Tag: Iran

  • হরমুজে ভারতীয় জাহাজকে ছাড় কেন? ইরানের সিদ্ধান্ত গর্বিত করবে ভারতীয়দের

    হরমুজে ভারতীয় জাহাজকে ছাড় কেন? ইরানের সিদ্ধান্ত গর্বিত করবে ভারতীয়দের

    বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: যুদ্ধের আবহে বিশ্বজুড়ে দেখা দিয়েছে জ্বালানি সংকট। ভারতও সেই তালিকার বাইরে নয়। তবে এই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও মিলেছে স্বস্তির খবর। ইতিমধ্যেই ইরানের (Iran) অনুমোদনের পর বিপুল অপরিশোধিত তেল নিয়ে দেশে ফিরেছে দুটি জাহাজ। এছাড়াও হাজার হাজার টন LPG নিয়ে নিরাপদে হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) পেরিয়ে ভারতে এসেছে শিবালিক কার্গো। এমতাবস্থায় অনেকেরই প্রশ্ন, ঠিক কোন কারণে বা কীসের বিনিময়ে ভারতের জাহাজকে ছাড়পত্র দিল তেহরান?

    কারণ ব্যাখ্যা করলেন বিদেশমন্ত্রী

    আমেরিকা এবং ইজরায়েলের যৌথ হামলায় মৃত্যু হয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির। আর তারপরই একেবারে পাগলের মতো প্রত্যাঘাত করতে শুরু করে তেহরান। এরই মাঝে হরমুজ প্রণালীতে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইরানের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, অনুমতি ছাড়া যদি কেউ এই হরমুজ দিয়ে জ্বালানি নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে তবে জাহাজে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হবে। যদিও এমন হুমকির পর ভারত সহ একাধিক দেশকে এই অংশ দিয়ে জ্বালানি নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে ইরান। আর তারপরই প্রশ্ন উঠছে, ভারতের জাহাজকে ছাড়পত্র দেওয়ার জন্য কি ইরানের সাথে কোনও চুক্তি হয়েছে?

    এমন প্রশ্নের উত্তরে ভারতের বিদেশ মন্ত্রী এস জয়শঙ্কর একেবারে খোলাখুলি জানিয়েছেন, ভারত এবং ইরানের মধ্যে এখনও পর্যন্ত নতুন কোনও চুক্তি হয়নি। তবে তেহরানের সাথে আলোচনায় ইতিবাচক ফল মিলেছে। এখনও তাদের সাথে আলোচনা চালাচ্ছে দিল্লি।” বিদেশ মন্ত্রীর কথায়, “দিল্লি এবং তেহরানের মধ্যে লেনদেনের এক দীর্ঘ ইতিহাস আছে। সেই ইতিহাসকেই পাথেও করেই আলোচনা হয়েছে আমাদের। তবে জ্বালানি নিয়ে আসার জন্য কোনও বিনিময় চুক্তি হয়নি।” ইরানের এই সিদ্ধান্ত যে প্রতিটা ভারতবাসীর কাছে গর্ব, সে আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

    ভারত এবং ইরানের বহু পুরনো সম্পর্ককে কাজে লাগিয়েই হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে নিরাপদে দেশে ফিরছে একের পর এক জাহাজ। এ প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে জয়শঙ্কর বলেন, “ইরানে যে হামলা চলছে তা সত্যিই আমাদের জন্য দুর্ভাগ্যজনক।” হরমুজ দিয়ে ভারতের জাহাজ পারাপার করছে এমন বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে দেশের বিদেশ মন্ত্রী জানান, “এটা তো সবে শুরু। ওখানে আমাদের অনেক জাহাজ এখনও আটকে রয়েছে। এক কথায় আলোচনা চলবে।” সবমিলিয়ে, নরেন্দ্র মোদি সরকারের কূটনৈতিক পদক্ষেপে ইরানের মন যে কিছুটা গলেছে সেটা বলাই যায়।

     

    অবশ্যই পড়ুন: শিয়ালদার তিন রুটে EMU পরিষেবা সম্প্রসারণ, যাত্রীদের স্বার্থে বড় উদ্যোগ রেলের

    উল্লেখ্য, সম্প্রতি হরমুজ দিয়ে জ্বালানি নিয়ে আসার সময় থাইল্যান্ডের একটি কার্গোতে জোরালো হামলা চালায় ইরান। তাছাড়াও হামলা চালানো হয় আমেরিকার জাহাজেও। এরই মধ্যে কয়েকটি সূত্র দাবি করেছে, আমেরিকা, ইজরায়েল এবং তাদের মিত্র দেশগুলি ছাড়া বিশ্বের বাকি দেশ হরমুজ দিয়ে জ্বালানি আদান প্রদান করতে পারবে।

  • ইরান-ইজরায়েল নয়, যুদ্ধে সবচেয়ে বড় ক্ষতি ভারতের!

    ইরান-ইজরায়েল নয়, যুদ্ধে সবচেয়ে বড় ক্ষতি ভারতের!

    একবার ভাবুন তো, যদি বলি – আমেরিকা, ইজরায়েল আর ইরানের যুদ্ধে সবথেকে বেশি ক্ষতি ভারতের (India) – বিশ্বাস করবেন?

    হয়তো না।

    কিন্তু সম্প্রতি, যুদ্ধের শুরুতেই উঠে এসেছে এমন কিছু তথ্য, যা শুনলে চোখ কপালে উঠবে আপনারও! অবস্থা এমন হয়েছে, যে যুদ্ধ না থামলে ভারতে পেট্রোল/ডিজেলের দাম লিটার পিছু বাড়তে পারে ১৫ থেকে ২০ টাকা করে! যার ফলে মূল্যবৃদ্ধি হতে পারে সব জিনিসের। চাকরি যেতে পারে প্রায় ১ কোটি মানুষের! শুধু তাই নয় মাত্র ১০ দিনে ক্ষতি হয়েছে ৩১ লক্ষ কোটি টাকা!

    কী অবাক হচ্ছেন? হয়তো হচ্ছেন! কিন্তু এই কথা আমরা বলছি না, বলছে রিপোর্ট!

    আমেরিকা, ইজরায়েল আর ইরানের যুদ্ধের যতটা ক্ষতি ওই দেশগুলোর হয়েছে, তার ১০ গুণ বেশি ক্ষতি ভারতের হয়েছে! কিন্তু, কীভাবে এই যুদ্ধ প্রভাব ফেলল ভারতের অর্থনীতিতে? কীভাবেই বা ক্ষতি হয়ে গেল প্রায় ৩১ লক্ষ কোটি টাকা? যদি ভারতের এই অবস্থা হয়, তাহলে আমেরিকা, ইজরায়েল আর ইরানের কতটা ক্ষতি হয়েছে?

    আজ India Hood ডিকোড-এ আমরা তুলে ধরবো এমন কিছু তথ্য, এমন কিছু সত্য যা জানা উচিত প্রতিটি ভারতবাসীর! তাই ধৈর্য ধরে লেখাটি শেষ পর্যন্ত পড়ুন।

    দিনটা ২৮শে ফেব্রুয়ারি। হঠাৎ করেই ইরানের ওপর আক্রমণ করে বসে আমেরিকা ও ইজরায়েল। খতম করে দেওয়া হয় ইরানের সর্বোচ্চ লিডার খামেইনিকে। আর তারপরেই শুর হয় আক্রমণ ও প্রতি-আক্রমণ। এমনকি এই সংঘর্ষের আঁচ ছড়িয়ে পড়ে কুয়েত, সৌদি আরব থেকে বাহারিনে।

    আর যুদ্ধ হলে এক নয়, একাধিক ক্ষতি যে হবেই সে কথাও কারোর অজানা নয়। কিন্তু, এই যুদ্ধে কেবল জড়িত দেশ আমেরিকা, ইজরায়েল, এবং ইরানের হয়েছে – তা কিন্তু নয়। এই যুদ্ধে ক্ষতি হয়েছে বিশ্বের একাধিক দেশের। আর এই যুদ্ধে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ভারতের। এবার আমরা আপনাদের সামনে এক এক করে তুলে ধরবো – কোন দেশের ঠিক কতটা ক্ষতি হয়েছে!

    আমেরিকা (America)

    প্রথমেই আসি আমেরিকায়। সারা বিশ্বের মধ্যে মার্কিন সেনাশক্তি যে ১ নম্বরে, সেটা কারও অজানা নয়। আমেরিকার সেনা খাতের বাজেট প্রায় ৯১ লক্ষ কোটি টাকা, যে টাকায় পাকিস্তানের মতো তিনটি দেশ কিনে ফেলা যায়।

    জানলে অবাক হবেন, ইরানের বিরুদ্ধে অপারেশন এপিক ফিউরি চালাতে আমেরিকা একদিনে খরচ করেছে প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা

    এর মধ্যে হামলায় খরচ ৭,২০০ কোটি,

    আর প্রস্তুতিতে ৫,৮০০ কোটি টাকা

    কিন্তু যুদ্ধ এখনও চলছে। রিপোর্ট বলছে, যুদ্ধের দ্বিতীয় দিন থেকে পরবর্তী ১০০ ঘণ্টায় আমেরিকা খরচ করেছে দৈনিক প্রায় হাজার কোটি টাকায়। আর এই খরচ ধীরে ধীরে পৌঁছাতে পারে ৮,৩০০ কোটি টাকায়

    পেন্টাগনের রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানের প্রথম সপ্তাহে খরচ হয়েছে প্রায় ৫৫,২০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৩৬,৮০০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে ইরানের হামলা প্রতিহত করতে।

    এই যুদ্ধে এখনও পর্যন্ত আমেরিকার জন সেনা নিহত হয়েছেন।

    কিন্তু এত খরচ হচ্ছে কেন?

