Tag: Gas

  • ‘রাজ্য সরকার চাইলে বাংলায় কমবে গ্যাসের দাম’ কতটা?

    ‘রাজ্য সরকার চাইলে বাংলায় কমবে গ্যাসের দাম’ কতটা?

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: মধ্যপ্রাচ্যে একের পর এক যুদ্ধ পরিস্থিতির ভয়ংকর প্রভাব পড়েছে গোটা বিশ্ববাজারে। এমনকি এই প্রভাব থেকে বাদ পড়েনি ভারতও, গ্যাসের দাম এতটাই বৃদ্ধি (LPG Cylinder Price Hike) পেয়েছে যে মধ্যবিত্তের হেঁশেলে রীতিমত আগুন ধরে গিয়েছে। একধাক্কায় ঘরোয়া সিলিন্ডারের দাম ৬০ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছে কেন্দ্র। অর্থাৎ কলকাতায় ঘরোয়া রান্নার গাসের দাম বেড়ে হল ৯৩৯ টাকা। এবং ১৯ কেজির বাণিজ্যিক রান্নার গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে, বর্তমানে দাম ১৯৯০ টাকা। এই অবস্থায় রাস্তায় প্রতিবাদে নেমেছে তৃণমূল (Trinamool Congress)। তবে কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী (Adhir Chowdhury) বলছেন অন্য কথা, তাঁর দাবি মুখ্যমন্ত্রী নাকি চাইলেই রাজ্যে গ্যাসের দাম বেশ খানিকটা কমতে পারে।

    গ্যাসের দাম কমানোর ফর্মুলা দিল অধীর

    গতকাল অর্থাৎ রবিবার, কংগ্রেসের তরফে একটি সাংবাদিক বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে সাংবাদিকদের সম্মুখে প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী রাজ্যের একাধিক ইস্যু নিয়ে নানা মন্তব্য করছিলেন, আর তখনই উঠে আসে রান্নার গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রসঙ্গে। তিনি বলেন, “দিদি যদি মনে করেন, তাহলে গ্যাসের দাম কিছুটা কমাতে পারেন। দিদি যদি ভাবেন, গ্যাসে যতটা দাম বাড়ল, ততটা যদি সাবসিডি দিই, তাহলে মানুষ সস্তার গ্যাস পাবে। এটা রাজ্য যদি মনে করে, রাজ্য সরকার পারবে।” এছাড়াও তাঁর দাবি, “আপনি যদি লক্ষ্মীর ভান্ডারে মা বোনেদের জন্য পয়সা দিতে পারেন, তাহলে গ্যাসের জন্যও পয়সা দিন। কারণ গ্যাসটা তো ব্যবহার করেন মা-বোনেরাই। যাতে তাঁদের রান্নায় কোনও সঙ্কট তৈরি না হয়।”

    কী বলছেন অধীর চৌধুরী?

    পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত ও যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে যখন চারিদিকে নানা সমস্যা তৈরি হয়েছে, সেই সময় গ্যাসের চড়া দাম বৃদ্ধি নিয়ে অধীর রঞ্জন চৌধুরী দাবি করেন, “রাজ্যের কাছে আবেদন করব, গ্যাসের যে দামটা বাড়ছে, রাজ্য ক্ষতিপূরণের মতো যাতে মানুষের স্বার্থে সাবসিডি অথবা ভর্তুকি দেয়। কারণ বিভিন্ন প্রকল্পে রাজ্য অনুদান দিচ্ছে, তাহলে গ্যাসের ক্ষেত্রেও দেওয়া হোক।” এদিকে গতকালই রান্নার গ্যাসের দাম বৃদ্ধিতে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নেমেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। কালো শাড়িতে হাতা-খুন্তি হাতে রাস্তায় নেমেছিল মহিলা বাহিনী। আন্দোলনে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, সাংসদ মালা রায়, বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ। মিছিল শেষে পরে তাঁরা পুনরায় ধর্মতলায় মুখ্যমন্ত্রীর ধর্নামঞ্চে এসেও হাতা-খুন্তি নিয়ে গ্যাসের দামবৃদ্ধির প্রতিবাদ করেছিলেন।

