সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: সেই প্রতিবেশী দেশই ভরসা। সংকটের মুখে আবারো ভারত থেকে ডিজেল আমদানি করবে বাংলাদেশ (Bangladesh Import Diesel)। ইতিমধ্যেই ৫ হাজার টন ডিজেল বাংলাদেশে পাঠিয়েছে ভারত (India-Bangladesh Trade)। আর এবার আরও ৪৫ হাজার টন ডিজেল আমদানি করার পথে ওপার বাংলা সরকার। সম্প্রতি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের জেনারেল ম্যানেজার মোহম্মদ মুরশিদ হোসেন আজাদ ফোনে সংবাদমাধ্যম এএনআইকে নিজেই এ কথা জানিয়েছেন। তাহলে আবারও উন্নত হচ্ছে দুই দেশের সম্পর্ক?
বাংলাদেশে ফের ৪৫ হাজার টন ডিজেল আমদানি
ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আগামী ১৮ বা ১৯ মার্চের মধ্যে ভারত থেকে ৫ হাজার টন ডিজেল বাংলাদেশে যাবে এবং আরও অতিরিক্ত ৪০ হাজার টন ডিজেল আমদানির প্রস্তাব রয়েছে। অর্থাৎ সবমিলিয়ে মোট ৪৫ হাজার টন ডিজেল নেবে বাংলাদেশ। তবে তার জন্য কিছু প্রক্রিয়াগত কাজ রয়েছে। সেগুলো সম্পন্ন হলেই এই বিপুল পরিমাণ তেল এপ্রিল মাসের মধ্যে ওপার বাংলায় পৌঁছবে। এক্ষেত্রে জানিয়ে রাখি, দুই দেশের মধ্যে ডিজেল সরবরাহ উন্নত করার জন্য ২০২৩ সালের মার্চ মাসে ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপলাইন উদ্বোধন করা হয়েছিল। আর সেই চুক্তির মাধ্যমেই এই ডিজেল সরবরাহ করা হয়।
জানা যায়, ওপার বাংলার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মধ্যেই এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, এবং ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড থেকেই বাংলাদেশের পার্বতীপুর ডিপোতে নিয়মিত পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আমদানি করা হয়। কিন্তু ২০২৪ সালে শেখ হাসিনার পতনের পর এই চুক্তিতে ভাটা পড়ে। মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারত থেকে ডিজেল আমদানি নিষিদ্ধ করে দিয়েছিল। তারপরে দীর্ঘদিন ধরেই দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রফতানি বন্ধ থাকে। কিন্তু নির্বাচনের পর বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্ষমতায় আসার পরেই গত কয়েকদিনে পাইপলাইনের মাধ্যমে আবারো ৫ হাজার টন ডিজেল আমদানি হয়েছে এবং আরও ৪৫ হাজার টন আমদানি হবে।
বলাই বাহুল্য, পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের কারণে মোটরসাইকেল থেকে শুরু করে অন্যান্য যানবাহনের জ্বালানি ভরার জন্য দিনের পর দিন পেট্রোল পাম্পে ভিড় জমাচ্ছে সাধারণ মানুষ। সেই বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সরকার সম্প্রতি জ্বালানি বিক্রির উপর রেশনিং সিস্টেমও আরোপ করেছিল। তবে এখন সরকার সেই বিধিনিষেধ তুলে দিয়েছে। আর যেহেতু সামনেই ঈদ, তাই বাংলাদেশের সবথেকে বড় উৎসবকে কেন্দ্র করে শহর থেকে গ্রাম সব জায়গায় জ্বালানি বিক্রি আরও বাড়বে বলেই অনুমান করা হচ্ছে। এমনকি কর্মকর্তারা বলছেন যে, দেশে এখনো পর্যন্ত পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুদ রয়েছে। আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। কিন্তু ঈদের সময় যাতে কোনও রকম সমস্যা না হয়, তার জন্যই তারেক রহমান সরকার ভারত থেকে আরও ৪৫ হাজার টন ডিজেল আমদানির পথে।
একবার ভাবুন তো, যদি বলি – আমেরিকা, ইজরায়েল আর ইরানের যুদ্ধে সবথেকে বেশি ক্ষতি ভারতের (India) – বিশ্বাস করবেন?
হয়তো না।
কিন্তু সম্প্রতি, যুদ্ধের শুরুতেই উঠে এসেছে এমন কিছু তথ্য, যা শুনলে চোখ কপালে উঠবে আপনারও! অবস্থা এমন হয়েছে, যে যুদ্ধ না থামলে ভারতে পেট্রোল/ডিজেলের দাম লিটার পিছু বাড়তে পারে ১৫ থেকে ২০ টাকা করে! যার ফলে মূল্যবৃদ্ধি হতে পারে সব জিনিসের। চাকরি যেতে পারে প্রায় ১ কোটি মানুষের! শুধু তাই নয় মাত্র ১০ দিনে ক্ষতি হয়েছে ৩১ লক্ষ কোটি টাকা!
কী অবাক হচ্ছেন? হয়তো হচ্ছেন! কিন্তু এই কথা আমরা বলছি না, বলছে রিপোর্ট!
আমেরিকা, ইজরায়েল আর ইরানের যুদ্ধের যতটা ক্ষতি ওই দেশগুলোর হয়েছে, তার ১০ গুণ বেশি ক্ষতি ভারতের হয়েছে! কিন্তু, কীভাবে এই যুদ্ধ প্রভাব ফেলল ভারতের অর্থনীতিতে? কীভাবেই বা ক্ষতি হয়ে গেল প্রায় ৩১ লক্ষ কোটি টাকা? যদি ভারতের এই অবস্থা হয়, তাহলে আমেরিকা, ইজরায়েল আর ইরানের কতটা ক্ষতি হয়েছে?
আজ India Hood ডিকোড-এ আমরা তুলে ধরবো এমন কিছু তথ্য, এমন কিছু সত্য যা জানা উচিত প্রতিটি ভারতবাসীর! তাই ধৈর্য ধরে লেখাটি শেষ পর্যন্ত পড়ুন।
দিনটা ২৮শে ফেব্রুয়ারি। হঠাৎ করেই ইরানের ওপর আক্রমণ করে বসে আমেরিকা ও ইজরায়েল। খতম করে দেওয়া হয় ইরানের সর্বোচ্চ লিডার খামেইনিকে। আর তারপরেই শুর হয় আক্রমণ ও প্রতি-আক্রমণ। এমনকি এই সংঘর্ষের আঁচ ছড়িয়ে পড়ে কুয়েত, সৌদি আরব থেকে বাহারিনে।
আর যুদ্ধ হলে এক নয়, একাধিক ক্ষতি যে হবেই সে কথাও কারোর অজানা নয়। কিন্তু, এই যুদ্ধে কেবল জড়িত দেশ আমেরিকা, ইজরায়েল, এবং ইরানের হয়েছে – তা কিন্তু নয়। এই যুদ্ধে ক্ষতি হয়েছে বিশ্বের একাধিক দেশের। আর এই যুদ্ধে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ভারতের। এবার আমরা আপনাদের সামনে এক এক করে তুলে ধরবো – কোন দেশের ঠিক কতটা ক্ষতি হয়েছে!
