Tag: Draupadi Murmu

  • India Hood Decode: রাষ্ট্রপতি vs মমতা! বাংলায় কেন শুরু হল এই নজিরবিহীন সংঘর্ষ?

    India Hood Decode: রাষ্ট্রপতি vs মমতা! বাংলায় কেন শুরু হল এই নজিরবিহীন সংঘর্ষ?

    একদিকে যখন ভোট যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে তৃণমূল-বিজেপি-সিপিএম, ঠিক সেই মুহূর্তেই এক নতুন যুদ্ধ শুরু করেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে, এই যুদ্ধ কিন্তু কোনও দল বা নির্বাচন কমিশনের সাথে নয়, এই যুদ্ধ ভারতের সাংবিধানিক প্রধান তথা রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মূ-র সাথে (President VS Chief Minister)।

    এত বছর ধরে বাংলা দেখেছে, দেশের প্রধানমন্ত্রীর সাথে মুখ্যমন্ত্রীর লড়াই, রাজ্যপালের সাথে মুখ্যমন্ত্রীর লড়াই। আর এবার প্রথমবার বাংলা দেখছে রাষ্ট্রপতির সাথে মুখ্যমন্ত্রীর লড়াই।

    গত ১০ দিন কেটে গেলেও, এই যুদ্ধ যেন থামার নামই নিচ্ছে না। দুপক্ষই যেন বলছে – হাম ঝুঁকেগা নেহি! পরিস্থিতি এমন যে তৃনমূলের আচরণে ভয়ঙ্কর ক্ষুব্ধ ভারতের রাষ্ট্রপতি, এমনকি রাষ্ট্রপতি শাসনও জারি হতে পারে বাংলায়।

    কিন্তু, হঠাৎ কীভাবে শুরু হল এই যুদ্ধ? কেনই বা একে অপরের সাথে ঠাণ্ডা লড়াইয়ে নেমেছে ভারতের দুই ক্ষমতাধারী মহিলা? হঠাৎ কী এমন করল তৃণমূল যার জন্য তেলে বেগুনে জ্বলে উঠেছেন স্বয়ং রাষ্ট্রপতি? কেন সারা ভারতের সামনে লজ্জার মুখে পড়তে হচ্ছে বাঙালীদেরকে?

    আজ India Hood ডিকোড-এ আমরা তুলে ধরবো এমন কিছু ঘটনা, যা আমার-আপনার ধারণারও বাইরে! তাই ধৈর্য ধরে লেখাটি শেষ পর্যন্ত প্ড়ুন।

    দ্বন্দের সূত্রপাত!

    দিনটা ছিল ৬ই মার্চ। রাষ্ট্রপতি হওয়ার প্রায় চার বছর পর প্রথমবার উত্তরবঙ্গ সফরে আসেন দ্রৌপদী মুর্মু। দুই দিনের সফর। প্রথম দিন তিনি পৌঁছান বাগডোগরা বিমানবন্দরে। সেখান থেকে যান লোকভবনে। সেখানে তাঁর একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ছিল – দার্জিলিং হিল ফেস্টিভ্যালের উদ্বোধন। সেই দিন রাত কাটান রাজভবনে।

    পরের দিন অর্থাৎ ৭ই মার্চ, রাষ্ট্রপতির যাওয়ার কথা ছিল বিধাননগরে। সেখানে আদিবাসী সম্প্রদায়ের একটি বড় অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা ছিল তাঁর। প্রথমে বিধাননগরে এই অনুষ্ঠান হওয়ার কথা থাকলেও, নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে পরে সেই অনুষ্ঠান সরিয়ে আনা হয় গোঁসাইপুরে।

    আর এই দিন থেকেই শুরু হয় বিতর্ক।

    প্রথমে গোঁসাইপুরের মঞ্চ থেকেই রাষ্ট্রপতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এরপর নিজেই চলে যান বিধাননগরে, খতিয়ে দেখেন – কেন বিধাননগরে তাঁকে অনুষ্ঠান করতে দেওয়া হল না, কোন নিরাপত্তার কারণে তাঁর এই অনুষ্ঠান স্থানান্তর করা হল।

    কিন্তু কোনও কারণ না খুঁজে পেয়ে, এরপর সেখান থেকেই তিনি সমালোচনা করা শুরু করেন রাজ্য সরকারের। তিনি বলেন – “প্রশাসনের মনে কী চলছিল জানি না। আমি তো সহজেই এখানে চলে এলাম। ওরা বলেছিল জায়গা নেই। অথচ এখানে তো পাঁচ লক্ষ লোক হয়ে যাওয়ার কথা!”

