Tag: Gyanesh Kumar

  • বাংলায় ফের বড় অ্যাকশন কমিশনের, পাঁচ DIG সহ ১১ DM-কে সরাল কমিশন

    বাংলায় ফের বড় অ্যাকশন কমিশনের, পাঁচ DIG সহ ১১ DM-কে সরাল কমিশন

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: গত রবিবার সাংবাদিক সম্মেলনের জেরে প্রকাশিত হয়েছে ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) দিনক্ষণ। আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল দুই দফায় ভোট গ্রহণ করা হতে চলেছে বাংলায়। আর এই অবস্থায় রাজ্যে একের পর এক নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিয়ে চলেছে কমিশন (Election Commission Of India)। ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাজ্যের মুখ্যসচিব থেকে ডিজি, সিপি বদল করেছিল কমিশন আর আজ, বুধবার পাঁচ জায়গার ডিআইজি-কেও সরানো হয়েছে। পাশাপাশি ১১ টি জেলার ডিএম বদল করল নির্বাচন কমিশন।

    নজিরবিহীন পদক্ষেপ কমিশনের

    কিছুদিন আগেই নির্বাচন কমিশনার পুলিশ সুপারদের বদলি করেছিল। আর সেই বদলির রেশ কাটতে না কাটতেই উত্তর এবং দক্ষিণবঙ্গ মিলিয়েই ফের ১১টি জেলার DM বদল করার নির্দেশ দিল নির্বাচন কমিশন। তালিকা অনুযায়ী দার্জিলিং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, উত্তর দিনাজপুর, মালদা, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, বর্ধমান, উত্তর ২৪ পরগনা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার DM বা জেলাশাসক পরিবর্তন করা হয়েছে। এ ছাড়াও কলকাতা উত্তর ও দক্ষিণের DEO বদল করা হয়েছে। এদিকে ভোটের আগে ফের একসঙ্গে পাঁচ ডিআইজি বদল করার সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন।

    ১১ টি জেলায় DM বদল কমিশনের

    নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী উত্তরবঙ্গের ক্ষেত্রে কোচবিহারে দায়িত্ব পেলেন জিতিন যাদব, জলপাইগুড়িতে সন্দীপ ঘোষ, উত্তর দিনাজপুরে বিবেক কুমার, মালদায় রজনবীর সিং কাপুর, আলিপুরদুয়ারে টি বালাসুব্রহ্মণ্যম, দার্জিলিংয়ে হরিশঙ্কর পানিক্কর। দক্ষিণবঙ্গের ক্ষেত্রে মুর্শিদাবাদে আর অর্জুন, নদিয়ায় শ্রীকান্ত পল্লি, পূর্ব বর্ধমানে শ্বেতা আগরওয়াল, উত্তর ২৪ পরগনায় শিল্পা গৌরিসারিয়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় অভিষেক কুমার তিওয়ারি। অন্যদিকে কলকাতা উত্তরের DEO ও মিউনিসিপ্যাল কমিশনার হলেন স্মিতা পাণ্ডে এবং রণধীর কুমার হলেন দক্ষিণ কলকাতার DEO।

    আরও পড়ুন: ‘অন্য কোনও মুখ্যমন্ত্রী …’ মমতার ভূমিকায় ক্ষুব্ধ সুপ্রিম কোর্ট

    পাঁচ ডিআইজি বদল কমিশনের

    পাঁচ ডিআইজি বদল করার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকাশ্যে এসেছে নতুন বিজ্ঞপ্তি। জানা গিয়েছে, রায়গঞ্জ রেঞ্জের ডিআইজি হচ্ছেন ২০০৯ ব্যাচের আইপিএস রাঠোর অমিতকুমার ভরত। মুর্শিদাবাদের ডিআইজি হচ্ছেন অজিত কুমার যাদব, বর্ধমানের ডিআইজি হচ্ছেন শ্রীহরি পাণ্ডে, প্রেসিডেন্সি রেঞ্জের ডিআইজি হচ্ছেন কংকর প্রসাদ বাড়ুই এবং জলপাইগুড়ি রেঞ্জের ডিআইজি হচ্ছেন অঞ্জলি সিং। আগামিকাল বৃহস্পতিবার ১১ টার মধ্যেই নয়া এই পাঁচ ডিআইজিকে দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অভিযোগ এক্ষেত্রেও নাকি রাজ্যের সঙ্গে কোনও আলোচনা না করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