আমেরিকা (America)
প্রথমেই আসি আমেরিকায়। সারা বিশ্বের মধ্যে মার্কিন সেনাশক্তি যে ১ নম্বরে, সেটা কারও অজানা নয়। আমেরিকার সেনা খাতের বাজেট প্রায় ৯১ লক্ষ কোটি টাকা, যে টাকায় পাকিস্তানের মতো তিনটি দেশ কিনে ফেলা যায়।
জানলে অবাক হবেন, ইরানের বিরুদ্ধে অপারেশন এপিক ফিউরি চালাতে আমেরিকা একদিনে খরচ করেছে প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা।
এর মধ্যে হামলায় খরচ ৭,২০০ কোটি,
আর প্রস্তুতিতে ৫,৮০০ কোটি টাকা।
কিন্তু যুদ্ধ এখনও চলছে। রিপোর্ট বলছে, যুদ্ধের দ্বিতীয় দিন থেকে পরবর্তী ১০০ ঘণ্টায় আমেরিকা খরচ করেছে দৈনিক প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকায়। আর এই খরচ ধীরে ধীরে পৌঁছাতে পারে ৮,৩০০ কোটি টাকায়।
পেন্টাগনের রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানের প্রথম সপ্তাহে খরচ হয়েছে প্রায় ৫৫,২০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৩৬,৮০০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে ইরানের হামলা প্রতিহত করতে।
এই যুদ্ধে এখনও পর্যন্ত আমেরিকার ৭ জন সেনা নিহত হয়েছেন।
কিন্তু এত খরচ হচ্ছে কেন?
কারণ একটাই—সামরিক সরঞ্জাম। যেমন ধরুন, ইরানের বিরুদ্ধে এয়ারস্ট্রাইকে আমেরিকা ব্যবহার করছে B-2, B-52, B-1B, F-35-এর মতো আধুনিক ও ব্যয়বহুল বিমান। ব্যবহার করা হচ্ছে MQ-9 রিপার ও লুকাস ড্রোন, রকেট আর্টিলারি, হিমারস, এবং টমাহক ক্রুজ মিসাইল। একটি টমাহক মিসাইলের দামই প্রায় ১৮.৫ কোটি টাকা।
ব্যবহার করা হয়েছে দুটি রণতরী—USS Gerald R Ford এবং USS Abraham Lincoln। একটি Aircraft Carrier Strike Group পরিচালনায় প্রতিদিন খরচ হয় প্রায় ৮৩ কোটি টাকা। এছাড়া আমেরিকা এখনও পর্যন্ত প্রায় ৭,৩৬০ কোটি টাকা মূল্যের ৪০০টি মিসাইল লঞ্চ করেছে।
তবে আমেরিকা শুধু আক্রমণই করেনি, নিজেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কাতারের আল-উদেইদ বেসে ইরানের বড় হামলায় ধ্বংস হয়েছে একটি সতর্কতা রাডার, যার দাম প্রায় ১০,১১৮ কোটি টাকা।
এছাড়া UAE-তে থাকা একটি THAAD-2 রাডার ধ্বংস হয়েছে, ক্ষতি প্রায় ৪,৬০০ কোটি টাকা।
কুয়েতে ইরান ধ্বংস করেছে আমেরিকার তিনটি F-15 স্ট্রাইক ইগল জেট, যার মূল্য প্রায় ২,৭৬০ কোটি টাকা।
এরপর বাহরেনে থাকা একটি প্রধান মার্কিন স্যাটেলাইট যোগাযোগ টার্মিনাল এবং একাধিক মার্কিন এয়ারবেসও ধ্বংস করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মোট প্রায় ১৮,৪০০ কোটি টাকার মার্কিন সামগ্রী নষ্ট হয়েছে।
এই যুদ্ধে ইরান কিন্তু আমেরিকার বেশি ক্ষতি করাচ্ছে। কি বিশ্বাস হচ্ছে না? উদাহরণ দিলেই বুঝবেন। ইরানের একটি মিসাইলের দাম প্রায় ১৮.৫ কোটি টাকা, কিন্তু সেটি আটকাতে আমেরিকাকে তিনটি প্যাট্রিয়ট এয়ার ডিফেন্স মিসাইল ছুঁড়তে হয়েছে, যার মোট খরচ প্রায় ১১০ কোটি টাকা। অর্থাৎ, একটি ইরানি মিসাইল আটকাতে আমেরিকার খরচ প্রায় ৬ গুণ বেশি।
এছাড়া ইরান হামলায় ব্যবহার করছে শাহিদ ড্রোন, যার দাম মাত্র ৩২ লক্ষ টাকা। আর সেগুলো ঠেকাতে ব্যবহার হচ্ছে হয় ১১৭ কোটি টাকারTHAAD মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা ৩২ কোটি টাকারপ্যাট্রিয়ট মিসাইল। অর্থাৎ, অনেক ক্ষেত্রেই আমেরিকার খরচ হচ্ছে ১০০ থেকে ৩৬০ গুণ বেশি।
বিশ্লেষকদের অনুমান, যদি ২ সপ্তাহ যুদ্ধ চলে, তাহলে আমেরিকার ক্ষতি হতে পারে প্রায় ৯২,০০০ কোটি থেকে ১ লক্ষ ১০ হাজার কোটি টাকা। আর যদি ১ মাস চলে, যেমনটা মার্কিন রাষ্ট্রপতি বলেছেন, তাহলে এই খরচ দাঁড়াতে পারে প্রায় সাড়ে ৪ লক্ষ কোটি টাকায়।
শুধু তাই নয়, যুদ্ধের প্রভাবে আমেরিকার শেয়ার মার্কেটেও বড় ধস নেমেছে, যেখানে ইতিমধ্যেই গায়েব হয়েছে প্রায় ৮৩ লক্ষ কোটি টাকা।
ইজরায়েল (Israel)
এবার আসি ইজরায়েলে। ইজরায়েল সারা বিশ্বের মধ্যে সেনা শক্তির দিক থেকে এক নম্বরে না থাকলেও, যথেষ্ট ভালো স্থানে রয়েছে। তাদের সামরিক বাজেট প্রায় ৪ লক্ষ ৩২ হাজার কোটি টাকা, যা পাকিস্তানের চার গুণ। আপনি যদি ইজরায়েলের সেনা শক্তি সম্পর্কে জানতে চান, তাহলে ক্লিক করুন আই বাটনে আর দেখে নিন আমাদের ইজরায়েল স্পেশাল ডিকোড ভিডিওটি।
২৮শে ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে “রোরিং লায়ন” নামের যে অভিযান শুরু করেছিল ইজরায়েল, সেই অভিযানের সাপ্তাহিক খরচ পৌঁছেছে প্রায় ২৭,৫০০ কোটি টাকায়। বর্তমানে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চালাতে প্রতিদিন প্রায় ৬,৬৫২ কোটি টাকা সামরিক খরচ করছে ইজরায়েল। অর্থাৎ এখনও পর্যন্ত প্রায় ৬০,০০০ কোটি টাকা খরচ হয়ে গেছে। এই যুদ্ধে এখনও পর্যন্ত ১১ থেকে ১৩ জন ইজরায়েলি নাগরিক ও সেনার মৃত্যু হয়েছে।
তবে ইরানও পাল্টা আক্রমণ করছে ইজরায়েলে, মূলত রাজধানী তেল আভিভে। হামলায় প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরানের ঝাঁকে ঝাঁকে মিসাইল প্রতিহত করতে ইজরায়েলের কাছে রয়েছে উন্নত মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যার এক একটি ব্যবস্থার দাম কয়েক হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত।
এর মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত আয়রন ডোম, যা রাডারের মাধ্যমে রকেট শনাক্ত করে আকাশেই ধ্বংস করে দেয়। প্রতিটি ইন্টারসেপশনে খরচ হয় প্রায় ৪৫ লক্ষ টাকা। এছাড়া রয়েছে অ্যারো-থ্রি হাইপারসনিক ইন্টারসেপ্টর এবং ডেভিড’স স্লিং ইন্টারসেপ্টর। পাশাপাশি ব্যবহার করা হচ্ছে আয়রন বিম লেজার সিস্টেম, যা প্রায় ১০ কিমি দূরের মিসাইল ধ্বংস করতে পারে।
