Tag: Election Commission Of India

  • ২৮ লক্ষ ভোটারের ভাগ্য নির্ধারণ আজ, প্রকাশিত হচ্ছে প্রথম তালিকা, কীভাবে দেখবেন নাম?

    ২৮ লক্ষ ভোটারের ভাগ্য নির্ধারণ আজ, প্রকাশিত হচ্ছে প্রথম তালিকা, কীভাবে দেখবেন নাম?

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল রাজ্যে দুই দফায় হতে চলেছে ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026)। ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে রাজনৈতিক দলগুলির প্রার্থী তালিকা। ভোট প্রচার পর্বও শুরু হয়েছে। এমতাবস্থায় আজ বিকেলেই প্রকাশিত হতে চলেছে SIR-র সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা (First Supplementary Voters List)। যারা এতদিন বিচারাধীন তালিকায় ছিলেন, তাঁদের মধ্যে নিষ্পত্তি হওয়াদের নাম ওই অতিরিক্ত তালিকায় থাকবে। আশঙ্কা করা হচ্ছে প্রথম পর্যায়ে সেই সংখ্যাটা ২৮ লক্ষের আশপাশে থাকবে।

    প্রকাশিত হবে প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকা

    রিপোর্ট মোতাবেক, রবিবার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল জানিয়েছেন, আজ পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা প্রক্রিয়ায় ‘বিচারাধীন’ তালিকাভুক্ত ভোটারদের প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশিত হতে চলেছে। আশা করা যাচ্ছে বিকেলেই ‘বিচারাধীন’ তালিকায় থাকা ভোটারদের প্রথম অতিরিক্ত তালিকা। জানা গিয়েছে তালিকাটি রাজ্যজুড়ে বুথ, জেলাশাসকের দফতর, মহকুমা শাসকের দফতর, বিডিওয়ের দফতরে টাঙানো হবে। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজ্যে ২৮ লক্ষ ৬ হাজার বিবেচনাধীন ভোটারের তথ্যের নিষ্পত্তি হয়েছে। আগামী সপ্তাহে শুক্রবার দ্বিতীয় তালিকা প্রকাশ হতে পারে বলেও জানা গিয়েছে।

    চিন্তিত ভোটারেরা

    সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে বিচারাধীন ভোটারদের জন্য গঠিত হয়েছে ট্রাইবুনাল। রাজ্যের ২৩টি জেলার জন্য ১৯ জন প্রাক্তন বিচারপতিকে নিয়ে ১৯টি ট্রাইবুনাল গঠন করা হয়েছে। ৭০০ জন বিচারককে দিয়ে নথি যাচাইয়ের কাজ করা হয়েছিল। অবশেষে আজ প্রথম তালিকা প্রকাশিত হবে। তাই স্বাভাবিকভাবেই চিন্তিত ভোটাররা, কারণ এই তালিকার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে তাঁদের ভোটাধিকারের ভবিষ্যৎ। কমিশনের মাধ্যমে জানা গিয়েছে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের মতোই এই তালিকা প্রকাশিত হবে। অনলাইনে কমিশনের ওয়েবসাইটে গিয়ে এই অতিরিক্ত তালিকা দেখা যাবে। কীভাবে ভোটার দেখতে পারবেন নীচে পদ্ধতি জানিয়ে দেওয়া হল

    অনলাইনে কীভাবে দেখবেন নাম?

    প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় নাম রয়েছে কিনা তা জানার জন্য প্রথমে eci.voters.gov.in টাইপ করতে হবে। এরপর কমিশনের নির্দিষ্ট ওই সাইট খুললে তাতে মোবাইল নম্বর এবং ওটিপি দিয়ে লগইন করে নিতে হবে। এরপর এপিক নম্বর দিয়ে সার্চ করে নিতে হবে নিজের নাম। পাশাপাশি মোবাইলে ECI নেটে গিয়ে পরপর পদ্ধতি অনুযায়ী তালিকা দেখতে পারবেন ভোটাররা। এছাড়াও অফলাইনে বুথ, বিডিও, এসডিও অফিস, ডিএম অফিসে অতিরিক্ত তালিকা ঝোলানো হবে। সেক্ষেত্রে তালিকায় যাদের নাম বাদ পড়বে, তাঁরা ট্রাইবুনালে আবেদন করে নাম তুলতে পারবেন। অন্যদিকে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশের জন্য নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে রাজ্যজুড়ে।

    আরও পড়ুন: ভবানীপুর নিয়ে কর্মীদের কড়া নির্দেশ অভিষেকের, লোডশেডিং প্রসঙ্গ টানলেন মমতা

    সংবেদনশীল অঞ্চলে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা

    গতকাল অর্থাৎ রবিবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত বৈঠক হয়েছিল CEO দফতরে। নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক কমিশনের এক আধিকারিক বলেছেন যে ‘প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশের প্রক্রিয়া যাতে শান্তিপূর্ণ হয়, সেজন্য যাবতীয় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করছি আমরা। সংবেদনশীল অঞ্চলে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা থাকবে। বাড়তি নজরদারিও চলবে।’ শনিবার রাজ্য সচিবালয় নবান্ন থেকে স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতর একটি নির্দেশিকা জারি করেছে। বলা হয়েছে, “সম্ভাব্য জমায়েতের স্থানগুলিতে ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্য উপযুক্ত সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক। স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে কঠোর নজরদারি চালানো হোক। আইন-শৃঙ্খলা যাতে বজায় থাকে তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হোক।”

