Tag: Gujarat

  • গ্যাসের সংকট দেখা দিতেই গুজরাটে ১০০ কারখানায় কাজ বন্ধ, ঝুঁকির মুখে আরও ৪০০

    গ্যাসের সংকট দেখা দিতেই গুজরাটে ১০০ কারখানায় কাজ বন্ধ, ঝুঁকির মুখে আরও ৪০০

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: মধ্যপ্রাচ্যে জ্বলছে যুদ্ধের আগুন। তবে ইরান এবং ইজরায়েলের যুদ্ধের প্রভাব এবার পড়তে শুরু করেছে ভারতে, বিশেষ করে গ্যাসের বাজারে (Gas Crisis)। ইতিমধ্যেই গতকাল ডোমেস্টিক সিলিন্ডারের দাম ৬০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে এবং বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দামও বেড়েছে ১১৪ টাকা করে। ফলে দেশে খুব তাড়াতাড়ি যে গ্যাসের সংকট দেখা দেবে তা আঁচ করতে পারছে অনেকে। কারণ, হরমুজ প্রণালী দিয়ে ইতিমধ্যেই কাতার থেকে গ্যাস আমদানি বন্ধ হয়েছে। আর গ্যাসের সংকট সামনে আসতেই বড় দুঃসংবাদ আসলো গুজরাট (Gujarat) থেকে। জানা যাচ্ছে, এই রাজ্যের মোরবি শহরে প্রায় ১০০টি কারখানা বন্ধ হয়েছে গ্যাসে অভাবে।

    গ্যাস সংকটে বন্ধ ১০০ কারখানা

    প্রসঙ্গত জানিয়ে রাখি, মোরবি বিশ্বের বৃহত্তম সিরামিক উৎপাদন কেন্দ্রগুলির মধ্যে একটি। আর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যে শিল্প প্রতিনিধিরা স্পষ্ট বলেছেন যে, যদি শীঘ্রই গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হয়, তাহলে আগামী দিনে আরও ৪০০টি ইউনিট বন্ধ হয়ে যেতে পারে। কারণ, এই কারখানা সম্পূর্ণ গ্যাসের উপরেই নির্ভরশীল। রিপোর্ট অনুযায়ী, গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার কারণেই সম্পূর্ণ কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই ১০০টি কারখানায় তালা পড়েছে।

    এ বিষয়ে মোরবি সিরামিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মনোজ আরাভাদিয়া জানিয়েছেন, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির কারণেই গত দুইদিন ধরে প্রোপেন গ্যাস সরবরাহ করা যাচ্ছে না। আর আগামী দিন পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। এগুলি সম্পূর্ণ গ্যাস নির্ভর ইউনিট হওয়ায় আমাদেরকে উৎপাদন স্থগিত রাখতে হচ্ছে। তবে সবথেকে বড় ব্যাপার, কারখানা বন্ধ হলে হাজার হাজার শ্রমিকের উপরে প্রভাব পড়বে। বর্তমানে কারখানাগুলো তাদের কর্মীদের ধরে রাখার চেষ্টা করছে। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে যদি উৎপাদন বন্ধ থাকে, তাহলে কর্মসংস্থান যে ঝুঁকির মুখে পড়বে তাও বলার অপেক্ষা রাখে না।

    আরও পড়ুন: ‘পশ্চিমবঙ্গ সরকার MA ফিল করলেও …’ বকেয়া DA মামলায় নাটকীয় মোড়? এল বড় খবর

    বলে রাখি, ভারত তার তেল এবং গ্যাসের প্রায় ৮৫ শতাংশই আমদানি করে থাকে। তার মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ গ্যাস আমদানি করে কাতার থেকে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আবহে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যে গ্যাসবাহী জাহাজ আসে, সেই প্রণালী সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে। সেই কারণেই ভারতে এখনো পর্যন্ত কোনও রকম জাহাজ আসতে পারছে না। এমনকি প্রায় ৩০০ জন নাবিকও আটকে রয়েছে। আর সবথেকে বড় ব্যাপার, ইরানের ড্রোন হামলার পর বিশ্বের বৃহত্তম এলপিজি টার্মিনাল কাতারের রাস লাফানে বন্ধ হয়েছে। সেই কারণেই এখন জ্বালানির সংকটের মুখে ভারত। বর্তমানে ভারত বিকল্প রাস্তার দিকেই তাকিয়ে।

