Tag: Electoral roll

  • ২৮ লক্ষ ভোটারের ভাগ্য নির্ধারণ আজ, প্রকাশিত হচ্ছে প্রথম তালিকা, কীভাবে দেখবেন নাম?

    ২৮ লক্ষ ভোটারের ভাগ্য নির্ধারণ আজ, প্রকাশিত হচ্ছে প্রথম তালিকা, কীভাবে দেখবেন নাম?

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল রাজ্যে দুই দফায় হতে চলেছে ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026)। ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে রাজনৈতিক দলগুলির প্রার্থী তালিকা। ভোট প্রচার পর্বও শুরু হয়েছে। এমতাবস্থায় আজ বিকেলেই প্রকাশিত হতে চলেছে SIR-র সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা (First Supplementary Voters List)। যারা এতদিন বিচারাধীন তালিকায় ছিলেন, তাঁদের মধ্যে নিষ্পত্তি হওয়াদের নাম ওই অতিরিক্ত তালিকায় থাকবে। আশঙ্কা করা হচ্ছে প্রথম পর্যায়ে সেই সংখ্যাটা ২৮ লক্ষের আশপাশে থাকবে।

    প্রকাশিত হবে প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকা

    রিপোর্ট মোতাবেক, রবিবার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল জানিয়েছেন, আজ পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা প্রক্রিয়ায় ‘বিচারাধীন’ তালিকাভুক্ত ভোটারদের প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশিত হতে চলেছে। আশা করা যাচ্ছে বিকেলেই ‘বিচারাধীন’ তালিকায় থাকা ভোটারদের প্রথম অতিরিক্ত তালিকা। জানা গিয়েছে তালিকাটি রাজ্যজুড়ে বুথ, জেলাশাসকের দফতর, মহকুমা শাসকের দফতর, বিডিওয়ের দফতরে টাঙানো হবে। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজ্যে ২৮ লক্ষ ৬ হাজার বিবেচনাধীন ভোটারের তথ্যের নিষ্পত্তি হয়েছে। আগামী সপ্তাহে শুক্রবার দ্বিতীয় তালিকা প্রকাশ হতে পারে বলেও জানা গিয়েছে।

    চিন্তিত ভোটারেরা

    সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে বিচারাধীন ভোটারদের জন্য গঠিত হয়েছে ট্রাইবুনাল। রাজ্যের ২৩টি জেলার জন্য ১৯ জন প্রাক্তন বিচারপতিকে নিয়ে ১৯টি ট্রাইবুনাল গঠন করা হয়েছে। ৭০০ জন বিচারককে দিয়ে নথি যাচাইয়ের কাজ করা হয়েছিল। অবশেষে আজ প্রথম তালিকা প্রকাশিত হবে। তাই স্বাভাবিকভাবেই চিন্তিত ভোটাররা, কারণ এই তালিকার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে তাঁদের ভোটাধিকারের ভবিষ্যৎ। কমিশনের মাধ্যমে জানা গিয়েছে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের মতোই এই তালিকা প্রকাশিত হবে। অনলাইনে কমিশনের ওয়েবসাইটে গিয়ে এই অতিরিক্ত তালিকা দেখা যাবে। কীভাবে ভোটার দেখতে পারবেন নীচে পদ্ধতি জানিয়ে দেওয়া হল

    অনলাইনে কীভাবে দেখবেন নাম?

    প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় নাম রয়েছে কিনা তা জানার জন্য প্রথমে eci.voters.gov.in টাইপ করতে হবে। এরপর কমিশনের নির্দিষ্ট ওই সাইট খুললে তাতে মোবাইল নম্বর এবং ওটিপি দিয়ে লগইন করে নিতে হবে। এরপর এপিক নম্বর দিয়ে সার্চ করে নিতে হবে নিজের নাম। পাশাপাশি মোবাইলে ECI নেটে গিয়ে পরপর পদ্ধতি অনুযায়ী তালিকা দেখতে পারবেন ভোটাররা। এছাড়াও অফলাইনে বুথ, বিডিও, এসডিও অফিস, ডিএম অফিসে অতিরিক্ত তালিকা ঝোলানো হবে। সেক্ষেত্রে তালিকায় যাদের নাম বাদ পড়বে, তাঁরা ট্রাইবুনালে আবেদন করে নাম তুলতে পারবেন। অন্যদিকে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশের জন্য নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে রাজ্যজুড়ে।

    আরও পড়ুন: ভবানীপুর নিয়ে কর্মীদের কড়া নির্দেশ অভিষেকের, লোডশেডিং প্রসঙ্গ টানলেন মমতা