  • কমিশনের দুই কর্মীকে গাড়ি থেকে নামিয়ে মারধর তৃণমূলের! দুর্গাপুরে চাঞ্চল্য

    কমিশনের দুই কর্মীকে গাড়ি থেকে নামিয়ে মারধর তৃণমূলের! দুর্গাপুরে চাঞ্চল্য

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বাংলায় বেজে গিয়েছে ভোটের নির্ঘণ্ট (West Bengal Election 2026)। তবে ভোট ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যের নির্বাচন বিধি কড়া ভাবে কার্যকর করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে কমিশন। আর সেই বিধি মেনেই দুর্গাপুরে (Durgapur) সরকারি দেওয়াল থেকে প্রার্থীর নাম মুছতে গিয়ে চরম হেনস্থার শিকার হয়েছেন খোদ নির্বাচন কমিশনারের দুই কর্মী। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। এমনকি অভিযোগের তির উঠছে স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের দিকেই। জানুন ব্যাপারটা।

    ঘটনাটি কী?

    প্রসঙ্গত জানিয়ে রাখি, আগামীকাল অর্থাৎ সোমবার ভোটার তালিকার সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট প্রকাশের কথা। আর তার আগে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য জেলা শাসক ও পুলিশ সুপারদের কড়া নির্দেশিকা দিয়েছে কমিশন। রিপোর্ট অনুযায়ী, এদিন দুর্গাপুর মহকুমা শাসকের দফতর থেকে নিযুক্ত দুই কর্মী এলাকা পরিদর্শন করতে বেরিয়েছিলেন। আর কলোনিপাড়া পোস্ট অফিসের দেওয়ালে প্রার্থীদের নাম লিখে প্রচার চালানো হচ্ছিল বলে অভিযোগ। তবে সেটা নির্বাচন বিধির পরিপন্থী বলে দাবি করা হয় নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে। আর সরকারের নির্দেশ মেনেই সেই দেওয়াল মুছতে গেলে বাঁধে বিপত্তি।

    এ বিষয়ে আক্রান্ত এক কর্মী জানিয়েছেন যে, তারা ডিউটি করছিলেন এবং এসডিও দফতরের নির্দেশে দেয়াল মুছতে গিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য, কাজ শেষ করে আমরা গাড়িতে উঠে পড়েছিলাম। তখনই একদল লোক এসে আমাদের গাড়ি থেকে নামিয়ে আমাদেরকে মারধর শুরু করে। আমরা বারবার পরিচয়পত্র দেখিয়ে সরকারি কর্মচারী হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা আমাদের কোনও কথাই শুনতে চায়নি। আক্রান্তদের দাবি, হামলাকারীরা স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত।

    আরও পড়ুন: দর্শক ছাড়াই হবে খেলা, স্টেডিয়াম মাত্র দুটো! তেল সংকটে বড় সিদ্ধান্ত PSL নিয়ে

    এদিকে ভোটের আগে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে রাজনৈতিক পারদ আরও চড়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ঘটনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সরব হয়েছে বিরোধী শিবির। কিন্তু মারধরের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে তৃণমূলের নেতারা। জোড়াফুল শিবিরের পাল্টা দাবি, মারধরের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। বিজেপির লোকজন বহিরাগতদেরকে নিয়ে এসে জয় শ্রী রাম শ্লোগান দিচ্ছিল এবং নিজেরাই উস্কানিমূলক কাজ করেছে।

  • নথি কী কী লাগবে, মোবাইল সহ ভোটের একগুচ্ছ নিয়ম চালু করল নির্বাচন কমিশন

    নথি কী কী লাগবে, মোবাইল সহ ভোটের একগুচ্ছ নিয়ম চালু করল নির্বাচন কমিশন

    বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: ক্রমশ এগিয়ে আসছে বাংলার বিধানসভা নির্বাচন। নির্বাচন কমিশনের তরফে ইতিমধ্যেই রাজ্যে দুই দফায় নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। এবার ভোটারদের স্বার্থে বড় পদক্ষেপ করল কমিশন। জানা যাচ্ছে, ভোটারদের যাতে সমস্যা না হয় সেজন্যেই ভোট চলাকালীন বুথের বাইরে চার ধরনের পোস্টার লাগানো থাকবে। সেখানেই থাকবে প্রার্থীদের নাম সহ অন্যান্য তথ্য। একই সাথে বুথের কাছেই থাকবে ভোটার সহায়তা কেন্দ্র। এখানেই শেষ নয়, ভোট কেন্দ্রের 100 মিটারের মধ্যে ফোন বন্ধ করার মতো বেশ কিছু নতুন নিয়ম চালু করেছে নির্বাচন কমিশন।

    ভোটের নতুন নিয়ম চালু করল নির্বাচন কমিশন

    রবিবার সকাল সকাল একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে ভোট চলাকালীন একাধিক নিয়ম-কানুনের কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।। বাংলা ছাড়াও অসম, তামিলনাড়ু কেরলের মতো 5 রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বিধানসভা নির্বাচনের মোট 2 লাখ 18 হাজার 807টি বুথে ভোটারদের ন্যূনতম সমস্ত পরিষেবা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে নির্বাচন কমিশনের তরফে।।

    নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোট কেন্দ্রের অন্তত 100 মিটারে মধ্যে কোনও মোবাইল ফোন সক্রিয় অবস্থায় থাকবে না। হয় ফোন সুইচ অফ করে রাখতে হবে অথবা ফোন থাকবে সাইলেন্ট অবস্থায়। একই সাথে ভোট দিতে যাওয়ার সময় ভোটাররা নিজেদের ফোন জমা করে তবেই ভোট দিতে পারবেন। ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রত্যেকটি বুথে ন্যূনতম পরিষেবা হিসেবে পানীয় জল, পর্যাপ্ত জল সহ শৌচাগার, ভোট কেন্দ্রে পর্যাপ্ত আলো সহ এমন একাধিক ব্যবস্থা থাকতে হবে।

     

    একই সাথে, যাঁরা ভোট দিতে আসছেন তাঁদের যাতে রোদের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকতে না হয় সেজন্যেই ছায়ার আশ্রয় বা শেডের বন্দোবস্ত করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি ভোটারদের জন্য আলাদা আলাদা ভোটকক্ষ, বিশেষভাবে সক্ষমদের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা থাকতে হবে বুথে। এছাড়াও নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, বুথের সামনে চার ধরনের যে পোস্টার লাগানো হবে সেই পোস্টারে প্রার্থীর নাম পরিচয় লেখার পাশাপাশি ওই পোস্টারে ভোটের সময় কী কী করা যাবে এবং কোন কাজ করা যাবে না, ভোটার কার্ড ছাড়া কোন কোন নথী দেখিয়ে ভোট দিতে হবে, ভোট কেন্দ্রে কোন কোন জিনিস গ্রহণযোগ্য নয় সে সবই লেখা থাকবে।

    অবশ্যই পড়ুন: পিছিয়ে গেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্তরবঙ্গের ভোট প্রচার, কারণ কী?

    শোনা যাচ্ছে, প্রত্যেক বুথের কাছেই ভোটার সহায়তা কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। সেখানেই থাকবেন BLO রা। ভোটারদের বুথ চিনিয়ে নিয়ে আসা থেকে শুরু করে লাইনে দাঁড় করানো এমনকি অন্যান্য সব রকম সাহায্য করবেন তাঁরা। কোনও বৃদ্ধ যদি ভোট দিতে গিয়ে সমস্যায় পড়েন তবে তাঁকে সবটা বুঝিয়ে ভোট পক্ষ পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়াও BLO দের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে বলেই জানানো হয়েছে। এছাড়াও ভোট কেন্দ্রের বাইরে এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে যাতে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয় সেদিকে নজর রাখবে কেন্দ্রীয় বাহিনী।

  • ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ গেলে ট্রাইবুনালে করা যাবে আবেদন, জানুন প্রসেস

    ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ গেলে ট্রাইবুনালে করা যাবে আবেদন, জানুন প্রসেস

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: দীর্ঘ টালবাহানার মধ্য দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে শেষ হয়েছে এসআইআর বা ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া (SIR in Bengal)। ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে প্রায় ৬০ লক্ষের বেশি নাম বিচারাধীন অবস্থায় বা আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন অবস্থায় রয়েছে। এমনকি সেই সমস্ত ভোটারদের নথি যাচাই করছে জুডিশিয়াল অফিসাররা। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, এই নথি যাচাইয়ের পরেও একটি বৃহৎ অংশের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে কী উপায়?

    না, চিন্তার কারণ নেই। তালিকা থেকে নাম বাদ গেলে আবারও ট্রাইবুনালে (SIR Tribunal) আবেদন করা যাবে। এমনকি অনলাইন, অফলাইন দু’ভাবে আবেদন করতে পারবেন। আর সেখানে আবেদন খতিয়ে থেকে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই কমিশনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, রাজ্যে ১৯টি ট্রাইবুনাল তৈরি হয়েছে। আর সেখানেই ভোটারদের সমস্ত অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হবে। কিন্তু এই ট্রাইবুনালের জন্য কীভাবে আবেদন করবেন তা জানতে হলে পড়ুন এই প্রতিবেদনটি।

    কীভাবে আবেদন করবেন ট্রাইবুনালে?

    যেমনটা জানালাম, ট্রাইবুনালে অনলাইন এবং অফলাইন দু’ভাবেই আবেদন করা যাবে। অনলাইনে আবেদন করতে গেলে প্রথমে কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট https://ecinet.eci.gov.in এ গিয়ে আপিল করতে হবে। এছাড়া ইসাইনেট অ্যাপ ব্যবহার করতে পারেন। আর যদি অফলাইনে আবেদন করতে চান, সেক্ষেত্রে ডিএম, এসডিও বা এডিএম অফিসে গিয়ে সমস্ত ডকুমেন্ট জমা দিয়ে আবেদন করতে হবে। তারপর সংশ্লিষ্ট অফিস থেকেই আপনার নথি ডিজিটালাইজ করে পোর্টালে আপলোড করে দেওয়া হবে। তারপর আপনি ট্রাইবুনালে গিয়ে মামলা নিষ্পত্তি করতে পারবেন।

    এদিকে বেশ কয়েকটি রিপোর্ট অনুযায়ী খবর, কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এই ট্রাইবুনাল গঠন করেছেন। রাজ্যজুড়ে মোট ১৯টি ট্রাইবুনাল গঠিত হয়েছে। যেমন—

    • কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানমের তরফ থেকে উত্তর ২৪ পরগনা ও কলকাতা ট্রাইবুনাল।
    • প্রাক্তন বিচারপতি দীপক সাহা রায়ের তত্ত্বাবধানে দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে ট্রাইবুনাল।
    • প্রাক্তন বিচারপতি তপন সেনের তত্ত্বাবধানে পূর্ব মেদিনীপুরের ট্রাইবুনাল।
    • প্রাক্তন বিচারপতি প্রণব কুমারকে দেওয়া হয়েছে কোচবিহার ট্রাইবুনালের দায়িত্ব।
    • প্রাক্তন বিচারপতি রঞ্জিত কুমার বাগকে দেওয়া হয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা ট্রাইবুনালের দায়িত্ব।

    আরও পড়ুন: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের DA বিজ্ঞপ্তিতেও ভিজল না চিঁড়ে, এবার কলকাতা হাইকোর্টে নতুন মামলা

    এছাড়াও কলকাতা হাইকোর্টের বিভিন্ন বিচারপতিরা ট্রাইবুনালের দায়িত্বে রয়েছেন। যেমন প্রাক্তন বিচারপতি রঘুনাথ রায়, অশোক কুমার, মীরা দারা, দেবীপ্রসাদ দে প্রমুখ। আর প্রত্যেকটি জেলার জন্যই আলাদা আলাদা বিচারপতিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁরাই এই ট্রাইবুনালে মামলা নিষ্পত্তি করবেন। এমনকি এ বিষয়ে কমিশনার তরফ থেকে অফিসিয়াল নোটিশ জারি করে দেওয়া হয়েছে।

  • জাহান্নামে যাবে! রেড রোডে ঈদের মঞ্চে মোদিকে ‘অনুপ্রবেশকারী’ তকমা মমতার

    জাহান্নামে যাবে! রেড রোডে ঈদের মঞ্চে মোদিকে ‘অনুপ্রবেশকারী’ তকমা মমতার

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: দোরগোড়ায় ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026)। তাইতো ভোটের প্রচারে এখনই ময়দানে নেমেছেন প্রার্থীরা। জনসংযোগ বৃদ্ধিতে যাতে কোনো ত্রুটি না থাকে নজর রাখছে সকলে। এই অবস্থায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) রেড রোডে ইদের পবিত্র সকালে সম্প্রীতি বার্তার পাশাপাশি রাজনৈতিক বার্তা দিলেন। শুধু তাই নয়, এসআইআর থেকে ধর্মীয় মেরুকরণ নিয়ে কমিশন এবং বিজেপি সরকারকে সরাসরি আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী।

    রেড রোডে মমতা

    রিপোর্ট মোতাবেক আজ অর্থাৎ শনিবার সকালে প্রতি বছরের মতো ঈদের অনুষ্ঠান উপলক্ষে রেড রোডে উপস্থিত হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। আর সেখান থেকেই সকলকে ঈদের শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরাসরি সুর চড়ালেন মমতা। সম্প্রীতির আবহে মঞ্চে দাঁড়িয়ে মমতা জানান যে, “SIR-এ বহু মানুষের নাম কাটা হয়েছে, অনেক নাম এখনও বিচারাধীন। আপনাদের জন্য আমার লড়াই চলবে। বাংলার সব মানুষের সঙ্গে আছি। আমি সব ধর্মের মানুষের পাশে আছি। আমাদের অধিকার কেউ কেড়ে নিতে পারবে না।”

    বিজেপি-কমিশনকে হুঁশিয়ারি মমতার

    রাজ্যে SIR-এর চূড়ান্ত তালিকায় লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম বাদে বিজেপির কারসাজিকে তুলে ধরেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “মোদীকে আমাদের অধিকার নিতে দেব না। নির্বাচন কমিশন কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের হয়ে কাজ করছে।” এরপরেই বিজেপিকে ‘চোর-ডাকাত-গুণ্ডাদের দল’ বলে কটাক্ষ করে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, “যারা বাংলাকে টার্গেট করছে, তারা জাহান্নামে যাক।” এদিন রেড রোডের মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে নিশানা তৃণমূলনেত্রী। মমতার হুঙ্কার, ‘আপনি সবচেয়ে বড় অনুপ্রবেশকারী। উনি দুবাই গিয়ে হাত মেলান তখন প্রভাব পড়ে না ওরা হিন্দু না মুসলিম। ভারতে এসেই সব ভুলে যান।”

    আরও পড়ুন: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের DA বিজ্ঞপ্তিতেও ভিজল না চিঁড়ে, এবার কলকাতা হাইকোর্টে নতুন মামলা

    মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘ভারত সরকার, অমিত শাহর অফিস, নরেন্দ্র মোদির অফিস ফোন করে করে যাকে পারছে হুমকি দিচ্ছে। আর বলছে এখানে ২০ লক্ষ জওয়ান পাঠাও। তারা নাকি ভোটের ভিতরে গিয়ে ছাপ্পা দেবে। পরিকল্পনা অনেক। আবার যাতে বাংলার পুলিশ ধরতে না পারে, সেজন্যই কতগুলো পেটোয়া লোককে আগমন করেছে। কুচো থেকে পোনা, রুই থেকে পুঁই সব বসে থাকবে। তারা তো বাংলার সব খেয়ে নেবে।’ বিধানসভা ভোটের আবহে ঈদের দিনে মুখ্যমন্ত্রীর এই হুংকার স্বাভাবিকভাবে বড় প্রভাব পড়বে বলে আশা করছে রাজনৈতিক মহল।