  • ৬০ লক্ষ নাম এখনও বিচারাধীন! ভোট দিতে পারবেন কি তাঁরা? জানালেন জ্ঞানেশ কুমার

    ৬০ লক্ষ নাম এখনও বিচারাধীন! ভোট দিতে পারবেন কি তাঁরা? জানালেন জ্ঞানেশ কুমার

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বহু প্রতীক্ষার পর অবশেষে গতকাল রবিবার, সাংবাদিক বৈঠকের মাধ্যমে ভোটের দিনক্ষণ (West Bengal Election 2026) ঘোষিত হল। এবার রাজ্যে আট দফার পরিবর্তে দুই দফা ভোট হবে। প্রথম দফার ভোট হবে ২৩ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় দফার ভোট হবে ২৯ এপ্রিল। কিন্তু এর মাঝেও ভোট নিয়ে বেশ চিন্তিত এসআইআর প্রক্রিয়ায় বিচারাধীন তালিকার ভোটারেরা। ৬০ লক্ষের বেশি নাম এখনও রয়েছে তালিকায়। অবশেষে এই বিষয়ে মুখ খুললেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার (Gyanesh Kumar)।

    কী বলছেন জ্ঞানেশ কুমার?

    মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জানিয়েছেন, ”পশ্চিমবঙ্গে এই মুহুর্তে ৬ কোটি ৪৪ লক্ষ ভোটার রয়েছে। সঙ্গে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা যোগ হবে। ৭০০-৮৫০ ভোটার নিয়ে একটি করে বুথ হবে। ১০০% ওয়েবকাস্টিং হবে। সংবিধান মেনে রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR হয়েছে। অবৈধ ভোটাররা যাতে বাদ পড়েন এবং বৈধ ভোটারদের যাতে নাম ওঠে, সেই লক্ষ্যেই রাজ্যে এই কর্মসূচি প্রক্রিয়া। বিচারাধীন থাকা যোগ্য ভোটারদের নাম উঠবে ভোটার তালিকায়। তার জন্য অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে। তবে অযোগ্য ভোটারদের নাম বাদ যাবে।”

    বিচারাধীন ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন

    SIR এর খসড়া তালিকায় প্রথম দফায় প্রায় ৫৮ লক্ষ নাম বাদ পড়েছিল। মৃত, স্থানান্তরিত এবং ভুয়ো ভোটারের নাম মূলত বাদ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী শুনানির পর আরও প্রায় ৫ লক্ষ নাম বাদ গিয়েছে। ফর্ম ৭-এর মাধ্যমে আপত্তির ভিত্তিতে ৫ লক্ষ ৪৬ হাজার ৫৩ জনের নাম মুছে ফেলা হয়েছে। এরপর ফর্ম ৬ ও ৬এ-এর মাধ্যমে নতুন করে ১ লক্ষ ৮২ হাজার ৩৬ জন ভোটারের নাম তালিকায় যুক্ত হয়েছে। সবশেষে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ্যে আমার পর বর্তমানে ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জনের নাম বিচারাধীন রয়েছে। আশা করা যাচ্ছে খুব শীঘ্রই এই আবেদনগুলির নিষ্পত্তি করা হবে এবং সংখ্যায় আরও কিছু পরিবর্তন হতে পারে।

