Tag: Government Of West Bengal

  • পোর্টালে সমস্যায় আপডেট করা যাচ্ছে না সার্ভিস বুক, কর্মীদের নয়া নির্দেশ রাজ্য সরকারের

    পোর্টালে সমস্যায় আপডেট করা যাচ্ছে না সার্ভিস বুক, কর্মীদের নয়া নির্দেশ রাজ্য সরকারের

    সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ চলতি অর্থ বর্ষ যখন শেষ হওয়ার দোরগোড়ায়, তখন আচমকা বিপাকে পড়লেন রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা (Government Employees)। রাজ্য সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পোর্টাল খুলছে না। যখনই পোর্টাল খুলতে যাওয়া হচ্ছে তখনই হয় বলছে Service Unavailable নয়তো Error। এদিকে ইয়ার এন্ডের কাজ করতে গিয়ে স্বাভাবিকভাবেই সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে সকলকে। রাজ্য সরকারের ডব্লিউবিআইএফএমএস (WBIFMS) পোর্টালে বিশেষ সমস্যা দেখা দিয়েছে।

    খুলছে না সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পোর্টাল

    সার্ভার সমস্যার কারণে এই পোর্টাল খুললেও আপডেট করা যাচ্ছে না eService Book। এদিকে অর্থবর্ষ শেষের দিকে এমন সমস্যার ফলে আটকে গিয়েছে অনলাইনে বহু কাজ। ফলে বেজায় উদ্বিগ্ন সরকারি কর্মীরা। থমকে রয়েছে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ কাজ। সময়ের মধ্যে সেই কাজগুলি কীভাবে শেষ হবে তা নিয়ে এখন চিন্তিত সকলে। অর্থ বিভাগের তরফে ইতিমধ্যে কাজগুলির জন্য ডেডলাইন বেঁধে দেওয়া হয়েছে। একদিকে সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার চাপ, অন্যদিকে পোর্টাল না খোলার সমস্যা। কীভাবে কী হবে তা ভেবে কুল কিনারা পাচ্ছেন না কেউ।

    বিপাকে সরকারি কর্মীরা

    সামনেই রয়েছে বিধানসভা ভোট। এদিকে মার্চ মাসটাই হল অর্থবর্ষের শেষ মাস। সব কাজ সময়ের মধ্যে করতে হবে। WBIFMS এই নির্দিষ্ট পোর্টালটি রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য সমস্ত আর্থিক এবং পরিষেবা-সম্পর্কিত কার্যক্রমের প্রাথমিক মাধ্যম। তবে, ওয়েবসাইটটি অ্যাক্সেস করা যাচ্ছে না কিছুতেই। ব্যবহারকারীরা বারবার তাদের স্ক্রিনে ‘503 পরিষেবা অনুপলব্ধ’ বা কখনও কখনও ‘404 Page is Unavailable’ এর মতো বার্তা স্ক্রিনে ভেসে উঠছে। এই চলমান সার্ভার অচলাবস্থার কারণে, সরকারি অফিসগুলির স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তবে WBIFMS এর পোর্টালে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, eService Book মডিউলের কাজ আপাতত রক্ষণাবেক্ষণ রয়েছে, যার জন্য ৭২ ঘণ্টা সময় লাগবে। কর্মীদের ৭২ ঘণ্টা পর নিজেদের কাজ শুরু করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    ২০ মার্চের মধ্যে বিশেষ কাজ করার নির্দেশ নবান্নের

    আসলে আগামী ২০ মার্চের মধ্য সরকারি কর্মীদের একটি বিশেষ কাজ করে নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। রাজ্য অর্থ দফতরের তরফে জারি করা নতুন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সব সরকারি কর্মচারীর সার্ভিস বুক (Service Book) ডিজিটাল বা ই-সার্ভিস বুক হিসেবে তৈরি করতে হবে।

    আরও পড়ুনঃ হানা দেবে কিউমুলোনিম্বাস মেঘ থেকে কালবৈশাখী! টানা ৬ দিন ভয়ঙ্কর দুর্যোগ বঙ্গে

    অর্থ দফতরের তরফে প্রকাশিত নতুন আদেশনামা 835-F(eGov) এবং ২৮/০২/২০২৬ অনুযায়ী, আগামী ২০ মার্চের মধ্যে সমস্ত সরকারি কর্মীর ই-সার্ভিস বুক তৈরির কাজ সম্পূর্ণ করতে হবে। প্রথমে সার্ভিস বুকের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক বা কাস্টোডিয়ানরা মূল নথির পাতাগুলি স্ক্যান করে অনলাইনে আপলোড করবেন। এরপর কর্মচারীদের নিজেদের দায়িত্ব নিতে হবে। তাঁরা সেই স্ক্যান করা নথিগুলি দেখে অনলাইনে নিজেদের সমস্ত তথ্য সতর্কতার সঙ্গে এন্ট্রি করবেন।

     