    কারণ একটাই—সামরিক সরঞ্জাম। যেমন ধরুন, ইরানের বিরুদ্ধে এয়ারস্ট্রাইকে আমেরিকা ব্যবহার করছে B-2, B-52, B-1B, F-35-এর মতো আধুনিক ও ব্যয়বহুল বিমান। ব্যবহার করা হচ্ছে MQ-9 রিপারলুকাস ড্রোন, রকেট আর্টিলারি, হিমারস, এবং টমাহক ক্রুজ মিসাইল। একটি টমাহক মিসাইলের দামই প্রায় ১৮.কোটি টাকা

    ব্যবহার করা হয়েছে দুটি রণতরী—USS Gerald R Ford এবং USS Abraham Lincoln। একটি Aircraft Carrier Strike Group পরিচালনায় প্রতিদিন খরচ হয় প্রায় ৮৩ কোটি টাকা। এছাড়া আমেরিকা এখনও পর্যন্ত প্রায় ৭,৩৬০ কোটি টাকা মূল্যের ৪০০টি মিসাইল লঞ্চ করেছে।

    তবে আমেরিকা শুধু আক্রমণই করেনি, নিজেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    কাতারের আল-উদেইদ বেসে ইরানের বড় হামলায় ধ্বংস হয়েছে একটি সতর্কতা রাডার, যার দাম প্রায় ১০,১১৮ কোটি টাকা

    এছাড়া UAE-তে থাকা একটি THAAD-2 রাডার ধ্বংস হয়েছে, ক্ষতি প্রায় ৪,৬০০ কোটি টাকা

    কুয়েতে ইরান ধ্বংস করেছে আমেরিকার তিনটি F-15 স্ট্রাইক ইগল জেট, যার মূল্য প্রায় ২,৭৬০ কোটি টাকা

    এরপর বাহরেনে থাকা একটি প্রধান মার্কিন স্যাটেলাইট যোগাযোগ টার্মিনাল এবং একাধিক মার্কিন এয়ারবেসও ধ্বংস করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মোট প্রায় ১৮,৪০০ কোটি টাকার মার্কিন সামগ্রী নষ্ট হয়েছে।

    এই যুদ্ধে ইরান কিন্তু আমেরিকার বেশি ক্ষতি করাচ্ছে। কি বিশ্বাস হচ্ছে না? উদাহরণ দিলেই বুঝবেন। ইরানের একটি মিসাইলের দাম প্রায় ১৮.কোটি টাকা, কিন্তু সেটি আটকাতে আমেরিকাকে তিনটি প্যাট্রিয়ট এয়ার ডিফেন্স মিসাইল ছুঁড়তে হয়েছে, যার মোট খরচ প্রায় ১১০ কোটি টাকা। অর্থাৎ, একটি ইরানি মিসাইল আটকাতে আমেরিকার খরচ প্রায় গুণ বেশি

    এছাড়া ইরান হামলায় ব্যবহার করছে শাহিদ ড্রোন, যার দাম মাত্র ৩২ লক্ষ টাকা। আর সেগুলো ঠেকাতে ব্যবহার হচ্ছে হয় ১১৭ কোটি টাকার THAAD মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা ৩২ কোটি টাকার প্যাট্রিয়ট মিসাইল। অর্থাৎ, অনেক ক্ষেত্রেই আমেরিকার খরচ হচ্ছে ১০০ থেকে ৩৬০ গুণ বেশি

    বিশ্লেষকদের অনুমান, যদি সপ্তাহ যুদ্ধ চলে, তাহলে আমেরিকার ক্ষতি হতে পারে প্রায় ৯২,০০০ কোটি থেকে লক্ষ ১০ হাজার কোটি টাকা। আর যদি মাস চলে, যেমনটা মার্কিন রাষ্ট্রপতি বলেছেন, তাহলে এই খরচ দাঁড়াতে পারে প্রায় সাড়ে লক্ষ কোটি টাকায়

    শুধু তাই নয়, যুদ্ধের প্রভাবে আমেরিকার শেয়ার মার্কেটেও বড় ধস নেমেছে, যেখানে ইতিমধ্যেই গায়েব হয়েছে প্রায় ৮৩ লক্ষ কোটি টাকা

    ইজরায়েল (Israel)

    এবার আসি ইজরায়েলে। ইজরায়েল সারা বিশ্বের মধ্যে সেনা শক্তির দিক থেকে এক নম্বরে না থাকলেও, যথেষ্ট ভালো স্থানে রয়েছে। তাদের সামরিক বাজেট প্রায় ৪ লক্ষ ৩২ হাজার কোটি টাকা, যা পাকিস্তানের চার গুণ। আপনি যদি ইজরায়েলের সেনা শক্তি সম্পর্কে জানতে চান, তাহলে ক্লিক করুন আই বাটনে আর দেখে নিন আমাদের ইজরায়েল স্পেশাল ডিকোড ভিডিওটি।

    ২৮শে ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে রোরিং লায়ন” নামের যে অভিযান শুরু করেছিল ইজরায়েল, সেই অভিযানের সাপ্তাহিক খরচ পৌঁছেছে প্রায় ২৭,৫০০ কোটি টাকায়। বর্তমানে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চালাতে প্রতিদিন প্রায় ৬,৬৫২ কোটি টাকা সামরিক খরচ করছে ইজরায়েল। অর্থাৎ এখনও পর্যন্ত প্রায় ৬০,০০০ কোটি টাকা খরচ হয়ে গেছে। এই যুদ্ধে এখনও পর্যন্ত ১১ থেকে ১৩ জন ইজরায়েলি নাগরিক সেনার মৃত্যু হয়েছে

    তবে ইরানও পাল্টা আক্রমণ করছে ইজরায়েলে, মূলত রাজধানী তেল আভিভে। হামলায় প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরানের ঝাঁকে ঝাঁকে মিসাইল প্রতিহত করতে ইজরায়েলের কাছে রয়েছে উন্নত মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যার এক একটি ব্যবস্থার দাম কয়েক হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত।

    এর মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত আয়রন ডোম, যা রাডারের মাধ্যমে রকেট শনাক্ত করে আকাশেই ধ্বংস করে দেয়। প্রতিটি ইন্টারসেপশনে খরচ হয় প্রায় ৪৫ লক্ষ টাকা। এছাড়া রয়েছে অ্যারো-থ্রি হাইপারসনিক ইন্টারসেপ্টর এবং ডেভিড’স্লিং ইন্টারসেপ্টর। পাশাপাশি ব্যবহার করা হচ্ছে আয়রন বিম লেজার সিস্টেম, যা প্রায় ১০ কিমি দূরের মিসাইল ধ্বংস করতে পারে

    যুদ্ধের কারণে ইজরায়েল ব্যাপকভাবে রিজার্ভ সেনাদেরও ডেকে নিয়েছে। প্রায় থেকে লক্ষ রিজার্ভ সেনা সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছেন। ফলে অনেক শিল্পকারখানা, প্রযুক্তি কোম্পানি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কর্মী সংকটে পড়েছে।

    এছাড়া যুদ্ধের ফলে দেশের অনেক জায়গায় ব্যবসা, স্কুল বিমান চলাচল বন্ধ রয়েছে। উৎপাদন কমছে, পর্যটন বন্ধ হয়ে গেছে, আর বহু মানুষ বাঙ্কারে আশ্রয় নেওয়ায় শ্রমিক সংকট তৈরি হয়েছে। দেশের অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, মাত্র এক সপ্তাহেই প্রায় ২৭,৫০০ কোটি টাকার অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে।

    বিভিন্ন শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে আবাসিক ভবন, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা শিল্প অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এগুলো পুনর্গঠনের জন্য সরকারকে আরও কয়েক লক্ষ কোটি টাকা খরচ করতে হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, যদি যুদ্ধ দীর্ঘ সময় ধরে চলে, তাহলে ইজরায়েলের মোট অর্থনৈতিক ক্ষতি সাড়ে লক্ষ কোটি টাকারও বেশি হতে পারে।

    এছাড়া যুদ্ধের প্রভাবে ইজরায়েলের শেয়ার মার্কেট থেকেও প্রায় লক্ষ ২০ হাজার কোটি থেকে আড়াই লক্ষ কোটি টাকা উধাও হয়ে গেছে

    ইরান (Iran)

    এবার আসি ইরানে। হয়তো অনেকেরই মনে হচ্ছে এই যুদ্ধে এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছে ইরানেরই। কিন্তু বিভিন্ন রিপোর্ট বলছে ভিন্ন কথা। হ্যাঁ, এটা ঠিক যে তারা তাদের সুপ্রিম লিডার আলি খামেনিকে হারিয়েছে, কিন্তু আর্থিক দিক থেকে তাদের ক্ষতির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম।

    যুদ্ধ শুরুর আগেই ইরানের অর্থনীতি বেশ চাপের মধ্যে ছিল। একদিকে দাম বৃদ্ধি, অন্যদিকে আমেরিকার কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা। এর ওপর যুদ্ধের ফলে খাদ্য, জ্বালানি ও প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে, ফলে মুদ্রাস্ফীতিও বাড়বে

    তবে রিপোর্ট বলছে, ইরানের সামরিক বাজেট প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা, যা ইজরায়েলের প্রায় অর্ধেক। তবুও তারা এই যুদ্ধে আমেরিকা ও ইজরায়েলকে সমান তালে টেক্কা দিচ্ছে। এর পেছনে রয়েছে কয়েকটি কারণ—হেজবোল্লা, হামাস ও হুথিদের মতো প্রক্সি গ্রুপের সমর্থন, এবং রাশিয়া ও চীনের কাছ থেকে তুলনামূলক সস্তায় অস্ত্র সংগ্রহ

    যেমন ধরুন, ইরান এই যুদ্ধে ব্যবহার করছে বহুল পরিচিত Shahed-136 ড্রোন, যাকে আকাশপথের AK-47 বলা হয়। এর দাম মাত্র ৩২ লক্ষ টাকা। রয়েছে Fateh-110 ব্যালিস্টিক মিসাইল, যার দাম প্রায় ৪.৫ কোটি টাকা, রয়েছে Sejjil ব্যালিস্টিক মিসাইল, যার দাম প্রায় ১০ কোটি টাকা।

    বিশ্লেষকদের মতে, কয়েকটি বড় হামলায় তারা প্রায় ৬০০টি ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ১,০০০-এর বেশি ড্রোন ব্যবহার করেছে।

    ইরানের আধুনিক যুদ্ধ জাহাজ IRIS Dena ডুবে যাওয়ার ফলে ইরানের ক্ষতি শুধু জাহাজের দামে সীমাবদ্ধ নয়। এই জাহাজে ছিল: ঘাদের এবং নুর অ্যান্টি-শিপ মিসাইল, সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল, টর্পেডো লঞ্চার, র‍্যাডার ও সেন্সর সিস্টেম, হেলিকপ্টার অপারেশন ডেক, প্রশিক্ষিত ১৪০ জন ক্রু। সব মিলিয়ে এর বাস্তবে সামরিক মূল্য প্রায় ২৭৫৫ কোটি টাকা।

