Tag: Durgapur

  • কমিশনের দুই কর্মীকে গাড়ি থেকে নামিয়ে মারধর তৃণমূলের! দুর্গাপুরে চাঞ্চল্য

    কমিশনের দুই কর্মীকে গাড়ি থেকে নামিয়ে মারধর তৃণমূলের! দুর্গাপুরে চাঞ্চল্য

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বাংলায় বেজে গিয়েছে ভোটের নির্ঘণ্ট (West Bengal Election 2026)। তবে ভোট ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যের নির্বাচন বিধি কড়া ভাবে কার্যকর করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে কমিশন। আর সেই বিধি মেনেই দুর্গাপুরে (Durgapur) সরকারি দেওয়াল থেকে প্রার্থীর নাম মুছতে গিয়ে চরম হেনস্থার শিকার হয়েছেন খোদ নির্বাচন কমিশনারের দুই কর্মী। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। এমনকি অভিযোগের তির উঠছে স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের দিকেই। জানুন ব্যাপারটা।

    ঘটনাটি কী?

    প্রসঙ্গত জানিয়ে রাখি, আগামীকাল অর্থাৎ সোমবার ভোটার তালিকার সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট প্রকাশের কথা। আর তার আগে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য জেলা শাসক ও পুলিশ সুপারদের কড়া নির্দেশিকা দিয়েছে কমিশন। রিপোর্ট অনুযায়ী, এদিন দুর্গাপুর মহকুমা শাসকের দফতর থেকে নিযুক্ত দুই কর্মী এলাকা পরিদর্শন করতে বেরিয়েছিলেন। আর কলোনিপাড়া পোস্ট অফিসের দেওয়ালে প্রার্থীদের নাম লিখে প্রচার চালানো হচ্ছিল বলে অভিযোগ। তবে সেটা নির্বাচন বিধির পরিপন্থী বলে দাবি করা হয় নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে। আর সরকারের নির্দেশ মেনেই সেই দেওয়াল মুছতে গেলে বাঁধে বিপত্তি।

    এ বিষয়ে আক্রান্ত এক কর্মী জানিয়েছেন যে, তারা ডিউটি করছিলেন এবং এসডিও দফতরের নির্দেশে দেয়াল মুছতে গিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য, কাজ শেষ করে আমরা গাড়িতে উঠে পড়েছিলাম। তখনই একদল লোক এসে আমাদের গাড়ি থেকে নামিয়ে আমাদেরকে মারধর শুরু করে। আমরা বারবার পরিচয়পত্র দেখিয়ে সরকারি কর্মচারী হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা আমাদের কোনও কথাই শুনতে চায়নি। আক্রান্তদের দাবি, হামলাকারীরা স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত।

    আরও পড়ুন: দর্শক ছাড়াই হবে খেলা, স্টেডিয়াম মাত্র দুটো! তেল সংকটে বড় সিদ্ধান্ত PSL নিয়ে

    এদিকে ভোটের আগে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে রাজনৈতিক পারদ আরও চড়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ঘটনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সরব হয়েছে বিরোধী শিবির। কিন্তু মারধরের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে তৃণমূলের নেতারা। জোড়াফুল শিবিরের পাল্টা দাবি, মারধরের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। বিজেপির লোকজন বহিরাগতদেরকে নিয়ে এসে জয় শ্রী রাম শ্লোগান দিচ্ছিল এবং নিজেরাই উস্কানিমূলক কাজ করেছে।

  • আসানসোলে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল নির্মীয়মাণ সেতু, চাঞ্চল্য এলাকায়

    আসানসোলে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল নির্মীয়মাণ সেতু, চাঞ্চল্য এলাকায়

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026) নিয়ে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। ভোট আদায়ের তাগিদে প্রতি কেন্দ্রে প্রার্থীদের ভিড় যেন বেড়েই চলেছে। এমতাবস্থায় আসানসোলে ভেঙে পড়ল নির্মীয়মাণ সেতু (Bridge Collapsed In Asansol), তুমুল উত্তেজনা এলাকায়। স্থানীয়দের অভিযোগ নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের জন্য ব্রিজ ভেঙে পড়েছে, প্রশাসনের দিকে আঙুল তুলছে সকলে।

    আসানসোলে ভাঙল নির্মীয়মাণ সেতু

    আসানসোল পুরসভার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের বিদায়গড় এলাকায় নুনিয়া নদীর উপরে যাতায়াতের সুবিধার জন্য একটি সেতু নির্মাণের কাজ করা হচ্ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত গতকাল অর্থাৎ শুক্রবার সকালে হুড়মুড়িয়ে সেতুর লোহার কাঠামো ভেঙে পড়ে। সাতসকালে ব্রিজ ভেঙে পরে যাওয়ার আওয়াজে আশেপাশের স্থানীয়রা ছুটে আসেন। হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। জানা গিয়েছে, আজ, সেতুর উপরের অংশে ঢালাই করার কথাও ছিল। এবং বিধানসভা ভোটের আগে সেতুর কাজ শেষ করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল স্থানীয়দের। কিন্তু এইভাবে সেতু ভেঙে পড়ায় ক্ষুব্ধ সকলে। অভিযোগ, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের জন্য এই পরিণতি।