  • সত্যিই কি LPG সিলিন্ডার প্রতি ২৯১ টাকা কর নিচ্ছে রাজ্য সরকার? দেখুন হিসেব

    সত্যিই কি LPG সিলিন্ডার প্রতি ২৯১ টাকা কর নিচ্ছে রাজ্য সরকার? দেখুন হিসেব

    বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: ইরান যুদ্ধের আঁচে পুড়ছে বাংলাও (West Bengal)! রাজ্যজুড়ে দেখা দিয়েছে LPG র হাহাকার! এরই মাঝে কেন্দ্রীয় সরকারের নতুন নিয়মে এবার থেকে শহরের ক্রেতারা 25 দিনের আগে দ্বিতীয় গ্যাস বুক করতে পারবেন না। গ্রামাঞ্চলের ক্ষেত্রে সেই পরিধিটা 45 দিনের। এমতবস্থায়, গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে কার্যত কাড়াকাড়ি বেঁধে গিয়েছে বলা যায়! এদিকে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করা সত্ত্বেও রান্নার গ্যাসের দাম 60 টাকা বেড়েছে। যা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে কটাক্ষ করতে ছাড়ছেন না বিরোধীরা। এহেন আবহে, শহর কলকাতার নামকরা চিকিৎসক নারায়ন ব্যানার্জি (Narayan Banerjee), নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে গ্যাস সিলিন্ডার থেকে রাজ্য এবং কেন্দ্রের রাজস্ব আয় সংক্রান্ত একটি পোস্ট শেয়ার করেন। আর তাতেই বিপাকে পড়েছেন ডাক্তার বাবু!

    বাংলার চিকিৎসককে তুলোধোনা তৃণমূল নেত্রীর!

    একজন চিকিৎসক হওয়ার পাশাপাশি নেট দুনিয়াতেও বেশ পরিচিত মুখ নারায়ণ ব্যানার্জি। সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রায় ভেসে বেড়ায় তাঁর বিভিন্ন উপদেশমূলক ভিডিও। তবে মাঝেমধ্যে রাজনীতির রঙ গায়ে না মেখেও বেশ কিছু বিতর্কিত মন্তব্য করে বসেন তিনি। এমনকি রাজ্য সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েও প্রশ্ন তুলতে দেখা যায় শহর কলকাতার এই চিকিৎসককে। সোশ্যাল মিডিয়ায় সম্প্রতি তিনিই একটি পোস্ট শেয়ার করেছিলেন। যেই ছবিটির ওপরেই লেখা রয়েছে গ্যাস থেকে কার কোষাগারে কত ঢোকে… নিচে গ্যাস সিলিন্ডারের রাজস্ব সংক্রান্ত যে হিসেব দেখানো হয়েছে তাতে কেন্দ্রীয় সরকারের কর হিসেবে 24 টাকা 75 পয়সা এবং রাজ্য সরকার অর্থাৎ তৃণমূল সরকারের কর বাবদ 291.36 টাকা দেখানো হয়। পোস্টের ক্যাপশনে লেখা হয়েছে ট্রু।

    গ্যাস সিলিন্ডার থেকে রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকারের রাজস্ব সংক্রান্ত হিসেব নিজের ফেসবুক পেজে পোস্ট করেই একপ্রকার বিপাকে পড়েছেন চিকিৎসক। আসলে চিকিৎসক নারায়ণ ব্যানার্জির এমন পোস্ট নিয়ে তাঁকে সরাসরি আক্রমণ করেছেন উত্তর ব্যারাকপুর মিউনিসিপ্যালিটির ভাইস চেয়ারম্যান তথা তৃণমূল নেত্রী শ্রীপর্ণা রায়। নিজের ফেসবুক হ্যান্ডেলে চিকিৎসক নারায়ণ ব্যানার্জির করা পোষ্টের সাথেই গ্যাস সিলিন্ডার থেকে রাজ্য এবং কেন্দ্রের রাজস্ব আয়ের হিসাব সহ আরেকটি ছবি আপলোড করে চিকিৎসককে চাঁচাছোলা আক্রমণ করেছেন ওই তৃণমূল নেত্রী।

    অবশ্যই পড়ুন: রেশনে অর্ধেক খরচে কিনতে পারবেন কেরোসিন! বড় সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের

    উত্তর ব্যারাকপুরের ভাইস চেয়ারম্যান নিজের ফেসবুক পেজে দুটি ছবি পাশাপাশি রেখে তার ক্যাপশনে লিখেছেন, “নাড়ু ব্যানার্জী লজ্জা শরম থাকলে ডাক্তারের ডিগ্রীটা জ্বালিয়ে দিন …. যেই জিনিসটা জিএসটির আওতায় সেখানে আর কোনো ট্যাক্স লাগে না এটা নাড়ু ডাক্তারের নতুন বাবার সরকারের সিদ্ধান্ত। নাড়ু বিধায়ক হওয়ার লোভে নিজের বাবা মায়ের দেওয়া শিক্ষাটাও জলাঞ্জলি দিয়েছে। এলপিজি গ্যাস জিএসটির আওতায় এবং ৫ শতাংশ করের স্ল্যাবে অবস্থান করছে, এর থেকে ২.৫ শতাংশ কর রাজ্য সরকার এবং ২.৫ শতাংশ কর কেন্দ্রীয় সরকার পায় যার আর্থিক মুল্য মাত্র ২২.৩৬ টাকা। এর বাইরে রাজ্য সরকার এক পয়সা পায় না। উপরন্তু এই প্রাপ্য ট্যাক্সের টাকাও কেন্দ্রীয় সরকার নানা আছিলায় আটকে রাখে। তাই এই অশিক্ষিত নির্লজ্জ মিথ্যাবাদী নাড়ু ডাক্তারের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রনোদিত মিথ্যাচারের মাধ্যমে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে মামলা করার অনুরোধ রাখছি।” তৃণমূল নেত্রীর এমন পোস্ট দেখামাত্রই কেউ কেউ ওই চিকিৎসককে কটাক্ষ করে লিখছেন, “গোমূত্রের পরিমাণটা বেশি হয়ে গিয়েছে বোধহয়!”

  • ৫টি পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের জন্য নয়া উন্নয়ন পর্ষদ গঠনের ঘোষণা নবান্নের

    ৫টি পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের জন্য নয়া উন্নয়ন পর্ষদ গঠনের ঘোষণা নবান্নের

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026) নিয়ে বেশ তর্ক বিতর্ক হয়েই চলেছে, এখনও কাটেনি SIR এর জট। কিছুদিন আগে ধর্মতলায় SIR এর প্রতিবাদে রীতিমত পাঁচ দিনের জন্য ধরনা মঞ্চে বসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, যা নিয়ে বিরোধীরা কম কটাক্ষ করেনি। আর এবার বিধানসভা নির্বাচনের আগে বড় ঘোষণা করলেন মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। জানা গিয়েছে, দলিত, আদিবাসী তথা পিছিয়ে থাকা সম্প্রদায়ের উন্নতির জন্য সাংস্কৃতিক ও উন্নয়ন বোর্ড গঠন করতে চলেছে রাজ্য সরকার।

    বড় ঘোষণা মমতার

    আজ অর্থাৎ শুক্রবার নিজের এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তিনি জানিয়েছেন, “ আমি আনন্দের সাথে ঘোষণা করছি মুন্ডা(এসটি), কোরা (এসটি), ডোম (এসসি), কুম্ভকার (ওবিসি), সদগোপদের (ওবিসি) জন্য শীঘ্রই পাঁচটি নতুন উন্নয়ন পর্ষদ গঠন করতে চলেছে আমাদের সরকার। এই সম্প্রদায়গুলি বাংলার প্রাণবন্ত কাঠামোর অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাঁদের সকলকে আমার আন্তরিক অভিনন্দন। এই বোর্ডগুলি উন্নত শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও চাকরি নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাঁদের অনন্য ভাষা ও ঐতিহ্য রক্ষা করবে।

    পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের জন্য পাঁচটি বোর্ড গঠন

    সূত্রের খবর, এই নয়া নির্মিত পাঁচটি বোর্ডের মূল লক্ষ্য হবে সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়গুলির নিজস্ব ভাষা, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে রক্ষা করা। পাশাপাশি, তাদের শিক্ষা, উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সুনিশ্চিত করা। এর ফলে একদিকে যেমন তাদের প্রথাগত অধিকার সুরক্ষিত থাকবে ঠিক তেমনই আবার আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই নির্দেশে বেশ খুশি পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়গুলি। যদিও রাজনৈতিক মহলের মতে রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপগুলো আসলে সবই ভোট পাওয়ার টোপ। আর এক্ষেত্রে তাই টার্গেট করা হয়েছে ST, SC, OBC সম্প্রদায়কে।

    আরও পড়ুন: ব্যবসায়ীদের স্বার্থে বড় ঘোষণা মমতার

    প্রসঙ্গত, গতকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের ব্যবসায়ীদের স্বার্থে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ট্রেডার্স ওয়েলফেয়ার বোর্ড’ গঠন করেছে। যেখানে সরকার এবং ব্যবসায়ী মহলের মধ্যে সমন্বয় যেমন বাড়বে ঠিক তেমনই বাজার, পাইকারি ব্যবসা, খুচরো বাণিজ্য থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরের ব্যবসায়ীদের অভিযোগ ও সমস্যার বিষয় সংক্রান্ত সমস্যা দূর হবে।

  • ব্যবসায়ীদের স্বার্থে বড় ঘোষণা মমতার

    ব্যবসায়ীদের স্বার্থে বড় ঘোষণা মমতার

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026) কবে হবে তা নিয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। এদিকে রাজ্য রাজনীতিতে নির্বাচন নিয়ে এক চাপা উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সকলেই ভোটপ্রচারের অনুষ্ঠানে মেতে উঠেছে। আর এই অবস্থায় পশ্চিমবঙ্গের ব্যবসায়ী মহলের দীর্ঘ দিনের দাবিকে মান্যতা দিয়ে বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার (Government Of West Bengal)। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নেতৃত্বে সরকার এবং ব্যবসায়ী মহলের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে গঠন করা হল ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ট্রেডার্স ওয়েলফেয়ার বোর্ড’।

    ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে পোস্ট মমতার

    বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের এক্স হ্যান্ডেলে রাজ্যের ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে একটি পোস্ট করেন। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, ‘‘অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা করছি যে, ওয়েস্ট বেঙ্গল ট্রেডার্স ওয়েলফেয়ার বোর্ড (WBTWB)-এর গঠন ও বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। এই প্রতিশ্রুতিটি আমি ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত রাজ্য ব্যবসায়ী সম্মেলন এবং বিজনেস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি কনক্লেভে দিয়েছিলাম। আমরা যা প্রতিশ্রুতি দিই, তা পূরণ করি। দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের ব্যবসায়ী মহলের এই দাবি ছিল। তাদের সবাইকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন।’’ জানা গিয়েছে, ওয়েস্ট বেঙ্গল ট্রেডার্স ওয়েলফেয়ার বোর্ডটি ব্যবসায়ী সংগঠন এবং রাজ্য সরকারের মধ্যে নিয়মিত সংলাপ ও সমন্বয়ের একটি ‘প্ল্যাটফর্ম’ হিসেবে কাজ করবে।

    ব্যবসায়ীদের স্বার্থসিদ্ধি করতে এই উদ্যোগ

    মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এই বোর্ডের চেয়ারপার্সন হবেন কনফেডারেশন অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি। বাজার, পাইকারি ব্যবসা, খুচরো বাণিজ্য থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরের ব্যবসায়ীদের অভিযোগ ও সমস্যার বিষয়ে সরকারকে অবহিত করা এবং তার সমাধানে উদ্যোগী হবে এই বোর্ড। নিজের পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী আরও লিখেছেন যে, ‘আমাদের ব্যবসায়ীরা বাংলার অর্থনীতির মেরুদণ্ড। আমরা তাঁদের পাশে থেকে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং একসঙ্গে কাজ করে রাজ্যের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করে তুলতে চাই।’

    আরও পড়ুন: পুলিশের উপরেও চলবে নজরদারি? ভোটে নিরাপত্তা জোরদার করতে বড় পদক্ষেপ কমিশনের

    মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই উদ্যোগ নিয়ে অর্থনৈতিক মহলের একাংশ জানিয়েছে যে, এই বোর্ড গঠনের মাধ্যমে ব্যবসায়ী মহলের সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হতে পারে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন প্রশাসনিক সমস্যা, লাইসেন্স, কর বা বাজার সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করার একটি নির্দিষ্ট মঞ্চ তৈরি হবে। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বিধানসভা নির্বাচনে শিল্পমহল ও ব‍্যবসায়ী সমাজের সমর্থন নিজের দিকে টানতেই মমতা এমন পদক্ষেপ করেছেন। এখন দেখার ব্যবসায়ীদের বাস্তব সমস্যার সমাধানে এটি কতটা কার্যকর ভূমিকা নিতে পারে।

  • DA ধর্মঘটে উত্তপ্ত খাদ্যভবন, কর্মীদের ঢুকতে বাধা, বিস্ফোরক ভাস্কর ঘোষ

    DA ধর্মঘটে উত্তপ্ত খাদ্যভবন, কর্মীদের ঢুকতে বাধা, বিস্ফোরক ভাস্কর ঘোষ

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) মাঝেই DA ইস্যু নিয়ে তৈরি হল মহাবিতর্ক। আজ, শুক্রবার ডিএ ধর্মঘটকে (DA Strike) কেন্দ্র উত্তাপ ছড়িয়েছে রাজ্যের সরকারি দফতরগুলিতে, এমতাবস্থায় খাদ্যভবন যেন হয়ে উঠেছে ঝামেলার কেন্দ্রবিন্দু। একদিকে তৃণমূল সমর্থনকারী সরকারি কর্মচারী, অন্যদিকে ডিএ আন্দোলনকারীদের স্লোগান পাল্টা স্লোগান চলছেই। ধর্মঘট ঘিরে দফায় দফায় বাড়ছে উত্তেজনা। অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা নাকি কাজে আসা সরকারী কর্মীদের ঢুকতে বাধা দিচ্ছেন।

    উত্তপ্ত পরিস্থিতি খাদ্যভবনের সামনে

    পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রশাসনের বিরুদ্ধে আজ অর্থাৎ শুক্রবার ধর্মঘট ডেকেছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ-সহ একাধিক সরকারি কর্মচারী সংগঠন। তা ঘিরেই কার্যত ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয় খাদ্যভবনের সামনে। সংগঠনের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষের নেতৃত্বে খাদ্যভবনের গেটে দাঁড়িয়ে রয়েছেন ধর্মঘটীরা। যেসব গাড়ি আসছে তার কাছে এগিয়ে গিয়ে ধর্মঘটে শামিল হওয়ার আবেদন জানানো হচ্ছে। অন্যদিকে, কিছুটা দূরে তৃণমূলের সংগঠনের কর্মী-সমর্থকরা দাঁড়িয়ে রয়েছেন। তাঁরা চেষ্টা করছেন, যারা ধর্মঘট বিফল করে অফিস করতে চান তাঁদের পাশে থাকতে। উঠছে স্লোগানের রেষারেষি। একদিক থেকে উঠল ‘জয় বাংলা স্লোগান’, অন্যদিক বলে উঠল, ‘ওরা সব সরকারি দালাল’

    কী বলছেন আন্দোলনকারী ভাস্কর ঘোষ?

    সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ জানান, “আমরা আগেই জানিয়েছিলাম যে ধর্মঘটটা কর্মচারীদের স্বার্থে, রাজ্যটাকে বাঁচানোর স্বার্থে ডাকা হয়েছে। রাজ্যে যে প্রশাসনিক দুর্নীতি, শূন্যপদে নিয়োগ নেই…তাই আমরা আপনাদের বিবেকের কাছে আবেদন জানাচ্ছি যে এই ধর্মঘটে শামিল হয়ে রাজ্য সরকারকে অন্তত বলুন যে সে তার রাজধর্ম পালন করুক। এই আবেদনটুকু জানানোর সময় তাঁরা বলছেন যে, এটাও করা যাবে না। এটাকে যদি আটকানো বলেন তাহলে হাজার বার পথ আটকাব। পারলে ধর্মঘট করুক। আমাদের আবেদন থাকবে ধর্মঘট করার।”

    আরও পড়ুন: গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে করাচি, কোয়েটা, ইসলামাবাদ! পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি তালিবানের

    প্রসঙ্গত, সরকারি কর্মীদের ধর্মঘট বানচাল করতে রীতিমতো মরিয়া হয়ে উঠেছে রাজ্য প্রশাসন। গতকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার নবান্নের তরফে এই প্রসঙ্গে নোটিস জারি করা হয়েছিল। সেখানে প্রশাসনের তরফে সাফ জানানো হয়েছিল যে, ধর্মঘটের দিন প্রত্যেক সরকারি কর্মীর উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। ওইদিন কোনও কর্মী যদি অনুপস্থিত থাকেন তাহলে তাঁকে ‘ডাইস নন’ হিসাবে গণ্য করা হবে অর্থাৎ ওই দিনের বেতন কেটে দেওয়া হবে। আর সেই ভয়েই এদিন একাধিক কর্মীকে কাজে ফিরতে দেখা গিয়েছিল

  • DA নিয়ে সংঘাত চরমে! আন্দোলনের মাঝেই কর্মীদের কড়া নোটিস নবান্নর

    DA নিয়ে সংঘাত চরমে! আন্দোলনের মাঝেই কর্মীদের কড়া নোটিস নবান্নর

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) আবহে রাজ্য জুড়ে সমস্ত দলগুলির মধ্যে এক উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আর এই অবস্থায় আজ ফের ডিএ ইস্যুতে ধর্মঘটের (DA Strike) ডাক দিয়েছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। তবে এব্যাপারে কড়া অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। আন্দোলনের মাঝেই সরকারি কর্মীদের জন্য নোটিস দিল নবান্ন (Nabanna)। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে ওই দিন রাজ্য সরকারের সমস্ত দফতর স্বাভাবিক নিয়মেই খোলা থাকবে, উল্টে কেউ যদি ধর্মঘটের জন্য ছুটি নেন তাহলে সেই দিনের বেতন কাটা হবে তাঁর।

    ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ

    উল্লেখ্য, সম্প্রতি সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা মামলার রায় কার্যকর করার সময়সীমা বাড়ানোর জন্য নতুন করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জমা দিয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। জানানো হয়েছিল, ডিএ বকেয়া পরিশোধ সংক্রান্ত নির্দেশ বাস্তবায়নে একাধিক প্রশাসনিক, প্রযুক্তিগত এবং আর্থিক জটিলতার মুখে পড়তে হচ্ছে। সেই কারণেই অন্তত ২৫ শতাংশ বকেয়া ডিএ এবং প্রথম কিস্তির অর্থ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হোক। স্বাভাবিকভাবে রাজ্যের জানানো আর্জিতে হতাশ সরকারি কর্মীরা। আর তারই প্রতিবাদে আজ, শুক্রবার ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। কিন্তু DA আন্দোলনের মাঝেই সরকারি কর্মীদের জন্য কড়া নোটিস দিল নবান্ন।

    নোটিসে কী জানিয়েছে প্রশাসন?

    পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে সাফ জানানো হয়েছে, ধর্মঘটের দিন প্রত্যেক সরকারি কর্মীর উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। ওইদিন কোনও কর্মী যদি অনুপস্থিত থাকেন তাহলে তাঁকে ‘ডাইস নন’ হিসাবে গণ্য করা হবে অর্থাৎ ওই দিনের বেতন কেটে দেওয়া হবে। তবে কিছু ক্ষেত্রে কর্মীদের ছাড় দেওয়া হবে। যদি কোনও কর্মী চিকিৎসাধীন কিংবা পরিবারের কেউ গুরুতর অসুস্থ, পরিবারে কারও মৃত্যু হলে, মাতৃত্বকালীন ছুটি বা আগে থেকে নেওয়া ছুটির ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হবে। তবে যদি কোনও কর্মী অনুমতি ছাড়াই ছুটি নেন, তবে তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠাতে হবে। সেক্ষেত্রে সন্তোষজনক জবাব দিতে না পারলে ছুটি মঞ্জুর করা হবে না।এমনকি নোটিসের জবাব যদি না দেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।

    আরও পড়ুন: দুর্ভোগ কমবে শিয়ালদা-হাওড়া লাইনের যাত্রীদের, নশিপুর হল্ট স্টেশন নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত রেলের

    প্রসঙ্গত, যে কোনও ধর্মঘটের ক্ষেত্রে বরাবর কড়া অবস্থান নিয়ে এসেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শাসকদল বা প্রশাসনের বিরুদ্ধে কোনরকম ধর্মঘট ও আন্দোলন আপোস করতে চান না তিনি। তাই এবারেও কর্মীদের ধর্মঘট নিয়ে করা অবস্থান নিলেন। তবে নাছোড়বান্দা কর্মীদের সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ, যে করেই হোক আন্দোলন করে ছাড়বে। এই প্রসঙ্গে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের তরফে ভাস্কর ঘোষ বলেন, “গোটা ভারত সুপ্রিম কোর্টে আইন মেনে চলে। তবে বাংলায় একজনের নির্দেশে আইন চলে। সেমিফাইনাল শেষ। এবার ১৩ মার্চ ফাইনাল খেলা হবে।”

  • কাল থেকেই অ্যাকাউন্টে ঢুকবে যুবসাথী, ক্ষেতমজুরের টাকা, জানালেন মুখ্যমন্ত্রী!

    কাল থেকেই অ্যাকাউন্টে ঢুকবে যুবসাথী, ক্ষেতমজুরের টাকা, জানালেন মুখ্যমন্ত্রী!

    বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: যুবসাথীর (Banglar Yuva Sathi) টাকা আর কবে অ্যাকাউন্টে ঢুকবে? গত শনিবার মুখ্যমন্ত্রীর (Mamata Banerjee) ঘোষণার পর এমন প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে রাজ্যের একটা বড় অংশের আবেদনকারীর মুখে মুখে। মেট্রো চ্যানেলের ধরনা মঞ্চ থেকে বেকার ভাতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েও এখনও কেন ঢুকছে না মাসিক ভাতা? প্রশ্ন তুলছেন রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীরা। ঠিক সেই আবহে, বৃহস্পতিবার নবান্নের বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দিলেন যুবসাথীর টাকা আবেদনকারীদের অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত পৌঁছনোর দিনক্ষণ। ভূমিহীন ক্ষেতমজুর প্রকল্প নিয়েও মিলল সুখবর।

    কবে ঢুকতে চলেছে যুবসাথী ও ভূমিহীন ক্ষেতমজুরের টাকা?

    বেশ কয়েকটি বিশ্বস্ত সূত্র মারফত খবর, বৃহস্পতিবার নবান্নে প্রশাসনিক বৈঠক ডাকেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই বৈঠকের পরই নাকি মুখ্যমন্ত্রীর তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ভোট প্রক্রিয়ার মাঝেও যেন উন্নয়নের কাজ বাধাপ্রাপ্ত না হয় সেদিকেই নজর রয়েছে রাজ্য সরকারের। তাই আগামীকাল অর্থাৎ শুক্রবারের মধ্যেই আবেদনকারীদের অ্যাকাউন্টে দিয়ে দেওয়া হবে যুবসাথী প্রকল্পের টাকা।

    এখানেই শেষ নয়, ওই সূত্র দাবি করছে, বৃহস্পতিবার প্রশাসনিক বৈঠক শেষে রাজ্য সরকারের নতুন প্রকল্প ভূমিহীন ক্ষেতমজুর নিয়ে বিশেষ ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফে জানানো হয়, বেকার ভাতার পাশাপাশি শুক্রবারের মধ্যে ভূমিহীন ক্ষেতমজুরের টাকাও নিজেদের অ্যাকাউন্টে পেয়ে যাবেন যোগ্য আবেদনকারীরা। মুখ্যমন্ত্রী এমন ঘোষনার পর মাসিক ভাতা নিয়ে কিছুটা হলেও স্বস্তি মিলবে আবেদনকারী, সে কথা বলাই যায়।

    অবশ্যই পড়ুন: সাবধান KKR থেকে MI! IPL এ CSK-কে একাই ম্যাচ জেতাতে পারেন এই প্লেয়ার