    এছাড়া আমেরিকার দাবি অনুযায়ী, তারা ইরানের ৩০টিরও বেশি জাহাজ ডুবিয়েছে

    আমেরিকা ও ইজরায়েলের হামলায় ইরানে এখনও পর্যন্ত প্রায় ১,৩০০ জন সাধারণ মানুষ সৈন্য নিহত হয়েছেন এবং ১৫৩টি শহর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে

    তবে ইরানের জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা তাদের তেল রপ্তানি নির্ভর অর্থনীতি। যুদ্ধের আগে ইরান প্রতিদিন প্রায় ১৭ লক্ষ ব্যারেল তেল উৎপাদন করত। তখন তেলের দাম ছিল প্রায় ৮০ ডলার প্রতি ব্যারেল, অর্থাৎ দৈনিক আয় প্রায় ১,২৪০ কোটি টাকা

    কিন্তু যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর অনেক তেলবাহী জাহাজ রুট পরিবর্তন করেছে, বীমা খরচ বেড়েছে, কিছু বন্দরে রপ্তানি কমেছে এবং কিছু তেল উত্তোলন কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে এখন দৈনিক উৎপাদন কমে প্রায় লক্ষ ব্যারেলে নেমে এসেছে। অর্থাৎ দৈনিক আয় কমে হয়েছে প্রায় ৭৩ কোটি টাকা। শুধু গত ১০ দিনেই তেল থেকে প্রায় ১১,৬০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

    সব মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৩৬,০০০ কোটি টাকাঅর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে ইরানের

    এছাড়া যুদ্ধের ফলে তেল শোধনাগার, গ্যাস প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র, সামরিক ঘাঁটি, ড্রোন উৎপাদন কেন্দ্র বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এগুলো মেরামত ও পুনর্গঠনে বিশ্লেষকদের মতে প্রায় ৪৫,৯০০ কোটি টাকা লাগতে পারে।

    অন্যদিকে, এই যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে ইরানের শেয়ার বাজারেও, যেখানে প্রায় লক্ষ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে

    এবার আপনাদের জানাবো ভারতের কথা। যারা যুদ্ধে অংশ নেয়নি, তা সত্ত্বেও বড়সড় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।

    ভারত (India)

    গত ১০ দিনে ভারতের শেয়ার মার্কেট থেকে গায়েব হয়ে গিয়েছে প্রায় ৩১ লক্ষ কোটি টাকা। যার ফলে মাথায় হাত পড়েছে ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের। আর শুধু ভারতেই নয়, এই যুদ্ধের আঁচে গা পুড়ছে অধিকাংশ দেশেরই।

    শুধুমাত্র, তেলের জন্যই অতিরিক্ত খরচ বাড়তে পারে দৈনিক ৪ লক্ষ ৯৬ হাজার কোটি টাকা! যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে, যেখান থেকে ভারত প্রতিদিন আড়াই থেকে ২.৭ মিলিয়ন ব্যারেল তেল আনে। ইরানের IRGC বলেছে, বর্তমানে এক ব্যারেল তেলের দাম সারা বিশ্বে ৮১ ডলার। কিন্তু তারা সেটাকে ২০০ ডলারে নিয়ে যেতে চাইছে। তাদের মতো মূল্যবৃদ্ধি সব দেশে হোক তারা সেটার চাইছে। আর এর প্রভাব ইতিমধ্যেই দেখা গিয়েছে অনেক দেশে। কারণ যুদ্ধের কারণে তেলের দাম ইতিমধ্যেই ব্যারেল প্রতি ১১৪ ডলারে পৌঁছেছে। ফলে পরিবহন খরচ, শিল্প উৎপাদন, বিমান পরিবহন, বিদ্যুৎ উৎপাদন – সব ক্ষেত্রেই ব্যয় বাড়বে।তেলের দাম প্রতি ১ ডলার বাড়লে ভারতের অতিরিক্ত খরচ হয় প্রায় ১৬,০০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ ৩১ ডলার বেড়ে যাওয়া মানে এই অতিরিক্ত খরচের পরিমাণ কতটা বেড়ে যেতে পারে আশা করছি সেটা বুঝতেই পারছেন! আর তেলের দাম বাড়লে গাড়ি ভাড়া বাড়বে, ফলে বাড়বে জিনিসপত্রের দাম।

    যদিও, আপাতত রাশিয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকা ভারতকে তেল পাঠাচ্ছে এবং ভারতের কাছে যথেষ্ট তেল মজুদ রয়েছে তাই এখনই এই দুর্দিন আসছে না।

    ভারতের অন্যান্য শক্তিও ক্ষতির সম্মুখীন! এছাড়া, ভারতের ৬০ শতাংশ জ্বালানি শক্তি আসে ইরাক, সৌদি আরব, কুয়েত, UAE থেকে, আর এর মধ্যে সবগুলোতেই আক্রমণ করেছে ইরান। ফলত, ২০২৬ সালের ৭ মার্চ থেকে ভারতে ১৪.২ কেজি LPG সিলিন্ডারের দাম ৬০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। এবং একই সঙ্গে ১৯ কেজি কমার্শিয়াল সিলিন্ডারের দাম ১১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। যার আঁচ পড়েছে সরাসরি সাধারণ মানুষের পকেটের ওপর।

    ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে রপ্তানিও! এছাড়া, ভারত অনেক পণ্য বিদেশে রপ্তানি করে যেগুলি বন্ধ হলে, ভারত আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ভারত ২০২৫ সালে ২৩ বিলিয়ন ডলারের আইফোন UAE -তে রপ্তানি করেছিল। এছাড়াও, ভারত সাড়ে চার বিলিয়ন ডলারের বৈদ্যুতিক এবং প্রযুক্তিগত পণ্য মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলিতে রপ্তানি করে, এবার সেটাও হরমুজের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সংক্ষেপে, ভারতের ১৭% রপ্তানি যায় ওই অঞ্চলে, প্রায় ১ কোটি ভারতীয় সেখানে কাজ করে। যদি যুদ্ধ দীর্ঘ হয় তাহলে ভারতের রেমিট্যান্স কমতে পারে, ভারতীয় কোম্পানির ব্যবসা কমতে পারে।

    তো এবার কী এই যুদ্ধ আমার আপনার পকেটে টান ফেলবে? জানাতে ভুলবেন না আপনাদের মতামত কমেন্ট করে।

  • মিসাইল ছুঁড়লেই শেষ! ভয়েই হরমুজ পেরোতে পারল না বাংলাদেশের জাহাজ

    মিসাইল ছুঁড়লেই শেষ! ভয়েই হরমুজ পেরোতে পারল না বাংলাদেশের জাহাজ

    বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: ইরান যুদ্ধে হরমুজে (Strait of Hormuz) আটকে ছিল বিশ্বের একাধিক দেশের পণ্যবাহী তরী। তেহরানের তরফে নতুন ঘোষণা পাওয়া মাত্রই আমেরিকা, ইজরায়েল এবং তাদের মিত্র শক্তি ছাড়া বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলি একে একে নিজেদের জাহাজ নিয়ে ফিরতে শুরু করেছে। এরই মাঝে বেকায়দায় পড়েছে বাংলাদেশের (Bangladesh) জাহাজ। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালীতে আটকে রয়েছে বাংলাদেশের শিপিং কর্পোরেশনের জাহাজ এমভি বাংলার জয়যাত্রা। এই বুঝি মিসাইল ছুঁড়ে সব কিছু তছনছ করে দেয় সেই ভয়ে হরমুজ পেরোতে পারেনি জাহাজটি।

    জাহাজে আটকে 31 জন বাংলাদেশী নাবিক

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত 12 মার্চ হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রবেশ করে 66 ন্যাটিক্যাল মাইল দূরে গিয়ে দাঁড়িয়েছিল জাহাজটি। পরবর্তীতে ইরানের মিসাইল হামলার খবর পাওয়া মাত্রই সেখানেই চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকেন জাহাজের নাবিকরা। এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর কোস্টগার্ডদের তরফে নিরাপত্তার কারণে ওই জাহাজটিকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। আর তারপর জাহাজটি পারস্য উপসাগর দিয়ে পুনরায় ফিরে যায়।

    প্রথম আলোর প্রতিবেদন বলছে, ওই জাহাজ বর্তমানে UAE র শারজা বন্দরের কাছাকাছি রয়েছে। সূত্রের খবর, জাহাজটি কাতার থেকে নতুন করে কিছু পণ্য তোলার পরিকল্পনা করছিল। জানা গিয়েছে, 11 মার্চ এই জাহাজের নাবিকদের জেবেল আলী বন্দরে পণ্য নামিয়ে কুয়েতের নতুন পণ্য তোলার পরিকল্পনা ছিল। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতি ক্রমশ ভয়াবহ মোড় মিলে তা সম্ভব হয়নি। এর মাঝে সদ্য ইরানের তরফে বিশ্বের একাধিক দেশের জন্য হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার খবর পাওয়ার সত্ত্বেও জাহাজটি নতুন করে মিসাইল হামলার ভয়ে হরমুজ প্রণালী পেরোতে পারেনি। জানা গিয়েছে, ওই জাহাজে বর্তমানে 31 জন বাংলাদেশি নাবিক আটকে রয়েছেন।

    অবশ্যই পড়ুন: বিশ্বকাপ শেষ হতেই এবার পাকিস্তানের অধিনায়ককে শাস্তি দিল ICC

    প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের একাধিক সংবাদমাধ্যম দাবি করছে হরমুজ প্রণালীতে আটকে পড়া বাংলাদেশের ওই জাহাজটিকে নিরাপদে ইরানের নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে তৎপর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ইতিমধ্যেই নাকি ওই জাহাজটিকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে নিয়ে আসতে কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়েছে ওপার বাংলার নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়।

  • এদের জন্য হরমুজ প্রণালীর দরজা খুলে দিল ইরান, তালিকায় ভারতও?

    এদের জন্য হরমুজ প্রণালীর দরজা খুলে দিল ইরান, তালিকায় ভারতও?

    বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের মাঝেই মিলল স্বস্তির খবর। গোটা বিশ্বে তেল সরবরাহের যে পথ অর্থাৎ হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) নিয়ে এবার বড়সড় সুখবর দিল ইরান (Iran)। কঠিন সময়ে ইরানের তরফে একেবারে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু দেশ বাদে বিশ্বের প্রত্যেকটি দেশ হরমুজ দিয়ে তেল সহ LPG ও অন্যান্য জ্বালানি নিয়ে যেতে পারবে। ছাড়পত্র দেওয়া দেশগুলির জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালাবে না তেহরান।

    এই দেশগুলি হরমুজে ছাড়পত্র পেল না

    ইরানের মূল শত্রুতা আমেরিকা এবং ইজরায়েলের সাথে। প্রথমে এই দুই দেশই যৌথভাবে তেহরানের উপর জোরালো হামলা চালিয়েছে। তাতেই মৃত্যু হয় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির। যে ঘটনার পর একেবারে পাগলের মতো প্রত্যাঘাত শুরু করে পশ্চিম এশিয়ার এই দেশটি। বন্ধ করে দেওয়া হয় হরমুজ প্রণালী। ইরানের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়, হরমুজ দিয়ে যদি কেউ তেল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে তবে জাহাজে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হবে।

    বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলির জন্য হরমুজে যাতায়াত বন্ধ করলেও প্রথমে রাশিয়া এবং চিনের জন্য সম্পূর্ণ খোলা ছিল হরমুজের দরজা। পরবর্তীতে সেই তালিকায় যুক্ত হয় ভারতও। নয়া দিল্লিকে বন্ধু সম্মোধন করে এদেশের জন্য হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করে দেয় তেহরান। তবে এবার ইরানের তরফে একেবারে স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয়া হলো, আমেরিকা। ইজরায়েল এবং তার মিত্র দেশগুলি ছাড়া বিশ্বের সমস্ত দেশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিজেদের প্রয়োজনীয় জ্বালানি আমদানি এবং রপ্তানি করতে পারবে।

     

    অবশ্যই পড়ুন: “জঘন্য ফুটবল খেলছে ইস্টবেঙ্গল!” কোচের পদ হারাবেন অস্কার?

    সহজ ভাষায় বলতে গেলে, হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত তেল সরবরাহ নিয়ে তৈরি হয় ঘোর সংকট। সেটা বুঝতে পেরেই এবার আমেরিকা এবং ইজরায়েল ও তাদের মিত্রশক্তিগুলি ছাড়া বিশ্বের সমস্ত দেশের জন্য হরমুজের দরজা খুলে দিল ইরান। এর মধ্যে দিয়ে বোঝাই যাচ্ছে, যে দেশ আমেরিকা এবং ইজরায়েলকে সমর্থন করছে এবং আগামীতে করবে তাদের জন্য এই বিশেষ জলপথ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে।

  • ভারত প্রসঙ্গে আমেরিকাকে একহাত নিলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী! যা বললেন তিনি

    ভারত প্রসঙ্গে আমেরিকাকে একহাত নিলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী! যা বললেন তিনি

    বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা কমার বদলে ক্রমশ বেড়েই চলেছে (Iran Foreign Minister On America)। আমেরিকা এবং ইজরায়েলের যৌথ হামলার প্রত্যাঘাত করেছিল ইরান। তারপর থেকে যুদ্ধ বড় আকার নেয়। এদিকে ইরান যুদ্ধের আঁচ পড়েছে জ্বালানির উপর। এর অন্যতম কারণ, যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে গোটা বিশ্বের বিপুল পরিমাণ তেল আমদানি হয় সেটাই বন্ধ করে রেখেছে ইরান। যার ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের দাম লাফিয়ে বাড়ছে। এমতাবস্থায়, এবার আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরাসরি আক্রমণ করলেন ইরানের বিদেশ মন্ত্রী। তুললেন রাশিয়া থেকে ভারতের (India) তেল কেনার প্রসঙ্গও।

    ভারত নিয়ে আমেরিকাকে কটাক্ষ ইরানের বিদেশমন্ত্রীর

    সম্প্রতি ভারত প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আমেরিকাকে সরাসরি কটাক্ষ করেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। খামেনির দেশের বিদেশ মন্ত্রী বললেন, “আমেরিকা প্রথমে ভারতকে রাশিয়া থেকে তেল না কেনার জন্য চাপ দিয়েছিল। এখন তারাই গোটা বিশ্বকে রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য অনুরোধ করছে।” নিজের এক্স হ্যান্ডেলে একটি সংবাদপত্রের অংশ বা পেপার কাটিং পোস্ট করে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা জানানোর পাশাপাশি ইউরোপকেও নিশানা করেন।

    ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে এও লেখেন, “ইউরোপ ভেবেছিল ইরানের বিরুদ্ধে এই অবৈধ যুদ্ধে আমেরিকাকে সমর্থন করে তারা রাশিয়ার বিরুদ্ধে আমেরিকাকে পাশে পাবে। কত দুঃখজনক!” এক কথায়, ডোনাল্ড ট্রাম্প যে নিজের সুবিধামতো বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলির উপর চাপ সৃষ্টি করে সেটাই একেবারে খাতায় কলমে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

     

    অবশ্যই পড়ুন: নতুন পেসারকে নিয়েও বড়সড় বিপদে পড়তে চলছে KKR!

    উল্লেখ্য, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরেই রাশিয়া থেকে তেল আমদানির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল আমেরিকা সহ পশ্চিমী দুনিয়া। সেই সাথে ভারত যাতে রাশিয়া থেকে তেল না কেনে সে জন্য বহুবার নরমে গরমে বুঝিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ইরানের সাথে সংঘাত শুরু হলে সেই ট্রাম্পই সম্প্রতি ভারত সহ বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলিকে 30 দিনের জন্য রাশিয়া থেকে তেল আমদানির ছাড়পত্র দিয়েছে।

  • হরমুজে ছার নেই ভারতেরও, জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়নি! বলে দিল ইরান

    হরমুজে ছার নেই ভারতেরও, জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়নি! বলে দিল ইরান

    বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতের জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে ইরান (Iran On India)। সকাল থেকেই শোনা যাচ্ছে এমন খবর। একাধিক রিপোর্টে দাবি করা হচ্ছে, ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সাথে নাকি কথা হয়েছে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির। আর তারপরেই নাকি হরমুজ দিয়ে ভারতীয় পণ্যবাহী জাহাজ (Oil Tanker) চলাচলের ছাড়পত্র দেয় তেহরান। এবার এমন দাবি সরাসরি খারিজ করে দিল আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দেশ। তেহরানের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এই মর্মে ভারতের সাথে কোনও আলোচনা বা চুক্তি হয়নি।

    ভারতের জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেয়নি ইরান

    বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই শোনা যাচ্ছে, ভারতের দুই তৈলবাহী জাহাজ পুষ্পক এবং পরিমলকে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে দেশে ফিরে আসার অনুমতি দিয়েছে ইরান। এও শোনা যাচ্ছিল, ভারতীয় বিদেশমন্ত্রীর বক্তব্যের পরই কূটনৈতিক পদক্ষেপে ইরানের মন গলে যায়। তারপরেই নাকি রাশিয়া এবং চিনের মতো ভারতের জাহাজ হরমুজ দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেয় তেহরান। এবার সেই দাবি সরাসরি খারিজ করলো পশ্চিম এশিয়ার দেশটি।

    টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান জানিয়েছে এই ধরনের দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা। ভারতের জন্য আলাদা করে কোনও বিশেষ ব্যবস্থা করেনি তারা। ভারতের দুই জাহাজ হরমুজ পেরিয়ে অনেকটাই চলে এসেছে বলে জানা যাচ্ছিল এতক্ষণ। তবে ইরান সেই দাবি খারিজ করে জানাচ্ছে, হরমুজ প্রণালীতে প্রবেশের আগে অবশ্যই তাদের অনুমতি নিতে হবে। অন্যথায় সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

    অবশ্যই পড়ুন: IPL শুরুর আগেই বড় ক্ষতি হয়ে গেল KKR তারকার!

    ইরানের তরফে ভারতীয় জাহাজ চলাচলের দাবি নস্যাৎ করার মাত্রই ফের বাড়ছে উদ্বেগ। বলাই বাহুল্য, বৃহস্পতিবার আমেরিকার জাহাজ লক্ষ্য করে জোরালো হামলা চালায় ইরান। দাউদাউ করে জ্বলতে থাকে সেই পণ্যবাহী তরী। এদিকে সংবাদ সংস্থা IANS জানিয়েছে, পুষ্পক এবং পরিমল নামক দুই ভারতীয় তেলের ট্যাংকার নিরাপদে হরমুজ পেরিয়েছে। তবে আমেরিকা, ইউরোপ এবং ইজরায়েলের জাহাজগুলি আটকেই রয়েছে।

  • ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলেও এই দেশগুলির তেল শেষ হবে না! তালিকায় আছে ভারত?

    ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলেও এই দেশগুলির তেল শেষ হবে না! তালিকায় আছে ভারত?

    বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: থেমে থেমে অশান্ত হয়ে পড়ছে মধ্যপ্রাচ্য। আমেরিকা এবং ইজরায়েলের তরফে যে সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছিল তা বর্তমানে বহন করছে ইরান (Iran)। পরিস্থিতি কিছুটা বদলালেও ফের চরমে পৌঁছেছে উত্তেজনা। এদিকে ইরান এবং ইজরায়েল যুদ্ধ নিয়ে উদ্বিগ্ন গোটা বিশ্ব। বিশ্লেষক মহলের অনেকেই বলছেন, আপাতদৃষ্টিতে মনে হলেও এই যুদ্ধ এখনই থামবার নয়। এদিকে যুদ্ধের আবহে হরমুজ প্রণালীতে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ইরান। পশ্চিম এশিয়ার এই দেশ স্পষ্ট বলেছে হরমুজ থেকে যদি কোনও দেশ তেল (Oil Reserves) নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে জাহাজে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হবে। যদিও ভারতীয় বিদেশমন্ত্রীর পদক্ষেপে হরমুজ থেকে ছাড়া হয়েছে ভারতীয় জাহাজ। কিন্তু তাও উদ্বেগ বাড়ছে পেট্রোল এবং ডিজেলের দাম নিয়ে।

    গোটা বিশ্বে বাড়ছে তেলের দাম!