    সংবেদনশীল অঞ্চলে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা

    গতকাল অর্থাৎ রবিবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত বৈঠক হয়েছিল CEO দফতরে। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক কমিশনের এক আধিকারিক বলেছেন যে ‘প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশের প্রক্রিয়া যাতে শান্তিপূর্ণ হয়, সেজন্য যাবতীয় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করছি আমরা। সংবেদনশীল অঞ্চলে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা থাকবে। বাড়তি নজরদারিও চলবে।’ শনিবার রাজ্য সচিবালয় নবান্ন থেকে স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতর একটি নির্দেশিকা জারি করেছে। বলা হয়েছে, “সম্ভাব্য জমায়েতের স্থানগুলিতে ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্য উপযুক্ত সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক। স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে কঠোর নজরদারি চালানো হোক। আইন-শৃঙ্খলা যাতে বজায় থাকে তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হোক।”

  • ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ গেলে ট্রাইবুনালে করা যাবে আবেদন, জানুন প্রসেস

    ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ গেলে ট্রাইবুনালে করা যাবে আবেদন, জানুন প্রসেস

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: দীর্ঘ টালবাহানার মধ্য দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে শেষ হয়েছে এসআইআর বা ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া (SIR in Bengal)। ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে প্রায় ৬০ লক্ষের বেশি নাম বিচারাধীন অবস্থায় বা আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন অবস্থায় রয়েছে। এমনকি সেই সমস্ত ভোটারদের নথি যাচাই করছে জুডিশিয়াল অফিসাররা। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, এই নথি যাচাইয়ের পরেও একটি বৃহৎ অংশের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে কী উপায়?

    না, চিন্তার কারণ নেই। তালিকা থেকে নাম বাদ গেলে আবারও ট্রাইবুনালে (SIR Tribunal) আবেদন করা যাবে। এমনকি অনলাইন, অফলাইন দু’ভাবে আবেদন করতে পারবেন। আর সেখানে আবেদন খতিয়ে থেকে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই কমিশনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, রাজ্যে ১৯টি ট্রাইবুনাল তৈরি হয়েছে। আর সেখানেই ভোটারদের সমস্ত অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হবে। কিন্তু এই ট্রাইবুনালের জন্য কীভাবে আবেদন করবেন তা জানতে হলে পড়ুন এই প্রতিবেদনটি।

    কীভাবে আবেদন করবেন ট্রাইবুনালে?

    যেমনটা জানালাম, ট্রাইবুনালে অনলাইন এবং অফলাইন দু’ভাবেই আবেদন করা যাবে। অনলাইনে আবেদন করতে গেলে প্রথমে কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট https://ecinet.eci.gov.in এ গিয়ে আপিল করতে হবে। এছাড়া ইসাইনেট অ্যাপ ব্যবহার করতে পারেন। আর যদি অফলাইনে আবেদন করতে চান, সেক্ষেত্রে ডিএম, এসডিও বা এডিএম অফিসে গিয়ে সমস্ত ডকুমেন্ট জমা দিয়ে আবেদন করতে হবে। তারপর সংশ্লিষ্ট অফিস থেকেই আপনার নথি ডিজিটালাইজ করে পোর্টালে আপলোড করে দেওয়া হবে। তারপর আপনি ট্রাইবুনালে গিয়ে মামলা নিষ্পত্তি করতে পারবেন।

    এদিকে বেশ কয়েকটি রিপোর্ট অনুযায়ী খবর, কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এই ট্রাইবুনাল গঠন করেছেন। রাজ্যজুড়ে মোট ১৯টি ট্রাইবুনাল গঠিত হয়েছে। যেমন—

    • কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানমের তরফ থেকে উত্তর ২৪ পরগনা ও কলকাতা ট্রাইবুনাল।
    • প্রাক্তন বিচারপতি দীপক সাহা রায়ের তত্ত্বাবধানে দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে ট্রাইবুনাল।
    • প্রাক্তন বিচারপতি তপন সেনের তত্ত্বাবধানে পূর্ব মেদিনীপুরের ট্রাইবুনাল।
    • প্রাক্তন বিচারপতি প্রণব কুমারকে দেওয়া হয়েছে কোচবিহার ট্রাইবুনালের দায়িত্ব।
    • প্রাক্তন বিচারপতি রঞ্জিত কুমার বাগকে দেওয়া হয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা ট্রাইবুনালের দায়িত্ব।

    আরও পড়ুন: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের DA বিজ্ঞপ্তিতেও ভিজল না চিঁড়ে, এবার কলকাতা হাইকোর্টে নতুন মামলা

    এছাড়াও কলকাতা হাইকোর্টের বিভিন্ন বিচারপতিরা ট্রাইবুনালের দায়িত্বে রয়েছেন। যেমন প্রাক্তন বিচারপতি রঘুনাথ রায়, অশোক কুমার, মীরা দারা, দেবীপ্রসাদ দে প্রমুখ। আর প্রত্যেকটি জেলার জন্যই আলাদা আলাদা বিচারপতিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁরাই এই ট্রাইবুনালে মামলা নিষ্পত্তি করবেন। এমনকি এ বিষয়ে কমিশনার তরফ থেকে অফিসিয়াল নোটিশ জারি করে দেওয়া হয়েছে।