    আরও পড়ুন: SIR ইস্যুতে ক্ষোভ! উঠল ‘গো ব্যাক’ স্লোগান, কালীঘাটে পুজো দিতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে জ্ঞানেশ কুমার

    প্রসঙ্গত, এইমুহুর্তে রান্নার গ্যাসের দাম বৃদ্ধি সকলের কাছে এক বিরাট সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর ভোটের আবহে এই সমস্যাকেই রাজনীতিবিদরা হাতিয়ার হিসেবে, স্বাভাবিকভাবেই এই চাপানউতোরের মাঝেই চাপা পড়ে যাচ্ছে সাধারণ মানুষ। কলকাতা, মুম্বই, দিল্লি বা চেন্নাই সর্বত্রই এখন জ্বালানির জ্বালায় জেরবার সাধারণ গৃহস্থ। এখন দেখার অধীরের এই ‘ভরতুকি ফর্মুলা’ রাজ্য সরকার গ্রহণ করে কি না। যদিও শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে কিছুই জানানো হয়নি।

  • নারী দিবসে কালো শাড়িতে রাস্তায় তৃণমূলের মহিলারা, গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদ

    নারী দিবসে কালো শাড়িতে রাস্তায় তৃণমূলের মহিলারা, গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদ

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নির্দেশে অনুযায়ী আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে ময়দানে নামল মহিলারা। গ্যাসের দাম বৃদ্ধির (LPG Cylinder Price Hike) প্রতিবাদে কালো শাড়ি পরে তুমুল প্রতিবাদ শুরু হল চারিদিকে। শশী পাঁজা, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যদের মতো নেত্রীদের নেতৃত্বে রীতিমত মুখরিত মহিলা ব্রিগেড। থালা-বাসন, খুন্তি বাজিয়ে ধরনা মঞ্চেও কালো শাড়ি পরে চলল প্রতিবাদ। প্রতীকী সিলিন্ডার হাতে প্রতিবাদ জানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।

    নারী দিবসের দিন প্রতিবাদের ডাক তৃণমূলের

    রিপোর্ট মোতাবেক, গতকাল অর্থাৎ শনিবার, ধর্মতলায় কেন্দ্রীয় সরকারের গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে ধরনা মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সমগ্র মহিলাদেরকে নিয়ে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের দিন প্রতিবাদের ডাক দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “গ্যাসের দাম বৃদ্ধির জন্য হাঁড়ি, কড়াই, বাটি, ঘটি, হাতা, খুন্তি দিয়ে প্রতিবাদ মিছিল হবে আন্তর্জাতিক মহিলা দিবসে। মানবতাকে পালন করার জন্য কাল মা বোনেরা রাস্তায় নামুন, প্রতিবাদ করুন। প্রয়োজনে কালো শাড়ি পরুন। গ্যাসের ওভেনও পারলে কেউ নিয়ে আসবেন। পারলে কাঁচা আনাজও ঝুড়িতে আনবেন।” আর সেই নির্দেশ মাথায় রেখেই আজ সুবোধ মল্লিক স্কোয়্যারে মিছিলে যোগ দেন মহিলারা। সকলেরই পরনে ছিল কালো পোশাক।

    প্রতিবাদে সরব মুখ্যমন্ত্রী

    মহিলাদের এই আন্দোলনে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, সাংসদ মালা রায়, বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ। মিছিল শেষে পরে তাঁরা পুনরায় ধর্মতলায় মুখ্যমন্ত্রীর ধর্নামঞ্চে এসেও হাতা-খুন্তি নিয়ে গ্যাসের দামবৃদ্ধির প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় সরকারকে নিশানা করেছেন। পাশাপাশি এদিন প্রতীকী সিলিন্ডার হাতে নিয়ে খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও সেই প্রতিবাদে শামিল হন। যদিও তিনি নিজে প্রথাগত সাদা শাড়িই পরেছিলেন। গ্যাসের দামের পাশাপাশি ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটার ইস্যুকেও এই প্রতিবাদের সঙ্গে জুড়ে দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। ফলে ভোটমুখী বাংলায় এসআইআর-র প্রতিবাদে ধরনা মঞ্চ থেকে মমতার প্রতিবাদের ডাকে বেশ চাপের মুখে পড়ল বঙ্গ বিজেপি।

