Tag: Howrah

  • শিয়ালদা-হাওড়া লাইনে সেতুর সংস্কার, ট্র্যাকে নতুন প্রযুক্তি, একগুচ্ছ পদক্ষেপ পূর্ব রেলের

    শিয়ালদা-হাওড়া লাইনে সেতুর সংস্কার, ট্র্যাকে নতুন প্রযুক্তি, একগুচ্ছ পদক্ষেপ পূর্ব রেলের

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে ক্রমাগত একের পর এক পদক্ষেপ নিয়ে চলেছে রেল (Indian Railways)। উন্নতমানের প্রযুক্তি রেল পরিষেবা এক অন্য মাত্রায় নিয়ে গিয়েছে। এই অবস্থায় পূর্ব রেলের (Eastern Railway) ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ গত ফেব্রুয়ারি মাসে একগুচ্ছ উল্লেখযোগ্য পরিকাঠামোগত সাফল্যের কথা তুলে ধরেছে। যা উন্নত ট্রেন পরিচালন নিরাপত্তার ওপর যেমন জোর দেওয়া হয়েছে ঠিক তেমনই আধুনিক ট্র্যাক রক্ষণাবেক্ষণের উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছে।

    ম্যানড লেভেল ক্রসিং গেট প্রতিস্থাপন

    পূর্ব রেল বর্তমানে নিরাপত্তা বিধি নিয়ে যে ক্রমাগত অবাধ্যতা তৈরি হচ্ছে তার বিরুদ্ধে লড়াই করে চলেছে। পরিকাঠামোর ব্যাপক আধুনিকীকরণ এবং সতর্কতা থাকা সত্ত্বেও, দ্রুত পারাপার করে রেললাইনকে দুর্ঘটনার করিডোরে পরিণত করেছে। তাই যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে লেভেল ক্রসিং বাদ দিয়ে এবং ওভারব্রিজের নিরাপত্তা এবং রেল চলাচলের গতি বাড়াতে পূর্ব রেলের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ ১১টি ম্যানড লেভেল ক্রসিং গেট প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। জানা গিয়েছে সেখানে লিমিটেড হাইট সাবওয়ে এবং কৌশলগত ডাইভারশন তৈরি করা হয়েছে, যা রেল ও রাস্তার ট্রাফিক সংযোগস্থলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি দূর করবে।

    ১৩টি সেতুর সংস্কার

    পূর্ব রেলের পরিষেবা আরও বৃদ্ধি করতে ১৩টি সেতুর সংস্কার করা হয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদী থাকবে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। যার মধ্যে প্রযুক্তিগত সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তা উন্নত করতে এবং ট্রেনের গতি বজায় রাখতে ৯ টি সেতুর রিগ্রেডিং করা হয়েছে। এছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলিতে ৯ টি নতুন সাইড পাথওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। জানা গিয়েছে এই সাইড পাথওয়ে রেলের গ্রাউন্ড স্টাফদের নিরাপদ চলাচল এবং নজরদারির কাজকে আরও সহজতর করে তুলবে। পাশাপাশি পূর্ব রেলের ট্র্যাক রক্ষণাবেক্ষণের আধুনিকীকরণের জন্য ট্র্যাক নবীকরণ এবং ট্রাকের অবস্থার পর্যবেক্ষণের ওপর জোর দিয়েছে।

    ফোর্সড লেআউট প্রতিস্থাপন

    রেলের তরফে জানানো হয়েছে, ৪১.৭৫ সমতুল্য সংখ্যার ‘থ্রু টার্নআউট রিনিউয়াল’ স্থাপন করা হয়েছে, যা পুরনো মেশিনগুলিকে সরিয়ে আধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত করেছে। এবং ১,৩২০ কিমি রেলপথে ‘আল্ট্রা সনিক ফ্ল ডিটেকশন’ পরীক্ষা করা হয়েছে যাতে ট্র্যাকের ভিতরে কোনও ফাটল থাকলে তা শনাক্ত করা যায়। এছাড়াও ১০৬,২৭০ ঘনমিটার ব্যালাস্ট পাথর বিছানো হয়েছে, যা রেল চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় জল নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে। পাশাপাশি ৭টি ‘ফোর্সড লেআউট’ সফলভাবে সংশোধন করা হয়েছে।

    আরও পড়ুন: এবার বাড়িতে ED-কে ডাকলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়

    পূর্ব রেলের এই একগুচ্ছ নিরাপত্তা মূলক পদক্ষেপে আশার আলো দেখছে যাত্রীরা। এই প্রসঙ্গে পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শ্রী শিবরাম মাঝি জানান, “এই উন্নয়নগুলি যাত্রীদের নিরাপত্তা এবং পরিকাঠামো আধুনিকীকরণের প্রতি পূর্বরেলের একনিষ্ঠ দায়বদ্ধতাকে প্রতিফলিত করে। উন্নত পরীক্ষার মাধ্যমে আমরা আমাদের যাত্রীদের জন্য আরও উন্নতমূলক এবং নির্ভরযোগ্য রেল পরিষেবা তৈরি করছি।”

  • হাওড়া-দিল্লি সফর আরও সহজ, নয়া ট্রেন দিল পূর্ব রেল, দেখুন সময়সূচি

    হাওড়া-দিল্লি সফর আরও সহজ, নয়া ট্রেন দিল পূর্ব রেল, দেখুন সময়সূচি

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: যাত্রীদের জন্য বিরাট সুখবর। নিউ দিল্লি থেকে হাওড়া স্পেশাল ট্রেন (Howrah-New Delhi Special Train) চালানোর ঘোষণা করলে পূর্ব রেল। জানা যাচ্ছে, ট্রেন নম্বর ০৪০৫২ এবং ০৪০৫১ নিউ দিল্লি – হাওড়া – নিউ দিল্লি স্পেশাল ট্রেনটি আজ অর্থাৎ সোমবার থেকে ২৬ মার্চ অবধি চলবে। যাত্রাপথে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলোতে ট্রেনটি থামবে। ট্রেনটির সময়সূচি কী রয়েছে আর কোন কোন স্টেশনে থামবে তা জানুন এই প্রতিবেদনে (Indian Railways)।

