Tag: Drone

  • খুঁজে খুঁজে শত্রুদের নিকেশ করবে সুসাইড ড্রোন KAL! আরেক ‘ব্রহ্মাস্ত্র’ ভারতের

    খুঁজে খুঁজে শত্রুদের নিকেশ করবে সুসাইড ড্রোন KAL! আরেক ‘ব্রহ্মাস্ত্র’ ভারতের

    বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: বিশালাকার কামান বা বৃহৎ মিসাইল নয়, বরং খুদে ড্রোনই আজকের দিনে বদলে দিতে পারে আধুনিক যুদ্ধের রঙ (KAL Drone Project)। বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে গোটা বিশ্বে যে যুদ্ধ যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তাতে ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে আধুনিক যুদ্ধের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুতি সারছে ভারত (Indian Defence)। তবে অন্য পরাশক্তির উপর নির্ভর করে নয় বরং সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি হচ্ছে অত্যাধুনিক সব ড্রোন। তেমনই একটি দূরপাল্লার আত্মঘাতী ড্রোন তৈরি করছে ভারতীয় সংস্থা আইজি ডিফেন্স। এই ভারতীয় সংস্থাটি কাল প্রকল্পের আওতায় যেসব আত্মঘাতী ড্রোন তৈরি করছে তা নিমেষে শত্রুর ঘুম উড়িয়ে দিতে সক্ষম।

    কাল ড্রোন প্রকল্প সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য

    প্রথমেই বলে রাখি, আইজি ডিফেন্সের হাত ধরে কাল ড্রোন প্রকল্পের আওতায় তৈরি হচ্ছে লং রেঞ্জ কামিকাজে ড্রোন। এই ড্রোন আসলে আত্মঘাতী। অর্থাৎ নিজের সাথে সাথে শত্রুকে নিয়ে শেষ হবে এটি। বলাই বাহুল্য, এই ড্রোন 1000 কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে সজোরে আঘাত হানতে সক্ষম। এটি আত্মঘাতী হওয়ায় শত্রুর উপর আঘাত হানার সাথে সাথে নিজেও ধ্বংস হয়ে যায়।

    কয়েকটি রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতীয় সংস্থা কাল ড্রোন প্রকল্পের আওতায় যে অস্ত্রগুলি তৈরি করা হচ্ছে সেই সব ড্রোন একবারে টানা 3 থেকে 5 ঘন্টা আকাশে উড়তে পারবে। শুধু তাই নয়, প্রয়োজন হলে ভারতীয় সেনাবাহিনী মাঝ আকাশে এই ড্রোনের গতিপথ পরিবর্তন করে দিতে পারবেন। সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ড্রোন দিয়ে বিভিন্ন কারখানা, রাডার, ছোট মিসাইল প্ল্যান্ট, লজিস্টিক হাব এমনকি সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিতে জোরালো আক্রমণ করা যাবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ড্রোন একদিক থেকে ভারতীয় সেনাবাহিনীর জীবন বাঁচাবে। তার অন্যতম কারণ, এই ড্রোন থাকলে বিভিন্ন প্রতিকূল এবং বিপদজনক এলাকায় সশরীরে যেতে হবে না সেনা জাওয়ানদের। সেই কাজ করে দেবে এই ড্রোন।

    যদিও এই মুহূর্তে ভারতীয় সংস্থার কাল ড্রোন প্রকল্পটি প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। সংস্থাটির তরফে এই ড্রোন প্রকল্পের প্রথম ঝলক প্রকাশ্যে এসেছে। তবে আগামী কিছু মাসের মধ্যে ধীরে ধীরে আইজি ডিফেন্স একের পর এক তথ্য সামনে আনবে। সবচেয়ে বড় কথা, এই ড্রোন প্রকল্পের মধ্যে দিয়ে ভারত সেইসব দেশের তালিকায় নাম লিখিয়ে ফেলেছে যারা ইতিমধ্যেই দূরপাল্লার সব ভয়ংকর ড্রোন তৈরি করে।

    অবশ্যই পড়ুন: সাবধান করেছিল সুপ্রিম কোর্ট, এবার লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে যা বলল SBI