যুদ্ধের কারণে ইজরায়েল ব্যাপকভাবে রিজার্ভ সেনাদেরও ডেকে নিয়েছে। প্রায় ৩ থেকে ৪ লক্ষ রিজার্ভ সেনা সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছেন। ফলে অনেক শিল্পকারখানা, প্রযুক্তি কোম্পানি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কর্মী সংকটে পড়েছে।
এছাড়া যুদ্ধের ফলে দেশের অনেক জায়গায় ব্যবসা, স্কুল ও বিমান চলাচল বন্ধ রয়েছে। উৎপাদন কমছে, পর্যটন বন্ধ হয়ে গেছে, আর বহু মানুষ বাঙ্কারে আশ্রয় নেওয়ায় শ্রমিক সংকট তৈরি হয়েছে। দেশের অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, মাত্র এক সপ্তাহেই প্রায় ২৭,৫০০ কোটি টাকার অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে।
বিভিন্ন শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে আবাসিক ভবন, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ও শিল্প অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এগুলো পুনর্গঠনের জন্য সরকারকে আরও কয়েক লক্ষ কোটি টাকা খরচ করতে হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, যদি যুদ্ধ দীর্ঘ সময় ধরে চলে, তাহলে ইজরায়েলের মোট অর্থনৈতিক ক্ষতি সাড়ে ৪ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি হতে পারে।
এছাড়া যুদ্ধের প্রভাবে ইজরায়েলের শেয়ার মার্কেট থেকেও প্রায় ২ লক্ষ ২০ হাজার কোটি থেকে আড়াই লক্ষ কোটি টাকা উধাও হয়ে গেছে।
ইরান (Iran)
এবার আসি ইরানে। হয়তো অনেকেরই মনে হচ্ছে এই যুদ্ধে এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছে ইরানেরই। কিন্তু বিভিন্ন রিপোর্ট বলছে ভিন্ন কথা। হ্যাঁ, এটা ঠিক যে তারা তাদের সুপ্রিম লিডার আলি খামেনিকে হারিয়েছে, কিন্তু আর্থিক দিক থেকে তাদের ক্ষতির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম।
যুদ্ধ শুরুর আগেই ইরানের অর্থনীতি বেশ চাপের মধ্যে ছিল। একদিকে দাম বৃদ্ধি, অন্যদিকে আমেরিকার কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা। এর ওপর যুদ্ধের ফলে খাদ্য, জ্বালানি ও প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে, ফলে মুদ্রাস্ফীতিও বাড়বে।
তবে রিপোর্ট বলছে, ইরানের সামরিক বাজেট প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা, যা ইজরায়েলের প্রায় অর্ধেক। তবুও তারা এই যুদ্ধে আমেরিকা ও ইজরায়েলকে সমান তালে টেক্কা দিচ্ছে। এর পেছনে রয়েছে কয়েকটি কারণ—হেজবোল্লা, হামাস ও হুথিদের মতো প্রক্সি গ্রুপের সমর্থন, এবং রাশিয়া ও চীনের কাছ থেকে তুলনামূলক সস্তায় অস্ত্র সংগ্রহ।
যেমন ধরুন, ইরান এই যুদ্ধে ব্যবহার করছে বহুল পরিচিত Shahed-136 ড্রোন, যাকে আকাশপথের AK-47 বলা হয়। এর দাম মাত্র ৩২ লক্ষ টাকা। রয়েছে Fateh-110 ব্যালিস্টিক মিসাইল, যার দাম প্রায় ৪.৫ কোটি টাকা, রয়েছে Sejjil ব্যালিস্টিক মিসাইল, যার দাম প্রায় ১০ কোটি টাকা।
বিশ্লেষকদের মতে, কয়েকটি বড় হামলায় তারা প্রায় ৬০০টি ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ১,০০০-এর বেশি ড্রোন ব্যবহার করেছে।
ইরানের আধুনিক যুদ্ধ জাহাজ IRIS Dena ডুবে যাওয়ার ফলে ইরানের ক্ষতি শুধু জাহাজের দামে সীমাবদ্ধ নয়। এই জাহাজে ছিল: ঘাদের এবং নুর অ্যান্টি-শিপ মিসাইল,সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল, টর্পেডো লঞ্চার, র্যাডার ও সেন্সর সিস্টেম,হেলিকপ্টার অপারেশন ডেক, প্রশিক্ষিত ১৪০ জন ক্রু। সব মিলিয়ে এর বাস্তবে সামরিক মূল্য প্রায় ২৭৫৫ কোটি টাকা।
এছাড়া আমেরিকার দাবি অনুযায়ী, তারা ইরানের ৩০টিরও বেশি জাহাজ ডুবিয়েছে।
আমেরিকা ও ইজরায়েলের হামলায় ইরানে এখনও পর্যন্ত প্রায় ১,৩০০ জন সাধারণ মানুষ ও সৈন্য নিহত হয়েছেন এবং ১৫৩টি শহর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তবে ইরানের জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা তাদের তেল রপ্তানি নির্ভর অর্থনীতি। যুদ্ধের আগে ইরান প্রতিদিন প্রায় ১৭ লক্ষ ব্যারেল তেল উৎপাদন করত। তখন তেলের দাম ছিল প্রায় ৮০ ডলার প্রতি ব্যারেল, অর্থাৎ দৈনিক আয় প্রায় ১,২৪০ কোটি টাকা।
কিন্তু যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর অনেক তেলবাহী জাহাজ রুট পরিবর্তন করেছে, বীমা খরচ বেড়েছে, কিছু বন্দরে রপ্তানি কমেছে এবং কিছু তেল উত্তোলন কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে এখন দৈনিক উৎপাদন কমে প্রায় ১ লক্ষ ব্যারেলে নেমে এসেছে। অর্থাৎ দৈনিক আয় কমে হয়েছে প্রায় ৭৩ কোটি টাকা। শুধু গত ১০ দিনেই তেল থেকে প্রায় ১১,৬০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
সব মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৩৬,০০০ কোটি টাকার অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে ইরানের।
এছাড়া যুদ্ধের ফলে তেল শোধনাগার, গ্যাস প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র, সামরিক ঘাঁটি, ড্রোন উৎপাদন কেন্দ্র ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এগুলো মেরামত ও পুনর্গঠনে বিশ্লেষকদের মতে প্রায় ৪৫,৯০০ কোটি টাকা লাগতে পারে।
অন্যদিকে, এই যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে ইরানের শেয়ার বাজারেও, যেখানে প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