    এরপর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে তিনি বলেন – “আমিও বাংলার মেয়ে। আমাকে বাংলায় আসতেই দেওয়া হয় না। মমতাদি আমার ছোট বোন। জানি না আমার উপর কী রাগ।”

    এখানেই থামেননি ম্যাডাম প্রেসিডেন্ট। রাজ্যের আদিবাসী সমাজের অবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তিনি বলেন, “দেখে মনে হচ্ছে না যে সাঁওতাল বা আদিবাসী সমাজের মানুষেরা সমস্ত সরকারি সুযোগ-সুবিধা পান।“

    এছাড়াও, কোনও রাজ্যে রাষ্ট্রপতি এলে সাধারণ প্রোটোকল অনুযায়ী, রাজ্যের রাজ্যপাল, মুখ্যমন্ত্রী, এবং মন্ত্রিসভার সদস্যরা তাঁকে অভ্যর্থনা জানান বা সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। কিন্তু, ঘটনাচক্রে এই সময়ে ধর্মতলায় SIR-এর প্রতিবাদে ধর্না দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই তিনি রাষ্ট্রপতির সাথে দেখাও করেননি। যা নিয়েও অনেকে মুখ্যমন্ত্রীকে খোঁচা দেন।

    রাষ্ট্রপতির এই বক্তব্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায় সোশ্যাল মিডিয়ায়। এই মন্তব্যের পরেই বিষয়টি রাজ্য রাজনীতির গণ্ডি ছাড়িয়ে জাতীয় রাজনীতিতে পৌঁছে যায়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই বিষয় নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, – “এটি লজ্জাজনক এবং নজিরবিহীন। গণতন্ত্রে বিশ্বাসী প্রত্যেক মানুষ এই ঘটনায় ব্যথিত। পশ্চিমবঙ্গ সরকার রাষ্ট্রপতির প্রতি অসম্মান দেখিয়েছে। রাষ্ট্রপতির পদ রাজনীতির ঊর্ধ্বে। এই পদের মর্যাদা সর্বদা রক্ষা করা উচিত।“

    এরপর পাল্টা জবাব দেয় মুখ্যমন্ত্রী!

    এত কিছুর পর এবার পাল্টা জবাব দিতে মাঠে নামেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ধর্মতলার ধর্নামঞ্চ থেকেই তিনি বলেন – “মাননীয়া রাষ্ট্রপতি, আমি দুঃখিত। আপনার প্রতি আমার শ্রদ্ধা আছে। কিন্তু আপনি বিজেপির নীতির ফাঁদে পড়ে গিয়েছেন।” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, “রাষ্ট্রপতিকে বিজেপি তাদের রাজনৈতিক প্রচারের জন্য ব্যবহার করছে। কই মণিপুরে যখন আদিবাসী সমাজের উপর হামলা হচ্ছিল, তখন রাষ্ট্রপতি কোনও মন্তব্য করেননি কেন?“

    এছাড়া, SIR নিয়ে মমতা, রাষ্ট্রপতিকে বলেন, ‘‘SIR নিয়ে কই একটা কথাও বললেন না তো? কত আদিবাসীর নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, সেই খবর রেখেছেন? খোঁজ নিয়ে নিন, আমরা আদিবাসীদের জন্য কী কী করেছি। অন্য রাজ্য কী করেছে।‘’

    এরপর ওই দিনই, ধর্না মঞ্চ থেকে তৃণমূল কংগ্রেস সিদ্ধান্ত নেয়, ‘’রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করবে তাদের প্রতিনিধি দল। মুখ্যমন্ত্রী দায়িত্ব দেন তৃণমূলের দুই শীর্ষ সাংসদ—ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তাঁদের বলা হয় রাষ্ট্রপতির কাছে গিয়ে জানাতে—পশ্চিমবঙ্গে আদিবাসী উন্নয়নের জন্য রাজ্য সরকার কী কী কাজ করেছে।

    এছাড়াও, মোদীর কটাক্ষের উত্তর দিতে গিয়ে একটি পুরনো ছবি দেখিয়ে তৃণমূলের তরফ থেকে দাবি করা হয়, রাষ্ট্রপতিকে অসম্মান করেছেন স্বয়ং মোদীও। যে ছবিতে দেখা যাচ্ছে, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী দাঁড়িয়ে লালকৃষ্ণ আদবানীকে ভারতরত্ন পুরষ্কার দিচ্ছেন। আর তাঁর সামনে একটি চেয়ারে বসে রয়েছেন মোদী। পাশাপাশি তৃণমূলের নেতারা বক্তৃতায় জুড়ে দেন রামমন্দির উদ্বোধনে রাষ্ট্রপতিকে আমন্ত্রণ না-জানানোর প্রসঙ্গও।