    একাধিক আন্তর্জাতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধের আবহে বিশ্বের বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম 30 শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। কিছু কিছু জায়গায় অপরিশোধিত তেলের মূল্য ব্যারেল প্রতি 100 ডলারে পৌঁছেছে। তবে গোটা বিশ্বে তেলের দাম বাড়লেও ভারতে এখনও তেলের বাজার স্থিতিশীল। দাম বাড়েনি পেট্রোল এবং ডিজেলের। যদিও LPG র ঘাটতির কারণে রান্নার গ্যাসের দাম 60 টাকা বেড়েছে। দাম বেড়েছে পরিবহন জ্বালানি অর্থাৎ অটো গ্যাসের দামও। এমতাবস্থায় প্রশ্ন উঠছে, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে পেট্রোল এবং ডিজেল নিয়ে বিশেষ সমস্যায় পড়বে না কোন দেশগুলি?

    বলাই বাহুল্য, গোটা বিশ্বে জ্বালানি তেল মজুদের নিরিখে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে আমেরিকা। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরকার প্রায় 700 মিলিয়ন ব্যারেল তেল মজুদ করে রেখেছে। যা বিশ্বের বৃহত্তম এবং সবচেয়ে নিরাপদ রাষ্ট্রায়ত্ত তেল মজুদ। এছাড়াও জ্বালানি তেল মজুদ করে রাখার নিরিখে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে চিন। ড্রাগনের কাছে এই মুহূর্তে প্রায় 400 থেকে 500 মিলিয়ন ব্যারেল তেল মজুদ রয়েছে। তৃতীয় স্থানে রয়েছে জাপান। এই দেশের কাছে সরকারি এবং বেসরকারি মজুদ মিলিয়ে 440 মিলিয়ন ব্যারেল তেল রয়েছে।

    অবশ্যই পড়ুন: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে FIR দায়ের বিশ্ব হিন্দু পরিষদের!

    তালিকার চতুর্থ স্থানে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। এই দেশটির কাছে রয়েছে 200 মিলিয়ন ব্যারেল তেল। পঞ্চম স্থানে নাম লিখিয়েছে জার্মানি। এই দেশের কাছে প্রায় 170 মিলিয়ন ব্যারেল তেল মজুদ রয়েছে। 6 নম্বরে নাম রয়েছে ফ্রান্সের। তাদের কাছে রয়েছে 120 মিলিয়ন ব্যারেল তেল। এর পাশাপাশি 76 মিলিয়ন ব্যারেল তেল নিয়ে সপ্তম স্থানে রয়েছে ইতালি, 60 থেকে 70 মিলিয়ন ব্যারেল তেল নিয়ে অষ্টম স্থানে রয়েছে ব্রিটেন এবং নবম স্থানে জায়গা হয়েছে ভারতের। নয়া দিল্লির হাতে রয়েছে 5.33 মিলিয়ন মেট্রিক টন তেল। এছাড়াও শেষ অর্থাৎ দশম স্থানে রয়েছে স্পেন। এই দেশের কাছে 30 থেকে 50 মিলিয়ন ব্যারেল তেল আছে। অনেকেই মনে করছেন, যুদ্ধ দীর্ঘ দীর্ঘায়িত হলেও এই দেশগুলির পেট্রোল শেষ হবে না সহজে!

  • India Hood Decode: কেন ৫৭টি মুসলিম দেশ ভয় পায় ইজরায়েলকে? কেনই বা তাদের হারানো অসম্ভব?

    India Hood Decode: কেন ৫৭টি মুসলিম দেশ ভয় পায় ইজরায়েলকে? কেনই বা তাদের হারানো অসম্ভব?

    দিনটা ২০২৬-এর ২৮শে ফেব্রুয়ারি। সকাল ঠিক ৬টা বেজে ৪৫ মিনিট। ইজরায়েল (Israel) থেকে টেকঅফ করে একটি ফাইটার জেট। এই জেটে ছিল এমন কিছু মিসাইল, যা ১০০০ কিমি দূরে থাকা টার্গেটকেও খতম করতে পারে নিমেষে।

    এরপর, এয়ারস্পেসের নজরদারি এড়িয়ে ইরানের গা ঘেঁষে বেশ কিছুক্ষণ উড়তে থাকে ওই ফাইটার জেট। তারপর ঠিক ৯টা ৫০ বাজতেই, হামলা চালায় ইরানের পাস্তার স্ট্রিটের এক বিল্ডিংয়ে। একটি নয়, দুটি নয়, লঞ্চ করা হয় একসাথে ৩০টি মিসাইল। আর সেখানে তখন মিটিংয়ে ব্যস্ত ছিলেন ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়েতুল্লাহ খামেইনি সহ ইরানের বেশ কিছু তাবড় তাবড় নেতা। আর হামলার মুহূর্তের মধ্যেই খতম হয়ে যায় প্রায় প্রত্যেকে।

    তবে, আয়েতুল্লাহ খামেইনি কিন্তু ছোটখাটো কোনও নেতা ছিলেন না। তিনি ছিলেন ইরানের সর্বাধিনায়ক, সবথেকে সুরক্ষিত একজন ব্যাক্তি। এমনকি ইরানে যখনই কোনও বড় কিছু হত, খামেইনি মুহূর্তের মধ্যে গায়েব হয়ে যেত। অধিকাংশ সময়েই তিনি বিভিন্ন শেফ হাউস কিংবা বাঙ্কারে গা ঢাকা দিয়ে থাকতেন।

    তাহলে এত কিছুর পরেও তাঁকে কীভাবে খুঁজে পেল ইজরায়েল? কীভাবে ইরানের ডিফেন্সকে বোকা বানিয়ে চালানো হল এই নিখুঁত হামলা?

    জানলে অবাক হবেন, ভারতের স্বাধীনতার পর তৈরি হওয়া এই দেশের জনসংখ্যা এক কোটিরও কম, অথচ ক্ষমতার দিক দিয়ে কাবু করতে পারে বিশ্বের তাবড় তাবড় দেশগুলিকে।

    চারিদিকে শত্রু দিয়ে ঘেরা থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যে একাই রাজত্ব করে এই দেশ!

    না আছে তেল, না আছে কয়লা, না আছে চাষের জন্য কোনও উর্বর জমি – অথচ আর্থিক ও সামরিক – সব দিক দিয়েই উন্নত এই দেশ।

    এমনকি তাদের ডিফেন্স সিস্টেমকে ভয় পায়, সারা বিশ্বের ২০০ কোটি জনসংখ্যার ৫৭টি মুসলিম দেশ। জানলে অবাক হবেন, স্বয়ং আমেরিকাও ভয় পায় ইজরায়েলকে!

    কিন্তু ভাবুন তো, সম্পূর্ণ মরুভুমিতে ঢাকা এই দেশ, যেখানে কোনও প্রাকৃতিক সম্পদ নেই – সেখানে এত টাকা এল কোথা থেকে? মাত্র ৯৪ লক্ষের দেশ আর্থিকভাবে এতটা শক্তিশালী কীভাবে?

    গুগল হোক বা ফেসবুক – এগুলিকে আমেরিকান কোম্পানি মনে হলেও, এগুলির পেছনে রয়েছেন ইজরায়েলি নাগরিক। প্রযুক্তিগতভাবে এই দেশ এতটাই উন্নত যে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত আপনি তাদের ওপরেই নির্ভরশীল!

    শুধু তাই নয়, সামরিক দিক দিয়ে এই দেশ এতটাই অ্যাডভান্স, যে এই দেশ থেকেই ফাইটার জেট থেকে শুরু করে মিসাইল কেনে ইউরোপ, আমেরিকা, ভারত সহ মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশ! আর এই দেশের গোয়েন্দা সংস্থা সবার ধরা ছোঁয়ার বাইরে, তাদের এক একটা মিশন সম্পর্কে জানলে মাথা ঘুরে যাবে আপনার! তারা ছড়িয়ে রয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে!

    আজ India Hood ডিকোড-এ আমরা তুলে ধরবো এমন কিছু তথ্য, যা পাল্টে দেবে ইজরায়েল সম্পর্কে আপনার সমস্ত ধারণা। তাই ধৈর্য ধরে লেখাটি শেষ পর্যন্ত দেখুন।

    টার্গেট খামেইনি!

    ইরান ও ইজরায়েলের এই দ্বন্দের সূত্রপাত কিন্তু আজকের নয়। এই দ্বন্দের সূত্রপাত হয় ইজরায়েলের জন্মের সময় থেকেই। আর এর পেছনের মূল কারণ ইজরায়েলের বাসিন্দা জিউশ অর্থাৎ ইহুদীরা। কারণ ইহুদীদের বেশ কিছু কারণে পছন্দ করতেন না মুসলিমরা। তাই ইহুদীদের রাষ্ট্র ইজরায়েলকে কখনোই মন থেকে মেনে নিতে পারেনি ইরান।

    তবে, কেবল এই একটি নয়, সময়ের সাথে সাথে এই দ্বন্দের আগুনে ঘিয়ের কাজ করেছে আরও একাধিক কারণ। যার মধ্যে অন্যতম হল – পরমাণু শক্তি।

    আপনি যদি ইরান আর ইজরায়েলের শত্রুতার ইতিহাস সম্পর্কে সবিস্তারে জানতে চান, তাহলে এই নিয়ে আমাদের একটি বিস্তারিত ভিডিও রয়েছে। আপনি আই বাটনে ক্লিক করে দেখে নিতে পারেন ইরান-ইজরায়েল ডিকোড ভিডিওটি!