    আরও পড়ুন: তৃণমূল ছাড়লেন আরাবুল ইসলাম, কোন দলে যোগ দিচ্ছেন? ভাঙড়ে নতুন সমীকরণ

    প্রসঙ্গত, ২০২৫ এর ২৭ অক্টোবর নিবিড় সংশোধনী কর্মসূচি বা এসআইআর ঘোষণা করা হয়েছিল জাতীয় নির্বাচন কমিশনের তরফে। ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়। এদিকে এই SIR নিয়ে শাসকদল এবং বিরোধীদলের মধ্যে তর্ক বিতর্ক লেগেই রয়েছে। শুরু থেকেই নির্বাচন কমিশনারকে বিজেপির দাস বলে কটাক্ষ করে গিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ভ্যানিশ কুমার বলেও কটাক্ষ করেছেন। এখন দেখার পালা বিচারাধীন তালিকা থেকে কতজনের নাম বাদ যায়।

  • বাংলায় কবে ভোটগ্রহণ, গণনা এবং কত দফায় ভোট? জানাল নির্বাচন কমিশন

    বাংলায় কবে ভোটগ্রহণ, গণনা এবং কত দফায় ভোট? জানাল নির্বাচন কমিশন

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ পশ্চিমবঙ্গের ভোট ঘোষণা (Elections in West Bengal)। কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিল, এবার পাঁচটি ভোটমুখী রাজ্যে মোট ১৭ কোটি ৫০ লক্ষ ভোটারের ভোট হবে, এবং ২৫ লক্ষের বেশি কমিশনের আধিকারিক থাকবে। তবে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ৭ মে। গত ২৫ ফেব্রুয়ারির রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলায় এখনো এখন ভোটারের সংখ্যা ৬.৪৪ কোটি। কবে হবে বাংলায় নির্বাচন আর গণনা কবে হবে? কী বলল নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার?

    বাংলায় ভোটের দিনক্ষণ

    নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হল, পশ্চিমবঙ্গে এবার মোট দুই দফায় ভোট হবে আর এই ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৩ এপ্রিল এবং ২৯ এপ্রিল। পাশাপাশি ভোট গণনা হবে ৪ মে। এদিকে এও জানানো হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে মোট ২৯৪টি আসনে ভোট হবে। আর দুই দফার মধ্যে ২৩ এপ্রিল প্রথম দফায় ১৫২টি আসনে ভোট হবে, আর দ্বিতীয় দফায় অর্থাৎ ২৯ এপ্রিল ১৪২টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

    অন্যদিকে অসমে ১২৬টি কেন্দ্রে ভোট হবে এক দফায়, যেখানে ৯ এপ্রিল ভোট হবে আর ৪ মে গণনা করা হবে। কেরলে ১৪০টি কেন্দ্রে এক দফায় ভোট হবে, যেখানে ৯ এপ্রিল ভোট হবে আর ৪ মে গণনা হবে। পুদুচেরিতে ৯ এপ্রিল এক দফায় ভোট হবে আর সেখানে গণনা হবে ৪ মে। তামিলনাড়ুতে ২৩ এপ্রিল ২৩৪টি কেন্দ্রে ভোট হবে আর গণনা হবে ৪ মে।

    কোন রাজ্যে কত ভোটার?

    প্রসঙ্গত, এবার পাঁচ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আর কোন রাজ্য কত ভোটার তাও জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সেই সূত্রে বাংলায় মোট ভোটারের সংখ্যা ৬ কোটি ৪৪ লক্ষ, অসমে ভোটার ২ কোটি ৫০ লক্ষ, কেরলে মোট ২ কোটি ৭০ লক্ষ, পুদুচেরিতে ৯ কোটি ৪৪ লক্ষ এবং তামিলনাড়ুতে ৫ কোটি ৬৭ লক্ষ। মোট ভোটারের সংখ্যা ১৭ কোটি ৫০ লক্ষ।

    এদিকে কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বাংলায় ১৮ থেকে ১৯ বছর বয়সের নতুন ভোটার রয়েছে আনুমানিক ৫ লক্ষ ২৩ হাজার। আর ২০ থেকে ২৯ বছর বয়সী ভোটারের সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৩১ লক্ষ।