    কিন্তু, বিজেপিও এর পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানায়। তারা সোশ্যাল মিডিয়া এই ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়ে বলে – ভারতরত্ন পুরস্কার প্রদানের সময় সরকারী প্রোটোকল অনুসারে, উপস্থিত অন্যরা বসে থাকবেন। তাই এক্ষেত্রে কোনও ধরণের ভঙ্গিমা লঙ্ঘন করা হয়নি।“ পোস্টটিতে আরও বলা হয়, “এটা লজ্জাজনক যে তৃণমূল কংগ্রেস আবারও মাননীয়া রাষ্ট্রপতি শ্রীমতি দ্রৌপদী মুর্মু, প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ভারতরত্ন শ্রী লালকৃষ্ণ আদভানির সাথে জড়িত একটি মর্যাদাপূর্ণ মুহূর্তকে তুচ্ছ রাজনীতির জন্য বিকৃত করার চেষ্টা করছে।”

    এছাড়া রাষ্ট্রপতির সাথে দেখা না করার ক্ষেত্রে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার জন্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৭ই মার্চ রাতেই এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, “রাষ্ট্রপতির কর্মসূচির আয়োজক ‘আন্তর্জাতিক সাঁওতাল কাউন্সিল’, যারা একটি বেসকরকারি সংস্থা। সেই কর্মসূচির বিষয়েও রাষ্ট্রপতির সচিবালয়ের সঙ্গে জেলা প্রশাসন সমন্বয়ও রেখেছিল। সেখানেই বিধাননগরের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি না থাকার কথা জানানো হয়। এছাড়াও, শিলিগুড়ির মেয়র, দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক সকলেই রাষ্ট্রপতিকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য হাজির ছিলেন। সেখানে কোনও প্রোটোকল বিঘ্নিত হয়নি। শেষে তিনি লেখেন, ‘‘সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক হল, বিজেপি নিজেদের দলীয় উদ্দেশ্যে দেশের সর্বোচ্চ পদকেও ব্যবহার করছে।‘’

    তবে, এই রাজনৈতিক সংঘর্ষ এখানেই থেমে থাকেনি।

    “মুখের ওপর না” বলে দেয় রাষ্ট্রপতি!

    এরপর দিনটা ৯ই মার্চ। রাষ্ট্রপতির সাথে দেখা করার জন্য তৃনমূলের তরফ থেকে রাষ্ট্রপতি ভবনে চিঠিও পাঠানো হয়। ১২ থেকে ১৫ জন দলীয় প্রতিনিধি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করবেন বলে চিঠিতে জানানো হয়েছিল। সেই প্রতিনিধি দলে থাকার কথা তৃণমূল সাংসদ এবং মন্ত্রীদের।

    কিন্তু, ১২ই মার্চ সেই আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়। এক প্রকার “মুখের ওপর তৃনমূলকে না বলে দেয়” রাষ্ট্রপতি। তৃণমূলের চিঠির জবাবে রাষ্ট্রপতি ভবন জানায়, তাদের অনুরোধটি বিবেচনা করা হয়েছিল। কিন্তু সময়ের অভাবে আবেদন গ্রহণ করা যাচ্ছে না। এর পরেই আগামী সপ্তাহে ফের রাষ্ট্রপতির সময় চান তৃণমূল সাংসদেরা।

    এবার পাল্টা “না” বলে তৃণমূল!

    এবার পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে থাকে। ১৪ই মার্চ শুরু হয় নতুন বিতর্ক। কারণ, সেদিন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু সমস্ত রাজনৈতিক দলের সাংসদদের ১৬ই মার্চ রাষ্ট্রপতি ভবনে প্রাতরাশের আমন্ত্রণ জানানো হয়। কিন্তু সেই আমন্ত্রণ ফিরিয়ে দেয় তৃণমূল কংগ্রেস। দলের রাজ্যসভার মুখ্যসচেতক নাদিমুল হক রাষ্ট্রপতি ভবনকে জানান, “তৃণমূলের সাংসদরা এই অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন না।“

    কিন্তু কেন? কারণ হিসেবে বলা হয়—রমজান মাস চলছে। মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষেরা দিনভর উপবাস করেন। তাই সেই সময় প্রাতরাশ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া ঠিক হবে না।

    আর এই সিদ্ধান্তই নতুন করে বিতর্ক তৈরি করে। কারণ প্রশ্ন ওঠে, – যদি সকালে না যেতে চান, তাহলে কখন যাবেন তারা? কারণ বিকালে দেখা করতে বললে, – তখন তো আবার ইফতার চলে!