    নিউ দিল্লি – হাওড়া স্পেশাল ট্রেন

    পূর্ব রেলের তরফ থেকে যেমনটা জানানো হয়েছে, আজ অর্থাৎ ২৩ তারিখ থেকে ২৫ তারিখের মধ্যে এই ট্রেনটি চলবে। যার মধ্যে ট্রেন নম্বর ০৪০৫২ নিউ দিল্লি – হাওড়া স্পেশাল ট্রেনটি আজ অর্থাৎ ২৩ তারিখ নিউ দিল্লি স্টেশন থেকে সন্ধ্যা ৬:১৫ মিনিটে ছাড়বে এবং আগামীকাল অর্থাৎ ২৪ তারিখ হাওড়া জংশনে ট্রেনটি পৌঁছবে রাত ১১:৪০ মিনিটে। মাঝে জসিডি স্টেশনে ট্রেনটি পৌঁছবে আগামীকাল বিকাল ৫:৩২ মিনিটে।

    অন্যদিকে ট্রেন নম্বর ০৪০৫১ হাওড়া – নিউ দিল্লি স্পেশাল ট্রেনটি আগামী ২৫ তারিখ হাওড়া জংশন থেকে ছাড়বে রাত ১:৪০ মিনিটে এবং ট্রেনটি নিউ দিল্লি পৌঁছবে ২৬ তারিখ সকাল ৮:২০ মিনিটে। মাঝে ট্রেনটি জসিডি স্টেশনে পৌঁছবে ২৫ তারিখ সকাল ৭:২০ মিনিটে।

    আরও পড়ুন: দেড় লক্ষ বিনিয়োগে মাসে মিলবে ৯৭৫০ টাকা সুদ! এত রিটার্ন দিচ্ছে LIC?

    কোন কোন স্টেশনে থামবে ট্রেনটি?

    পূর্ব রেলের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, উপরোক্ত স্পেশাল ট্রেনগুলি উভয়দিকে গাজিয়াবাদ, আলিগড় জং., টুন্ডলা জং., গোবিন্দপুরী, প্রয়াগরাজ জং, মির্জাপুর, পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় জং., বক্সার, আরা, পাটনা জং., বখতিয়ারপুর জং., কিউল জং., ঝাঝা, মধুপুর জং., আসানসোল জং., বর্ধমান এবং ব্যান্ডেল স্টেশনে স্টপেজ দেবে। আর ট্রেনটিতে মোট ১৯টি কোচ থাকবে যার মধ্যে এসি ২ টিয়ার কোচ থাকবে ১টি, এসি থ্রি টিয়ার কোচ থাকবে ২টি, স্লিপার ক্লাস থাকবে ১০টি, সাধারণ দ্বিতীয় শ্রেণীর কোচ থাকবে ৪টি এবং এসএলআরডি কোচ থাকবে ২টি। আর ট্রেনটিকে মেইল/এক্সপ্রেস ক্যাটাগরির মধ্যেই রাখা হচ্ছে।

    Image

  • হাওড়া-শিয়ালদা লাইনে বাতিল ৪৭টি লোকাল, বহু ট্রেনের সময়ও বদলাল রেল

    হাওড়া-শিয়ালদা লাইনে বাতিল ৪৭টি লোকাল, বহু ট্রেনের সময়ও বদলাল রেল

    সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ সপ্তাহান্তে নতুন করে ফের ভোগান্তির শিকার হতে চলেছেন সাধারণ মানুষ। হাওড়া ডিভিশনে (Howrah) বাতিল (Train Cancelled) থাকতে চলেছে কয়েকগুচ্ছ ট্রেন। সেইসঙ্গে কিছু ট্রেন পুনর্নিধারণ, নিয়ন্ত্রণ করা হবে বলে খবর। মূলত। হাওড়া ডিভিশনের  বিভিন্ন শাখার রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য আগামী ২২ মার্চ, রবিবার দিনের বেলায় ট্রাফিক ব্লকের প্রয়োজন হবে। সে কারণে কিছু ট্রেন বাতিল থাকবে এদিন। চলুন বিশদে জেনে নেওয়া যাক।

    হাওড়া ডিভিশনে ফের ট্রাফিক ব্লক

    পূর্ব রেলের তরফে ইতিমধ্যে এই বিষয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। সেই বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, রবিবার কোন্নগর উত্তরপাড়া শাখায় ডাউন মেই লাইনে দুপুর ১২টা থেকে দুপুর ৩টে অবধি, ভদ্রেশ্বর স্টেশন লিমিট-শেওড়াফুলি শাখায় ডাউন মেন লাইনে সকাল ১১টা ৪৫ মিনিট থেকে দুপুর ২টো ৪৫ মিনিট অবধি, খন্যান-পাণ্ডুয়া শাখায় ডাউন মেইলাইনে সকাল ১০:৪৫ মিনিট থেকে দুপুর ১:৪৫ মিনিট অবধি, ডানকুনি-সিসিএল শাঁখা রিভার্স সিসিআর লাইনে সকাল ৯:৪৫ মিনিট থেকে দুপুর ১২:৪৫ মিনিট অবধি, বারুইপাড়া স্টেশন লিমিটে আপ হাওড়া-বর্ধমান কর্ড লাইন ১-এ সকাল ১০:৪০ মিনিট থেকে দুপুর ১:৪০ মিনিট অবধি, চেরাগ্রাম ব্লক হাট-গুড়াপ শাখায় আপ হাওড়া-বর্ধমান কর্ড লাইনে সকাল ১০:৫০ মিনিট থেকে দুপুর ১:৫০ মিনিট অবধি, জৌগ্রাম-মসাগ্রাম শাখায় আপ হাওড়া-বর্ধমান কর্ডলাইনে সকাল ১১:১৫ মিনিট থেকে দুপুর ২:১৫ মিনিট অবধি ব্লক (Traffic Block) থাকবে।

    কোন কোন ট্রেন বাতিল থাকবে?

