Tag: Donald Trump

  • ‘আমার অনুমতি ছাড়া টিকতে পারবে না!’ মোজতবা খামেনি নির্বাচিত হওয়াতে হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

    ‘আমার অনুমতি ছাড়া টিকতে পারবে না!’ মোজতবা খামেনি নির্বাচিত হওয়াতে হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: পশ্চিম এশিয়ার সংঘর্ষ দিনের পর দিন তীব্র আকার ধারণ করছে (Iran-Israel War)। এরই মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রয়াণের পর নতুন নেতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মোজতবা খামেনি, যিনি আলি খামেনিরই মেজ ছেলে। আমেরিকা এবং ইজরায়েলের যৌথ সামরিক হামলায় খামেনি নিহত হওয়ার পরই তাঁর নেতৃত্বের প্রশ্ন সামনে এসেছিল। আর সেই পরিস্থিতিতেই মোজতবা খামেনিকেই দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে মত আন্তর্জাতিক মহলের।

    তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এবার নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁর অনুমতি ছাড়া ইরানে কোনও সর্বোচ্চ নেতা দীর্ঘদিন ধরে টিকতেই পারবে না। ট্রাম্পের এই মন্তব্য সামনে আসতেই কূটনৈতিক মহলে পড়েছে শোরগোল।

    দিনের পর দিন বাড়ছে উত্তেজনা

    মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ইতিমধ্যেই দশম দিনে পৌঁছেছে। একদিকে আমেরিকার তরফ থেকে ইরানের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালানো হচ্ছে। অন্যদিকে ইরানও পাল্টা আক্রমণ চালাচ্ছে। যার ফলে সংঘাত দিনের পর দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের। এদিকে ইরানের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, প্রয়োজনে তারা এই যুদ্ধ ছয় মাস পর্যন্ত চালিয়ে যেতে প্রস্তুত। অন্যদিকে ট্রাম স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, আপাতত ইরানের সঙ্গে কোনও রকম সমঝোতার পথে হাঁটতে রাজি নয় আমেরিকা।

    ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেস্কিন প্রথমে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সংঘাতের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন যে, ইরানের কোনও দেশের সঙ্গে শত্রুতা নেই। আর অন্য কোনও রাষ্ট্র দখল করার ইচ্ছাও নেই। কিন্তু পরবর্তীতে দেশের ভিতরে রাজনৈতিক চাপ বাড়ার কারণে তিনি নিজের বক্তব্য পরিবর্তন করেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, ইরানের উপর হামলা হলে দেশ আর নিশ্চুপ থাকবে না। উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।

    আরও পড়ুন: ‘রাজ্য সরকার চাইলে বাংলায় কমবে গ্যাসের দাম’ কতটা?

    এদিকে ইরান বাহরিনের রাজধানী মানামায় অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর সদর দফতরেও হামলা চালিয়েছে। আর এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে আমেরিকাও ইরানের বিভিন্ন তেলের ভাণ্ডারে হামলা চালাচ্ছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র তাদের শক্তি বাড়াতে পশ্চিম এশিয়ায় অতিরিক্ত যুদ্ধ জাহাজ মোতায়ন করানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলির প্রতিবেদন দাবি করা হচ্ছে, ইরানে মজুত ইউরেনিয়াম সুরক্ষিত রাখার জন্য বিশেষ বাহিনী পাঠানোর সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করছে আমেরিকা এবং ইজরায়েল। আর এই খবর সামনে আসতেই গোটা বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

  • ইজরায়েল-আমেরিকার হামলায় মৃত্যু খামেনির! কী হবে এবার ইরানের?

    ইজরায়েল-আমেরিকার হামলায় মৃত্যু খামেনির! কী হবে এবার ইরানের?

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি (Ali Khamenei) নিহত হয়েছেন। ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থার তরফ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবেই এ কথা নিশ্চিত করা হয়েছে। এমনকি খামেনি সহ তাঁর নাতনি, জামাই ও মেয়েরও মৃত্যু হয়। যার কারণে ইরান সরকার ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। তবে তাঁর মৃত্যু নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে যে তোলপাড় পড়ে গিয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

    বলে রাখি, আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় এবং রাজনৈতিক নেতা। ১৯৭৯ সালে ইসলামিক বিপ্লবের পর থেকেই দেশের শাসন কাঠামোর সুপ্রিম লিডার হিসেবে তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। সেনা, সরকার আর ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সব ক্ষেত্রেই তাঁর প্রভাব বিস্তৃত। তাঁর এহেন মৃত্যুতে ইরানের রাজনৈতিক ইতিহাসের মোড় যে ঘুরে যেতে পারে তাও আঁচ কর‍তে পারছে ওয়াকিবহাল মহল। এমনকি ক্ষমতায় রদবদল, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব আর গৃহযুদ্ধের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

    ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান

    এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলার পর এক বিবৃতিতে ইরানের জনগণের উদ্দেশ্য বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এটাই ইরানের মানুষের জন্য নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের সবথেকে বড় সুযোগ। তিনি ইরানের সেনা এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে অস্ত্র সমর্পণের আহ্বান জানিয়েছেন। আর জনগণকে সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে বলেছেন। ট্রাম্পের এই মন্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে যে, শুধুমাত্র সামরিক হামলায় নয়, বরং ইরানের রাজনৈতিক কাঠামোতেও এবার বিরাট কোনও পরিবর্তন আনার লক্ষ্য থাকতে পারে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এরকম পদক্ষেপের প্রভাব বহু বছর ধরেই চলতে পারে। তার জন্য সম্ভাব্য কয়েকটি পরিস্থিতিও তুলে ধরা হচ্ছে। প্রথমত ইরানের ভিতর ক্ষমতার লড়াই, দ্বিতীয়ত সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ সংঘাত, তৃতীয়ত চরমপন্থী গোষ্ঠীর উত্থান, চতুর্থত গোটা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং শরণার্থী সংকট। আর ইরান ইতিমধ্যেই অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের জেরে চাপে ছিল। আর সেই সূত্রে এই হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

    আরও পড়ুন: মাসের প্রথম দিনে সোনা, রুপোর দামে মহা পরিবর্তন! আজকের রেট

    সবথেকে বড় ব্যাপার, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্দরেও এই পদক্ষেপ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। কারণ, বিরোধী মহলগুলি অভিযোগ করছে, কংগ্রেসের সম্পূর্ণ অনুমোদন ছাড়া বড় কোনও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। কেউ কেউ এটাকে ইরাক যুদ্ধের পুনরাবৃত্তি হিসেবেও দেখছে। আর বিশেষজ্ঞদের একাংশের দাবি, সরকার পতন ঘটানো তুলনামূলকভাবে সহজ হলেও পরবর্তী পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হতে পারে। এখন দেখার ইরানের অবস্থা কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়।