    বিরোধীরা বলছে—এটা আসলে রাজনৈতিক প্রতিবাদ। অন্যদিকে তৃণমূলের দাবি—বিজেপি রাজনৈতিক স্বার্থে রাষ্ট্রপতির পদ ব্যবহার করছে।

    যদিও পরে দেখা যায়, রাষ্ট্রপতি ভবনের ওই প্রাতরাশের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে রাষ্ট্রপতির সাথে দেখা করেন তৃনমূলের বর্ষীয়ান সাংসদ সৌগত রায়।

    এখন প্রশ্ন হচ্ছে – এই ঠাণ্ডা লড়াইয়ের কতটা প্রভাব পড়বে বাংলার ভোটে?

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন—সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে জঙ্গলমহল এলাকায়।

    কারণ, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে জঙ্গলমহলের সবকটি আসন জিতেছিল বিজেপি। কিন্তু ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সেই অঞ্চল অনেকটাই পুনর্দখল করে তৃণমূল। আর ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে পশ্চিমাঞ্চলের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আসন—বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম এবং মেদিনীপুর—দখল করে নেয় তৃণমূল।

    তাই আদিবাসী ভোট এখন দুই দলের কাছেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    পরিসংখ্যান বলছে – পশ্চিমবঙ্গে মোট ২৯৪টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ১৬টি আসন জনজাতিদের জন্য সংরক্ষিত। কিন্তু বাস্তবে প্রায় ৫২টি আসনে উল্লেখযোগ্য আদিবাসী ভোট রয়েছে। অর্থাৎ, এই বিতর্ক শুধু সংরক্ষিত আসনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং বৃহত্তর রাজনৈতিক সমীকরণেও এর প্রভাব পড়তে পারে। তাই এখন প্রশ্নটা শুধু একটি অনুষ্ঠান বা একটি বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।

    এই সংঘর্ষ কি শেষ পর্যন্ত প্রভাব ফেলবে বাংলার ভোটে? আপনার কী মনে হয়? জানাতে ভুলবেন না আপনার মতামত কমেন্ট করে।

  • রাষ্ট্রপতির সফর নিয়ে বিতর্ক, মমতার প্রতিবাদ…! আজকের সেরা ১০ খবর (৮ মার্চ)

    রাষ্ট্রপতির সফর নিয়ে বিতর্ক, মমতার প্রতিবাদ…! আজকের সেরা ১০ খবর (৮ মার্চ)

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: আজ ৮ মার্চ, রবিবার। রাষ্ট্রপতির সফর নিয়ে বিতর্ক, মমতার প্রতিবাদ, ভারতীয় রেলের উন্নতি, রাজ্য-রাজনীতি, অর্থনীতি, বহির্বিশ্ব, কোথায় কী ঘটল আজ? জানতে চোখ রাখুন আজকের সেরা দশে। India Hood-র তরফ থেকে আমরা নিয়ে এসেছি তরতাজা দশটি (Top 10 Bangla News in West Bengal And India) খবর, যা না পড়লে মিস করে যাবেন অনেক কিছুই। বিস্তারিত নতে হলে অবশ্যই প্রতিবেদনটি শেষ পর্যন্ত পড়ুন।

    ১০) ২৭০ কিলোমিটার সুরঙ্গ খুঁড়ে এবার চিন সীমান্তে যাবে ভারতের ট্রেন

    ভারতীয় রেল হিমালয়ের মধ্য দিয়ে এবার লেহ পর্যন্ত নতুন রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা করছে। বিলাসপুর-মানালি-লেহ রেল প্রোজেক্ট প্রায় ৪৮৯ কিলোমিটার পর্যন্ত দীর্ঘ হবে এবং এতে ৬২টি টানেল এবং ১১৬টি সেতু থাকবে বলে জানানো হয়েছে। মোট ২৭০ কিলোমিটার পথ টানেরলের মধ্য দিয়েই যাবে। আর এই রেলপথ সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৫ হাজার ফুট উচ্চতায় বিশ্বের সবথেকে উঁচু রেল নেটওয়ার্ক হবে এবং দিল্লি থেকে লেহ যাত্রা সময় ৪০ ঘন্টা থেকে কমে ২০ ঘন্টায় নেমে আসবে। পাশাপাশি সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার হবে। বিস্তারিত পড়তে- এখানে ক্লিক করুন

