Tag: Dharmatala

  • ‘যারা তৃণমূলের সঙ্গে নয়, তারা বাঙালি নয়!’  মহুয়া মৈত্রর মন্তব্য ঘিরে তুঙ্গে বিতর্ক

    ‘যারা তৃণমূলের সঙ্গে নয়, তারা বাঙালি নয়!’ মহুয়া মৈত্রর মন্তব্য ঘিরে তুঙ্গে বিতর্ক

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) আগে ফের বিতর্কে জড়ালেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra)। বাঙালি কারা? সেটা বোঝাতে গিয়েই করলেন বিতর্কিত মন্তব্য। রাজ্যে SIR প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ্যে আসার পর এখনও ৬০ লক্ষ নাম ‘বিচারাধীন’ রয়েছে। আর সেই নিয়ে তুমুল অশান্তি শুরু হয়েছে রাজ্য জুড়ে। এমতাবস্থায় বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে গতকাল অর্থাৎ শুক্রবার থেকে ধর্মতলায় ধরনায় বসেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) সহ শতাধিক নেতা-নেত্রীরা। রাতভর মেট্রো চ্যানেলে প্রতিবাদ মঞ্চে থেকেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেই মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিতর্কে জড়ালেন তিনি।

    ধর্মতলায় ধরনায় মমতা

    ভোটাধিকারের লড়াইয়ে গতকাল অর্থাৎ শুক্রবার, ধর্মতলায় মেট্রো চ্যানেলে প্রতিবাদ মঞ্চে ধরনা করছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ একাধিক নেতা নেত্রী। সেখানে ‘ভোট নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। এই অধিকার কেড়ে নিতে দেব না’ লেখা পোস্টার গলায় ঝুলিয়ে ধরনা মঞ্চে বক্তব্য রাখতে ওঠেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তিনি বলেন, ‘‘এটা নীতি বা আদর্শের লড়াই নয়। এটা বেঁচে থাকার লড়াই। আজ কলকাতার কোনও মানুষ, যাঁরা বাসে-ট্রামে যাচ্ছেন, আর ভাবছেন, মমতা তো আবার বসেছেন (ধর্নায়), তাঁর মতো অপরাধী আর নেই। এসআইআর এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে সাধারণ শিক্ষিত মানুষও বুঝতে পারছেন না।

    ফের বিতর্কে জড়ালেন মহুয়া মৈত্র

    বিজেপি নেতা তথা আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন, সেখানে মহুয়া মৈত্রকে বলতে শোনা যাচ্ছে, “বুদ্ধিজীবী সমাজ, শিক্ষিত ছেলেমেয়েরাও এসআইআরের পরিকল্পি গেম, চক্রান্তটা ধরতে পারছে না। সবাইকে বলছি যে এখন আজকে তৃণমূলের সঙ্গে নয়, সে কিন্তু বাঙালি নয়, তাঁর বাংলায় থাকার অধিকার নেই।’ বলে দিই, ইন্ডিয়া হুড সেই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি। এছাড়াও একই সভা থেকে তথ্যগত অসঙ্গতি থেকে ভোটার তালিকায় নাম বাদ নিয়ে কমিশন এবং বিজেপিকেও তোপ দাগেন মহুয়া মৈত্র। এরপরই সেই মন্তব্য মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। বাঙালি জাতিকে অসম্মানের অভিযোগ ওঠে চারিদিক থেকে। এমনকি এই নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়লেন না বিজেপি নেতা তথা আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি। তিনি বলেন, “যাদের জীবন ও জীবিকা শাসকদল বছরের পর বছর দুর্নীতির মাধ্যমে লুট করেছে, তারা কি অন্য গ্রহের মানুষ?”

    আরও পড়ুন: গ্যাসের সংকট দেখা দিতেই গুজরাটে ১০০ কারখানায় কাজ বন্ধ, ঝুঁকির মুখে আরও ৪০০

    তরুণজ্যোতি তিওয়ারি মহুয়াকে কটাক্ষ করে জানিয়েছেন যে, “যে হাজার হাজার তরুণ-তরুণী বছরের পর বছর ধরে ন্যায্য সরকারি চাকরির আশায় পড়াশোনা করে, নিয়োগ কেলেঙ্কারিতে তাদের ভবিষ্যৎ ধ্বংস হতে দেখেছে, তারা কি বাঙালি নন? অসংখ্য সাধারণ নাগরিক স্বাস্থ্যসেবা এবং পরিষেবা পেতে লড়াই করে চলেছে এখনও। এমনকি মহুয়া মৈত্রের প্রতিনিধিত্বকারী সংসদীয় এলাকার লোকেরাও প্রায়শই উন্নয়ন এবং চিকিৎসা পরিকাঠামোর অভাবের অভিযোগ করেন। তাহলে তাঁরা কি চাঁদে থাকেন? আসলে বাঙালি অস্মিতা স্লোগানে পশ্চিমবঙ্গে একটি নতুন রাজনৈতিক নাটক শুরু করেছে তৃণমূল।”

  • ভোটাধিকার রক্ষায় ধরনায় মমতা, ধর্মতলায় কতদিন চলবে এই কর্মসূচি?

    ভোটাধিকার রক্ষায় ধরনায় মমতা, ধর্মতলায় কতদিন চলবে এই কর্মসূচি?