    আরও পড়ুন: মিসাইল ছুঁড়লেই শেষ! ভয়েই হরমুজ পেরোতে পারল না বাংলাদেশের জাহাজ

    ভোটের সময় থাকবে বিশেষ ব্যবস্থা

    নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে এবার স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ভোট দেওয়ার সময় প্রতিটি বুথেই পানীয় জলের যথাযথ ব্যবস্থা, টয়লেট, হুইল চেয়ারের বন্দোবস্ত করা হবে যাতে কারোর কোনও রকম অসুবিধা না হয়। এমনকি প্রবীণ নাগরিকদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে বলে জানানো হয়েছে। আর স্পেশাল বেঞ্চ থাকবে বসার জন্য। আর ভোটদানের ব্যবস্থা গ্রাউন্ড ফ্লোরেই হবে। পাশাপাশি যাতায়াতের ব্যবস্থাও করা হবে। নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, বুথের মধ্যে কোনও ভাবেই মোবাইল নিয়ে ঢোকা যাবে না। বুথের বাইরে মোবাইল রেখেই ঢুকতে হবে। ভোট দিয়ে মোবাইল সংগ্রহ করে ভোটারদের ফিরে যেতে হবে। আর বুথের বাইরে মোবাইল রাখার ব্যবস্থা করা হবে।

  • জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ১৯৩ সাংসদের স্বাক্ষর, সরানো সম্ভব নির্বাচন কমিশনারকে?

    জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ১৯৩ সাংসদের স্বাক্ষর, সরানো সম্ভব নির্বাচন কমিশনারকে?

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনকে (West Bengal Election 2026) ঘিরে উত্তপ্ত পরিস্থিতি রাজ্য রাজনীতিতে। আর এমন পরিস্থিতিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদ থেকে জ্ঞানেশ কুমারকে (CEC Gyanesh Kumar) সরাতে উঠে পড়ে লেগেছে বিরোধীরা। জানা গিয়েছে, আজ সংসদে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব পেশ করলেন ইন্ডিয়া জোটের বিরোধীরা। প্রশ্ন উঠছে তবে কি বিধানসভা নির্বাচনের আগেই বিদায় ঘন্টা বাজবে জ্ঞানেশ কুমারের।

    জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে নোটিস বিরোধীদের

    সূত্রের খবর, প্রস্তাবে মোট ১৯৩ জন বিরোধী সাংসদ সই করেছেন। তাঁদের মধ্যে লোকসভার সাংসদ রয়েছেন ১৩০ জন। রাজ্যসভার সাংসদ রয়েছেন ৬৩ জন। আর উল্লেখযোগ্য বিষয় হল সাংসদদের অধিকাংশ ‘ইন্ডিয়া’-র সদস্য। তবে ওই বিরোধী শিবিরের অংশ না হয়েও আম আদমি পার্টির সাংসদেরা মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশের অপসারণ চেয়ে সই করেছেন। বেশ কয়েক জন নির্দল সাংসদও নোটিসে সই করেছেন। অবাক করা বিষয় হল সংসদীয় ইতিহাসে এই প্রথম এই প্রথম কোনও মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে সরাতে সংসদের দুই কক্ষে প্রস্তাব জমা পড়ল।

    উঠে এসেছে একাধিক অভিযোগ!

    শুরু থেকেই জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গ-সহ বেশ কিছু অবিজেপিশাসিত রাজ্যে একাধিক বার পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছে। তিনি বিজেপিকে সুবিধা পাইয়ে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ ওঠে। তাই এবার তাঁকে অপসারণের জন্য সংসদে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ৭টি অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্ট বা বৈষম্যমূলক আচরণ। এছাড়া, নির্বাচনী জালিয়াতির তদন্তে ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা প্রদানের অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি বিপুল সংখ্যার ভোটারদের ভোট দেওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত করারও অভিযোগ উঠেছে নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে।

    আরও পড়ুন: ৫টি পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের জন্য নয়া উন্নয়ন পর্ষদ গঠনের ঘোষণা নবান্নের

    সরানো সম্ভব নির্বাচন কমিশনারকে?