    তবে দ্বন্দের কারণ যাই হোক না কেন, ইরানের সুপ্রিম লিডারকে মারাটা মোটেও সহজ ছিল না।

    কিন্তু এই অসম্ভবকে সম্ভব করার জন্য ইজরায়েলকে করতে হয়েছে বছরের পর বছর ধরে অপেক্ষা।

    জানলে অবাক হবেন, ইরানের রাজধানী তেহরানের ট্র্যাফিক ক্যামেরা গত ১০ বছর ধরে হ্যাক করে রেখেছিল ইজরায়েল। যা থেকে ইরানের রাস্তার প্রতিটি কোণায় নজরদারি চালিয়েছিল তারা। নজর রাখা হয়েছিল বিভিন্ন নেতৃত্বদের ওপরেও। এমনকি ইরানের নেতৃত্বের মধ্যেও এমন একজন ছিলেন যিনি এই সব তথ্যের নিশ্চয়তা দিয়েছিলেন ইজরায়েলকে।

    ফলত কোন নেতা কার সাথে আসছে, কোন নেতার ডেলি রুটিন কি? কে কতগুলো গাড়ি নিয়ে আসে? কে কোথা দিয়ে কখন যায়? সব তথ্যই মজুদ ছিল ইজরায়েলের গোয়েন্দা বিভাগের কাছে। পাশাপাশি ছিল কলিং ডেটা থেকে শুরু করে কথোপকথনের ইতিহাস এমনকি লোকেশন সহ সবকিছুই।

    আর এই সমস্ত তথ্য বিশ্লেষণ করার জন্য ইজরায়েল তৈরি করেছিল এমন একটি অ্যালগরিদম, যা সবকিছু বিশ্লেষণ করতো এবং নিয়মের বাইরে কিছু হলেই সেগুলোকে পয়েন্ট আউট করতো। সেই সবকিছু থেকেই জানা যায়, ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ইরানের পাস্তার স্ট্রিটের কাছেই ওই বিল্ডিংয়ে ইরানের বেশিরভাগ নেতৃত্বরা একসাথে থাকবে। থাকবেন খামেইনি-ও। এই একই তথ্যের নিশ্চয়তা দিয়েছিল আমেরিকার গোয়েন্দা বিভাগ CIA-ও।

    আর তারপরেই, ঠিক সময়ে, নিখুঁতভাবে হামলা চালায় ইজরায়েলি এয়ারফোর্স। আর বাকিটা তো আপনাদের জানাই।

    অর্থাৎ, একদিকে প্রযুক্তিগত উন্নতি আর অন্যদিকে নিজেদের গোয়েন্দা বিভাগের সক্রিয়তা – এই দুইয়ে মিলেই এই মিশনকে সফল করেছে ইজরায়েল।

    কিন্তু, একদিনে কি এতটা শক্তিশালী, এতটা উন্নত হয়েছে ইজরায়েল?

    একদমই না। ১৯৪৮ সালের আগে ইজরায়েল নামের কোনও দেশই ছিল না। ১৯৩০ সালে হিটলার যখন ইহুদীদের বিভিন্নভাবে অত্যাচার এবং মারধর করছিল, তখন এই ইহুদিরা নিজেদের সুরক্ষার্থে ইউরোপ ছেড়ে পালাতে থাকে। এবং তারা প্যালেস্টাইনকে নিজেদের পূর্বপুরুষদের ভূমি হিসেবে মনে করতো তাই সেখানে অনুপ্রবেশ করা শুরু করে। কিন্তু, সেখানের আরব লোকেরা ইহুদীদের আগমনকে মেনে নেয়নি। ফলে তারাও ইহুদীদের ওপর শুরু করে অত্যাচার। আর ওই সময়ে ব্রিটিশরাও ইহুদীদের বিরুদ্ধে নানা রকম পদক্ষেপ নেয়, ফলত শুরু হয় এক বিশাল বড় দাঙ্গা।

    এরপর ১৯৪৭ সালে এই বিষয়টি জাতিসংঘে গিয়ে পৌঁছায়। আর ওই বছরের নভেম্বর মাসে প্যালেস্টাইন ভাগের প্রস্তাব পাশ হয়। পুরো ভুখন্ডকে হাফ হাফ করে ইজরায়েল আর প্যালেস্টাইন বানানো হয়।

    ১৯৪৮ সালের ১৪ই মে, ডেভিড বেন গুরিয়েন ইজরায়েলের প্রতিষ্ঠা করে। পশ্চিম এশিয়ার এই দেশ ভুমধ্যসাগরের সাথে অবস্থিত, যার উত্তরে রয়েছে লেবানন, পূর্বে জর্ডান, দক্ষিণে ইজিপ্ট সহ আরও একাধিক আরব দেশ।

    ইজরায়েলের দক্ষিণ পশ্চিমে রয়েছে গাজা আর পূর্বে রয়েছে ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক, যা নিয়ে প্যালেস্টাইন গঠিত। কিন্তু, ইজরায়েল দেশের মর্যাদা পেয়ে গেলেও, প্যালেস্টাইন এখনও দেশের মর্যাদা পায়নি।

    যদিও স্বাধীনতার পর থেকেই, ১৯৪৮, ১৯৬৭ আর ১৯৭৩ সালে আরব দেশ আর ইজরায়েলের মধ্যে বড় বড় তিনটি যুদ্ধ হয়। সবেতেই ইজরায়েল জয়লাভ করে। ১৯৭৩ সালের যুদ্ধের পর অধিকাংশ আরব দেশ ইজরায়েলের সাথে সমঝোতা করে নিলেও, প্যালেস্টাইন ও ইরানের মতন অন্যান্য চরমপন্থীরা এই শত্রুতা রেখে দেয়।

    তবে, এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমেরিকা প্রথম থেকেই ইজরায়েল এবং ইহুদীদের সমর্থন করে এসেছে। আর সেই সমর্থন এক সময়ে নিয়ন্ত্রণে পরিনত হয়েছে। না এটা ভাববেন না, আমেরিকা ইজরায়েলকে নিয়ন্ত্রণ করে, বরং ইজরায়েল আমেরিকাকে নিয়ন্ত্রণ করে।

    হ্যাঁ ঠিকই শুনেছেন।

    আর এর কারণ, ইজরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা, শিক্ষা, জীবনযাত্রার মান, প্রযুক্তিগত উন্নতি, আবিষ্কার, প্রতিরক্ষা আর জাতীয়তাবাদী মনোভাব। ইজরায়েলের রয়েছে একাধিক উন্নতমানের গোয়েন্দা সংস্থা, যেমন – মোসাদ, শীন বেত, আমান।

    আর এই খামেইনিকে মারা হোক কিংবা ইজরায়েলের প্রতিরক্ষা, কিংবা শত্রুকে বের করে খতম করা সব ক্ষেত্রেই রয়েছে মোসাদের ভূমিকা। এদেরকে সারা বিশ্বের মধ্যে সেরা গোয়েন্দা সংস্থা হিসাবে মনে করা হয়। এদের থেকে মাঝে মাঝে ট্রেনিং নিতে যায় স্বয়ং আমেরিকার গোয়েন্দা বিভাগ CIA।

    এখন যদি আপনি মোসাদ এবং মোসাদের বিভিন্ন মিশন সম্পর্কে একটি বিস্তারিত ভিডিও চান, তাহলে কমেন্টে লিখুন MOSSAD। যদি ৫০০ জন কমেন্টে MOSSAD লেখেন। তাহলে আমরা আপনাদের জন্য এই বিষয়ে একটি বিস্তারিত ডিকোড ভিডিও করবো।

    এবার জানবো, ঠিক কী কী কারণে এতটা উন্নত হল ইজরায়েল?

    প্রথম কারণ – নেতৃত্ব

    ইজরায়েলের এত উন্নতি, এত প্রভাব-প্রতিপত্তি, এত অর্থ – এই সবের পেছনে রয়েছে ইজরায়েলের নেতৃত্ব।

    ১৯৮৪ সাল নাগাদ, এই দেশের মূল্যবৃদ্ধি যেখানে বেড়ে গিয়েছিল ৪৪৫ শতাংশে, এক বছর পরে অর্থাৎ ১৯৮৫ সালে সরকারের বেশ কিছু নীতির ফলে সেই মূল্যবৃদ্ধি নেমে আসে মাত্র ২০ শতাংশে। অর্থাৎ সুদক্ষ নেতৃত্ব দিয়েই এই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পেরেছিল ইজরায়েল।

    দ্বিতীয় কারণ – প্রতিটি নাগরিকই সেনা

    দেশের প্রতিটি নাগরিকের মধ্যে জাতীয়তাবাদী ও দেশপ্রেম জাগানোর জন্য ইজরায়েলে রয়েছে একটি বিশেষ নিয়ম। সেখানে ১৮ বছরের পর প্রতিটি নাগরিকের মিলিটারি প্রশিক্ষণ নেওয়া বাধ্যতামূলক। অর্থাৎ ভাবুন, দেশের সব নাগরিকই সেনা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। বর্তমানে ইহুদিরা বিশ্বের যে প্রান্তেই থাকুক, তাদের শিকড়, তাদের আনুগত্যতা রয়েছে শুধুমাত্র নিজেদের লোকেদের জন্য।

    তৃতীয় কারণ – আত্মনির্ভর ইজরায়েল

    শুরুর দিকে ইজরায়েল সামরিকভাবে নির্ভরশীল ছিল ফ্রান্স এবং আমেরিকার ওপর। কিন্তু, তারা খুব শীঘ্রই বুঝে যায় তাদের নিজেদের সক্ষমতা দরকার। তাই সময়ের সাথে সাথে ইজরায়েল নিজেকে উন্নত করেছে। নিজেদের অস্ত্রশস্ত্রকেও আধুনিক করেছে। ইজরায়েল আজ বিশ্বের সবচেয়ে বড় অস্ত্র উৎপাদনকারী দেশ।

    চতুর্থ কারণ – টাকার সৎ ব্যবহার

    সরকারের কাছে যে টাকা বাঁচতো, সেই টাকায় দুর্নীতি নয়, বরং দেশের কল্যাণে, যেমন বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, গবেষণায় ব্যবহার করা হত। জানলে আরও অবাক হবেন, বিশ্বের প্রধান ৫০০টি টেক-জায়েন্টের মধ্যে ৮০টির গবেষণাকেন্দ্র রয়েছে ইজরায়েলে। ইজরায়েলকে বলা হয় উদ্যোক্তাদের রাজধানী।

    পঞ্চম কারণ – উন্নত প্রযুক্তি

    ইজরায়েল মরুপ্রধান দেশ হলেও এরা প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে ধুধু বালু প্রান্তরকে উর্বর ভূমিতে রুপান্তর করেছে। এরা শুধু নিজের দেশের জন্য তাজা ফল ও সবজি উৎপাদন করেছে তা নয়, এরা সেই ফসল রপ্তানিও করছে। বিশ্বের মধ্যে জনপ্রিয় ড্রিপ সেচ পদ্ধতি এই ইজরায়েলই শুরু করেছে।