    আরও পড়ুন: ট্রোলের জেরে ছেড়েছিলেন সোশ্যাল মিডিয়া! মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শে কামব্যাক ইমনের

    প্রসঙ্গত, চলতি বছরের শুরুতেই অর্থাৎ ১ জানুয়ারি একধাক্কায় বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম বেড়েছিল ১১১ টাকা। ঠিক তার পরের মাসে অর্থাৎ ১ ফেব্রুয়ারি আরও ৪৯ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে গ্যাসের দাম। সংশোধিত দামের তালিকা অনুযায়ী, ১ মার্চ কলকাতায় ১৯ কেজির বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম দাঁড়িয়েছিল ১৮৭৫ টাকা ৫০ পয়সা। এবার মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝে নতুন দাম বৃদ্ধির পর গ্যাসের দাম বেড়ে হল ১৯৯৯ টাকা। আর তাই বেশ দুশ্চিন্তায় রয়েছে মধ্য এবং নিম্নবিত্তরা।

  • গ্যাসের দাম বাড়তেই ক্ষুব্ধ মমতা, নারী দিবসে হাঁড়ি-কড়াই নিয়ে প্রতিবাদের ডাক মুখ্যমন্ত্রীর

    গ্যাসের দাম বাড়তেই ক্ষুব্ধ মমতা, নারী দিবসে হাঁড়ি-কড়াই নিয়ে প্রতিবাদের ডাক মুখ্যমন্ত্রীর

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আঁচ পড়েছে হেঁশেলে। আজ অর্থাৎ শনিবার থেকে ঘরোয়া এবং বাণিজ্যিক দুই রান্নার গ্যাসের দামই (Gas Cylinder Price Hike) এবার বাড়ানো হল। ঘরোয়া রান্নার গ্যাসের দাম একলাফে বাড়ানো হল সিলিন্ডার প্রতি ৬০ টাকা করে। অর্থাৎ কলকাতায় রান্নার গাসের দাম বেড়ে হল ৯৩৯ টাকা। এবং ১৯ কেজির বাণিজ্যিক রান্নার গ্যাসের দাম বাড়ানো হল সিলিন্ডার প্রতি ১১৪ টাকা ৫০ পয়সা। অর্থাৎ দাম বেড়ে হল ১৯৯০ টাকা। আর তাই গ্যাস সিলিন্ডার দাম বৃদ্ধি নিয়ে এবার কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ।

    গ্যাসের দাম বৃদ্ধি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ মমতার

    রিপোর্ট মোতাবেক, আজ, শনিবার ধরনা মঞ্চে রান্নার গ্যাসের দাম বৃদ্ধি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গ্যাসের দাম ৬০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তিনি জানান, রান্নার গ্যাসের দাম বৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে মহিলাদের উপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। গতকাল ৬০ টাকা গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে। তার আগে তিনদিন আগে ৪৯ টাকা গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে। বড় সিলিন্ডাররে দাম ২১০০ টাকা হয়ে গিয়েছে। আর ছোট সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার টাকা হয়ে গিয়েছে। বলছে ২১ দিন আগে থেকে বুক করতে হবে। যার বাড়িতে গ্যাস শেষ হয়ে যাবে সে কী ২১ দিন রান্না না করে থাকবে? খাবেন কী করে? মাথা খাবেন?”