  • মাসে ১০ হাজার আয় করা রিকশাচালকের অ্যাকাউন্টে ৩০০ কোটির লেনদেন

    মাসে ১০ হাজার আয় করা রিকশাচালকের অ্যাকাউন্টে ৩০০ কোটির লেনদেন

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: গুজরাটের আহমেদাবাদে (Ahmedabad) অবৈধ ক্রিকেট সাট্টা এবং শেয়ারবাজারে কারসাজিতে এবার ৫৫০ কোটি টাকার বিশাল জালচক্রের পর্দা ফাঁস হল। তদন্ত নেমে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে ইডি। ইতিমধ্যেই আহমেদাবাদ ক্রাইম ব্রাঞ্চে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং তদন্ত আরও জোরদার করা হয়েছে। সবথেকে চমক দেওয়া বিষয়, মাসে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা আয় করা একটি রিকশাচালকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে নাকি ৩০০ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছে!

    রিকশাচালকের অ্যাকাউন্ট কিনে প্রতারণা

    তদন্তে জানা যায়, দীপ ওড নামের ওই রিকশাচালক নিজের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ২৫ হাজার টাকার বিনিময়ে ভাড়া দিয়েছিলেন। আর অভিযুক্ত করণ পরমার ওরফে লালা নামের এক ব্যক্তি ওই অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেই জাল চক্র চালাত। প্রতিটি চেকে সই করার জন্য দীপকে আবার ৪০০ টাকা করে দেওয়া হত। এমনকি তাঁর প্যান এবং আধার কার্ড ব্যবহার করেই দীপ এন্টারপ্রাইজেস নামের একটি বহু সংস্থা গড়ে তোলা হয়েছিল।

    তদন্তে আরও জানা যায়, কমলেশ ট্রেডিং এবং রোনক ট্রেডার্স নামের আরও দুই সংস্থা তৈরি করা হয়েছিল, যেগুলির কোনও বাস্তবে ব্যবসা ছিল না। এমনকি ২০২৪ সালে খোলা তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মোট ৫৫০ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। অথচ ওই সংস্থাগুলির কোনও রকম প্রকৃত ব্যবসায়ীক কার্যকলাপ ছিল না বলেই খবর। আর ইডি এও দাবি করছে, এই অ্যাকাউন্টগুলির মাধ্যমে অনলাইন ক্রিকেট সাট্টার টাকা ঘুরিয়ে লেনদেন করা হত।

    ওদিকে তদন্তে শেয়ার বাজারে সার্কুলার ট্রেডিং এর প্রমাণ মিলেছে। কৃত্রিমভাবে টার্নওভার বাড়িয়ে নির্দিষ্ট শেয়ারের দামগুলিকে অস্বাভাবিক হারে বাড়ানো হত। এমনকি একটি সংস্থার শেয়ারের দাম মাত্র ১২ মাসেই ১০,০০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। আর বিষয়টি সামনে আসার পরেই সেবি ওই শেয়ারের লেনদেন বন্ধ করে দেয়। পাশাপাশি ইডি-র তদন্তে উঠে এসেছে, বিভিন্ন সংস্থায় ৮০.৫০ কোটি, ৫২.১১ কোটি এবং ২২.৮৬ কোটি টাকা স্থানান্তর করা হয়েছিল। এছাড়াও ই-গুরু নামের একটি প্ল্যাটফর্মে অনুদান এবং পেনি স্টকে বিনিয়োগের আড়ালে টাকার লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে।

    আরও পড়ুন: ২ লাখ দিয়েও মেলেনি পদ, পার্টি অফিসে TMC নেতাকে পেটালেন দলীয় কর্মী! ভাইরাল ভিডিও

    ইতিমধ্যেই এই ঘটনার কারণ কারণে পরমার ওরফে লালা মলালা সহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। আর আহমেদাবাদ ক্রাইম ব্রাঞ্চের কাছে ইডি আনুষ্ঠানিকভাবে নালিশে জানিয়েছে। তবে তদন্তকারীরা মনে করছে, গরীব মানুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ভাড়া নিয়েই ভুয়ো সংস্থা করে কোটি কোটি টাকা লেনদেন চালানো হচ্ছিল। আর এই চক্রের পিছনে আরও কেউ জড়িত রয়েছ কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত চালানো হচ্ছে।