    উল্লেখ্য, দেশের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে অপসারণের পদ্ধতি সুপ্রিম কোর্ট বা হাই কোর্টের বিচারপতিকে অপসারণের মতোই। আসলে ভারতীয় সংবিধানের ৩২৪(৫) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের কোনও বিচারপতিকে যে কারণে ও যে প্রক্রিয়ায় সরানো যায়, সেই একই প্রক্রিয়ায় কোনও মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে সরাতে হয়। সেক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট বা রাষ্ট্রপতির অর্ডার দরকার। এছাড়াও বিচারপতিকে সরাতে হলে সংসদের দুই কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের উপস্থিতিতে ভোটাভুটি করতে হবে। তারপরই রাষ্ট্রপতি সিদ্ধান্ত নেন। আজ সেই মতো নোটিস জমা দেওয়া হয়েছে। এখন দেখার এর ফলাফল কী হয়।

  • ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিয়ে নতুন নিয়ম, বড় আপডেট দিলেন জ্ঞানেশ কুমার

    ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিয়ে নতুন নিয়ম, বড় আপডেট দিলেন জ্ঞানেশ কুমার

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ভোটের দামামা বেজে গিয়েছে রাজ্য জুড়ে, আর কিছুদিন পরেই শুরু হতে চলেছে ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026), তাই জোর কদমে চলছে প্রস্তুতি। যদিও এখনও কমিশনের তরফে ঘোষণা করা হয়নি যে কবে হবে বিধানসভা নির্বাচন। ইতিমধ্যেই রাজ্যে এসেছে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। চলছে একাধিক বৈঠক। এমতাবস্থায় ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে মোবাইল নিয়ে যাওয়া নিয়ে বড় আপডেট দিল মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার (CEC Gyanesh Kumar)।

    মোবাইল নিয়ে বড় আপডেট কমিশনের

    বরাবরই ভোট কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে মোবাইল ফোন নিয়ে ঢোকা নিষেধ বলেই গণ্য হয়ে আসছে। কিন্তু অনেকেই অভ্যাসের বশে পকেটে ফোন নিয়ে ভোট দিতে যান। আর সেখানে গিয়ে সমস্যায় পড়েন। তাই এবার সেই নিয়ে বড় আপডেট দিল কমিশন। জানা গিয়েছে, প্রতিটি বুথের বাইরে মোবাইল রাখার জায়গা থাকবে। ভোট দেওয়ার পর বাইরে বেরিয়ে মোবাইল নিতে পারবেন সকলে। এছাড়াও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে কমিশন। জানানো হয়েছে, কোনও বুথে ১২০০-র বেশি ভোটার থাকবে না। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার ইনফরমেশন স্লিপ দেবেন আধিকারিকরা।

    শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে একাধিক পদক্ষেপ কমিশনের

    মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জানিয়েছেন, রাজ্যের প্রবীণ ভোটারদের জন্য ভোটকেন্দ্রগুলি বিল্ডিংয়ের নীচের তলায় রাখা হবে। এছাড়াও তাঁদের সুবিধার্থে বিশেষ হুইল চেয়ার থাকবে। এবং সেগুলো চালানোর জন্য ভলান্টিয়ার থাকবে। এছাড়াও ভোটকেন্দ্রের প্রত্যেক বুথে পানীয় জলের রাখার পাশাপাশি ভোটার সহায়তা কেন্দ্র থাকবে। এছাড়াও মুখ্য নির্বাচন কমিশনার আরও জানিয়েছেন, “পশ্চিমবঙ্গে ৮০ হাজারেরও বেশি পোলিং স্টেশন রয়েছে। সমস্ত বুথে ১০০ শতাংশ ওয়েব কাস্টিং হবে। ভোট শতাংশ ECINET দেওয়া হবে। যাতে জানা যাবে, কত ভোট শতাংশ পড়ল।সব ভোটারদের আবেদন করব, ECINET ডাউনলোড করুন। কত শতাংশ ভোট পড়ল, রেজাল্টও এখানে দেখতে পাওয়া যাবে।”

    আরও পড়ুন: পুরুলিয়া থেকে দিল্লির ট্রেনের ঘোষণা দক্ষিণ পূর্ব রেলের, দেখুন সময়সূচি