    মহিলাদেরকে নিয়ে প্রতিবাদের ডাক মমতার

    কেন্দ্রীয় সরকারের এই গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে ধরনা মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সমগ্র মহিলাদেরকে নিয়ে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের দিন প্রতিবাদের ডাক দিলেন। তিনি বলেন, “কালকে মিছিল হবে। গ্যাস নাই, রান্না নাই। গ্যাস নাই, খাবার নেই। সেই জন্য হাঁড়ি, কড়াই, বাটি, ঘটি, হাতা, খুন্তি দিয়ে প্রতিবাদ মিছিল হবে আন্তর্জাতিক মহিলা দিবসে। মানবতাকে পালন করার জন্য কাল মা বোনেরা রাস্তায় নামুন, প্রতিবাদ করুন। প্রয়োজনে কালো শাড়ি পরুন। আর হাতে এইসব রাখবেন। গ্যাসের ওভেনও পারলে কেউ নিয়ে আসবেন। পারলে কাঁচা আনাজও ঝুড়িতে আনবেন।”

    আরও পড়ুন: ধর্ষণ করে খুন, গোডাউনে লুকোনো দেহ! সাঁইথিয়ায় নাবালিকা মৃত্যুতে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী

    প্রসঙ্গত, গত কয়েক মাস ধরেই বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম ধারাবাহিকভাবে বেড়েই চলেছে। চলতি বছরের শুরুতেই অর্থাৎ ১ জানুয়ারি একধাক্কায় ১১১ টাকা বেড়েছিল বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম। এরপর পরের মাসে অর্থাৎ ১ ফেব্রুয়ারি আরও ৪৯ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে গ্যাসের দাম। সংশোধিত দামের তালিকা অনুযায়ী, ১ মার্চ কলকাতায় ১৯ কেজির বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম দাঁড়িয়েছিল ১৮৭৫ টাকা ৫০ পয়সা। এবার নতুন বৃদ্ধির পর সেই দাম বেড়ে হল ১৯৯৯ টাকা। বেশ দুশ্চিন্তায় রয়েছে সকলে।

  • গ্যাসের সংকট দেখা দিতেই গুজরাটে ১০০ কারখানায় কাজ বন্ধ, ঝুঁকির মুখে আরও ৪০০

    গ্যাসের সংকট দেখা দিতেই গুজরাটে ১০০ কারখানায় কাজ বন্ধ, ঝুঁকির মুখে আরও ৪০০

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: মধ্যপ্রাচ্যে জ্বলছে যুদ্ধের আগুন। তবে ইরান এবং ইজরায়েলের যুদ্ধের প্রভাব এবার পড়তে শুরু করেছে ভারতে, বিশেষ করে গ্যাসের বাজারে (Gas Crisis)। ইতিমধ্যেই গতকাল ডোমেস্টিক সিলিন্ডারের দাম ৬০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে এবং বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দামও বেড়েছে ১১৪ টাকা করে। ফলে দেশে খুব তাড়াতাড়ি যে গ্যাসের সংকট দেখা দেবে তা আঁচ করতে পারছে অনেকে। কারণ, হরমুজ প্রণালী দিয়ে ইতিমধ্যেই কাতার থেকে গ্যাস আমদানি বন্ধ হয়েছে। আর গ্যাসের সংকট সামনে আসতেই বড় দুঃসংবাদ আসলো গুজরাট (Gujarat) থেকে। জানা যাচ্ছে, এই রাজ্যের মোরবি শহরে প্রায় ১০০টি কারখানা বন্ধ হয়েছে গ্যাসে অভাবে।

    গ্যাস সংকটে বন্ধ ১০০ কারখানা

    প্রসঙ্গত জানিয়ে রাখি, মোরবি বিশ্বের বৃহত্তম সিরামিক উৎপাদন কেন্দ্রগুলির মধ্যে একটি। আর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যে শিল্প প্রতিনিধিরা স্পষ্ট বলেছেন যে, যদি শীঘ্রই গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হয়, তাহলে আগামী দিনে আরও ৪০০টি ইউনিট বন্ধ হয়ে যেতে পারে। কারণ, এই কারখানা সম্পূর্ণ গ্যাসের উপরেই নির্ভরশীল। রিপোর্ট অনুযায়ী, গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার কারণেই সম্পূর্ণ কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই ১০০টি কারখানায় তালা পড়েছে।