    এই প্রকল্প নিয়ে অবশ্য আইজি ডিফেন্সের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মেজর জেনারেল আরসি পাধি জানিয়েছেন, “পাইলটহীন ড্রোন ব্যবস্থা মুহূর্তের মধ্যে যুদ্ধের প্রকৃতি পরিবর্তন করে দিতে পারে। ইরান-ইজরায়েলে-আমেরিকার যুদ্ধ দেখিয়ে দিয়েছে ছোট্ট ড্রোন কতটা কার্যকর হয়ে উঠতে পারে। ভারতেও এই ধরনের ড্রোন তৈরি করা উচিত। প্রকল্প কালের হাত ধরে আমরা দেশীয় সক্ষমতা বাড়াচ্ছি। এই প্রকল্প স্বনির্ভর ভারতের স্বপ্নকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।”

  • ব্যবহার হয়নি আগে, এই সস্তার ড্রোন দিয়েই ইরানে ধ্বংসযজ্ঞ চালাল আমেরিকা

    ব্যবহার হয়নি আগে, এই সস্তার ড্রোন দিয়েই ইরানে ধ্বংসযজ্ঞ চালাল আমেরিকা

    বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: আশঙ্কাই সত্যিতে পরিণত হয়েছে (Iran-US War)। গত শনিবার থেকে ইরানের উপর জোরালো হামলা চালানো শুরু করে আমেরিকা। সবচেয়ে বড় কথা, যা দিয়ে ইরানে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে সেই, ড্রোন প্রযুক্তি এর আগে কোনও অভিযানে ব্যবহার করেনি ওয়াশিংটন ডিসি। রিপোর্ট অনুযায়ী, এপিক ফিউরিতে ইজরায়েলের সাথে হাত মিলিয়ে ইরানে হামলা চালানোর সময় প্রথমবারের মতো এই বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সব একেবারে ধুলিস্যাৎ করে দিল আমেরিকা।

    এই ড্রোন ব্যবস্থাই ইরানে ধ্বংসযজ্ঞের কারণ

    একাধিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ইজরায়েলের সাথে হাতে হাত মিলিয়ে ইরানের হামলা চালানোর সময় LUCAS আক্রমণাত্মক ড্রোনটি ব্যবহার করা হয়। বলাই বাহুল্য, এই ড্রোনগুলি ইরানের সস্তা কিন্তু শক্তিশালী ড্রোনগুলির অনুলিপি। গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া ক্রমাগত হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনিকে হত্যা করার দাবি করেছে আমেরিকা।

    দেশের শীর্ষস্থানীয় নেতার মৃত্যুর পাশাপাশি ইরানের বুকে কম্পন ধরাতে ইরানেরই ড্রোন কৌশল অবলম্বন করেছিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেশ। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আমেরিকা এবং ইজরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতার পাশাপাশি কয়েক ডজন সরকারি কর্মকর্তার মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

    বলে রাখা ভালো, যৌথভাবে ইরানের উপর হামলা চালাতে সস্তার LUCAS ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহারের পাশাপাশি দূরপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র সহ অন্যান্য সমরাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল ল। যার ধার কার্যত ইরানের বুক চিরে দিয়েছে।

    LUCAS ড্রোনের বিশেষত্ব

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমেরিকার তরফে ইরানে ছোরা সস্তার ড্রোনগুলি একটা দীর্ঘ সময় ব্যবহার করার পর দ্বিতীয় বার আর ব্যবহার করা যায় না। তবে দামে অনেকটাই কম হয় অর্থাৎ খরচ কম হয় একসাথে অধিক সংখ্যক ড্রোন নিক্ষেপ করা যায় শত্রুর ডেরায়।

    অবশ্যই পড়ুন: খামেনির মৃত্যুর প্রতিবাদে করাচিতে মার্কিন দূতাবাসে হামলা, পাল্টা প্রতিরোধে নিহত ১০

    না বললেই নয়, আমেরিকার LUCAS হল ইরানি শাহেদ-136 এর উপর ভিত্তি করে তৈরি একটি কম খরচের আক্রমণাত্মক ড্রোন। এমন ড্রোন দিয়ে ইরানে হামলা প্রসঙ্গে CENTCOM স্পষ্ট জানিয়েছে, আমেরিকা এবং ইসরাইলের যৌথ উদ্যোগে এপিক ফিউরির সময় প্রথমবারের মতো ইরানের ক্ষেত্রেই ব্যবহার করল কোনও দেশ। কয়েকজন সামরিক বিশেষজ্ঞ বলছেন, ইরানের সামরিক কৌশল এবং ড্রোন কৌশল রপ্ত করেই শাহেদ 136 এর অনুকরণ করে সস্তার LUCAS ড্রোন তৈরি করা হয়েছিল। এবার সেটাই ইরানের বুকে বিরাট ধ্বংসযজ্ঞ চালাল।