    বৈঠকের মাধ্যমে জানা গিয়েছে, পোস্টাল কাউন্টিং EVM -এর দুই রাউন্ডের আগেই নাকি শেষ করা যাবে। এছাড়াও ইলেকশন সম্পর্কিত সমস্ত তথ্য গণনার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ECINET অ্যাপ দ্বারা বা কমিশনের ওয়েবসাইটে জানানো হবে। সেক্ষেত্রে যদি কোনও সমস্যা দেখা দেয় তাহলে EVM-এর পুরো VVPAT গণনা করা হবে কাউন্টিং এজেন্টের সামনে। এর ফলে গণনার ৭ দিনের মধ্যে যে কোনও পরাজিত প্রার্থী EVM খতিয়ে দেখতে পারবেন।

  • ‘আমাকে বলছে ডোন্ট শাউট!’ জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য

    ‘আমাকে বলছে ডোন্ট শাউট!’ জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: পরিকল্পনা অনুযায়ী আজ, সোমবার, জাতীয় নির্বাচন কমিশনের (Election Commission Of India) ফুল বেঞ্চের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলির বৈঠক হয়। আর সেই বৈঠকে শেষ দফায় অর্থাৎ সকাল ১১টা ৪৫ থেকে ১২টার মধ্যে ডাকা হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেসকে (Trinamool Congress)। যা নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রকাশ করেন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম এবং রাজ্যের পুলিশ কর্তা রাজীব কুমার। কিন্তু সেই বৈঠকে ফের জ্ঞানেশ কুমারের দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুললেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য (Chandrima Bhattacharya)।

    মহিলা ভোটারদের ‘টার্গেট’ করার অভিযোগ

    বৈঠক শেষে আজ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য নির্বাচন কমিশনারের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা কমিশনকে বলেছি, বহুবার আপনাদের কাছে গিয়ে সমস্যার কথা জানিয়েছি। কিন্তু আপনারা সেই পথে হাঁটছেন না। প্রায় ৬৩ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। ফর্ম ৬ জমা পড়েছে ৬ লক্ষের বেশি, অথচ নতুন করে নাম যোগ হয়েছে মাত্র ১ লক্ষ। অন্যদিকে প্রায় ৫ লক্ষ নাম মুছে ফেলা হচ্ছে। আগে তালিকায় মহিলাদের সংখ্যা বেশি ছিল। এখন তা কমে যাচ্ছে। স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে মহিলাদেরই টার্গেট করা হচ্ছে।” এসবের পরেই নাকি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের উপর রীতিমতো চিৎকার করে ওঠেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার।

    চন্দ্রিমার সঙ্গে দুর্ব্যবহার নির্বাচন কমিশনারের

    চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের অভিযোগ, SIR এর বিষয়গুলি তুলে ধরতে গেলেই কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, বিষয়টি ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে রয়েছে এবং তাঁদের আর কিছু করার নেই। তিনি বলেন, “আমরা কথা বলতে গেলেই কমিশনার বলছে সুপ্রিম কোর্টে গেছেন, এখন কিছু করার নেই। তারপরই আমাকে বলছে, ডোন্ট শাউট। আমার গলার জোর আছে, তাই বলেছি। আমি তো ওঁকে অপমান করার জন্য চিৎকার করিনি। আমি একজন মহিলা, আমাকে এভাবে বলা হচ্ছে। এটা কি ঠিক? সুপ্রিম কোর্টে গেছি, ঠিকই করেছি। কিন্তু কেন ভোটারদের নাম নেই, সেই প্রশ্নের উত্তর তো দিতে হবে।”

    আরও পড়ুন: নির্বাচন হোক ২ দফায়, কমিশনের কাছে আর কী কী দাবি জানাল বিজেপি?