    ৯) রাষ্ট্রপতির সফর নিয়ে নবান্নের কাছে জবাব চায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক

    রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর উত্তরবঙ্গ সফরকে ঘিরে বিতর্কে জেরে এবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক রাজ্য সরকারের কাছে রিপোর্ট চেয়েছে। হ্যাঁ, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব গোবিন্দ মোহন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য সচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে বিকেল পাঁচটার মধ্যেই ব্যাখ্যা দিতে বলেছেন। অভিযোগ উঠছে, অনুষ্ঠানের স্থান পরিবর্তন ও ব্যবস্থাপনা নিয়েই সমস্যা হয়েছে। এ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক যেরকম একদিকে বাড়ছে, অন্যদিকে নরেন্দ্র মোদী এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যের জলঘোলা আরও বেড়েছে। বিস্তারিত পড়তে- এখানে ক্লিক করুন

    ৮) ইরান সংঘর্ষ নিয়ে আমেরিকা থেকে সতর্ক করল চিন

    চিন-ইরান সংঘর্ষ নিয়ে পরোক্ষভাবে আমেরিকা এবং ইজরায়েলকে সতর্ক করল চিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। তিনি বলেছেন, ইরানের সরকার বদলানোর ষড়যন্ত্র বা বিদেশি হস্তক্ষেপে বেজিং সমর্থন করবে না। আর তিনি এটিকে সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছেন এবং জঙ্গল রাজ চলবে না বলেও মন্তব্য করেছেন। চিন সমস্ত পক্ষকে সামরিক অভিযান বন্ধ করে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন। বিস্তারিত পড়তে- এখানে ক্লিক করুন

    ৭) সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় বাজিমাত ট্র্যাক চালকের মেয়ের

    সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা ২০২৫-এ বিরাট সাফল্য অর্জন করলেন উত্তরাখণ্ডের ফাইরুজ ফাতিমা। হরিদ্বয়ার জেলার রুরকির বাসিন্দা ফাতেমা একজন ট্রাকচালকের মেয়ে এমনটাই জানা যাচ্ছে। দীর্ঘ আট বছর প্রস্তুতির পরেই তৃতীয় চেষ্টায় তিনি সারা ভারতে ৭০৮ তম র‍্যাঙ্ক অর্জন করেছেন। বর্তমানে তিনি ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ডেপুটি ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত আর সীমিত আর্থিক অবস্থার মধ্যে বাবা-মায়ের অনুপ্রেরণায় তাঁর এই সাফল্য মানুষের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বিস্তারিত পড়তে- এখানে ক্লিক করুন

    ৬) নির্বাচন প্রস্তুতি খতিও দেখতে বাংলায় আসছেন জ্ঞানেশ কুমার

    জ্ঞানেশ কুমার পশ্চিমবঙ্গ সফরে এসে নির্বাচনী প্রস্তুতির খতিয়ান দেখতে একাধিক বৈঠক করবেন বলে খবর। নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে তিনি কলকাতায় পৌঁছে রাজনৈতিক দল, প্রশাসনিক আধিকারিক এবং পুলিশ কর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। আর বৈঠকের আগে তিনি কালীঘাট মন্দিরে পূজা দেবেন এবং পরে বেলুড় মঠ দর্শন করতে পারেন বলেই খবর। এমনকি এই সফরে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রস্তুতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হবে। বিস্তারিত পড়তে- এখানে ক্লিক করুন

    ৫) রাষ্ট্রপতি সফর ঘিরে তীব্র সমালোচনা প্রধানমন্ত্রী মোদীর

    নরেন্দ্র মোদী পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি সফরকে ঘিরে এবার তীব্র সমালোচনা করেছেন। শিলিগুড়ি অনুষ্ঠানে আসা দ্রৌপদী মুর্মুকে স্বাগত জানাতে রাজ্য সরকারের কোনও রকম প্রতিনিধি সেখানে উপস্থিত ছিল না বলেই অভিযোগ। আর এ নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই ঘটনাকে লজ্জাজনক বলেই মন্তব্য করেছেন মোদী এবং তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি নিশানা করেছেন। নারী দিবসের আগে এক মহিলা রাষ্ট্রপতিকে অপমান করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেছেন। যার ফলে রাজ্য-কেন্দ্র রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। বিস্তারিত পড়তে- এখানে ক্লিক করুন