    রবিবার কোন কোন ট্রেন বাতল থাকবে তার তালিকা দিয়েছে রেল। এদিন ৪৭টি ট্রেন বাতিল থাকবে বলে খবর। হাওড়া–চন্দনপুর লোকাল, হাওড়া–বর্ধমান লোকাল (কর্ড লাইন হয়ে), হাওড়া–ব্যাণ্ডেল লোকাল, হাওড়া–কাটোয়া লোকাল, হাওড়া–পাঁশকুড়া লোকাল, হাওড়া–মেমারি লোকাল, হাওড়া–বর্ধমান লোকাল (মেইন লাইনে), হাওড়া–ব্যান্ডেল লোকাল, বর্ধমান–হাওড়া লোকাল, ব্যাণ্ডেল–হাওড়া লোকাল, কাটোয়া–হাওড়া লোকাল, শেওড়াফুলি–হাওড়া লোকাল, পাঁশকুড়া–হাওড়া লোকাল, মেমারি–হাওড়া লোকাল, কাটোয়া–আজিমগঞ্জ প্যাসেঞ্জার, বর্ধমান–হাওড়া লোকাল (মেইন লাইনে), বর্ধমান–শিয়ালদহ লোকাল, বর্ধমান–হাওড়া লোকাল (কর্ড লাইনে), আহমদপুর–কাটোয়া মেমু, চন্দনপুর–হাওড়া লোকাল, তারকেশ্বর–শিয়ালদহ লোকাল, শ্রীরামপুর–তারকেশ্বর লোকাল, রামপুরহাট–আজিমগঞ্জ মেমু ইত্যাদি।

    কোন কোন ট্রেন পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে?

    • (১) ১০১৫৫ হাওড়া–জামালপুর কবিগুরু এক্সপ্রেস ১০ মিনিট পরে ছাড়বে।
    • (২) ১৩০৩১ রামপুরহাট–হাওড়া এক্সপ্রেস ৭৫ মিনিট পরে ছাড়বে।
    • (৩) ১৩০৩২ গোদা–শিয়ালদহ এক্সপ্রেস ২০ মিনিট পরে ছাড়বে।
    • (৪) ৫৩০৫৩ কাটোয়া–নিমতিতা প্যাসেঞ্জার ৬০ মিনিট পরে ছাড়বে।

    এই ট্রেনগুলি নিয়ন্ত্রিত হবে

    (১) ১২৩৭৭ হাওড়া–রামপুরহাট শীর্ষ এক্সপ্রেস ৬০ মিনিট নিয়ন্ত্রিত হবে।
    (২) ১৩০০১ হাওড়া–জম্মু এক্সপ্রেস ৪৫ মিনিট নিয়ন্ত্রিত হবে।
    (৩) ১৩০০৩ হাওড়া–কাটোয়া এক্সপ্রেস ৫০ মিনিট নিয়ন্ত্রিত হবে।
    (৪) ১৩০১৬ জামালপুর–হাওড়া কবিগুরু এক্সপ্রেস ১২০ মিনিট নিয়ন্ত্রিত হবে।

  • বর্ধমান লাইনে বিরাট কাজ করে ফেলল পূর্ব রেল, হাওড়া-দিল্লি রুট এখন আরও নিরাপদ

    বর্ধমান লাইনে বিরাট কাজ করে ফেলল পূর্ব রেল, হাওড়া-দিল্লি রুট এখন আরও নিরাপদ

    সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ রেল (Indian Railways) যাত্রীদের চিন্তার দিন শেষ। এর কারণ এবার ট্রেনে ভ্রমণ করা আরও সুরক্ষিত। সবথেকে বড় কথা, বাংলার অন্যতম বেশি চাহিদাসম্পন্ন রুট হাওড়া-দিল্লি রুট (Howrah-Delhi Route) নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় রেল। আপনিও কি আগামী দিনে হাওড়া থেকে দিল্লি বা দিল্লি থেকে হাওড়া আসবেন বলে ঠিক করেছেন? তাহলে আজকের এই প্রতিবেদনটি রইল শুধুমাত্র আপনার জন্য। হাওড়া-নয়া দিল্লি রুটের বর্ধমান এবং প্রধানকুণ্ডার মধ্যবর্তী ১৫৫ কিলোমিটার অংশে সফলভাবে কবচ অ্যান্টি-কলিশন সিস্টেম (Kavach) চালু করেছে।

    হাওড়া-দিল্লি রুটে বসল কবচ

    রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্ধমান এবং প্রধানকুণ্ডার মধ্যবর্তী ১৫৫ কিলোমিটার অংশে সফলভাবে কবচ অ্যান্টি-কলিশন সিস্টেম চালু করে নতুন মাইলফলক অর্জন করেছে পূর্ব রেল। সেইসঙ্গে পরিচালনগত ক্ষমতা এবং যাত্রী সুরক্ষায় নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে। এই সাফল্যের ফলে, চলতি অর্থ বছরে কবচ সিস্টেমের মোট বাস্তবায়ন ২৬০ কিলোমিটারে পৌঁছেছে, যা রেল সুরক্ষার সর্বোচ্চ মানের প্রতি পূর্ব রেলের অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে।

    বড় সাফল্য পূর্ব রেলের

    নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতির পাশাপাশি, পূর্ব রেল কঠোর আর্থিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে চমৎকার আর্থিক শৃঙ্খলা প্রদর্শন করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় সাধারণ পরিচালন ব্যয় ১৪.৫৫% কমিয়ে এনেছে। পূর্ব রেলওয়ের এই জোনের রাজস্ব আয়ও বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে শক্তিশালী রয়েছে। স্ক্র্যাপ বিক্রি থেকে রাজস্ব আয় ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ ৭০.২২ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা লক্ষ্যমাত্রা ৫৪.৫ কোটি টাকাকে ২৮.৮৪% ছাড়িয়ে গেছে। যাত্রী ভাড়া থেকেও রাজস্ব আয়ে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে, যা গত বছরের একই মাসের তুলনায় ১২.০১% বেড়ে ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ ২৪৪.২২ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

    আরও পড়ুনঃ DA-র প্রথম কিস্তির টাকা নিয়ে কী বলছে রাজ্যের নয়া বিজ্ঞপ্তি?