    সেতু নির্মাণের জন্য দুই কোটি টাকা ধার্য

    বহু বছর ধরে আসানসোলের ধেমোমেন, গোপালপুর, সাতাশা কুলটির সীতারামপুর বিদায়গড়–সহ পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের প্রায় ২০ হাজার মানুষের যাতায়াতের সুবিধার জন্য সেতু নির্মাণের দাবি তুলেছিলেন স্থানীয়রা। কিন্তু প্রতিবার কোনো না কোনো কারণে এই কাজে বাঁধা আসছিল, তবে এখন যেই কাজ শুরু হচ্ছে ওমনি নির্মিত সেতু ভেঙে পড়েছে। জানা গিয়েছে এই সেতুর জন্য নাকি প্রায় দুই কোটি টাকা ধার্য করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে তৃণমূল নেতা মন্টু রজক অভিযোগের সুরে জানিয়েছেন, এই সেতু দিয়ে প্রত্যেক দিন বহু মানুষ ও যানবাহণ যাতায়াত করে। তাই উপযুক্ত গুণমানের সামগ্রী ব্যবহার করা না–হলে মানুষের বিপদ বাড়বে। পুর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

    আরও পড়ুন: টিকিট না পেয়ে একের পর এক বোমা ফাটালেন দিলীপ পত্নী! রিঙ্কুর নিশানায় কে?

    আসানসোলের বিদায়গড় অঞ্চলের মেয়র বিধান উপাধ্যায় জানিয়েছেন, “ব্রিজটা নির্মাণ অবস্থায় কেন এমন হলো, তা নিয়ে বিস্তারিত খোঁজ করা হবে।” সেতু ভাঙার কারণ নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। রাজ্য সরকারের একাংশের বিরুদ্ধে চুরি, অবহেলা ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতার অভিযোগ তুলেছে বিরোধীরা।

  • সাতসকালে দুর্গাপুরে ED-র হানা, কয়লা কাণ্ডে পুলিশ আধিকারিকের বাড়িতে তল্লাশি

    সাতসকালে দুর্গাপুরে ED-র হানা, কয়লা কাণ্ডে পুলিশ আধিকারিকের বাড়িতে তল্লাশি

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ভোটের আবহে রাজ্যে ফের ED-র হানা! কয়লা পাচার মামলার (Coal Smuggling Scam) তদন্তে আজ, বুধবার সকালে দুর্গাপুরের সিটি সেন্টারে রাজ্য পুলিশের আধিকারিক মনোরঞ্জন মণ্ডলের বাড়িতে হানা দিল ED (Enforcement Directorate)। সকাল থেকেই গোটা বাড়ি ঘেরাও করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। এখনও চলছে তদন্ত। চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি এলাকা জুড়ে।

    সাতসকালে দুর্গাপুরে ED হানা

    রিপোর্ট অনুযায়ী, বুধবার, দুর্গাপুরে সিটি সেন্টার অঞ্চলে অম্বুজা নগরীতে বুদবুদ থানার প্রাক্তন ওসি মনোরঞ্জন মণ্ডলের বাড়িতে আচমকাই চলে আসে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ED। বাড়িতে ঢুকতেই ইডির আধিকারিকরা গেটেই হাজিরার নোটিস টাঙিয়ে দেয়। নোটিশে স্পষ্ট জানানো হয় আগামী ১৩ মার্চ দুপুর ১২টা থেকে ১টার মধ্যে তদন্তকারীদের সামনে হাজিরা দিতে হবে। জানা গিয়েছে এর আগে হাজিরা না দেওয়ায় এই নিয়ে তৃতীয়বার মনোরঞ্জনকে কয়লা পাচার মামলার তদন্তের জন্য সমন পাঠাল। এরপর তদন্তের ভিত্তিতে প্রাক্তন ওসি মনোরঞ্জন মণ্ডলের বাড়িতে ঢুকে পড়ে আধিকারিকরা। গোটা বাড়ি জুড়ে নথিপত্রের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছেন একদল। এবং অপর দল জিজ্ঞাসাবাদ করছে পরিবারের সদস্যদের।

    পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

    ED-র তরফে অভিযোগ, কয়লা পাচার মামলায় যে প্রোটেকশন মানির লেনদেন হয়েছিল তাতে নাকি মনোরঞ্জন মণ্ডল মোটা টাকার বিনিময়ে সাহায্য করেছিল। আসলে কয়লা পাচার মামলায় দু’মাস আগে তদন্তের ভিত্তিতে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল মোবাইল ফোন, হোয়াটস অ্যাপ চ্যাট-সহ আরও একাধিক ডিজিটাল নথি। সেই সময়ই উঠে আসে বুদবুদ থানার ওসি মনোরঞ্জন মণ্ডলের নাম। এছাড়াও তালিকায় উঠে আসে আখতার, প্রবীর দত্ত, অমিত বনশল, মির্জা নিজামুদ্দিন, চিন্ময় মণ্ডলের নামও। এর আগেও কয়লা পাচার মামলায় মনোরঞ্জনের বাড়িতে হানা দিয়েছিল ইডি। কিন্তু মেলেনি কোনো যথোপযুক্ত তথ্য। তবে আজকের তদন্তে রাজ্যের পুলিশ আধিকারিক বাড়িতে ছিলেন কি না, এখনও সে বিষয়ে কিছু জানা যায়নি।

    আরও পড়ুন: ক্যাবিনেটের বৈঠকে বড় সিদ্ধান্ত! DA বাড়ছে শীঘ্রই? জানুন আপডেট

    প্রসঙ্গত, বিগত কয়েক মাস ধরেই রাজ্যে কয়লা পাচার মামলা এবং বালি পাচার মামলাকে কেন্দ্র করে প্রায়শই একাধিক ব্যবসায়ী এবং পুলিশ আধিকারিকদের বাড়ি হানা দিচ্ছে ED, এবং বাজেয়াপ্ত করা হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ নথি। ফলে বোঝাই যাচ্ছে কয়লা পাচার মামলার তদন্তের জল গড়িয়েছে অনেকটা। এখন দেখার পালা সেই চক্রের সূত্র ধরতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা কতটা সাফল্য অর্জন করে।