    ৪) ইরানের তেল মজুদে আঘাত হানল ইজরায়েল

    ইরান এবং ইজরায়েল সংঘাত এবার আরও তীব্র হল। ইরানের মিসাইল হামলার জবাবে তেহরানের তেল মজুদে আঘাত হেনেছে ইজরায়েল এমনটাই খবর। নেতানিয়াহু সতর্ক করে বলেছেন, ইরান আত্মসমর্পণ না করলে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এমনকি ইরানের তেল রিফাইনারি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে বিদ্যুৎ পরিবহন এবং জ্বালানি সংকটের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রথমবার ইজরায়েল ইরানের বেসামরিক ঘাঁটিতে সরাসরি লক্ষ্য করেই হামলা চালিয়েছে। বিস্তারিত পড়তে- এখানে ক্লিক করুন

    ৩) গ্যাসের দাম বাড়ায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিবাদ

    নারী দিবসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছে তৃণমূলের মহিলারা। কালো শাড়ি পরে থালা-বাসন এবং খুন্তি হাতে এই প্রতিবাদ মিছিল হয়েছে। সুবোধ মল্লিক স্কয়ার এবং ধর্মতলায় আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিলেন শশী পাঁজা এবং চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যসহ একাধিক নেত্রীরা। প্রতীকী গ্যাস সিলেন্ডার হাতে নিয়েই মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। গ্যাসের দাম বৃদ্ধি এবং ভোটার তালিকা নিয়ে এই প্রতিবাদে রাজনৈতিক উত্তেজনা যে আরও বেড়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বিস্তারিত পড়তে- এখানে ক্লিক করুন

    ২) শ্রীরামপুর স্টেশন নিয়ে বড় ঘোষণা রেলমন্ত্রীর

    রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব হুগলির শ্রীরামপুর সফরে গিয়ে রেল উন্নয়নে বিরাট ঘোষণা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ভারতীয় রেলের জন্য চলতি বাজেটে বাংলায় প্রায় ১৪,২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। আর অন্যান্য প্রকল্পে ৯৩ হাজার কোটি টাকা অনুমোদন করা হয়েছে। শ্রীরামপুর স্টেশনকে মাহেশের জগন্নাথ মন্দিরের আদলে সাজানোর প্রস্তাব সামনে এসেছে। পাশাপাশি হাওড়া লাইনে শ্রীরামপুর এবং রিষরার মাঝে নতুন একটি হল্ট স্টেশন তৈরি করা দাবি উঠেছে, যা হলে রথযাত্রায় দর্শনার্থীরা আরও সুবিধা পাবে। বিস্তারিত পড়তে- এখানে ক্লিক করুন

    ১) অমৃত ভারত স্টেশনের আওতায় নয়া রূপ পাচ্ছে সিউড়ি ও হলদিয়া

    ভারতীয় রেলের অমৃত ভারত স্টেশন স্কিমের আওতায় বাংলার একাধিক স্টেশন আধুনিক রুপ নিচ্ছে। এর মধ্যে সিউড়ি রেলওয়ে স্টেশন এবং হলদিয়া রেলওয়ে স্টেশনের চেহারাও পুরো বদলে গিয়েছে। স্টেশনগুলোতে নতুন প্রবেশদ্বার, আধুনিক অপেক্ষাকক্ষ, পরিষ্কার শৌচালয় সহ উন্নত প্ল্যাটফর্ম, লিফট এবং ফ্রি ওয়াইফাই পরিষেবা যুক্ত করা হয়েছে। আর এই প্রকল্পের লক্ষ্য হল যাত্রীদের জন্য স্টেশনকে আরও পরিষ্কার, আরামদায়ক এবং আধুনিক গড়ে তোলা। পাশাপাশি স্থানীয় পণ্য বিক্রির সুযোগ রয়েছে। বিস্তারিত পড়তে- এখানে ক্লিক করুন

  • নারী দিবসের আগে মহিলা রাষ্ট্রপতিকে অপমান! ফের গর্জে উঠলেন নরেন্দ্র মোদী

    নারী দিবসের আগে মহিলা রাষ্ট্রপতিকে অপমান! ফের গর্জে উঠলেন নরেন্দ্র মোদী

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: গত কয়েকদিন ধরেই রাজ্যে SIR বা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক এবং সমালোচনা হয়েই চলেছে। এখনও থামেনি সেই বিতর্কের ঝড়, আর এই অবস্থায় রাজ্য প্রশাসন এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর (Draupadi Murmu) অসন্তোষ প্রকাশের ঘটনায় রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে৷ এমনকি এই ঘটনাকে নজিরবিহীন এবং লজ্জাজনক বলে শনিবারই সুর চড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)৷ আর এবার সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আগুনে আরও ঘি ঢাললেন নরেন্দ্র মোদী।