  • আলোচনা না করেই IAS-IPS বদলি কমিশনের! হাইকোর্টে মামলা দায়ের কল্যাণের

    আলোচনা না করেই IAS-IPS বদলি কমিশনের! হাইকোর্টে মামলা দায়ের কল্যাণের

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: রাজ্য জুড়ে শুরু হয়েছে ভোটের (West Bengal Election 2026) প্রচার। দিন রাত এক করে প্রার্থীরা জনসংযোগ বৃদ্ধি করতে উঠে পড়ে লেগেছে। এদিকে ভোট ঘোষণার পর থেকে বাংলায় একের পর এক আধিকারিক বদল হয়েই চলেছে। যা নিয়ে বেশ ক্ষুব্ধ প্রশাসন। এমতাবস্থায় বাংলার IAS এবং IPS অফিসারদের অন্য রাজ্যে নির্বাচনের কাজে পাঠানোর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে (Calcutta High Court) মামলা দায়ের করলেন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)। অনুমতি দিলেন প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। সোমবার হবে শুনানি।

    প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের বদলি নিয়ে ক্ষুব্ধ সরকার

    গত রবিবার পশ্চিমবঙ্গ-সহ চারটি রাজ্য এবং একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বিধানসভা নির্বাচনের দিন ঘোষণা করেছে কমিশন ৷ দুই দফায় হবে রাজ্যে হবে নির্বাচন। এদিকে ঘোষণার পরেই ওইদিন রাত থেকেই রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের একে একে পরিবর্তন করতে শুরু করে কমিশন। মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব থেকে শুরু করে পুলিশ ও প্রশাসনের আরও বেশ কয়েকজন কর্তাকেও সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে শোনা যায় তাঁদের কয়েকজনকে অন্য রাজ্যে ভোটের কাছে পাঠানো হয়েছে। এই নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের সঙ্গে কোনও আলোচনা না করেই সিদ্ধান্ত নেওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রশাসন। এবার সেই নিয়ে হাইকোর্টে দ্বারস্থ হলেন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

    কমিশনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের কল্যাণের

    রিপোর্ট মোতাবেক, আজ অর্থাৎ শুক্রবার, রাজ্যের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টের মামলা দায়েরের আবেদন জানান। প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছে। সেখানে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ জানিয়েছেন যে, নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব নির্বাচন করা। কিন্তু প্রশাসনের সমস্ত বিভাগের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের অন্য রাজ্যে স্থানান্তরের অধিকার নির্বাচন কমিশনের নেই। এতে প্রশাসনিক কাজ ব্যাহত হচ্ছে। জানা গিয়েছে, আগামী সোমবার, এই মামলার শুনানি হবে। অন্যদিকে এই একই বিষয় নিয়ে এর আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও দিয়েছেন। কিন্তু মেলেনি কোনো জবাব।

    আরও পড়ুন: সৌদির সঙ্গে মিলিয়ে ঈদ পালন করে ভারতের এই গ্রাম! কারণ জানলে অবাক হবেন আপনিও

    প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার তৃণমূলের প্রার্থী ঘোষণার দিনেও বিজেপি এবং কমিশনকে সাংবাদিক সম্মেলনে সরাসরি আক্রমণ করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ”বাংলাকে ইচ্ছে করে টার্গেট করা হচ্ছে। আপনাদের অনেক পরিকল্পনা, অনেক চক্রান্ত আছে। কিন্তু মনে রাখবেন, এবারেও বাংলার মাটিতে বিজেপির জেতার কোনো সম্ভাবনা নেই। SIR, গ্যাসের লাইনে দাঁড় করিয়ে মানুষকে হেনস্তা করলে কেউ আপনাদের পাশে থাকবে না। এই লড়াইয়ে বাংলা, বাংলার মা-মাটি-মানুষ জিতবে।” বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে রাজ্য ও কমিশনের সংঘাত শুরু থেকেই ছিল৷ এর আগেও নানা ব্যাপারে কমিশনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছে রাজ্য প্রশাসন ৷ একজন দেখার মামলার জল কত দূর এগোয়।

  • সিভিকরা পাবেনা ৬০০ টাকা বোনাস? নবান্নর সিদ্ধান্তের পরই রিপোর্ট চাইল কমিশন

    সিভিকরা পাবেনা ৬০০ টাকা বোনাস? নবান্নর সিদ্ধান্তের পরই রিপোর্ট চাইল কমিশন

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026) যত এগিয়ে আসছে ততই রাজ্য জুড়ে এক চাপা উত্তেজনা ক্রমেই প্রকাশ পাচ্ছে। প্রার্থী তালিকা ঘোষণা থেকে শুরু করে ভোটপ্রচার সব মিলিয়ে যেন উৎসব লেগেছে রাজ্যে। আর এদিকে ভোটের আগে সিভিক ভলান্টিয়ারদের জন্য বড় ঘোষণা করল নবান্ন (Nabanna)। চলতি অর্থবর্ষ থেকেই কার্যকরী হয়ে চলেছে তাঁদের অ্যাড-হক বোনাস। এদিকে রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের আগে সিভিক ভলান্টিয়ারদের বোনাস বৃদ্ধি নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। রিপোর্ট তলব করল নির্বাচন কমিশন (Election Commission Of India)।

    ৬০০ টাকা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বোনাস!