    ষষ্ঠ কারণ – ব্যবসা

    তারা শুধু উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে তাই নয়। তারা জানে প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে কীভাবে টাকা কামানো যায়। তাই তারা ভারত, আমেরিকার মতো বড় বড় দেশকে নিজেদের বন্ধুর তালিকায় রেখেছে। একদিকে তারা বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করে উৎপাদিত শস্য আবার অন্যদিকে রপ্তানি করে উন্নত সেরা সরঞ্জাম।

    জানলে অবাক হবেন, ইজরায়েল, আমেরিকা আর ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের দেশগুলিকে ১০ শতাংশ সেনা সরঞ্জাম দেয়। আধুনিক যুদ্ধের মূল হাতিয়ার ড্রোন, আর সারা বিশ্বের ড্রোনের ৬০ শতাংশ ইজরায়েলে তৈরি হয়।

    সপ্তম ও আসল কারণ – অস্তিত্বের লড়াই

    এতক্ষণ ধরে যেগুলি বললাম, সেগুলি ইজরায়েলের উন্নতির অন্যতম কারণ হলেও, ইজরায়েলের এত শক্তির আসল কারণ হল তাদের অস্তিত্বের লড়াই। হ্যাঁ ঠিকই শুনেছেন। ইহুদীদের কেবলমাত্র একটিই দেশ ইজরায়েল। তাদের কাছে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখাটাই সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ইতিহাস তারা ভোলেনি। মুসলিম হোক বা ব্রিটিশ – বারবার অত্যাচার করেছে এই ইহুদীদের ওপর! বিশ্বে যেখানে মুসলিমদের জনসংখ্যা ২০০ কোটি, সেখানে মুসলিমদের চোখের বিষ তথা ইহুদীদের জনসংখ্যা মাত্র এক কোটি। তাই নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখাটা তাদের উন্নতির মূল কারণ। একটা কথা নিশ্চয়ই আপনারা শুনেছেন – Necessity is the mother of invention. আর একথা প্রমাণ করেছে ইজরায়েল।

    আমেরিকা কেন ভয় পায় ইজরায়েলকে? | Why Israel Is So Powerful?

    আচ্ছা এতক্ষণ তো শুনলেন ইজরায়েল এত শক্তিশালী হল কীভাবে। কিন্তু আপনি কি জানেন কেন আমেরিকাও ভয় পায় ইজরায়েলকে?

    এর জন্য আপনাদের জানতে হবে বেশ কিছু তথ্য। বলা যায় – আপনি ইজরায়েলকে পছন্দ নাই করতে পারেন, কিন্তু আপনি তাদেরকে অবহেলা কিংবা অবজ্ঞা করতে পারবেন না।

    জানলে অবাক হবেন, আমেরিকায় যে সমস্ত কার্টুন দেখানো হয়, তার অধিকাংশই নিয়ন্ত্রণ করে ইহুদীরা। আর সেই সকল কার্টুনে ইজরায়েলকে সৎ এবং মহান হিসাবে দেখানো হয়। ফলত ছোট থেকেই আমেরিকানদের মনে ইজরায়েল নিয়ে একটি সফট কর্নার তৈরি করা হয়ে আসছে। এমন একটি কার্টুন হল দ্যা প্রিন্স অফ ইজিপ্ট।

    তবে, এখানেই শেষ নয়। জানলে অবাক হবেন, আমেরিকার শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলির ২০ শতাংশ শিক্ষকই ইহুদী। এমনকি হলিউড সিনামের মাধ্যমে ছড়ানো হয় ইজরায়েল ভাবাবেগ। হলিউডের ৫৯ শতাংশ লেখক এবং পরিচালক সবাই ইহুদী। রিপোর্ট বলছে, আমেরিকার চারটি প্রধান ফিল্ম কোম্পানি ইহুদীদের। স্টিভেন স্পিলবার্গ – যিনি আমেরিকার অস্কারজয়ী পরিচালক, তিনিও ইহুদী ধর্মের লোক। শুধু তাই নয়, আমেরিকার একাধিক প্রধান সংবাদ সংস্থা ইজরায়েলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। রিপোর্ট বলছে, প্রধান আমেরিকান সংবাদ সংস্থাগুলির ৬১ জন লেখক ইজরায়েলপন্থী। ৩টি প্রধান নিউজ মিডিয়া কোম্পানির সিইও ইহুদী, যেমন সিএনএন, এনবিসি, এবং নিউ ইয়র্ক টাইমস। সুতরাং, সিনেমা থেকে সংবাদ – যারা শুধু আমেরিকার নয়, সারা বিশ্বের পার্সপেকটিভ তৈরি করে সেখানেই নিয়ন্ত্রন চলে ইহুদীদের। হিন্ডেনবার্গ থেকে ব্লুমবার্গ – সবারই মালিক ইহুদী।

    এছাড়া, ব্যাঙ্কিং সেক্টরের মধ্যে গোল্ডম্যান শ্যাক্স, জেপি মরগ্যান চেজ, ব্ল্যাক রক, ডিই শ, পে প্যাল সবই হয় প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে ইহুদী নিয়ন্ত্রিত।

    এছাড়া ইন্টেল, যারা প্রসেসর তৈরি করে, এনভিডিয়া – যারা র‍্যাম এবং গ্রাফিক্স কার্ড তৈরি করে, এদের সবথেকে বড় হাব আছে ইজরায়েলে।

    ডেল কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা মাইকেল ডেল, তিনিও একজন ইহুদী।

    ফেসবুকের মালিক মার্ক জাকারবার্গ একজন ইহুদী। তিনি বর্তমানে হোয়াটসঅ্যাপ, ইন্সটাগ্রাম এবং ম্যাসেঞ্জারের মালিক।

    এমনকি জানলে হবেন, বর্তমানে এআই-এর পথিকৃৎ ওপেন এআই অর্থাৎ চ্যাটজিপিটি-র সিইও স্যাম অল্টম্যান একজন ইহুদী।

    এবার আসা যাক আরও বড় একটি চিত্রে। গুগল, অর্থাৎ যাকে ছাড়া আমাদের জীবন অসম্পূর্ণ। সেই গুগলের মালিক কারা? ল্যারি পেজ আর সারগেই ব্রিন। এরা দুজনেই ইহুদী। ইউটিউব থেকে শুরু করে গুগল প্লেস্টোর এবং গুগল পে সবকিছুই এদের অধীনে।

    এমনকি ফ্যাশন ব্র্যান্ড ক্যাল্ভিন ক্লেন থেকে পোলো, র‍্যালফ লড়েন সবার মালিক ইহুদী। হোটেল ব্যবসায় প্রসিদ্ধ নাম হায়াত রেজেন্সির মালিকও একজন ইহুদী।

    আশা করছি, পেগাসস মামলা আপনারা কেউই ভোলেননি। পৃথিবীর সবথেকে বড় হ্যাকিং সফটওয়্যার পেগাসস ইজরায়েলেরই তৈরি। যে সফটওয়্যারকে ব্যবহার করে বিশ্বের যে কোনও প্রান্তের, যে কোনও ব্যাক্তির কথোপকথন, মেল বা ম্যাএসজ হ্যাক করে নিতে পারে এই সফটওয়্যার। কয়েক বছর আগে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে এই সফটওয়্যার ব্যবহারের অভিযোগ এনেছিল মমতা-রাহুল-রা।

    অর্থাৎ, ব্যাঙ্কিং সফটওয়্যার থেকে আপনার সার্চ অপশন, ইমেল থেকে শুরু করে পেমেন্ট সবকিছুই কখনও প্রত্যক্ষ আবার কখনও পরোক্ষভাবে ইজরায়েলের অধীনে রয়েছে। ইউএসবি ফ্ল্যাশ ড্রাইভ, অ্যাপল ডিভাইসের ফেস আইডি, ভিওআইপি কলিং থেকে শুরু করে বিশ্বের প্রথম ইনস্ট্যান্ট ম্যাসেজিং সার্ভিস, নেটওয়ার্ক ফায়ারওয়াল, এন্ডোস্কপির জন্য ব্যবহৃত ছোট ক্যামেরা, হাইব্রিড শশার বীজ, ড্রিপ সেচ পদ্ধতি থেকে প্রতিরক্ষা খাতের একাধিক অস্ত্র সামগ্রী সবই ইজরায়েলের।

    এদের কাছে রয়েছে অর্থ, রয়েছে বিস্তৃত প্রযুক্তি।

    অনেকেই আবার বলছেন জেফ্রে এপস্টিন নিজেও একজন মোসাদের স্পাই, কিংবা মোসাদের হয়ে কাজ করতেন। যদিও এর কোনও সত্যতা এখনও পাওয়া যায়নি। কিন্তু, অনেকেই বিশ্বাস করেন, এই কারণেই আজ ট্রাম্পের ওপর ইজরায়েলের এত কর্তৃত্ব।

    এবার আসি কেন ইজরায়েলকে হারানো অসম্ভব?

