয়ের সম্পত্তির বাজার মূল্য 53.4 বিলিয়ন ডলার। (2024 এর হিসেব)

  • ইজরায়েল-আমেরিকার হামলায় মৃত্যু খামেনির! কী হবে এবার ইরানের?

    ইজরায়েল-আমেরিকার হামলায় মৃত্যু খামেনির! কী হবে এবার ইরানের?

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি (Ali Khamenei) নিহত হয়েছেন। ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থার তরফ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবেই এ কথা নিশ্চিত করা হয়েছে। এমনকি খামেনি সহ তাঁর নাতনি, জামাই ও মেয়েরও মৃত্যু হয়। যার কারণে ইরান সরকার ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। তবে তাঁর মৃত্যু নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে যে তোলপাড় পড়ে গিয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

    বলে রাখি, আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় এবং রাজনৈতিক নেতা। ১৯৭৯ সালে ইসলামিক বিপ্লবের পর থেকেই দেশের শাসন কাঠামোর সুপ্রিম লিডার হিসেবে তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। সেনা, সরকার আর ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সব ক্ষেত্রেই তাঁর প্রভাব বিস্তৃত। তাঁর এহেন মৃত্যুতে ইরানের রাজনৈতিক ইতিহাসের মোড় যে ঘুরে যেতে পারে তাও আঁচ কর‍তে পারছে ওয়াকিবহাল মহল। এমনকি ক্ষমতায় রদবদল, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব আর গৃহযুদ্ধের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

    ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান

    এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলার পর এক বিবৃতিতে ইরানের জনগণের উদ্দেশ্য বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এটাই ইরানের মানুষের জন্য নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের সবথেকে বড় সুযোগ। তিনি ইরানের সেনা এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে অস্ত্র সমর্পণের আহ্বান জানিয়েছেন। আর জনগণকে সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে বলেছেন। ট্রাম্পের এই মন্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে যে, শুধুমাত্র সামরিক হামলায় নয়, বরং ইরানের রাজনৈতিক কাঠামোতেও এবার বিরাট কোনও পরিবর্তন আনার লক্ষ্য থাকতে পারে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এরকম পদক্ষেপের প্রভাব বহু বছর ধরেই চলতে পারে। তার জন্য সম্ভাব্য কয়েকটি পরিস্থিতিও তুলে ধরা হচ্ছে। প্রথমত ইরানের ভিতর ক্ষমতার লড়াই, দ্বিতীয়ত সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ সংঘাত, তৃতীয়ত চরমপন্থী গোষ্ঠীর উত্থান, চতুর্থত গোটা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং শরণার্থী সংকট। আর ইরান ইতিমধ্যেই অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের জেরে চাপে ছিল। আর সেই সূত্রে এই হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

    আরও পড়ুন: মাসের প্রথম দিনে সোনা, রুপোর দামে মহা পরিবর্তন! আজকের রেট

    সবথেকে বড় ব্যাপার, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্দরেও এই পদক্ষেপ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। কারণ, বিরোধী মহলগুলি অভিযোগ করছে, কংগ্রেসের সম্পূর্ণ অনুমোদন ছাড়া বড় কোনও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। কেউ কেউ এটাকে ইরাক যুদ্ধের পুনরাবৃত্তি হিসেবেও দেখছে। আর বিশেষজ্ঞদের একাংশের দাবি, সরকার পতন ঘটানো তুলনামূলকভাবে সহজ হলেও পরবর্তী পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হতে পারে। এখন দেখার ইরানের অবস্থা কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়।