এবার আপনাদের জানাবো ভারতের কথা। যারা যুদ্ধে অংশ নেয়নি, তা সত্ত্বেও বড়সড় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।
ভারত (India)
গত ১০ দিনে ভারতের শেয়ার মার্কেট থেকে গায়েব হয়ে গিয়েছে প্রায় ৩১ লক্ষ কোটি টাকা। যার ফলে মাথায় হাত পড়েছে ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের। আর শুধু ভারতেই নয়, এই যুদ্ধের আঁচে গা পুড়ছে অধিকাংশ দেশেরই।
শুধুমাত্র, তেলের জন্যই অতিরিক্ত খরচ বাড়তে পারে দৈনিক ৪ লক্ষ ৯৬ হাজার কোটি টাকা! যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে, যেখান থেকে ভারত প্রতিদিন আড়াই থেকে ২.৭ মিলিয়ন ব্যারেল তেল আনে। ইরানের IRGC বলেছে, বর্তমানে এক ব্যারেল তেলের দাম সারা বিশ্বে ৮১ ডলার। কিন্তু তারা সেটাকে ২০০ ডলারে নিয়ে যেতে চাইছে। তাদের মতো মূল্যবৃদ্ধি সব দেশে হোক তারা সেটার চাইছে। আর এর প্রভাব ইতিমধ্যেই দেখা গিয়েছে অনেক দেশে। কারণ যুদ্ধের কারণে তেলের দাম ইতিমধ্যেই ব্যারেল প্রতি ১১৪ ডলারে পৌঁছেছে। ফলে পরিবহন খরচ, শিল্প উৎপাদন, বিমান পরিবহন, বিদ্যুৎ উৎপাদন – সব ক্ষেত্রেই ব্যয় বাড়বে।তেলের দাম প্রতি ১ ডলার বাড়লে ভারতের অতিরিক্ত খরচ হয় প্রায় ১৬,০০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ ৩১ ডলার বেড়ে যাওয়া মানে এই অতিরিক্ত খরচের পরিমাণ কতটা বেড়ে যেতে পারে আশা করছি সেটা বুঝতেই পারছেন! আর তেলের দাম বাড়লে গাড়ি ভাড়া বাড়বে, ফলে বাড়বে জিনিসপত্রের দাম।
যদিও, আপাতত রাশিয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকা ভারতকে তেল পাঠাচ্ছে এবং ভারতের কাছে যথেষ্ট তেল মজুদ রয়েছে তাই এখনই এই দুর্দিন আসছে না।
ভারতের অন্যান্য শক্তিও ক্ষতির সম্মুখীন! এছাড়া, ভারতের ৬০ শতাংশ জ্বালানি শক্তি আসে ইরাক, সৌদি আরব, কুয়েত, UAE থেকে, আর এর মধ্যে সবগুলোতেই আক্রমণ করেছে ইরান। ফলত, ২০২৬ সালের ৭ মার্চ থেকে ভারতে ১৪.২ কেজি LPG সিলিন্ডারের দাম ৬০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। এবং একই সঙ্গে ১৯ কেজি কমার্শিয়াল সিলিন্ডারের দাম ১১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। যার আঁচ পড়েছে সরাসরি সাধারণ মানুষের পকেটের ওপর।
ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে রপ্তানিও! এছাড়া, ভারত অনেক পণ্য বিদেশে রপ্তানি করে যেগুলি বন্ধ হলে, ভারত আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ভারত ২০২৫ সালে ২৩ বিলিয়ন ডলারের আইফোন UAE -তে রপ্তানি করেছিল। এছাড়াও, ভারত সাড়ে চার বিলিয়ন ডলারের বৈদ্যুতিক এবং প্রযুক্তিগত পণ্য মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলিতে রপ্তানি করে, এবার সেটাও হরমুজের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সংক্ষেপে, ভারতের ১৭% রপ্তানি যায় ওই অঞ্চলে, প্রায় ১ কোটি ভারতীয় সেখানে কাজ করে। যদি যুদ্ধ দীর্ঘ হয় তাহলে ভারতের রেমিট্যান্স কমতে পারে, ভারতীয় কোম্পানির ব্যবসা কমতে পারে।
তো এবার কী এই যুদ্ধ আমার আপনার পকেটে টান ফেলবে? জানাতে ভুলবেন না আপনাদের মতামত কমেন্ট করে।
বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা কমার বদলে ক্রমশ বেড়েই চলেছে (Iran Foreign Minister On America)। আমেরিকা এবং ইজরায়েলের যৌথ হামলার প্রত্যাঘাত করেছিল ইরান। তারপর থেকে যুদ্ধ বড় আকার নেয়। এদিকে ইরান যুদ্ধের আঁচ পড়েছে জ্বালানির উপর। এর অন্যতম কারণ, যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে গোটা বিশ্বের বিপুল পরিমাণ তেল আমদানি হয় সেটাই বন্ধ করে রেখেছে ইরান। যার ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের দাম লাফিয়ে বাড়ছে। এমতাবস্থায়, এবার আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরাসরি আক্রমণ করলেন ইরানের বিদেশ মন্ত্রী। তুললেন রাশিয়া থেকে ভারতের (India) তেল কেনার প্রসঙ্গও।
ভারত নিয়ে আমেরিকাকে কটাক্ষ ইরানের বিদেশমন্ত্রীর
সম্প্রতি ভারত প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আমেরিকাকে সরাসরি কটাক্ষ করেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। খামেনির দেশের বিদেশ মন্ত্রী বললেন, “আমেরিকা প্রথমে ভারতকে রাশিয়া থেকে তেল না কেনার জন্য চাপ দিয়েছিল। এখন তারাই গোটা বিশ্বকে রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য অনুরোধ করছে।” নিজের এক্স হ্যান্ডেলে একটি সংবাদপত্রের অংশ বা পেপার কাটিং পোস্ট করে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা জানানোর পাশাপাশি ইউরোপকেও নিশানা করেন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে এও লেখেন, “ইউরোপ ভেবেছিল ইরানের বিরুদ্ধে এই অবৈধ যুদ্ধে আমেরিকাকে সমর্থন করে তারা রাশিয়ার বিরুদ্ধে আমেরিকাকে পাশে পাবে। কত দুঃখজনক!” এক কথায়, ডোনাল্ড ট্রাম্প যে নিজের সুবিধামতো বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলির উপর চাপ সৃষ্টি করে সেটাই একেবারে খাতায় কলমে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
The U.S. spent months on bullying India into ending oil imports from Russia. After two weeks of war with Iran, White House is now begging the world—incl India—to buy Russian crude.
