Tag: Iran Israel War

  • ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধে বাড়তে পারে সোনা ও তেলের দাম

    ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধে বাড়তে পারে সোনা ও তেলের দাম

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান আর ইজরায়েলের সংঘাত (Iran-Israel War) ঘিরে সামরিক উত্তেজনা তীব্র হওয়ার কারণে বিশ্ববাজারে বাড়ছে অস্থিরতা। যুক্তরাষ্ট্র আর ইজরায়েলের যৌথ পদক্ষেপে পরিস্থিতি এখন বদলাতে শুরু করেছে। আর এই প্রেক্ষাপটে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে ঝুঁকছে। যার ফলে সোনা এবং কাঁচা তেলের দামে এবার দেখা যাচ্ছে উত্থানের সম্ভাবনা ।

    বাজারে রিস্ক প্রিমিয়াম ঠিক কতটা বাড়তে পারে?

    বেশ কিছু বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে ট্রেডিং পুনরায় শুরু হলে তেল এবং সোনার গ্যাপ-আপ খেলার সম্ভাবনাও রয়েছে। হ্যাঁ, বিশ্বের বৃহত্তর ভোক্তা দেশ আমেরিকা এবং ওপেকের গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদক ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার কারণে দামে ভূ-রাজনৈতিক চাপ পড়তে পারে। আর হামলার আগে ব্রেন্ট ক্রুড ব্যারেল প্রতি ৭২.৪৮ ডলার এবং WTI ৬৭.০২ ডলারে বন্ধ হয়েছিল। বিশেষজ্ঞদের অনুমান, সরবরাহের বড় ব্যাঘাতের আশঙ্কা তৈরি হলে ব্রেন্ট ক্রুড প্রায় ৮৫ থেকে ৯৫ ডলার এমনকি তার উপরে চড়তে পারে। আর চরম পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত ১৫ থেকে ২০ ডলার পর্যন্ত রিস্ক প্রিমিয়াম যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

    এদিকে তেল পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালী। আর এখানে যে কোনও রকম বাধা বৈশ্বিক সরবরাহে বিরাট ধাক্কা দিতে পারে বলেই অনুমান। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ কাঁচাতেল এবং জ্বালানি এই প্রণালী দিয়েই আসে যা বৈশ্বিক তরল জ্বালানি ব্যবহারের সবথেকে বড় অংশ। আর সম্পূর্ণ অবরোধের সম্ভাবনা না থাকলেও আংশিক দামে অনেকটাই উত্থান দেখতে পারে।

    আরও পড়ুন: টানা ৩ মাস বাতিল একাধিক ট্রেন, যাত্রা সংক্ষিপ্ত ৩০ এক্সপ্রেসের! তালিকা দিল রেল

    সোনার ক্ষেত্রে কী হতে পারে?

    অন্যদিকে উত্তেজনার আবহে ঐতিহ্যগতভাবে নিরাপদ বিনিয়োগের বিকল্প হিসেবে চাহিদা পায় সোনা। আর বাজার বন্ধের আগে আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে সোনার দাম ছিল মোটামুটি ৫২৭৮ ডলার। তবে নতুন সপ্তাহের ট্রেডিং শুরু হলে দামে ৩ থেকে ৬ শতাংশ পর্যন্ত উত্থান দেখা যেতে পারে বলেই অনুমান করা হচ্ছে। এমনকি বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি সংঘাত দীর্ঘায়িত হয় বা ইরান কঠোর পাল্টা ব্যবস্থা নেয়, তাহলে সোনা সর্বকালের রেকর্ড দাম ছুঁতে পারে। কিন্তু কূটনৈতিক উদ্বেগের উত্তেজনা কমলে প্রাথমিক উত্থানের পর আবারও মুনাফা বুকিং দেখা যেতে পারে বলে মত ওয়াকিবহাল মহলের।

  • মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের জেরে ডুবল ৬ লক্ষ কোটি! বিরাট ধাক্কা ভারতের শেয়ারবাজারে

    মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের জেরে ডুবল ৬ লক্ষ কোটি! বিরাট ধাক্কা ভারতের শেয়ারবাজারে

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: যুদ্ধের আগুনে জ্বলছে মধ্যপ্রাচ্য। ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের মধ্যেই দেশের শেয়ারবাজার (Stock Market) বিরাট ধাক্কা খেল। হ্যাঁ, সপ্তাহের শুরুতেই কপাল পুড়ল ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের। সোমবার বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গেই একেবারে লাল রঙে ঢেকে দিয়েছে দালাল স্ট্রিট। সূচকের তীব্র পতনে বিনিয়োগকারীরা যে বিপুল ক্ষতির মুখে পড়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কোন সূচক কতটা পড়ল? জানুন বিস্তারিত।

    শেয়ার সূচকে বিরাট পতন

    সপ্তাহের প্রথম ট্রেডিং সেশনেই NIFTY 50 প্রায় 519 পয়েন্ট পরে 24,659 পয়েন্টে খুলেছে বলে জানা যাচ্ছে। অন্যদিকে BSE Sensex বাজার খোলার সময় দাঁড়িয়েছিল 78,512 পয়েন্টে, যা আগের দিনের তুলনায় 2,775 পয়েন্ট তলানিতে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক অস্থিরতার প্রভাব সরাসরি পড়েছে দেশীয় বাজারে। আর বিদেশী বিনিয়োগকারীদের বিক্রি এবং সতর্ক মনোভাবের জেরে বাজারে চাপ অনেকটাই পড়ছে।

    এদিকে সূচকের পতনের সঙ্গে সঙ্গে বাজার মূলধনেও লেগেছে বিরাট ধাক্কা। শুক্রবার বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের তালিকাভুক্ত সংস্থাগুলোর মোট বাজার মূলধন যেখানে ছিল 463.50 লক্ষ কোটি টাকা, সোমবার বাজার খোলার পর তা নেমে আসে মাত্র 447.50 লক্ষ কোটি টাকায়। অর্থাৎ একদিনের মধ্যেই 6 লক্ষ কোটি টাকা সম্পদ গায়েব হয়ে যায়। আর ক্ষতির মুখে পড়েছেন লক্ষ লক্ষ ক্ষুদ্র এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী।

    কেন নামল ধস?