    উল্লেখ্য, সম্প্রতি সপ্তদশ বিধানসভার শেষ অধিবেশনে রাজ্যের অন্তর্বর্তী বাজেট পেশ করেছিলেন অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। আর সেই বাজেট পেশ করার সাথে সাথে নতুন দুই প্রকল্প যুবসাথী এবং ভূমিহীন খেতমজুরের প্রস্তাব রাখেন তিনি। আর তারপরই সাংবাদিক সম্মেলন করে এই বিশেষ প্রকল্প সম্পর্কে আমজনতাকে অবগত করেন মমতা।

  • না মানলে এই মাস থেকেই বন্ধ হবে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, নিয়মে বদল আনল পশ্চিমবঙ্গ সরকার

    না মানলে এই মাস থেকেই বন্ধ হবে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, নিয়মে বদল আনল পশ্চিমবঙ্গ সরকার

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সবথেকে জনপ্রিয় প্রকল্পগুলির মধ্যে একটি হল লক্ষীর ভাণ্ডার (Lakshmir Bhandar)। তবে এই প্রকল্পে এবার আসছে বিরাট পরিবর্তন। রাজ্য প্রশাসনের তরফ থেকে এই প্রকল্পে একাধিক নতুন নিয়ম কার্যকর করা হচ্ছে। সরকারি সূত্রে খবর, এই নিয়মগুলি না মানলে চলতি মাস থেকে উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। রাজ্যের বিপুল সংখ্যক মহিলার আর্থিক সহায়তার জন্য এই প্রকল্পের স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্যই বড়সড় পদক্ষেপ নিচ্ছে প্রশাসন।

    প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সবথেকে জনপ্রিয় প্রকল্পগুলির মধ্যে একটি হল এই লক্ষ্মীর ভাণ্ডার। এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের মহিলাদের প্রতি মাসে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হয়। সম্প্রতি অন্তর্বর্তী বাজেটে এই প্রকল্পের ভাতাও বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে সাধারণ শ্রেণির মহিলারা পাচ্ছে ১৫০০ টাকা এবং এসসি/এসটি শ্রেণীর মহিলারা পাচ্ছে ১৭০০ টাকা করে, যে টাকা সরাসরি উপোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়।

    লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে আসছে নতুন নিয়ম

    সরকারি সূত্র মারফৎ খবর, বেশ কিছু ক্ষেত্রে নথিপত্রের ভুল বা অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসছে। কেউ কেউ নিয়ম বহির্ভূতভাবে প্রকল্পের সুবিধা নিচ্ছেন। সেই পরিস্থিতিতে প্রকৃত উপভোক্তাদের সুবিধা দেওয়ার জন্য অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত করতে প্রশাসন এখন নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া শুরু করেছে। জানা যাচ্ছে, নতুন নিয়ম অনুযায়ী ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার কার্ড সংযুক্ত থাকা বাধ্যতামূলক। যে সমস্ত উপভোক্তার অ্যাকাউন্ট আধারের সঙ্গে লিঙ্ক করানো নেই, তাদের ভাতা পাঠানো বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই দ্রুত ব্যাঙ্কে গিয়ে আধার লিঙ্ক করে নেওয়া সবথেকে বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

    এদিকে আরও একটু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হল ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত নিয়ম। এখন থেকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা শুধুমাত্র উপভোক্তাদের নিজের নামে থাকা একক অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে ঢুকবে। যৌথ অ্যাকাউন্ট বা জয়েন্ট অ্যাকাউন্টে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা দেওয়া হবে না। তাই প্রয়োজনে নিজের নামে আলাদা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খুলে নেওয়ারই পরামর্শ দিয়েছে রাজ্যের প্রশাসন।

    আরও পড়ুন: ঘূর্ণাবর্তের জেরে বাড়ছে দুর্যোগ! শুক্রেও ঝড়-বৃষ্টির আভাস, আগামীকালের আবহাওয়া

    এছাড়াও এই প্রকল্পে আবেদন করার জন্য বয়সের নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে। আবেদনকারীর বয়স হতে হবে অবশ্যই ২৫ বছর থেকে ৬০ বছরের মধ্যে। কিন্তু বয়স ৬০ বছর পেরিয়ে গেলে তিনি আর এই প্রকল্পের আওতায় সুবিধা পাবেন না। সেক্ষেত্রে তাঁকে বার্ধক্য ভাতা সুবিধা দেওয়া হবে। তাই যদি বয়সজনিত কারচুপি করা হয়, তাহলে এই প্রকল্পের ভাতা আর মিলবে না। প্রশাসনের তরফ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, আবেদনপত্রে ভুল তথ্য দিলে বা নথিপত্রে অসঙ্গতি থাকলে অ্যাকাউন্ট বাতিল হয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে যদি আবেদনকারী বা তাঁর পরিবারের কেউ স্থায়ী সরকারি চাকরি করেন বা সরকারি পেনশন পান, সেক্ষেত্রে এই প্রকল্পের আওতায় ভাতা পাওয়া যাবে না।

  • বাড়ছে ঋণের বোঝা, আর্থিক স্বাস্থ্যে বিহার-ইউপির পিছনে বাংলা! শেষ তিনে পশ্চিমবঙ্গ