Europe thought backing illegal war on Iran would win U.S. support against Russia.
উল্লেখ্য, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরেই রাশিয়া থেকে তেল আমদানির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল আমেরিকা সহ পশ্চিমী দুনিয়া। সেই সাথে ভারত যাতে রাশিয়া থেকে তেল না কেনে সে জন্য বহুবার নরমে গরমে বুঝিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ইরানের সাথে সংঘাত শুরু হলে সেই ট্রাম্পই সম্প্রতি ভারত সহ বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলিকে 30 দিনের জন্য রাশিয়া থেকে তেল আমদানির ছাড়পত্র দিয়েছে।
প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের কারণে দিন দিন গ্যাসের সঙ্কট বেড়েই চলেছে। মিলছে না গ্যাস, বাজারে তাই গ্রাহকদের হাহাকার অবস্থা। এই কারণে একাধিক শহরে হোটেল-রেস্টুরেন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গ্যাসের সংকটের (LPG Cylinder Crisis) ছায়া পড়েছে হাসপাতাল, স্কুল কলেজ হোস্টেল ক্যান্টিনে। আর ঠিক এই পরিস্থিতিতে গতকাল অর্থাৎ শুক্রবার জ্বালানি নিয়ে বড় ঘোষণা করল কেন্দ্রীয় সরকার (Central Government Of India)। রান্নার গ্যাসের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন (LPG Gas Production) প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে আশ্বাস দিল কেন্দ্র।
এলপিজি উৎপাদন ৩০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে
কেন্দ্রীয় তেল মন্ত্রকের যুগ্মসচিব সুজাতা শর্মা জানিয়েছে যে, দেশজুড়ে গৃহস্থালির জন্য এলপিজি সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। রিফাইনারিগুলিতে উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে যাতে বাজারে গ্যাসের ঘাটতি না হয়। রিপোর্ট মোতাবেক ৫ মার্চের পর থেকে দেশে এলপিজি উৎপাদন ৩০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের চাহিদার কথা মাথায় রেখেই এলপিজি বুকিংয়ের ব্যবধান বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী। তিনি জানিয়েছেন, শহরাঞ্চলে গ্যাস বুকিংয়ের ন্যূনতম ব্যবধান ২১ দিন থেকে বাড়িয়ে ২৫ দিন করা হয়েছে। গ্রামাঞ্চল ও দুর্গম এলাকায় এই ব্যবধান ২৫ দিন থেকে বাড়িয়ে ৪৫ দিন করা হয়েছে। আর তাতে পরিস্থিতি কিছুটা স্বস্তিদায়ক হয়েছে।
LPG Supply Measures
➡️Government steps to maintain demand-supply balance
Key Points👇
💠Refineries directed to maximise LPG production
💠LPG production has increased by 30%
💠Over 25,000 LPG distributors are operating across the country
পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব সুজাতা শর্মা জানিয়েছেন, “পরিবার, হাসপাতাল এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য এলপিজি সরবরাহকে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও কেন্দ্র, রাজ্য সরকারগুলিকে বাণিজ্যিক সিলিন্ডারও সরবরাহ করছে, যাতে রাজ্য সরকার যেখানে যেমন প্রয়োজন ঠিক ততটাই অগ্রাধিকার অনুসারে বিতরণ করতে পারে। পাশাপাশি সারা দেশে পেট্রোল বা ডিজেলের কোনও ঘাটতি নেই। প্রায় ১,০০,০০০ খুচরো জ্বালানি বিক্রেতা জানিয়েছেন যে গ্যাসের কোনও ঘাটতি নেই তাদের আউটলেটে। পেট্রোল পাম্পগুলিও স্বাভাবিকভাবে চলছে এবং পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে।”
পাইপের মাধ্যমেও চলছে গ্যাস সরবরাহ
ভারতে প্রায় ১ কোটি ৫০ লক্ষ পরিবার পিএনজি কানেক্শন ব্যবহার করেন। সরকারের তরফ থেকে বলা হয়েছে, পাইপের মাধ্যমে সরবরাহ করা প্রাকৃতিক গ্যাস এবং কম্প্রেসড প্রাকৃতিক গ্যাসও স্থিতিশীল রয়েছে এবং পর্যাপ্ত পরিমাণ সরবরাহও করা হচ্ছে। আরও ৬০ লক্ষ বাড়ি সহজেই পিএনজি সংযোগ পেতে পারেন। ফলস্বরূপ এলপিজির চাহিদার উপর চাপ কমতে পারে। অন্যদিকে যানবাহনে ব্যবহৃত সিএনজি সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। এছাড়াও অন্য শিল্পক্ষেত্রগুলি যেমন উৎপাদন শিল্প ও চা শিল্প, এদের গড় চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশ গ্যাস দেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত, এলপিজি ঘাটতির অভিযোগ তুলে বিরোধী সাংসদেরা সংসদ চত্বরে বিক্ষোভও দেখিয়েছেন। তবে কেন্দ্র জানিয়েছে, পরিস্থিতি সামাল দিতে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জ্বালানি সংকটের জেরে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে রাজপথে মিছিল করতে চলেছেন। আগামী সোমবার, ১৬ মার্চ, বিকেল ৪টের সময় মিছিল শুরু হবে কলেজ স্কোয়ার থেকে যা শেষ হবে ডরিনা ক্রসিংয়ে। মিছিলে উপস্থিত থাকবেন তৃণমূলের নেতা মন্ত্রীরা।
সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ একদিকে যখন মুদ্রাস্ফীতির বাজারে এলপিজির দাম নিয়ে মাথায় হাত পড়েছে মানুষের, তখন আচমকাই ডিমের দাম (Egg Price) কমতে শুরু করল। হ্যাঁ একদম ঠিক শুনেছেন। কিছুদিন আগে অবধি একটা ডিম যেখানে ৮ থেকে ৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল, এখন সেই দাম মাত্র ৫ টাকার আশেপাশে নেমে এসেছে। শুনে চমকে গেলেন তো? কিন্তু এটাই সত্যি। আচমকা এরকমভাবে ডিমের দাম কমছে কেন? চলুন জেনে নেওয়া যাক।
হু হু করে দাম কমছে ডিমের
যুদ্ধের আগুনে জ্বলছে মধ্যপ্রাচ্য। এই যুদ্ধের ভয়াবহতা আগামী দিনে কতটা ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করতে পারে সেটা ভেবেই শিহরিত মানুষ। এদিকে যুদ্ধের প্রভাবে টান পড়তে শুরু করেছে সাধারণ মানুষের হেঁশেল থেকে শুরু করে হোটেল ব্যবসার ওপর। ঘরোয়া এলপিজি সিলিন্ডারের দাম, বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের দাম এখন আকাশছোঁয়া। এদিকে অটো, ক্যাব ভাড়া বেড়ে গিয়েছে। যে কোনও মুহূর্তে পেট্রোল-ডিজেলের দাম বেড়ে যাতে পারে, এই আশঙ্কায় রাতে ঘুম আসছে না অনেকের। সেখানে ডিমের দামের ক্ষেত্রে ছবি একদম আলাদা। দেশের একাধিক রাজ্যে ডিমের দাম কমে অর্ধেক হয়ে যাওয়ায় মাথায় হাত পড়েছে ব্যবসায়ীদের।
কী বলছেন ব্যবসায়ীরা?