    আসলে বিশ্ববাজারে এখন মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। বিনিয়োগকারীরা তাই আগেভাগেই নিজেদের মূল্যায়ন গুটিয়ে নিচ্ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ঘিরে সম্ভাব্য উত্তেজনা তেলের সরবরাহে বিরাট প্রভাব ফেলতে পারে এই আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে চলছে ডামাডোল। কিন্তু ইরানের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, তারা আপাতত হরমুজ প্রণালী অবরোধের পথে হাঁটবে না। আর আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান চাইছে। কিন্তু পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা এখনও ভেবে কূলকিনারা পাচ্ছে না সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।

    আরও পড়ুন: রাওয়ালপিণ্ডির নূর খান বিমান ঘাঁটিতে হামলা আফগানিস্তানের! খতম ৩৫ পাকিস্তানি সেনা

    বলে রাখি, সোমবার NIFTY 50 এর একাধিক ভারী শেয়ারে লেগেছে বিরাট ধাক্কা। তালিকায় রয়েছে Larsen & Toubro (L&T), InterGlobe Aviation (IndiGo), Asian Paints, Adani Enterprises, Adani Ports & SEZ এর মতো সব নামিদামি শেয়ার। তবে হ্যাঁ, তীব্র পতনের মধ্যেও কয়েকটি শেয়ার সবুজ সংকেত দিয়েছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল Bharat Electronics Limited (BEL), Hindalco Industries, Tata Steel। অর্থাৎ, ডিফেন্স এবং ধাতুখাতে কেনাকাটার ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীরা লাভের মুখ দেখেছে।

  • কলকাতা বিমানবন্দর থেকে বাতিল একগুচ্ছ ফ্লাইট

    কলকাতা বিমানবন্দর থেকে বাতিল একগুচ্ছ ফ্লাইট

    সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে। এদিকে ইজরায়েলের বিমান হামলায় প্রাণ গিয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির। এই ঘটনা রীতিমতো গোটা বিশ্বকে নাড়িয়ে রেখে দিয়েছে। যুদ্ধের আগুন আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এদিকে ইরান-মার্কিন-ইজরায়েলের চলমান সংঘাতের মাঝেই সাধারণ মানুষের হয়রানি শুরু হল। আকাশথ বন্ধ করে দেওয়ায় ভারত থেকে সমস্ত ফ্লাইট বাতিল (Flight Cancelled) করা হয়েছে এবং যাত্রীরা দিল্লি বিমানবন্দরে ভিড় করছেন। এদিকে কলকাতা বিমানবন্দরের (Kolkata Airport) তরফেও মধ্যপ্রাচ্যগামী বহু বিমান বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। এহেন ঘটনার জেরে বেজায় সমস্যায় পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

    কলকাতা থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী বহু বিমান বাতিল

    এয়ার ইন্ডিয়া এবং ইন্ডিগোর বিমান বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। কলকাতা বিমানবন্দর (Kolkata Airport) থেকে কাতার এবং সৌদি আরবগামী একাধিক বিমান বাতিল করা হয়েছে। সূত্রের খবর, ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যের (Iran Israel War) কিছু অংশের উপর দিয়ে বড় ধরনের আকাশসীমা বন্ধের পর, ১ মার্চ ৪৪৪টি ফ্লাইট বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে, সিভিল এভিয়েশন ডিরেক্টরেট জেনারেল (DGCA) জানিয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি, একই আকাশসীমা বিধিনিষেধের কারণে ভারতীয় অভ্যন্তরীণ বিমান সংস্থাগুলি ইতিমধ্যে ৪১০টি ফ্লাইট বাতিল করেছে। এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    আরও পড়ুনঃ ইজরায়েল-আমেরিকার হামলায় মৃত্যু খামেনির! কী হবে এবার ইরানের?

    কলকাতা থেকে দুবাইগামী ফ্লাই Emirates, কলকাতা থেকে দোহাগামী Qatar এয়ারলাইন্সের বিমান, কলকাতা থেকে আরবিয়ার বিমান, এবং কলকাতা থেকে আবু ধাবীগামী ইথিয়াদ এয়ার ওয়েসের বিমান বাতিল করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। যদিও এই বিষয়ে যাত্রীদের আগাম কোনও তথ্য দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ যাত্রীদের। যার ফলে কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছে ব্যাপক ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হয় বলেও অভিযোগ। যদিও সমগ্র পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে দেশগুলি।

    কী বলছে DGCA?

    ডিজিসিএ জানিয়েছে যে মন্ত্রকের যাত্রী সহায়তা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ (পিএসিআর) যাত্রীদের সমস্যাগুলি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং দ্রুত সমাধান নিশ্চিত করছে। এক্স-এর একটি পোস্টে, DGCA জানিয়েছে যে সম্ভাব্য ফ্লাইট ডাইভারশন পরিচালনা করতে এবং যাত্রীদের সুষ্ঠুভাবে সহায়তা করার জন্য প্রধান বিমানবন্দরগুলি সতর্ক রয়েছে। যাত্রী সহায়তা, বিমান সংস্থার সমন্বয় এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণ পরিচালনার জন্য বিমানবন্দরগুলিতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মোতায়েন করা হয়েছে।