Tag: Department of Telecommunications

  • বসতে পারে ট্যাক্স, দামি হওয়ার পথে Jio থেকে Airtel-র রিচার্জ! এবার কতটা?

    বসতে পারে ট্যাক্স, দামি হওয়ার পথে Jio থেকে Airtel-র রিচার্জ! এবার কতটা?

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: আগামী দিনে মধ্যবিত্তদের পকেটে আরও চাপ পড়তে চলেছে। হ্যাঁ, মোবাইল রিচার্জের খরচ আরও বাড়তে পারে (Mobile Recharge Plan Hike)। কারণ, মোবাইল ডেটা ব্যবহারের উপর নতুন করে একটি কর বসানোর সিদ্ধান্ত নিচ্ছে কেন্দ্র সরকার। বিষয়টি এখনো পর্যন্ত প্রাথমিক আলোচনার পর্যায়ে থাকলেও যদি এই প্রস্তাব কার্যকর হয়, তাহলে হয়তো ২৪৯ টাকা বা ২৯৯ টাকার জনপ্রিয় রিচার্জ প্ল্যানগুলির দাম আবারও কিছুটা বাড়তে পারে।

    প্রসঙ্গত, ভারত বর্তমানে বিশ্বের সবথেকে সস্তা মোবাইল ডেটা ব্যবহারকারী দেশ। আর ভিডিও স্ট্রিমিং থেকে শুরু করে অনলাইন গেম, সোশ্যাল মিডিয়া কিংবা অফিসের যে কোনও কাজ, সব ক্ষেত্রেই এখন ইন্টারনেট সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ। কিন্তু ডিজিটাল ব্যবহারের এই দ্রুত বৃদ্ধি থেকেই এবার নতুন কর আরোপের পথে হাঁটছে কেন্দ্র।

    বৈঠকে উঠল নতুন প্রস্তাব

    সম্প্রতি টেলিকম খাত নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই বিষয়টি উঠে এসেছিল। আর এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্বয়ং নিজেই। দেশে দ্রুত বাড়তে থাকা ডিজিটাল অর্থনীতি থেকে কীভাবে নতুন উপায়ে সরকারি রাজস্ব বাড়ানো যায় সেই সম্পর্কেই আলোচনা হই উক্ত বৈঠকে। এরপরেই টেলিকম বিভাগের দায়িত্বে থাকা ডিপার্টমেন্ট অফ টেলিকমিউনিকেশনকে বিষয়টি বিস্তারিত সমীক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রাথমিকভাবে যে ধারণা নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে সেখানে মোবাইল ডেটা ব্যবহারে প্রতি ১ জিবিতে এবার ১ টাকা করে ছোট কর বসানো হতে পারে। সরকারের হিসেব অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারতে মোট মোবাইল ডেটা ব্যবহার হয়েছে ২২৯ বিলিয়ন জিবি। আর সেই হিসাব অনুযায়ী, প্রতি জিবি ডেটার উপর যদি ১ টাকা করে কর আরোপ করা হয়, তাহলে বছরে ২২,৯০০ কোটি টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত রাজস্ব পেতে পারে সরকার।

    আরও পড়ুন: পোর্টালে সমস্যায় আপডেট করা যাচ্ছে না সার্ভিস বুক, কর্মীদের নয়া নির্দেশ রাজ্য সরকারের

    এবার ধরুন, কেউ প্রতিদিন ২ জিবি করে ডেটার কোনও প্ল্যান রিচার্জ করেন। সাধারণত এই ধরনের প্ল্যানে মাসে ৬০ জিবি ডেটা দেওয়া হয়। আর যদি প্রতি জিবিতে ১ টাকা করে কর বসানো হয়, তাহলে মাসিক খরচ প্রায় ৬০ টাকা বেড়ে যেতে পারে। অর্থাৎ, বর্তমানে ২৪৯ টাকার যে প্ল্যান রয়েছে সেটি হয়তো ৩১০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছতে পারে বা ২৯৯ টাকার প্ল্যানের দাম বাড়তে পারে আরও ৬০ টাকা মতো। এক্ষেত্রে আরও উল্লেখ করার বিষয়, বর্তমানে মোবাইল রিচার্জের উপর ব্যবহারকারীরা এমনিতেই ১৮ শতাংশ জিএসটি দিয়ে থাকে। তবে নতুন কর চালু হলে সেটি এই চার্জের সঙ্গেই অতিরিক্ত হিসেবে যোগ করা হবে। তবে হ্যাঁ, এই প্রস্তাব এখনো পর্যন্ত কার্যকর হয়নি। শুধুমাত্র আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। বিস্তারিত কোনও আপডেট আসলে তা জানিয়ে দেওয়া হবে।

  • সম্প্রসারিত হবে 6G নেটওয়ার্ক! ২৭১ কোটির ১০৪টি গবেষণা প্রকল্পে অনুমোদন কেন্দ্রের

    সম্প্রসারিত হবে 6G নেটওয়ার্ক! ২৭১ কোটির ১০৪টি গবেষণা প্রকল্পে অনুমোদন কেন্দ্রের

    সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ভবিষ্যতের টেলিকম প্রযুক্তি উন্নয়নের লক্ষ্য এবার বিরাট উদ্যোগ নিল ভারত সরকার (Government of India)। দেশের 6G প্রযুক্তি (6G Network) এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য 271 কোটি টাকার 104টি গবেষণা প্রকল্পে অনুমোদন দেওয়া হল। সূত্রের খবর, রাজ্যসভায় একটি লিখিত জবাবের মাধ্যমে এই তথ্য জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় যোগাযোগ ও গ্রামীণ উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী পেম্মাসনি চন্দ্র শেখর। সরকারের মতে, আগামী প্রজন্মের টেলিকম প্রযুক্তিতে বিশ্ব প্রতিযোগিতায় ভারতকে এগিয়ে রাখার জন্যই এই গবেষণা প্রযুক্তি উন্নয়নে জোর দেওয়া হচ্ছে।

    কোন প্রকল্পের মাধ্যমে এই গবেষণা?