    পূর্ব রেলওয়ের এই সকল সাফল্য শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রেখে পরিকাঠামো আধুনিকীকরণের ক্ষেত্রে এর সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গিকেই প্রতিফলিত করে। আর্মার সিস্টেমের সম্প্রসারণ এবং আর্থিক শৃঙ্খলা পূর্ব রেলওয়েকে পরিচালনগত দক্ষতা ও যাত্রী সুরক্ষার সর্বোচ্চ মান অর্জনে সহায়তা করছে।

    কবচ কী?

    কবচ হলো ভারতের প্রথম আধুনিক অটোমেটিক ট্রেন প্রোটেকশন (এটিপি) সিস্টেম। রেল কর্তৃপক্ষ পর্যায়ক্রমে সমস্ত রুটে এর ব্যবহার সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে। হাওড়া থেকে ছোটা আম্বানা পর্যন্ত এই অংশটি ২৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ, যার মধ্যে ২২৯ কিলোমিটার পশ্চিমবঙ্গে এবং ৩১ কিলোমিটার ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত। সম্পূর্ণ লাইনটিতে ৪৭টি স্টেশন এবং গেটেড আর্মারযুক্ত ১৩টি লেভেল ক্রসিং রয়েছে। ২০২২ সালের জুলাই মাসে শুরু হওয়া এই প্রকল্পটি চার বছরের মধ্যে শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি প্রযুক্তিগতভাবে অত্যন্ত মজবুত।

     

  • হাওড়ার তিন রুটে ৩টি স্পেশাল ট্রেনের ঘোষণা রেলের, রইল সময়সূচি

    হাওড়ার তিন রুটে ৩টি স্পেশাল ট্রেনের ঘোষণা রেলের, রইল সময়সূচি

    সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ দোল বা হোলি মিটে যাওয়ার পরেই রেলের তরফে স্পেশাল ট্রেন চালানোর ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে। এবারও যার ব্যতিক্রম ঘটল। আপনিও যদি ট্রেনে ভ্রমণ করতে পছন্দ করে থাকেন, বিশেষ করে হাওড়া ডিভিশন ভালো লাগে, তাহলে আপনার জন্য রইল সুখবর। আসলে হাওড়া রুটে এবার একটা বা দুটো নয়, একসঙ্গে তিনটি স্পেশাল ট্রেনের ঘোষণা করেছে পূর্ব রেল (Howrah Special Train)। বিভিন্ন রুটে এই ট্রেন ছুটবে। সবথেকে বড় কথা, কনফার্ম সিটের জন্য ভাবনাচিন্তা করতে হবে না, কারণ এই ট্রেন পুরোপুরি অসংরক্ষিত। চলুন জেনে নেওয়া যাক পূর্ব রেল কোন কোন রুটে বিশেষ ট্রেন দিয়েছে।

    হাওড়া রুটে ৩টি স্পেশাল ট্রেনের ঘোষণা রেলের

    পূর্ব রেলের তরফে ইতিমধ্যে তিনটি ট্রেনের বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। এই বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, রেল ট্রেন নম্বর ০৩৫৪০/০৩৫৩৯ বরাকর-হাওরা-বরাকর স্পেশাল, ট্রেন নম্বর ০৩৫৪৪/০৩৫৪৩ দুর্গাপুর-হাওড়া-দুর্গাপুর এবং ০৩৫৪৬/০৩৫৪৫ সিউড়ি-হাওড়া-সিউড়ি স্পেশাল ট্রেন চালাবে। ইতিমধ্য এই ট্রেনগুলির সময়সূচী অবধি সামনে এসেছে।

    বরাকর-হাওড়া-বরাকর স্পেশাল ট্রেনের সময়সূচী

    আজ ১৩ মার্চ বরাকর-হাওড়া স্পেশাল রাত ২২:৫৫ মিনিটে বরাকর ছেড়ে যাবে এরপর ট্রেনটি পরের দিন অর্থাৎ ১৪ মার্চ ভোর ৪:২০ মিনিটে হাওড়া স্টেশনে ঢুকবে। ফিরতি পথে ট্রেনটি সেদিনই রাত ২০:৫০ মিনিটে হাওড়া থেকে ছেড়ে বরাকর ঢুকবে পরের দিন ১৫ মার্চ ভোর ৩:০০টে নাগাদ। যাত্রাপথে ট্রেনটি উভয়মুখেই কুলটি, সীতারাম্পুর, বরাচক, কালীপাহাড়ী, রাণীগঞ্জ, অন্ডাল এবং বর্ধমান স্টেশনে থামবে। এটি মেল/এক্সপ্রেস ক্যাটেগরির অসংরক্ষিত ট্রেন।

    দুর্গাপুর-হাওড়া-দুর্গাপুর স্পেশাল ট্রেনের সময়সূচী

    এই স্পেশাল ট্রেনটি দুর্গাপুর থেকে ১৪ মার্চ সকাল ৬টার সময় ছেড়ে যাবে এবং হাওড়া ঢুকবে সকাল ১০:৩০টা নাগাদ। এরপর ফিরতি পথে সেদিনই হাওড়া থেকে সন্ধে ১৯:১৫ মিনিটে ছেড়ে যাবে এবং দুর্গাপুর ঢুকবে রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ। এই স্পেশাল ট্রেনটি যাত্রাপথে বর্ধমান, মানকর স্টেশনে থামবে।