  • গুজরাতের বোমা হুমকি ই-মেল কাণ্ডে গ্রেফতার বাংলার যুবক, তদন্তে নামল পুলিশ

    গুজরাতের বোমা হুমকি ই-মেল কাণ্ডে গ্রেফতার বাংলার যুবক, তদন্তে নামল পুলিশ

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের আবহে রাজ্যে এই মুহুর্তে এক উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, আর সেই সময় গত কয়েকদিন ধরে রাজ্য জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে বেশ কয়েকটি হুমকি ইমেল নিয়ে। খবর উঠে আসছে কলকাতা সহ জেলাগুলিতে একাধিক স্কুল, আদালত এবং পোস্ট অফিসে বোমা রাখার রয়েছে। এমনকি রাজ্যের বাইরে গুজরাতেও আদালত ও স্কুলে বোমা থাকার হুমকি ইমেল (Bomb Threat Email) নিয়ে তৈরি হয়েছিল চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি। এমতাবস্থায় বোমা মারার হুমকি ইমেল পাঠানোর অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গ থেকে গ্রেফতার করা হল সৌরভ বিশ্বাস নামে এক যুবককে।

    হুমকি মেল কাণ্ডে গ্রেফতার এক বাঙালি

    কিছুদিন আগেই কলকাতা-সহ আসানসোলের আদালতে একটি হুমকি ই-মেইল একই দিনে একই সময়ে পাঠানো হয়েছিল। যার ফলে এই নিয়ে যথেষ্ট আতঙ্ক ছড়ায়। কিন্তু গোটা আদালত চত্বরে তদন্ত করেও কোনো বোমা মেলেনি, ব্যাপক হয়রানির শিকার হয়েছিল সকলে। পরে যদিও সাংবাদিক বৈঠক করে পুলিশ কমিশনার সুপ্রতীম সরকার জানিয়ে দেন, সেটি ভুয়ো ছিল। কিন্তু এর পরেও বাইরের রাজ্যে গুজরাতে আহমেদাবাদ ভাদোদরাসহ বেশ কয়েকটি স্কুলে বোমা ফেলার ভুয়ো হুমকি মেইল উঠে আসে। তারপরেই তদন্তে নামে পুলিশ। অবশেষে আহমেদাবাদ পুলিশের একটি বিশেষ দল পশ্চিমবঙ্গ থেকে গ্রেফতার করে সৌরভ বিশ্বাস নামের এক ব্যক্তিকে।

    VPN ব্যবহার করে পাঠানো হত মেল

    তদন্তকারীদের সন্দেহ, গুজরাতে ভুয়ো হুমকি ইমেল পাঠানোর নেপথ্যে থাকা এই সৌরভ বিশ্বাসই বাংলার স্কুল, আদালত এবং পোস্ট অফিসে পাঠানো ওই হুমকি ইমেল কাণ্ডে জড়িত কিনা। আমেদাবাদ পুলিশের দাবি, দেশের বিভিন্ন জায়গাতেই হুমকি ই-মেল পাঠানোর ঘটনায় সৌরভের যোগ রয়েছে। জানা গিয়েছে, VPN ব্যবহার করে বিদেশের সার্ভারের মাধ্যমে গুজরাতে এই হুমকি ই-মেল গুলি পাঠানো হয়েছিল। তাঁরা আপাতত নিজেদের হেফাজতে রেখেছে সৌরভকে।

    আরও পড়ুন: ৮ মার্চ অবধি বহু ট্রেন বাতিল করল দক্ষিণ পূর্ব রেল, যাত্রার আগে দেখুন তালিকা

    প্রসঙ্গত, কলকাতা সহ গোটা বাংলায় আদালত, পাসপোর্ট অফিসে সম্প্রতি যে হুমকি ই-মেল এসেছিল, সেই ঘটনায় সৌরভকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন তদন্তকারীরা। ধৃতকে জেরা করে এই আন্তঃরাজ্য যোগসূত্র খুঁজে বের করারও চেষ্টা করছে পুলিশ। স্থানীয় প্রশাসনের ধারণা, নির্বাচনের আগে বড় কোনো ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই এই ধরনের আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছিল। এখন দেখার এই ঘটনার নেপথ্যে আর কোনো বড় মাথা জড়িত আছে কিনা।