    এ বিষয়ে মোরবি সিরামিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মনোজ আরাভাদিয়া জানিয়েছেন, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির কারণেই গত দুইদিন ধরে প্রোপেন গ্যাস সরবরাহ করা যাচ্ছে না। আর আগামী দিন পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। এগুলি সম্পূর্ণ গ্যাস নির্ভর ইউনিট হওয়ায় আমাদেরকে উৎপাদন স্থগিত রাখতে হচ্ছে। তবে সবথেকে বড় ব্যাপার, কারখানা বন্ধ হলে হাজার হাজার শ্রমিকের উপরে প্রভাব পড়বে। বর্তমানে কারখানাগুলো তাদের কর্মীদের ধরে রাখার চেষ্টা করছে। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে যদি উৎপাদন বন্ধ থাকে, তাহলে কর্মসংস্থান যে ঝুঁকির মুখে পড়বে তাও বলার অপেক্ষা রাখে না।

    আরও পড়ুন: ‘পশ্চিমবঙ্গ সরকার MA ফিল করলেও …’ বকেয়া DA মামলায় নাটকীয় মোড়? এল বড় খবর

    বলে রাখি, ভারত তার তেল এবং গ্যাসের প্রায় ৮৫ শতাংশই আমদানি করে থাকে। তার মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ গ্যাস আমদানি করে কাতার থেকে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আবহে হরমুজ প্রণালী দিয়ে যে গ্যাসবাহী জাহাজ আসে, সেই প্রণালী সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে। সেই কারণেই ভারতে এখনো পর্যন্ত কোনও রকম জাহাজ আসতে পারছে না। এমনকি প্রায় ৩০০ জন নাবিকও আটকে রয়েছে। আর সবথেকে বড় ব্যাপার, ইরানের ড্রোন হামলার পর বিশ্বের বৃহত্তম এলপিজি টার্মিনাল কাতারের রাস লাফানে বন্ধ হয়েছে। সেই কারণেই এখন জ্বালানির সংকটের মুখে ভারত। বর্তমানে ভারত বিকল্প রাস্তার দিকেই তাকিয়ে।

  • এক লাফে অনেকটাই বাড়ল গ্যাস সিলিন্ডারের দাম, জানুন নতুন রেট

    এক লাফে অনেকটাই বাড়ল গ্যাস সিলিন্ডারের দাম, জানুন নতুন রেট

    সহেলি মিত্র, কলকাতা: দাম বাড়ল রান্নার (LPG Cylinder Price) গ্যাসের। একদিকে যখন ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যেকার যুদ্ধের জেরে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য উত্তপ্ত, ঠিক তখনই আচমকা দাম বাড়লো ঘরোয়া রান্নার গ্যাসের। জানা গিয়েছে, ১৪. ২ কেজি ঘরোয়া রান্নার গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, এক লাফে ৬০ টাকা দাম বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

    দাম বাড়ল ঘরোয়া রান্নার গ্যাসের

    বর্তমানে ১৪. ২ কেজি ঘরোয়া এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৬০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। দিল্লিতে এখন এই ১৪. ২ কেজি ঘরোয়া এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৮৫৩ টাকা থেকে ৯১৩ টাকায় বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন দাম আগামীকাল অর্থাৎ ৭ মার্চ, ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে। এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই হতবাক দেশবাসী। সেইসঙ্গে এই দামের প্রভাব সাধারণ মানুষের হেঁশেলে ও বাজেটে যে পড়বে সেটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

    হোলিতে দাম বেড়েছে বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারেরও

    গত ১ মার্চ, তেল কোম্পানিগুলি বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের (১৯ কেজি) দাম আবার বাড়িয়ে দেয়। ১ মার্চ থেকে, দিল্লিতে দাম ২৮ টাকা এবং অন্যান্য মহানগরীতে ৩১ টাকা বেড়েছে। এখন, দিল্লিতে একটি সিলিন্ডার ১৭৬৮.৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। মুম্বাইতে এর দাম ১৮৩৫ টাকা হয়েছে। যারা হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং ধাবা চালাচ্ছেন তাদের জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ, কারণ গ্যাসের দাম বৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব খাবারের বিলের উপর পড়তে পারে। সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, আন্তর্জাতিক উত্তেজনার কারণে সরবরাহ ব্যাহত হলে, দেশে গ্যাসের প্রাপ্যতার উপর কোনও উল্লেখযোগ্য প্রভাব না পড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