    আরও পড়ুনঃ হাওড়ার তিন রুটে ৩টি স্পেশাল ট্রেনের ঘোষণা রেলের, রইল সময়সূচি 

    সিউড়ি-হাওড়া-সিউড়ি স্পেশাল ট্রেনের সময়সূচী

    এবার আসা যাক সিউড়ি-হাওড়া-সিউড়ি বিশেষ ট্রেন সম্পর্কে। রেল জানিয়েছে, সিউড়ি থেকে আজ রাত ২২:০০ নাগাদ ট্রেনটি ছেড়ে পরের দিন ১৪ মার্চ ভোর ৪:৫০ মিনিটে হাওড়া ঢুকবে। এরপর ফিরতি পথে ট্রেনটি হাওড়া থেকে সন্ধে ৭টা নাগাদ ছেড়ে যাবে এবং সিউড়ি ঢুকবে ১৫ মার্চ ভোর ৩:৩০ মিনিট নাগাদ। যাত্রাপথে বিশেষ ট্রেনটি কচুজোড়, চিনপাই, দুবরাজপুর, পাঁচরা, ভীমগড়া, পান্ডবেশ্বর এবং উখড়া স্টেশনেও থামবে বলে খবর।

  • হাওড়াগামী বহু ট্রেনের নম্বর, বিভাগ বদলাচ্ছে রেল! ভ্রমণের আগে দেখুন তালিকা

    হাওড়াগামী বহু ট্রেনের নম্বর, বিভাগ বদলাচ্ছে রেল! ভ্রমণের আগে দেখুন তালিকা

    সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ রেল যাত্রীদের জন্য রইল জরুরি খবর। এবার বেশ কিছু ট্রেনের মধ্যে বিরাট পরিবর্তন করতে চলেছে রেল (Indian Railways)। মূলত যাত্রী সুবিধার কথা মাথায় রেখে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনের সংখ্যা শ্রেণীবিভাগ বদলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে রেলের তরফে। এই ট্রেনগুলির মধ্যে হাওড়া ডিভিশনের ট্রেনও রয়েছে। পরিবর্তনটি আগামী এপ্রিল, ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে। আপনিও যদি আগামী কয়েকদিনের মধ্যে ট্রেনে ভ্রমণের প্ল্যান করে থাকেন তাহলে আজকের এই আর্টিকেলটির ওপর নজর রাখুন।

    হাওড়াগামী বহু ট্রেনে বদল আনল রেল

    রেলের তরফে জানানো হয়েছে, বেশ কিছু ট্রেনের সংখ্যা বদলের পাশাপাশি বর্তমানে দেশজুড়ে চলা কিছু সুপারফাস্ট ট্রেনকে এখন মেল বা এক্সপ্রেসে রূপান্তরিত করা হবে এবং চালানো হবে। রেল সূত্রে খবর, হাওড়া-দেহরাদুন, হাওড়া-জম্মু তাওয়ী, হাওড়া-প্রয়াগরাজ রামবাগ এবং হাওড়া-কালকা রুটে চলাচলকারী কিছু ট্রেনের নম্বর পরিবর্তন করা হবে এবং তাদের বিভাগ সুপারফাস্ট থেকে মেল/এক্সপ্রেসে পরিবর্তন করা হবে। চলুন জেনে নেওয়া যাক বিশদে।

    আরও পড়ুনঃ দাঁড়ায় মাত্র ৫টি স্টেশনে, ‘লোকাল ট্রেনের রাজা’ বলা হয় এই ট্রেনটিকে! চলে হাওড়া-বর্ধমান রুটে

    তালিকা দিল রেল

    • ১২৩২৭ হাওড়া-দেহরাদুন ট্রেন নম্বরটি সংশোধন করে ১৪ এপ্রিল থেকে ১৩০৩৫ করা হবে।
    • ১২৩২৮ দেহরাদুন-হাওড়া ট্রেনের নম্বর পরিবর্তন করে ১৫ এপ্রিল থেকে ১৩০৩৬ করা হবে।
    • ১২৩৬৯ হাওড়া-দেহরাদুন ট্রেনের নম্বর পরিবর্তন করে আজ ১৩ এপ্রিল থেকে ১৩০৩৭ এবং ১২৩৭০ দেরাদুন-হাওড়া ট্রেনের নম্বর পরিবর্তন করে ১৪ এপ্রিল থেকে ১৩০৩৮ নম্বরে বদল করা হবে।
    • ১২৩৩১ হাওড়া-জম্মু তাওয়ী ১৪ এপ্রিল থেকে ট্রেন নম্বর ১৩০৪১ এবং ১২৩৩২ জম্মু তাওয়ী-হাওড়া আগামী ১৬ এপ্রিল থেকে ট্রেন নম্বর ১৩০৪২-এ বদলে যাবে।
    • ১২৩৩৩ হাওড়া-প্রয়াগরাজ রামবাগ আজ ১৩ এপ্রিল থেকে ট্রেন নম্বর ১৩০৪৭ এবং ১২৩৩৪ প্রয়াগরাজ রামবাগ-হাওড়া আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে ট্রেন নম্বর ১৩০৪৮-এ পরিবর্তন করা হবে।
    • ১২৩১১ হাওড়া-কালকা সংশোধন করে আজ থেকে ট্রেন নম্বর ১৩০৫১ এবং ১২৩১২ কালকা-হাওড়া ১৫ এপ্রিল থেকে ট্রেন নম্বর ১৩০৫২ হয়ে চলাচল করবে।

     

  • দুর্ভোগ কমবে শিয়ালদা-হাওড়া লাইনের যাত্রীদের, নশিপুর হল্ট স্টেশন নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত রেলের

    দুর্ভোগ কমবে শিয়ালদা-হাওড়া লাইনের যাত্রীদের, নশিপুর হল্ট স্টেশন নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত রেলের

    সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ নশিপুর হল্ট স্টেশন (Nashipur Halt Station) নিয়ে সামনে এল বিরাট আপডেট। বিধানসভা ভোটের মুখে অবশেষে এই মুর্শিদাবাদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নশিপুর হল্ট স্টেশনের শিলান্যাস করে সকলকে চমকে দিল পূর্ব রেল। মুর্শিদাবাদবাসী অপেক্ষা করছেন এবং এই রেলস্টেশনটি সকলের জন্য উন্মুক্ত হবে, ট্রেন দাঁড়াবে তা নিয়ে। আরও বিশদে জানতে চোখ রাখুন আজকের এই প্রতিবেদনটির ওপর।

    শিলান্যাস হল নশিপুর হল্ট স্টেশনের

    গতকাল ১২ মার্চ নশিপুর হল্টের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হয়। এই ঘটনা মুর্শিদাবাদের জন্য একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এই অনুষ্ঠানে শিয়ালদহের ডিআরএম রাজীব সাক্সেনার পাশাপাশি বিধায়ক গৌরী শঙ্কর ঘোষের উপস্থিতি ছিল। আঞ্চলিক অগ্রগতির প্রতি সম্মিলিত অঙ্গীকারের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। কৃষ্ণনগর লালগোলা সেকশনে এই স্টেশনটি স্থাপনের মাধ্যমে, রেল মন্ত্রক অবশেষে হাওড়া এবং শিয়ালদহ ডিভিশনের যাত্রীদের সমস্যার দূর করে। আর ঘুরপথ হবে না।

    আরও পড়ুনঃ দাঁড়ায় মাত্র ৫টি স্টেশনে, ‘লোকাল ট্রেনের রাজা’ বলা হয় এই ট্রেনটিকে! চলে হাওড়া-বর্ধমান রুটে

    একই জেলার অংশ হওয়া সত্ত্বেও, আজিমগঞ্জ এবং নশিপুর অঞ্চলগুলি কার্যত বিচ্ছিন্ন রয়ে গেছে। বর্তমানে, হাওড়া দিক থেকে নশিপুর বা মুর্শিদাবাদ অভিমুখে যাত্রীদের অনেক সম্মুখীন হতে হয়। যদিও আজিমগঞ্জ এবং নশিপুর মুর্শিদাবাদের প্রতিবেশী, ধীর গতির ফেরি এবং নৌকার উপর তাদের নির্ভরতা কয়েক কিলোমিটার যাত্রাকেও ক্লান্তিকর করে তুলেছে। সূত্রের খবর, আজিমগঞ্জ এবং নশিপুর উভয় তীরই অত্যন্ত উৎপাদনশীল কৃষি অঞ্চল। এই থামার স্টেশনটি দ্রুত পণ্য বিনিময়ের সুবিধা প্রদান করবে, যার ফলে কৃষকরা ন্যূনতম ওভারহেড খরচ ছাড়াই উভয় পাশের বাজারে প্রবেশ করতে পারবেন এবং অপ্রত্যাশিত নদী পরিবহনের উপর নির্ভরতা কম থাকবে।

    উপকৃত হবেন সাধারণ মানুষ

    তবে আর নয়, কারণ শীঘ্রই নশিপুরের বাসিন্দারা এখন সরাসরি হাওড়া নেটওয়ার্কের সাথে সংযুক্ত হবেন, এবং হাওড়া ডিভিশনের যাত্রীরা কোনওরকম ঘুরপথ ছাড়াই সরাসরি মুর্শিদাবাদের প্রাণকেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন। কৃষ্ণনগর-লালগোলা সেকশনে অবস্থিত নতুন থাম স্টেশনটি সময়সাপেক্ষ জল ক্রসিংকে দ্রুত রেল যাত্রায় রূপান্তরিত করতে সহায়তা করবে।

  • দাঁড়ায় মাত্র ৫টি স্টেশনে, ‘লোকাল ট্রেনের রাজা’ বলা হয় এই ট্রেনটিকে! চলে হাওড়া-বর্ধমান রুটে

    দাঁড়ায় মাত্র ৫টি স্টেশনে, ‘লোকাল ট্রেনের রাজা’ বলা হয় এই ট্রেনটিকে! চলে হাওড়া-বর্ধমান রুটে

    বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: প্রতিদিন বাংলার বুক চিরে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে চলে অসংখ্য লোকাল ট্রেন (Super Local Train)। নিত্য অফিস যাত্রী থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী, এক কথায় ডেলি প্যাসেঞ্জারদের যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম এই ট্রেনগুলি (Train)। তবে অনেকেই হয়তো জানেন না, বাংলার বুকে এমন একটি লোকাল ট্রেন রয়েছে যাকে যাত্রীরা লোকাল ট্রেনের রাজা বলে ডাকেন। হ্যাঁ, রেলের হোয়ার ইজ মাই ট্রেন অ্যাপেও এই লোকালটির নাম রয়েছে সুপার লোকাল হিসেবেই। কিন্তু কোন রুটে চলে এই ট্রেন? কেনই বা তাকে সুপার লোকাল বা লোকাল ট্রেনের রাজা বলা হয় জানা আছে?