    বলে রাখি, এই গবেষণা প্রকল্পগুলির অনুমোদন করা হয়েছে কেন্দ্রের টেলিকম বিভাগের টেলিকম টেকনোলজি ডেভেলপমেন্ট ফান্ড প্রকল্পের আওতায়। এই স্কিমের মূল উদ্দেশ্য হল দেশের মধ্যে টেলিকম প্রযুক্তির গবেষণা, নতুন উদ্ভাবন আর দেশীয় প্রযুক্তি বিকাশে সহায়তা করা। জানা যাচ্ছে, এই তহবিল থেকে যে ধরনের কাজ করা হবে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল 6G প্রযুক্তির গবেষণা, নতুন টেস্টবেড তৈরি, প্রোটোটাইপ ডেভেলপমেন্ট এবং ভবিষ্যতের টেলিকম পরিষেবার বাণিজ্যিক ব্যবহার।

    এদিকে উল্লেখ করার বিষয়, সরকার ইতিমধ্যেই দেশের 6G উন্নয়নের জন্য একটি নথি প্রকাশ করেছে। যার নাম দেওয়া হয়েছে ভারত 6G ভিশন ডকুমেন্ট। আর এই নথিতে 6G প্রযুক্তির গবেষণা, উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ পরিষেবা চালুর একটি পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে কোন কোন স্পেক্ট্রাম ব্র্যান্ড 6G পরিষেবার জন্য ব্যবহার করা হবে সেগুলিও চিহ্নিত করা হয়েছে। আর সরকার একটি স্পেক্ট্রাম রোডম্যাপও প্রকাশ করেছে। সেখানে তিনটি ধাপে পরিকল্পনা করা হয়েছে। যার মধ্যে স্বল্পমেয়াদী পরিকল্পনা রয়েছে 2025 থেকে 2026 সালের মধ্যে, মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা 2027 থেকে 2030 সালের মধ্যে আর দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা 2031 থেকে 2035 সালের মধ্যে।

    প্রসঙ্গত, ভারতের এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক টেলিকম গবেষণার সঙ্গেও সামঞ্জস্য রেখে এগোচ্ছে। কারণ, বিশ্বব্যাপী টেলিকম মান নির্ধারণ করা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন ইতিমধ্যেই ভবিষ্যতে 6G নেটওয়ার্কের জন্য একটি কাঠামো তৈরি করে ফেলেছে। যার নাম দেওয়া হয়েছে IMT‑2030। আর এই কাঠামোতে পরবর্তী প্রজন্মের বেতার নেটওয়ার্কের ব্যবহার, প্রযুক্তিগত চাহিদা আর পরিষেবার ধরন নিয়ে বিস্তারিত নির্দেশিকাও তুলে ধরা হয়েছে।

    দ্রুত বাড়ছে 5G নেটওয়ার্ক

    প্রসঙ্গত, দেশে বর্তমানে 5G পরিষেবা দ্রুত হারে সম্প্রসারিত হচ্ছে। সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের সমস্ত রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে 5G পরিষেবা পৌঁছে গিয়েছে। আর প্রায় 99.9 শতাংশ জেলাতেই এই পরিষেবা চালু হয়েছে। পাশাপাশি 2026 সালের 28 ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে 5.23 লক্ষ 5G ট্রান্সসিভার স্টেশন বসানো হয়েছে বলে ওই রিপোর্টে দাবি করা হচ্ছে। এছাড়াও সরকার স্বাস্থ্য পরিষেবা, কৃষি, স্মার্ট উৎপাদন, শিক্ষাক্ষেত্রে 5G পরিষেবা দ্রুত হারে বাড়াচ্ছে।

    আরও পড়ুন: হাওড়াগামী বহু ট্রেনের নম্বর, বিভাগ বদলাচ্ছে রেল! ভ্রমণের আগে দেখুন তালিকা

    এদিকে এখনো পর্যন্ত TTDF প্রকল্পের আওতায় মোট 136টি গবেষণা প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। যার মধ্যে 104টি প্রকল্প 6G প্রযুক্তি নিয়ে এগোচ্ছে, আর 11টি প্রকল্প 5G প্রযুক্তি নিয়ে এগোচ্ছে। পাশাপাশি ছয়টি গবেষণার মধ্যে রয়েছে টেরাহার্টজ টেস্টবেড, উন্নত ট্রান্সমিটার প্রযুক্তি, AI ও মেশিন লার্নিং ভিত্তিক নেটওয়ার্ক এবং রিকনফিগারেবল ইন্টেলিজেন্ট সারফেস প্রযুক্তি।