অনেকেই বলছে, চলমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে সকলে ডিম অর্ধেক দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। আসলে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধ ভারতের ডিম রপ্তানির উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। উপসাগরীয় দেশগুলিতে ডিম রপ্তানি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে গেছে, যার ফলে কর্ণাটক এবং তেলেঙ্গানার মতো রাজ্যগুলিতে ডিমের দাম বিরাট অঙ্কে হ্রাস পেয়েছে। যা আগে প্রতি ডিমের দাম ছিল ৭, এখন ৪.৬০ টাকায় নেমে এসেছে। রমজান মাসেও ডিমের চাহিদা কমেছে।
কর্ণাটকে ডিমের দাম সম্প্রতি তীব্রভাবে হ্রাস পেয়েছে। জাতীয় ডিম সমন্বয় কমিটির বিক্রয় প্রচার কর্মকর্তা ভি. শেষনারায়ণ জানিয়েছেন যে উপসাগরীয় দেশগুলিতে রপ্তানিতে ব্যাঘাত এবং মরসুমি চাহিদার ওঠানামা সহ বেশ কয়েকটি কারণের কারণে গত ১৫ দিনে দাম কমেছে। কর্ণাটক প্রতিদিন ২ কোটি ২০ লক্ষ ডিম উৎপাদন করে। হসপেট বৃহত্তম উৎপাদক, তার পরেই মহীশূর। রপ্তানির জন্য ডিম সাধারণত তামিলনাড়ুর নামাক্কলের একটি কারখানায় পাঠানো হয়। যুদ্ধের কারণে, মহীশূর থেকে নামাক্কলে ৪.৭ লক্ষ ডিম বহনকারী একটি কন্টেইনারকে ফিরিয়ে আনতে হয়েছিল। এর ফলে রপ্তানি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে গেছে।
পবিত্র রমজান মাসের কারণে ডিমের ব্যবহার কমে গেছে। তাছাড়া, আবহাওয়ার পরিবর্তনের ফলেও ডিমের ব্যবহারে প্রভাব পড়েছে। উৎপাদন বৃদ্ধি পেলেও চাহিদা কমেছে, যার ফলে ডিমের দাম কমেছে। উৎপাদকরা অতিরিক্ত ডিম হিমঘরে সংরক্ষণ করছেন, তবে এর জন্য উল্লেখযোগ্য খরচ হচ্ছে। একই ছবি অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানাতেও। সেখানেও হু হু করে ডিমের দাম কমছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, খুচরা বাজারে ডিম প্রতি ৮ টাকা ছিল, যা গত দুই মাসে ৩.৫০ থেকে ৩.৮০ টাকায় নেমে এসেছে। ব্যবসায়ী এবং কৃষকরা বলছেন, রপ্তানি চাহিদা এবং স্থানীয় ব্যবহার উভয়ই হ্রাস পেয়েছে, যার ফলে মুনাফা হ্রাস পেয়েছে।
বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতের জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে ইরান (Iran On India)। সকাল থেকেই শোনা যাচ্ছে এমন খবর। একাধিক রিপোর্টে দাবি করা হচ্ছে, ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সাথে নাকি কথা হয়েছে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির। আর তারপরেই নাকি হরমুজ দিয়ে ভারতীয় পণ্যবাহী জাহাজ (Oil Tanker) চলাচলের ছাড়পত্র দেয় তেহরান। এবার এমন দাবি সরাসরি খারিজ করে দিল আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দেশ। তেহরানের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এই মর্মে ভারতের সাথে কোনও আলোচনা বা চুক্তি হয়নি।
ভারতের জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেয়নি ইরান
বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই শোনা যাচ্ছে, ভারতের দুই তৈলবাহী জাহাজ পুষ্পক এবং পরিমলকে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে দেশে ফিরে আসার অনুমতি দিয়েছে ইরান। এও শোনা যাচ্ছিল, ভারতীয় বিদেশমন্ত্রীর বক্তব্যের পরই কূটনৈতিক পদক্ষেপে ইরানের মন গলে যায়। তারপরেই নাকি রাশিয়া এবং চিনের মতো ভারতের জাহাজ হরমুজ দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেয় তেহরান। এবার সেই দাবি সরাসরি খারিজ করলো পশ্চিম এশিয়ার দেশটি।
টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান জানিয়েছে এই ধরনের দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা। ভারতের জন্য আলাদা করে কোনও বিশেষ ব্যবস্থা করেনি তারা। ভারতের দুই জাহাজ হরমুজ পেরিয়ে অনেকটাই চলে এসেছে বলে জানা যাচ্ছিল এতক্ষণ। তবে ইরান সেই দাবি খারিজ করে জানাচ্ছে, হরমুজ প্রণালীতে প্রবেশের আগে অবশ্যই তাদের অনুমতি নিতে হবে। অন্যথায় সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ইরানের তরফে ভারতীয় জাহাজ চলাচলের দাবি নস্যাৎ করার মাত্রই ফের বাড়ছে উদ্বেগ। বলাই বাহুল্য, বৃহস্পতিবার আমেরিকার জাহাজ লক্ষ্য করে জোরালো হামলা চালায় ইরান। দাউদাউ করে জ্বলতে থাকে সেই পণ্যবাহী তরী। এদিকে সংবাদ সংস্থা IANS জানিয়েছে, পুষ্পক এবং পরিমল নামক দুই ভারতীয় তেলের ট্যাংকার নিরাপদে হরমুজ পেরিয়েছে। তবে আমেরিকা, ইউরোপ এবং ইজরায়েলের জাহাজগুলি আটকেই রয়েছে।
বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: থেমে থেমে অশান্ত হয়ে পড়ছে মধ্যপ্রাচ্য। আমেরিকা এবং ইজরায়েলের তরফে যে সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছিল তা বর্তমানে বহন করছে ইরান (Iran)। পরিস্থিতি কিছুটা বদলালেও ফের চরমে পৌঁছেছে উত্তেজনা। এদিকে ইরান এবং ইজরায়েল যুদ্ধ নিয়ে উদ্বিগ্ন গোটা বিশ্ব। বিশ্লেষক মহলের অনেকেই বলছেন, আপাতদৃষ্টিতে মনে হলেও এই যুদ্ধ এখনই থামবার নয়। এদিকে যুদ্ধের আবহে হরমুজ প্রণালীতে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ইরান। পশ্চিম এশিয়ার এই দেশ স্পষ্ট বলেছে হরমুজ থেকে যদি কোনও দেশ তেল (Oil Reserves) নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে জাহাজে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হবে। যদিও ভারতীয় বিদেশমন্ত্রীর পদক্ষেপে হরমুজ থেকে ছাড়া হয়েছে ভারতীয় জাহাজ। কিন্তু তাও উদ্বেগ বাড়ছে পেট্রোল এবং ডিজেলের দাম নিয়ে।
গোটা বিশ্বে বাড়ছে তেলের দাম!