  • যুদ্ধের প্রভাব গ্যাসে! কলকাতায় বন্ধ হল LPG-র গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা

    যুদ্ধের প্রভাব গ্যাসে! কলকাতায় বন্ধ হল LPG-র গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা

    সহেলি মিত্র, কলকাতা: ইরান এবং ইসরাইলের মধ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাব পড়ল সাধারণ মানুষের হেঁশেলেও। আপনার যদি কলকাতার বাসিন্দা হয়ে থাকেন এবং ডবল গ্যাস সিলিন্ডার (LPG Cylinder) কানেকশন নেওয়ার কথা ভেবে থাকেন তাহলে আপনার জন্য রইল অত্যন্ত খারাপ খবর। জানা গিয়েছে, আগামী কয়েক দিন কলকাতায় নতুন ডবল সিলিন্ডারের গ্যাস কানেকশন পাওয়া যাবে না। তাহলে কী আগামী কয়েক দিনের মধ্যে গ্যাস নিয়ে হাহাকার দেখা যাওয়া সম্ভাবনা রয়েছে?

    কলকাতায় বন্ধ ডবল গ্যাস কানেকশন প্রদান পরিষেবা

    নিশ্চয়ই ভাবছেন আচমকা এরকম সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হল? মূলত আগামী দিনে গ্যাসের যোগান ঠিকঠাক থাকে সেজন্য নতুন ডাবল গ্যাস কানেকশন পরিষেবা আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। যত সময় এগোচ্ছে ইরান ও ইজরায়েলের (Iran Israel Conflict) মধ্যে সম্পর্ক ততই খারাপ হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের দুই দেশ একে অপরকে তাক করে মিসাইল ছুঁড়েই চলেছে। মৃত্যু হচ্ছে বহু মানুষের। সেই সঙ্গে ভারত সহ বিভিন্ন দেশের মধ্যপ্রাচ্যের এই হল সংঘাতের প্রভাব যথেষ্ট পড়ছে বলে মনে করা হচ্ছে। পরিস্থিতি কবে ঠিক হবে ? সেই উত্তর জানা নেই কারোর। এহেন উত্তপ্তময় পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের যাতে খাদ্য যোগানের ক্ষেত্রে কোনওরকম সমস্যা না হয় সেজন্য একের পর এক সিদ্ধান্ত নিয়েই চলেছে সরকার।  জানা যাচ্ছে, যাঁদের একটি মাত্র সিলিন্ডার রয়েছে তাঁরা দ্বিতীয় সিলিন্ডারের জন্য আবেদন করলেও আপাতত তা মঞ্জুর করা হচ্ছে না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে।

    বিজ্ঞপ্তি জারি তেল সংস্থাগুলির

    ইতিমধ্যে এই বিষয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে তেল সংস্থাগুলি। তেল সংস্থাগুলির তরফে বলা হয়েছে, আগামী কিছুদিন নতুন করে এলপিজি-র ডবল সিলিন্ডারের সংযোগ না দেওয়া হবে না। ডিস্ট্রিবিউটারদের এ বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সমগ্র পরিস্থিতির ওপর সরকার কড়া নজর রাখছে বলে খবে। ইতিমধ্যেই নয়া দিল্লির তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে আপাতত তেলের সংকট হবে না কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়ে রাখতে চাইছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রক।

    আরও পড়ুনঃ মার্চে টানা ৬ দিনের লম্বা ছুটি, কবে থেকে কবে? দেখুন নবান্নের হলিডে লিস্ট

    সূত্রের খবর, অপরিশোধিত তেল বা এলএনজির তুলনায় এলপিজির উৎস সীমিত এবং এর মজুতও তুলনামূলকভাবে কম। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে দেশে প্রায় ৩০ দিন অর্থাৎ এক মাসের মতো এলপিজি মজুত রয়েছে। আগামী দিনে কী হবে এখন তা নিয়ে অনেকের মধ্যে আশঙ্কা তৈরী হয়েছে।