    প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) প্রাক্কালে ক্রমেই বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ। জেলায় জেলায় প্রচার এবং জনসংযোগ বৃদ্ধি করতে দিন রাত কাজ করে চলেছে নেতা মন্ত্রীরা। এমতাবস্থায় আজ অর্থাৎ শুক্রবার থেকে কলকাতার ধর্মতলায় ধরনায় বসলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। মেট্রো চ্যানেলে ইতিমধ্যেই মঞ্চ তৈরি হয়ে গিয়েছে। দল বেঁধে এক এক করে বিভিন্ন জেলা থেকে তৃণমূলের বিধায়ক এবং নেতারাও জড়ো হতে শুরু করেছেন। বিজেপি যেখানে জেলায় জেলায় ‘পরিবর্তন যাত্রা’ শুরু করেছে সেখানে মুখ্যমন্ত্রীর ধর্মতলায় এই ধরনা বসা নিয়ে তৈরি হয়েছে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি।

    ধরনায় বসলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

    এসআইআর নিয়ে শুরু থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সওয়াল করে চলেছেন, এমনকি এই নিয়ে মামলাও দায়ের করেছেন সুপ্রিম কোর্টে, কিন্তু তার পরেও রাজ্যে প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম বিবেচনাধীন বলে প্রকাশ করেছে কমিশন। যা নিয়ে রীতিমত তীব্র সংঘাত তৈরি হয়েছে, তাই এরই প্রতিবাদে আজ থেকে ধর্মতলায় মেট্রো চ্যানেলে ধরনায় বসলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উপস্থিত থাকার কথা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়েরও। এছাড়াও ধরনা মঞ্চে থাকবেন SIR প্রক্রিয়ায় নাম বাদ যাওয়া ভোটার, এবং ‘মৃত’ বলে চিহ্নিত হওয়া ভোটারেরা। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে কতদিন থাকবে এই ধরনা সভা।

    কতদিন থাকবে এই ধরনা সভা?

    তৃণমূলের তরফে ইতিমধ্যেই জানানো হয়েছে যে, এই ধরনা শুধু একদিনের জন্য নাও হতে পারে। সম্ভাবনা রয়েছে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে এই ধরনের কর্মসূচি চালানোর। আর সেই কারণে মন্ত্রী, মুখপাত্র এবং দলের বক্তাদের কয়েকদিনের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। কারণ, ধরনা মানে তো শুধু বসে থাকা নয়। লাগাতার সেই মঞ্চ থেকেই ধারাবাহিকভাবে নেতারা বক্তব্য রাখবেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও যেকোনো সময় তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করবেন। যদিও এর আগেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কখনোই একদিনের জন্য ধরনা দেননি, তাই এবারেও যে এটি হবে না তা সকলের বিশ্বাস। এদিকে এই নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়ছে না বিজেপি।

    আরও পড়ুন: মনোনয়ন ঘিরে একাধিক বিভ্রান্তি! স্ক্রুটিনির পর অবশেষে গৃহীত রাহুল সিনহার ফর্ম

    বঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জানান, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ধরনায় বসলেও কোনও ফারাক পড়বে না। এই সরকারের বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে। তৃণমূল আর ফিরবে না। প্রসঙ্গত, রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা চলছে। সেক্ষেত্রে এই নিয়ে আসন্ন ভোট শুরুর আগে তৃণমূলের এই ধরনা উদ্যোগ এক বিশেষ পরিকল্পনা বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। তাঁদের দাবি এগুলি আসলে রাজ্যের নানা বিতর্ক এবং সরকারবিরোধী অভিযোগ থেকে নজর ঘোরানোর এক স্ট্র্যাটেজি।

  • ভোটার তালিকা থেকে ৬৪ লক্ষ নাম বাদ, ৬ মার্চ ধর্মতলায় ধর্নায় বসবেন মমতা

    ভোটার তালিকা থেকে ৬৪ লক্ষ নাম বাদ, ৬ মার্চ ধর্মতলায় ধর্নায় বসবেন মমতা

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: এসআইআর এর চূড়ান্ত তালিকায় প্রায় ৬৪ লক্ষ নাম বাদ পড়ার অভিযোগে এবার রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ল। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হয়ে আগামী ৬ মার্চ ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে ধর্নায় বসবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। রবিবার সাংবাদিক বৈঠকে এই কর্মসূচির কথা জানিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

    কেন এই আন্দোলন?

    আসলে গত বছরের ২৭ অক্টোবর রাজ্য এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। তখন থেকেই শাসক দল অভিযোগ করছে, ইচ্ছাকৃতভাবেই বহু ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তৃণমূলের স্পষ্ট দাবি, চূড়ান্ত তালিকায় প্রায় ৬৪ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে, যা কিনা ভোটমুখী বাংলায় বেশ আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারে। সেই কারণেই এই ধর্নার কর্মসূচি। এর আগে ৪ নভেম্বর দক্ষিণ কলকাতায় বিশাল মিছিল করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিষয়টি নিয়ে দিল্লিতেও একাধিকবার সরব হয়েছে তিনি। আর মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে বৈঠকে করেছেন মমতা এবং অভিষেক।

    আরও পড়ুন: হোলির ৪ দিন বন্ধ থাকবে হাওড়ার পুরনো ক্যাব রোড! বিকল্প উপায় কী?

    এদিকে রবিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, নির্দিষ্ট রাজনৈতিক লক্ষ্য পূরণের জন্যই বিপুল সংখ্যক নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেছেন, এত বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম অ্যাডজুডিকেশন লিস্টে রেখে ভোট হলে তা অমীমাংস থেকে যেতে পারে। সরাসরি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে তিনি বলেছেন, প্রয়োজনে তাঁর বিরুদ্ধে মামলাও করা হবে। সেই মামলা লড়েই তিনি সমস্ত তথ্য প্রকাশ্যে আনার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এমনকি যাদের নাম বাদ পড়েছে তাদের ৬ নম্বর ফর্ম পূরণ করতেও পরামর্শ দেন অভিষেক।