    গত ২৭ ফেব্রুয়ারি অর্থ দফতরের নির্দেশিকার ভিত্তিতে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছিল। সেই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল যে, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ ও কলকাতা পুলিশের অধীনস্থ সিভিক ভলান্টিয়ার এবং ভিলেজ পুলিশ ভলান্টিয়াররা এবার থেকে বছরে ৭ হাজার ৪০০ টাকা করে বোনাস পাবেন। গত অর্থবর্ষে এই বোনাসের পরিমাণ ছিল ৬ হাজার ৮০০ টাকা। অর্থাৎ ৬০০ টাকা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সরকারি নির্দেশে জানানো হয়েছে, রাজ্যপাল এই বোনাস প্রদানের অনুমোদন দিয়েছেন। নির্দিষ্ট খাতে এর ব্যয় বহন করা হবে। এমতাবস্থায় গতকাল নবান্ন জানিয়েছে, রাজ্য পুলিশ ও কলকাতা পুলিশের অধীনে থাকা সিভিক ভলান্টিয়ার ও ওয়েস্ট বেঙ্গল পুলিশের অধীনে থাকা ভিলেজ পুলিশ ভলান্টিয়াররা চলতি অর্থবর্ষে এই বোনাস পাবেন। এবার এই নিয়ে রিপোর্ট তলব করল নির্বাচন কমিশন।

    পুরোহিত ভাতা বৃদ্ধি মমতা সরকারের

    গত রবিবার, নির্বাচনের দিন ঘোষণার কিছু আগেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুরোহিত এবং মোয়াজ্জিনদের ভাতা বাড়ানোর ঘোষণা করেছিলেন। ১৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০০০ টাকা করা হয় পুরোহিত ও মোয়াজ্জিনদের ভাতা। শুধু তাই নয়, ওই ঘোষণার আধ ঘণ্টার মধ্যে বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দেওয়ার কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসনিক মহলের মতে, নির্বাচনের ঠিক আগে এই ঘোষণা তাৎপর্যপূর্ণ মনে হলেও রাজনৈতিক মহলে এই ঘোষণা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, নির্বাচনের আগে সিভিক ভলান্টিয়ারদের খুশি করতেই শাসকদলের এই ধরনের পদক্ষেপ।

    আরও পড়ুন: এই কারণেই পানিহাটিতে অভয়ার মায়ের নাম ঘোষণা করতে পারল না বিজেপি?

    অন্যদিকে ভোটের আগেই যাতে বেকার যুবকদের হাতে ‘বাংলার যুব সাথী’ প্রকল্পে দেড় হাজার টাকা পৌঁছে দেওয়া যায়, তার জন্য সময় এগিয়ে আনেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অনেকেরই দাবি, সামনে যেহেতু বিধানসভা ভোট তাই ‘বেকার ভাতা’ এগিয়ে আনা হল। সেক্ষেত্রে শাসকদলের প্রতি ‘ইতিবাচক মনোভাব’ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এমতাবস্থায় ভোটের মুখে সিভিক ভলান্টিয়ারদের অ্যাড-হক বোনাস নিয়ে এবার নির্বাচন কমিশন রিপোর্ট চাইল রাজ্য সরকারের কাছে। সব মিলিয়ে, নির্বাচন ঘোষণার আবহে এই বোনাস ঘোষণাকে ঘিরে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক দুই ক্ষেত্রেই চর্চা তুঙ্গে।

  • বাংলায় ‘অঘোষিত জরুরি অবস্থা’? কমিশনের বিরুদ্ধে এবার গর্জে উঠলেন মমতা

    বাংলায় ‘অঘোষিত জরুরি অবস্থা’? কমিশনের বিরুদ্ধে এবার গর্জে উঠলেন মমতা

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: দোরগোড়ায় এসে গিয়েছে ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026), হাতে বাকি আর মাত্র কয়েকটা দিন। আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল দুই দফায় রাজ্যে হবে বিধানসভা নির্বাচন। ইতিমধ্যেই বিজেপি এবং CPIM প্রথম দফার প্রার্থী তালিকা প্রকাশ্যে এনেছে, অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসও পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করেছে। তাই এখন তুমুল ভোট প্রচার শুরু হয়েছে রাজনীতিবিদদের। এই অবস্থায় ফের নির্বাচন কমিশনারকে নিশানা করল তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। অঘোষিত জরুরি অবস্থা নিয়ে গর্জে উঠলেন তিনি।

    কমিশনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মমতা

    রিপোর্ট মোতাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ, নিজের এক্স হ্যান্ডেলে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি পোস্টে লেখেন, “নির্বাচন কমিশন যেভাবে বাংলাকে আলাদাভাবে টার্গেট করে একের পর এক নিশানা করেছে, তা শুধু নজিরবিহীনই নয় বরং গভীর উদ্বেগের। নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারির আগেই মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি-সহ প্রায় ৫০ জনেরও বেশি উচ্চপদস্থ আধিকারিককে তাঁদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও এই তালিকায় রয়েছেন একাধিক এডিজি, আইজি, ডিআইজি এবং জেলাশাসকরা। তাই, এটি কোনও সাধারণ প্রশাসনিক রদবদল নয়, বরং এটি একটি ‘সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ’।”