একাধিক আন্তর্জাতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধের আবহে বিশ্বের বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম 30 শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। কিছু কিছু জায়গায় অপরিশোধিত তেলের মূল্য ব্যারেল প্রতি 100 ডলারে পৌঁছেছে। তবে গোটা বিশ্বে তেলের দাম বাড়লেও ভারতে এখনও তেলের বাজার স্থিতিশীল। দাম বাড়েনি পেট্রোল এবং ডিজেলের। যদিও LPG র ঘাটতির কারণে রান্নার গ্যাসের দাম 60 টাকা বেড়েছে। দাম বেড়েছে পরিবহন জ্বালানি অর্থাৎ অটো গ্যাসের দামও। এমতাবস্থায় প্রশ্ন উঠছে, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে পেট্রোল এবং ডিজেল নিয়ে বিশেষ সমস্যায় পড়বে না কোন দেশগুলি?
বলাই বাহুল্য, গোটা বিশ্বে জ্বালানি তেল মজুদের নিরিখে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে আমেরিকা। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরকার প্রায় 700 মিলিয়ন ব্যারেল তেল মজুদ করে রেখেছে। যা বিশ্বের বৃহত্তম এবং সবচেয়ে নিরাপদ রাষ্ট্রায়ত্ত তেল মজুদ। এছাড়াও জ্বালানি তেল মজুদ করে রাখার নিরিখে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে চিন। ড্রাগনের কাছে এই মুহূর্তে প্রায় 400 থেকে 500 মিলিয়ন ব্যারেল তেল মজুদ রয়েছে। তৃতীয় স্থানে রয়েছে জাপান। এই দেশের কাছে সরকারি এবং বেসরকারি মজুদ মিলিয়ে 440 মিলিয়ন ব্যারেল তেল রয়েছে।
তালিকার চতুর্থ স্থানে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। এই দেশটির কাছে রয়েছে 200 মিলিয়ন ব্যারেল তেল। পঞ্চম স্থানে নাম লিখিয়েছে জার্মানি। এই দেশের কাছে প্রায় 170 মিলিয়ন ব্যারেল তেল মজুদ রয়েছে। 6 নম্বরে নাম রয়েছে ফ্রান্সের। তাদের কাছে রয়েছে 120 মিলিয়ন ব্যারেল তেল। এর পাশাপাশি 76 মিলিয়ন ব্যারেল তেল নিয়ে সপ্তম স্থানে রয়েছে ইতালি, 60 থেকে 70 মিলিয়ন ব্যারেল তেল নিয়ে অষ্টম স্থানে রয়েছে ব্রিটেন এবং নবম স্থানে জায়গা হয়েছে ভারতের। নয়া দিল্লির হাতে রয়েছে 5.33 মিলিয়ন মেট্রিক টন তেল। এছাড়াও শেষ অর্থাৎ দশম স্থানে রয়েছে স্পেন। এই দেশের কাছে 30 থেকে 50 মিলিয়ন ব্যারেল তেল আছে। অনেকেই মনে করছেন, যুদ্ধ দীর্ঘ দীর্ঘায়িত হলেও এই দেশগুলির পেট্রোল শেষ হবে না সহজে!
বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: বিশ্বকাপ জিতেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের তরফে শাস্তি পেয়েছেন টিম ইন্ডিয়ার (India) তারকা পেসার অর্শদীপ সিং। কিউই ব্যাটসম্যানকে বল ছুঁড়ে মারার অভিযোগে জরিমানা করা হয়েছে ভারতীয় তারকাকে। এবার টিম ইন্ডিয়ার বিশ্বকাপ জয়ের আরেক নায়ক হার্দিক পান্ডিয়ার (Hardik Pandya) বিরুদ্ধে থানায় দায়ের হল অভিযোগ। অভিযোগ দায়ের করেছেন পুনের এক আইনজীবী। ভারতীয় তারকার বিরুদ্ধে জাতীয় পতাকার অবমাননা এবং অসম্মান করার অভিযোগ উঠেছে।
গ্রেফতার হবেন হার্দিক পান্ডিয়া?
গত রবিবার রাতে ভারত বিশ্বকাপ জিততেই মাঠে প্লেয়ারদের উদযাপনের ছবি ধরা পড়ে। প্রত্যেকেই দলীয় সেলিব্রেশানের পর নিজ নিজ পরিবার, প্রিয়জনদের সাথে সময় কাটাচ্ছিলেন। সেই সময় তারকা অলরাউন্ডার হার্দিক পান্ডিয়াকেও জাতীয় পতাকা গায়ে জড়িয়ে প্রেমিকার সাথে রঙিন মুহূর্তে দেখা গিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, কাঁধে জাতীয় পতাকা জড়িয়ে কোথাও বান্ধবীকে আলিঙ্গন করছেন হার্দিক, কোথাও আবার বান্ধবীর সঙ্গে শুয়ে পড়েছেন তিনি। গায়ে জড়ানো সেই জাতীয় পতাকা।
অভিযোগকারী আইনজীবী ওয়াজেদ খান বিদকরের দাবি, জাতীয় পতাকা নিয়ে বান্ধবীর সাথে ঘনিষ্ঠ মুহূর্তে ছিলেন হার্দিক পান্ডিয়া। এতে ভারতের জাতীয় পতাকার অপমান করা হয়েছে। মূলত এমন দাবিতেই বেঙ্গালুরুর শিবাজি নগর থানায় অভিযোগ (FIR) দায়ের করেছেন ওই আইনজীবী। প্রশাসনের কাছে তাঁর অনুরোধ, হার্দিক পান্ডিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হোক।
সংবাদ সংস্থা ANI এর সাথে কথা বলার সময় ওই অভিযোগকারী জানান, “আমরা প্রত্যেকেই দেখেছি হার্দিক পান্ডিয়া টিম ইন্ডিয়ার জয় উদযাপন করতে গিয়ে বান্ধবীর সঙ্গে নেচেছেন। নানান মুহূর্তে দেখা গিয়েছে তাঁকে। তাঁর পিঠে জড়ানো ছিল জাতীয় পতাকা। 1971 এর জাতীয় পতাকা আইনের দ্বিতীয় ধারা অনুযায়ী, আমাদের প্রত্যেকের জাতীয় পতাকার মর্যাদা রক্ষা করা উচিত। হার্দিক পান্ডিয়া আনন্দে এতটাই মগ্ন হয়ে গিয়েছিলেন যে তিনি জাতীয় পতাকা গায়ে জড়িয়েই বান্ধবীর সাথে শুয়ে পড়েছিলেন। আমি মনে করি এটা জাতীয় পতাকার অপমান।”
প্রসঙ্গত, গত রবিবার ভারত বনাম নিউজিল্যান্ড এর বিশ্বকাপ ফাইনাল গড়িয়েছিল গুজরাতের আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে। হার্দিক পান্ডিয়া সেলিব্রেশনও করেছিলেন সেখানেই। ঘটনাটি গুজরাতের হওয়ায় প্রথমদিকে আইনজীবীর অভিযোগ নিতে অস্বীকার করেছিল বেঙ্গালুরুর শিবাজি নগর থানা। যদিও পরবর্তীতে আইনজীবী জোর দিয়ে বললে অভিযোগ গ্রহণ করে পুলিশ।
বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে তৃতীয়বারের জন্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছে ভারত (India)। গত রবিবারের সেই জয়ের পর টিম ইন্ডিয়াকে বিপুল অর্থ পুরস্কার (Team India Prize Money) দিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল। এদিকে দেশের ছেলেদের সাফল্যকে সামনে রেখে টিম ইন্ডিয়াকে টাকায় মুড়িয়ে দিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডও। BCCI এর তরফে সূর্যকুমার যাদবদের জন্য 131 কোটি টাকার আর্থিক পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। যদিও প্লেয়ারদের পাশাপাশি এই অর্থ ভাগ হবে কোচিং স্টাফ সহ টিম ইন্ডিয়ার সাপোর্ট স্টাফদের মধ্যে। এখন প্রশ্ন, ভারতীয় দলের প্লেয়াররা তাহলে কত করে পাবে?