    প্রসঙ্গত, নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের অভিযোগ নতুন নয়। এর আগেও জ্ঞানেশ কুমারের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছিলেন, “আলোচনা এমন পর্যায়ে পৌঁছয়, মেজাজ হারিয়ে আঙুল উঁচিয়ে কথা বলেন জ্ঞানেশ কুমার। আমি বলেছি, আঙুল নীচে নামিয়ে কথা বলুন।” এমনকি তৃণমূল সুপ্রিমো তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও একই অভিযোগ তুলেছিলেন। রীতিমত অহঙ্কারি বলেও আখ্যা দিয়েছিলেন কমিশনকে।

  • কালীঘাটে পুজো থেকে বেলুড় দর্শন, বাংলায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সফরনামা

    কালীঘাটে পুজো থেকে বেলুড় দর্শন, বাংলায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সফরনামা

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ভোটের দামামা প্রায় বেজে গিয়েছে রাজ্যে, তাইতো জনসংযোগ বৃদ্ধি করতে দিন রাত প্রচার চালিয়েই চলেছে রাজনৈতিক দলগুলি। আর এই আবহে রাজ্যে আসছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার (Gyanesh Kumar)। যাবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাড়ায়, এমনই খবর প্রকাশ্যে এল। জানা গিয়েছে, সোমবার সকালে পুজো দেবেন কালীঘাট মন্দিরে। তার পরে শুরু হবে রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে তাঁর বৈঠক এবং সফরের অন্য কর্মসূচি।

    বাংলায় আসছেন জ্ঞানেশ কুমার

    রিপোর্ট মোতাবেক, আজ অর্থাৎ রবিবার রাজ্যে আসতে চলেছেন জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। থাকবেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। তাঁর সঙ্গে এই দলে থাকছেন দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিংহ সান্ধু এবং বিবেক জোশীও। আজ রাতের বিমানে কলকাতায় পৌঁছে যাবেন তাঁরা। তবে আজ কোনও ঘোষিত কর্মসূচি নেই। সোম ও মঙ্গলবার পরপর দুই দিন একাধিক বৈঠক রয়েছে রাজ্যে নির্বাচন সংক্রান্ত। আলাদা ভাবে রাজনৈতিক দলগুলির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকও করবে ফুল বেঞ্চ। তবে এইসব বৈঠকের আগে আগামীকাল সকালেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাড়ায় যাবেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। পুজো দেবেন কালীঘাট মন্দিরে।

    পুজো দেবেন কালীঘাট মন্দিরে

    ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR-এর কাজ ঘিরে গত কয়েক মাসে কমিশন বনাম রাজ্য সরকার তথা রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের সংঘাত বার বার প্রকাশ্যে এসেছে। এমনকি এই নিয়ে এইমুহুর্তে ধর্মতলায় ধর্নায় বসেছেন তিনি। আর এই অবস্থায় আজ রাতে রাজ্যে আসছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। কালীঘাট মন্দির দর্শন করার পরেই বৈঠক শুরু করবেন তিনি। অন্যদিকে মঙ্গলবার বেলুড় মঠেও যাবেন বলে জানা গিয়েছে। যদিও এই প্রসঙ্গে CEO মনোজকুমার আগরওয়ালকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, “এমন কিছু জানা নেই। তবে তাঁর ব্যক্তিগত কোনও প্রোগাম থাকলে তিনি সেখানে যেতে পারেন।”

    আরও পড়ুন: খেল দেখাবে ঘূর্ণাবর্ত, কিছুক্ষণেই ঝেঁপে বৃষ্টি দক্ষিণবঙ্গের ৩ জেলায়

    প্রসঙ্গত, পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনার আগামীকাল অর্থাৎ সোমবার সকাল থেকে দফায় দফায় বেশ কিছু বৈঠক করবেন। রাজনৈতিক দলগুলি থেকে রাজ্য প্রশাসনের উচ্চ আধিকারিক এবং BLO দের সঙ্গে বৈঠক করবেন এবং দিনের শেষে নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে পুলিশকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করবে কমিশনের ফুল বেঞ্চ। এর পরে মঙ্গলবারও রাজ্যের মুখ্যসচিব, পুলিশপ্রধান-সহ অন্য শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসবে কমিশন। আশা করা যাচ্ছে এই বৈঠকের মধ্যেই নির্ধারিত হবে রাজ্যের ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের দিন।