  • ২৫ দিনের তেল মজুত, ভারতে বাড়বে গ্যাস থেকে পেট্রোল-ডিজেলের দাম? মিলল উত্তর

    ২৫ দিনের তেল মজুত, ভারতে বাড়বে গ্যাস থেকে পেট্রোল-ডিজেলের দাম? মিলল উত্তর

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমশ বাড়ছে ইরান এবং ইজরায়েলের সংঘাত। তবে এই আবহে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম (Crude Oil Price) দিনের পর দিন ঊর্ধ্বগতিতে ঠেকছে। গত দুইদিনে প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে ব্যারেল পিছু দাম। এমনকি এখন পৌঁছেছে ৮২ মার্কিন ডলারে। আর পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে এই দাম ১০০ ডলার পর্যন্ত ছুঁতে পারে, এমনটাই মত বিশেষজ্ঞদের। তবে তেলের দাম বাড়ার প্রভাব শুধুমাত্র পেট্রোল-ডিজেলেই যে সীমাবদ্ধ থাকবে এমনটা নয়। তার ঢেউ পড়তে পারে মধ্যবিত্তর হেঁশেলেও। এমনটাই দাবি বিশেষজ্ঞদের।

    জ্বালানির দাম ঠিক কী হবে?

    প্রসঙ্গত, ভারত তাদের জ্বালানির সবথেকে বড় অংশ আমদানি করে থাকে। এমনকি তার সিংহভাগ মধ্যপ্রাচ্য থেকেই। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে দেশের অর্থনীতিতে। সরকারি সূত্রের মতে ভারতের কাছে এখন ২৫ দিনের তেল মজুত আছে। সরকার সূত্র এও জানিয়েছে যে, এই মুহূর্তে ভারতে পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়ছে না। তবে কোনও কারণে দাম বাড়লে পরিবহন খরচ বাড়বে এবং ট্র্যাক ও পণ্যবাহী গাড়ির ভাড়া বাড়বে। শুধু তাই নয়, চাল-ডাল, সবজি, দুধের মতো নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম অনেকটাই চড়তে পারে বলে জানা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এলপিজি সিলিন্ডারের দামও বাড়ার সম্ভাবনা একেবারে উঠিয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে এটাও বলে রাখি যে, ভারত কোনও একটি দেশ থেকে অপরিশোধিত তেল, LPG আমদানি করে না। তাই বিকল্প উৎসের সন্ধানে কাজ চলছে বলে খবর। কিন্তু গ্যাসের দাম বাড়লে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের পকেটে যে চাপ পড়বে তাও বলার অপেক্ষা রাখে না।

    এদিকে সংঘাতের জেরে পশ্চিম এশিয়ার একাধিক দেশ তাদের আকাশ সীমা বন্ধ করে দিয়েছে। যার ফলে ভারত থেকে ইউরোপ বা আমেরিকায় যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রচলিত রুটে বাধা তৈরি হচ্ছে। এমনকি বিকল্প দীর্ঘ রুট ব্যবহার করতে হচ্ছে বিমান সংস্থাগুলিকে। যার ফলে জ্বালানির খরচ বাড়ছে এবং ভ্রমণের সময়ও বাড়ছে। আর সবথেকে বড় ব্যাপার, এর কারণে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের টিকিটের দামও অনেকটাই বেড়েছে।

    আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের মাঝে তেলের সঙ্কট এড়াতে বিরাট প্ল্যান ভারতের!

    সোনা, রুপোতে বাড়ছে বিনিয়োগ

    অন্যদিকে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় সাধারণত সোনা এবং রুপোর চাহিদা বাড়ে। কারণ, সোনাকেই সবাই নিরাপদ বিনিয়োগের বিকল্প হিসেবে ভেবে থাকে। এর ফলে গয়নার বাজারে দাম অনেকটাই ঊর্ধ্বগতিতে ঠেকতে পারে বলে মত প্রকাশ করছে ওয়াকিবহাল মহল।