    রাষ্ট্রপতি সফর নিয়ে রাজ্য কেন্দ্রের সংঘাত

    গতকাল অর্থাৎ শনিবার শিলিগুড়ি মহকুমার গোঁসাইপুরে নবম আন্তর্জাতিক সাঁওতাল কনফারেন্সে এসেছিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। কিন্তু তাঁকে স্বাগত জানাতে মুখ্যমন্ত্রী বা কোনও মন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন না, যা নিয়ে অভিযোগ তোলেন খোদ রাষ্ট্রপতি। এমনকি একাধিক ইস্যু নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। লিখিত কোনও প্রোটোকল না থাকলেও চিরাচরিত নিয়ম অনুযায়ী, যখনই কোনও রাজ্যে রাষ্ট্রপতি যান তখন সেই রাজ্যের রাজ্যপাল, মুখ্যমন্ত্রীকে রিসিভ করতে দেখা যায়। সেক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রী না গেলেও সাধারণত প্রশাসনিক স্তরের শীর্ষ কর্তারা যান। কিন্তু শনিবার কাউকেই দেখা যায়নি, তাই নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক।

    এক্স হ্যান্ডেলে ক্ষোভ প্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর

    রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপে বেশ ক্ষুব্ধ হন। এরপরই এক্স মাধ্যমে ঘটনার নিন্দা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি জানিয়েছেন, “ এটি লজ্জাজনক এবং অভূতপূর্ব ঘটনা। গণতন্ত্র এবং জনজাতি সম্প্রদায়ের ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী মানুষজন সকলেই মর্মাহত। জনজাতি সম্প্রদায় থেকেই উঠে আসা রাষ্ট্রপতি মহোদয়ার প্রকাশিত বেদনা ও উদ্বেগ ভারতের মানুষের মনে গভীর দুঃখের সঞ্চার করেছে।” এদিন প্রথমে ইংরেজিতে, তার পরে বাংলায় এবং পরে অলচিকি লিপিতেও এই ঘটনার নিন্দা করেন। এখানেই ক্ষান্ত হননি তিনি। এরপর আজ, একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ফের সুর চড়ান মোদী।

    আরও পড়ুন: কালীঘাটে পুজো থেকে বেলুড় দর্শন, বাংলায় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সফরনামা

    তৃণমূল সরকারকে ধিক্কার জানালেন মোদি

    অনুষ্ঠানে নরেন্দ্র মোদি বলেন, “আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন করা হচ্ছে চারিদিকে। আর ঠিক আগের দিন পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল সরকার মহিলা রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে চরম অপমান করেছেন। দ্রৌপদী মুর্মু আদিবাসীদের উৎসবে সামিল হতে বাংলায় গিয়েছিলেন। কিন্তু তৃণমূল সরকার জনসমক্ষে সাঁওতালদের অপমান করেছে, রাষ্ট্রপতিকে অপমান করেছে।” এছাড়াও মোদী আরও বলেন যে, “রাষ্ট্রপতি আদিবাসী সমাজের বিকাশের কথা চিন্তা করেছেন। আর তাঁকেই নারী দিবসের আগের দিন চরম অপমান করা হল। তাই এটা শুধু সেই রাষ্ট্রপতির অপমান নয়, সংবিধানেরও অপমান। সংবিধানের স্পিরিটের অপমান। যাঁরা জীবনের সংঘর্ষ পেরিয়ে সাফল্য পেয়েছেন, সেই সব মহিলাদের অপমান।”

  • ৫টার মধ্যে জবাব চাই! রাষ্ট্রপতি মুর্মুর দার্জিলিং সফরে অব্যবস্থা নিয়ে নবান্নকে কড়া চিঠি

    ৫টার মধ্যে জবাব চাই! রাষ্ট্রপতি মুর্মুর দার্জিলিং সফরে অব্যবস্থা নিয়ে নবান্নকে কড়া চিঠি