টিম ইন্ডিয়ার প্লেয়াররা কত টাকা করে পাবেন?
পিটিআই এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের তরফে পাওয়া অর্থ পুরস্কারের একটা বড় অংশ পাবেন টিম ইন্ডিয়ার খেলোয়াড়রা। বাকি অর্থ সাপোর্ট স্টাফ এবং কোচিং স্টাফদের পদ অনুযায়ী দেওয়া হবে। রিপোর্ট বলছে, ভারতীয় টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডের মোট 15 জন ক্রিকেটারকে 6 কোটি টাকা করে দেওয়া হবে। বাকি 41 কোটি টাকা ভাগ করা হবে সাপোর্ট স্টাফ এবং কোচিং স্টাফদের মধ্যে।
গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে রোহিত শর্মার নেতৃত্বে ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়েছিল ভারত। সে বছর চ্যাম্পিয়ন হতেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের কাছে পুরস্কার বাবদ বিপুল অর্থ পাওয়ার পাশাপাশি BCCI এর তরফেও 125 কোটি টাকা পেয়েছিল টিম ইন্ডিয়া। সেবার পুরস্কার মূল্য কিছুটা কম থাকায় টিম ইন্ডিয়ার 15 জন সদস্যকে 5 কোটি টাকা করে দেওয়া হয়। বাকি অর্থ পেয়েছিলেন কোচিং স্টাফ ও সাপোর্ট স্টাফরা। এদিকে শুভমন গিল ও রিঙ্কু সিং সহ চারজন রিজার্ভ খেলোয়াড়কে 1 কোটি টাকা করে দেওয়া হয়েছিল।
প্রসঙ্গত, এবছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের কাছ থেকে 27 কোটি 48 লাখ টাকা পেয়েছিল টিম ইন্ডিয়া। বলাই বাহুল্য, গতবারের তুলনায় এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বিশ্ব ক্রিকেট সংস্থা পুরস্কার মূল্যের পরিমাণ অন্তত 20 শতাংশ বাড়িয়েছে। এর ফলে উপকৃত হয়েছে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়া দলগুলিও।
বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে তৃতীয়বারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ কাঁধে তুলেছে ভারত (India)। টিম ইন্ডিয়ার সাফল্যে অবদান রয়েছে জাতীয় দলের প্রত্যেকেরই। সে অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব হোক কিংবা সঞ্জু স্যামসন। ভারতীয় স্কোয়াডের 15 জন সদস্যই টিম ইন্ডিয়ার এই সাফল্যের দাবিদার। তবে এই তালিকায় একেবারে প্রথম দিকে যাঁর নাম আসে তিনি হলেন ভারতের তারকা অলরাউন্ডার হার্দিক পান্ডিয়া (Hardik Pandya)। এদিন ব্যাট হাতে 18 রানের বেশি করতে না পারলেও দুর্ধর্ষ ফিল্ডিং করার পাশাপাশি বল হাতে একটি উইকেট তুলেছিলেন তিনি। আর তারপরেই ভারত বিশ্বকাপ জেতা মাত্রই এক বিশেষ কীর্তি করে মহেন্দ্র সিং ধোনির রেকর্ডে ভাগ বসালেন হার্দিক।
ধোনির রেকর্ডে ভাগ বসালেন হার্দিক পান্ডিয়া
গত রবিবার রাতে, কিউই বাহিনীকে পরাস্ত করে ভারতীয় দল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতা মাত্রই টিম ইন্ডিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে নবম বারের মতো টি-টোয়েন্টি শিরোপা জিতে নিয়েছেন হার্দিক পান্ডিয়া। হ্যাঁ, 2024 ও 2026 পরপর দু’বারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ী দলের সদস্য হার্দিক পান্ডিয়া। এছাড়াও দুবার এশিয়া কাপ ও মুম্বই ইন্ডিয়ান্স দলের হয়ে মোট চারবার টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন তিনি। এছাড়াও গুজরাত টাইটান্স দলে একবার শিরোপা জিতে ছিলেন হার্দিক। সব মিলিয়ে মোট 9 বার টি-টোয়েন্টি শিরোপা জিতে নিয়েছেন ভারতের এই গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার। আর সেই সূত্রেই তিনি ভাগ বসিয়েছেন মহেন্দ্র সিং ধোনির রেকর্ডে।
বলাই বাহুল্য, মাহিও আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি, এশিয়া কাপ এবং ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ অর্থাৎ ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে মোট 9 বার শিরোপা জিতেছিলেন। তবে ভারতের হয়ে সর্বাধিক টি-টোয়েন্টি ফাইনাল জয়ী ক্রিকেটার কিন্তু রোহিত শর্মা। হ্যাঁ, 20 ওভারের ক্রিকেটে মোট 11 বার টি-টোয়েন্টি শিরোপা জিতেছেন বিরাট কোহলি সতীর্থ। তবে যদি বর্তমান অধিনায়ক সূর্যকুমারের প্রসঙ্গে আসা যায় সেক্ষেত্রে আজ পর্যন্ত মোট 8 বার টি-টোয়েন্টি শিরোপা জিতেছেন তিনি।
উল্লেখ্য, এবারে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শেষ হতেই শোনা যাচ্ছিল হয়তো এবার 20 ওভারের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিতে পারেন হার্দিক পান্ডিয়া। যদিও পরবর্তীতে ফাইনালের রাতে হার্দিক একেবারে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এখনই কোথাও যাচ্ছেন না তিনি। ভারতীয় দলের হয়ে এবং IPL মিলিয়ে দশটি ট্রফি জিততে হবে তাঁকে। ভারতীয় তারকা বলেছিলেন, ক্রিকেটের সবেমাত্র অর্ধেক রাস্তা পাড়ি দিয়েছেন তিনি। এখনও ক্রিকেটকে অনেকটা দেওয়া বাকি তাঁর।