    এই ট্রেনটিকে বলা হয় লোকাল ট্রেনের রাজা

    বাংলার অন্যতম ব্যস্ত রেলরুট বা লাইন হাওড়া-বর্ধমান। প্রতিদিন এই রুটেই চলে একাধিক মেল/এক্সপ্রেস এবং মেমু লোকাল। বলে রাখা প্রয়োজন, বর্ধমান থেকে হাওড়া পর্যন্ত মোট 33টি স্টেশন রয়েছে। এই রুটের প্রায় সব লোকাল ট্রেনই প্রতিটি স্টেশনের স্টপেজ দিয়ে থাকে। তবে এদের মধ্যে এমন একটি লোকাল ট্রেন রয়েছে যেটি বর্ধমান থেকে হাওড়া পর্যন্ত মাত্র পাঁচটি স্টেশনে দাঁড়ায়। হ্যাঁ, প্রতিদিন ভোর 6টা বেজে 35 মিনিটে বর্ধমান থেকে ছেড়ে সকাল সাড়ে আটটায় হাওড়ায় পৌঁছয় এই ট্রেন।

    ট্রেন নম্বর 37822 বর্ধমান-হাওড়া মেন লাইন সুপার লোকাল ট্রেনটি তার যাত্রাপথে বর্ধমান থেকে ছেড়ে প্রথমে মেমারি, তারপর বৈঁচি, এরপর পান্ডুয়া, মগরা, ব্যান্ডেল স্টেশনে স্টপেজ দিয়ে সোজা হাওড়া স্টেশনে ঢোকে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, আর পাঁচটা লোকাল ট্রেন যেখানে এই নির্দিষ্ট যাত্রা পথ অতিক্রম করতে আড়াই ঘণ্টা থেকে পৌনে তিন ঘন্টা সময় নেয় সেখানে এই সুপার লোকাল ট্রেনটি মাত্র 2 ঘন্টায় যাত্রীদের বর্ধমান থেকে হাওড়া আবার হাওড়া থেকে বর্ধমান এ পৌঁছে দেয়।

    অবশ্যই পড়ুন: LPG কানেকশনে শীর্ষে উত্তরপ্রদেশ, বাংলার অবস্থান কোথায়? দেখুন রাজ্যভেদে পরিসংখ্যান

    এক কথায় বলতে গেলে, আপাত দৃষ্টিতে বাংলার বর্ধমান থেকে হাওড়া রুট সহ অন্যান্য শাখার সাধারণ লোকাল ট্রেন গুলির তুলনায় কম স্টপেজ এবং অল্প সময়ে যাত্রা সম্পূর্ণ করার জন্যই এই ট্রেনটিকে লোকাল ট্রেনের রাজা বলেই ডাকেন নিত্যযাত্রীরা। হাওড়া-বর্ধমান শাখার একটা বড় অংশের যাত্রীর দাবি, একই খরচে অন্যান্য লোকাল ট্রেনের তুলনায় এই ট্রেন অনেক আগে গন্তব্যে পৌঁছে দেয়। তাছাড়াও এর স্টপেজ অনেক কম। মূলত সে কারণেই, প্রতিদিন ভোর হলেই এই ট্রেনে ওঠার হিড়িক পড়ে যায় যাত্রীদের মধ্যে।

  • দিল্লি-হাওড়া রুটে বড় কাজ করে ফেলল রেল, সুখবর কোটি কোটি যাত্রীর জন্য

    দিল্লি-হাওড়া রুটে বড় কাজ করে ফেলল রেল, সুখবর কোটি কোটি যাত্রীর জন্য

    সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ রেল যাত্রীদের ভ্রমণ সুরক্ষিত এবং সুন্দর করতে বদ্ধপরিকর রেল। সেজন্য একের পর এক কাজ করেই চলেছে। এহেন সেইসঙ্গে নিত্য নতুন ট্রেন, রেল লাইন, হাইস্পিড রেল করিডর, বুলেট ট্রেন ইত্যাদি যাত্রী স্বার্থে একের পর এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েই চলেছে রেল। এবারও রেল এক বিরাট মাইলফলক অর্জন করেছে। কবচ ৪.০ (Kavach 4.0) নিয়ে মিলেছে বিরাট সাফল্য।

    কবচ ৪.০ নিয়ে বিরাট মাইলফলক অর্জন রেলের

    সম্প্রতি রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব ঘোষণা করেছেন যে দেশীয়ভাবে তৈরি স্বয়ংক্রিয় ট্রেন সুরক্ষা ব্যবস্থা, “কবচ ৪.০”, দিল্লি-মুম্বাই এবং দিল্লি-হাওড়া সহ ১,৪৫২ কিলোমিটার ব্যস্ততম রুটে সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এই ব্যবস্থাটি সম্পূর্ণরূপে ভারতে তৈরি এবং সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সার্টিফিকেশন, “SIL-4” প্রদান করা হয়েছে। কবচের প্রাথমিক কাজ হল ট্রেন দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা এবং কঠিন পরিস্থিতিতে লোকো পাইলটদের সহায়তা করা। রেল মন্ত্রকও একই তথ্য দিয়েছে।

    Kavach 4.0 কী, কীভাবে কাজ করে?

    কবচ এমন একটি প্রযুক্তি যা ক্রমাগত ট্রেনের গতি পর্যবেক্ষণ করে। যদি কোনও কারণে লোকো পাইলট ব্রেক লাগাতে ভুলে যান বা সিগন্যাল না দেখতে পান, তাহলে সিস্টেমটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্রেক কষে। এটি খারাপ আবহাওয়া বা ঘন কুয়াশার সময়ও নিরাপদ ট্রেন পরিচালনা নিশ্চিত করতে সাহায্য করে। কবচ ৪.০-এ বেশ কয়েকটি বড় আপগ্রেড রয়েছে, যেমন সঠিক লোকেশনের তথ্য, বড় ইয়ার্ডে আরও ভাল সিগন্যাল তথ্য এবং ইলেকট্রনিক ইন্টারলকিং সিস্টেমের সাথে সরাসরি ডেটা পাওয়া। এই বৈশিষ্ট্যগুলির কারণে, এখন দেশের রেলওয়ে নেটওয়ার্ক জুড়ে এটিকে বৃহৎ পরিসরে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা চলছে।

    আরও পড়ুনঃ বাড়ছে ঋণের বোঝা, আর্থিক স্বাস্থ্যে বিহার-ইউপির পিছনে বাংলা! শেষ তিনে পশ্চিমবঙ্গ