    বাড়ছে ঋণের বোঝা, আর্থিক স্বাস্থ্যে বিহার-ইউপির পিছনে বাংলা! শেষ তিনে পশ্চিমবঙ্গ

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: এবারেও পিছিয়ে বাংলা! আর্থিক স্বাস্থ্যের মাপকাঠিতে দেশের ১৮টি বড় রাজ্যের মধ্যে শেষ সারিতে দেখা গেল পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) নাম। সঙ্গে রয়েছে কেরল, অন্ধ্রপ্রদেশ ও পঞ্জাব। রিপোর্ট দেখে কপালে চিন্তার ভাঁজ প্রশাসনের। তবে কি রাজকোষের দুরাবস্থা অনুদানের কারণেই হচ্ছে? বড় তথ্য ফাঁস নীতি আয়োগ (Niti Aayog)।

    শেষের দিক থেকে তৃতীয় স্থান বাংলার

    দেশের বড় রাজ্যগুলির মধ্যে কার রাজকোষের অবস্থা কেমন, তা নিয়ে নীতি আয়োগ ২০২৬-এর দ্বিতীয় বার্ষিক রিপোর্ট পেশ করা হল আজ অর্থাৎ বৃহস্পতিবার। আর সেখানে পশ্চিমবঙ্গের রিপোর্ট দেখে চক্ষু চড়কগাছ সকলের। রাজকোষের স্বাস্থ্যের মাপকাঠিতে মোট ১৮টি রাজ্যকে চারটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল রাজ্যগুলির মধ্যে একবারে শেষে রয়েছে কেরল, পশ্চিমবঙ্গ, অন্ধ্রপ্রদেশ ও পঞ্জাব। অর্থাৎ শেষের দিক থেকে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে বাংলা। সেক্ষেত্রে নীতি আয়োগের মতে, পশ্চিমবঙ্গকে অবিলম্বে পরিকাঠামো তৈরি-সহ মূলধনী খাতে খরচে অগ্রাধিকার দিতে হবে। কর বাবদ আয় এবং কর ছাড়া অন্যান্য আয়— দুই ক্ষেত্রেই জোর দিতে হবে।

    West Bengalঋণের বোঝা কমছে না রাজ্যের

    গত বছরও নীতি আয়োগের রিপোর্টে পশ্চিমবঙ্গ শেষ সারিতেই ছিল। প্রথম শ্রেণিতে ছিল ওড়িশা, ছত্তীসগঢ়, গোয়া, ঝাড়খণ্ড ও গুজরাত। চতুর্থ বা সব থেকে খারাপদের শ্রেণিতে ছিল পশ্চিমবঙ্গ, কেরল, অন্ধ্রপ্রদেশ, পঞ্জাব। তবে এবার একধাপ এগিয়েছে। নীতি আয়োগ জানিয়েছে, উন্নয়ন খাতে খরচ ও রাজস্ব আয় বৃদ্ধিতে পশ্চিমবঙ্গ সামান্য এগিয়ে এসেছে। সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিষেবা ক্ষেত্রে মূলধনী খাতে খরচ দ্বিগুণ হয়েছে। অর্থাৎ আর্থিক পরিকাঠামো ও সামাজিক পরিকাঠামোতে প্রশাসন যে জোর দিচ্ছে তা বোঝা যাচ্ছে। এছাড়াও রাজ্যের নিজস্ব দু’বছরে প্রায় ২৮ শতাংশ বেড়েছে। কিন্তু ঋণের বোঝা এবং পুরনো ঋণে সুদ মেটাতে গিয়ে রাজস্ব আয়ের পাঁচ ভাগের এক ভাগ খরচ হয়ে যাচ্ছে। সেখানে নজর দিতে হবে।

    আরও পড়ুন: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে FIR দায়ের বিশ্ব হিন্দু পরিষদের!

    এছাড়াও সামগ্রিক ভাবে নীতি আয়োগের আর্থিক স্বাস্থ্যের রিপোর্ট বলছে, গতবারের মত এবারেও রাজকোষ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ওড়িশা দেশের মধ্যে প্রথম স্থানে রয়েছে। এছাড়াও প্রথম পাঁচে রয়েছে গোয়া, ঝাড়খণ্ড, মহারাষ্ট্র এবং গুজরাত। অন্যদিকে হরিয়ানা এক বছরে প্রভূত উন্নতি করেছে। পাশাপাশি বিহার, কর্নাটক, তেলঙ্গানা সামান্য উন্নতি করেছে। কিন্তু পিছনের শাড়ি গুলিতে রাজ্যগুলির উন্নতি খুবই ধীরগতিতে হচ্ছে। নীতি আয়োগের কর্তাদের মতে, আর্থিক অনুদান পাইয়ে দেওয়ার বদলে রাজ্যগুলিকে সঠিক পথে চালিত করা জরুরি। আর্থিক শৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে বা আয় বুঝে ব্যয় করতে হবে।