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ভোটের কারণে উত্তপ্ত বঙ্গ রাজ্য রাজনীতি, একাধিক ইস্যু নিয়ে তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে সংঘাত লেগেই চলেছে। আর এই আবহে বাংলায় রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর (Draupadi Murmu) সভা ঘিরে বিতর্ক যেন আরও দানা বাধল। জানা গিয়েছে বাংলার মুখ্যসচিবের কাছে এবার সরাসরি রিপোর্ট চাইলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব। রিপোর্টের মাধ্যমে জানতে চাওয়া হয়েছে কেন রাষ্ট্রপতির সভার স্থানবদল করা হয়েছে। বেঁধে দেওয়া হয়েছে সময়সীমা।

    রাষ্ট্রপতির সফর ঘিরে মহা বিতর্ক

    গতকাল অর্থাৎ শনিবার শিলিগুড়িতে আন্তর্জাতিক সাঁওতাল কনফারেন্সে যোগ দিতে এসেছিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ বায়ুসেনার বিশেষ বিমানে বাগডোগরা বিমানবন্দরে পৌঁছন রাষ্ট্রপতি। শুক্রবার বিকেলে উত্তরবঙ্গে আসার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু কিছু কারণে তাঁর সফরসূচির পরিবর্তন হয়। আগের অনুষ্ঠান সূচি অনুযায়ী, বিধাননগরে আন্তর্জাতিক সাঁওতাল কনফারেন্সে যোগ দেওয়ার কথা ছিল রাষ্ট্রপতির। কিন্তু নিরাপত্তার কারণে গোঁসাইপুর থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে সাঁওতাল কনফারেন্সে যোগ দেন তিনি। কিন্তু পরে এই স্থান পরিবর্তন নিয়েই অসন্তুষ্ট হন রাষ্ট্রপতি মুর্মু। রাজ্যের ব্যবস্থাপনা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করেন।

    মুখ্য সচিবের কাছে রিপোর্ট চাইল কেন্দ্র

    রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, “আমিও বাংলার মেয়ে। আমাকে বাংলায় আসতেই দেওয়া হয় না। মমতাদি আমার ছোট বোন। জানি না, আমার উপর কী রাগ। যাই হোক… কোনও অভিযোগ নেই। কোনও ক্ষোভ নেই। উনি ভাল থাকুন, আপনারাও ভাল থাকুন।” এমতাবস্থায় গতকাল রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সফরে কী কী ঘটেছে, স্থানবদল কেন করা হয়েছে, প্রশাসন কী কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, সবটাই লিখিতভাবে জানতে চাওয়া হয়েছে কেন্দ্রের তরফে। রিপোর্ট মোতাবেক, আজ অর্থাৎ রবিবার, সকালে রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীর কাছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহন এই বিষয়ে একটি নির্দেশিকা পাঠিয়েছেন। যেখানে বলা হয়েছে, আজ বিকেল পাঁচটার মধ্যেই রিপোর্ট জমা দিতে হবে।

    রাষ্ট্রপতি সফর নিয়ে কী বলছে প্রশাসন?

    উত্তরবঙ্গ সফরে এসে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর মন্তব্যকে ঘিরে যে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তাই নিয়ে রাজ্য প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, শিলিগুড়ির যে অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি যোগ দিয়েছিলেন সেটি ছিল ‘ইন্টারন্যাশনাল সান্তাল কাউন্সিল’ নামে একটি বেসরকারি সংগঠনের উদ্যোগ, এবং সেখানে প্রোটোকল ভাঙার কোনও ঘটনা ঘটেনি। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী বিজেপিকে টার্গেট করে বলেন, “মাননীয়া রাষ্ট্রপতিকে আমরা সম্মান করি। তাঁকে দিয়েও পলিটিক্স বেচতে পাঠানো হয়েছে! বিজেপির এজেন্ডা বেচতে পাঠানো হয়েছে!’’

    আরও পড়ুন: যুবসাথীর চক্করে কত হাজার কোটির ধাক্কা রাজ্য সরকারের? ভয়ঙ্কর রিপোর্ট দিল RBI

    রাষ্ট্রপতির উত্তরবঙ্গ সফর সংঘাতকে নিয়ে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্বয়ং। রাষ্ট্রপতির অপমান করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তিনি। প্রথমে ইংরেজিতে, তার পরে বাংলায় এবং পরে অলচিকি লিপিতেও এই ঘটনার নিন্দা করেন। পাশাপাশি দার্জিলিঙের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তা বলেন, “রাজ্যের গাফিলতির কারণে এই পরিস্থিতি, এটা দেশের সাংবিধানিক প্রধানকে অপমান, আদিবাসী-সাঁওতাল সমাজকে অপমান।”