    রেলওয়ে কবচ বাস্তবায়নের জন্য ব্যাপক কাজ হাতে নিয়েছে। এখন পর্যন্ত ৮,৫৭০ কিলোমিটার অপটিক্যাল ফাইবার কেবল স্থাপন করা হয়েছে এবং রেলপথের ধারে ১,১০০টি টেলিকম টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও, ৭৬৭টি স্টেশনে ডেটা সেন্টার তৈরি করা হয়েছে এবং ৬,৭৭৬ কিলোমিটার ট্র্যাকে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম স্থাপন করা হয়েছে। রেলমন্ত্রী জানিয়েছেন যে দিল্লি-মুম্বাই রুটের পালওয়াল-মথুরা-নাগদা, ভদোদরা-আহমেদাবাদ এবং ভদোদরা-ভিরার অংশের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। দিল্লি-হাওড়া রুটের গয়া-সরমতনগর এবং বর্ধমান-হাওড়া অংশেও কবচ ব্যবস্থা করা হয়েছে।

    লক্ষাধিক কর্মীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে

    কবচ নিয়ে যাতে কারোর মধ্যে কোনও ধোঁয়াশা না থাকে তার জন্য চলছে ট্রেনিং প্রক্রিয়া। রেলওয়ে এখনও পর্যন্ত ৫৫,০০০ এরও বেশি টেকনিশিয়ান, অপারেটর এবং ইঞ্জিনিয়ারকে এই নতুন প্রযুক্তিতে প্রশিক্ষণ দিয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৪৭,৫০০ লোকো পাইলট এবং সহকারী লোকো পাইলট রয়েছে। ট্র্যাকে কবচ স্থাপনের খরচ প্রতি কিলোমিটারে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা, যেখানে একটি লোকোমোটিভে এটি স্থাপনের খরচ প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা।

     

  • মার্চেই হাওড়া থেকে ছুটবে দ্বিতীয় বন্দে ভারত স্লিপার! কোন রুটে? জানুন রেলের প্ল্যান

    মার্চেই হাওড়া থেকে ছুটবে দ্বিতীয় বন্দে ভারত স্লিপার! কোন রুটে? জানুন রেলের প্ল্যান

    সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ সকল অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে দেশ শীঘ্রই পেতে চলেছে দ্বিতীয় বন্দে ভারত স্লিপার (Vande Bharat Sleeper Express) ট্রেন। হ্যাঁ একদম ঠিক শুনেছেন। অর্থাৎ আবারও দূরের ট্রেন ভ্রমণ হবে আরও আরামে শুয়ে, বসে। তবে প্রশ্ন উঠছে, কোন রুটে এরকম প্রিমিয়াম ট্রেন দেবে রেল?

    কোন রুটে চলবে দ্বিতীয় বন্দে ভারত স্লিপার?

    বর্তমানে কামাখ্যা-হাওড়া-কামাখ্যা রুটে চলছে বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন। আর এই ট্রেন লঞ্চ হওয়ার আগে থেকেই সাধারণ মানুষের মধ্যে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। এখনও করছে অবশ্য। গুয়াহাটি এবং কলকাতার মধ্যে চলাচলকারী বন্দে ভারত ট্রেনটি একটি জনপ্রিয় পছন্দ, যে কারণে এর যাত্রীদের সংখ্যা বেশ ভালো। এর সুযোগ-সুবিধা দেখে অন্যান্য শহরের মানুষ নিঃসন্দেহে ভাবছেন যে তাদের শহরে এটি কখন চলাচল শুরু করবে। রেলমন্ত্রী (Ashwini Vaishnaw) নিজেই ঘোষণা করেছেন যে এই বছরের শেষ নাগাদ ১২টি বন্দে ভারত ট্রেন লাইনে নামবে। আগস্টের মধ্যে আরও ছয়টি ট্রেন চালু হওয়ার কথা রয়েছে। যাইহোক, এখন সকলে দ্বিতীয় বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা করছেন সকলে।

    সূত্রের খবর, চলতি মার্চ মাসের মধ্যেই দ্বিতীয় বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন চলতে পারে। যদিও এখনও অবধি রুট কিংবা ভাড়া সম্পর্কে কোনও খবর মেলেনি। কানাঘুষো শোনা যাচ্ছে, দিল্লি-হাওড়া, দিল্লি-মুম্বাই, অথবা চেন্নাই-বেঙ্গালুরু-মুম্বাই, কোনও একটা রুটের মধ্যে নতুন ট্রেনটি চলাচল করতে পারে।

    আসছে আরও ২০০টি বন্দে ভারত স্লিপার?

    রেল মন্ত্রকের (Indian Railways) মতে, রেলওয়ে এই বছরের শেষ নাগাদ ১২টি বন্দে ভারত স্লিপার কোচ রেলপথে স্থাপনের প্রস্তুতি শুরু করেছে। তাদের উৎপাদনও ত্বরান্বিত করা হচ্ছে। মে মাসের মধ্যে আরও দুটি বন্দে ভারত স্লিপার কোচ রেলপথে স্থাপন করা সম্ভব হবে বলে খবর। BEML এবং ICF-তে বন্দে ভারত স্লিপার তৈরি করা হচ্ছে। মে মাসের পরে ট্রেনের উৎপাদন দ্রুত শুরু হবে।

    আরও পড়ুনঃ পুরনো নিয়ম বাতিল EPFO-র! এখন সরাসরি অ্যাকাউন্টে ঢুকবে টাকা, কীভাবে?

    মন্ত্রকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ব্যাখ্যা করেছেন যে নতুন ট্রেন ডিজাইনের প্রথম এক বা দুটি রেকের উৎপাদনে সময় লাগে, কিন্তু তার পরে উৎপাদন দ্রুত শুরু হয়। বন্দে ভারত স্লিপার কোচের জন্যও একই রকম উৎপাদন করা হবে। ভারতীয় রেলওয়ে মোট ২৬০টি বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনসেট তৈরির পরিকল্পনা করেছে। পর্যায়ক্রমে এগুলোর উৎপাদন করা হবে। বেঙ্গালুরু এবং চেন্নাই কোচ কারখানায় এগুলো তৈরি করা হচ্ছে।