    কোনও দেশ কতটা শক্তিশালী সেটা বোঝা যায়, সেই দেশের সামরিক সরঞ্জাম, অস্ত্রশস্ত্র, সৈন্যবল, আর্থিক ক্ষমতা, এবং পারমাণবিক শক্তির ওপর ভিত্তি করে।

    মাত্র ১ কোটি জনসংখ্যার দেশ ইজরায়েলের এই সকল সামরিক সরঞ্জাম টেক্কা দিতে পারে পাকিস্তান, ইরানে, সৌদি আরবের মতো বহু দেশকে।

    ইজরায়েলের প্রকৃত সৈন্য সংখ্যা প্রায় ৬ লক্ষ। যা তাদের জনসংখ্যার ৬ শতাংশ। আবার একথা আপনাদের আগেই বলেছি যে তাদের প্রায় সব নাগরিকই সেনা প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত। তাহলে সংখ্যাটা কী দাঁড়াল? প্রায় ১ কোটি।

    এছাড়া, ইজরায়েলের রয়েছে নিজেদের তৈরি বিশ্বের অন্যতম উন্নত ট্যাঙ্ক Merkava ট্যাঙ্ক। আর তাদের মোট ট্যাঙ্কের পরিমাণ দেড় হাজারের বেশি। রয়েছে আধুনিক আর্টিলারি, ড্রোন ও সাইবার সাপোর্ট।

    এছাড়া রয়েছে সাড়ে ছয় হাজারের বেশি আরমার্ড ভেহিকেল, ৭০০ আর্টিলারি এবং ৫০-এর বেশি MLRS রকেট সিস্টেম।

    এবার আসি জলপথ সম্পর্কে। ইজরায়েলের রয়েছে প্রায় ৭০টি নৌযান, ৫-৬টি সাবমেরিন, ৪০-এর বেশি মিসাইল করভেট এবং পেট্রোল বোট।

    আকাশপথের জন্য তাদের রয়েছে আমেরিকার তৈরি F-35I Adir, F-15, F-16-এর মতন উন্নত যুদ্ধবিমান। মোট সামরিক বিমানের সংখ্যা ৬০০, ফাইটার জেটের সংখ্যা ২৫০, এবং হেলিকপ্টারের সংখ্যা ১৫০।

    এছাড়াও, ইজরায়েলের কাছে রয়েছে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যেমন – স্বল্পপাল্লার রকেট ধ্বংসকারী Iron Dome। মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানোর জন্য David’s Sling। ব্যালিস্টিক মিসাইল আটকানোর জন্য রয়েছে Arrow system। যার মাধ্যমে যে কোনও রকেত বা যুদ্ধ বিমান কিংবা ড্রোণ হামলা থেকে তারা নিজেদের রক্ষা করতে পারে।

    এবার আসি তাদের সবথেকে বড় শক্তি সম্পর্কে অর্থাৎ পারমাণবিক শক্ত। ইজরায়েলের মতো এই ছোট্ট দেশের কাছে রয়েছে আনুমানিক ৯০টি অ্যাটমিক ওয়ারহেড। যেখানে ১৫০ কোটির দেশ ভারতের কাছে রয়েছে ১৮০টি এবং ২০ কোটির দেশ পাকিস্তানের কাছে রয়েছে ১৭০টি।

    আর এই দেশের সামরিক বাজেট জানলে মাথা ঘুরে যাবে আপনার। পাকিস্তানের সামরিক খাতে বাজেট যেখানে মাত্র ১০ থেকে ১২ বিলিয়ন ডলার। সেখানে ইজরায়েলের এই সংখ্যাটা ২০ থেকে ২৪ বিলিয়ন ডলার। ভাবতে পারছেন?

    তাই যদি কেউ ইজরায়েলের ওপর পরমাণু হামলা করে, তাহলে ইজরায়েল সেই দেশের সাথে আরও ১০টি দেশকে খতম করার ক্ষমতা। তাই এই তথ্যগুলো সহজেই পরিষ্কার করে দেয় ইজরায়েলকে হারান একপ্রকার অসম্ভব।

    ইজরায়েলের এই উন্নতি নিয়ে আপনাদের কী মনে হয়? কীভাবে দেখবেন তাদের এই আগ্রাসনকে? ইজরায়েল কী ঠিক করছে? নাকি ভুল? জানাতে ভুলবেন না আপনাদের মতামত কমেন্ট করে।

  • “জঙ্গল রাজ চলবে না”, ইরান সংঘর্ষ নিয়ে আমেরিকাকে সরাসরি সতর্ক করল চিন!

    “জঙ্গল রাজ চলবে না”, ইরান সংঘর্ষ নিয়ে আমেরিকাকে সরাসরি সতর্ক করল চিন!

    বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: ইরানের (Iran) সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার পর পশ্চিম এশিয়ার দেশটিতে ক্রমাগত হামলা চালাচ্ছে আমেরিকা এবং ইজরায়েল। দুই শক্তিধর দেশের হামলার পাল্টা দিতে পিছুপা হচ্ছে না ইরানও। ঠিক সেই আবহে এবার মুখ খুলল ড্রাগন (China On Iran War)। চিন সরকারের তরফে একেবারে পরিষ্কার ভাবে জানানো হয়েছে, যাঁরা ইরানের সরকার পরিবর্তন করার চেষ্টা করছেন বা ষড়যন্ত্র করছেন তাদের সমর্থন করে না চিন। নাম না করে আমেরিকা এবং ইজরায়েলের এমন সর্বগ্রাসী মনোভাবকে জঙ্গল রাজ বলে অভিহিত করেছে ড্রাগন।

    হুঙ্কার দিল চিন

    রিপোর্ট অনুযায়ী, চিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই রবিবার ভাষণ দেওয়ার সময় বলেছেন, “যাঁরা ক্রমাগত ষড়যন্ত্র করে আসছেন। ইরানের সরকারকে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তাঁদের সমর্থন করে না বেইজিং। এই ধরনের চেষ্টা করা হলে তারা সফল হবেন না। অন্য কোনও দেশের বিষয়ে কখনই হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়। যা চলছে তা ইরানের সর্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে।”

    ওই বিবৃতিতে চিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই নাম না করে আমেরিকাকে সতর্ক করার পাশাপাশি এও বলেছেন, ইরান, আরব ও বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলির স্বাধীনতাকে সম্মান করা উচিত এবং অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধ করা উচিত। এই লড়াই এমন এক লড়াই যা কখনই কারও ভাল করবে না। অস্ত্রের শক্তির উপর লড়াই কেবল ঘৃণা বাড়িয়ে দেবে। পৃথিবীতে তৈরি হবে নতুন সংকট।

    এদিন ইজরায়েল এবং আমেরিকার প্রতি বার্তা দিতে গিয়ে চিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের মানুষজন তাদের ভূখণ্ডের প্রকৃত মালিক। এখানকার দেশগুলোকে নিজেদের মতো কাজ করার সিদ্ধান্ত নিতে দিন। মানুষ সিদ্ধান্ত নেবে তারা কী চায়। অন্য কেউ তাদের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারে না। এমন পরিস্থিতিতে আমরা গোটা বিশ্বের কাছে আবেদন জানাবো কোনও দেশ যেন অন্য দেশের বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করে।

     

    অবশ্যই পড়ুন: প্রতিমাসে অ্যাকাউন্টে ঢুকবে ৭০০০ টাকা! মহিলাদের ক্ষমতায়নে বড় প্ল্যান LIC-র

    চিনের মন্ত্রী একেবারে নাম না করেই একপ্রকার আমেরিকা এবং ইজরায়েলি অপ শাসনের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “এ পৃথিবীতে জঙ্গল রাজ চলবে না। ক্ষমতাশালীরা যা চাইবেন তাই করতে পারেন না। আমরা সব পক্ষকে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা মিটিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। চিন শান্তি স্থাপনের জন্য কাজ করে এসেছে, আগামীতেও করবে।”

  • আসতে পারে বড় সংকট! ইরানের তেল ভাণ্ডার লক্ষ্য করে প্রথম হামলা ইজরায়েলের

    আসতে পারে বড় সংকট! ইরানের তেল ভাণ্ডার লক্ষ্য করে প্রথম হামলা ইজরায়েলের

    বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: ইরান-ইজরায়েল সংঘাত যেন থামছেই না (Israel Attacks Iran Oil Reserve)। গতকাল রাতে তেল আবিবের বুকে একাধিকবার মিসাইল ছুঁড়েছিল ইরান (Iran)। এবার তার পাল্টা প্রত্যাঘাত হিসেবে তেহরানের তেল মজুদ লক্ষ্য করে বড়সড় হামলা চালালো বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর দেশ। একাধিক সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, শনিবার ইরানের হামলার পরই তেহরানের অয়েল রিজার্ভকে টার্গেট করে ইজরায়েল। আর তারপরই চলে ভয়াবহ হামলা। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আমেরিকা এবং ইজরায়েল একেবারে যৌথভাবে ইরানকে শায়েস্তা করতে উঠে পড়ে লেগেছে। তাঁদের দাবি, ইরান যাতে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করে নেয় সেজন্যেই নতুন নতুন ছক কষছে এই দুই দেশ।

    বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিতে পারে ইরানে

    সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইজরায়েলের নতুন হামলার পর ইরানে লজিস্টিক, ট্রাফিক এবং বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিতে পারে। ইরানের কয়েকটি সংবাদ মাধ্যম তাদের প্রতিবেদনে দাবি করছে, তেহরানের একাধিক জায়গায় রিফাইনারি কমপ্লেক্সে বড় হামলা হয়েছে। এদিকে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু একেবারে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান আত্মসমর্পণ না করলে আগামী দিনে আরও কঠিন পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তাঁর কথায়, “তেহরানের তেল স্টোরেজে আগুন জ্বলছে।”

    BBC বলছে, ইতিমধ্যেই ইরানের তেল মজুদ লক্ষ্য করে হামলার খবর নিশ্চিত করেছে ইজরায়েলের সেনাবাহিনী। এদিকে বিশ্লেষক মহল দাবি করছেন, খুব সম্ভবত এই প্রথমবার ইজরায়েল ইরানের কোনও বেসামরিক শিল্প প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে হামলা চালালো। এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম উত্তরাঞ্চলের রাজধানী এবং প্রতিবেশী দেশগুলিতে হামলার জন্য আমেরিকা এবং ইহুদি শাসন ব্যবস্থাকে দায়ী করেছে।

    অবশ্যই পড়ুন: ভারত বনাম নিউজিল্যান্ডের ফাইনাল লন্ডভন্ড করবে বৃষ্টি? দেখুন ওয়েদার রিপোর্ট

    উল্লেখ্য, সম্প্রতি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান প্রতিবেশী দেশগুলিতে হামলা চালানোর জন্য তাদের কাছে একপ্রকার ক্ষমা চেয়ে নিয়েছিলেন। ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, “উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলি যদি আমেরিকা এবং ইজরায়েলকে ইরানে হামলা চালানোর মদত না দেয়, তবে ইরানও তাদের উপর হামলা করবে না। ইরানের সাথে প্রতিবেশী দেশগুলির কোনও রকম শত্রুতা নেই।” একই সাথে এদিন ট্রাম্পের দাবিকে নস্যাৎ করে ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ চেয়েছেন। তাঁকে এই স্বপ্ন নিয়েই সমাধিস্থ হতে হবে।