    নির্বাচনী পর্যবেক্ষকদের ট্রান্সফার নিয়ে প্রশ্ন মমতার

    মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর পোস্টে নির্বাচন কমিশনকে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন করেছেন। তিনি লিখেছেন, “শিলিগুড়ি ও বিধাননগরের পুলিশ কমিশনারদের কোনো বিকল্প ছাড়াই পর্যবেক্ষক হিসেবে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। যার ফলে এই দুই গুরুত্বপূর্ণ শহর কিছু সময়ের জন্য কার্যত অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে। এমনকি যে আধিকারিকদের এতদিন ‘নির্বাচনী কাজের অযোগ্য’ বলে সরানো হচ্ছিল, তাঁদেরই দেখা যাচ্ছে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ভিন রাজ্যে নির্বাচনী পর্যবেক্ষক হিসেবে পাঠানো হয়েছে। যা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।” তিনি আরও জানান, “আইবি, এসটিএফ এবং সিআইডির মতো গুরুত্বপূর্ণ শাখার অফিসারদের সরিয়ে দেওয়ায় প্রশাসনিক কাঠামো পঙ্গু হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। যা নাগরিকদের মধ্যে উদ্বিগ্ন ও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।”

    অঘোষিত জরুরি অবস্থা প্রসঙ্গে মমতা

    তৃণমূল সুপ্রিমো নির্বাচন কমিশনকে আক্রমণ শানিয়ে জানান যে, “সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও এখনও সম্পূরক ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। এছাড়া বিতর্কিত এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া এবং নাগরিকত্ব প্রমাণের বাধ্যবাধকতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। এটি কোনো সুশাসন নয়। এটি বিশৃঙ্খলা, বিভ্রান্তি এবং চরম অযোগ্যতা, যাকে ক্ষমতার মোড়কে চালানো হচ্ছে। এটি কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়, বরং জোরজুলুম এবং প্রাতিষ্ঠানিক কারসাজির মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের নিয়ন্ত্রণ দখল করার পরিকল্পনা। আমরা যা দেখছি তা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা দ্বারা পরিচালিত একটি অঘোষিত জরুরি অবস্থা এবং রাষ্ট্রপতির শাসনের এক অপ্রকাশিত রূপ।”

    আরও পড়ুন: সিভিক ভলান্টিয়ারদের বোনাস বাড়াল নবান্ন! এক ধাক্কায় বাড়ল এত টাকা

    নির্বাচন কমিশনকে দোষ দেওয়ার পাশাপাশি এদিন বিজেপিকেও এক হাতে নেন তৃণমূল সুপ্রিম তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “বাংলার মানুষের বিশ্বাস অর্জন করতে ব্যর্থ হয়ে বিজেপি বাংলাকে কব্জা করতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। তাইতো স্বাধীনতার ৭৮ বছর পরেও মানুষকে লাইনে দাঁড়িয়ে নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে বাধ্য করতে হচ্ছে। তবে বাংলা লড়বে, বাংলা প্রতিরোধ গড়বে এবং এই মাটিতে কোনো বিভাজনমূলক ও ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি চাপিয়ে দেওয়ার প্রতিটি চেষ্টাকে বাংলা চূড়ান্তভাবে পরাজিত করবে।”

  • বাংলায় ফের বড় অ্যাকশন কমিশনের, পাঁচ DIG সহ ১১ DM-কে সরাল কমিশন

    বাংলায় ফের বড় অ্যাকশন কমিশনের, পাঁচ DIG সহ ১১ DM-কে সরাল কমিশন

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: গত রবিবার সাংবাদিক সম্মেলনের জেরে প্রকাশিত হয়েছে ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) দিনক্ষণ। আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল দুই দফায় ভোট গ্রহণ করা হতে চলেছে বাংলায়। আর এই অবস্থায় রাজ্যে একের পর এক নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিয়ে চলেছে কমিশন (Election Commission Of India)। ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাজ্যের মুখ্যসচিব থেকে ডিজি, সিপি বদল করেছিল কমিশন আর আজ, বুধবার পাঁচ জায়গার ডিআইজি-কেও সরানো হয়েছে। পাশাপাশি ১১ টি জেলার ডিএম বদল করল নির্বাচন কমিশন।

    নজিরবিহীন পদক্ষেপ কমিশনের

    কিছুদিন আগেই নির্বাচন কমিশনার পুলিশ সুপারদের বদলি করেছিল। আর সেই বদলির রেশ কাটতে না কাটতেই উত্তর এবং দক্ষিণবঙ্গ মিলিয়েই ফের ১১টি জেলার DM বদল করার নির্দেশ দিল নির্বাচন কমিশন। তালিকা অনুযায়ী দার্জিলিং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, উত্তর দিনাজপুর, মালদা, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, বর্ধমান, উত্তর ২৪ পরগনা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার DM বা জেলাশাসক পরিবর্তন করা হয়েছে। এ ছাড়াও কলকাতা উত্তর ও দক্ষিণের DEO বদল করা হয়েছে। এদিকে ভোটের আগে ফের একসঙ্গে পাঁচ ডিআইজি বদল করার সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন।

    ১১ টি জেলায় DM বদল কমিশনের

    নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী উত্তরবঙ্গের ক্ষেত্রে কোচবিহারে দায়িত্ব পেলেন জিতিন যাদব, জলপাইগুড়িতে সন্দীপ ঘোষ, উত্তর দিনাজপুরে বিবেক কুমার, মালদায় রজনবীর সিং কাপুর, আলিপুরদুয়ারে টি বালাসুব্রহ্মণ্যম, দার্জিলিংয়ে হরিশঙ্কর পানিক্কর। দক্ষিণবঙ্গের ক্ষেত্রে মুর্শিদাবাদে আর অর্জুন, নদিয়ায় শ্রীকান্ত পল্লি, পূর্ব বর্ধমানে শ্বেতা আগরওয়াল, উত্তর ২৪ পরগনায় শিল্পা গৌরিসারিয়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় অভিষেক কুমার তিওয়ারি। অন্যদিকে কলকাতা উত্তরের DEO ও মিউনিসিপ্যাল কমিশনার হলেন স্মিতা পাণ্ডে এবং রণধীর কুমার হলেন দক্ষিণ কলকাতার DEO।

    আরও পড়ুন: ‘অন্য কোনও মুখ্যমন্ত্রী …’ মমতার ভূমিকায় ক্ষুব্ধ সুপ্রিম কোর্ট

    পাঁচ ডিআইজি বদল কমিশনের

    পাঁচ ডিআইজি বদল করার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকাশ্যে এসেছে নতুন বিজ্ঞপ্তি। জানা গিয়েছে, রায়গঞ্জ রেঞ্জের ডিআইজি হচ্ছেন ২০০৯ ব্যাচের আইপিএস রাঠোর অমিতকুমার ভরত। মুর্শিদাবাদের ডিআইজি হচ্ছেন অজিত কুমার যাদব, বর্ধমানের ডিআইজি হচ্ছেন শ্রীহরি পাণ্ডে, প্রেসিডেন্সি রেঞ্জের ডিআইজি হচ্ছেন কংকর প্রসাদ বাড়ুই এবং জলপাইগুড়ি রেঞ্জের ডিআইজি হচ্ছেন অঞ্জলি সিং। আগামিকাল বৃহস্পতিবার ১১ টার মধ্যেই নয়া এই পাঁচ ডিআইজিকে দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অভিযোগ এক্ষেত্রেও নাকি রাজ্যের সঙ্গে কোনও আলোচনা না করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

  • প্রতি দফায় ২ লাখ ৫০ হাজার কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান, অশান্তি হলে … কড়া বার্তা কমিশনের

    প্রতি দফায় ২ লাখ ৫০ হাজার কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান, অশান্তি হলে … কড়া বার্তা কমিশনের

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। এই অবস্থায় রাজ্যে সুষ্ঠু এবং অবাধ নির্বাচন করার লক্ষ্য নিয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে (Central Force) আরও বেশি দায়িত্ব নিতে হবে বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল। সেক্ষেত্রে প্রতিটি পর্যায়ে ২,০০০ থেকে ২,৫০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করতে পারে বলে মনে করছে কমিশন (Election Commission Of India)। পাশাপাশি, সতর্ক করা হয়েছে বাহিনীকে। সিইও জানান, যদি কোনও বুথের মধ্যে অশান্তি হয়, তবে তার দায় সিআরপিএফের।

    ভোট শৃঙ্খলা নিয়ে বড় পদক্ষেপ কমিশনের

    রিপোর্ট মোতাবেক, গতকাল অর্থাৎ সোমবার, মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়েছেন যে, “যেহেতু বাংলায় এই নির্বাচন দুই দফায় হতে চলেছে তাই এমন পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিতে চলেছে। আমাদের একমাত্র লক্ষ্য হল অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা। তাই ভোটের প্রতিটি পর্যায়ে প্রায় ২,০০০ থেকে ২,৫০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী প্রয়োজন হতে পারে। ভোটকেন্দ্রে কোনও গন্ডগোল হলে তা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ওপর। শুধু তাই নয়, কোনও অনৈতিক কাজকর্ম দেখলেও তারা সেটা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবে।” অর্থাৎ প্রতি দফায় নিয়োগ করা হতে চলেছে ২ লাখ ৫০ হাজার কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান।

    গন্ডগোলের জন্য দায়ী থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনী

    সতর্কবার্তা স্বরূপ মনোজ কুমার আগরওয়াল সাংবাদিক সম্মেলনে জানান, “সিআরপিএফ কোনও সুবিধা নেবে না। জেলাশাসকদেরও তেমনই নির্দেশ দেওয়া হবে। যদি কেউ সুবিধা নেয় তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত হবে। অতীতে সুবিধা নেওয়ার জন্য সিআরপিএফ কর্মীর শাস্তি হয়েছে। বুথের ভিতরে কোনও রকম অনিয়ম হলে বা কোনও ধরনের গন্ডগোলের জন্য দায়ী করা হবে সিআরপিএফ-কেই।” তাঁর কথায়, ‘‘রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন নিয়ে কোনও অসুবিধা হবে না। কারণ সেই সময় অন্য রাজ্যের ভোট শেষ হয়ে যাবে।’’ মনোজের কথায়, ‘‘শান্তিতে ভোট করানোর জন্য যে কোনও ধরনের সাহায্য করবে কমিশন। আধিকারিকদের শুধু সাহায্য চাইতে হবে।’’

    আরও পড়ুন: নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর প্রতিপক্ষ প্রায় চূড়ান্ত, কাকে মাঠে নামাচ্ছে তৃণমূল?

    অন্যদিকে ভোটের আগে রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল। তাই রাজ্যের প্রতিটি থানাকে তাদের এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে হবে প্রতিটি থানার ওসিকে নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। সেক্ষেত্রে যদি আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজন পরে কমিশন তা করতে প্রস্তুত।